Categories
বিবিধ

দুর্নীতির অভিযোগে বিদ্যালয় ঘেরাও, মানিকচকে গ্রামবাসীদের তুমুল বিক্ষোভ।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা: – এবারে বিদ্যালয়ের শিক্ষকের উপর চলল ডিম থেরাপি। বিদ্যালয় চত্বরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে কনডম। একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিদ্যালয় ঘেরাও করে তুমুল বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের। ঘটনায় ব্যাপক উত্তেজনা মালদহের মানিকচক ব্লকের হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষককে লক্ষ্য করে চলল একের পর ডিম।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এই হরিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় পঠন-পাঠন হয় না। দেওয়া হয় না নিয়মিত মিড ডে মিল। প্রতিবাদ করলে নানান রকম হুমকি দেওয়া হয় বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের তরফে বলে অভিযোগ। এমনকি পঠন পাঠনের বদলে শিক্ষকরা অন্য রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে রাখে ঘন্টার পর ঘন্টা। যার জন্য কনডম ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিদ্যালয় চত্বর জুড়ে। কুকর্মে যুক্ত বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলে অভিযোগ।

Share This
Categories
বিবিধ

“প্রাইজ রিভার্স গ্যাং”: উপহার ফেরানো নিয়ে কাকলির ছেলেকে বিঁধলেন দিলীপ ঘোষ।

এতদিন কোর্টের কোনো নির্দেশ উনি মানেন নি। এখন বাঁচার জন্য কোর্টে যাচ্ছেন : দিলীপ ঘোষ।

১) বারবার সিআইডি তদন্তে অসহযোগিতা ভাইপোর।

এতদিন কোর্টের কোনো নির্দেশ উনি মানেন নি। এখন বাঁচার জন্য কোর্টে যাচ্ছেন। ওনাকে হয়তো সাময়িক রক্ষাকবচ দিয়েছে। তদন্তে অসহযোগিতা করলে কোর্ট আপনাকে রেয়াত করবে না। আগেও বহুবার কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অভিষেক তো নিজে সিআইডি নোটিশ গ্রহণ করেননি। অন্য লোক গ্রহণ করেছে। পুলিসকে তার বাড়ির তালা ভেঙে ঢুকতে হচ্ছে। এটা সহযোগিতা নয়। এটা আদালত দেখে নেবে।

২) নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে ভাইপো কে ইডি তলব আজ।

যত দুর্নীতি সব জায়গায় ওনাদের হাত আছে। নেতারা জেলে গেছে। ওরা দুজন চুপ করে ছিল। দল থেকেও বহিষ্কার করেনি। যেমন যেমন তথ্য আসবে আইন তেমন তেমন ব্যবস্থা নেবে।

৩) অরূপ বিশ্বাস আজ হাজিরা দেবেন?

ওদের এক একটা নেতাকে নিয়ে আলোচনা করলে গোটা দিন কেটে যাবে। এখন সবাই কমপ্লেন করতে শুরু করেছে। ডিমের দাম বেড়ে গেছে। মানুষ ডিমের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। মানুষ যদি ইট পাটকেল হাতে তুলে নেয় তাহলে ইমারত নির্মাণ সামগ্রীর দাম বেড়ে যাবে।

৪) NCPI ব্যাক আপ কি তাহলে আগে থেকেই ঠিক করা ছিল বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদদের?

বাংলায় যারা দলটা করছিল তারা বাধ্য হয়ে করছিল। দলে বাকিদের সঙ্গে ক্রীতদাসের মতো ব্যবহার করা হতো। থ্রেট কালচার। ওই কালচার সবথেকে বেশি ছিল। যারা এই কালচার কাজে লাগিয়ে দুর্নীতি করেছে তারা কেউ পার পাবে না। সবার অধিকার আছে জনতার রায়ে জিতে স্বাধীন ভাবে রাজনীতি করার। তারা সেটাই করছেন।

৫) বিড়ম্বনা বাড়ল পুষ্পার। কনভয় হামলার ফাইল আবার খুলছে।

এরকম বহু কেস রিওপেন হবে। আমি নিজে সেদিন নাড্ডাজির গাড়িতে ছিলাম। গাড়ি বুলেট প্রুফ না হলে আমাদের প্রাণ চলে যেত। ২০০০ লোক ঘিরে ধরেছিল। সাধারণ মানুষের আইনের ওপর থেকে ভরসা উঠে গেছিল। সেই ভরসা ফিরিয়ে আনা হোক।

৬) কাকলি ঘোষ দস্তিদার এর ছেলে মমতার দেওয়া বিয়ের গিফট ফিরিয়ে দিল।

প্রাইজ রিভার্স গ্যাং। নেওয়ার সময় নেব। পরে ফিরিয়ে দেব। সেইসময় নিয়েছিলেন কেন? গিফট ফেরানোর অধিকার আপনার আছে। কিন্তু এই ধরনের ড্রামা কেন?

৭) সুদীপের উইগ এবং নয়নার মেকাপ।

আমি ব্যক্তিগত আক্রমণ করব না। আমার ওপরেও অনেক পার্সোনাল অ্যাটাক হয়েছে। দলের মধ্যে ওদের এই ধরনের চুল টানাটানি হচ্ছে। ববি হাকিম আমাদের কর্মী মারা গেলে বলত বিজেপি হতাশায় সুইসাইড করছে। এখন দেখুন হতাশা কাকে বলে।

৮) কুণাল অভিষেক ঝগড়া

দুজনেই বড় নেতা। আগে পার্থ কুণাল ঝগড়া দেখেছি। কল্যাণের সঙ্গে বাকিদের ঝগড়া দেখেছি। আমার মনে হয় এদের বিসর্জন হওয়ার দরকার আছে।

৯) তৃণমূল কি যদুবংশের মতো ধ্বংস হয়ে যাবে।

এটাকে মুষল পর্ব বলে। আমরা মহাভারত দেখিনি। এখন মুষল পর্ব দেখতে পাচ্ছি। এই কুরু বংশ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে।

Share This
Categories
বিবিধ

১৭ জুন পর্যন্ত চলবে বামনগোলার শিবির, মিলবে কেন্দ্র-রাজ্যের একাধিক জনমুখী প্রকল্পের তথ্য।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—-তৃণমূল সরকারের পতনের পর নতুন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে জনকল্যাণ শিবিরের আনুষ্ঠানিক সূচনা হল বিভিন্ন জায়গায় পাশাপাশি বামনগোলায়। সোমবার সকাল প্রায় ১০ টা নাগাদ মালদার বামনগোলা ব্লকে পাকুয়াহাট এলাকার বামনগোলা কমিটি হলে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই শিবিরের শুভ সূচনা করা হয়।জানা গিয়েছে, প্রায় ৩০টি সরকারি প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।এই শিবিরে রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্প সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করা হচ্ছে এবং সরাসরি পরিষেবা প্রদানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। বিশেষভাবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, যুবশক্তি, আয়ুষ্মান ভারতসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সুবিধা ও আবেদন সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।এছাড়াও ব্লক প্রশাসনের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়েও শিবিরে বিশেষ কাউন্টার খোলা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ যাতে সোলার প্যানেলের সুবিধা গ্রহণ করতে পারেন, সেই বিষয়েও সচেতনতা ও তথ্য প্রদান করা হচ্ছে। এদিন খোদ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখেন স্থানীয় বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী জুয়েল মূমূ,বামনগোলা বিডিও মনোজিৎ রায়, বামনগোলা থানার আইসি অমিত মাশান্তা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ।প্রশাসন সূত্রে খবর, আগামী ১৭জুন পর্যন্ত চলবে এই জনকল্যাণ শিবির, যেখানে এলাকার সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও প্রকল্পের সুবিধা এক ছাতার নিচে পেতে পারবেন।

Share This
Categories
বিবিধ

চন্দ্রকোনারোড শহরের ৫ নম্বর সাতবাঁকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রাঙ্গণে হ য ব র ল সোসাইটি চন্দ্রকোনারোড ইউনিটের পক্ষ থেকে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-হ য ব র ল সোসাইটি চন্দ্রকোনারোড ইউনিটের পক্ষ থেকে রক্তদান শিবিরের আয়োজন থ্যালাসেমিয়ার রোগীদের স্বার্থে। গ্রীষ্মকালীন রক্তের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে এবং থ্যালাসেমিয়া রোগীদের স্বার্থে রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহরের ৫ নম্বর সাতবাঁকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েত প্রাঙ্গণে হ য ব র ল সোসাইটি চন্দ্রকোনারোড ইউনিটের পক্ষ থেকে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। জানা গিয়েছে এই রক্তদান শিবিরে মহিলা এবং পুরুষ মিলিয়ে মোট ৮১ জন রক্তদাতা রক্তদান করেন। এই রক্তদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পীযূষ তেওয়ারি, মলয় ব্যানার্জি, নীল মাধব ব্যানার্জি,বিদ্যুৎ বিষই,মুন্নি বিষই সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

Share This
Categories
বিবিধ

মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেশপুরে মহামিছিল CPI(M) র।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পেট্রোল-ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেশপুরে মহামিছিল CPI(M) র। পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে পুনর্বাসন না দিয়ে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর বাজারে মহা মিছিল করলো সিপিআইএম নেতৃত্ব। এই দিন এই মিছিলে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক পা মিলিয়েছেন। এই দিন এই মহা মিছিলে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জেলা সম্পাদক তরুণ রায়,রাজ্য কমিটির সদস্য তাপস সিনহা সহ একাধিক নেতৃত্ব। এই দিন প্রায় ৪ কিলোমিটার এই মহা মিছিল পরিক্রমা করে।

Share This
Categories
বিবিধ

রাজ্যে পালা বদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিগত সরকারের লোগো সরিয়ে ফেলছে BJP।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাজ্যে পালা বদলের পর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিগত সরকারের লোগো সরিয়ে ফেলছে BJP। রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড সেন্ট্রাল বাস স্ট্যান্ডে বিগত সরকারের আমলে লাগানো বিশ্ব বাংলার লোগো সরিয়ে ফেলল বিজেপি নেতৃত্ব। এরপর সেই লোগো রাখা হল আবর্জনা স্তূপে। এইদিন আমাদের ক্যামেরায় এমনই চিত্র উঠে এলো। এই সম্পর্কে ঝাড়গ্রাম সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক গৌতম কৌড়ি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষের আবেদনেই এই লোগো সরানো হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

রক্তের চাহিদা মিটানোর লক্ষ্যে ডুকির তুঁতবাড়িতে রক্তদান শিবিরের আয়োজন।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গ্রীষ্মকালীন রক্তের চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহর সংলগ্ন ডুকির তুঁতবাড়ি এলাকায় অপরাজেয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে এবং আমরা সবাই ক্লাব সংগঠনের পরিচালনায় রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। জানা গিয়েছে এই রক্তদান শিবিরে ৫৫ জন রক্তদাতা রক্তদান করেন। এই রক্তদান শিবিরে উপস্থিত ছিলেন BDO দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য, চন্দ্রকোনারোড বিট হাউসের IC অনুপ ভট্টাচার্য,গড়বেতা দক্ষিণ বিদ্যালয় পরিদর্শক সুকুমার গোস্বামী,স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবী গৌতম কৌড়ি,পলাশ সেন,প্রণব ঘোষ সহ অন্যান্য ক্লাব সংগঠন ও সমাজসেবী সংগঠনের সদস্যরা।

Share This
Categories
বিবিধ

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার-বিধবা ভাতা সহ একাধিক প্রকল্পের সুবিধা দিতে চন্দ্রকোনারোডে শিবির।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাজ্যে পালাবদলের পর সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে সোমবার থেকে শুরু হল জনকল্যাণ শিবির। সারা রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড গৌরব গুইন মেমোরিয়াল কলেজে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। জানা গিয়েছে তিন দিন ধরে চলবে এই শিবির। এই শিবিরের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সরকারি সুবিধা যেমন যুব শক্তি প্রকল্প, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা, বিধবা ভাতা সহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাবেন। তাই এই দিন সকাল থেকে বহু সাধারণ মানুষ সামিল হয়েছেন এই শিবিরে। এই শিবিরে এই দিন সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে এলেন বিজেপি কর্মীরা। এই দিন এই শিবির পরিদর্শন করলেন BDO দীপাঞ্জন ভট্টাচার্য, এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন একাধিক প্রশাসনিক ব্যক্তিবর্গ।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ বিবিধ রিভিউ

রানি লক্ষ্মীবাই : ভারতবর্ষের স্বাধীনতার প্রথম বীরাঙ্গনা।

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে যে কয়েকজন বীর ব্যক্তিত্ব চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন রানি লক্ষ্মীবাই। তিনি শুধু একজন রানি ছিলেন না, তিনি ছিলেন সাহস, আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম এবং নারীশক্তির এক অনন্য প্রতীক। তাঁর জীবনকাহিনি আজও কোটি কোটি ভারতীয়কে অনুপ্রাণিত করে। মাত্র তেইশ বছর বয়সে যুদ্ধক্ষেত্রে শহীদ হলেও তাঁর বীরত্বের গাথা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে।
জন্ম ও শৈশব
রানি লক্ষ্মীবাই ১৮২৮ সালের ১৯ নভেম্বর ভারতের বারাণসী শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম ছিল মণিকর্ণিকা তাম্বে। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে স্নেহ করে “মনু” বলে ডাকতেন।
তাঁর পিতা ছিলেন মোরোপন্ত তাম্বে এবং মাতা ছিলেন ভাগীরথী বাই। খুব অল্প বয়সেই তিনি তাঁর মাকে হারান। এরপর তাঁর পিতা তাঁকে অত্যন্ত স্নেহ ও যত্নের সঙ্গে বড় করে তোলেন।
সেই সময়ে অধিকাংশ মেয়েরা শিক্ষা ও অস্ত্রচর্চার সুযোগ পেত না। কিন্তু মনু ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি ছোটবেলা থেকেই ঘোড়ায় চড়া, তলোয়ার চালানো, ধনুর্বিদ্যা এবং যুদ্ধকৌশল শিখেছিলেন।
অসাধারণ প্রতিভার পরিচয়
শৈশব থেকেই মনু ছিলেন অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, সাহসী এবং আত্মবিশ্বাসী। তিনি সংস্কৃত, মারাঠি এবং হিন্দি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিদ্যাতেও ছিলেন পারদর্শী।
তাঁর প্রিয় ঘোড়াগুলোর নাম ছিল সারঙ্গী, পবন এবং বাদল। বলা হয়, তিনি ঘোড়ার পিঠে বসে এক হাতে লাগাম এবং অন্য হাতে তলোয়ার চালাতে পারতেন।
এই গুণাবলিই পরবর্তীকালে তাঁকে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীরাঙ্গনায় পরিণত করে।
ঝাঁসির রানিতে পরিণত হওয়া
১৮৪২ সালে মনুর বিয়ে হয় গঙ্গাধর রাও-এর সঙ্গে। বিয়ের পর তাঁর নাম রাখা হয় লক্ষ্মীবাই।
তিনি ঝাঁসির রানি হিসেবে রাজ্যের প্রশাসন এবং জনকল্যাণমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করেন। প্রজাদের সুখ-দুঃখের খোঁজখবর নেওয়া ছিল তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
পারিবারিক বিপর্যয়
বিয়ের কয়েক বছর পরে তাঁদের একটি পুত্রসন্তান জন্মগ্রহণ করে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত শিশুটি অল্প বয়সেই মারা যায়।
এই শোকের মধ্যেই রাজা গঙ্গাধর রাও অসুস্থ হয়ে পড়েন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি শিশুকে দত্তক গ্রহণ করেন, যার নাম ছিল দামোদর রাও।
কিন্তু ব্রিটিশ সরকার এই দত্তক উত্তরাধিকারকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে।
ব্রিটিশদের ষড়যন্ত্র
তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি “ডকট্রিন অব ল্যাপস” নীতি প্রয়োগ করেন।
এই নীতি অনুযায়ী, কোনো দেশীয় রাজ্যের শাসকের নিজস্ব পুত্র না থাকলে সেই রাজ্য ব্রিটিশদের অধীনে চলে যাবে।
ঝাঁসির ক্ষেত্রেও একই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
রানি লক্ষ্মীবাই এই অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন এবং দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন—
“আমি আমার ঝাঁসি দেব না।”
এই উক্তি পরবর্তীকালে স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অমর স্লোগানে পরিণত হয়।
১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহ
১৮৫৭ সালে ভারতের বিভিন্ন স্থানে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়।
১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহ ভারতীয় ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা।
ঝাঁসিতেও বিদ্রোহের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রানি লক্ষ্মীবাই ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন।
তিনি রাজ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করেন এবং সৈন্যদের প্রশিক্ষণ দেন।
নারী বাহিনী গঠন
রানি লক্ষ্মীবাই শুধু পুরুষ সৈন্যদের ওপর নির্ভর করেননি। তিনি নারীদের নিয়েও একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করেন।
এই বাহিনীতে বহু সাহসী নারী অংশগ্রহণ করেছিলেন।
তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন—
ঝলকারি বাই
সুন্দর-মুন্দর
কাশীবাই
এই নারীরা যুদ্ধক্ষেত্রে অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
ঝাঁসির যুদ্ধ
১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ সেনাপতি স্যার হিউ রোজ বিশাল বাহিনী নিয়ে ঝাঁসি আক্রমণ করেন।
রানি লক্ষ্মীবাই অসাধারণ সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
কয়েক সপ্তাহ ধরে তীব্র যুদ্ধ চলে। ব্রিটিশদের উন্নত অস্ত্র এবং বিশাল বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁসির সৈন্যরা প্রাণপণ লড়াই করে।
যুদ্ধের এক পর্যায়ে রানি তাঁর দত্তক পুত্রকে পিঠে বেঁধে ঘোড়ায় চেপে দুর্গ থেকে বেরিয়ে আসেন।
এই ঘটনা আজও ভারতীয় ইতিহাসের অন্যতম সাহসিকতার নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
কালপী ও গ্বালিয়রের অভিযান
ঝাঁসি থেকে বেরিয়ে তিনি তাতিয়া টোপে-এর সঙ্গে যোগ দেন।
দুজন মিলে কালপীতে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন।
পরে তাঁরা গ্বালিয়র দখল করতে সক্ষম হন।
গ্বালিয়র দখল বিদ্রোহীদের জন্য একটি বড় সাফল্য ছিল।
শেষ যুদ্ধ ও বীরমৃত্যু
১৮৫৮ সালের ১৮ জুন গ্বালিয়রের নিকটবর্তী কোটাহ-কি-সেরাই অঞ্চলে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে তাঁর শেষ যুদ্ধ হয়।
রানি লক্ষ্মীবাই পুরুষ যোদ্ধার পোশাক পরে যুদ্ধক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন।
যুদ্ধের সময় তিনি গুরুতর আহত হন।
কিন্তু শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যান।
মাত্র ২৯ বছর বয়সে তিনি বীরমৃত্যু বরণ করেন।
তাঁর মৃত্যুর পর ব্রিটিশ সেনাপতি হিউ রোজও স্বীকার করেছিলেন যে তিনি ছিলেন বিদ্রোহের সবচেয়ে সাহসী এবং দক্ষ নেতাদের একজন।
রানি লক্ষ্মীবাইয়ের ব্যক্তিত্ব
তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো ছিল—
সাহস
অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও তিনি কখনও ভয় পাননি।
নেতৃত্ব
তিনি দক্ষতার সঙ্গে সৈন্যদের পরিচালনা করতে পারতেন।
দেশপ্রেম
দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
আত্মসম্মানবোধ
তিনি অন্যায়ের কাছে কখনও মাথা নত করেননি।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে রানি লক্ষ্মীবাই
ভারতীয় সাহিত্য, নাটক এবং চলচ্চিত্রে রানি লক্ষ্মীবাই একটি জনপ্রিয় চরিত্র।
কবি সুভদ্রা কুমারী চৌহান তাঁর বিখ্যাত কবিতায় লিখেছিলেন—
“খুব লড়ি মর্দানি, ও তো ঝাঁসিওয়ালি রানি থি।”
এই কবিতা আজও ভারতীয়দের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে।
নারীশক্তির প্রতীক
রানি লক্ষ্মীবাই প্রমাণ করেছিলেন যে সাহস, নেতৃত্ব এবং দেশপ্রেমের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
তিনি দেখিয়েছিলেন—
নারী দুর্বল নয়।
নারী নেতৃত্ব দিতে পারে।
নারী দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে পারে।
নারী ইতিহাস বদলে দিতে পারে।
বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা
রানি লক্ষ্মীবাইয়ের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি—
১. অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। ২. সাহস হারালে চলবে না। ৩. দেশ ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। ৪. আত্মসম্মান রক্ষা করতে হবে। ৫. কঠিন পরিস্থিতিতেও লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

উপসংহার

রানি লক্ষ্মীবাই শুধু ঝাঁসির রানি ছিলেন না; তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতার প্রথম বীরাঙ্গনা, নারীশক্তির উজ্জ্বল প্রতীক এবং জাতীয় গৌরবের এক অমর নাম। তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় সাহস, সংগ্রাম এবং আত্মত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ।
আজও যখন কোনো নারী প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে দাঁড়ান, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেন অথবা নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেন, তখন রানি লক্ষ্মীবাইয়ের আদর্শ নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে। ইতিহাসের পাতায় তাঁর নাম চিরকাল অম্লান থাকবে, কারণ তিনি প্রমাণ করেছিলেন—একজন দৃঢ়চেতা নারী সমগ্র ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারেন।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ বিবিধ

নারীজীবন : সংগ্রাম, সাফল্য ও মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রায় নারীর অবদান।

মানবসভ্যতার ইতিহাসে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। পৃথিবীর প্রতিটি সমাজ, সংস্কৃতি এবং সভ্যতার বিকাশে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। কখনও মা, কখনও বোন, কখনও স্ত্রী, আবার কখনও রাষ্ট্রনায়ক, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক বা সমাজসংস্কারক হিসেবে তাঁরা সমাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। তবুও যুগে যুগে নারীদের নানা বৈষম্য, অবহেলা এবং প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই বাধা অতিক্রম করে তাঁরা নিজেদের যোগ্যতা ও শক্তির পরিচয় দিয়েছেন।
এই প্রবন্ধে নারীজীবনের বিভিন্ন দিক, তাঁদের সংগ্রাম, সাফল্য এবং সমাজে তাঁদের অবদান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
নারী: সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ আশীর্বাদ
নারী শুধুমাত্র একজন মানুষ নন, তিনি একটি পরিবারের ভিত্তি, একটি সমাজের চালিকাশক্তি এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতা। একজন মা তাঁর সন্তানকে প্রথম শিক্ষা দেন। একজন নারীই শিশুর চরিত্র, মূল্যবোধ এবং মানবিকতার বীজ রোপণ করেন।
প্রাচীন ভারতীয় শাস্ত্রে বলা হয়েছে—
“যত্র নার্যস্তু পূজ্যন্তে, রমন্তে তত্র দেবতাঃ”
অর্থাৎ, যেখানে নারীদের সম্মান করা হয়, সেখানে দেবতারা বাস করেন।
এই উক্তি থেকেই বোঝা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই নারীর মর্যাদা কতটা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

ইতিহাসে নারীর অবস্থান

প্রাচীন যুগে অনেক সমাজে নারীরা সম্মানজনক অবস্থানে ছিলেন। বৈদিক যুগে গার্গী, মৈত্রেয়ী প্রমুখ নারীরা শিক্ষা ও দর্শনে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিলেন।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার ও রীতিনীতির কারণে নারীর স্বাধীনতা সীমিত হতে থাকে। বাল্যবিবাহ, সতীদাহ, শিক্ষাবঞ্চনা ইত্যাদি প্রথা নারীদের জীবনকে কঠিন করে তোলে।

উনবিংশ শতাব্দীতে সমাজসংস্কার আন্দোলনের ফলে নারীদের অবস্থার উন্নতি শুরু হয়। নারীশিক্ষা, বিধবা বিবাহ এবং নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বহু সমাজসংস্কারক কাজ করেন।

নারীশিক্ষার গুরুত্ব

একটি জাতির উন্নতির জন্য নারীশিক্ষা অপরিহার্য। একজন শিক্ষিত নারী শুধু নিজেকে নয়, তাঁর পরিবার এবং সমাজকেও শিক্ষিত করে তুলতে পারেন।
নারীশিক্ষার মাধ্যমে—
সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা আসে।
কুসংস্কার কমে।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে জ্ঞান বাড়ে।
পরিবার পরিকল্পনা ও শিশুশিক্ষা উন্নত হয়।
একটি বিখ্যাত প্রবাদ আছে—
“একজন পুরুষকে শিক্ষিত করলে একজন মানুষ শিক্ষিত হয়, আর একজন নারীকে শিক্ষিত করলে একটি পরিবার শিক্ষিত হয়।”
বর্তমানে নারীরা বিদ্যালয়, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সমানভাবে অংশগ্রহণ করছেন।
স্বাধীনতা সংগ্রামে নারীর অবদান
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রানি লক্ষ্মীবাই

১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে তিনি ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেন। তাঁর বীরত্ব আজও ভারতবাসীর কাছে অনুপ্রেরণা।

সরোজিনী নাইডু

“ভারতের কোকিল” নামে পরিচিত এই নেত্রী স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মাতঙ্গিনী হাজরা

বাংলার এই বীরাঙ্গনা স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশ নিয়ে শহীদ হন। মৃত্যুর মুহূর্তেও তিনি “বন্দে মাতরম” ধ্বনি উচ্চারণ করেছিলেন।

বেগম রোকেয়া

তিনি নারীশিক্ষার প্রসারে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন এবং নারীজাগরণের পথপ্রদর্শক হিসেবে পরিচিত।
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে নারীর অবদান
নারীরা সাহিত্য, সংগীত, নৃত্য এবং শিল্পকলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

বাংলা সাহিত্যে—

আশাপূর্ণা দেবী
মহাশ্বেতা দেবী
সুচিত্রা ভট্টাচার্য
তাঁদের রচনায় সমাজের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।
সঙ্গীত ও নৃত্যের ক্ষেত্রেও বহু নারী আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে নারীরা
একসময় বিজ্ঞানকে পুরুষদের ক্ষেত্র বলে মনে করা হতো। কিন্তু নারীরা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন।

মেরি কুরি

তিনি প্রথম নারী নোবেলজয়ী এবং একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিষয়ে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন।

কল্পনা চাওলা

ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই মহাকাশচারী মহাকাশ গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

টেসি থমাস

ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাঁকে “মিসাইল ওম্যান অফ ইন্ডিয়া” বলা হয়।
বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল এবং মহাকাশ গবেষণায় নারীরা সমানভাবে কাজ করছেন।

রাজনীতি ও প্রশাসনে নারীর ভূমিকা

বিশ্বের বহু দেশে নারী রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে সফলভাবে কাজ করেছেন।
ভারতে—
ইন্দিরা গান্ধী
প্রতিভা পাটিল
নির্মলা সীতারামন
প্রমুখ নারীরা নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।
স্থানীয় পঞ্চায়েত থেকে জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়নে নারীর ভূমিকা
আজকের দিনে নারীরা শুধু গৃহকর্মেই সীমাবদ্ধ নন। তাঁরা ব্যবসা, ব্যাংকিং, কৃষি, শিল্প, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
নারীদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির ফলে—
পারিবারিক আয় বৃদ্ধি পায়।
দারিদ্র্য কমে।
অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
বর্তমানে বহু নারী সফল উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
পরিবারে নারীর ভূমিকা
পরিবার একটি সমাজের ক্ষুদ্রতম একক। এই পরিবারের কেন্দ্রবিন্দু হলেন নারী।
তিনি—
সন্তানদের লালনপালন করেন।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখেন।
সুখ-দুঃখে পরিবারের পাশে থাকেন।
নৈতিক মূল্যবোধ শেখান।
একজন মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ এবং স্নেহের তুলনা পৃথিবীর অন্য কোনো সম্পর্কের সঙ্গে করা যায় না।
নারী নির্যাতন ও সামাজিক সমস্যা
নারীদের অগ্রগতি সত্ত্বেও এখনও বহু সমস্যা বিদ্যমান।
যেমন—
যৌতুকপ্রথা
গার্হস্থ্য হিংসা
নারী পাচার
যৌন হয়রানি
কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য
এসব সমস্যার কারণে অনেক নারী তাঁদের পূর্ণ সম্ভাবনা বিকাশের সুযোগ পান না।
এই সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য—
আইন প্রয়োগ
সচেতনতা বৃদ্ধি
শিক্ষার প্রসার
সামাজিক আন্দোলন
অত্যন্ত জরুরি।
আধুনিক সমাজে নারীর অবস্থান
বর্তমান যুগে নারীরা জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
আজ নারীরা—
পাইলট
সেনা কর্মকর্তা
বিচারপতি
বিজ্ঞানী
মহাকাশচারী
উদ্যোক্তা
ক্রীড়াবিদ
হিসেবে সফলভাবে কাজ করছেন।
বিশ্বের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায়ও নারীরা নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
নারী ও মানবাধিকার
মানবাধিকার অনুযায়ী নারী ও পুরুষ উভয়ের সমান অধিকার রয়েছে।
নারীদের মৌলিক অধিকার হলো—
শিক্ষার অধিকার
কর্মসংস্থানের অধিকার
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
সম্পত্তির অধিকার
নিরাপত্তার অধিকার
এই অধিকারগুলো নিশ্চিত করা একটি সভ্য সমাজের দায়িত্ব।
নারী ক্ষমতায়নের প্রয়োজনীয়তা
নারী ক্ষমতায়ন বলতে বোঝায় নারীদের এমন সুযোগ ও অধিকার প্রদান করা যাতে তাঁরা নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে পারেন।
নারী ক্ষমতায়নের মাধ্যমে—
অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আসে।
আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি পায়।
জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়।
যে সমাজ নারীদের ক্ষমতায়ন করে, সেই সমাজ দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যায়।
সমাজ গঠনে নারীর অবদান
একজন নারী একসঙ্গে বহু ভূমিকা পালন করেন—
মা
শিক্ষক
সেবিকা
বন্ধু
পথপ্রদর্শক
তিনি সমাজে মানবিকতা, ভালোবাসা এবং সহমর্মিতার শিক্ষা দেন।
নারীর অবদান ছাড়া একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ কল্পনা করা অসম্ভব।
ভবিষ্যতের নারী
প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক বিশ্বে নারীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
ভবিষ্যতে—
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
মহাকাশ গবেষণা
পরিবেশ সংরক্ষণ
উদ্যোক্তা উন্নয়ন
ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে।
তবে সেই সঙ্গে নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।
উপসংহার
নারী মানবসভ্যতার অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাঁরা শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি জাতির শক্তি ও প্রেরণা। ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে নারীরা তাঁদের সাহস, ত্যাগ, মেধা এবং কর্মদক্ষতার মাধ্যমে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
আজকের বিশ্বে নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা এবং সমঅধিকার নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের পূর্বশর্ত। একটি দেশ তখনই সত্যিকার অর্থে উন্নত হতে পারে, যখন সেই দেশের নারীরা নিরাপদ, শিক্ষিত, স্বনির্ভর এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারেন।
তাই আসুন, আমরা নারীকে সম্মান করি, তাঁদের অধিকার রক্ষা করি এবং এমন একটি সমাজ গড়ে তুলি যেখানে নারী ও পুরুষ সমানভাবে মানবকল্যাণে অবদান রাখতে পারেন। নারীকে এগিয়ে নেওয়া মানেই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নেওয়া।

Share This