Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ইতিহাস গর্ভে ফিরে দেখা! : তন্ময় সিংহ রায়।।।

”ভাইয়ের কপালে দিলাম ফোঁটা, যমের দুয়ারে পড়ল কাঁটা।
যমুনা দেয় যমকে ফোঁটা, আমি দিই আমার ভাইকে ফোঁটা!”

 

এই রাখি’র বন্ধনে কিভাবে মানুষ বাঁধা পড়ল? পুরাণ থেকে ইতিহাস গর্ভে এ নিয়ে
রয়ে গেছে বেশ কিছু রহস্যময় ও উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহ!
এবারে উঁকি মারা যাক পৌরাণিক সেই কাহিনীগুলি’র দরজায়!
প্রথমত, হিন্দু ধর্মের মহাকাব্যদ্বয়ের মধ্যে মহাভারতে লুকিয়ে থাকা রাখি বন্ধনের যে ঘটনা আমরা দেখতে পাই তা হল,
কথিত আছে রাজসূয় যজ্ঞের সময় শিশুপালকে হত্যার পরে স্বয়ং শ্রী-কৃষ্ণের একটি আঙুল কেটে ঝরতে থাকে রক্ত!
এমতবস্থায়, পঞ্চপান্ডবের স্ত্রী দ্রৌপদী
তখন তাঁর শাড়ির আঁচল খানিকটা ছিঁড়ে কৃষ্ণের আঙুলে বেঁধে দেন ও অভিভূত কৃষ্ণ তাঁর অনাত্মীয়া, কিন্তু বোন হিসাবে মেনে নেওয়া দ্রৌপদীকে পরিবর্তে
প্রতিশ্রুতি দেন যে, ভবিষ্যতে সর্বরকম বিপদে তিনি রক্ষা করবেন তাঁকে।
এই ঘটনার বহু বছর পর, পাশাখেলায় হারের মাধ্যমে কৌরবরা যখন দ্রৌপদীকে অপমান করে তাঁর বস্ত্রহরণ করতে উদ্যত হন, সে মুহুর্তে  কৃষ্ণ অসমাপ্ত বস্ত্র সরবরাহের দ্বারা দ্রৌপদীর সম্মান রক্ষা করে বজায় রাখেন সেই প্রতিদান।

দ্বিতীয়ত, যমুনা তাঁর ভাই স্বয়ং যমের হাতে  বেঁধে দিয়েছিলেন রাখি।

তৃতিয়ত, শুভ ও লাভ নামে গণেশের পুত্রদ্বয়
এক সময় বায়না ধরে যে, নিজেদের বোনের হাতে তারা পরাতে চায় রাখি!
এ পরিস্থিতিতে উপায়ান্তর না দেখে গণেশ তাঁর দুই স্ত্রী ঋদ্ধি ও সিদ্ধি’র অন্তর থেকে নির্গত অগ্নি থেকে সৃষ্টি করেন বোনরূপি সন্তোষী মা-কে, যিনি সন্তোষের অধিষ্ঠাত্রী দেবী নামে অভিহিত হিন্দুধর্মের একজন অ-শাস্ত্রীয় ও লৌকিক নবীন দেবী।

এবারে আলোকপাত করা যাক কিংবদন্তী’র ইতিহাস কি বলছে সে বিষয়ে,
প্রথমত, শত্রুর হাত থেকে নিজের রাজ্যের মান-মর্যাদা রক্ষা করার একান্ত উদ্দ্যেশ্যে,
মুঘল সম্রাট বাবর পুত্র সম্রাট হুমায়ুনের কাছে একবার সাহায্যপ্রার্থী হন চিতোরের বিধবা রানি কর্ণবতী এবং সেই সময়ে তিনি একটি রাখিও পাঠান হুমায়ুনকে। এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই পরবর্তীতে এই ঘটনা পরিনত হয় উৎসবে এবং এর জনপ্রিয়তা হতে থাকে ক্রমবর্ধমান!

দ্বিতীয়ত, গ্রীক বীর আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণ ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বিশেষত এই কারণে বলে আমার মনে হয় যে, এর ফলে গ্রিকদের সভ্যতা, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারার সাথে পরিচিত হয়ে ওঠার একটি সুযোগ আমরা পাই।
যাইহোক, বর্তমান ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়া ঝিলাম নদী (ঋগ্বেদে বিতস্তা নদী) সংলগ্ন উপকূলে গ্রিকদের বশ্যতা স্বীকার না করা ঝিলাম রাজ পুরুর সাথে ৩২৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দে আলেকজান্ডারের তুমুল যুদ্ধের ফলে সেই যুদ্ধে পরাজিত হয়েছিলেন পুরু।
কিন্তু ইতিহাস বলছে, তাঁর স্বামীর প্রাণ সংশয় হতে পারে, এই আশঙ্কা করে আলেকজান্ডারের স্ত্রী রোক্সানা পুরুর কাছে যান এবং তাঁর হাতে বেঁধে দেন একটি পবিত্র সুতো ও পরিবর্তে পুরু
আলেকজান্ডারের কোনও ক্ষতি করবেন না বলে কথাও দেন।

এদিকে আধুনিক ইতিহাসে চোখ রাখলে আমরা দেখতে পাই,
১৯ শতকে বাংলায় জাতীয়তাবাদী আন্দোলন চরম পর্যায়ে থাকাটা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের কাছে হয়ে উঠেছিল অপরিমিত ভয়ের একটি বিশেষ কারণ, আর যে কোনো উপায়ে এই  আন্দোলনকে দমন করার বিভিন্ন পথ খুঁজতে গিয়েই ব্রিটিশ সরকার সিদ্ধান্ত নেয়, তারা বাংলাকে দুই ভাগে ভাগ করে ঐক্য শক্তিকে হ্রাস করবে। এ হেন জটিল ও মর্মান্তিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ সহ গোটা ভারতের বিভিন্ন বিশিষ্টজন ও নেতৃবৃন্দ এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা করেছিলেন এবং শুরু করেছিলেন বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে এক সংঘবদ্ধ প্রতিবাদী আন্দোলন!
অতএব ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ প্রতিরোধের উদ্দ্যেশ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোলকাতা, সিলেট
ও ঢাকা ইত্যাদি থেকে হাজার হাজার হিন্দু ও মুসলিম ভাই-বোনকে আহ্বান করেছিলেন ঐক্যতার প্রতীক হিসাবে রাখি বন্ধন উৎসব পালন করার জন্যে!
বলাবাহুল্য সে সময় দেশে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতাও যেন পৌঁছেছিল একেবারে চরম পর্যায়ে!
বলার আর কোনো অপেক্ষা রাখে না যে,
ধর্মীয় অরাজকতা সে সময়েও ছিল, আজও বজায় আছে তা বহাল তবিয়তে!

ক্রমবিবর্তনের মধ্যে দিয়ে একবিংশের ঠিক যে জায়গায় এসে পৌঁছেছে এই উৎসব তা এরূপ,
শ্রাবণ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে হিন্দু ভাই-বোনদের মধ্যে অত্যন্ত নিষ্ঠাভরে পালন করা হয় এই রাখী বন্ধন নামক উৎসবটি!
উৎসবের ধরণ হিসাবে উল্লেখ্য, সেই বিশেষ দিনে দিদি বা বোনেরা তাঁদের ভাই বা দাদা’র আ-জীবন মঙ্গল কামনা’র উদ্দ্যেশ্যে হাতের কব্জিতে বেঁধে দেয় রাখী নামক একটি পবিত্র সুতোর বন্ধন! পরিবর্তে ভাই বোনকে দেয় কিছু উপহার ও শপথগ্রহণ করে বা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় সারাজীবন বোনকে রক্ষা করায়!
এখানে একটি বিষয় জানানো ভালো, সেই ভাই-বোন যে একই মায়ের গর্ভের হতে হবে এমন কোনো কথা নেই।
হিন্দু ছাড়াও জৈন ও শিখ প্রভৃতিরা পালন করে থাকেন এই উৎসব!
সর্বশেষ এই যুক্তি পরিলক্ষিত যে, রাখিকে ভাই-বোনের উত্‍সব হিসাবে মনে করা হলেও ইতিহাসে কিন্তু, পুরুষকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করার শুভ প্রতীক হিসাবে তাঁদের কব্জিতে মহিলাদের সুতো বেঁধে দেওয়ার একটি যোগসূত্র থেকেই যাচ্ছে।
আর হয়তো এগুলিই পরে রূপ নেয় রাখি বন্ধন উত্‍সবের!!

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ৩০ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ৩০ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক)  আন্তর্জাতিক ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপেয়ারেন্স দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯৫১ – (ক)  ভারতীয় বাঙালি ফুটবলার সুরজিৎ সেনগুপ্ত।

(গ) ডানা রসেমারয় সচালন, ইংরেজ বংশোদ্ভূত আইরিশ গায়ক ও রাজনীতিবিদ।

১৯৬৩ – মাইকেল চিক্লিস, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক।

১৯৭২ – (ক) শ্রীলেখা মিত্র, ভারতীয় বাঙালী চলচ্চিত্র অভিনেত্রী।

(খ) চেক প্রাজন্ত্রের ফুটবলার ও সাবেক অধিনায়ক পাভেল নেদভেদ।

(গ) – ক্যামেরন ডাইজ অভিনেত্রী ও ফ্যাশন মডেল।

১৯৮২ – এন্ডি রডিক আমেরিকান টেনিস তারকা।

১৯৮৩ – ইমানুয়েল কুলিও, আর্জেন্টিনার ফুটবলার।

১৯৮৫ – হোলি ওয়েস্টন, ইংরেজ অভিনেত্রী।

১৯১২ – এডওয়ার্ড মিল্স পারসেল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান পদার্থবিদ।

১৯১৩ – রিচার্ড স্টোন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইংরেজ অর্থনীতিবিদ এবং পরিসংখ্যানবিদ।

১৯১৭ – ব্রিটিশ রাজনীতিক ডেনিস হিলি।

১৯৩০ – ওয়ারেন বাফেট, মার্কিন ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী এবং জনহিতৈষী ব্যক্তি।

১৮৪৪ – শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজসেবী চন্দ্রনাথ বসু।

১৮৫২ – ইয়াকোবুস হেনরিকুস ফান্ট হফ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ডাচ রসায়নবিদ।

১৮৫৬ – কার্ল ডেভিড টলমে রুঙ্গে, জার্মান গণিতবিদ ও পদার্থবিদ।

১৮৭১ – আর্নেস্ট রাদারফোর্ড, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নিউজিল্যান্ড ইংরেজ পদার্থবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ।

১৮৮৪ – থিওডোর সভেডবার্গ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুইডিশ রসায়নবিদ ও পদার্থবিদ।

১৭৯৭ – ‘ফ্রাঙ্কেনস্টাইন’ গ্রন্থের লেখিকা ও কবি শেলির স্ত্রী মেরি ওলস্টোনক্র্যাফট শেলি।

১৫৬৯ – জাহাঙ্গীর, মুঘল সাম্রাজ্যের চতুর্থ সম্রাট।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০৭ – রাশিয়া ও বৃটিশ উপনিবেশবাদী সরকার এক চুক্তির মাধ্যমে ইরানকে তিন অংশে বিভক্ত করে।

১৯০৯ – বার্গেস শেল জীবাশ্ম চার্লস ডুলিটল ওয়ালকোট আবিষ্কার করেছিলেন।

১৯১৪ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধ: জার্মানরা ট্যানেনবার্গের যুদ্ধে রাশিয়ানদের পরাজিত করেছিল।

১৯১৬ – আর্নেস্ট শ্যাকলটন অ্যান্টার্কটিকার এলিফ্যান্ট দ্বীপে আটকা পড়ে থাকা তার সমস্ত লোকের উদ্ধার কাজটি শেষ করেছেন।

১৯১৭ – ভিয়েতনামের কারাগারের রক্ষীরা স্থানীয় ফরাসী কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে থিয়ে নগুইন অনুশাসনে ট্রানহান কান সেনের বিদ্রোহের নেতৃত্বে।

১৯১৮ – ফ্যানি কাপলান বলশেভিক নেতা ভ্লাদিমির লেনিনকে গুলি করে মারাত্মকভাবে আহত করেছিলেন, তিনি বলশেভিকের সিনিয়র অফিসার মাইসেই উরিটস্কি হত্যার পাশাপাশি কয়েকদিন আগে ডিক্রিমিকে অনুরোধ করেছিলেন

১৯৩৩ – এয়ার ফ্রান্স গঠিত হয়।

১৯৪১ – জার্মান বাহিনী লেনিনগ্রাদ অবরোধ করে।

১৯৪৫ – হংকং বৃটিশ বাহিনীর সহায়তায় জাপানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৫৬ – সোভিয়েত ইউনিয়ন পারমাণবিক পরীক্ষা করে।

১৯৫৭ – যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক পরীক্ষা করে।

১৯৭১ – দিল্লীতে বাংলাদেশ মিশনের উদ্বোধন।

১৯৯১ – আযারবাইজান প্রজাতন্ত্র সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৯৯৭ – বসনিয়ায় মুসলিম ক্রোয়েট চুক্তি স্বাক্ষর।

১৯৯৯ – পূর্ব তিমুর ইন্দোনেশিয়া থেকে স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দেয়।

১৮০০ – গ্যাব্রিয়েল প্রসেসার ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে একটি পরিকল্পিত দাস বিদ্রোহ স্থগিত করে, তবে তা ঘটানোর আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

১৮১৩ – কুলমের প্রথম যুদ্ধ: ফরাসি বাহিনী অস্ট্রিয়ান-প্রুশিয়ান-রাশিয়ান জোটের কাছে পরাজিত।

১৮৩০ – বুলগেরিয়ার রাজপুত্র ওথো গ্রিসের রাজা নির্বাচিত হন।

১৮৩৫ – অস্ট্রেলিয়া: মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়া প্রতিষ্ঠিত।

১৮৫০ – হনুলুলু শহরের মর্যাদা পায়।

১৮৬০ – ব্রিটেনে প্রথম ট্রাম চালু হয়।

১৮৬২ – আমেরিকান গৃহযুদ্ধ: রিচমন্ডের যুদ্ধ: জেনারেল উইলিয়াম “বুল” নেলসনের অধীনে এডমন্ড কার্বি স্মিথের অধীনে ইউনিয়ন বাহিনী সেনা সদস্যরা।

১৮৭৩ – অস্ট্রিয়ান অভিযাত্রী জুলিয়াস ফন পেয়ার এবং কার্ল ওয়েপ্রেক্ট আর্কটিক সাগরে ফ্রেঞ্চ জোসেফ ল্যান্ডের দ্বীপপুঞ্জটি আবিষ্কার করেন।

১৮৯৬ – ফিলিপাইনের বিপ্লব: সান জুয়ান দেল মন্টির যুদ্ধে স্প্যানিশ জয়ের পরে ফিলিপাইনের আটটি প্রদেশকে স্পেনীয় গভর্নর-জেনারেল জেনারেল রামন ব্লাঙ্কো ই এরেনাস সামরিক আইনে ঘোষণা করেছিলেন।

১৭২১ – লিস্টাভ-এর শান্তি চুক্তি সম্পাদিত।

১৭২৭ – গ্রেট ব্রিটেনের দ্বিতীয় রাজা জর্জের জ্যেষ্ঠ কন্যা অ্যানিকে প্রিন্সেস রয়্যাল উপাধি দেওয়া হয়।

১৭৯১ – এইচএমএস পান্ডোরা আগের দিন বাইরের গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের উপর দৌড়ে যাওয়ার পরে ডুবে গেছে।

১৭৯৯ – দ্বিতীয় কোয়ালিশনের যুদ্ধের সময় স্যার রাল্ফ অ্যাবারক্রম্বি এবং অ্যাডমিরাল স্যার চার্লস মিচেলের কমান্ডে পুরো ডাচ বহরটি ব্রিটিশ বাহিনীর হাতে ধরা হয়েছিল।

১৫৭৪ – গুরু রাম দাস চতুর্থ শিখ গুরু / মাস্টার হন।

১৫৯৪ – স্কটল্যান্ডের কিং জেমস প্রিন্স হেনরির ব্যাপটিজমে একটি মাস্ক ধারণ করেছিলেন।

১৪৬৪ – পোপ পল দ্বিতীয় পোপ পিয়াস দ্বিতীয়র উত্তরাধিকার হিসেবে এবং ২১১ তম পোপ হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন।

১৩৬৩ – পয়য়াং হ্রদের পাঁচ সপ্তাহের যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যেখানে দুই চীনা বিদ্রোহী নেতার (চেন ইউলিয়ানং এবং জু ইউয়ানজ্যাং) সেনাবাহিনী ইউয়ান রাজবংশকে সমর্থন করবে কে তা সিদ্ধান্ত নিতে মিলিত হয়।

১২৮২ – তৃতীয় আরাগোন পিটার ত্রাপানিতে সিসিলিয়ান ভেস্পারদের যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করতে নামেন।

৭০ খ্রিস্টপূর্ব- হেরোদের মন্দির ধ্বংস করার পরে টাইটাস জেরুজালেম অবরোধের অবসান ঘটিয়েছিলেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

 

২০০১ – আফম আহসানউদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশের ১১ তম রাষ্ট্রপতি।

২০০৬ – নাগিব মাহফুজ, নোবেল বিজয়ী মিশরীয় সাহিত্যিক।

২০১৩ – শেমাস্‌ হীনি, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আইরিশ কবি ও নাট্যকার।

২০১৭ – আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশী সঙ্গীত শিল্পী।

১৯১১ – হরিনাথ দে বহুভাষাবিদ ভারতীয় বাঙ্গালী পণ্ডিত।

১৯২৮ – ভিলহেল্ম ভিন, ১৯১১ সালের নোবেলজয়ী জার্মান পদার্থবিদ।

১৯৭৬ – যাদুগোপাল মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী, অনুশীলন সমিতির অবিসংবাদী নেতা ও প্রখ্যাত চিকিৎসক।

১৯৮১ – নীহাররঞ্জন রায় আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি ইতিহাসবিদ, সাহিত্য সমালোচক ও শিল্পকলা-গবেষক পণ্ডিত।

১৯৮১ – ইরানের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আল রাজাই ও প্রধানমন্ত্রী মোহম্মদ জাভেদ বাহোনার পিপলস মোজাহিদিন অব ইরানের বোমা হামলায় নিহত হন।

১৯৮৭ – ফিলিস্তিনের খ্যাতনামা কার্টুনিষ্ট নাজিউল আলী লন্ডনে ইহুদীবাদী ইসরাইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের হাতে নিহত হন।

১৮৬৮ – প্রসন্নকুমার ঠাকুর, ঊনবিংশ শতকের বাংলার সমাজ সংস্কারক ও হিন্দু কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা।

১৮৭৭ – তরু দত্ত, ইংরাজী ও ফরাসি ভাষার ভারতীয় বাঙালি কবি।

১৬৫৯ – দারা শিকোহ, আওরঙ্গজেবের ঘাতকের হাতে।

১৪৮৩ – ফ্রান্সের রাজা একাদশ লুই।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ জাতীয় ক্রীড়া দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটির গুরুত্ব।

হকি খেলোয়াড় ধ্যান চাঁদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে প্রতিবছর ২৯ আগস্ট ভারতে জাতীয় ক্রীড়া দিবস উৎযাপিত হয়।খেলার জগতের প্রতিটি খেলোয়াড় দের জীবনে এই দিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে বিবেচিত হয়। এই বিশেষ দিন টিতেই অর্জুন, দ্রোনাচার্জ, রাজীব খেলরত্ন, ধ্যান চাঁদ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রতিটি ব্যক্তির জীবনে খেলাধুলা এবং খেলাধুলার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য প্রতি বছর এই দিবসটি উদযাপিত হয়। আসলে দিনটি কিংবদন্তি হকি খেলোয়াড় মেজর ধ্যান চাঁদের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

 

উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে (এলাহাবাদ) ১৯০৫ সালের ২৯ অগাস্ট জন্ম হয়  ধ্যানচাঁদের। ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মির হয়ে হকি খেলেছিলেন ধ্যানচাঁদের পরিবারের সদস্যরা। বাবা সোমেশ্বর সিংহ সেনাবাহিনীতে চাকরি করতেন।  মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯২২ সালে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মিতে যোগ দিয়েছিলেন ধ্যানচাঁদ। সময়ের অভাবে রাতের দিকে অনুশীলনে মগ্ন থাকতেন কিংবদন্তি এই হকি তারকা। রাতের দিকে অনুশীলন করতেন বলে তাঁর সতীর্থরা ‘চাঁদ’ নামে সম্বোধন করতেন ধ্যানচাঁদকে। তিনি পঞ্জাব রেজিমেন্টের মেজর পদে উন্নিত হয়েছিলেন।  ১৯৩২ সালে গোয়ালিয়রের ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করেন ধ্যানচাঁদ। একদম ছোটবেলায় কুস্তিতে মূলত আগ্রহ ছিল ধ্যানচাঁদের। যদিও পরে হকিতে মনোনিবেশ করেন।

 

ইংরেজদের অধীনস্ত ভারতীয় হকি দলের হয়ে ১৯২৮, ১৯৩২ ও ১৯৩৬ অলিম্পিক খেলেন।  প্রতিবারই দেশকে সোনা এনে দিয়েছিলেন তিনি। ১৯২৬—১৯৪৯ পর্যন্ত তার ক্যারিয়ার জীবনে তিনি মোট ৫৭০টি গোল করেন।
আন্তর্জাতিক হকি অঙ্গনে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি তিনি একাধিকবার তার দেশকে সাফল্যের শীর্ষে নিতে অবদান রেখেছেন। তিনি ভারতীয় এবং বিশ্ব হকির এক কিংবদন্তিতুল্য ব্যক্তিত্ব। তার স্মরণে ভারতের ক্রীড়াঙ্গনে আজীবন কৃতিত্বের জন্য সর্বোচ্চ পুরস্কার— মেজর ধ্যানচাঁদ পুরষ্কারের প্রবর্তন করা হয়েছে এবং তার জন্মদিনেই দেশটিতে জাতীয় ক্রীড়া দিবস উৎযাপন করা হয়।  শোনা যায়, হিটলার ধ্যানচাঁদের খেলা দেখে এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে তাঁকে জার্মান নাগরিকত্ব দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তা নিতে অস্বীকার করেন ধ্যানচাঁদ। তাকে মেডেল পরিয়ে পুরষ্কৃত করেন রাষ্ট্র নায়ক হিটলার । তার পর স্টেডিয়ামে থেকে জিজ্ঞাসা করেন হিটলার, ভারতে কি করেন তিনি ? ধ্যান চাঁদ বলেন ভারতের সেনাবাহিনী তে যুক্ত তিনি । তারপর হিটলার তাকে জার্মানির সেনাবাহিনী তে উচ্চ পদের জন্য আমন্ত্রণ জানান । তবে ধ্যান চাঁদ তার আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করেন । তার আত্মজীবনী ” গোল ” বই টিতে এই ঘটনার কথা লিপিবদ্ধ আছে ।

 

কিংবদন্তি এই হকি তারকার নামে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় মূর্তি গড়া হয়েছে।

১৯৫৬ সালে তিনি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পদ্মভূষণ সম্মানে ভূষিত হন।

১৯২৮ সালের আমস্টারডাম অলিম্পিক্সে সর্বোচ্চ গোলদাতা ছিলেন ধ্যানচাঁদ। সেবারই হকির জাদুকর হিসেবে নামকরণ হয় ধ্যানচাঁদের।

নয়া দিল্লিতে তার নামে একটি জাতীয় হকি স্টেডিয়াম প্রতিষ্ঠা করা হয়। ঝাঁসি তে তার নামেই রয়েছে জাতীয় হকি একাডেমি।

 

আজকের দিনেই রাষ্ট্রপতি অর্জুন ও রাজীব খেলরত্ন পুরস্কার, দ্রোণাচার্য পুরস্কার তুলে দেন ক্রীড়াজগতে দেশের কৃতিদের হাতে। ক্রীড়া সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দেশের ক্রীড়া সংস্কৃতি ও জাতীয় ক্রীড়া দলগুলোর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ বাড়াতে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে , স্কুলে এই দিন টি পালন করা হয়। তবে ভারতের মতন জাতীয় ক্রীড়া দিবস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে উৎযাপিত হয়ে থাকে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

নারী সমতা দিবস, জানুন তার ইতিহাস এবং কেন পালিত হয়ে আসছে এই দিনটি।

আজকের যুগে নারীরা অনেক এগিয়ে। সমগ্র বিশ্ব দেখেছে নারীরা সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছাতে সক্ষম। কোনও কাজেই আজ নারীরা পুরুষদের থেকে পিছিয়ে নেই। এখন বিশ্বব্যাপী এখন অনেক সংস্থা গড়ে উঠেছে, যারা নারীদের প্রতি নিপীড়ন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে, সমাজে বিদ্যমান বৈষম্যের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে নারীদের সমান সুযোগ প্রদান করে চলেছে। পুরুষের সঙ্গে সমান তালে পা মিলিয়ে এগিয়ে ছলছে নারীরা। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের অগ্রগতি অনস্বীকার্য। প্রতিটি ক্ষেত্রে তারা তাদের যোগ্যতার ছাপ ফেলে যাচ্ছে। খেলা ধুলা, শিক্ষা দীক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনা সর্বক্ষেত্রে তারা নিজেদের যোগ্যতার সাক্ষর রেখে যাচ্ছে। পুরুষের থেকে তারাও যে কোনো অংশে কম নয় তা বুঝিয়ে দিচ্ছে তাদের সাফল্য দিয়ে। ফলস্ববরূপ তাদের এই জয়। সেদিনের আধিকার লড়াই এর সাফল্য।

 

আমেরিকান কংগ্রেস এবং আমেরিকার ৩৭তম রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৭৩ সালের  ২৬ অগস্ট দিনটিকে ‘নারী সমতা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আমেরিকায় এই দিবস উদযাপন শুরু হয়। এর পর থেকে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে নারী সমতা দিবস পালিত হয়ে আসছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ১৯২০ সালের ঊনবিংশ সংশোধনী (সংশোধন XIX) গৃহীত হওয়ার স্মরণে ২৬শে আগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীর সমতা দিবস উদযাপন করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্র এবং ফেডারেল সরকারকে নাগরিকদের ভোটের অধিকার অস্বীকার করা থেকে নিষিদ্ধ করে।  লিঙ্গ ভিত্তিতে রাষ্ট্র.  এটি প্রথম ১৯৭১ সালে পালিত হয়েছিল, ১৯৭৩ সালে কংগ্রেস দ্বারা মনোনীত হয়েছিল, এবং প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি দ্বারা ঘোষণা করা হয়।মহিলাদের অধিকার নিয়ে ৭২ বছরের কঠোর পরিশ্রম ও প্রচারের পর ১৯২০ সালে সফলতা পায় মহিলারা ৷

 

ইতিহাস—

 

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহযুদ্ধের আগেই শুরু হয়েছিল নারীদের ভোটাধিকারের জন্য আন্দোলন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাজ্যে কেবল ধনী শ্বেতাঙ্গ পুরুষদেরই ভোটের অধিকার ছিল ১৮৩০-এর দশকের দিকে । প্রথমবার নারী সমতা বা নারী সমানাধিকার নিয়ে প্রতিবাদ হয়েছিল ১৮৪৮ সালে নিউইয়র্কে Women’s Rights Convention-এ ।  পরবর্তী সময়ে এলিজাবেথ ক্যাডি স্ট্যানটন এর নেতৃত্বে ১৮৯০-এর দশকে, ন্যাশনাল আমেরিকান ওমেন স্যাফারেজ অ্যাসোসিয়েশন শুরু হয়। এই দশক শেষ হওয়ার আগে, আইডাহো এবং ইউটা মহিলাদের ভোট দেওয়ার অধিকার মিলেছিল। ১৯১০ সালে অন্যান্য পশ্চিমী রাজ্যগুলি মহিলাদের ভোট দেওয়ার অধিকার দিতে শুরু করে। তবে তখনো বেশ কয়েকটি পূর্ব এবং দক্ষিণী রাজ্যে মহিলাদের ভোটারাধিকারে স্বীকৃতি মেলেনি। এর পর, ১৯২০ সালের ২৬ অগস্ট মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ১৯তম সংশোধনী গৃহীত হয়, যেখানে মহিলাদের ভোট দেওয়ার অধিকার পান।

তারিখটি ১৯২০ সালে সেই দিনটিকে স্মরণ করার জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল যখন সেক্রেটারি অফ স্টেট বেইনব্রিজ কোলবি আমেরিকান মহিলাদের ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার দেওয়ার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন।  ১৯৭১ সালে, ১৯৭০ সালের দেশব্যাপী নারীদের সমতার জন্য ধর্মঘট এবং আবার ১৯৭৩ সালে, সমান অধিকার সংশোধনী নিয়ে লড়াই চলতে থাকলে, নিউইয়র্কের কংগ্রেসওম্যান বেলা আবজুগ ২৬শে আগস্টকে নারীর সমতা দিবস হিসেবে মনোনীত করার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

 

১৯৭২ সালে, রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন ২৬ আগস্ট, ১৯৭২কে “নারী অধিকার দিবস” হিসাবে মনোনীত করেছিল এবং এটি ছিল নারীর সমতা দিবসের প্রথম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।  ১৯৭৩ সালে আমেরিকান কংগ্রেস এবং আমেরিকার ৩৭তম রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ অগস্ট দিনটিকে ‘নারী সমতা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।  আমেরিকার মহিলাদের প্রথম ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছিল।  একই দিনে, রাষ্ট্রপতি নিক্সন নারী সমতা দিবসের জন্য ঘোষণা ৪২৩৬ জারি করেছিলেন, যা শুরু হয়েছিল, অংশে: “মহিলাদের ভোটাধিকারের সংগ্রাম, যাইহোক, আমাদের জাতির জীবনে মহিলাদের পূর্ণ এবং সমান অংশগ্রহণের দিকে প্রথম পদক্ষেপ মাত্র। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে,  আমরা আমাদের আইনের মাধ্যমে লিঙ্গ বৈষম্যকে আক্রমণ করে এবং মহিলাদের জন্য সমান অর্থনৈতিক সুযোগের জন্য নতুন পথ প্রশস্ত করার মাধ্যমে অন্যান্য বিশাল অগ্রগতি করেছি৷ আজ, আমাদের সমাজের কার্যত প্রতিটি ক্ষেত্রে, মহিলারা আমেরিকান জীবনের গুণমানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে৷ এবং এখনও,  এখনও অনেক কিছু করা বাকি আছে।”
২০২১ সাল পর্যন্ত, রিচার্ড নিক্সনের পর থেকে প্রতিটি রাষ্ট্রপতি প্রতি বছর ২৬ আগস্টকে নারী সমতা দিবস হিসাবে মনোনীত করে একটি ঘোষণা জারি করেছেন। তাই এই দিনটি মহিলাদের সমান অধিকার দিবস হিসেবে পালন করা হয়।আমেরিকায় এই দিবস উদযাপন শুরু হয়। এর পর থেকে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে নারী সমতা দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

২৯ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৯ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

(ক)  জাতীয় ক্রীড়া দিবস (ভারত)

(খ) খনি শ্রমিক দিবস (ইউক্রেন)

(গ) পারমাণবিক পরীক্ষা বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস ৷

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৪ – ভারনার ফ্রোসমান, নোবেলজয়ী [১৯৫৬] জার্মান চিকিৎসক।

১৯০৫ – ধ্যানচাঁদ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতীয় হকি খেলোয়াড়।

১৯০৮ – ভেরিয়ার এলউইন, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ, নৃতাত্ত্বিক এবং উপজাতীয় কর্মী।

১৯১৫ – ইনগ্রিড বার্গম্যান, সুইডিশ চলচ্চিত্রাভিনেত্রী।

১৯২৩ – রিচার্ড স্যামুয়েল অ্যাটনবারা,ইংরেজ চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক এবং উদ্যোক্তা।

১৯৫৮ – মাইকেল জ্যাকসন, আমেরিকান গায়ক, গীতিকার এবং ড্যান্সার।

১৮৬২ – মোরিস মাতরলাঁক, নোবেলজয়ী [১৯১১] কবি ও নাট্যকার।

১৬৩২ – জন লক, প্রভাবশালী ইংরেজ দার্শনিক।

৫৭০ – মুহাম্মাদ, ইসলামের কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব এবং ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত সর্বশেষ নবী।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯৪৭- ভীমরাও রামজি আম্বেডকরকে ভারতীয় সংবিধান খসড়া সমিতির সভাপতি করা হয়।

১৯৫৩ – সোভিয়েত ইউনিয়ন হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়।

১৯৫৬ – খাদ্যের দাবিতে ঢাকায় ‘ভুখা মিছিল’ হয়।

১৯৯১ – সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সংসদ প্রস্তাব গৃহীত হয়।

১৮২৫- পর্তুগাল ব্রাজিলের স্বাধীনতা স্বীকার করে নেয়।

১৮৩১- মাইকেল ফ্যারাডে তড়িৎচুম্বকীয় আবেশ আবিষ্কার করেন।

১৮৩৫ – অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন নগর স্থাপিত হয়।

১৮৪২ – নানকিন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে অ্যাংলো-চীন যুদ্ধ শেষ হয়। চুক্তির শর্ত অনুসারে হংকং ভূখণ্ড ব্রিটেনকে লিজ দেওয়া হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০২১ – বুদ্ধদেব গুহ, প্রখ্যাত বাঙালি সাহিত্যিক।

১৯৬০ – জর্ডানের প্রধানমন্ত্রী হাজ্জা মাজালি।

১৯৬৬ – সাইয়েদ কুতুব, একজন মিশরীয় ইসলামী চিন্তাবিদ এবং বিপ্লবী রাজনৈতিক সংগঠক।

১৯৭৬ – (১২ ভাদ্র ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ) কাজী নজরুল ইসলাম, বাঙালি লেখক, সাহিত্যিক, বিদ্রোহী কবি ও বাংলাদেশের জাতীয় কবি।

১৯৮২ – ইনগ্রিড বার্গম্যান, সুইডিশ চলচ্চিত্রাভিনেত্রী।

১৯৯৪ – তুষারকান্তি ঘোষ, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি সাংবাদিক।

১৯৯৭ – কংসারী হালদার, পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার তেভাগা আন্দোলনের খ্যাতনামা নেতা ও এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

১৯৯৯ – মোহনানন্দ ব্রহ্মচারী, ভারতীয় বাঙালি ধর্মগুরু ও যোগী পুরুষ।

১৬০৪ – হামিদা বানু বেগম, মোগল সম্রাজ্ঞী।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

২৮ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

২৮ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৫ – (ক) দীনেশ গঙ্গোপাধ্যায় বাঙালি কবি,ঔপন্যাসিক ও অনুবাদক।

(খ) সিরিল ওয়াল্টার্স, বিখ্যাত ইংরেজ ক্রিকেট তারকা।

১৯০৮ – আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য, রবীন্দ্র পুরস্কার প্রাপ্ত বিশিষ্ট বাঙালি আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ।

১৯০৯ – বীরেন রায়, ভারতীয় বাঙালি বৈমানিক ও লেখক।

১৯১৩ – লিন্ডসে হ্যাসেট, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট খেলোয়াড় ও ধারাভাষ্যকার।

১৯২০ – মানকুমার বসু ঠাকুর ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে নৌবিদ্রোহের শহীদ।

১৯০৪ – অতুল্য ঘোষ, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা, লোকসভার প্রাক্তন সদস্য।

১৯২৮ – শেখ রাজ্জাক আলী, বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার।

১৯৪৫ – লতিফুর রহমান, বাংলাদেশি শিল্পপতি, ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান।

১৯৬১ – রিজভী মুফতি –– শ্রীলঙ্কার প্রধান মুফতি

১৯৬২ – ডেভিড ফিঞ্চার, মার্কিন চলচ্চিত্র, টেলিভিশন ও মিউজিক ভিডিও পরিচালক ও প্রযোজক।

১৯৬৫ – শানিয়া টোয়েইন, কানাডীয় লোকসঙ্গীত ও পপ গায়িকা।

১৯৮২ – থিয়াগো মোত্তা, ব্রাজিলীয়-ইতালীয় ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৮৯ – সেসার আজপিলিকুয়েতা, স্পেনীয় ফুটবল খেলোয়াড়।

১৮২৮ – লিও তলস্তয়, রুশ লেখক।

১৮৪৯ – ভন গেটে, জার্মানীর খ্যাতনামা লেখক ও কবি।

১৮৫৫ – স্বর্ণকুমারী দেবী, বাঙালি কবি, ঔপন্যাসিক, সংগীতকার ও সমাজ সংস্কারক।

১৮৭৮ – জর্জ এইচ. উইপেল, মার্কিন চিকিৎসক এবং রোগতত্ত্ববিদ।

১৮৯৯ – শার্ল বোয়ায়ে, ছিলেন একজন ফরাসি অভিনেতা।

১৭৪৯ – ইয়োহান ভল্ফগাং ফন গ্যোটে, জার্মান কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার, দার্শনিক, বিজ্ঞানী, চিত্রশিল্পী, কূটনীতিবিদ ও প্রশাসনিক।

১৫৯২ – বাকিংহামের প্রথম ডিউক জর্জ ভিলিয়ার্স।

১০২৫ – জাপান সম্রাট গো-রেইজেইয়ে।

 

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯১৬ – জার্মানি রোমানিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

১৯১৯ – জেনারেল জন স্মাটস দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধানমন্ত্রী হন।

১৯৭১ – মুক্তিফৌজ ও মুক্তিযোদ্ধাদের একীভূত করে মুক্তিবাহিনী নামকরণের সিদ্ধান্ত।

১৯৯০ – ইরাক আনুষ্ঠানিকভাবে কুয়েতকে তার ১৯তম প্রদেশ ঘোষণা করে।

১৯৯৭ – ইসরাইল বেহেত্লহেম থেকে অবরোধ তুলে নেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন।

১৮৪৫ – সায়েন্টিফিক আমেরিকানের প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়।

১৮৫০ – হনুলু শহরের মর্যাদা পায়।

১৮৮৩ – ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সর্বত্র দাসপ্রথা বাতিল ঘোষিত হয়।

১৬১৯ – দ্বিতীয় ফার্দিনান্দ রোমান সম্রাট হিসেবে নির্বাচিত হন।

১৫১১ – পর্তুগিজরা মালাক্কা দখল করে।

১১৮৯ – তৃতীয় ক্রুসেড শুরু হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৬ – খ্যাতিমান বাঙালি ভাস্কর শঙ্খ চৌধুরী।

২০১৬ – শহীদ কাদরী, বাংলাদেশী কবি ও লেখক।

১৯৫৯ – ভারতে সাইকেল নির্মাণ ও বিকাশের অন্যতম পথিকৃৎ বাঙালি শিল্পপতি সুধীরকুমার সেন।

১৯৭৩ – অমিয় বাগচী বাঙালি কবি ও গীতিকার।

১৯৭৮ – রবার্ট শ, ইংরেজ অভিনেতা, ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।

১৯৮০ – শিবরাম চক্রবর্তী  প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি রম্যলেখক।

১৯৮৭ – জন হিউস্টন, আইরিশ-মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা।

১৯৯০ – সুমিত্রা দেবী (অভিনেত্রী), বাংলা ও হিন্দী চলচ্চিত্রের কৃতী অভিনেত্রী।

১৯৯২ – আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য  রবীন্দ্র পুরস্কার প্রাপ্ত বিশিষ্ট বাঙালি আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ।

১৬৪৫ – হুগো গ্রোশিয়াস, ওলন্দাজ প্রজাতন্ত্রের একজন আইনজ্ঞ

১৪৮১ – পর্তুগালের পঞ্চম আফোনসো।

১৩৪১ – আর্মেনিয়ার রাজা পঞ্চম লিও।

৪৩০ – আউরেলিয়ুস আউগুস্তিনুস, আলজেরিয়ান বিশপ, সম্ভবত স্বয়ং যীশুর কথিত শিষ্য সাধু পল’র পরেই খ্রিস্ট ধর্মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাবিদ ও দার্শনিক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

২৬ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

২৬ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

(ক) ফুলবাড়ী দিবস।

(খ) নারী সমতা দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯১০ – মাদার তেরেসা, (শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী ও ধর্মপ্রচারক দা মিশনারিজ অব চ্যারিটির প্রতিষ্ঠাত্রী।)।

১৯২০- ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় (পশ্চিমবঙ্গের বাংলা চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা)।

১৯৫১ – এডওয়ার্ড উইটেন, (ফিল্ড্‌স পদক বিজয়ী মার্কিন তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানী)।

১৯৮৮ – লার্স স্টিন্ডল, (জার্মান ফুটবল খেলোয়াড়)।

১৯৯০ – মাতেও মুসাচিও, আর্জেন্টিনার ফুটবলার।

১৯৯১ -(ক) ডিলান ও’ব্রায়েন, (আমেরিকান অভিনেতা)।

(খ) – আহমেদ দীপ্ত- সাংবাদিক, (লেখক)।

১৮৬৯ – দীনেন্দ্রকুমার রায়, (রহস্য কাহিনীকার ও সম্পাদক)।

১৮৭৩ – (মার্কিন বেতার ও টিভি উদ্ভাবক) ডি ফরেস্ট।

১৮৮০ – (ফরাসি কবি) গিইয়াম আপোলিন্যায়ার।

১৮৮৫ – (বিখ্যাত ফরাসী লেখক) জুলিয়াস রোমেইন্স।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৫ – বুরুন্ডির এনকুরুন জিজার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

২০০৬ – দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এশিয়া এনার্জি নামের একটি কোম্পানির কয়লা প্রকল্পের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের বিশাল সমাবেশে সেই সময়ের বিডিআর গুলি চালালে তিনজন নিহত হন। আহত হন দুই শতাধিক আন্দোলনকারী।

১৯১৪ – জার্মান উপনিবেশ টোগোল্যান্ড দখল করে ফ্রান্স ও ব্রিটেন।

১৯২০ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকার স্বীকৃত হয়।

১৯২৭ – ইন্ডিয়ান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি কলকাতায় প্রথম বেতার সম্প্রচার শুরু করে।

১৯৪৩ – আজাদ হিন্দ ফৌজ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়।

১৯৫৫ – সত্যজিৎ রায়ের চলচ্চিত্র ‘ পথের পাঁচালীর’ মুক্তি লাভ করে।

১৯৭০ – সুদান সরকার সংবাদ পত্র শিল্পকে জাতীয়করণ করে।

১৮৮৩ – ইন্দোনেশিয়ায় ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতে ৩৬ হাজার লোকের মৃত্যু হয়।

১৭৬৮ – ক্যাপ্টেন জেমস কুক জাহাজ এইচএমএস এনডিভার নিয়ে ইংল্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করেন।

১৭৮৯ – ফরাসি বিপ্লব বিজয়ের পর দেশটির সংসদ মানবাধিকারের ঘোষণাকে অনুমোদন করে।

১৩০৩ – আলাউদ্দিন খিলজি রাজস্থানের চিতোরগড় দখলে নেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৩ – বিমল কর,(ভারতীয় বাঙালি লেখক ও ঔপন্যাসিক)।

২০০৬ – সুবোধ রায় (স্বাধীনতা সংগ্রামী, কমিউনিস্ট নেতা ও কমিউনিস্ট আন্দোলনের বিশিষ্ট গবেষক)।

২০২১ – গৌরী ঘোষ, (প্রখ্যাত বাঙালি বাচিক শিল্পী)।

১৯১০ – উইলিয়াম জেম্‌স, (মার্কিন অগ্রজ মনোবিজ্ঞানী ও দার্শনিক)।

১৯৩৪ – অতুলপ্রসাদ সেন, (বাঙালি কবি, গীতিকার এবং গায়ক) ।

১৯৬১ – চারুচন্দ্র ভট্টাচার্য, (প্রখ্যাত অধ্যাপক ও লেখক )।

১৯৮২ – সুশোভন সরকার (প্রখ্যাত বাঙালি ঐতিহাসিক )।

১৯৮৮ – (প্রগতিবাদী নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব) মন্মথ রায়।

১৭২৩ – (অণুবীক্ষণ যন্ত্রের উদ্ভাবক ওলন্দাজ বিজ্ঞানী) আন্তেনি ভান লিউভেনহুক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৫ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৫ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

(ক)  স্বাধীনতা দিবস (ফ্রান্স)

(খ) স্বাধীনতা দিবস (উরুগুয়ে)

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০০ – সজনীকান্ত দাস বাঙালি কবি, সাহিত্য সমালোচক ও শনিবারের চিঠি সাহিত্য পত্রিকার সম্পাদক।

১৯০৬ – জিম স্মিথ, ইংল্যান্ডের ক্রিকেটার।

১৯১১ – ভো নগুয়েন গিয়াপ ভিয়েতনামের যুদ্ধজয়ী বীর

১৯১৬ – নোবেলজয়ী মার্কিন অণুজীব বিজ্ঞানী ফ্রেডেরিক রবিনস।

১৯৩০ – স্যার থমাস শন কনারি, একাডেমি পুরস্কার, গোল্ডেন গ্লোব, বাফটা পুরস্কার বিজয়ী স্কটল্যান্ডীয় অভিনেতা ও চলচ্চিত্র প্রযোজক।

১৯৪৭ – প্রবাল চৌধুরী বাংলাদেশি সঙ্গীতশিল্পী

১৯৬২ – তসলিমা নাসরিন, বাংলাদেশের বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নারীবাদী সাহিত্যিক।

১৮৫০ – পাভেল আক্সেলরদ, রুশ মেনশেভিক ও সমাজ-গণতন্ত্রী।

১৮৭২ – স্যার আবদুল করিম গজনভি, বাঙালি রাজনীতিবিদ, অবিভক্ত বাংলার মন্ত্রী।

১৫৩০ – প্রথম রাশিয়ান জার চতুর্থ আইভান।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

 

১৯১৯ – লন্ডন ও প্যারিসের মধ্যে নিয়মিত বিমান চলাচল শুরু হয়।

১৯২০ – এথেলডা ব্লেবট্রেই প্রথম মার্কিন নারী হিসেবে অলিম্পিক স্বর্ণপদক জয় করেন।

১৯২১ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জার্মানির সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে।

১৯৪৪ – জার্মান অধিকার থেকে প্যারিস মুক্ত হয়।

১৯৬০ – রোমে অলিম্পিক ক্রীড়া শুরু হয়।

১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় উগান্ডা।

১৯৭৫ – জেনারেল জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের চিফ অব আর্মি স্টাফ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত হন।

১৯৮৯ – একটানা ৪৫ বছর কমিউনিস্ট শাসনের পর পোল্যান্ডে প্রধানমন্ত্রী শাসিত সরকার প্রর্বতন।

১৯৯১ – সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত প্রজাতন্ত্র বাইলোরাশিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৯৯২ – চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

১৮২৫ – উরুগুয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

১৮৩০ – বেলজিয়াম নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে।

১৮৯৬ – উপেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় সাপ্তাহিক ‘বসুমতী’ প্রথম প্রকাশিত হয়।

০৯৫ – মুসলমানদের বিরুদ্ধে খ্রিস্টানদের ক্রুসেডের যুদ্ধ শুরু হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৭ –  তারাপদ রায় হাস্যরসাত্মক তথা কৌতুকরসবোধে সংপৃক্ত রচনার জন্য সুপরিচিত বাঙালি লেখক,কবি ও প্রাবন্ধিক।

২০১২ – নিল আর্মস্ট্রং, মার্কিন নভোচারী, চাঁদে অবতরনকারী প্রথম মানুষ।

২০২১ – শুভঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রখ্যাত বাঙালি তবলা বাদক।

১৯০০ – ফ্রিড‌রিখ‌ ভিল‌হেল্ম নিচে, জার্মান দার্শনিক, কবি ও ভাষাতত্ত্ববিদ।

১৯০৮ – অঁতোয়ান অঁরি বেক্যরেল, ফরাসি পদার্থবিজ্ঞানী, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

১৯৩০ – অনুজাচরণ সেন, ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব এবং অগ্নিযুগের শহীদ বিপ্লবী।

১৯৬৭ – পল মুনি, মার্কিন মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা।

১৯৭৬ – সাহিত্যে যুগ্মভাবে নোবেলজয়ী সুইডিশ কথাশিল্পী আইভিন্ড জনসন।

১৮১৯ – জেমস ওয়াট ব্রিটিশ প্রকৌশলী, ১৭৬৯ সালে বাষ্পীয় ইঞ্জিন আবিষ্কারক।

১৮২২ – উইলিয়াম হার্শেল, জার্মান বংশোদ্ভুত ইংরেজ জ্যোতির্বিদ এবং সুরকার।

১৮৬৭ – মাইকেল ফ্যারাডে, ইংরেজ রসায়নবিদ এবং পদার্থবিজ্ঞানী।

১৮৯৭ – মুর্শিদাবাদের কাশিম বাজার রাজের মহারাণী স্বর্ণময়ী।

১৭৭৬ – ডেভিড হিউম স্কটিশ দার্শনিক, ইতিহাসবিদ,অর্থনীতিবিদ এবং প্রাবন্ধিক।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৪ আগস্ট, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৪ আগস্ট। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৮ – শিবরাম রাজগুরু, (ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের বিপ্লবী)।

১৯১১ – বীণা দাস (ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী বিপ্লবী ও অগ্নিকন্যা)।

১৯২৮ – টমি ডোচার্টি, ( স্কটিশ ফুটবলার ও ফুটবল ম্যানেজার)।

১৯২৯ – ইয়াসির আরাফাত, (ফিলিস্তিনী নেতা ও নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী)।

১৯৪৭ – অ্যান আর্চার, (মার্কিন অভিনেত্রী)।

১৯৫৯ – আদ্রিয়ান কুইপার, (দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার)।

১৯৬৫ – মার্লি ম্যাটলিন, (মার্কিন অভিনেত্রী, লেখিকা ও সমাজকর্মী)।

১৯৯১ – পুনম যাদব,( ভারতীয় প্রমীলা ক্রিকেটার)।

১৮০৮ – জয়কৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় (বাঙালি সমাজসেবী ও শিক্ষাবিদ)।

১৮৫১ – টম কেন্ডল, (অস্টেলীয় ক্রিকেটার)।

১৮৯৩ – কৃষ্ণচন্দ্র দে (বাংলাসঙ্গীতের আদি ও প্রবাদ পুরুষ, কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী)।

১৮৯৮ – অ্যালবার্ট ক্লুঁদে (নোবেলবিজয়ী বেলজিয়ান-আমেরিকান চিকিৎসক ও কোষ জীববিজ্ঞানী)।

১৮৯৯ – হোর্হে লুইস বোর্হেস, (আর্জেন্টিনীয় সাহিত্যিক)।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০২ – জোয়ান অব আর্কের মূর্তি উন্মোচন করা হয় সেইন্ট পিয়েরে-লে-তে।

১৯১৩ – ফ্রান্স ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে এই দিনে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় পরস্পরকে আক্রমণ না করার।

১৯১৪ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মান বাহিনী নামুর দখল করে।

১৯২৯ – বায়তুল মোকাদ্দাসে নুদবা প্রাচীর আন্দোলন শুরু হয়।

১৯৪৪ – জার্মান থেকে প্যারিস মুক্ত।

১৯৪৯ – উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা (ন্যাটো) গঠিত হয়।

১৯৬৬ – ভারতীয় সাঁতারু মিহির সেন জিব্রাল্টার প্রণালী অতিক্রম করেন।

১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় পানামা ও উরুগুয়ে।

১৯৭৪ – ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ ভারতের পঞ্চম রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৮৮- সাংবাদিক, সাহিত্যিক আবু জাফর শামসুদ্দীন মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৮৯ – ৪৫ বছরের কমিউনিস্ট শাসনের পর পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী হলেন তাদেউজ মাজোউইকি।

১৯৯১ – তুর্ক মেনিয়ার সার্বভৌমত্ব ঘোষণা।

১৯৯১ – পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেন সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে।

১৮১৪ – ব্রিটিশ সেনাদল ওয়াশিংটন ডিসি অধিকার করে এবং হোয়াইট হাউস জ্বালিয়ে দেয়।

১৮১৫ – নেদারল্যান্ডসের আধুনিক সংবিধান এই দিনে গৃহীত হয়।

১৮২১ – মেক্সিকো স্পেনের উপনিবেশ থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা লাভ করে ।

১৮৭৫ – ক্যাপ্টেন ম্যাথুওয়েব প্রথম ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন সাঁতার কেটে।

১৬০৮ – প্রথম সরকারিভাবে ইংলিশ প্রতিনিধি ভারতের সুরাতে আসেন।

১৬৯০ – ইংরেজ ব্যবসায়ী জব চার্নক সদলে সুতানুটিতে ইংল্যান্ডের জাতীয় পতাকা ওড়ান। দিনটিকে কলকাতা নগরীর পত্তন দিবস হিসেবে ধরা হয়।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৪ – আইভি রহমান, (বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ ও সমাজকর্মী)।

২০১৩ – নিউটন ডি সর্দি, (ব্রাজিলীয় ফুটবলার।)

২০১৪ – রিচার্ড অ্যাটনবারা (ইংরেজ চলচ্চিত্র অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক)।

১৯২৭ -( মিশরের জাতীয় নেতা) সাদ জগলুল পাশা।

১৯৫০ – আর্তুরো আলেস্‌সান্দ্রি, (চিলির রাষ্ট্রপতি)।

১৯৫৪ – (ব্রাজিলিয়ান স্বৈরশাসক) গেতুলিও বার্গাস।

১৯৫৬ – কেনজি মিজোগুচি, (জাপানি চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার)।

১৯৬৮ – সিরিল ভিনসেন্ট, (দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার)।

১৯৮৮ – লিওনার্ড ফ্রে, (মার্কিন অভিনেতা)।

১৮৯৪ – (প্রথম বাঙালী স্থপতি) নীলমণি মিত্র।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ত্রিলোকনাথ; তুমি আছ বিশ্বনাথ অসীম রহস্যমাঝে : শীলা পাল।

অনেক অনেকবছর আগে প্রায় চল্লিশ বছর তো হবেই ।তখন লাহুল স্পিতি উপত্যকা আমাদের কাছে একটা রহস্যময় অচেনা জগতের মতো ছিল।তবু ভবঘুরে মন আর পায়ের তলায় সরষে ।তাই বছরের কোনও না কোনও সময়ে হিমালয়ের ডাক কানে এসে পৌঁছতো আর আমরা ছয়জনের যে দলটি লোটা কম্বল নিয়ে  সব সময় রেডি থাকতাম বেরিয়ে পড়তাম।সেই বছর ত্রিলোকনাথ যেন আমাদের ডাক পাঠালেন।ব্যাস আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল।সেপ্টেম্বর মাস এমনিতেই বাতাসে শারদীয়ার সুর
আমরা চললাম মানালির উদ্দেশ্যে ।ওখান থেকেই যাত্রা শুরু করতে হবে।সেই সময়ের মানালি যেন কুমারী সুন্দরী।কী তার রূপ সবুজে শ্যামলে পাহাড়ে নদীতে যেন রূপসী অপ্সরা।আর তেমন পথঘাট সেইরকম সুন্দর ওখানকার লোকজন ।চোখফেরানো যায় না এমন সব রমণীয় রমণীদের পথে ঘাটে দেখি আর বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি।আমাদের একসঙ্গী সবে কলেজে ঢুকেছে তার চোখে ঘোর ।ওকে নিয়ে কি মজাটাই করেছি আমরা দুই সখী স্বপ্না আর আমি।বিপাশার কলকল ধ্বনি প্রথম দিনেই আমাদের মন জয় করে নিল।কীভীষন ভালো লাগায় মন ভরে গেল যেন।প্রাথমিক কিছু রসদ কেনাকাটা করা হল।চাল ডাল ফল সব্জি ইত্যাদি এটা আমাদের পাহাড়ি পথে সবসময়ই মজুত রাখা হয়।অভ্যাস অনেক রকম অভিজ্ঞ।তা থেকে বুঝেছি এটা সঙ্গে থাকলে রাস্তাতেও দিন কাটানো যায় ।পাহাড়ের রাস্তা বড়ই খতরনক ।মানালী থেকে বাস ছাড়লো সকাল আটটায় ।বিপাশাকে বাঁয়ে রেখে যাত্রা শুরু ।পাহাড়ি পথে পাক খেতে খেতে বাস এগিয়ে চলে।উৎসুক মন কখন রোটাংপাস দেখবো।ভয়ংকর রোটাং  হিমশীতল রোটাং।কিন্তু রোটাংপাস এ পৌঁছে মন ভরলো না।রিক্ত রুক্ষ কঠোর কেমন যেন সর্বস্ব হারা রূপ ।রোটাংপাস থেকে অনেকটা পথ নেমে প্রায় বারোটার সময় এসে পৌঁছলাম চন্দ্র নদীর তীরে খোকসারে।এখানে হিমালয় যেন গৈরিক সন্ন্যাসী ।ভাবগম্ভীর প্রশান্তিময় মৌন গিরিরাজ।
খোকসার থেকে রাস্তা দু ভাগে ভাগ হয়ে গেছে ।একটি চন্দ্র নদীর উৎস অভিমুখে অন্য টি আমরা যে পথে যাবো ত্রিলোকনাথ এর দিকে যে পথে আমরা যাবো।
খোকসারের প্রণাম জনপদ শিশু।শিশু নামের বিশেষত্ব ছড়ানো আছে পাহাড়ের গায়ে গায়ে ।কোন্ অদৃশ্য নিপুন হাতে রোপিত অজস্র শিশুগাছের শ্যামল বনানী ।বাস রাস্তার নীচে র দিকে অনেক বর্ধিষ্ণু পাহাড়ি গ্রাম ।ক্ষেতে ক্ষেতে সর্বত্র ই ফসল তোলার সাড়া ।আসন্ন শীতের জন্য এই তোড়জোড় ।শীত এদের কাছে বিভীষিকা ।তাই চাষবাস পশুপালন শীতের আগেই সঞ্চয় করার অভ্যাস বা রীতি নিয়ম সবকিছু ।ছোট ছোট অনেক জনপদ পেরিয়ে বেলা তিনটে নাগাদ এসে পৌঁছলাম তান্ডি তে।এখানে  ভাগা নদী মিলিত হয়েছে চন্দ্র নাম হয়েছে চন্দ্রভাগা।নদীর জল ঘন নীল ।পুরো রাস্তা টাই কাঁচা তান্ডি থেকে।সংকীর্ণ এবড়োখেবড়ো পথ তার মধ্যে ই বড়বড় লরি চলাচল করছে।বেশ ভয়ে ভয়ে এই রাস্তা পার হয়েছি ।থিরোট হুয়ে কীর্তিং প্রায় পাঁচটা নাগাদ এসে পৌঁছলাম ।রাস্তার ওপরেই লোকালয় ।জায়গা টি বেশ জনবহুল ।সামনেই চা আর পকৌড়ার দোকান।গোবিন্দ চেঁচিয়ে উঠল ফুলকাকা সামনেই চা আর পাকৌড়া নামুন  নামুন ।আমরা সবাই হুড়মুড়িয়ে বাস থেকে নামলাম। উফ্ একটানা বাসের গোঁ গোঁ আওয়াজ মাথা যেন কাজ করছে না ।মুক্ত হাওয়ায় চা টা খেয়ে বেশ ভালো লাগছে।এমন সময়  মি ঠাকুর নামে এক ভদ্রলোক পাশেই তার বাড়ি আমাদের ডাকলেন নিজের হাতে আপেল পাড়ার জন্য ।কী অপূর্ব তার বাগান।ওইটুকু সময়ের মধ্যে তাঁর বাড়ি বাগান ঘুরে এত্তো আপেল নিয়ে বাসে উঠলাম ।কি খুশী ওনার চোখে মুখে ।এরকম আন্তরিক মধুর ব্যবহার আমাদের চিরদিন মনে থাকবে।চলার পথে এগুলো ই পাথেয় ।সন্ধ্যে সাতটা নাগাদ ধূলিধূসরিত আমরা এসে হাজির হলাম চন্দ্র ভাগা উপত্যকার উদয়পুরে।রাস্তার ওপরেই পি ডব্লিউ ডির সুন্দর সাজানো বাংলো।জায়গাটা যেমন সুন্দর তেমনি নির্জন ।সামনেই চন্দ্র ভাগা চাঁদের আলোয় ঝলমল করছে ।মনোরম এই পরিবেশ আমাদের সব ক্লান্তি কোথায় মিলিয়ে গেল।স্বপ্না কি সুন্দর করে গাইল -পূর্ণ চাঁদের মায়ায় আজি ভাবনা আমার পথ ভোলে ।সব অবসাদ মুহূর্তে মুছে গেল ।
পরের দিন সকালে ত্রিলোকনাথ দর্শন ।উদয়পুর থেকে প্রায়  নয় কিলোমিটার ।ভোরের পাহাড় যে কি স্নিগ্ধ হয় মনে যেন কি শাস্তি আসে।চন্দ্রভাগার উপর সেতু পার হয়ে শুরু পাহাড়ি পাকদণ্ডি পথ।সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে মনে হল যেন তুষার শৃঙ্গের মুকুট পরে চন্দ্রভাগা উপত্যকা যেন তার সমস্ত সৌন্দর্য মেলে ধরেছে।একটা সরু নালার পাশ দিয়ে খুব পিচ্ছিল ভাঙাচোরা পথ।মাঝে মাঝে চড়াই ভেঙে দু তিনটে ছোট ছোট পাহাড় পেরিয়ে হঠাৎ দূর থেকে দেখতে পেলাম আমাদের বহু আকাঙ্ক্ষিত ত্রিলোকনাথ মন্দির ।জায়গাটির নাম ত্রিলোকনাথ ।পাহাড়ের মাথায় জনবসতির একপাশে দেবালয় ।এখানে দেবতা রুদ্ধ দ্বারে বসে নেই একান্ত আপনজনের মতো সকলের সাথে মিশে রয়েছেন।মন্দির প্রাঙ্গণে দেখা হল এখানকার অধিবাসীদের সাথে।পরদেশি দেখে সবাই  ভীড় করে এলো।কি হাসিখুশি সহজ সরল মানুষ গুলি মন্দিরের সামনেরঅংশটি ভেঙে গেছে।তিব্বতি ধাঁচের  মন্দির ।ভাঙা অংশ টি পেরিয়ে আমরা জুতো মোজা খুলে মন্দিরের ভেতরে প্রবেশ করলাম ।অসংখ্য প্রদীপের আলোয় মন্দির আলোকিত ।মৌণ মন্দির অভ্যন্তরে পুজোর আয়োজনে ব্যস্ত কয়েক জন পাহাড়ি মেয়ে।এখানে সকলেই বৌদ্ধধর্মালম্বী।বুদ্ধকে স্মরণ করেই ত্রিলোকনাথ দেবের পুজো নিবেদিত হয়।ত্রিলোকনাথের মাহাত্ম্য এবং কিংবদন্তী অনেক  আছে।এই মুর্তিটি  অনেকবার চুরি করার চেষ্টা করা হয়েছে ।একবার কুলুর রাজা সেনা পাঠিয়ে বিগ্রহ তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন কিন্তু কিছুতেই পারেন নি।এখনও নাকি মুর্তিটির ডান পায়ের নীচে তরোয়ালের দাগ দেখা যায় ।আমরা পুজো দেওয়ার জন্য পুরোহিতের খোঁজ করতে জানলাম উনি বাইরে আছেন ।পুরোহিতের ছেলে আমাদের পুজো নেবে।অর্ঘ্য  তো সামান্য ।কিছু ধূপের বান্ডিল আর নতুন কাপড়ের টুকরো।ভগবান বুদ্ধের চরণে এই সামান্য ডালি নিবেদন করে ডক্তিভরে সবাই  প্রণাম করলাম ।তারপর পুরোহিতের কানে কানে আমাদের মনোবাঞ্ছা জানালাম ।আমরা এক বিখ্যাত হিমালয়প্রেমীর কাছে যা জেনেছিলাম ।পুরোহিত একবার চকিতে চারিদিক দেখে নিল।মন্দির পুরো ফাঁকা ।ইসারায় আমাদের একদম বিগ্রহের সামনে নিয়ে গেল।অজস্র পাথর মনি মুক্তোর মালা তুলে উন্মোচন করলো পুরো মুর্তিখানি।কোথায় গেল সেই সৌম্য শান্ত বুদ্ধ এ যে ভুবন ভোলানো নৃত্যরত নটরাজ! এমন সৌম্য রূপের সঙ্গে সংহার রূপের মিলন ।আমরা বিমোহিত হতবাক।প্রতিটি আঙুলের মুদ্রা আর ভঙ্গিমা  এতো ছন্দময় এতো প্রাণবন্ত যেন স্বয়ং নটরাজ নৃত্যরত বালকের মতো আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়ে আছেন ।ধন্য আমরা।ধন্য আমাদের ত্রিলোকনাথ দর্শন ।জয় ত্রিলোকনাথ ।তুমি আছ বিশ্বনাথ অসীম রহস্য মাঝে।
একরাশ আনন্দ নিয়ে ফিরে এলাম উদয়পুর ।বেলা একটা নাগাদ ।চাল ডাল সামনের চায়ের  দোকানে দিয়ে সুন্দর খিচুড়ি আর ওখানকার সুস্বাদু আলু ভাজি আমাদের দুর্দান্ত লাঞ্চ হয়ে গেল।কিছুক্ষণ এখানকার লোকজনদের সঙ্গে গল্প গুজব  করে বিশ্রাম  নিতে গেলাম বাংলোর ভিতর ।
পরের  দিন ভোরে মানালি ফেরা।সবাই খুব হৈ হৈ  করে দিনটা কাটালাম।তখনও বুঝি নি এই  অপূর্ব চাঁদের আলো এই উচ্ছল সন্ধ্যা গানে গানে মুখরিত রাত্রি ঢেকে যাবে কালোমেঘে।মাঝ রাতে শুনি বাইরে তান্ডবলীলা ।এমনিতেই এখানে প্রচন্ড ঠান্ডা হঠাৎ যেন দশগুণ বেড়ে গেল।সারারাত কম্বলের তলায় ঠকঠক করে কেঁপেছি আর ফেরার কথা ভেবে আকুল হয়েছি ।ভোরবেলায় উঠে দেখি প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়েছে ।আর উত্তুরে হাওয়া যেন সবকিছু লন্ডভন্ড করে দেবে।একরাতের মধ্যে সামনের পাহাড় গুলো মুহূর্তে বরফে ঢেকে গেছে।বাস আসতেই উঠে বসলাম ।সব যাত্রীদের মুখে এক কথা এভাবে বরফ পড়তে থাকলে রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে ।রাহুল ও মানালির একমাত্র সংযোগ স্থল রোটাংপাস যদি বন্ধ হয়ে যায় আমরা এখানেই বন্দী হয়ে যাবো।বাস একটু একটু করে যায় আর থেমে যায় ।জিজ্ঞেস করলে ড্রাইভার বলে ডিজেল ফাঁস গিয়া।প্রচন্ড ঠান্ডাতে ডিজেল জমে যাচ্ছে । বাসের মধ্যে সবাই চুপচাপ বসে আছি।এত দুর্ভাবনার মধ্যে ও বাইরের দিকে তাকিয়ে অপরূপ সৌন্দর্য দেখতে দেখতে সব ভুলে গেলাম ।কি হবে কি হতে পারে সব ভাবনা ভুলে দেখতে থাকি আকাশ থেকে ঝরে পড়া যেন মুঠো মুঠো শ্বেত টগরের পাপড়ির মতো তুষার বৃষ্টি ।আর চারিদিক সাদায় সাদা।ডিজেল ফাঁসতে ফাঁসতে অবশেষে বিকেল বেলা খোকসার এসে পৌঁছলাম ।চারিদিক অন্ধকার ।এরকম দুর্যোগে কোনও গাড়ি আর যেতে চাইছে না।সব লরি বাস বন্ধ ।আজ এখানেই রাত্রি বাস।স্থানীয় লোকজন বলছে এরকম আবহাওয়া চলতে থাকলে রোটাংপাস বন্ধ হয়ে যাবে।ছ দিন কি ছ মাস  কেউ বলতে পারবে না।উৎকন্ঠিত চিত্তে পি ডব্লিউ ডির  রেস্ট হাউসে রাত কাটানোর জন্য হাজির হলাম ।সেদিনের মতো পোড়া আলু আর পোড়া রুটি  ডিনারের জন্য চায়ের দোকানে পাওয়া গেল।এরপরে কি হবে জানা নেই।এর মধ্যে ই মলয় বললো কি আর হবে দিদি তোর মেয়েটা বড় হয়ে যাবে আর কাকীমার তোমার ছেলে এক ক্লাস এগিয়ে যাবে ।আর যত দিন কাফ সিরাপ আছে রুটি দিয়ে গুড়ের মত খেয়ে নেব।কি চিন্তা আমাদের ।উফ্ কি ছেলে রে বাবা ।আমরা একমনে বাবা ত্রিলোকনাথ কে ডেকে যাচ্ছি  আর প্রার্থনা করছি রক্ষা করো বাবা।রাত্রি নটার পর ঝড়ের বেগ একটু কমে গেল।বৃষ্টির আওয়াজ ও যেন কমেছে মনে হল।একটু রাতে হঠাৎ যেন কাঁচের জানালার ফাঁকে এক ঝলক আলো এসে পড়লো ।হৈ হৈ করে বারান্দায় বেরিয়ে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে দেখি পরিপূর্ণ জ্যোৎস্নায় তুষারাবৃত হিমালয় স্নান করছে।অবর্ণনীয় সেই আলো সেই সৌন্দর্য ।আলোর ঝর্ণা ধারায় আনন্দে চোখে জল এসে গেল।মলয় আনন্দের চোটে গান গাওয়া শুরু করল–প্রেমের জোয়ারে ভাসাব দোঁহারে বাঁধন খুলে দাও দাও দাও যতো হাসি আর বলি ওরে এ যে  শ্যামার গান  প্রেমের গান কে কার কথা শোনে হাসতে হাসতে আমরা বাঁধন খোলার আনন্দে ভেসে গেলাম ।পরদিন বেলা দশটা নাগাদ বাস ছাড়লো।বরফ কেটে কেটে মন্থর গতিতে সন্ধ্যা সাতটায় রোটাং পাসের ভয়ানক সৌন্দর্য দেখতে দেখতে কখন যেন মানালি এসে গেলাম ।একশ আশি কিলোমিটার শুধু সাদা দেখে দেখে সবুজের ছোঁয়ায় মন ভরে গেলো।জয় ত্রিলোকনাথ ।

Share This