Categories
বিবিধ

দল পরিবর্তনের চাপ, তোলাবাজি ও আবাস যোজনা নিয়ে অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বিজেপি কর্মীর।

মালদা, ইংরেজবাজা, নিজস্ব সংবাদদাতা :-
ইংরেজবাজার পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোরাপীড় ঘোষপাড়া এলাকার বাসিন্দা তথা বিজেপি কর্মী সুনীল রায় তৃণমূল কাউন্সিলর কাকলি কর্মকার ও তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজকুমার ঘোষের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। অভিযোগ, গত ১৮ই মার্চ ২০২৬ তারিখে ঘোরাপীর স্ট্যান্ডে তাঁকে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন।
সুনীল রায়ের আরও অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে অভিযুক্তরা এলাকায় তোলাবাজি, কাটমানি, বেআইনিভাবে জমি ভরাট সহ বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া, বিজেপি করায় প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ৭৪ হাজার টাকার কিস্তি এখনও পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
সুনীল রায়ের স্ত্রী কামনা রায়ের অভিযোগ, আবাস যোজনার টাকার বিষয়ে জানতে ওয়ার্ড অফিসে গেলে কাউন্সিলর ও তাঁর অনুগামীরা তাঁর স্বামী বিজেপি করেন বলে ওই টাকা দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দেন। বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলে তবেই সুবিধা মিলবে বলে তাঁদের জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।
দম্পতির দাবি, তাঁরা বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও তদন্ত শুরু হয়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। প্রয়োজনে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে যাবেন তারা l

অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কাকলি কর্মকার। তাঁর বক্তব্য, সুনীল রায় ও তাঁর পরিবারকে তিনি বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণ থেকে শুরু করে বার্ধক্য ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করেছেন।
প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ প্রসঙ্গে কাউন্সিলর বলেন, “দল যে কেউ করতে পারেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। আমি কখনও কাউকে দল পরিবর্তনের জন্য চাপ দিইনি বা হুমকি দিইনি। আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”
আবাস যোজনার টাকা নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্পের অর্থ সরাসরি উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। একজন কাউন্সিলরের পক্ষে সেই টাকা আটকে রাখা বা দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এই অভিযোগও বাস্তবসম্মত নয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *