Categories
বিবিধ

বুলানপুর-পাথরপাড়া রাস্তায় কাজ শুরু, ‘জোড়াতালি নয়, চাই স্থায়ী সমাধান’।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাথরপাড়া :- ভোট আসে, ভোট যায়; কিন্তু মেদিনীপুর আর বাঁকুড়া—এই দুই জেলার শেষ সীমান্তে পড়ে থাকা প্রান্তিক মানুষগুলোর ভাগ্যের চাকা ঘোরে না। অবশেষে দীর্ঘ বঞ্চনা, ক্ষোভ আর আন্দোলনের পর টনক নড়েছে প্রশাসনের। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ২ নম্বর ব্লকের পাথরপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বুলানপুর-পাথরপাড়া রাস্তাটির সংস্কার শুরু হয়েছে জোরকদমে। কিন্তু এই তৎপরতায় আনন্দের চেয়েও বেশি মিশে আছে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দুই জেলারই একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত বুলানপুর, সুন্দরগেরিয়া বা জিরাপাড়ার মতো গ্রামগুলি। দুই জেলার এই টানাপোড়েন আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় রাস্তাটি এতদিন নরককুণ্ডে পরিণত হয়েছিল। অথচ, মাকলি বা পাথরপাড়ার হাজার হাজার মানুষের মেদিনীপুর জেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র লাইফলাইন এটিই। আবার এই পথেই আমলাশুলি হয়ে বাঁকুড়া জেলায় ঢোকার সহজ উপায়।

এতদিন এই বেহাল রাস্তাটি কেবল যাতায়াতের পথ ছিল না, ছিল এই প্রান্তিক অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য আর কৃষিনির্ভর অর্থনীতির প্রধান অন্তরায়। ভাঙা রাস্তায় প্রসববেদনা ওঠা মা কিংবা মুমূর্ষু রোগীর আর্তনাদ মহাকরণের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে পৌঁছায়নি। অবশেষে সেই উপেক্ষিত রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় ক্ষোভ কিছুটা থিতিয়ে এলেও, নজরদারিতে অনড় স্থানীয়রা। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—লোকদেখানো জোড়াতালি বা কাটমানির খেলা চলবে না। কাজের গুণমান ঠিক না থাকলে প্রান্তিক মানুষ আবারও আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হবে।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *