Categories
বিবিধ

ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ, পিংবনী বিদ্যালয়ে দিনভর কর্মসূচি।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ২ নম্বর ব্লকের গোয়ালতোড়ের পিংবনী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে মঙ্গলবার সাংস্কৃতিক দিবস উদযাপন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শালবনি বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক বিমান মাহাতো।
এই দিনের কর্মসূচিতে বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এলাকার একাধিক বিশিষ্ট সমাজসেবী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্রছাত্রীরা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পাশাপাশি বিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়নকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয় এই দিনের কর্মসূচিতে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিবেশ রক্ষার বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে আগামী দিনেও বিভিন্ন বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণ করা হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

মাইকিং, লিফলেটের পাশাপাশি জাদু প্রদর্শন, উপভোক্তা অধিকার নিয়ে মেদিনীপুরে বিশেষ প্রচার।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বাজার থেকে পণ্য কিনে কিংবা কোনও পরিষেবা গ্রহণ করে প্রতারিত হলে চুপ করে না থেকে দ্রুত অভিযোগ জানান উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তরে। উপভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং প্রতারণার বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উপভোক্তা বিষয়ক দপ্তর। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পালিত হচ্ছে উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহ। সেই উপলক্ষে মঙ্গলবার সপ্তাহের প্রথম দিনেই মেদিনীপুর শহরের কালেক্টরেট অফিস প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক ট্যাবলো যাত্রার সূচনা হয়। জেলাশাসক এই ট্যাবলো যাত্রার উদ্বোধন করেন। আগামী এক সপ্তাহ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে উপভোক্তা অধিকার নিয়ে প্রচার চালাবে এই ট্যাবলো। পণ্য কেনার সময় গুণমান, ওজন, দাম, মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ, বিল বা রসিদ এবং পরিষেবার শর্ত যাচাই করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনও পরিষেবা গ্রহণের পর সমস্যা দেখা দিলে কোথায় এবং কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে, সেই বিষয়েও প্রচার চালানো হচ্ছে। ট্যাবলোতে থাকা আধিকারিক ও কর্মীরা মাইকিংয়ের মাধ্যমে উপভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করছেন। পাশাপাশি বিলি করা হচ্ছে সচেতনতামূলক লিফলেট। পণ্য কেনার সময় অবশ্যই বিল বা রসিদ নেওয়া, পণ্যের গুণমান ও মেয়াদ যাচাই করা এবং নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দাম নেওয়া হলে অভিযোগ জানানোর মতো বিষয়গুলিও তুলে ধরা হচ্ছে। প্রচার অভিযানে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে জাদু প্রদর্শন। সাধারণ মানুষের কাছে সচেতনতার বার্তা আরও সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে পৌঁছে দিতে বিভিন্ন বাজার ও জনবহুল এলাকায় জাদুর মাধ্যমে উপভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত নানা বার্তা তুলে ধরা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তৈরি হচ্ছে আগ্রহ।
দপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কোনও পণ্য কিনে বা পরিষেবা গ্রহণ করে প্রতারিত হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানানো যেতে পারে। অভিযোগের ক্ষেত্রে বিল, রসিদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেলাশাসক বলেন, কোনও ক্রেতা যাতে প্রতারিত না হন এবং প্রতারিত হলে নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হয়ে যথাযথ জায়গায় অভিযোগ জানাতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই এই সচেতনতামূলক প্রচার অভিযান। শুধু উপভোক্তা অধিকার সুরক্ষা সপ্তাহেই নয়, ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষকে তাঁদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন ও পণ্য বা পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হবে। এক সপ্তাহ ধরে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে প্রচার চালাবে এই ট্যাবলো। মাইকিং, লিফলেট বিলি ও জাদু প্রদর্শনের মাধ্যমে উপভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতারিত হলে কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যায়, সেই বার্তাও পৌঁছে দেওয়া হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

হাতির ভয়ে জঙ্গলে ঢুকছেন না মানুষ, কমেছে ছাতুর আমদানি—বাজারে চড়ছে দুর্গা ছাতুর দাম।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- জঙ্গলমহলের জঙ্গলে এখন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে হাতির দল। একদিকে হাতির আতঙ্কে গভীর জঙ্গলে যেতে ভয় পাচ্ছেন বহু গ্রামবাসী, অন্যদিকে বর্ষার শেষভাগে জঙ্গলে ফুটতে শুরু করেছে জঙ্গলমহলের অন্যতম পরিচিত বুনো ছাতু—দুর্গা ছাতু বা কাড়াঙ ছাতু। হাতির উপস্থিতির কারণে জঙ্গল থেকে ছাতু সংগ্রহে ঝুঁকি বেড়েছে। ফলে কমেছে আমদানি, আর তার জেরে বাজারে চড়েছে দুর্গা ছাতুর দাম। কোথাও কোথাও সেই দাম ছাপিয়ে গিয়েছে খাসির মাংসের দামকেও।
মেদিনীপুর শহর-সহ জেলার বিভিন্ন বাজারে এখন দুর্গা ছাতুর পসরা নিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। দাম তুলনামূলক বেশি হলেও ছাতুর প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহে ভাটা পড়েনি। দরদাম করে অনেকেই সামান্য পরিমাণে হলেও কিনছেন মরশুমি এই খাবার।
বর্তমানে খাসির মাংসের দাম কেজি প্রতি প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। সেখানে কলি অবস্থায়, অর্থাৎ পুরোপুরি না ফোটা দুর্গা ছাতুর দাম উঠছে কেজি প্রতি প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে ছাতু ফুটে যাওয়ার পর তার দাম কিছুটা কমে দাঁড়াচ্ছে কেজি প্রতি প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা।
মেদিনীপুর শহরের কলেজ স্কয়ারে ছাতুর পসরা নিয়ে বসেছেন রবি রানা। তাঁর কথায়, “হাতির জন্যই ছাতুর দাম বেড়েছে। কলি ছাতু ১০০ টাকা শ এবং ফোটা ছাতু ৫০ টাকা শ-তে বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়লেও মানুষ কিন্তু কিনছে। খাসির মাংস রোজ পাওয়া যাবে, ছাতু তো আর রোজ পাওয়া যাবে না।”
আরেক বিক্রেতা সবিতা মাহাতো জানান, বছরের এই সময়ে তিনি প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৩০ কেজি ছাতু বিক্রি করেন। তাঁর কথায়, “গভীর জঙ্গলের ভিতরে ঢোকা এখন রিস্কের ব্যাপার। সাপ রয়েছে, হাতি রয়েছে। মানুষ তো জঙ্গলে যেতে চাইছে না। আগের মতো আর এত আমদানি হচ্ছে না। পাইকারি কিনতে গেলেও সেখানেই অনেক দাম দিতে হচ্ছে।” বিক্রেতা মালতি মাহাতো বলেন, “কলি ছাতু দেড় হাজার টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। গভীর জঙ্গলে হাতির জন্য লোক যেতে পারছে না। ছেলেরা যায়। মেয়েরা তো জঙ্গলে ঢুকতে পারে না, জঙ্গলে হাতির সামনে পড়ে গেলে মেয়েরা ছুটতে পারবে না।”
অন্যদিকে ছাতু বিক্রেতা দীপক মাহাতোর বক্তব্য, “জঙ্গলের যেদিকে হাতি নেই, সেই দিকে গিয়েই ছাতু সংগ্রহ করতে হচ্ছে।”
পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় বর্তমানে হাতির আনাগোনা রয়েছে। বিশেষ করে মেদিনীপুর সদর, গড়বেতা, শালবনী ও গোয়ালতোড় এলাকার বিভিন্ন জঙ্গলে হাতির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। চাঁদড়া বন বিভাগের রেঞ্জ আধিকারিক লক্ষ্মীকান্ত মাহাতোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু চাঁদড়া রেঞ্জ এলাকাতেই বর্তমানে প্রায় ১১৬টি হাতি রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ থেকে ২০টি বাচ্চা হাতি। চাঁদড়া রেঞ্জে সবচেয়ে বেশি হাতি রয়েছে গাডড়ার জঙ্গলে—প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি। আমাঝরনা জঙ্গলে রয়েছে ৩০ থেকে ৩৫টি, চাউলকুড়ার জঙ্গলে প্রায় ৩০টি এবং শুকনাখালির জঙ্গলে রয়েছে ১৫ থেকে ২০টি হাতি। খাবারের সন্ধানে হাতির দল জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়েও ঢুকে পড়ছে। এই সময়েই এলাকার কৃষকেরা নতুন করে ধান রোপণের কাজ শেষ করেছেন। ফলে ধানের জমিতে হাতির হানা বাড়ছে। হাতির দল ধান খেয়ে ফেলছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে জমির উপর দিয়ে চলাচলের সময় পায়ে মাড়িয়ে সদ্য রোপণ করা ধান নষ্ট করছে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, চাঁদড়া রেঞ্জ এলাকাতেই গত কয়েক দিনে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক।
হাতির আতঙ্কের মধ্যেই শুরু হয়েছে দুর্গা ছাতুর মরশুম। সাধারণত বর্ষার শেষভাগ থেকে শরতের শুরুতে, অর্থাৎ ভাদ্র-আশ্বিন মাসে এই ছাতুর দেখা মেলে। পশ্চিম মেদিনীপুরের জঙ্গলাঞ্চলে শালগাছের গোড়ায় ভেজা মাটিতে দুর্গা ছাতু জন্মাতে দেখা যায়। এছাড়াও ফাঁকা মাঠ, ঝোপঝাড় ও অন্যান্য স্যাঁতসেঁতে জায়গাতেও এই ছাতু পাওয়া যায়।
গ্রামবাসীদের একাংশের কাছে দুর্গা ছাতু শুধু খাবার নয়, মরশুমি আয়েরও গুরুত্বপূর্ণ উৎস। বর্ষার শেষে জঙ্গল থেকে ছাতু সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে বহু পরিবার বাড়তি আয় করেন। কিন্তু এবার জঙ্গলে হাতির উপস্থিতি সেই সংগ্রহের পথ কঠিন করে তুলেছে। চাঁদড়া রেঞ্জের বন আধিকারিক লক্ষ্মীকান্ত মাহাতো বলেন, যেসব জঙ্গলে হাতির অবস্থান রয়েছে, সেই এলাকার গ্রামবাসীদের বন দফতরের পক্ষ থেকে নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে। হাতি থাকা জঙ্গলে ছাতু, পাতা কিংবা শুকনো কাঠ সংগ্রহ করতে গভীরে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে। পাশাপাশি গরু, ছাগল-সহ গবাদি পশু নিয়েও জঙ্গলের গভীরে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
তবে রুজির টানে এখনও কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে জঙ্গলে ঢুকছেন। কেউ ছাতু সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ পাতা ও শুকনো কাঠ সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন। ফলে হাতির সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কাও থেকে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ইতিমধ্যেই ছাতু সংগ্রহ করতে গিয়ে হাতির সামনে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।
সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জঙ্গলমহলে। একদিকে হাতির আতঙ্কে জঙ্গলে মানুষের যাতায়াত কমেছে, অন্যদিকে সেই জঙ্গল থেকেই কমেছে মরশুমি দুর্গা ছাতুর জোগান। চাহিদা থাকলেও বাজারে পর্যাপ্ত ছাতু আসছে না। আর জোগান কম থাকায় কলি অবস্থার দুর্গা ছাতুর দাম পৌঁছে গিয়েছে কেজি প্রতি ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায়। ফলে জঙ্গলমহলের বাজারে এখন দুর্গা ছাতুর দামই হয়ে উঠেছে রীতিমতো চমকের বিষয়—কোথাও কোথাও যা খাসির মাংসের দামকেও টেক্কা দিচ্ছে।

Share This