Categories
গল্প

গল্প :: শেষ ট্রেনের যাত্রী।।।

রাত তখন প্রায় সাড়ে দশটা। ছোট্ট স্টেশনটির নাম শিমুলতলা। দিনের বেলায় স্টেশনটিতে বেশ ভিড় থাকে, কিন্তু রাত বাড়তেই চারপাশ যেন নিস্তব্ধ হয়ে যায়। প্ল্যাটফর্মের দু’টি হলুদ আলো মাঝে মাঝে কেঁপে উঠছিল। দূরে কোথাও ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক, আর তার সঙ্গে মিশে ছিল হালকা বৃষ্টির শব্দ।

স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে একা বসে ছিলেন অরুণবাবু।

বয়স প্রায় ষাট। হাতে পুরনো একটি চামড়ার ব্যাগ। চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা। বারবার ঘড়ির দিকে তাকাচ্ছিলেন তিনি।

শেষ ট্রেনটি আসার কথা রাত এগারোটায়।

অরুণবাবু জানতেন, এই ট্রেনটিই তাঁকে সেই গ্রামে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে, যেখান থেকে তিনি প্রায় চল্লিশ বছর আগে চলে এসেছিলেন।

কেন ফিরছেন?

এই প্রশ্নের উত্তর তিনি নিজেও ঠিক জানতেন না।

চল্লিশ বছর আগে এই স্টেশনেই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটি হয়েছিল।

তখন তিনি তরুণ। সদ্য কলেজ পাশ করেছেন। চাকরির জন্য শহরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় তাঁর জীবনে এসেছিল মেঘলা।

মেঘলা ছিল পাশের গ্রামের মেয়ে। খুব সাধারণ, শান্ত স্বভাবের। অরুণের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল গ্রামের লাইব্রেরিতে।

দু’জনের মধ্যে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব, তারপর ভালোবাসা।

কিন্তু অরুণের বাবা এই সম্পর্ক মেনে নেননি।

তিনি চেয়েছিলেন অরুণ শহরে গিয়ে ভালো চাকরি করুক, বড়লোক পরিবারের মেয়েকে বিয়ে করুক।

একদিন অরুণকে শহরে যাওয়ার জন্য জোর করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

সেদিন স্টেশনে মেঘলা এসেছিল।

অরুণের ট্রেন ছাড়ার ঠিক আগে মেঘলা বলেছিল,

“তুমি যদি আজ চলে যাও, আমি অপেক্ষা করব।”

অরুণ কিছু বলতে পারেননি।

ট্রেন ছেড়ে দিয়েছিল।

আর তারপর?

জীবন তাঁকে অনেক দূরে নিয়ে গিয়েছিল।

চাকরি, বিয়ে, সংসার, সন্তান—সবই হয়েছিল।

কিন্তু মেঘলার কথা কখনও পুরোপুরি ভুলতে পারেননি তিনি।

বছর দশেক আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর একদিন পুরনো কাগজপত্র ঘাঁটতে গিয়ে অরুণ একটি চিঠি পেয়েছিলেন।

মেঘলার লেখা।

চিঠিটি তিনি কখনও পাননি।

চিঠিতে মাত্র কয়েকটি কথা ছিল—

“অরুণ, তুমি যদি ফিরে আসো, আমি এখনও অপেক্ষা করব। তবে তোমার জন্য নয়, তোমার সঙ্গে একবার কথা বলার জন্য।”

চিঠির তারিখ ছিল আজ থেকে তিরিশ বছর আগের।

চিঠিটি পড়ার পর অরুণ বহুবার মেঘলাকে খুঁজেছিলেন।

কিন্তু পারেননি।

কেউ বলেছিল, মেঘলা বিয়ে করে অন্য শহরে চলে গেছে।

কেউ বলেছিল, সে নাকি বিয়েই করেনি।

কেউ আবার বলেছিল, মেঘলা বহু বছর আগে মারা গেছে।

কোনটা সত্যি, অরুণ জানতেন না।

আজ হঠাৎ কেন যেন তাঁর মনে হল—একবার সেই গ্রামে ফিরে যাওয়া দরকার।

হয়তো মেঘলা নেই।

হয়তো সবকিছু বদলে গেছে।

তবুও যেতে হবে।

ঠিক তখনই স্টেশনের অন্ধকার দিক থেকে একটি ছোট্ট ছেলে এসে তাঁর সামনে দাঁড়াল।

ছেলেটির বয়স দশ-এগারোর বেশি নয়।

পরনে ভেজা জামা।

সে অরুণের দিকে তাকিয়ে বলল,

“আপনি কি অরুণকাকু?”

অরুণ চমকে উঠলেন।

“হ্যাঁ। কিন্তু তুমি আমাকে চেনো?”

ছেলেটি মৃদু হেসে বলল,

“চিনি না। তবে আপনাকে চিনতে বলেছে।”

“কে?”

ছেলেটি পকেট থেকে একটি ছোট্ট খাম বের করল।

“এটা আপনাকে দিতে বলেছে।”

অরুণ কাঁপা হাতে খামটি নিলেন।

খামের ওপর লেখা—

অরুণের জন্য।

হাতের লেখাটা তিনি সঙ্গে সঙ্গে চিনে ফেললেন।

মেঘলা।

চোখ ঝাপসা হয়ে এল তাঁর।

“মেঘলা কোথায়?”

ছেলেটি কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,

“আমার ঠাকুমা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।”

অরুণের বুকের ভেতরটা যেন থমকে গেল।

“তোমার ঠাকুমার নাম কী?”

ছেলেটি বলল,

“মেঘলা।”

কথাটা শুনে অরুণ যেন পাথর হয়ে গেলেন।

এত বছর পরও?

মেঘলা বেঁচে আছে?

ট্রেনের হুইসেল শোনা গেল।

ছেলেটি বলল,

“চলুন। ঠাকুমা বলেছে, শেষ ট্রেনটা যেন আপনি মিস না করেন।”

অরুণ ব্যাগটা তুলে দাঁড়ালেন।

চল্লিশ বছর আগে যে ট্রেনে তিনি মেঘলাকে পিছনে ফেলে চলে গিয়েছিলেন, আজ সেই একই রকম একটি শেষ ট্রেন তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ট্রেন ছাড়ল।

জানালার পাশে বসে অরুণ খামটি খুললেন।

ভেতরে একটি ছোট্ট কাগজ।

মাত্র এক লাইন লেখা—

“এবার আর তোমাকে যেতে দেব না—তবে এবার তোমাকে আমার কাছে থাকতে হবে না, শুধু একবার সত্যিটা শুনে যেও।”

অরুণের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।

বাইরে অন্ধকার ছুটে চলছিল।

আর তাঁর মনে হচ্ছিল, জীবনে কিছু ট্রেন দেরিতে এলেও, তাদের গন্তব্য কখনও হারিয়ে যায় না।

সমাপ্ত।

Share This
Categories
গল্প

গল্প :: পুরনো ছাতা।।

বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিল রতন।

বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। ছোট্ট একটি কাপড়ের দোকান চালায় সে। সারাদিন দোকানে বসে থেকে সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরাই তার প্রতিদিনের নিয়ম।

সেদিন আকাশটা সকাল থেকেই মেঘলা ছিল। সন্ধ্যার পর হঠাৎ বৃষ্টি নেমে গেল।

রতনের হাতে ছিল একটা পুরনো কালো ছাতা।

ছাতাটার একটা শিক বাঁকা, কাপড়ের কয়েক জায়গায় সেলাই করা। দেখতে এতটাই পুরনো যে কেউ দেখলে হয়তো ফেলে দিতে বলত।

কিন্তু রতন ছাতাটা ফেলতে পারত না।

কারণ ছাতাটা তার বাবার।

বাবা মারা যাওয়ার পর তাঁর ঘরের আলমারি থেকে এই ছাতাটাই শুধু নিজের কাছে রেখেছিল রতন।

বৃষ্টির মধ্যে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ রতন দেখল, রাস্তার ধারে এক বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন।

বৃদ্ধার হাতে কোনও ছাতা নেই।

বৃষ্টি ক্রমশ বাড়ছে।

রতন নিজের ছাতাটা একটু এগিয়ে ধরল।

“মাসিমা, কোথায় যাবেন?”

বৃদ্ধা বললেন,

“আর একটু সামনে। ওই বাঁশবাগানের পরেই আমার বাড়ি।”

রতন বলল,

“চলুন, আমি দিয়ে আসছি।”

দু’জনে পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করল।

কিছুক্ষণ পর বৃদ্ধা ছাতাটার দিকে তাকিয়ে বললেন,

“ছাতাটা খুব পুরনো দেখছি।”

রতন হেসে বলল,

“হ্যাঁ। অনেক পুরনো।”

“ফেলে দেননি কেন?”

রতন একটু চুপ করে থেকে বলল,

“যার ছিল, সে আমার কাছে খুব দামি ছিল।”

বৃদ্ধা আর কিছু বললেন না।

বাঁশবাগান পেরিয়ে তাঁরা একটি ছোট্ট মাটির বাড়ির সামনে পৌঁছলেন।

বৃদ্ধা দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার আগে বললেন,

“কাল একবার আমার বাড়িতে এসো।”

রতন অবাক হয়ে বলল,

“কেন?”

“একটা জিনিস দেখাব।”

পরদিন বিকেলে রতন সত্যিই গেল।

বৃদ্ধা তাকে ঘরের ভেতর নিয়ে গেলেন।

দেয়ালের পাশে রাখা ছিল একটি পুরনো কাঠের বাক্স।

বৃদ্ধা বাক্সটা খুললেন।

ভেতরে কিছু পুরনো চিঠি, একটি ঘড়ি আর কয়েকটি সাদা-কালো ছবি।

তারপর একটি ছবি রতনের হাতে দিলেন।

ছবিটা দেখে রতন স্তব্ধ হয়ে গেল।

ছবিতে তার বাবা।

আর বাবার পাশে এই বৃদ্ধা।

রতন কাঁপা গলায় বলল,

“আপনি… আমার বাবাকে চিনতেন?”

বৃদ্ধা মৃদু হেসে বললেন,

“চিনতাম না। তোমার বাবাই একদিন আমাকে চিনেছিলেন।”

রতন কিছু বুঝতে পারল না।

বৃদ্ধা ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন—

“প্রায় পঁচিশ বছর আগে আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি খুব কষ্টে দিন কাটাতাম। একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টিতে বাজার থেকে ফিরছিলাম। তখন তোমার বাবা আমাকে নিজের ছাতা দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিয়েছিলেন।”

রতন চুপ করে শুনছিল।

“আমি ছাতাটা ফেরত দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তোমার বাবা বলেছিলেন, ‘আপনার দরকার বেশি। রেখে দিন।’”

বৃদ্ধা একটু থামলেন।

“কিন্তু আমি রাখিনি। পরদিন তাঁর বাড়িতে গিয়ে ছাতাটা দিয়ে এসেছিলাম।”

রতন নিজের হাতে থাকা ছাতাটার দিকে তাকাল।

“তারপর?”

বৃদ্ধা বললেন,

“কয়েক বছর পর তোমার বাবা আবার আমার কাছে এসেছিলেন। বলেছিলেন, ‘ছাতাটা কি এখনও আছে?’”

“আমি বলেছিলাম, নেই।”

“তখন তিনি হেসে বলেছিলেন—‘থাক, ছাতা না থাকলেও স্মৃতিটা থাকুক।’”

রতনের চোখ ভিজে গেল।

সে বুঝতে পারল, এতদিন যে ছাতাটাকে সে শুধু বাবার স্মৃতি বলে জানত, তার সঙ্গে আরও একটি মানুষের জীবন জড়িয়ে আছে।

বৃদ্ধা বাক্স থেকে একটি ছোট্ট কাগজ বের করলেন।

“এটা তোমার বাবার লেখা।”

রতন কাগজটি খুলল।

সেখানে লেখা—

“মানুষের জীবনে বড় কিছু করার সুযোগ সবসময় আসে না। কিন্তু বৃষ্টির দিনে কারও মাথার ওপর নিজের ছাতাটা ধরার সুযোগ প্রায়ই আসে।”

রতন আর নিজেকে সামলাতে পারল না।

চোখের জল মুছে সে বলল,

“মাসিমা, আমার বাবা খুব ভালো মানুষ ছিলেন।”

বৃদ্ধা হেসে বললেন,

“তোমার বাবা ভালো ছিলেন বলেই তো তুমি আজ এই পুরনো ছাতাটা নিয়ে আমার বাড়ি পর্যন্ত এসেছ।”

বাইরে তখন আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

রতন ছাতাটা খুলে বৃদ্ধার মাথার ওপর ধরল।

বৃদ্ধা বললেন,

“আজ ছাতাটা তোমার।”

রতন মৃদু হেসে উত্তর দিল,

“না মাসিমা। এটা আমার বাবার ছিল। এখন থেকে এটা আমাদের।”

দু’জন ধীরে ধীরে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটতে শুরু করল।

পুরনো ছাতাটার নিচে দু’জন মানুষ।

আর তাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল একজন মৃত মানুষের রেখে যাওয়া ভালোবাসা।

সমাপ্ত।

Share This
Categories
বিবিধ

কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে মুলাই বাড়িতে ED, সাইবার ক্রাইম মামলার তদন্তে তল্লাশি।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- সাতসকালেই চাঁচলে ED-র হানা। মুলাই বাড়ি এলাকায় শফিকুল আলম ওরফে লিটনের বাড়িতে অভিযান এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকদের। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে পৌঁছন ED আধিকারিকরা। সূত্রের খবর, সাইবার ক্রাইম সংক্রান্ত মামলার তদন্তেই এই অভিযান। শফিকুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ প্রতারণার টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই তল্লাশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। চলছে নথিপত্র ও ব্যাঙ্ক লেনদেন খতিয়ে দেখার কাজ। ED-র তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

Share This
Categories
বিবিধ

গম্ভীরার ছন্দে সামাজিক বার্তা, আইহোয় পথনাটিকায় সচেতনতার উদ্যোগ

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা : – রবিবার সন্ধ্যায় মালদার হবিবপুর ব্লকের আইহো বাসস্ট্যান্ডে অনুষ্ঠিত হল ‘নমো সেবা গাথা’ কর্মসূচি। কর্মসূচিকে ঘিরে এদিন আইহো বাসস্ট্যান্ড চত্বর কার্যত উৎসবের চেহারা নেয়। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি স্থানীয় সংস্কৃতি ও নাট্য পরিবেশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিনের অনুষ্ঠানে গম্ভীরা পরিবেশনের পাশাপাশি পথনাটিকার আয়োজন করা হয়। গম্ভীরার পরিচিত ছন্দ, পথনাটিকার সংলাপে বিভিন্ন সামাজিক বিষয় তুলে ধরা হয়। পথনাটিকার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। অনুষ্ঠান দেখতে সন্ধ্যা থেকেই বাসস্ট্যান্ড চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন মালদা বিধানসভার মণ্ডল-১ সভাপতি পঞ্চানন বর্মন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় বিজেপির বিভিন্ন নেতৃত্ব, কর্মকর্তা, কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার সাধারণ মানুষ। তাঁদের উপস্থিতিতে কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক আবহও তৈরি হয়।

আয়োজকদের বক্তব্য, মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি এবং বিভিন্ন বিষয়কে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। অন্যদিকে, গম্ভীরা ও পথনাটিকা দেখতে বহু মানুষ জড়ো হওয়ায় আইহো বাসস্ট্যান্ড চত্বরে তৈরি হয় জমজমাট পরিবেশ। সন্ধ্যা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অনুষ্ঠানের আকর্ষণও বাড়তে থাকে।

Share This
Categories
বিবিধ

কুয়াশায় ঢাকল মাঠ-ঘাট, দৃশ্যমানতা কমায় বাড়ল যান চলাচলের ঝুঁকি।

ফালাকাটা, নিজস্ব সংবাদদাতা :- শীত আসতে এখনও ঢের দেরি, অথচ আশ্বিনের শুরুতেই যেন পৌষের আবহ! সোমবার ভোরে আচমকাই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে গেল ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বরের বিস্তীর্ণ এলাকা। ভোরের আলো ফুটলেও ঘন কুয়াশার কারণে চারপাশের দৃশ্য কার্যত ঝাপসা হয়ে যায়। দূরের গাছপালা, বাড়িঘর তো বটেই, দীর্ঘ সড়কের অনেকটাই চোখের আড়ালে চলে যায়। মাঠ-প্রান্তর থেকে রাস্তাঘাট সব কিছুতেই যেন নেমে আসে সাদা কুয়াশার আস্তরণ। মুহূর্তে বদলে যায় জটেশ্বরের চেনা ছবি। আশ্বিনেই এমন ঘন কুয়াশার দেখা মেলায় অবাক স্থানীয়রাও। তবে কুয়াশার এই মনোরম আবহের পাশাপাশি বাড়ে যান চলাচলের ঝুঁকিও। দৃশ্যমানতা একধাক্কায় কমে যাওয়ায় ভোরের দিকে রাস্তায় ট্রাক, মোটরসাইকেল-সহ বিভিন্ন যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা যায়। এদিন চালকদেরও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

কলকাতায় জাতীয় ক্যারাটে চ্যাম্পিয়নশিপ, পশ্চিমবঙ্গ-সহ বিভিন্ন রাজ্য থেকে অংশগ্রহণ পাঁচ শতাধিকের।

কৌশিক ঘোষ,কোলকাতা:- ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কোলকাতার স্প্রিং ক্লাবের অডিটোরিয়ামে ১৭তম এআইবিএসকে- জেএসকেএ ন্যাশানাল ক্যারাটে চ্যাম্পেয়ানশীপ প্রতিযোগিতা ২০২৬ অনুষ্ঠিত হলো অল ইন্ডিয়া বুডো সতোকান ক্যারাটে এসোসিয়েসান জাপান সতোকান ক্যারাটে এসোশিয়েশান এর মুখ্য আয়োজনে।সিহান তীর্থঙ্কর নন্দী,সিহান শেখ কাইজার রফিক,সেনসাই বিশ্বজিৎ দাস,সেনসাই সমির সিং,সেনসাই অনিত রয়,সেনসাই কার্ত্তিক বসাক প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা উপস্থিত ছিলেন।এই ক্যারাটে প্রতিযোগিতার মুখ্য আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সিহান তীর্থঙ্কর নন্দী জানালেন পশ্চিমবঙ্গের,কোলকাতা,হাওড়া,হুগলী,চব্বিশপরগনা,বর্দ্ধমান,আলিপুরদুয়ার,কোচবিহার,জলপাইগুড়ি জেলা সহ ভারতের অন্যান্য রাজ্য উওরপ্রদেশ,উওরাখন্ড,
হিমাচলপ্রদেশ,আসাম,মধ্যপ্রদেশ,কর্নাটক থেকেও অসংখ্য প্রতিযোগি কাতা ও কুমিতে বিভাগে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহন করে। সর্বমোট পাঁচ শতাধিক প্রতিযোগী এই ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।এই ক্যারাটে প্রতিযোগিতার মহিলাদের অংশগ্রহণ ছিলো চোখে পড়ার মতো। সংগঠনের সভাপতি সিহান সেখ কাইজার রফিক জানান বর্তমান সময়ে মহিলাদের অত্মরক্ষার স্বার্থে ক্যারাটে শেখা অতি আবশ্যিক। ছাত্রছাত্রীদের অবিভাবকদের ও তিনি এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করার কথা বললেন।

Share This
Categories
বিবিধ

খড়গপুরে বড়সড় রেল দুর্ঘটনা, লাইনচ্যুত কয়লাবোঝাই মালগাড়ির তিন বগি।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- চলন্ত কয়লাবোঝাই মালগাড়ির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উল্টে পড়াকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল পশ্চিম মেদিনীপুরে। দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিশনের রামপুরা রেলগেটের কাছে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, চলন্ত অবস্থায় আচমকাই কয়লাবোঝাই মালগাড়ির তিনটি বগি রেললাইন থেকে লাইনচ্যুত হয়ে যায়। এরপর বগিগুলি রেললাইনের পাশে উল্টে পড়ে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিক ও কর্মীরা। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে লাইনচ্যুত বগিগুলি সরিয়ে উদ্ধারের কাজ। কী কারণে চলন্ত মালগাড়ির তিনটি বগি লাইনচ্যুত হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে রেল কর্তৃপক্ষ।

Share This
Categories
বিবিধ

অন্ডালে বৃষ্টির জেরে হুড়মুড়িয়ে ভাঙল কাঁচা বাড়ি, আশ্রয় ক্লাবে দিনমজুরের পরিবার।

অন্ডাল, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অন্ডাল থানার অন্তর্গত বিশ্বেশ্বরী এলাকায় প্রবল বর্ষণের কারণে ভেঙে পড়ল একটা মাটির কাচা বাড়ি , অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলো বাড়ির লোকজন।
বিগত কয়েক দিন ধরে ঘূর্ণবাত অর্ণবের কারণে বাংলা জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে সঙ্গে বইছে ঝড়ো হাওয়া। আর এরই মধ্যে ঘটেছে বিপত্তি একদিকে খনি এলাকায় ধস অন্যদিকে প্রবল বৃষ্টির কারণে ভেঙে পড়ল পেশায় দিনমজুর বাবলু সরদারের মাটির কাঁচা বাড়ি। বাড়ির লোকজন প্রাণে বাজলেও মাটির দেওয়ালে চাপা পড়লো আসবাবপত্র। ঘটনাটি ঘটেছে অন্ডালের সিঁদুলির মাহাতোপাড়া এলাকায়। ঘটনার পর থেকেই বাড়ির পরিবারের লোকজন স্থানীয় একটি ক্লাবে বসবাস করছেন। পাড়ার লোকের বাড়ি থেকে খাবার আসছে। বাবলু বাবুর সরকারের কাছে কাতর আবেদন তাদের জন্য একটা বাড়ির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে করে বাচ্চা, বউ এবং অসুস্থ মাকে নিয়ে তারা বসবাস করতে পারেন।

Share This
Categories
বিবিধ

CJP সমর্থক চিরঞ্জিতকে মারধরের অভিযোগ, পাল্টা দাবি বিজেপির।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামুড়িয়া :-দিল্লির জন্তর মন্তরে কোকরোচ জনতা পার্টির (CJP) কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া এবং সেই কর্মসূচির ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরই এক CJP সমর্থকের উপর হামলার অভিযোগ উঠল বিজেপি সমর্থকদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত কেন্দা এলাকায়।

আক্রান্তের নাম চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি কেন্দা এলাকার বাসিন্দা এবং তৃণমূল নেতা সন্দীপ (বিজু) বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে তিনি কোকরোচ জনতা পার্টির সমর্থক বলে দাবি করেছেন।

চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির জন্তর মন্তরে CJP-এর একটি বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তিনি যোগ দিয়েছিলেন। সেই কর্মসূচির বেশ কিছু ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টও করেন তিনি। এরপর সে যন্তর মন্তর থেকে ফেরার পর বিজেপির কয়েকজন সমর্থক তাঁর উপর দফায় দফায় হামলা চালিয়ে ছিলেন বলে অভিযোগ তাঁর।

চিরঞ্জিতের দাবি , শুক্রবার সন্ধ্যায় ফের তাঁর উপর হামলা চালানো হয়। ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত এবং আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে শনিবার সকালে CJP-এর প্রতিনিধিরা চিরঞ্জিতের বাড়িতে পৌঁছন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন।

তবে চিরঞ্জিতের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করেছে কেন্দা এলাকার বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপি নেতা বিপদতারন ভট্টাচার্যের দাবি, চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায় CJP-এর সঙ্গে যুক্ত—এমনটা তাঁদের জানা ছিল না।

পাশাপাশি, চিরঞ্জিতের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষের মধ্যে ছাগল চুরি, তোলাবাজি এবং মদ্যপানের অভিযোগ রয়েছে বলেও পাল্টা দাবি করেন ওই বিজেপি নেতা। তাঁর দাবি, এলাকায় মাতলামির কারণেই চিরঞ্জিতের উপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

অন্যদিকে, চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে CJP কো-অর্ডিনেটর আব্দুল হাপিজ প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে, তাঁদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দল।

শেষ পাওয়া খবরে জানা যায় , ঘটনাটি পুলিশকে মৌখিক জানানো হলেও লিখিত কোন অভিযোগ করা হয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Share This
Categories
বিবিধ

আলু বিজ কোম্পানির উদ্যোগে আদিনা সমবায় হিমঘরে অ্যাম্বুলেন্স, উদ্বোধনে সাংসদ খগেন মুর্মু।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- ভালো কাজের পুরস্কার পেল আদিনা সমবায় হিমঘর কর্তৃপক্ষ। আলু বিজ কোম্পানির কাছ থেকে অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স পেল মালদার এই হিমঘর কর্তৃপক্ষ। শনিবার হিমঘর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে অত্যাধুনিক এই অ্যাম্বুলেন্স এর উদ্বোধন করেন সাংসদ খগেন মুর্মু। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মালদা বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা, সমবায় আধিকারিক সুতনুকা চক্রবর্তী, বিশিষ্ট সমাজসেবী অজয় গাঙ্গুল, আদিনা সমবায় হিমঘর ম্যানেজার বিরেস রাজবংশী সহ অন্যান্যরা। অ্যাম্বুলেন্সটি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য একটি সেচ্চাসরি সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। আদিনা সহ আশেপাশের কৃষকদের সুবিধার জন্য এই অ্যাম্বুলেন্স প্রদান করা হয়। কৃষি প্রধান অঞ্চল আদিনা। মূলত এখানে কার কৃষকেরা আলু চাষ করেন। তাদের বিভিন্ন সমস্যা আপদ বিপদের জন্য এই অ্যাম্বুলেন্স অল্প খরচে এম্বুলেন্স ব্যবহার করতে পারবেন আশেপাশের বাসিন্দারা। পাশাপাশি এদিন কৃষকদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত কৃষি বিশেষজ্ঞরা আলু চাষে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি ও উন্নত বীজ ব্যবহার নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। আগামীতে যেন পড়তে পারেনি এ অঞ্চলের কৃষকেরা এ বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

Share This