বহু বছর পর আজ আবার সেই মাঠটার পাশ দিয়ে হাঁটছিল অনির্বাণ। শহর বদলেছে, রাস্তা বদলেছে, শুধু পুরোনো বটগাছটা এখনও আগের মতো দাঁড়িয়ে আছে।
এই মাঠেই প্রতি বিকেলে দেখা হতো তাদের।
মেঘলা সবসময় আগে এসে বসে থাকত। হাতে একটা গল্পের বই, চুলে হালকা বাতাস। আর অনির্বাণ দৌড়ে এসে বলত,
— “আবার এত তাড়াতাড়ি চলে এলে?”
মেঘলা হেসে বলত,
— “কিছু অপেক্ষা ভালো লাগে।”
তারপর একদিন হঠাৎ সব বদলে গেল। মেঘলার বাবার বদলি হলো অন্য শহরে। যাওয়ার আগের বিকেলে মেঘলা বলেছিল,
— “যদি কোনোদিন ফিরে আসি, এই মাঠেই তোমাকে খুঁজবো।”
তারপর কেটে গেছে বারো বছর।
আজ অফিসের কাজে হঠাৎ এই শহরে এসে অনির্বাণের মনে হলো, একবার মাঠটার কাছে যাক।
বিকেলের শেষ আলো তখন ঘাসের ওপর পড়েছে। দূরে কয়েকটা বাচ্চা খেলছে।
হঠাৎ বটগাছটার নিচে একটা পরিচিত মুখ দেখতে পেল সে।
সাদা শাড়ি, হাতে সেই একই ধরনের বই।
মেঘলা।
দু’জনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ তাকিয়ে রইল।
তারপর মেঘলা মৃদু হেসে বলল,
— “দেখলে? কিছু অপেক্ষা সত্যিই ফুরোয় না।”
ডুবন্ত সূর্যের আলোয় তখন পুরোনো সেই বিকেলটা আবার ফিরে এসেছিল।
Categories
ফেলে আসা বিকেল।