Categories
প্রবন্ধ

ভূমিকা

মানুষের চরিত্রের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ হলো সততা। অর্থ, ক্ষমতা, জ্ঞান কিংবা প্রতিভা একজন মানুষকে সফল করতে পারে, কিন্তু সততা তাকে সম্মানিত ও মহৎ করে তোলে। একজন সৎ মানুষ সমাজে বিশ্বাস, মর্যাদা এবং ভালোবাসা অর্জন করেন। অন্যদিকে অসততা সাময়িক লাভ এনে দিলেও শেষ পর্যন্ত মানুষের সম্মান, সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দেয়।

বর্তমান যুগে প্রতিযোগিতা, ভোগবাদ এবং দ্রুত সাফল্য অর্জনের প্রবণতার কারণে অনেক সময় মানুষ অসৎ পথ বেছে নেয়। ঘুষ, দুর্নীতি, প্রতারণা, মিথ্যা বলা, কর ফাঁকি, জালিয়াতি—এসব সমাজে নানা সমস্যার সৃষ্টি করছে। অথচ ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দীর্ঘস্থায়ী সাফল্য ও প্রকৃত সম্মান সবসময় সততার ওপরই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সততা শুধু একটি নৈতিক গুণ নয়; এটি ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি। একজন সৎ নাগরিক যেমন একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করেন, তেমনি একটি সৎ সমাজ একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র নির্মাণ করে। তাই সততার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা সব যুগেই প্রাসঙ্গিক।

সততা কী?

সততা হলো সত্যবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা, বিশ্বস্ততা এবং নৈতিকতার সঙ্গে জীবনযাপন করার গুণ। একজন সৎ মানুষ সব পরিস্থিতিতেই সত্য কথা বলেন, অন্যের অধিকারকে সম্মান করেন এবং অন্যায় বা প্রতারণার পথ থেকে নিজেকে দূরে রাখেন।

সততা শুধু কথায় নয়; এটি চিন্তা, আচরণ এবং কর্মের মধ্যেও প্রকাশ পায়। প্রকৃত সততা হলো এমন একটি গুণ, যা মানুষের বিবেককে সবসময় সঠিক পথ অনুসরণ করতে সাহায্য করে।

সততার গুরুত্ব

সততা মানুষের জীবনে বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করে। পরিবার, বন্ধু, কর্মক্ষেত্র কিংবা সমাজ—সব জায়গায় একজন সৎ মানুষ সহজেই অন্যদের আস্থা অর্জন করেন।

সততা মানুষের আত্মসম্মান বৃদ্ধি করে। একজন সৎ মানুষ জানেন যে তিনি অন্যায় করেননি, তাই তিনি নির্ভয়ে জীবনযাপন করতে পারেন। এই মানসিক শান্তি কোনো অর্থ দিয়ে কেনা যায় না।

ছাত্রজীবনে সততার গুরুত্ব

ছাত্রজীবনে সততার শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় নকল না করা, নিজের কাজ নিজে করা, শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং সত্য কথা বলার অভ্যাস একজন শিক্ষার্থীর চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যে শিক্ষার্থী ছোটবেলা থেকেই সততার চর্চা করে, সে ভবিষ্যতে একজন দায়িত্বশীল ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠে। অন্যদিকে ছোট ছোট অসততা পরবর্তীকালে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।

কর্মজীবনে সততার মূল্য

যেকোনো পেশায় সততা একটি অমূল্য সম্পদ। একজন সৎ চিকিৎসক রোগীর কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেন, একজন সৎ শিক্ষক নিষ্ঠার সঙ্গে শিক্ষা দেন, একজন সৎ বিচারক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেন এবং একজন সৎ ব্যবসায়ী গ্রাহকের বিশ্বাস অর্জন করেন।

কর্মজীবনে সততা দীর্ঘমেয়াদে সাফল্য এনে দেয়। কারণ মানুষ সবসময় বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

পরিবারে সততার ভূমিকা

একটি সুখী পরিবারের ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস। আর বিশ্বাসের মূল হলো সততা। পরিবারের সদস্যরা যদি একে অপরের সঙ্গে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত হন, তাহলে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।

অভিভাবকদের উচিত সন্তানদের সামনে সততার উদাহরণ সৃষ্টি করা। কারণ শিশুরা কথার চেয়ে কাজ দেখে বেশি শিক্ষা গ্রহণ করে।

সমাজে সততার প্রয়োজন

একটি সমাজে যদি অধিকাংশ মানুষ সৎ হন, তাহলে সেখানে দুর্নীতি কমে, আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকে এবং মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

অন্যদিকে অসততা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ঘুষ, প্রতারণা, জালিয়াতি ও দুর্নীতির কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হয় এবং সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

সততা ও আত্মবিশ্বাস

সততা মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। একজন সৎ মানুষের কোনো কিছু লুকানোর প্রয়োজন হয় না। তিনি নিজের কাজের জন্য গর্ব অনুভব করেন এবং নির্ভয়ে সত্যের পক্ষে দাঁড়াতে পারেন।

অসৎ ব্যক্তি সবসময় ধরা পড়ার ভয়ে থাকেন। ফলে তাঁর মানসিক শান্তি নষ্ট হয় এবং আত্মবিশ্বাসও কমে যায়।

সততা ও নেতৃত্ব

একজন ভালো নেতার অন্যতম প্রধান গুণ হলো সততা। মানুষ সেই নেতাকেই অনুসরণ করে, যিনি সৎ, ন্যায়পরায়ণ এবং প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন।

ইতিহাসে যেসব নেতা মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই সততা ও নৈতিকতার জন্য পরিচিত ছিলেন। তাই নেতৃত্বের ভিত্তি হিসেবে সততার গুরুত্ব অপরিসীম।

আধুনিক যুগে সততার চ্যালেঞ্জ

আজকের যুগে দ্রুত সাফল্য অর্জনের প্রবণতা অনেক সময় মানুষকে অসৎ পথে পরিচালিত করে। সামাজিক চাপ, প্রতিযোগিতা এবং লোভের কারণে কেউ কেউ ভুল সিদ্ধান্ত নেন।

কিন্তু প্রযুক্তির যুগে তথ্য গোপন রাখা কঠিন। তাই অসততা দীর্ঘদিন টিকে থাকে না। শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রকাশিত হয় এবং অসৎ ব্যক্তি সম্মান হারান।

সততা গড়ে তোলার উপায়

সততা ছোটবেলা থেকেই চর্চা করতে হয়। পরিবারে সত্য কথা বলার শিক্ষা, বিদ্যালয়ে নৈতিক শিক্ষা এবং সমাজে সৎ মানুষের সম্মান—এসব সততার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রতিদিন ছোট ছোট বিষয়েও সত্য বলা, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, অন্যের সম্পদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং নিজের ভুল স্বীকার করার অভ্যাস সততার ভিত্তি মজবুত করে।

সততা ও জাতীয় উন্নয়ন

একটি দেশের উন্নয়ন শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; নাগরিকদের সততার ওপরও নির্ভর করে। সৎ কর্মকর্তা, সৎ ব্যবসায়ী, সৎ শিক্ষক, সৎ চিকিৎসক এবং সৎ নাগরিক একটি দেশের উন্নয়নের প্রধান শক্তি।

যে দেশে দুর্নীতি কম এবং সততার মূল্য বেশি, সেই দেশ সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী, সামাজিকভাবে স্থিতিশীল এবং আন্তর্জাতিকভাবে সম্মানিত হয়।

উপসংহার

সততা মানুষের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার। এটি এমন একটি গুণ, যা অর্থ দিয়ে কেনা যায় না, কিন্তু যার মূল্য অমূল্য। একজন সৎ মানুষ হয়তো সবসময় দ্রুত সফল হন না, কিন্তু তিনি দীর্ঘমেয়াদে সম্মান, বিশ্বাস এবং প্রকৃত সাফল্য অর্জন করেন।

পরিবার, শিক্ষা, কর্মজীবন এবং সমাজ—সব ক্ষেত্রেই সততার চর্চা জরুরি। আমাদের প্রত্যেকের উচিত সত্যকে ধারণ করা, অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করা এবং নিজের বিবেকের কাছে সৎ থাকা।

আসুন, আমরা সবাই সততাকে জীবনের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করি। কারণ সততাই মানুষের প্রকৃত শক্তি, সর্বশ্রেষ্ঠ অলংকার এবং একটি সুন্দর সমাজ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

Share This
Categories
বিবিধ

আইনশৃঙ্খলা জোরদারে বড় পদক্ষেপ? ১০৮ পুলিশ আধিকারিকের বদলিতে জল্পনা।

নিজস্ব সংবাদদাতা, বিশেষ প্রতিবেদন :- রাজ্য পুলিশ প্রশাসনে এক বড়সড় রদবদল ঘটে গেল। একযোগে বদলি করা হলো ১০৮ জন পুলিশ আধিকারিককে। নির্বাচনের পর বা আইনশৃঙ্খলার ভিত মজবুত করতে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, এত বড় মাপের রদ বদলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক ঝাঁকুনি খেল পুলিশ প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট মহলের নজর কেড়েছে এই বদলির তালিকাটি। রাজ্য পুলিশের পক্ষ থেকে জারি করা এই তালিকায় বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের মতো জঙ্গলমহল সংলগ্ন এলাকাগুলি। তালিকায় রয়েছে গোয়ালতোড় এবং খড়্গপুর টাউন থানার মতো গুরুত্বপূর্ণ থানা। এর পাশাপাশি ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়ী এবং বিনপুরের মতো স্পর্শকাতর এলাকার পুলিশ আধিকারিকদেরও এই তালিকায় শামিল করা হয়েছে।

প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এটি একটি রুটিন বদলি। কাজের গতি বাড়াতে এবং আইন-শৃঙ্খলার ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হঠাৎ জঙ্গলমহল ও শিল্পাঞ্চলের এই থানাগুলিতে একসঙ্গে এত রদবদল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নতুন আধিকারিকরা দ্রুত নিজ নিজ দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।

Share This
Categories
বিবিধ

চন্দ্রকোনা রোডে কলেজ-রাজনীতি নিয়ে চর্চা, বৈঠককে কেন্দ্র করে শুরু বিতর্ক।

নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দ্রকোনা রোড :- চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন বেশ কিছুদিন হলো। একসময় এলাকার রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি ছিল এক ডাকে। চন্দ্রকোনা রোড এলাকায় ‘বিজেপি’ বললেই একসময় যার নাম সবার প্রথমে উঠে আসত, দীর্ঘদিনের সেই দাপুটে দলীয় মুখকে ঘিরেই এবার নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। স্থানীয় চন্দ্রকোনা রোড গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের পরিচালন সমিতির পরবর্তী সভাপতি (প্রেসিডেন্ট) হিসেবে তার নাম মনোনীত হতে পারে— এমনই এক জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। তবে এই গুঞ্জনের আবহেই তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্কও।

সম্প্রতি ওই কলেজেরই বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে উক্ত নেতার একটি ‘গোপন বৈঠক’ ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্যও ছড়িয়েছে। জানা গেছে, দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে স্থানীয় জনমানসে। প্রশ্ন উঠছে এই বৈঠকের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে। কারণ, যার সাথে এই বৈঠক হয়েছে, সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম, তহবিল তছরুপ, চুরি ও দুর্নীতিসহ নানা অনৈতিক ও অরাজকতামূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করার পেছনেও ওই অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও পড়ুয়াদের একাংশ। গুঞ্জনে শোনা যাচ্ছে এমন একজন বিতর্কিত ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সাথে একদা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা কলেজ সভাপতি পদের অন্যতম দাবিদারের এই গোপন বৈঠককে ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ বলছেন ওই নেতা একসময় সিপিএমের সঙ্গে সেটিং করে চাকরি পেয়েছিল। দীর্ঘদিন গোপন সেটিং করেই জীবন অতিবাহিত করেছে। তার ভুলভাল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অনেকের রাজনৈতিক কেরিয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও বর্তমানে তিনি বিজেপির উচ্চপদস্থ এবং সম্মানীয় পদে আসীন তাই এই ব্যক্তিকে ঘিরে মুখে কুলুপ বিজেপির। তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন কলেজের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসার আগেই কেন একজন বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকের সাথে গোপনে বৈঠক করতে হলো? তবে কি কোনো বিশেষ সমঝোতা বা ‘ডিল’ করার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক? এই বৈঠকের পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে?

স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো পবিত্র জায়গা। সেখানে যদি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির সাথে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এমন গোপন আঁতাত তৈরি হয়, তবে কলেজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা চাই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কেউ কলেজের দায়িত্বে আসুক।” যদিও এই গুঞ্জন এবং গোপন বৈঠক প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সভাপতি মনোনয়নের আগেই এই ‘গোপন বৈঠক’ বিতর্ক যে গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের পরিচালন পর্ষদ গঠনের আবহকে অনেকটাই উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

Share This
Categories
বিবিধ

রেসিপি ::: রাজমা মসালা।।।

পরিচিতি—— রাজমা মসালা উত্তর ভারতের, বিশেষ করে পাঞ্জাবের, অন্যতম জনপ্রিয় নিরামিষ পদ। লাল রাজমা, পেঁয়াজ, টমেটো, আদা-রসুন এবং সুগন্ধি মশলার সংমিশ্রণে তৈরি এই ঘন ঝোল স্বাদে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। গরম ভাত বা জিরা রাইসের সঙ্গে রাজমা মসালা উত্তর ভারতের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বর্তমানে এটি সারা ভারতেই অত্যন্ত জনপ্রিয়।
উপকরণ (৪–৫ জনের জন্য)——
রাজমা – ১½ কাপ
পেঁয়াজ – ২টি মাঝারি (কুচি)
টমেটো – ৩টি বড় (পিউরি)
আদা-রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
কাঁচা লঙ্কা – ২টি (কুচি)
জিরে – ১ চা চামচ
তেজপাতা – ১টি
হলুদ গুঁড়ো – ½ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১½ চা চামচ
জিরা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো – ½ চা চামচ
কাসুরি মেথি – ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
মাখন – ১ টেবিল চামচ
সাদা তেল – ২ টেবিল চামচ
লবণ – স্বাদমতো
ধনেপাতা কুচি – ২ টেবিল চামচ
গরম জল – প্রয়োজনমতো
প্রণালী———-
১. রাজমা ভালোভাবে ধুয়ে সারারাত বা অন্তত ৮–১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
২. প্রেসার কুকারে রাজমা, লবণ ও পর্যাপ্ত জল দিয়ে ৬–৮টি সিটি পর্যন্ত সেদ্ধ করুন। রাজমা সম্পূর্ণ নরম হওয়া জরুরি।
৩. কড়াইয়ে তেল গরম করে জিরে ও তেজপাতা ফোড়ন দিন।
৪. পেঁয়াজ কুচি সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে আদা-রসুন বাটা ও কাঁচা লঙ্কা যোগ করে কষান।
৫. টমেটো পিউরি, হলুদ, ধনে গুঁড়ো, জিরা গুঁড়ো ও কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে তেল ছাড়া পর্যন্ত রান্না করুন।
৬. সেদ্ধ রাজমা এবং প্রয়োজনমতো সেদ্ধর জল মিশিয়ে দিন।
৭. মাঝারি থেকে কম আঁচে ১৫–২০ মিনিট ফুটতে দিন, যাতে মশলার স্বাদ রাজমায় ভালোভাবে মিশে যায়।
৮. শেষে মাখন, গরম মশলা গুঁড়ো ও কাসুরি মেথি মিশিয়ে ২–৩ মিনিট রান্না করুন।
৯. ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
পরিবেশন———‐–
রাজমা মসালা গরম সাদা ভাত, জিরা রাইস, বাসমতি ভাত, নান, তন্দুরি রুটি বা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন। পাশে পেঁয়াজের স্যালাড ও লেবুর টুকরো দিলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
কিছু টিপস——–
রাজমা দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং হজমও সহজ হয়।
রাজমা নরম না হলে ঝোলের স্বাদ ভালো হয় না।
রান্নার শেষে সামান্য মাখন দিলে রেস্তোরাঁর মতো স্বাদ আসে।
ঝোল ঘন করতে চাইলে কয়েকটি সেদ্ধ রাজমা চামচ দিয়ে চটকে মিশিয়ে দিন।
পুষ্টিগুণ—-‐-‐-
রাজমা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে।
রন্ধন-ঐতিহ্য—–‐—
রাজমা মসালা পাঞ্জাবি রান্নার একটি ঐতিহ্যবাহী পদ, যা আজ ভারতের প্রতিটি অঞ্চলে জনপ্রিয়। সরল উপকরণ, সমৃদ্ধ স্বাদ এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের জন্য এটি প্রতিদিনের খাবার থেকে শুরু করে বিশেষ আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে সমাদৃত।

Share This
Categories
বিবিধ

মালদায় জওহর নবোদয় বিদ্যালয় নির্মাণের পথে বড় পদক্ষেপ, প্রস্তাবিত জমি ঘুরে দেখলেন বিধায়ক।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদা জেলার মধ্যে পুরাতন মালদা ব্লকের ভাবুক অঞ্চলের সৈয়দপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গড়ে উঠবে জওহর নবোদয় বিদ্যালয়। সিবিএসই বোর্ড নিয়ন্ত্রণাধীন আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম নবোদয় বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য বৃহস্পতিবারই ১১ একর জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আর এই ঘোষণার পর শুক্রবার পুরাতন মালদার ভাবুক অঞ্চলের সৈয়দপুর মৌজায় গিয়ে প্রস্তাবিত জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের জমি পরিদর্শন করলেন মালদা বিধানসভার বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা। এদিনের এই
পরিদর্শনে বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুম্পা রাজবংশী সহ অন্যান্যরা। তারা সকলে মিলে সৈয়দপুর এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা জানান, কেন্দ্রীয় সরকার মালদা জেলার মধ্যে একমাত্র জওহর নবোদয় বিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এজন্য পুরাতন মালদা ব্লকের ভাবুক অঞ্চলের সৈয়দপুর এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রীসভার ক্যাবিনেট সৈয়দপুরে ১১ একর জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। আর এই সিদ্ধান্তের পর আজ তিনি জমি পরিদর্শনে এসেছেন। সিবিএসই বোের্ড পরিচালিত আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম নবোদয় বিদ্যালয় গঠলে মালদাবাসী উপকৃত হবেন! গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরা বিনামূল্যে এই বিদ্যালয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াতে পারবেন।

Share This
Categories
বিবিধ

অস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল নিয়ে বিতর্ক, প্রাক্তন ছাত্রনেতাকে ঘিরে শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অস্ত্র হাতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতার ছবি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।যদিও ভাইরাল হওয়া সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আমরা।মালদার সামসি কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন ইউনিট প্রেসিডেন্ট শেখ রিয়াজুলের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য।মালদার রতুয়ার বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল।সামসি কলেজের ইউনিট প্রেসিডেন্ট ছিলেন শেখ রিয়াজুল ,তা স্বীকার করে নিয়েছেন মালদা জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি প্রসূন রায়।তিনি বলেন,এখন কোন সংগঠন নেই। সমস্ত ইউনিট ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি দেখেছি।পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।এই ঘটনায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে বিজেপি।গোটা ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানোতোর।ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

১৯৯৩-এর স্মৃতি আজও অমলিন, একুশে জুলাইয়ের আগে শহীদ পরিবারের আবেগঘন স্মৃতিচারণ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বয়স জনিত কারণে শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে, হাঁটা চলা কিংবা অন্যান্য কাজকর্ম করতেও সমস্যা হচ্ছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও এই বছর অসুস্থতার কারণে ২১ জুলাই তৃণমূলের শহীদ দর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না কেশপুরের শহীদ আব্দুল খালেকের স্ত্রী কহিনুরা বিবি। ১৯৯৩ সালের ২১ শে জুলাই ঘটনার পরের থেকে যতবার কলকাতার ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে শহীদ তর্পণ অনুষ্ঠান হয়েছে ততবারই মমতার ডাকে মঞ্চে হাজির ছিলেন কোহিনুরা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ বছর তিনি শহীদ তর্পণ অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না বলে মনটা একটু খারাপ রয়েছে।

১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই, সেই দিনটার বর্ণনা দিতে গিয়ে কোহিনুরা বললেন – ‘ ও ( আব্দুল খালেক ) দলটাকে খুব ভালবাসত। সিপিএমের অনেক অত্যাচার সহ্য করেও কংগ্রেস টা করত। আগের দিন ২০ জুলাই বাড়িতে বাঁশ কেটে যুব কংগ্রেসের পতাকা তৈরি করে সন্ধ্যা বেলায় কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কেশপুরের সে সময়ের কংগ্রেস নেতাকর্মীদের সঙ্গেই তিনি কলকাতায় যান। একুশে জুলাই রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানে অংশ নেন। সেই দিন আন্দোলনকারী যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওপর গুলি চলে। অনেকেই মারা যান,কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কেশপুরের কংগ্রেস নেতারা যখন কলকাতা থেকে বাড়ি ফিরবেন তখন দেখেন আব্দুল খালেক দলের মধ্যে নেই। তখনই তার খোঁজ শুরু হয়। বেশ কিছুক্ষণ পর কলকাতার হাসপাতলে গুলিবিদ্ধ আব্দুল খালেক এর সন্ধান মেলে। তখনো তিনি জীবিত ছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এক সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তিনি মারা যান। ‘ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চোখ ভিজে যায় কহিনুরার। আঁচল দিয়ে চোখ মুছে ফের কোহিনুরা বলেন ‘ এরপর থেকেই একুশে জুলাই ধর্ম তলায় শহীদ তর্পণ অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে আমরা যেতাম। প্রত্যেক বছরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে আমাকে ডাকেন। প্রতিবছরই শহীদ তর্পন অনুষ্ঠানে গিয়েছি।।গত বছর ২০২৫ সালেও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মঞ্চে হাজির হয়েছিলাম দিদির ডাকে। এবার অসুস্থতার কারণে আর যাওয়া হবে না ‘
কোহিনুরাদের পাশে থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় এক লক্ষ দশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে জানালেন কোহিনুরা। এছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী হন সেই সময় তার ছেলে শাহজাহান আলীর রেলে চাকরি হয়। কোহিনুরা কখনো পার্টির লোকের সঙ্গে কখনোবা ছেলের সঙ্গে কলকাতায় শহীদ তর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বারংবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন কোহিনুরা। এবং বলছেন আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলাম এবং থাকব।তৃণমূল কংগ্রেস এখন আর সরকারে নেই বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই এই বিষয়ে কেশপুরের শহীদ পত্নীর স্ত্রী বললেন ‘ কি জানি কি হয়েছে আমি এতসব বুঝিনা,আমি মমতাদিকেই চিনি। ‘ কেশপুরের গরগোজপোতা গ্রামে কোহিনুরাদের বাড়ি। মাটির তিনতলা বাড়িটি এখনো শহীদের বাড়ি হিসাবেই কেশপুরের লোকজন চেনে। কোহিনুরার তিন মেয়ে এক ছেলে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। একমাত্র ছেলে শাহজাহান রেলে চাকরি করেন। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মুখোমুখি হলেও মমতার থেকে মুখ ফেরায় নি গোটা পরিবার। ২০২৬ সালে রাজ্যে পালা বদল হয়েছে। তৃণমূল সরকার সরে গিয়ে এসেছে বিজেপি সরকার। তার পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। একদিকে কালীঘাট তৃণমূল অপরদিকে ঋতব্রত তৃণমূলে ভাগ হয়ে গেছে তৃণমূল দলটা। তার ওপর রাজ্য সরকার ধর্মতলায় তৃণমূলের শহীদ সমাবেশের অনুমতি দেয় নি। তৃণমূলের শহীদ সমাবেশ কোথায় হবে,কিভাবে হবে বা আদৌ হবে কিনা এই নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। এই বিষয় নিয়ে এইবারও কি শহীদ তর্পন অনুষ্ঠানে যাবেন? প্রশ্ন করা হলে এর উত্তর দিতে গিয়ে কোহিনুরা বললেন ‘ শরীর খুবই খারাপ এবার আর যাওয়ার ইচ্ছা নেই। গতবারই অসুস্থতার কারণে যেতে চাইনি। তাও ছেলের সঙ্গে গিয়েছিলাম। এবার আর যাওয়া হবে না শরীরটা খুবই দুর্বল।’অন্যদিকে কেশপুরের তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ রফিক বললেন ‘ আব্দুল খালেক যুব কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আমরা একসঙ্গেই ট্রেনে করে সেই দিন রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় দেখি দলে আব্দুল খালেক নেই। চারিদিকে খোঁজ খবর শুরু হল। রাতের দিকে খবর পেলাম আব্দুল খালেক গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। সে এক ভয়ঙ্কর দিন ছিল, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। ‘

Share This
Categories
বিবিধ

১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজ শুরু, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গ্রামীণ এলাকার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এমজিএনআরইজিএ (মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন) প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বের ১০০ দিনের পরিবর্তে এবার ১২৫ দিন পর্যন্ত কাজের সুযোগ মিলছে। ১ জুলাই থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই প্রকল্পের আওতায় কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে জেলার হাজার হাজার জব কার্ডধারী শ্রমিক অতিরিক্ত ২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার জেলা কালেক্টরেট অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানান জেলা শাসক বীজিন কৃষ্ণা।
জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন পুকুর খনন, কোথাও পুরনো পুকুর সংস্কার, কোথাও ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার, কোথাও নিচু জমি ভরাট, গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার, জমি সমতলিকরণ-সহ একাধিক জনস্বার্থমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কাজগুলির মাধ্যমে যেমন গ্রামের পরিকাঠামোর উন্নতি হবে, তেমনই গ্রামীণ শ্রমিকদের হাতে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিদ্যমান জব কার্ডধারীদের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং ১২৫ দিনের কাজের সুবিধা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রায় চার হাজার ভুয়ো বা অযোগ্য জব কার্ড চিহ্নিত করে বাতিল করা হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ ছিল। সেই সময় রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে প্রকল্পের কাজ এবং অর্থ বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি পুনরায় চালু হয়েছে । ১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজ শুরু হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বহু পরিবারের আয়ের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রামীণ শ্রমিকদের মতে, অতিরিক্ত ২৫ দিনের কাজ তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা আরও কিছুটা বাড়াবে। বর্ষাকাল এবং কৃষিকাজের ফাঁকে এই প্রকল্পের কাজ তাদের নিয়মিত আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

কুমারহাট-প্রয়াগ-ক্ষেত্রহাটে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত, সমস্যায় সাধারণ মানুষ।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বেশ কয়েকদিন ধরে মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটের কুমারহাট, প্রয়াগ,ক্ষেত্রহাট সহ বেশ কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক পরিষেবা ব্যাহত। যার কারনে কার্যত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষদের। এলাকার মানুষজনদের অভিযোগ হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হলেই বৈদ্যুতিক পরিষেবা বন্ধ। এর কারণেই এলাকার বৃদ্ধ মানুষজন থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষজনদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় পরিবার-পরিজনদের। ইতিমধ্যেই সংবাদ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে বৈদ্যুতিক পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

খামারে গোখরা সাপের তাণ্ডব, সর্পবন্ধুর তৎপরতায় উদ্ধার বিষধর।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এক গৃহস্থের মুরগির খামারে ঢুকে বেশ কয়েকটি মুরগির ডিম আস্ত গিলে নিল একটি গোখরা সাপ। খামারে থাকা দুটি মুরগি কেও কামড়ে মেরে দিয়েছে সাপটি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাতর পাড়া এলাকার ঘটনা। শুক্রবার স্থানীয় সর্প বন্ধু মলয় ঘোষ এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। একটা দুটো করে মোট সাতটি ডিম খেয়েছিল সাতটি। সাপটি উদ্ধারের পর সব ডিম গুলি পেট থেকে বের করে দেয় সাপটি। বর্ষাকালের সাপের উপদ্রব থাকেই। এই সময় সাপ থেকে রেহাই পেতে কি করনীয় ব্যাখ্যা করলেন মলয় ঘোষ।

Share This