রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। ছোট্ট নির্জন স্টেশনটায় ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য। চারপাশে হালকা কুয়াশা, চায়ের দোকান থেকে ধোঁয়া উঠছে।
ঈশিতা জানালার পাশে বসে বাইরে তাকিয়ে ছিল। হঠাৎ তার চোখ পড়ল প্ল্যাটফর্মের এক কোণে দাঁড়ানো একজন মানুষের দিকে।
কালো শাল গায়ে, হাতে পুরোনো একটা ব্যাগ। লোকটা বারবার ট্রেনের প্রতিটা জানালার দিকে তাকাচ্ছিল, যেন কাউকে খুঁজছে।
ট্রেন ছাড়ার বাঁশি বাজতেই হঠাৎ লোকটা ঈশিতার জানালার সামনে এসে দাঁড়াল।
মৃদু হেসে বলল,
— “মাফ করবেন… আপনি কি নীলাঞ্জনাকে চেনেন?”
ঈশিতা অবাক হয়ে মাথা নাড়ল,
— “না তো।”
লোকটার চোখে এক মুহূর্তের জন্য হতাশা নেমে এলো। তারপর ধীরে বলল,
— “আজ পঁচিশ বছর হলো… এই একই ট্রেনে ও চলে গিয়েছিল। যাওয়ার আগে বলেছিল, একদিন ঠিক ফিরে আসবে।”
ট্রেন চলতে শুরু করল।
ঈশিতা জানালার পাশে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল মানুষটাকে। কুয়াশার ভেতর সে এখনো দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক একই জায়গায়।
হয়তো কোনো মানুষ নয়, একটা অপেক্ষাই দাঁড়িয়ে ছিল সেখানে।
Categories
অচেনা স্টেশনের মানুষ।