Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

তারাবাই মোদক: ছোটদের শিক্ষায় এক নতুন দিগন্তের পথিকৃৎ মহীয়সী নারী।

শিক্ষার কথা বললে সাধারণত আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে স্কুলের শ্রেণিকক্ষ, বই, খাতা, পরীক্ষা এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্তু একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরু তারও অনেক আগে। তিন থেকে ছয় বছর বয়সের একটি শিশু কীভাবে পৃথিবীকে চিনবে, কীভাবে ভাষা শিখবে, কীভাবে খেলতে খেলতে জ্ঞান অর্জন করবে—এই প্রশ্নগুলিই আধুনিক প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার কেন্দ্রে রয়েছে।

ভারতে এই চিন্তাকে অনেক আগেই গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেছিলেন এক অসাধারণ শিক্ষাবিদ—তারাবাই মোদক। তিনি বিশ্বাস করতেন, ছোট শিশুকে শুধু বই মুখস্থ করিয়ে শিক্ষিত করা যায় না। শিশুর নিজের ভাষা, পরিবার, সমাজ, পরিবেশ এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করতে হয়।

আজ যখন ‘child-centred education’, ‘play-based learning’, ‘community participation’ এবং ‘early childhood care and education’ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়, তখন তারাবাই মোদকের কাজ নতুন করে মনে পড়ে। ভারতের শিক্ষা মন্ত্রকের National Curriculum Framework for Foundational Stage-এ তাঁকে আধুনিক ভারতে শিশুকেন্দ্রিক প্রারম্ভিক শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

শিশুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার ভাবনা

তারাবাই মোদকের শিক্ষাদর্শের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল—শিক্ষার কেন্দ্র হবে শিশু, কেবল পাঠ্যবই নয়।

তাঁর সময়ে শিক্ষাব্যবস্থায় মুখস্থনির্ভরতা এবং প্রথাগত শ্রেণিকক্ষের প্রভাব ছিল যথেষ্ট। কিন্তু ছোট শিশুর শেখার পদ্ধতি যে বড়দের থেকে আলাদা, তা তিনি গুরুত্ব দিয়ে বুঝেছিলেন।

একটি শিশু চারপাশের পৃথিবীকে দেখে, স্পর্শ করে, প্রশ্ন করে, খেলতে খেলতে পরীক্ষা করে এবং অনুকরণ করে শেখে। তাই শিশুকে যদি শুধু বেঞ্চে বসিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে পড়ানো হয়, তার স্বাভাবিক কৌতূহল বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তারাবাই মোদকের শিক্ষাচিন্তায় সেই স্বাভাবিক কৌতূহলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

শিক্ষা মন্ত্রকের নথিতেও উল্লেখ রয়েছে যে তারাবাই মোদক ও গিজুভাই বাদেকা শিশুকেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষার ধারণা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তাঁরা মনে করতেন, শিশুর মাতৃভাষায় শিক্ষা দেওয়া এবং তার সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

১৯২৫: নতুন পথের সূচনা

তারাবাই মোদকের কাজের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় শুরু হয় ১৯২৫ সালে, যখন তিনি Nutan Balshikshan Sangh বা New Childhood Education Society প্রতিষ্ঠা করেন।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে ছোট শিশুদের জন্য সংগঠিত ও পরিকল্পিত শিক্ষার একটি নতুন কাঠামো গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়।

তখন ভারতে প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা আজকের মতো বিস্তৃত ছিল না। শহরের কিছু নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে শিশুশিক্ষার ব্যবস্থা থাকলেও দেশের বিশাল গ্রামীণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর শিশুদের কাছে এমন শিক্ষার সুযোগ পৌঁছনো ছিল কঠিন।

তারাবাইয়ের চিন্তার বিশেষত্ব এখানেই।

তিনি শুধু শহরের শিক্ষিত পরিবারের শিশুদের জন্য একটি শিক্ষাব্যবস্থা কল্পনা করেননি। তিনি চেয়েছিলেন, সমাজের সাধারণ পরিবার এবং প্রান্তিক মানুষের শিশুরাও যেন উপযুক্ত প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ পায়।

কোসবাডের পরীক্ষা

তারাবাই মোদকের শিক্ষাচিন্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলির একটি ছিল কোসবাদে Vikaswadi কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর কাজ।

এই উদ্যোগ পরবর্তীকালে ভারতের কমিউনিটি-ভিত্তিক প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষা কর্মসূচির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুপ্রেরণার ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। সরকারি National Curriculum Framework-এও কোসবাদের Vikaswadi-কে এমন একটি অনুপ্রেরণাদায়ক কেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যেখান থেকে কমিউনিটি-ভিত্তিক ECCE কর্মসূচির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়।

এখানে তাঁর চিন্তা ছিল অত্যন্ত বাস্তবধর্মী।

তিনি বুঝেছিলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের জন্য শহরের স্কুলের হুবহু কাঠামো কার্যকর নাও হতে পারে। তাদের জীবনযাত্রা, পরিবেশ, পরিবারের পেশা, স্থানীয় সংস্কৃতি এবং সামাজিক বাস্তবতাকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

অর্থাৎ শিক্ষা হবে শিশুর জীবনের বাইরে কোনও আলাদা জগৎ নয়—শিশুর নিজের জীবনই হয়ে উঠবে শিক্ষার উপকরণ।

খেলতে খেলতে শেখা

বর্তমানে ‘play-based learning’ বা খেলাধুলার মাধ্যমে শিক্ষাকে শিশুশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু এই ধারণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিন্তা ভারতীয় শিক্ষাক্ষেত্রে অনেক আগেই দেখা দিয়েছিল তারাবাই মোদকের কাজে।

একটি শিশু খেলনা নিয়ে খেলছে—বাইরের চোখে হয়তো সেটি নিছক খেলা। কিন্তু শিক্ষকের সঠিক পরিকল্পনায় সেই খেলাই হয়ে উঠতে পারে সংখ্যা শেখার মাধ্যম, ভাষা শেখার মাধ্যম, সামাজিক আচরণ বোঝার মাধ্যম কিংবা সমস্যা সমাধানের অনুশীলন।

তারাবাইয়ের কাজের মধ্যে এই বাস্তবধর্মী শিক্ষাচিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়।

শিশুকে সব সময় নির্দেশ দিয়ে শেখানোর পরিবর্তে তার স্বাভাবিক আগ্রহকে শিক্ষার কাজে ব্যবহার করার ধারণা ছিল তাঁর চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

আজকের foundational learning-এর আলোচনায় এই ধারণাগুলির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয়েছে।

মাতৃভাষার গুরুত্ব

শিশুর প্রথম ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, তার চিন্তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহন।

তারাবাই মোদক বুঝেছিলেন, একটি ছোট শিশুকে এমন ভাষায় শিক্ষা দেওয়া হলে যা তার ঘরের ভাষা নয়, তখন শেখার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

তাই শিশুর মাতৃভাষা বা স্থানীয় ভাষাকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল তাঁর শিক্ষাচিন্তায়। সরকারি National Curriculum Framework-ও তাঁর এবং গিজুভাই বাদেকার কাজের প্রসঙ্গে মাতৃভাষায় শিক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করেছে।

এই ভাবনার মধ্যে ছিল গভীর মানবিকতা।

কারণ শিক্ষা তখনই শিশুর কাছে সহজ ও আনন্দময় হয়, যখন সে শিক্ষকের কথার মধ্যে নিজের পরিচিত পৃথিবীকে খুঁজে পায়।

পরিবার ও সমাজও শিক্ষার অংশ

তারাবাই মোদকের শিক্ষাদর্শে স্কুল বা শিক্ষাকেন্দ্র একা কোনও বিচ্ছিন্ন প্রতিষ্ঠান নয়।

একটি শিশুর শেখার সঙ্গে তার পরিবার, প্রতিবেশী এবং সামাজিক পরিবেশের সম্পর্ক রয়েছে। তাই শিশুর শিক্ষায় সমাজের অংশগ্রহণকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

এই ধারণা আজকের community-based early childhood education-এর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

শিক্ষা মন্ত্রকের নথিতে বলা হয়েছে, তারাবাই মোদক প্রারম্ভিক শিশুশিক্ষাকে সংগঠিতভাবে সম্প্রদায়ের সঙ্গে যুক্ত করার পক্ষে কাজ করেছিলেন।

অর্থাৎ তিনি অনেক আগে এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার কথা ভাবছিলেন, যেখানে শিশুর চারপাশের মানুষজনও শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

দরিদ্র ও প্রান্তিক শিশুদের কথা

তারাবাই মোদকের কাজের একটি বড় মানবিক দিক ছিল শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।

ভারতের মতো বৈচিত্র্যময় দেশে শিক্ষার সুযোগ কখনওই সব মানুষের কাছে সমান ছিল না। শহর ও গ্রামের মধ্যে যেমন পার্থক্য ছিল, তেমনই অর্থনৈতিক অবস্থার ভিত্তিতেও শিক্ষার সুযোগে বৈষম্য ছিল।

শিশুশিক্ষাকে সহজ, স্থানীয় পরিবেশভিত্তিক এবং কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত করার ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের জন্য শিক্ষার দরজা আরও বাস্তবসম্মতভাবে খোলার সুযোগ তৈরি হয়।

এখানেই তারাবাইয়ের কাজ কেবল শিক্ষাবিদ্যার বিষয় হয়ে থাকে না; এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও একটি অংশ হয়ে ওঠে।

আজকের শিক্ষাব্যবস্থায় তারাবাইয়ের প্রাসঙ্গিকতা

আজ ভারতের শিক্ষানীতিতে Early Childhood Care and Education বা ECCE বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। National Curriculum Framework-এ ৩ থেকে ৬ বছর বয়সের শিশুদের জন্য প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষাকে foundational stage-এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

শিশুর শারীরিক, জ্ঞানীয়, সামাজিক-মানসিক, নৈতিক, ভাষাগত ও সৃজনশীল বিকাশকে একসঙ্গে দেখার ওপরও বর্তমান শিক্ষাচিন্তায় জোর দেওয়া হয়েছে।

এই পরিবর্তিত শিক্ষাদৃষ্টির সঙ্গে তারাবাই মোদকের চিন্তার আশ্চর্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

তিনি এমন এক সময়ে শিশুকে কেন্দ্র করে শিক্ষার কথা বলেছিলেন, যখন এই ধারণা আজকের মতো সর্বজনীন আলোচনার অংশ হয়ে ওঠেনি।

শিক্ষক মানে শুধু পড়ানো নয়

তারাবাই মোদকের কাজ থেকে শিক্ষকের ভূমিকাও নতুনভাবে বোঝা যায়।

শিক্ষক শুধু তথ্য দেওয়ার মানুষ নন। তিনি শিশুর কৌতূহলকে সঠিক পথে পরিচালিত করেন, পরিবেশ তৈরি করেন, শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ পর্যবেক্ষণ করেন এবং শেখার সুযোগ সৃষ্টি করেন।

একজন ভালো শিক্ষক জানেন কখন শিশুকে নির্দেশ দিতে হবে এবং কখন তাকে নিজের মতো করে আবিষ্কার করতে দিতে হবে।

ছোট শিশুর ক্ষেত্রে এই ভারসাম্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।

তারাবাইয়ের শিক্ষাচিন্তার অন্যতম বড় শিক্ষা এখানেই—শিশুকে শিক্ষার জন্য বদলে দেওয়ার আগে শিক্ষাব্যবস্থাকেও শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী বদলাতে হবে।

সময়ের থেকে এগিয়ে থাকা এক চিন্তা

কোনও শিক্ষাবিদের প্রকৃত গুরুত্ব বোঝা যায় তাঁর সময়ের সঙ্গে তুলনা করলে।

তারাবাই মোদক এমন এক সময়ে শিশুশিক্ষা নিয়ে কাজ করেছিলেন, যখন ভারতের বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সুযোগ থেকে দূরে ছিল।

তিনি বুঝেছিলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা তৈরি করতে হলে জীবনের একেবারে প্রথম ধাপ থেকেই শিশুর বিকাশকে গুরুত্ব দিতে হবে।

তাই তাঁর কাজ শুধু কয়েকটি বিদ্যালয় বা শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস নয়। তাঁর কাজের মধ্যে ছিল একটি বৃহত্তর প্রশ্ন—

শিক্ষা কাদের জন্য? এবং শিক্ষা কীভাবে শিশুর জীবনের সঙ্গে সত্যিকারের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে?

এই প্রশ্ন আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরাধিকার

তারাবাই মোদকের উত্তরাধিকার কোনও একক প্রতিষ্ঠান বা একটি নির্দিষ্ট শিক্ষাপদ্ধতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

ভারতে প্রাক্‌-প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশ, শিশুকেন্দ্রিক শিক্ষা, মাতৃভাষায় শেখা, স্থানীয় পরিবেশকে শিক্ষার অংশ করা এবং কমিউনিটির সঙ্গে শিশুশিক্ষার সম্পর্ক তৈরি—এই বৃহত্তর ধারার ইতিহাসে তাঁর নাম গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি শিক্ষা-নথিতে তাঁকে আধুনিক ভারতের early childhood education-এর অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

আজকের দিনে যখন শিশুদের পড়াশোনায় পরীক্ষার চাপ, মুখস্থবিদ্যা এবং অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়, তখন তারাবাই মোদকের শিক্ষাদর্শ আমাদের অন্য একটি পথের কথা মনে করিয়ে দেয়—শিশুকে আগে শিশু হিসেবেই দেখতে হবে।

উপসংহার

তারাবাই মোদকের জীবন ও কর্মের সবচেয়ে মূল্যবান দিক হয়তো তাঁর প্রতিষ্ঠিত কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান নয়; বরং তিনি যে প্রশ্নটি শিক্ষাব্যবস্থার সামনে রেখেছিলেন সেটিই তাঁর সবচেয়ে বড় অবদান।

একটি শিশুর শিক্ষা কি কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে?

নাকি তার চারপাশের প্রকৃতি, পরিবার, সমাজ, ভাষা, খেলা, কৌতূহল এবং অভিজ্ঞতাও শিক্ষার অংশ হবে?

তারাবাই মোদক দ্বিতীয় পথটির পক্ষে কাজ করেছিলেন।

আজ ভারত যখন foundational learning এবং early childhood education-কে শিক্ষার ভিত্তি হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন বহু দশক আগে একজন নারী শিক্ষাবিদের সেই চিন্তা নতুন তাৎপর্য পায়।

তিনি দেখিয়েছিলেন, শিক্ষার বড় পরিবর্তন সবসময় বড় ভবন বা বিশাল প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আসে না। কখনও কখনও পরিবর্তনের শুরু হয় একটি ছোট শিশুর চোখের দিকে তাকিয়ে একটি সহজ প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে—

“সে কীভাবে সবচেয়ে আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে?”

তারাবাই মোদকের শিক্ষাজীবন সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার এক দীর্ঘ, সাহসী এবং মানবিক প্রচেষ্টা। আর সেই কারণেই ভারতীয় শিশুশিক্ষার ইতিহাসে তাঁর নাম আজও বিশেষ শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হওয়ার যোগ্য।

তথ্যসূত্র: ভারতের শিক্ষা মন্ত্রকের National Curriculum Framework for Foundational Stage এবং National Curriculum Framework for School Education।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *