Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ড. সীমা রাও: সাহসের সীমা পেরিয়ে এক নারীর অসাধারণ অভিযান।

কিছু মানুষ জীবনের নিরাপদ পথ বেছে নেন। কেউ চিকিৎসক হন, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রশাসক। আবার এমন মানুষও আছেন, যাঁরা নিজের পেশাগত পরিচয়ের সীমানা অতিক্রম করে এমন একটি ক্ষেত্র বেছে নেন, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে থাকে ঝুঁকি, শারীরিক পরীক্ষা এবং মানসিক দৃঢ়তার প্রয়োজন।

ড. সীমা রাও এমনই এক বিরল চরিত্র।

তিনি চিকিৎসক হয়েও প্রচলিত চিকিৎসা পেশার গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখেননি। বরং ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী, আধাসামরিক বাহিনী ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের জন্য কমব্যাট ও ক্লোজ-কোয়ার্টার ব্যাটল বা CQB প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত হন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম তাঁকে দেশের প্রথম মহিলা কমান্ডো ট্রেনার হিসেবে পরিচয় দিয়েছে।

তাঁর জীবনের গল্প শুধু সাহসের নয়। এটি নিজের সীমাবদ্ধতাকে চ্যালেঞ্জ করা, প্রতিকূলতার মধ্যেও প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাওয়া এবং কোনও প্রত্যক্ষ আর্থিক পারিশ্রমিক ছাড়াই দীর্ঘদিন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকার গল্প।

দেশপ্রেমের গল্প থেকেই অনুপ্রেরণা

সীমা রাওয়ের জীবনে দেশসেবার ভাবনার সূচনা হয়েছিল পরিবার থেকেই।

তাঁর বাবা রামাকান্ত সিনারি স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবার কাছ থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের গল্প শুনে বড় হওয়া সীমার মনে দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছা তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীকালে তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাবার সংগ্রামের গল্প তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।

তবে তখনও তিনি জানতেন না যে তাঁর জীবনের পথ তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে।

তিনি চিকিৎসাবিদ্যা পড়েন এবং MBBS ডিগ্রি অর্জন করেন। অর্থাৎ তাঁর সামনে একটি সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশাগত জীবন বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল।

কিন্তু ভাগ্য তাঁকে নিয়ে গেল অন্য পথে।

চিকিৎসক থেকে কমব্যাট প্রশিক্ষক

সীমা রাওয়ের কমান্ডো প্রশিক্ষক হয়ে ওঠার গল্পটি প্রচলিত কোনও ক্যারিয়ার পরিকল্পনার ফল ছিল না।

স্বামীর সঙ্গে একবার একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা এবং মার্শাল আর্ট দক্ষতা নজরে আসে। তাঁকে পুলিশ বাহিনীর সামনে কিছু কমব্যাট দক্ষতার প্রদর্শন করতে বলা হয়।

সেই প্রদর্শনের পরই তাঁর জীবনের পথ বদলে যায়।

ধীরে ধীরে তিনি বিভিন্ন বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ পান। Indian Express-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি এবং তাঁর স্বামী মেজর দীপক রাও মিলে ১৫,০০০-এর বেশি কমান্ডোকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন। তাঁদের প্রশিক্ষণের সঙ্গে NSG Black Cats, Air Force GARUD এবং BSF-এর মতো বাহিনীর সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন।

একজন মহিলা চিকিৎসকের জন্য এটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন এক জগৎ।

কেন কমব্যাট প্রশিক্ষণ এত কঠিন?

ক্লোজ-কোয়ার্টার ব্যাটল বা CQB হল এমন এক ধরনের প্রশিক্ষণ, যেখানে খুব কাছাকাছি দূরত্বে বিপজ্জনক পরিস্থিতি মোকাবিলার কৌশল শেখানো হয়।

শহুরে সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, ভবনের ভিতরে অভিযান, দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং সীমিত জায়গায় প্রতিপক্ষকে মোকাবিলার মতো পরিস্থিতিতে এই ধরনের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব রয়েছে।

এই কাজের জন্য শুধু শারীরিক শক্তি যথেষ্ট নয়।

প্রয়োজন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, নিখুঁত প্রতিক্রিয়া, মানসিক স্থিরতা এবং দীর্ঘ প্রশিক্ষণের অভ্যাস।

সীমা রাও নিজেকে এই সমস্ত ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত করে তুলেছিলেন।

তিনি শুধু প্রশিক্ষক ছিলেন না; প্রশিক্ষণের নতুন পদ্ধতি শেখার জন্য নিজেও নিয়মিত প্রশিক্ষণ নিতেন।

নিজের ভয়কে জয় করার চেষ্টা

সীমা রাওয়ের জীবনকাহিনির একটি আকর্ষণীয় দিক হল—তিনি নিজেই নিজের ভয়কে একে একে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

তাঁর নিজের জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে, ছোটবেলায় তিনি নিজেকে খুব সাহসী মনে করতেন না। কিন্তু ভয়কে এড়িয়ে যাওয়ার বদলে তিনি ভয়ের মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

উচ্চতা নিয়ে ভয়?

তিনি পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেন।

জলের ভয়?

তিনি scuba diving শেখেন।

আগুনের ভয়?

তিনি firefighter training নেন।

জঙ্গলে একা থাকার ভয়?

তিনি jungle survival training-এর সঙ্গে যুক্ত হন।

এই মানসিকতাই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

তিনি যেন নিজেকেই বারবার প্রশ্ন করেছেন—

“আমি কি পারব?”

তারপর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন কাজের মাধ্যমে।

মার্শাল আর্টের কঠোর অনুশীলন

সীমা রাও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের martial arts এবং combat training-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

তিনি Bruce Lee-র Jeet Kune Do ধারার প্রশিক্ষণ নেন এবং close-combat training-এ দক্ষতা অর্জন করেন। পাশাপাশি Krav Maga-সহ বিভিন্ন combat discipline-এর সঙ্গেও তাঁর প্রশিক্ষণ যুক্ত ছিল।

তবে তাঁর কাছে মার্শাল আর্ট শুধুমাত্র লড়াই করার কৌশল ছিল না।

এটি ছিল শৃঙ্খলা, শরীরের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং আত্মবিশ্বাস তৈরির একটি পদ্ধতি।

একজন প্রশিক্ষক হিসেবে তিনি জানতেন—শুধু কৌশল শেখালে হবে না। প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে পরিস্থিতি বুঝে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তৈরি করতে হবে।

নারীর জন্য নতুন একটি পরিচয়

ভারতীয় সমাজে দীর্ঘদিন ধরে কিছু পেশাকে ‘পুরুষের কাজ’ বলে মনে করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী, পুলিশ, কমান্ডো, ফায়ার সার্ভিস কিংবা যুদ্ধ প্রশিক্ষণ—এই তালিকায় থাকা পেশাগুলিতে নারীর উপস্থিতি একসময় ছিল অত্যন্ত সীমিত।

সীমা রাও সেই ধারণার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন নিজের কাজ দিয়ে।

তিনি কোনও স্লোগান দিয়ে বলেননি যে নারীরাও পারবেন।

তিনি মাঠে গিয়ে কাজ করে দেখিয়েছেন।

পুরুষ কমান্ডোদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার সময় তাঁকে নিজের দক্ষতা দিয়ে সম্মান অর্জন করতে হয়েছে। তাঁর নিজের ভাষায়, এই জগতে গ্রহণযোগ্যতা অর্জনের জন্য তাঁকে নিয়মিত নিজের দক্ষতা উন্নত করতে হয়েছে।

এটাই তাঁর জীবনের অন্যতম বড় শিক্ষা।

যোগ্যতা যখন বাস্তবে প্রমাণিত হয়, তখন লিঙ্গের পরিচয় দ্বিতীয় হয়ে যায়।

বিনা পারিশ্রমিকে দীর্ঘ সেবা

সীমা রাওয়ের কর্মজীবনের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলির একটি হল তাঁর আর্থিক ত্যাগ।

Indian Express-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি ও তাঁর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিনিময়ে পারিশ্রমিক না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এর ফলে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনেও আর্থিক সংকট এসেছিল। এমনকি তাঁদের নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়েছিল এবং তাঁরা কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন।

একজন পেশাদার চিকিৎসক হিসেবে তিনি চাইলে সম্পূর্ণ অন্য জীবন বেছে নিতে পারতেন।

কিন্তু তাঁর কাছে দেশসেবার ধারণাটি এতটাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যে তিনি নিজের আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যকেও দ্বিতীয় স্থানে রেখেছিলেন।

এখানে তাঁর জীবন আমাদের একটি কঠিন প্রশ্নের সামনে দাঁড় করায়—

দেশের জন্য কাজ করা কি শুধু সরকারি চাকরির মাধ্যমেই সম্ভব?

সীমা রাওয়ের জীবন তার একটি ভিন্ন উত্তর দেয়।

প্রশিক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনা

কমান্ডো প্রশিক্ষণ কোনও নিরাপদ শারীরিক অনুশীলন নয়।

এই কাজ করতে গিয়ে সীমা রাও একাধিকবার গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।

Indian Express-এর প্রতিবেদনে তাঁর দুটি বড় দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—একটিতে তাঁর মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত লাগে এবং অন্য একটি দুর্ঘটনায় মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি স্মৃতিভ্রংশের সমস্যার মুখোমুখি হন।

এমন পরিস্থিতিতে একজন মানুষ স্বাভাবিকভাবেই পিছিয়ে যেতে পারেন।

তিনিও একসময় ভেবেছিলেন, এত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত কি না।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি থামেননি।

আবার প্রশিক্ষণে ফিরে আসেন।

এই প্রত্যাবর্তনই তাঁর মানসিক দৃঢ়তার সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলির একটি।

আঘাতের পর নতুন পথ

শারীরিক আঘাত তাঁকে একটি নতুন কাজের দিকে নিয়ে যায়—প্রশিক্ষণের কৌশল লিখে রাখা ও নথিবদ্ধ করা।

তিনি বুঝতে পারেন, একজন প্রশিক্ষকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা যদি লিখিতভাবে সংরক্ষিত না হয়, তাহলে তার একটি বড় অংশ হারিয়ে যেতে পারে।

তাই তিনি কমব্যাট প্রশিক্ষণ নিয়ে বই লিখতে শুরু করেন।

Indian Express-এর প্রতিবেদনে তাঁকে close-combat training-এর একটি বিশ্বকোষধর্মী গ্রন্থের লেখক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যা FBI ও INTERPOL-এর মতো প্রতিষ্ঠানের লাইব্রেরিতেও পৌঁছেছিল।

অর্থাৎ মাঠের অভিজ্ঞতা এবার বইয়ের পাতায় চলে এল।

শুধু সেনা নয়, পুলিশকেও প্রশিক্ষণ

তাঁর প্রশিক্ষণের পরিধি কেবল সামরিক বাহিনীর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না।

বিভিন্ন পুলিশ ইউনিট, বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদেরও তিনি প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। Femina-র প্রতিবেদনে Mumbai Police, NSG এবং Air Force GARUD-সহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই কাজের মাধ্যমে তিনি দেখিয়েছেন, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশিক্ষণের গুরুত্ব কতটা।

বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ ও নগর-নিরাপত্তার মতো জটিল পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত সদস্যদের দ্রুত এবং সমন্বিত প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সম্মান ও স্বীকৃতি

দীর্ঘ কর্মজীবনে সীমা রাও বহু সম্মান পেয়েছেন।

তাঁর সঙ্গে তিনটি Army Chief Citation-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে Nari Shakti Puraskar লাভ করেন। তাঁর সরকারি স্বীকৃতির তালিকায় বিভিন্ন প্রশংসাপত্র ও সম্মানের কথাও রয়েছে।

২০১৯ সালের Forbes India W-Power তালিকাতেও তাঁকে উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনও পুরস্কার নয়।

তাঁর পরিচয়—তিনি এমন একটি ক্ষেত্রে নারীর জন্য জায়গা তৈরি করেছিলেন, যেখানে নারীর উপস্থিতি দীর্ঘদিন বিরল ছিল।

নারী ক্ষমতায়নের এক অন্য ভাষা

নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে আমরা সাধারণত শিক্ষা, চাকরি, আর্থিক স্বাধীনতা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের কথা বলি।

সীমা রাও সেই তালিকায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ করেছেন—

শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতার ওপর নিজের অধিকার।

একজন নারী চাইলে নিজের শরীরকে শক্তিশালী করতে পারেন।

ঝুঁকিপূর্ণ প্রশিক্ষণ নিতে পারেন।

কঠিন পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দিতে পারেন।

এমনকি দেশের বিশেষ বাহিনীর সদস্যদেরও প্রশিক্ষণ দিতে পারেন।

এই বার্তাটি শুধু সামরিক ক্ষেত্রের নারীদের জন্য নয়; এটি সমাজের প্রতিটি মেয়ের জন্য আত্মবিশ্বাসের একটি ভাষা।

চিকিৎসক পরিচয়টিও হারিয়ে যায়নি

যদিও কমব্যাট প্রশিক্ষণই তাঁকে বেশি পরিচিত করেছে, তাঁর চিকিৎসক পরিচয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

একজন চিকিৎসক হিসেবে মানুষের শরীর ও মানসিকতার সীমা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল। সেই জ্ঞানকে তিনি শারীরিক প্রশিক্ষণ এবং মানবিক কর্মক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।

এখানেই তাঁর বহুমাত্রিক পরিচয়।

তিনি শুধু শক্তি প্রদর্শন করেননি; শক্তির পেছনে বিজ্ঞান ও প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও বুঝেছিলেন।

উত্তরাধিকার

সীমা রাওয়ের জীবনকে শুধু ‘একজন সাহসী মহিলার গল্প’ হিসেবে দেখলে তাঁর কাজের গভীরতা কিছুটা কমে যায়।

তিনি একটি পেশাগত ক্ষেত্রের সীমা ভেঙেছেন।

তিনি নারী ও পুরুষের কাজের প্রচলিত বিভাজনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

তিনি প্রশিক্ষণকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

তিনি নিজের অভিজ্ঞতাকে বইয়ে নথিবদ্ধ করেছেন।

তিনি দীর্ঘদিন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

এবং সবচেয়ে বড় কথা—তিনি দেখিয়েছেন, কোনও ক্ষেত্র যদি কঠিন হয়, তাহলে সেই কঠিনতাই একজন মানুষের সম্ভাবনার পরীক্ষা হতে পারে।

উপসংহার

ড. সীমা রাওয়ের জীবন এক অদ্ভুত সমন্বয়।

তিনি চিকিৎসক, আবার কমব্যাট প্রশিক্ষক।

তিনি লেখক, আবার মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক।

তিনি একজন নারী, কিন্তু এমন একটি ক্ষেত্রে কাজ করেছেন যেখানে শক্তি ও সাহসকে দীর্ঘদিন পুরুষের বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখা হয়েছে।

তাঁর জীবনে এসেছে আর্থিক সংকট, শারীরিক আঘাত, কঠিন প্রশিক্ষণ এবং অসংখ্য চ্যালেঞ্জ। তবু তিনি পিছিয়ে যাননি। বরং প্রতিটি বাধাকে নিজের পরবর্তী শিক্ষার অংশ করে নিয়েছেন।

তাঁর গল্পের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই—

সাহস মানে ভয় না থাকা নয়। ভয়কে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার নাম সাহস।

আর সীমা রাওয়ের জীবন যেন সেই কথাটিই বারবার বলে—

“নিজের সীমা কোথায়, তা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে না; সেই সীমা কোথায় শেষ হবে, তা ঠিক করার অধিকার নিজের।”

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *