একটি শিশু স্কুলে যাচ্ছে—এই তথ্যটি শুনলেই কি বলা যায় যে তার শিক্ষা সম্পূর্ণ হচ্ছে?
ড. রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ আমাদের এই সহজ প্রশ্নটির সামনে দাঁড় করায়। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল—শুধু স্কুলে ভর্তি হওয়া যথেষ্ট নয়, শিশু স্কুলে গিয়ে কী শিখছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতের প্রাথমিক শিক্ষার বাস্তব চিত্র বোঝার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণা, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, শিক্ষক, অভিভাবক ও সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ—সবকিছুকে একত্র করে তিনি শিক্ষার সমস্যাকে দেখেছেন অন্যভাবে।
তিনি প্রায় তিন দশক ধরে Pratham Education Foundation-এর সঙ্গে যুক্ত। ২০১৫ সালে তিনি সংস্থাটির CEO হন এবং ২০২৬ সাল পর্যন্ত সেই দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি Pratham-এর Senior Advisor হিসেবে কাজ করছেন।
তাঁর কাজের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সরল কিন্তু গভীর লক্ষ্য—
“Every child in school and learning well.”
অর্থাৎ, প্রতিটি শিশু স্কুলে থাকবে এবং ভালোভাবে শিখবে।
শিক্ষার প্রশ্নকে অন্যভাবে দেখা
ভারতে বহু বছর ধরে শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি বড় লক্ষ্য ছিল—যত বেশি সম্ভব শিশুকে স্কুলে নিয়ে আসা।
স্কুলে ভর্তি, উপস্থিতি, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো—সবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহকর্মীরা আরও একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আনেন।
স্কুলে থাকা শিশুরা কি সত্যিই পড়তে পারছে?
তারা কি একটি সাধারণ বাক্য পড়তে পারছে?
তারা কি প্রাথমিক গণিত করতে পারছে?
তারা কি শ্রেণির উপযুক্ত মৌলিক দক্ষতা অর্জন করছে?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গিয়ে তৈরি হয় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ—Annual Status of Education Report বা ASER।
ASER: শিক্ষার বাস্তব চিত্র বোঝার একটি বড় উদ্যোগ
২০০৫ সালে রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহকর্মীরা ASER-এর কাজ শুরু করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল ভারতের গ্রামীণ শিশুদের স্কুলে যাওয়া এবং তাদের মৌলিক শেখার স্তর সম্পর্কে বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করা।
ASER-এর বিশেষত্ব ছিল এর পদ্ধতিতে।
এটি শুধু স্কুলের নথি দেখে শিক্ষার অবস্থা বোঝার চেষ্টা করেনি। বাড়ি-বাড়ি গিয়ে শিশুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা এবং তাদের মৌলিক পড়া ও গণিতের দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে বাস্তব চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক এই ধরনের সমীক্ষায় অংশ নেন। Yidan Prize-এর তথ্য অনুযায়ী, ASER-এর মাধ্যমে প্রায় ৬ লক্ষ শিশুর মূল্যায়ন করা হয়েছে এবং এই মডেল পরবর্তীকালে আরও বহু দেশ গ্রহণ করেছে।
এই কাজ শিক্ষার আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছিল।
প্রশ্নটি আর শুধু ছিল না—
“কতজন শিশু স্কুলে যাচ্ছে?”
প্রশ্নটি হয়ে উঠল—
“কতজন শিশু সত্যিই শিখছে?”
সংখ্যার বাইরে শিক্ষার বাস্তবতা
শিক্ষাক্ষেত্রে পরিসংখ্যান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শুধু সংখ্যা দিয়ে একটি শিশুর শিক্ষাজীবন বোঝা যায় না।
একটি শিশু হয়তো তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ছে। কিন্তু তার পড়ার দক্ষতা হয়তো দ্বিতীয় শ্রেণির স্তরেও পৌঁছয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে তাকে শুধু শ্রেণি অনুযায়ী এগিয়ে নিয়ে গেলে সমস্যাটি থেকে যায়।
রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের একটি বড় শিক্ষা হল—শিশুকে তার বয়স বা শ্রেণির পরিচয় দিয়ে নয়, তার বর্তমান শেখার অবস্থান দিয়ে বুঝতে হবে।
এই ধারণা থেকেই আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপদ্ধতি সামনে আসে।
‘Teaching at the Right Level’
Pratham-এর সঙ্গে যুক্ত গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের কাজ থেকে বিকশিত হয় ‘Teaching at the Right Level’ বা TaRL পদ্ধতি।
এর মূল ধারণা খুব সহজ।
একই শ্রেণিতে থাকা সব শিশুর শেখার স্তর এক নয়। তাই সবাইকে একইভাবে পড়ানো সবসময় কার্যকর নাও হতে পারে।
শিশুরা যে স্তরে রয়েছে, প্রথমে সেই স্তরটি বোঝা দরকার। তারপর তাদের উপযুক্ত শিক্ষণপদ্ধতি, অনুশীলন ও উপকরণ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
অর্থাৎ—
শ্রেণির স্তর নয়, শিশুর শেখার স্তরকে গুরুত্ব দেওয়া।
এই ধারণা প্রাথমিক শিক্ষায় একটি বড় পরিবর্তনের কথা বলে।
একজন শিশুকে ‘পিছিয়ে পড়া’ বলে ছেড়ে দেওয়া নয়
শিক্ষাব্যবস্থায় কখনও কখনও কোনও শিশু নির্দিষ্ট শ্রেণির পাঠ বুঝতে না পারলে তাকে ‘দুর্বল’ বলে চিহ্নিত করা হয়।
কিন্তু TaRL-এর দর্শন অন্য কথা বলে।
শিশু হয়তো পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সে শিখতে পারবে না।
প্রথমে জানতে হবে সে কোথায় আটকে আছে।
তারপর সেই জায়গা থেকেই তাকে শেখাতে হবে।
এই পদ্ধতিতে পড়াশোনার লক্ষ্য হয়ে ওঠে বাস্তব দক্ষতা অর্জন।
একটি শিশু যদি পড়তে না পারে, তাহলে তাকে আরও কঠিন পাঠ্যবই দেওয়ার বদলে প্রথমে পড়ার ভিত্তি শক্ত করা দরকার।
একইভাবে গণিতে সমস্যা হলে প্রথমে মৌলিক সংখ্যা ও হিসাবের ধারণা পরিষ্কার করা দরকার।
এই সরল যুক্তিই বৃহৎ আকারের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
গবেষণার সঙ্গে মাঠের বাস্তবতার যোগ
রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের অন্যতম বিশেষত্ব হল গবেষণা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে সংযোগ তৈরি করা।
তিনি শুধু গবেষণাপত্র লিখে সমস্যার কথা বলেননি। শিশু, পরিবার, শিক্ষক, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে সমস্যার কারণ বোঝার চেষ্টা করেছেন।
Pratham-এর ইতিহাস অনুযায়ী, রুক্মিণী ১৯৯৬ সালে সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত হন। মুম্বইয়ের বস্তি এলাকায় শিশুদের শিক্ষা ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কাজের অভিজ্ঞতাও তাঁর পরবর্তী চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই অভিজ্ঞতা তাঁকে বুঝতে সাহায্য করে যে শিক্ষা কেবল শ্রেণিকক্ষের বিষয় নয়।
একটি শিশুর পড়াশোনার সঙ্গে পরিবার, সমাজ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভাষা এবং স্থানীয় পরিবেশ—সবকিছু জড়িত।
মেয়েদের শিক্ষার প্রশ্ন
শিক্ষার ক্ষেত্রে রুক্মিণীর কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পিছিয়ে পড়া শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের কাছে পৌঁছনো।
Pratham-এর বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে স্কুলছুট মেয়ে ও নারীদের আবার শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগও রয়েছে। ২০১১–১২ সময়কালে ‘Second Chance’ নামে একটি কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, যার মাধ্যমে স্কুল ছেড়ে দেওয়া মেয়েদের ও নারীদের দশম শ্রেণির সমমানের শিক্ষা সম্পূর্ণ করার সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
এখানে শিক্ষাকে শুধু চাকরি পাওয়ার উপায় হিসেবে দেখা হয় না।
শিক্ষা মানে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং ভবিষ্যৎ নির্মাণের সুযোগ।
গ্রাম থেকে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়া ধারণা
রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রভাব ভারতের সীমানার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
ASER-এর ধারণা এবং TaRL পদ্ধতি বিভিন্ন দেশে অভিযোজিত হয়েছে। Yidan Prize-এর তথ্য অনুযায়ী, ASER-এর মতো শিক্ষামূল্যায়ন পদ্ধতি ১৫টি দেশ গ্রহণ করেছে এবং TaRL দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারান আফ্রিকার বিভিন্ন অঞ্চলেও ছড়িয়েছে।
এখানেই তাঁর কাজের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব।
ভারতের গ্রামীণ বাস্তবতা থেকে উঠে আসা একটি ধারণা অন্য দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সমস্যার সমাধানেও ব্যবহারযোগ্য হয়ে উঠেছে।
অর্থাৎ স্থানীয় অভিজ্ঞতা থেকেই তৈরি হতে পারে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর শিক্ষামডেল।
২০২১ সালের Yidan Prize
রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।
২০২১ সালে তিনি Yidan Prize for Education Development লাভ করেন। পুরস্কারটির স্বীকৃতি ছিল শিক্ষার মান উন্নত করা, শিশুদের শেখার ফলাফল বাড়ানো এবং বৃহৎ পরিসরে কার্যকর শিক্ষাপদ্ধতি তৈরি করার ক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য।
এই স্বীকৃতি শুধু একজন ব্যক্তির পুরস্কার ছিল না।
এটি এমন একটি ভাবনার স্বীকৃতি, যেখানে শিক্ষার সাফল্যকে শুধু স্কুলে ভর্তি বা পরীক্ষার নম্বর দিয়ে বিচার না করে শিশুর বাস্তব শেখার ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
কোভিডের সময়ও শিক্ষার প্রশ্ন
কোভিড-১৯ মহামারির সময় স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিশুদের শিক্ষায় বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছিল।
এই সময়ও রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায় শিশুদের শেখার ক্ষতি, বাড়িতে শিক্ষার পরিবেশ এবং স্কুল পুনরায় খোলার পর শিক্ষাব্যবস্থার করণীয় নিয়ে কাজ করেছেন।
Pratham-এর উদ্যোগে মহামারির সময় ডিজিটাল ও মেসেজভিত্তিক শিক্ষাসামগ্রীও তৈরি ও বিতরণ করা হয়েছিল, যাতে স্কুল বন্ধ থাকলেও শিশুদের শেখার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় থাকে।
এই সময় আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে—শিক্ষা শুধু বিদ্যালয়ের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ছোট শিশুর শিক্ষার গুরুত্ব
রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হল early childhood education বা শৈশবের প্রাথমিক শিক্ষা।
কারণ শিশুর শিক্ষার ভিত্তি তৈরি হয় স্কুলের অনেক আগেই।
ভাষা, সংখ্যা, গল্প, খেলাধুলা, সামাজিক যোগাযোগ, কৌতূহল—এই সমস্ত অভিজ্ঞতা পরবর্তী শিক্ষাজীবনের ভিত তৈরি করে।
Pratham-এর ‘Leap Forward’ উদ্যোগের মাধ্যমে ছোট শিশুদের প্রাথমিক শেখার পরিবেশ উন্নত করা, অভিভাবকদের যুক্ত করা এবং স্থানীয় ভাষায় শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এখানেও মূল দর্শন একই—
শিশু কী জানে এবং কীভাবে শেখে, সেখান থেকেই শিক্ষার শুরু।
একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় বার্তা
রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের মধ্যে একটি বিষয় বারবার ফিরে আসে—শিশুকে বোঝার চেষ্টা।
একজন শিক্ষক যদি শুধু বই শেষ করার দিকে তাকান, তাহলে হয়তো পাঠ্যসূচি শেষ হবে।
কিন্তু শিশুর শেখা নিশ্চিত হবে কি?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে শিশুর কাছে যেতে হবে।
তার কথা শুনতে হবে।
সে কী জানে, কী জানে না, কোথায় সমস্যায় পড়ছে—তা বুঝতে হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার বড় সংস্কার অনেক সময় খুব বড় কোনও প্রযুক্তি দিয়ে শুরু হয় না।
কখনও তা শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন দিয়ে—
“এই শিশুটি কি সত্যিই পড়তে পারছে?”
রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায় সেই প্রশ্নটিকেই বড় করে তুলেছেন।
উপসংহার
ড. রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের জীবন ও কাজ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য শুধু শিশুকে স্কুলে পৌঁছে দেওয়া নয়।
শিক্ষার আসল সাফল্য তখনই, যখন শিশু বুঝতে শেখে, পড়তে শেখে, প্রশ্ন করতে শেখে, নিজের ক্ষমতার ওপর বিশ্বাস করতে শেখে।
তিনি গবেষণাকে মাঠের বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তথ্যকে নীতিনির্ধারণের কাজে ব্যবহার করেছেন। শিক্ষক ও সম্প্রদায়কে শিক্ষার পরিবর্তনের অংশ করেছেন। আর সবচেয়ে বড় কথা, তিনি শিক্ষার আলোচনায় শিশুর বাস্তব শেখাকে কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন।
২০২১ সালের Yidan Prize তাঁর কাজকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু তাঁর কাজের প্রকৃত মূল্য হয়তো কোনও পুরস্কারে মাপা যায় না।
যে শিশু প্রথমবার নিজের হাতে একটি বাক্য পড়তে পারে—
যে শিশু প্রথমবার একটি অঙ্ক নিজে সমাধান করতে পারে—
যে অভিভাবক বুঝতে পারেন তাঁর সন্তান শুধু স্কুলে যাচ্ছে না, সত্যিই শিখছে—
সেখানেই রুক্মিণী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের আসল সার্থকতা।
কারণ তাঁর দর্শনের কেন্দ্রে রয়েছে একটি সহজ অথচ শক্তিশালী বিশ্বাস—
প্রতিটি শিশুর শেখার অধিকার আছে। আর সেই অধিকারকে বাস্তবে পরিণত করাই শিক্ষার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।