Categories
গল্প নারী কথা বিবিধ

যে মেয়েটি গ্রামের হারিয়ে যাওয়া ভাষাকে নতুন জীবন দিয়েছিল।

১. নিজের ভাষা নিয়ে লজ্জা

পূর্ব মেদিনীপুরের ছোট্ট গ্রাম শিউলিবাড়ি। গ্রামের পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে সরু পাকা রাস্তা, তার একদিকে ধানখেত, অন্যদিকে মাছের ভেড়ি। গ্রামের মানুষের কথাবার্তায় মিশে ছিল এমন কিছু শব্দ, যা পাশের শহরের মানুষ খুব একটা বুঝতে পারত না।

শিউলিবাড়ির মেয়ে মৃন্ময়ী একাদশ শ্রেণিতে পড়ত। পড়াশোনায় ভালো, নতুন কিছু জানতে আগ্রহী। কিন্তু তার একটা অভ্যাস ছিল—স্কুলে গেলেই সে নিজের গ্রামের কথ্য ভাষা লুকিয়ে রাখত।

গ্রামের বাড়িতে সে যেভাবে কথা বলত, স্কুলে বন্ধুদের সামনে সেভাবে বলত না। তার মনে হতো, গ্রামের টানযুক্ত উচ্চারণ শুনে কেউ যদি হাসে!

একদিন বাংলা ক্লাসে শিক্ষক একটি রচনা লিখতে দিলেন—‘আমার এলাকার ভাষা ও সংস্কৃতি’।

সবাই খাতা খুলে লিখতে শুরু করল। মৃন্ময়ীও লিখল। কিন্তু নিজের গ্রামের কথ্য শব্দগুলোর কথা লিখতে গিয়ে সে থেমে গেল। মনে হলো, ওই শব্দগুলো লিখলে সহপাঠীরা হয়তো আবার হাসাহাসি করবে।

সেদিন বাড়ি ফিরে তার মন খারাপ দেখে ঠাকুমা জিজ্ঞেস করলেন, “কী হয়েছে রে? মুখখানা এমন শুকনো কেন?”

মৃন্ময়ী বলল, “ঠাকুমা, আমাদের গ্রামের ভাষাটা কি সত্যিই খারাপ? শহরের বন্ধুরা আমাদের কথার টান শুনে হাসে।”

ঠাকুমা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “যে ভাষায় মানুষ মায়ের কাছে আবদার করে, যে ভাষায় দুঃখের কথা বলে, যে ভাষায় মাঠে কাজ করতে করতে হাসে—সেই ভাষা খারাপ হয় কী করে?”

মৃন্ময়ী উত্তর দিল না।

ঠাকুমা আবার বললেন, “তবে একটা কথা মনে রাখিস, ভাষা শুধু কথা বলার জন্য নয়। ভাষার মধ্যে মানুষের জীবন জমা থাকে। অনেক শব্দ হারিয়ে গেলে সেই জীবনের কিছু গল্পও হারিয়ে যায়।”

কথাটা মৃন্ময়ীর মনে গেঁথে গেল।

২. একটি অদ্ভুত শব্দের খোঁজ

পরদিন সকালে মৃন্ময়ী তার ঠাকুমার সঙ্গে উঠোনে বসে শাক বাছছিল। হঠাৎ ঠাকুমা বললেন, “ওই ডালাটা একটু এগিয়ে দে।”

মৃন্ময়ী ডালা এগিয়ে দিল। তারপর হঠাৎ প্রশ্ন করল, “ঠাকুমা, তুমি ছোটবেলায় এই ডালাকে কী বলতে?”

ঠাকুমা হেসে বললেন, “আমাদের বাড়িতে একে ‘খরলি’ বলত। তবে পাশের গ্রামে আবার অন্য নাম ছিল।”

“আর কী কী শব্দ তোমরা বলতে, যেগুলো এখন আর কেউ বলে না?”

ঠাকুমা ভাবতে লাগলেন। কখনও একটা শব্দ মনে পড়ল, কখনও আরেকটা। কোনও শব্দ ছিল পুরোনো কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত, কোনওটি মাছ ধরার সরঞ্জামের নাম, কোনওটি আবার নির্দিষ্ট আবহাওয়া বোঝাতে ব্যবহার করা হতো।

মৃন্ময়ী অবাক হয়ে গেল। সে বুঝতে পারল, তাদের গ্রামের কথ্য ভাষায় এমন অনেক শব্দ আছে, যেগুলো বইয়ের পাতায় পাওয়া যায় না।

সেদিনই সে একটি পুরোনো খাতা বের করল। প্রথম পাতায় লিখল—

‘শিউলিবাড়ির কথার খাতা: আমাদের মুখের ভাষা, আমাদের পরিচয়।’

তারপর ঠিক করল, গ্রামের মানুষের মুখে মুখে প্রচলিত পুরোনো শব্দগুলো সংগ্রহ করবে। শুধু শব্দ লিখলেই হবে না, সেগুলোর অর্থ, ব্যবহারের সময় এবং পেছনের গল্পও জানতে হবে।

৩. শব্দ সংগ্রহের অভিযান

মৃন্ময়ী প্রথমে গেল গ্রামের প্রবীণ কৃষক হরিপদ কাকার কাছে। তিনি বহু বছর ধরে চাষের কাজ করছেন।

মৃন্ময়ী জিজ্ঞেস করল, “কাকা, আগে মাঠে কাজ করার সময় তোমরা এমন কী শব্দ ব্যবহার করতে, যা এখনকার ছেলেমেয়েরা জানে না?”

হরিপদ কাকা প্রথমে হেসে বললেন, “এসব আবার লিখে কী হবে?”

“একদিন যদি কেউ আর এই শব্দগুলো না জানে, তখন কী হবে?”

প্রশ্নটা শুনে কাকা একটু গম্ভীর হলেন। তারপর ধীরে ধীরে কয়েকটি শব্দের কথা বললেন। কোনওটি ছিল জমির বিশেষ অবস্থার নাম, কোনওটি ছিল কৃষিকাজের পুরোনো পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত। প্রতিটি শব্দের সঙ্গে তিনি একটি করে অভিজ্ঞতার গল্পও শোনালেন।

পরের দিন মৃন্ময়ী গেল গ্রামের জাল বোনার কারিগর নিতাই দাসের কাছে। তাঁর কাজের সরঞ্জামগুলোর বেশ কিছু স্থানীয় নাম ছিল। মৃন্ময়ী প্রতিটি নাম লিখে নিল এবং পাশে ছোট্ট ছবি আঁকল, যাতে শব্দগুলোর অর্থ সহজে বোঝা যায়।

এরপর সে কথা বলল বাজারের সবজি বিক্রেতা, মাটির কাজ করা কারিগর, নৌকা চালানো মানুষ এবং গ্রামের গৃহবধূদের সঙ্গে।

কেউ তাকে একটি শব্দ শেখালেন, কেউ আবার মনে করিয়ে দিলেন ছোটবেলার কোনও প্রবাদ। একজন জানালেন, তাঁদের বাড়িতে বৃষ্টির আগে আকাশের বিশেষ রং বোঝাতে একটি আলাদা শব্দ ব্যবহার করা হতো। অন্য একজন শোনালেন, কোনও কাজ খুব ধীরে করলে তাঁদের অঞ্চলে কীভাবে মজার ছলে মন্তব্য করা হয়।

খাতার পাতা ভরে উঠতে লাগল।

কিন্তু সবকিছু সহজ ছিল না। অনেকেই বলতেন, “এসব পুরোনো কথা লিখে কী হবে? এখন তো সবাই সাধারণ বাংলা বলে।”

কেউ কেউ আবার শব্দ মনে করতে পারতেন না। মৃন্ময়ী একই শব্দ সম্পর্কে তিনজনের কাছে জানতে গিয়ে তিন রকম ব্যাখ্যা পেল। তখন সে বুঝল, শুধু শুনে লিখলেই চলবে না। কোনও শব্দের ব্যবহার একেক পরিবারে বা একেক পাড়ায় আলাদা হতে পারে। তাই সে পাশে লিখতে শুরু করল—কে শব্দটি বলেছেন, কোন পরিস্থিতিতে ব্যবহার করেছেন এবং অন্য কারও কাছে তার ভিন্ন অর্থ পাওয়া গিয়েছে কি না।

তার কাজটা ধীরে ধীরে একটি ছোট গবেষণার মতো হয়ে উঠল।

৪. স্কুলে হাসির শব্দ

একদিন স্কুলের বাংলা শিক্ষক অরিন্দমবাবু খেয়াল করলেন, মৃন্ময়ী বিরতির সময়ও খাতায় কিছু লিখছে।

তিনি কাছে এসে জানতে চাইলেন, “কী নিয়ে এত ব্যস্ত?”

মৃন্ময়ী ইতস্তত করে খাতাটি এগিয়ে দিল।

অরিন্দমবাবু কয়েকটি পাতা পড়লেন। তারপর বললেন, “এ তো দারুণ কাজ! তুমি কি জানো, কোনও অঞ্চলের নিজস্ব কথ্য ভাষাকে ভাষাবিজ্ঞানে উপভাষা বা আঞ্চলিক ভাষার রূপ হিসেবে আলোচনা করা হয়? এগুলোর শব্দভান্ডার সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ।”

মৃন্ময়ীর চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।

শিক্ষক প্রস্তাব দিলেন, স্কুলের বার্ষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সে তার কাজটি উপস্থাপন করতে পারে।

কিন্তু খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই কয়েকজন সহপাঠী ঠাট্টা শুরু করল।

একজন বলল, “তাহলে এবার আমাদের গ্রামের ভুল বাংলা শেখানো হবে?”

আরেকজন হেসে বলল, “এই সব শব্দ দিয়ে আবার প্রদর্শনী হবে নাকি?”

মৃন্ময়ীর মুখ লাল হয়ে গেল। সে খাতা বন্ধ করে ফেলল। সেদিন বাড়ি ফিরে সে সিদ্ধান্ত নিল, আর এই কাজ করবে না।

তার মনে হলো, যে ভাষাকে নিয়ে সে নিজেই একসময় লজ্জা পেত, সেই ভাষাকে সবার সামনে তুলে ধরার সাহস তার নেই।

রাতে ঠাকুমা তাকে চুপচাপ বসে থাকতে দেখে পাশে এলেন।

“কী হয়েছে?”

মৃন্ময়ী সব খুলে বলল।

ঠাকুমা মন দিয়ে শুনলেন। তারপর বললেন, “মানুষ নতুন কিছু বুঝতে না পারলে অনেক সময় হাসে। কিন্তু সেই হাসির ভয়ে যদি তুই নিজের কাজ ছেড়ে দিস, তাহলে যারা তোকে শব্দগুলো শিখিয়েছে, তাদের স্মৃতিগুলো কোথায় থাকবে?”

মৃন্ময়ী মাথা তুলল।

ঠাকুমা বললেন, “তুই কাউকে প্রমাণ করতে যাস না যে আমাদের ভাষা অন্য ভাষার চেয়ে বড়। শুধু দেখাস, আমাদের ভাষারও একটা ইতিহাস আছে, সৌন্দর্য আছে, মানুষের জীবনের গল্প আছে।”

সেই রাতে মৃন্ময়ী আবার খাতাটি খুলল।

৫. শব্দের প্রদর্শনী

পরবর্তী এক মাস মৃন্ময়ী আরও যত্ন নিয়ে কাজ করল। সে শব্দগুলোকে কয়েকটি ভাগে সাজাল—কৃষিকাজ, মাছ ধরা, গৃহস্থালি, আবহাওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক, প্রবাদ ও দৈনন্দিন কথাবার্তা।

প্রতিটি শব্দের পাশে সে লিখল সহজ বাংলা অর্থ। কোথাও ব্যবহারিক উদাহরণ দিল, কোথাও শব্দটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের স্মৃতি লিখল। একই শব্দের একাধিক রূপ পাওয়া গেলে সেগুলোও আলাদা করে রাখল।

তারপর সে গ্রামের কয়েকজনকে নিয়ে একটি ছোট্ট শব্দ-আলোচনা সভা করল। সেখানে এক ব্যক্তি অন্যজনের বলা শব্দের সঙ্গে দ্বিমত করলেন। কিন্তু তর্কের বদলে তাঁরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন। শেষে বোঝা গেল, অনেক শব্দের অর্থ স্থানভেদে বদলে যায়।

মৃন্ময়ী বুঝল, এটাই তার কাজের সবচেয়ে মূল্যবান দিক। সে কোনও শব্দকে একমাত্র সঠিক বলে ঘোষণা করছে না; বরং গ্রামের মানুষের মুখে প্রচলিত বিভিন্ন রূপকে সম্মানের সঙ্গে নথিবদ্ধ করছে।

বার্ষিক অনুষ্ঠানের দিন স্কুলের একটি ঘরে তার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা হলো। দেওয়ালে বড় অক্ষরে লেখা—

‘আমাদের মুখের ভাষা—আমাদের জীবনের ইতিহাস।’

টেবিলের উপর রাখা হলো খাতা, হাতে আঁকা ছবি, শব্দের তালিকা এবং ছোট ছোট ব্যাখ্যা। গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ মানুষও এলেন। তাঁরা নিজেরাই দর্শকদের কিছু শব্দের অর্থ বুঝিয়ে দিলেন।

প্রথমে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী দূর থেকে দেখছিল। তারপর এক মেয়ে এগিয়ে এসে বলল, “এই শব্দটা আমার ঠাকুরদাও বলেন! আমি ভাবতাম, এটা শুধু আমাদের বাড়ির কথা।”

আরেকজন বলল, “আমাদের বাড়িতে এই শব্দের একটু অন্য রকম উচ্চারণ হয়।”

মৃন্ময়ী হাসল। “সেটাও লিখে রাখি। তোমার বাড়িতে কীভাবে বলা হয়, আমাকে বোলো।”

কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রদর্শনীর সামনে ভিড় জমে গেল। শিক্ষকরা প্রশ্ন করলেন, ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের পরিবারের শব্দ জানাল, আর প্রবীণ মানুষরা পুরোনো দিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন।

যে শব্দগুলোকে নিয়ে একদিন হাসাহাসি হয়েছিল, সেই শব্দগুলোই সেদিন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠল।

৬. ভাষার নতুন ঠিকানা

অনুষ্ঠানের শেষে অরিন্দমবাবু মৃন্ময়ীকে বললেন, “তুমি শুধু শব্দ সংগ্রহ করোনি। তুমি মানুষকে তাদের নিজেদের কথাবার্তার দিকে নতুন করে তাকাতে শিখিয়েছ।”

স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রস্তাব দিলেন, কাজটি আরও বিস্তৃত করে একটি ছোট পুস্তিকা তৈরি করা হোক। তবে তার আগে প্রতিটি শব্দের ব্যবহার ও বানান নিয়ে সংশ্লিষ্ট মানুষের সঙ্গে আবার আলোচনা করতে হবে। কারণ কথ্য ভাষাকে লিখিত রূপ দেওয়ার সময় সতর্ক থাকা জরুরি।

মৃন্ময়ী আনন্দের সঙ্গে কাজ শুরু করল। তার বন্ধুরাও এবার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল। কেউ শব্দ লিখল, কেউ ছবি আঁকল, কেউ আবার নিজের বাড়ির প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে নতুন শব্দ সংগ্রহ করল।

কয়েক মাস পরে প্রকাশিত হলো পুস্তিকা—‘শিউলিবাড়ির মুখের কথা’।

পুস্তিকার প্রথম পাতায় মৃন্ময়ী লিখেছিল—

“এই সংকলন কোনও পূর্ণাঙ্গ অভিধান নয়। এটি আমাদের গ্রামের মানুষের মুখে শোনা শব্দ, তাদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির একটি ছোট্ট সংগ্রহ। একই শব্দের ভিন্ন ব্যবহার থাকতে পারে। আমরা চাই, আগামী প্রজন্ম এই শব্দগুলো চিনুক, জানুক এবং নিজেদের ভাষার বৈচিত্র্যকে সম্মান করুক।”

পুস্তিকার কয়েকটি কপি গ্রামের স্কুল, পাঠাগার এবং স্থানীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হাতে তুলে দেওয়া হলো। পরে গ্রামের আরও মানুষ নিজেদের জানা শব্দ ও প্রবাদ জানাতে শুরু করলেন। মৃন্ময়ী সেগুলোও যাচাই করে পরবর্তী সংস্করণের জন্য লিখে রাখতে লাগল।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটি ঘটল তার নিজের মধ্যে।

এখন স্কুলে বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলার সময় সে আর গ্রামের উচ্চারণ লুকিয়ে রাখত না। তবে সে এটাও বুঝেছিল যে, প্রত্যেক পরিস্থিতিতে ভাষার রীতি আলাদা হতে পারে। আনুষ্ঠানিক লেখায় প্রমিত বাংলা ব্যবহার করা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই আঞ্চলিক ভাষার নিজস্ব মূল্যও রয়েছে।

একদিন ঠাকুমা পুস্তিকাটি হাতে নিয়ে বললেন, “তুই তো আমাদের কথাগুলোকে কাগজে রেখে দিলি!”

মৃন্ময়ী হেসে উত্তর দিল, “আমি একা রাখিনি, ঠাকুমা। তোমরা সবাই মিলে রেখেছ।”

ঠাকুমা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

বাইরে তখন সন্ধ্যা নামছে। উঠোনে বসে কয়েকজন প্রতিবেশী নিজেদের মতো করে গল্প করছেন। তাঁদের কথার টান, শব্দের ভঙ্গি, হাসির মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে বহু প্রজন্মের অভিজ্ঞতা।

মৃন্ময়ী জানত, একটি পুস্তিকা প্রকাশ করলেই কোনও ভাষা চিরদিন বেঁচে থাকবে না। ভাষা বেঁচে থাকে মানুষের মুখে, দৈনন্দিন ব্যবহারে, নতুন প্রজন্মের আগ্রহে। তাই তার কাজ শেষ হয়নি; বরং শুরু হয়েছে।

সে খাতার শেষ পাতায় লিখল—

“যে ভাষাকে আমরা ছোট বলে ভুলে যাই, সেই ভাষার মধ্যেই লুকিয়ে থাকতে পারে আমাদের শিকড়ের পরিচয়। নিজের ভাষাকে ভালোবাসা মানে অন্য ভাষাকে ছোট করা নয়; বরং প্রতিটি ভাষার মর্যাদা বুঝতে শেখা।”

তারপর খাতাটি বন্ধ করে সে উঠোনে চলে গেল।

আজ তার আর নিজের গ্রামের কথার টান নিয়ে লজ্জা লাগছিল না। কারণ সে বুঝে গিয়েছিল, ভাষার সৌন্দর্য শুধু তার শুদ্ধ উচ্চারণে নয়—তার মধ্যে বেঁচে থাকা মানুষের গল্পেও।

সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *