Categories
গল্প বিবিধ

শেষ ট্রেনের যাত্রীর জন্য যে মেয়েটি অপেক্ষা করেছিল।

১. স্টেশনের শেষ বেঞ্চ

ছোট্ট শহর শালবনীর প্রান্তে ছিল একটি পুরোনো রেলস্টেশন। স্টেশনটির নাম ছিল শালবনী রোড। দিনে কয়েকটি লোকাল ট্রেন সেখানে থামত। সকালবেলায় অফিসযাত্রীদের ভিড়, দুপুরে প্রায় ফাঁকা প্ল্যাটফর্ম, আর সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার মানুষের ব্যস্ততা—এই ছিল স্টেশনটির পরিচিত ছবি।

স্টেশনের তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মে একটি কাঠের বেঞ্চ ছিল। রং উঠে গিয়েছিল, এক পাশে সামান্য ফাটলও ধরেছিল। তবু বেঞ্চটি ছিল মায়া নামের এক তরুণীর কাছে বিশেষ প্রিয়।

মায়ার বাবা রেলওয়েতে কাজ করতেন। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে স্টেশনে আসার অভ্যাস ছিল তার। বাবা ট্রেনের সময়সূচি দেখাতেন, সিগন্যালের অর্থ বোঝাতেন, আর বলতেন, “রেলস্টেশন শুধু মানুষকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যায় না, মায়া। কত মানুষের গল্প এখানে এসে মিলিত হয়, আবার আলাদা হয়ে যায়।”

বাবা অবসর নেওয়ার পরও মায়া মাঝেমধ্যে স্টেশনে আসত। সে এখন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে পড়াত। স্কুল ছুটির পরে কখনও ট্রেন ধরত, কখনও শুধু প্ল্যাটফর্মে বসে মানুষের যাতায়াত দেখত।

একদিন বর্ষার সন্ধ্যায় সে বেঞ্চটির কাছে এক বৃদ্ধকে বসে থাকতে দেখল। তাঁর পরনে ধূসর পাঞ্জাবি, হাতে পুরোনো চামড়ার ব্যাগ। বারবার ঘড়ি দেখছিলেন তিনি।

মায়া কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, “কাউকে খুঁজছেন, কাকু?”

বৃদ্ধ একটু চমকে তাকালেন।

“না মা, একজনের জন্য অপেক্ষা করছি।”

“কোন ট্রেনে আসবেন?”

বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না। শুধু দূরের রেললাইনের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

সেদিন শেষ ট্রেন চলে যাওয়ার পরও তিনি কিছুক্ষণ বসে ছিলেন। তারপর ধীরে ধীরে উঠে চলে গেলেন।

মায়া ভাবল, হয়তো কোনো আত্মীয়ের আসার কথা ছিল।

কিন্তু পরের দিনও বৃদ্ধকে সেই একই বেঞ্চে দেখা গেল।

২. প্রতিদিনের অপেক্ষা

দিন যেতে লাগল। বৃদ্ধ প্রায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্টেশনে আসতেন। কখনও পাঁচটা নাগাদ, কখনও তারও আগে। হাতে সেই চামড়ার ব্যাগ, চোখে একই অপেক্ষা।

মায়া একদিন সাহস করে তাঁর পাশে বসল।

“কাকু, আপনার নামটা জানতে পারি?”

“অমলেন্দু দত্ত। সবাই অমল বলেই ডাকত।”

“আপনি কি এই শহরেই থাকেন?”

“একসময় থাকতাম। এখন মেয়ের বাড়িতে থাকি, অন্য জেলায়।”

“তাহলে প্রতিদিন এখানে আসেন কেন?”

বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

“একটা মানুষ আসবে বলে কথা দিয়েছিল।”

মায়া আর প্রশ্ন করল না। সে বুঝতে পারল, বিষয়টি শুধু ট্রেনের সময়সূচির নয়। বৃদ্ধের অপেক্ষার সঙ্গে কোনো স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

কয়েক দিন পরে মায়া জানতে পারল, অমলবাবু বহু বছর আগে এই স্টেশনের কাছেই একটি ছোট বইয়ের দোকান চালাতেন। দোকানটি এখন আর নেই। তাঁর স্ত্রী মারা গিয়েছেন অনেক বছর আগে। তাঁদের একমাত্র ছেলে চাকরির জন্য দূরে চলে গিয়েছিল। পরে ছেলের সঙ্গে যোগাযোগও কমে আসে।

কিন্তু বৃদ্ধের অপেক্ষার কারণ তখনও মায়ার কাছে স্পষ্ট হলো না।

একদিন স্টেশনে বসে থাকতে থাকতে অমলবাবুর ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো খাম পড়ে গেল। মায়া সেটি তুলে দিতে গিয়ে দেখল, খামের ওপর লেখা একটি নাম—‘অরুণ’।

বৃদ্ধ তাড়াতাড়ি খামটি নিয়ে নিলেন।

“এটা আমার ছেলের নাম,” তিনি বললেন।

মায়া শান্তভাবে বলল, “আপনি কি ছেলের জন্য অপেক্ষা করছেন?”

অমলবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর মাথা নাড়লেন।

“হ্যাঁ। অনেক বছর আগে সে বলেছিল, একদিন এই স্টেশনে ফিরে আসবে। বলেছিল, বাবাকে নিয়ে আবার সেই পুরোনো বইয়ের দোকানের জায়গাটা দেখতে যাবে।”

“কবে বলেছিল?”

“প্রায় আঠারো বছর আগে।”

মায়া স্তব্ধ হয়ে গেল।

আঠারো বছর ধরে একটি প্রতিশ্রুতির জন্য অপেক্ষা!

৩. যে ভুল বোঝাবুঝি বড় হয়ে উঠেছিল

অমলবাবু ধীরে ধীরে নিজের জীবনের গল্প বলতে শুরু করলেন।

অরুণ ছোটবেলায় পড়াশোনায় ভালো ছিল। বইয়ের দোকানে বসে বাবার সঙ্গে গল্প করত। বড় হয়ে সে শহরের বাইরে পড়তে যায়, তারপর চাকরি পায়। অমলবাবু চাইতেন ছেলে কাছাকাছি থাকুক। কিন্তু অরুণের স্বপ্ন ছিল বড় শহরে কাজ করার।

এই নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায়ই কথা কাটাকাটি হতো।

একদিন অরুণ চাকরির কাজে অন্য রাজ্যে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। অমলবাবু রাগ করে বলেছিলেন, “যেতে চাইলে যাও। নিজের ইচ্ছেমতো জীবন কাটাও। আমার কথা আর ভাবতে হবে না।”

কথাটি রাগের মাথায় বলা হলেও অরুণ গভীরভাবে আঘাত পেয়েছিল।

সে চলে যাওয়ার আগে বলেছিল, “একদিন ফিরে আসব, বাবা। তখন তোমার রাগ কমে যাবে।”

অমলবাবু ভেবেছিলেন, ছেলে কয়েক মাসের মধ্যেই ফিরবে। কিন্তু দিন পেরিয়ে বছর হয়ে গেল। প্রথমে চিঠি আসত, পরে ফোন। তারপর যোগাযোগ ক্রমশ কমে গেল।

অমলবাবুও অভিমানে আর যোগাযোগ করার চেষ্টা করেননি।

অনেক বছর পরে ছেলের পুরোনো চিঠিগুলো গুছিয়ে রাখতে গিয়ে তিনি বুঝেছিলেন, নিজের জেদে তিনি সম্পর্কটাকে আরও দূরে ঠেলে দিয়েছেন। তখন ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের পুরোনো নম্বরটি আর কাজ করত না। পরিচিত ঠিকানায় চিঠি পাঠিয়েও উত্তর পাননি।

তারপর একদিন দূরসম্পর্কের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে শুনেছিলেন, অরুণ নাকি শালবনী রোড স্টেশনে ফিরে আসার কথা বলেছিল—কোনো একদিন, কোনো এক সন্ধ্যায়।

সেই থেকে অমলবাবু অপেক্ষা শুরু করেছিলেন।

মায়া মন দিয়ে সব শুনল। তারপর বলল, “কাকু, আঠারো বছর অনেকটা সময়। শুধু অপেক্ষা করলে তো হবে না। আপনি কি আরেকবার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন?”

বৃদ্ধ মাথা নিচু করলেন।

“কীভাবে নেব মা? ওর পুরোনো ঠিকানা নেই। কোথায় থাকে, জানি না। আর যদি সে আর আসতেই না চায়?”

মায়া বলল, “আপনি জানেন না, সে আসতে চায় কি না। তাই বলে ধরে নেওয়া যায় না যে সে আসবে না।”

৪. অপেক্ষার বদলে খোঁজ

পরদিন মায়া অমলবাবুকে জানাল, সে তাঁকে সাহায্য করতে চায়। তবে কারও ব্যক্তিগত তথ্য অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ করা বা ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তারা পরিচিত আত্মীয়দের মাধ্যমে খোঁজ নেবে, পুরোনো চিঠিতে থাকা তথ্য দেখবে এবং প্রয়োজনে পরিবারের সম্মতিতেই যোগাযোগের চেষ্টা করবে।

অমলবাবু প্রথমে রাজি হচ্ছিলেন না।

“যদি ও আমাকে দেখতে না চায়?”

মায়া বলল, “তাহলে সেই সিদ্ধান্তও আপনাকে সম্মান করতে হবে। কিন্তু আগে তো জানতে হবে, সে কী চায়।”

অমলবাবুর মেয়ে রূপার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলো। রূপা বাবার অপেক্ষার কথা শুনে অবাক হয়ে গেল। সে জানত, বাবা ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চান, কিন্তু এত দিন ধরে স্টেশনে অপেক্ষা করছেন, তা জানত না।

রূপা পুরোনো কাগজপত্র খুঁজে দেখল। একটি চিঠিতে অরুণের কর্মস্থলের নাম ছিল। প্রতিষ্ঠানটি এখন অন্য নামে পরিচিত হলেও পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের সূত্র পাওয়া গেল।

কয়েক সপ্তাহ চেষ্টা করার পর অরুণের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হলো।

প্রথম ফোনটি করলেন রূপা। অরুণ অনেকক্ষণ চুপ করে থাকার পর শুধু বলেছিল, “বাবা কি এখনও আমার ওপর রাগ করে আছেন?”

রূপা কেঁদে ফেলেছিল।

“বাবা রাগ করে আছেন কি না, জানি না। তবে তিনি তোমার জন্য অপেক্ষা করছেন।”

অরুণ কিছুক্ষণ পর বলেছিল, “আমি ফিরতে চেয়েছিলাম। কিন্তু বাবার কথাটা মনে পড়ত। ভাবতাম, হয়তো উনি আমাকে আর দেখতে চান না। তারপর কাজ, সংসার, নানা দায়িত্বের মধ্যে সময় চলে গেল। যত দিন গেছে, ফোন করার সাহস তত কমেছে।”

দুই দিকেই ছিল অভিমান। কেউই জানত না, অন্যজনও অপেক্ষা করছে।

রূপা বাবার সঙ্গে কথা বলে অরুণকে জানাল, তিনি চাইলে বাড়িতে আসতে পারেন। অমলবাবু প্রথমে কিছু বললেন না। তারপর ধীরে ধীরে বললেন, “ওকে বলিস, আমি আর রাগ করে নেই।”

৫. যে সন্ধ্যায় ট্রেন থামল

অরুণ আসার দিন ঠিক হলো শনিবার।

সেই দিন সকাল থেকেই অমলবাবু অস্থির ছিলেন। বারবার ব্যাগ খুলে পুরোনো খামটি দেখছিলেন। মায়া বিকেলে স্টেশনে এসে তাঁকে বেঞ্চে বসে থাকতে দেখল।

“আজ কি খুব ভয় লাগছে, কাকু?” সে জিজ্ঞাসা করল।

অমলবাবু মৃদু হাসলেন।

“ভয়ও লাগছে, আনন্দও হচ্ছে। এত বছর পরে কী বলব, বুঝতে পারছি না।”

মায়া বলল, “যা সত্যি, সেটাই বলবেন। কখনও কখনও একটা ‘কেমন আছিস?’ অনেক বছরের দূরত্ব কমিয়ে দেয়।”

সন্ধ্যার ট্রেনের ঘোষণা হলো। দূরে হেডলাইট দেখা গেল। ট্রেন ধীরে ধীরে প্ল্যাটফর্মে ঢুকল।

যাত্রীরা নামতে শুরু করলেন।

একজন মধ্যবয়স্ক মানুষ কাঁধে ব্যাগ নিয়ে দরজার কাছে এসে দাঁড়ালেন। মুখে সময়ের ছাপ, চুলে পাক ধরেছে। তিনি প্ল্যাটফর্মে নেমে চারদিকে তাকালেন।

অমলবাবু বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়ালেন।

দুজনের চোখে চোখ পড়ল।

কেউ এগিয়ে যেতে পারছিল না।

আঠারো বছরের অভিমান, না বলা কথা, ভুল বোঝাবুঝি—সব যেন কয়েক মুহূর্তে তাঁদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে গেল।

অবশেষে অরুণ ধীরে ধীরে এগিয়ে এসে বলল, “বাবা…”

অমলবাবুর ঠোঁট কেঁপে উঠল।

“এত দেরি করলি কেন, রে?”

অরুণ মাথা নিচু করে বলল, “ভয় পেয়েছিলাম, বাবা। ভেবেছিলাম, তুমি হয়তো আমাকে ক্ষমা করবে না।”

অমলবাবু ছেলের হাত ধরলেন।

“আমিও তোকে ডাকিনি। আমারও ভুল হয়েছে।”

তারপর আর কোনো কথা হলো না। বাবা ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন।

মায়া একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল। তার চোখও ভিজে উঠেছিল।

সেদিন শেষ ট্রেনটি কিছুক্ষণ আগেই ছেড়ে গেছে। তবু অমলবাবুর আর কোনো অপেক্ষা ছিল না।

৬. ফিরে পাওয়া সময়

অরুণ কয়েক দিন বাবার কাছে থাকল। তারা পুরোনো বইয়ের দোকানের জায়গায় গেল। সেখানে এখন একটি ছোট ওষুধের দোকান হয়েছে। দোকানের মালিকের অনুমতি নিয়ে অমলবাবু কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে পুরোনো দিনের কথা বললেন।

অরুণ বাবার কাছে জানতে চাইল, “তুমি এত বছর এখানে আসতে?”

অমলবাবু সত্যি কথাটা বললেন।

“হ্যাঁ। ভাবতাম, একদিন হয়তো তুই হঠাৎ এসে দাঁড়াবি।”

অরুণ বাবার হাত শক্ত করে ধরল।

“আমাকে একবার ফোন করতে পারতে।”

বৃদ্ধ মৃদু হেসে বললেন, “তুইও তো পারতিস।”

দুজনেই হেসে ফেললেন। সেই হাসির মধ্যে অনুশোচনা ছিল, আবার নতুন করে শুরু করার স্বস্তিও ছিল।

অরুণ বাবাকে নিজের শহরে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু অমলবাবু বললেন, তিনি আপাতত শালবনীতেই থাকবেন। নিজের পরিচিত পরিবেশ, পুরোনো বন্ধু আর রেলস্টেশন ছেড়ে যেতে তাঁর মন চাইছিল না।

তবে এবার আর সম্পর্কটা দূরে রইল না। অরুণ নিয়মিত ফোন করতে শুরু করল। মাসে অন্তত একবার বাবার কাছে আসার চেষ্টা করত। রূপার সঙ্গেও তার যোগাযোগ বাড়ল।

মায়ার উদ্যোগে স্টেশনের বেঞ্চটির কাঠামো পরীক্ষা করে রেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে সেটি মেরামত করা হলো। বেঞ্চের পাশে ছোট একটি ফলক লাগানো হলো—

‘এই বেঞ্চ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কথা বলার জন্য কখনও কখনও দেরি হয়ে যায়, কিন্তু সম্পর্কের দরজা খোলা থাকলে ফিরে আসার পথও তৈরি হয়।’

অমলবাবু ফলকটি দেখে বললেন, “মা, তুই আমার ছেলেকে ফিরিয়ে এনেছিস।”

মায়া মাথা নাড়ল।

“আমি শুধু খোঁজ নেওয়ার কথা বলেছিলাম, কাকু। ফিরে আসার সিদ্ধান্তটা আপনাদের দুজনেরই।”

৭. অপেক্ষার আসল অর্থ

এরপরও মায়া মাঝে মাঝে স্টেশনে আসত। তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের সেই বেঞ্চে এখন অমলবাবু বসতেন ঠিকই, কিন্তু আর কারও জন্য অনিশ্চিত অপেক্ষা নিয়ে নয়।

কখনও অরুণের সঙ্গে ফোনে কথা বলতেন, কখনও ট্রেনের সময় দেখে বাড়ি ফিরতেন। তাঁর চোখে আগের মতো অস্থিরতা আর ছিল না।

একদিন মায়া জিজ্ঞাসা করল, “কাকু, এত দিন অপেক্ষা করে আপনি কী শিখলেন?”

অমলবাবু কিছুক্ষণ ভাবলেন।

“শিখেছি, মানুষ অনেক সময় রাগের কারণে চুপ করে থাকে। ভাবে, অন্যজন আগে কথা বলুক। তারপর সেই নীরবতাই দেয়াল হয়ে দাঁড়ায়। অথচ একটা ফোন, একটা চিঠি, কিংবা ছোট্ট একটা প্রশ্ন—‘কেমন আছিস?’—হয়তো অনেক কিছু বদলে দিতে পারে।”

মায়া স্টেশনের দিকে তাকাল। একটি ট্রেন এসে থামল, আবার ছেড়ে গেল। কেউ নামল, কেউ উঠল। কারও চোখে আনন্দ, কারও মুখে ক্লান্তি, কেউ বিদায় জানাল, কেউ ফিরে এল।

সে বুঝল, রেলস্টেশন শুধু যাত্রার শুরু বা শেষ নয়। কখনও কখনও এটি মানুষের ভুল বুঝতে পারার, সম্পর্কের মূল্য উপলব্ধি করার এবং নতুন করে ফিরে আসার জায়গাও।

অমলবাবু ধীরে ধীরে বেঞ্চ থেকে উঠে দাঁড়ালেন।

“চল মা, আজ বাড়ি যাই।”

মায়া হাসল।

সেদিন শেষ ট্রেনের জন্য আর কাউকে অপেক্ষা করতে হয়নি। কারণ যে মানুষটির জন্য অপেক্ষা ছিল, সে ফিরে এসেছিল। আর তার থেকেও বড় কথা, দুজন মানুষ নিজেদের ভুল স্বীকার করে আবার একে অপরের কাছে ফিরে আসার সাহস পেয়েছিল।

শিক্ষা: অভিমান কখনও কখনও মানুষকে দূরে সরিয়ে দেয়, কিন্তু নীরবতা সব সমস্যার সমাধান নয়। সম্পর্কের মূল্য থাকলে প্রথম পদক্ষেপ নিতে ভয় পেয়ো না। ক্ষমা চাওয়া কিংবা খোঁজ নেওয়া দুর্বলতা নয়—এগুলোই সম্পর্ককে নতুন জীবন দেওয়ার সাহস।

সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *