রাত তখন ঠিক বারোটা পেরিয়েছে।
ঋত্বিক চৌধুরী জানলার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। তার হাতে সেই ছবিটি—ছবিতে তার মতো দেখতে আরেকজন মানুষ দাঁড়িয়ে আছে গঙ্গার ধারের পুরোনো শ্মশানের সামনে। মুখ, চোখ, নাক, এমনকি কপালের বাঁ দিকে ছোট্ট কাটা দাগটাও এক।
ছবির পিছনে লেখা ছিল—
“আগামীকাল তোমাদের মধ্যে একজনই বেঁচে থাকবে।”
ঋত্বিক ছবিটা উল্টে আবার দেখল। তার বুকের ভিতর একটা প্রশ্ন বারবার আছড়ে পড়ছিল—লোকটা কে?
ঠিক তখনই ফোনটা বেজে উঠল।
সেই অচেনা নম্বর।
ঋত্বিক ফোন ধরতেই ওপার থেকে ভারী গলায় কেউ বলল, “কাল সকাল আটটা দশে শ্মশানে এসো। একা আসবে। সত্যিটা জানার এটাই শেষ সুযোগ।”
“আপনি কে? এতদিন ধরে আমাকে ফোন করছেন কেন?”
কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।
তারপর উত্তর এল, “আমি সেই মানুষ, যাকে তোমরা বারো বছর আগে মৃত বলে মেনে নিয়েছিলে।”
“অনিরুদ্ধ চৌধুরী?”
ওপারের মানুষটি দীর্ঘশ্বাস ফেলল।
“না। আমি অরিন্দম সেন।”
ফোন কেটে গেল।
ঋত্বিকের মাথার ভিতর যেন বজ্রপাত হল। হাসপাতালের সেই পুরোনো ছবিতে পাশাপাশি লেখা ছিল দুটি নাম—অরিন্দম সেন এবং অনিরুদ্ধ চৌধুরী। একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিল, অন্যজনকে মৃত বলে দেখানো হয়েছিল।
তাহলে কি অরিন্দম সেন বেঁচে আছেন?
আর যদি বেঁচে থাকেন, তবে তিনি ঋত্বিকের জীবনে কে?
পরদিন সকাল সাতটা পঞ্চান্ন মিনিটে ঋত্বিক পৌঁছে গেল গঙ্গার ধারের পুরোনো শ্মশানে। কুয়াশায় চারপাশ ঢাকা। দূরে কয়েকটি কাক ডাকছিল। গঙ্গার জল ধূসর, বাতাসে পোড়া কাঠের গন্ধ।
ঠিক আটটা দশ মিনিটে শ্মশানের পিছনের ভাঙা দরজা দিয়ে একজন মানুষ বেরিয়ে এল।
ঋত্বিকের নিঃশ্বাস আটকে গেল।
লোকটি দেখতে অবিকল তার মতো।
একই মুখ, একই উচ্চতা, একই চোখ। এমনকি হাঁটার ভঙ্গিও এক।
লোকটি সামনে এসে দাঁড়াল।
“তুমি ঋত্বিক?”
“হ্যাঁ। আর তুমি?”
“আমার নাম রুদ্র।”
ঋত্বিক কয়েক পা পিছিয়ে গেল। “তুমি আমার মতো দেখতে কেন?”
রুদ্র পকেট থেকে একটি পুরোনো ছবি বের করল। ছবিতে দুটো সদ্যোজাত শিশু পাশাপাশি শুয়ে আছে। পিছনে লেখা—১৭ অক্টোবর, ১৯৯৬।
রুদ্র বলল, “কারণ আমরা যমজ ভাই।”
ঋত্বিক ছবিটা কাঁপা হাতে ধরল।
“অসম্ভব! আমার বাবা-মা তো কখনও—”
“তোমার মা মারা গিয়েছিলেন আমাদের জন্মের পরেই। আর যে মানুষটাকে তুমি বাবা বলে জেনেছ, সেই অনিরুদ্ধ চৌধুরী তোমাকে নিজের সন্তানের মতো বড় করেছিলেন। কিন্তু তোমার জন্মের পরই আমাদের দুজনকে আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল।”
“কেন?”
রুদ্র গঙ্গার দিকে তাকাল।
“কারণ আমাদের জন্মের সঙ্গে এমন একটা সত্য জড়িয়ে ছিল, যা প্রকাশ পেলে কয়েকজন প্রভাবশালী মানুষের সাম্রাজ্য ভেঙে পড়ত।”
ঠিক তখনই পিছন থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল।
“রুদ্র, আর লুকিয়ে লাভ নেই।”
একজন বয়স্ক মানুষ ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন। মুখে গভীর বলিরেখা, চুল সাদা, চোখে ক্লান্তি। কিন্তু ঋত্বিক ছবিতে তাঁকে দেখেছে।
তিনি অরিন্দম সেন।
ঋত্বিক তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করল, “আপনি কি আমার বাবা?”
অরিন্দম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “হ্যাঁ, তুমি আর রুদ্র—তোমরা দুজনেই আমার সন্তান।”
ঋত্বিকের চোখে জল চলে এল। এত বছর ধরে যে মানুষটিকে সে নিজের বাবা বলে জেনেছে, তিনি কি তবে তার বাবা ছিলেন না?
অরিন্দম যেন তার মনের কথা পড়তে পারলেন।
“অনিরুদ্ধ তোমার রক্তের বাবা না হলেও, তিনি তোমার প্রকৃত অভিভাবক ছিলেন। তিনি তোমাকে নিজের সন্তানের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। তোমাকে বাঁচানোর জন্যই তিনি নিজের জীবন, নিজের পরিচয়—সবকিছু বিসর্জন দিয়েছিলেন।”
“কিন্তু কী থেকে আমাকে বাঁচিয়েছিলেন?”
অরিন্দম ধীরে ধীরে বলতে শুরু করলেন।
বারো বছর আগে অরিন্দম সেন একটি বড় আর্থিক জালিয়াতির প্রমাণ সংগ্রহ করেছিলেন। একটি সংস্থা মৃত মানুষের পরিচয় ব্যবহার করে জমি ও সম্পত্তির মালিকানা বদলে দিত। সেই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল এক প্রভাবশালী ব্যবসায়ী, কয়েকজন চিকিৎসক এবং আইনজীবী। মৃত মানুষের নথি তৈরি করা হত, আবার প্রয়োজনমতো জীবিত মানুষকেও কাগজে-কলমে মৃত বানিয়ে দেওয়া হত।
এই চক্রের মূল নথি ছিল একটি লাল ফাইলে। সেই ফাইলেই ছিল সম্পত্তির দলিল, হাসপাতালের নথি, ভুয়ো মৃত্যুসনদ এবং জড়িত ব্যক্তিদের নাম।
অরিন্দম প্রমাণ সংগ্রহ করার পর বুঝতে পারেন, তাঁর পরিবারও বিপদের মুখে। তখনই আইনজীবী অমিতাভ রায় এবং চিকিৎসক সৌম্যদীপ বসু তাঁকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেন।
কিন্তু চক্রের লোকেরা সব জেনে যায়।
১৭ অক্টোবর, ২০১৪। সেই রাতেই ঘটে যায় ভয়াবহ ঘটনা।
অরিন্দমকে হত্যা করার পরিকল্পনা করা হয়। অনিরুদ্ধ তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলে দুজনের পরিচয় গুলিয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালের নথিতে একজনকে মৃত ঘোষণা করা হয়, আর অন্যজনের পরিচয় বদলে দেওয়া হয়। এই সুযোগে অপরাধীরা নিজেদের অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে চেয়েছিল।
অনিরুদ্ধ বেঁচে ছিলেন, কিন্তু তাঁকে মৃত বলে দেখানো হয়েছিল। অরিন্দমও বেঁচে যান, তবে তাঁকে মৃত ঘোষণা করে তাঁর পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা হয়।
দুজনেই আলাদা পরিচয়ে আত্মগোপন করতে বাধ্য হন। অনিরুদ্ধ ঋত্বিককে নিরাপদে বড় করার দায়িত্ব নেন। আর রুদ্রকে অন্য একটি পরিচয়ে দূরে সরিয়ে রাখা হয়।
কিন্তু সেই রাতের পর থেকে অনিরুদ্ধ আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। অপরাধীদের নজর এড়িয়ে তিনি প্রমাণ জমিয়ে যাচ্ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁকে খুঁজে পায় সেই চক্র।
ঋত্বিকের গলা কেঁপে উঠল। “তাহলে রায় ভিলায় আমি যে মৃতদেহ দেখেছিলাম, সেটা কার ছিল?”
অরিন্দম উত্তর দিলেন, “ওটা ছিল সাজানো দৃশ্য। তোমাকে ভয় দেখিয়ে লাল ফাইলের খোঁজে নামানোই ছিল ওদের উদ্দেশ্য। মৃতদেহের মুখ অনিরুদ্ধের মতো করে সাজানো হয়েছিল। পরে লোকজনকে সরিয়ে সেই দেহও সরিয়ে ফেলা হয়। তোমার চোখে যা পড়েছিল, তার কিছু সত্যি, কিছু ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা।”
“আর ফোনগুলো?”
“সৌম্যদীপ বসু তোমাকে সতর্ক করছিলেন। অপরাধীদের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি অনেক কিছু জানতেন। কিন্তু নিজের পরিচয় প্রকাশ করলে তাঁকেও হত্যা করা হত। তাই তিনি অচেনা নম্বর ব্যবহার করে তোমাকে সূত্র দিয়েছেন। প্রতিটি ফোন ছিল একটি সতর্কবার্তা—ভবিষ্যৎ জানার ক্ষমতা নয়।”
ঋত্বিকের চোখে তখনও একটাই প্রশ্ন।
“অমিতাভ রায়? নন্দিতা রায়? তাঁদের ভূমিকা কী?”
অরিন্দম বললেন, “অমিতাভ প্রথমে চক্রটির হয়ে কাজ করলেও পরে অনুশোচনা করেছিলেন। তিনি আমাদের সাহায্য করতে চেয়েছিলেন। নন্দিতা তাঁর স্ত্রী। অমিতাভ মারা যাওয়ার পর তিনি লাল ফাইলের একটি অংশ লুকিয়ে রাখেন। তোমাকে সেটি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব তাঁরই ছিল।”
“তাহলে আমার বাবা কোথায়?”
এই প্রশ্নে অরিন্দমের মুখ কঠিন হয়ে গেল।
তিনি পকেট থেকে একটি ছোট খাম বের করে ঋত্বিকের হাতে দিলেন।
“এটা অনিরুদ্ধের শেষ চিঠি। তোমার জন্য রেখে গিয়েছিলেন।”
ঋত্বিক কাঁপা হাতে খাম খুলল।
চিঠিতে লেখা—
“ঋত্বিক,
যদি এই চিঠি তোমার হাতে পৌঁছয়, তবে বুঝবে আমি আর তোমার সামনে দাঁড়িয়ে তোমার মাথায় হাত রাখতে পারব না।
তোমাকে আমি জন্ম দিইনি, কিন্তু তোমার প্রথম কান্না থেকে প্রথম হাঁটা, প্রথম স্কুলে যাওয়া—সবকিছুর সাক্ষী আমি। তুমি যখন অসুখে রাতভর কেঁদেছ, আমি তোমার পাশে বসে থেকেছি। তুমি যখন প্রথম লিখেছিলে ‘বাবা’, সেই কাগজটা আজও আমার কাছে ছিল।
তোমাকে সত্যি বলিনি, কারণ তোমাকে হারানোর ভয় ছিল। ভেবেছিলাম, বড় হলে সব বলব। কিন্তু সময় আমাকে সেই সুযোগ দিল না।
মনে রেখো, রক্তের সম্পর্ক মানুষকে জন্ম দেয়, কিন্তু ভালোবাসা মানুষকে পরিবার দেয়।
আমার পরিচয় নিয়ে কখনও লজ্জা পেয়ো না। আমি তোমার বাবা ছিলাম, আছি, থাকব।
আর একটা কথা—সত্যের পথে হাঁটতে গেলে ভয় পেয়ো না। কারণ মিথ্যে মানুষকে কিছুদিন বাঁচাতে পারে, কিন্তু সত্যকে চিরকাল মেরে রাখতে পারে না।
ইতি, তোমার বাবা, অনিরুদ্ধ।”
চিঠির শেষ লাইনে এসে ঋত্বিক আর নিজেকে সামলাতে পারল না। সে মাটিতে বসে পড়ল। চোখের জল চিঠির কাগজে পড়তে লাগল।
রুদ্র তার কাঁধে হাত রাখল।
“আমরা বাবাকে হারিয়েছি,” সে বলল, “কিন্তু তাঁর লড়াইটা শেষ হতে দেব না।”
ঠিক সেই মুহূর্তে শ্মশানের বাইরে একটি গাড়ি এসে দাঁড়াল। গাড়ি থেকে নামলেন চিকিৎসক সৌম্যদীপ বসু। তাঁর হাতে একটি পেনড্রাইভ এবং কিছু নথি।
“আর সময় নেই,” তিনি বললেন। “ওরা জেনে গেছে তোমরা এখানে এসেছ।”
দূরে দুটি কালো গাড়ি এগিয়ে আসছিল।
সৌম্যদীপ দ্রুত পেনড্রাইভটি ঋত্বিকের হাতে দিলেন।
“এতে পুরো চক্রের প্রমাণ আছে। নাম, লেনদেন, ভুয়ো মৃত্যুসনদ, সব। আমি এতদিন ভয়ে চুপ ছিলাম। কিন্তু অনিরুদ্ধের মৃত্যু আমাকে বুঝিয়েছে, আর চুপ থাকলে আমিও অপরাধী হয়ে থাকব।”
ঋত্বিক উঠে দাঁড়াল।
“আমরা পালাব না।”
সৌম্যদীপ অবাক হয়ে তার দিকে তাকালেন।
“ওরা সশস্ত্র হতে পারে!”
“তাই বলে সত্যিটা লুকিয়ে রাখব? এতদিন সবাই ভেবেছে মৃত মানুষ আর কথা বলতে পারে না। এবার মৃতদের হয়ে আমরা কথা বলব।”
ঋত্বিক ফোন বের করে তার সংবাদপত্রের সম্পাদককে ফোন করল। সে সমস্ত নথির কপি পাঠিয়ে দিল। একই সঙ্গে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী শাখার এক আধিকারিকের কাছেও প্রমাণ পৌঁছে গেল।
কালো গাড়ি থেকে কয়েকজন লোক নেমে তাদের দিকে এগিয়ে এল। কিন্তু এবার তারা একা ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুলিশের গাড়ি এসে পৌঁছল। অপরাধীরা পালানোর চেষ্টা করলেও কয়েকজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হল।
পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ ধরে তদন্ত চলল। লাল ফাইল, পেনড্রাইভ এবং হাসপাতালের পুরোনো নথির সূত্র ধরে একের পর এক জালিয়াতি সামনে এল। মৃত মানুষের পরিচয় ব্যবহার করে সম্পত্তি দখলের চক্রের একাধিক সদস্য গ্রেপ্তার হল। বহু বছর ধরে চাপা পড়ে থাকা মামলাগুলি নতুন করে খোলা হল।
ঋত্বিক তার সংবাদপত্রে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করল—‘মৃত্যুর নথিতে বেঁচে থাকা মানুষ’।
প্রথম প্রতিবেদনের শেষে সে লিখেছিল—
“কাগজে-কলমে কাউকে মৃত ঘোষণা করা যায়। তার নাম মুছে দেওয়া যায়, পরিচয় বদলে দেওয়া যায়। কিন্তু একজন মানুষের ভালোবাসা, স্মৃতি এবং সত্যকে মুছে দেওয়া যায় না।”
একদিন সন্ধ্যায় ঋত্বিক ও রুদ্র গঙ্গার ধারে দাঁড়িয়েছিল। সূর্য ডুবছে। জলের উপর লাল আলো ছড়িয়ে পড়েছে।
রুদ্র বলল, “তুমি কি বাবাকে ক্ষমা করতে পেরেছ? এত বছর সত্যিটা লুকিয়ে রাখার জন্য?”
ঋত্বিক মৃদু হাসল।
“যে মানুষটা আমার জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছিল, তাকে ক্ষমা করার প্রশ্ন ওঠে না। আমি শুধু চাই, তাঁর নামটা যেন আর কেউ মুছে দিতে না পারে।”
ঠিক তখনই ঋত্বিকের ফোনে একটি বার্তা এল। প্রেরকের নাম নেই। শুধু একটি বাক্য—
“শেষ ফোনটি এবার সত্যিই শেষ।”
ঋত্বিক কিছুক্ষণ পর্দার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বার্তাটি মুছে দিল।
সে জানত, সব অপরাধের বিচার একদিনে হয় না। সব রহস্যের উত্তরও পাওয়া যায় না। কিন্তু সত্যের প্রথম দরজাটা খুলে গেছে।
গঙ্গার ওপারে সন্ধ্যার আলো নিভে আসছিল। দুই ভাই পাশাপাশি দাঁড়িয়ে রইল—একই মুখ, একই রক্ত, কিন্তু দুজনের জীবন আলাদা পথে গড়ে ওঠা।
আর তাদের মাঝখানে রয়ে গেলেন সেই মানুষটি, যিনি রক্তের সম্পর্ক না হয়েও বাবা হয়ে উঠেছিলেন।
বারো বছর আগে একটি মৃত্যুর খবর দিয়ে যে রহস্য শুরু হয়েছিল, তার শেষ হল একটি সত্যকে বাঁচিয়ে রেখে।
ঋত্বিক শেষবারের মতো ফোনের দিকে তাকাল। অচেনা নম্বরটি আর কখনও বাজেনি।
কারণ এবার মৃত মানুষের হয়ে কথা বলার জন্য জীবিত মানুষরা প্রস্তুত ছিল।
সমাপ্ত।