Categories
গল্প বিবিধ

গল্প : শেষ মুদ্রণযন্ত্রের অক্ষরে লেখা ছিল এক অসমাপ্ত স্বপ্ন।

১. অক্ষরের গন্ধে ভরা ঘর

পশ্চিমবঙ্গের ছোট্ট শহর কৃষ্ণপুরের একটি সরু গলিতে ছিল ‘নবজাগরণ মুদ্রণালয়’। দোকানটির বয়স প্রায় পঞ্চাশ বছর। একসময় এলাকার বিয়ের কার্ড, স্কুলের প্রশ্নপত্র, পুজোর স্মরণিকা, নাটকের পোস্টার থেকে শুরু করে ছোট পত্রিকা—সবই ছাপা হতো সেখানে।

দোকানের মালিক ছিলেন শশাঙ্কবাবু। সত্তর বছর বয়সেও তিনি পুরোনো মুদ্রণযন্ত্রটির সামনে দাঁড়ালে যেন নতুন মানুষ হয়ে উঠতেন। কালিতে মাখা হাত, চোখে মোটা চশমা আর মুখে অদ্ভুত এক তৃপ্তি—এই ছিল তাঁর পরিচয়।

কিন্তু সময় বদলে গিয়েছিল। কম্পিউটারে নকশা তৈরি হয়, বড় মুদ্রণ সংস্থায় অল্প সময়ে অনেক কাজ হয়ে যায়। ছোট দোকানটিতে আর আগের মতো অর্ডার আসত না। বাড়িভাড়া, বিদ্যুতের বিল আর যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণের খরচ সামলাতে গিয়ে শশাঙ্কবাবু প্রায় দিশাহারা হয়ে পড়েছিলেন।

একদিন তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন, দোকানটি বন্ধ করে দেবেন।

সেই খবর শুনে মন খারাপ হলো পাশের বাড়ির কলেজপড়ুয়া অনির্বাণের। ছোটবেলায় সে বহুবার বাবার সঙ্গে দোকানে এসেছে। তখন শশাঙ্কবাবু তাকে ছাপার অক্ষর দেখিয়ে বলতেন, “দেখিস, প্রতিটি অক্ষরের নিজস্ব একটা চরিত্র আছে। অক্ষর ভুল জায়গায় বসলে অর্থ বদলে যায়, আর অর্থ বদলে গেলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছায়।”

অনির্বাণ কথাগুলো তখন পুরো বুঝত না। এখন বুঝতে শুরু করেছে।

সে একদিন দোকানে গিয়ে বলল, “কাকু, আপনি সত্যিই বন্ধ করে দেবেন?”

শশাঙ্কবাবু মেশিনের ওপর হাত রেখে বললেন, “আর কতদিন চালাব বল? কাজ নেই, খরচ আছে। পুরোনো জিনিসের প্রতি ভালোবাসা দিয়ে তো সংসার চলে না।”

অনির্বাণের কাছে কথাটা সত্যি মনে হলো। কিন্তু তার মনে প্রশ্ন জাগল—এই দোকান কি শুধুই ব্যবসা, নাকি এর মধ্যে এমন কিছু আছে যা হারিয়ে গেলে আর সহজে ফিরে পাওয়া যাবে না?

২. একটি পুরোনো খাতা

দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি শুরু হলো। কাগজের গাঁটরি গুছিয়ে রাখা হলো, ধাতব অক্ষরগুলো বাক্সে ভরা হলো, আর বহু বছরের হিসাবের খাতা এক পাশে সরিয়ে রাখা হলো।

একদিন অনির্বাণ সেই খাতাগুলোর মধ্যে একটি পুরোনো নোটবই খুঁজে পেল। প্রথম পাতায় লেখা ছিল—

‘স্থানীয় লেখক ও ছোট পত্রিকার জন্য কম খরচে ছাপার ব্যবস্থা।’

নোটবইয়ের পাতায় পাতায় বহু নাম, ছোট পত্রিকার বিবরণ, কবিতার সংকলন আর স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের হাতে লেখা ছোট ছোট রচনার উল্লেখ ছিল। কোথাও লেখা, কোনও ছাত্র প্রথমবার নিজের লেখা ছাপা দেখে আনন্দে কেঁদে ফেলেছিল। কোথাও উল্লেখ ছিল, এক বৃদ্ধ কবি নিজের জীবদ্দশায় প্রথম বই প্রকাশ করতে পেরেছিলেন এই দোকানের সাহায্যে।

অনির্বাণ অবাক হয়ে গেল।

“কাকু, আপনি এত মানুষের লেখা ছাপিয়েছেন?”

শশাঙ্কবাবু নোটবইয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হাসলেন।

“ওসব অনেক আগের কথা। তখন লেখালেখির শখ ছিল অনেকের, কিন্তু বই ছাপানোর সামর্থ্য ছিল না। আমি চেষ্টা করতাম, যাতে অন্তত কিছু লেখা কাগজে ছাপা হয়ে মানুষের হাতে পৌঁছয়।”

“এখনও তো এমন মানুষ আছে, যাদের লেখা প্রকাশ করার সুযোগ নেই!”

শশাঙ্কবাবু দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। “আছে। কিন্তু আগের মতো সময় কিংবা সামর্থ্য আমার নেই।”

অনির্বাণ বলল, “আপনি যদি শেখান, আমরা কি নতুনভাবে কিছু করতে পারি?”

শশাঙ্কবাবু প্রথমে হেসে উড়িয়ে দিলেন।

“তুই কম্পিউটারে কাজ করিস, সেটা ভালো। কিন্তু এই মেশিন চালানো, অক্ষর সাজানো, ছাপার ভুল ধরার জন্য ধৈর্য লাগে। শুধু উৎসাহ দিয়ে হবে না।”

অনির্বাণ শান্ত গলায় বলল, “তাহলে ধৈর্যটাই শিখব।”

৩. নতুন প্রজন্মের আগমন

পরের রবিবার অনির্বাণ তার তিন বন্ধুকে নিয়ে দোকানে এল। তাদের মধ্যে মেঘলা ছবি আঁকতে ভালোবাসত, সৌরভ কম্পিউটারে নকশা তৈরি করত, আর পায়েল স্কুলের ছোটদের বাংলা পড়াত।

তারা শশাঙ্কবাবুকে প্রস্তাব দিল, সপ্তাহে একদিন দোকানটি খুলে স্থানীয় ছাত্রছাত্রী ও নতুন লেখকদের জন্য ছোট আকারে প্রকাশনার কাজ শেখানো যায় কি না।

শশাঙ্কবাবু বললেন, “শেখানো সহজ, কিন্তু কাগজ, কালি, বিদ্যুৎ—সবকিছুর খরচ আছে। বিনা পয়সায় কাজ করলে দোকান চালাব কীভাবে?”

অনির্বাণ বলল, “আমরা দোকানটিকে পুরোপুরি বিনামূল্যের প্রতিষ্ঠান করতে বলছি না। যাঁদের সামর্থ্য আছে, তাঁরা খরচ দেবেন। আর যাঁদের নেই, তাঁদের জন্য আমরা সীমিত সংখ্যায় সহযোগিতার ব্যবস্থা করব। আগে হিসাব করে দেখি, কতটা সম্ভব।”

প্রস্তাবটি যুক্তিসংগত মনে হলো। শশাঙ্কবাবু শর্ত দিলেন, প্রথমে এক মাস পরীক্ষামূলকভাবে কাজ হবে। কোনও ঋণ নিয়ে বা বড় খরচ করে উদ্যোগ শুরু করা যাবে না। প্রতিটি কাজের খরচ লিখে রাখতে হবে এবং কারও লেখা ছাপার আগে তাঁর অনুমতি নিতে হবে।

সবাই রাজি হলো।

প্রথম সপ্তাহে তারা দোকান পরিষ্কার করল। পুরোনো অক্ষরগুলো আলাদা করে সাজানো হলো। যন্ত্রের যে অংশগুলো মেরামত করা জরুরি, সেগুলো একজন অভিজ্ঞ মিস্ত্রিকে দেখানো হলো। নিরাপত্তার বিষয়েও সতর্কতা নেওয়া হলো, কারণ পুরোনো যন্ত্র ব্যবহারের সময় অসাবধানতা বিপজ্জনক হতে পারে।

শশাঙ্কবাবু ধীরে ধীরে তরুণদের শেখাতে লাগলেন, কীভাবে অক্ষর সাজাতে হয়, কীভাবে পাতার বিন্যাস ঠিক করতে হয়, আর কীভাবে ছাপার আগে ভুল পরীক্ষা করতে হয়।

প্রথম দিন অনির্বাণের সাজানো একটি পাতায় বেশ কয়েকটি ভুল ধরা পড়ল।

শশাঙ্কবাবু বললেন, “দেখলি তো? লেখা সুন্দর হলেই হবে না। পাঠকের হাতে পৌঁছনোর আগে সেটাকে যত্ন করে পরীক্ষা করতে হয়।”

অনির্বাণ ভুলগুলো শুধরে নিল। তার মনে হলো, এই কাজ তাকে শুধু মুদ্রণ শেখাচ্ছে না, দায়িত্ববোধও শেখাচ্ছে।

৪. প্রথম বইয়ের জন্ম

এক মাসের মধ্যে তাদের কাছে প্রথম কাজ এল। পাশের স্কুলের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্রছাত্রী পরিবেশ নিয়ে ছোট ছোট লেখা লিখেছিল। স্কুলের বাংলা শিক্ষক চেয়েছিলেন, সেগুলো একত্র করে একটি ছোট সংকলন তৈরি করতে।

ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই আগে কখনও নিজেদের লেখা ছাপা হতে দেখেনি। তাদের আনন্দের সীমা ছিল না।

কিন্তু কাজের মাঝখানে সমস্যা দেখা দিল। কাগজের দাম বেড়েছে, আর অল্প সংখ্যক বই ছাপাতে গেলে প্রতিটি বইয়ের খরচ বেশি পড়ছে।

সৌরভ বলল, “আমরা যদি অনেক বেশি কপি ছাপাই, তাহলে হয়তো প্রতি বইয়ের খরচ কমবে। কিন্তু বিক্রি না হলে সবটাই লোকসান।”

মেঘলা বলল, “তাহলে আগে কতজন বইটি নিতে চান, সেটা জেনে নেওয়া যাক।”

তারা স্কুলের সঙ্গে কথা বলল। কতজন বই নেবেন, তার একটি প্রাথমিক তালিকা তৈরি হলো। সেই হিসাব অনুযায়ী কাগজ কেনা হলো। প্রয়োজনের অতিরিক্ত কপি ছাপানো হলো না।

কাজ শেষ হতে কয়েক দিন বেশি লাগল, কিন্তু খরচ নিয়ন্ত্রণে থাকল।

বইটি হাতে পাওয়ার দিন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা দোকানে এল। নিজের নাম মুদ্রিত পাতায় দেখে রিমি নামের একটি মেয়ে চুপ করে বইটি বুকে চেপে ধরল।

শশাঙ্কবাবু তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, “কী রে, ভালো লাগছে?”

রিমি বলল, “আমি ভাবতেই পারিনি, আমার লেখাও বইয়ে থাকবে। এতদিন খাতায় লিখতাম, কাউকে দেখাতেও লজ্জা করত।”

শশাঙ্কবাবু বললেন, “লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। তবে লেখাকে আরও ভালো করার জন্য পড়তে হবে, ভাবতে হবে, ভুল হলে শুধরে নিতে হবে।”

রিমি মাথা নাড়ল।

সেদিন দোকানে দাঁড়িয়ে শশাঙ্কবাবুর মনে হলো, বহুদিন পর মুদ্রণযন্ত্রটি যেন সত্যিই আবার জীবন্ত হয়ে উঠেছে।

৫. সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত

সাফল্যের আনন্দের মধ্যেই একদিন অনির্বাণ একটি প্রস্তাব পেল। শহরের একটি বড় প্রতিষ্ঠান পুরোনো দোকানটি কিনে সেখানে আধুনিক অফিস তৈরি করতে চায়। তারা ভালো দাম দিতে রাজি।

অনির্বাণ বুঝতে পারল, শশাঙ্কবাবুর আর্থিক সমস্যার সমাধান হতে পারে এই বিক্রিতে। কিন্তু দোকানটি বিক্রি হয়ে গেলে তাদের নতুন উদ্যোগের জায়গা থাকবে না।

সে কোনও সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চাইল না। বরং শশাঙ্কবাবুকে বলল, “কাকু, আপনি যদি দোকান বিক্রি করতে চান, আমরা বাধা দেব না। আপনার সংসার ও ভবিষ্যৎ আগে। তবে তার আগে আমরা কি হিসাব করে দেখতে পারি, দোকানটি ছোট পরিসরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব কি না?”

শশাঙ্কবাবু বললেন, “আমি তো চাই দোকানটা বেঁচে থাকুক। কিন্তু শুধু আবেগের জন্য নিজের সঞ্চয় শেষ করতে পারব না।”

তরুণরা বসে হিসাব করল। তারা দেখল, বড় আকারে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়। কিন্তু নিয়মিত অর্ডার, সীমিত উৎপাদন এবং প্রশিক্ষণমূলক কাজ একসঙ্গে করলে দোকানটি আংশিকভাবে চলতে পারে।

তারা কয়েকটি ব্যবস্থা নিল—

প্রথমত, ছোট পত্রিকা, স্থানীয় অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র এবং সীমিত সংখ্যার প্রকাশনার কাজ নেওয়া হবে।

দ্বিতীয়ত, কম্পিউটারে নকশা তৈরি করে প্রয়োজন অনুযায়ী পুরোনো মুদ্রণযন্ত্র বা আধুনিক ছাপার পরিষেবা ব্যবহার করা হবে। সব কাজ পুরোনো পদ্ধতিতে করার জেদ করা হবে না।

তৃতীয়ত, দোকানের আয়-ব্যয়ের হিসাব সবাই দেখতে পারবেন। প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতার কাজের জন্য আলাদা খাতা থাকবে।

চতুর্থত, কারও লেখা প্রকাশ করার আগে তাঁর সম্মতি নেওয়া হবে এবং লেখকের নাম সঠিকভাবে ছাপা হবে।

পঞ্চমত, দোকানের নিরাপত্তা ও যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণে কোনও আপস করা হবে না।

পরিকল্পনাটি বাস্তবসম্মত মনে হলো। শশাঙ্কবাবু সিদ্ধান্ত নিলেন, আপাতত দোকান বিক্রি করবেন না। তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দিলেন, উদ্যোগটি যদি লোকসানের ভারে তাঁকে বিপদে ফেলে, তাহলে তাঁকে আবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তরুণরা তাঁর সিদ্ধান্তকে সম্মান করল।

৬. অক্ষরের আলো

এক বছর পরে ‘নবজাগরণ মুদ্রণালয়’-এর চেহারা বদলে গেল। দোকানটি আর আগের মতো বড় ব্যবসার কেন্দ্র ছিল না, কিন্তু সেখানে নিয়মিত কাজ হতো। স্থানীয় লেখকেরা ছোট সংকলন প্রকাশ করতেন, স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের লেখা ছাপানোর অভিজ্ঞতা পেত, আর নতুনরা মুদ্রণ ও নকশার কাজ শিখত।

দোকানের একটি দেয়ালে টাঙানো হলো একটি ছোট ফলক—

‘শব্দের মূল্য শুধু তার সৌন্দর্যে নয়, তার সত্যতা ও দায়িত্বে।’

শশাঙ্কবাবু ফলকটি দেখে বললেন, “এই কথাটা আমার অনেক আগে লেখা উচিত ছিল।”

অনির্বাণ হেসে বলল, “আপনি তো এত বছর ধরে কাজের মাধ্যমেই কথাটা শিখিয়েছেন।”

একদিন দোকানে এলেন এক বৃদ্ধ কবি। তাঁর সামর্থ্য সীমিত, কিন্তু বহু বছরের লেখা একত্র করে একটি ছোট বই প্রকাশ করতে চান। তরুণরা তাঁর লেখা পড়ল, প্রয়োজনীয় সম্পাদনার পরামর্শ দিল এবং খরচের হিসাব বুঝিয়ে দিল। তিনি যতটুকু দিতে পারবেন, ততটুকুর মধ্যে কীভাবে কাজ করা যায়, সেই পরিকল্পনা করা হলো।

বইটি প্রকাশিত হওয়ার দিন কবি শশাঙ্কবাবুর হাত ধরে বললেন, “আমার বয়স চলে গেল। ভেবেছিলাম, জীবনে আর নিজের লেখা বইয়ের পাতায় দেখতে পাব না।”

শশাঙ্কবাবু শান্ত গলায় বললেন, “বই ছাপা হওয়াই শেষ কথা নয়। আপনার লেখা কেউ পড়বে, ভাববে, প্রশ্ন করবে—সেখান থেকেই তো লেখার যাত্রা শুরু।”

সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করার আগে অনির্বাণ পুরোনো মুদ্রণযন্ত্রটির দিকে তাকাল। মেশিনটি আর সারাদিন চলত না। অনেক কাজই এখন কম্পিউটার ও আধুনিক পদ্ধতিতে করা হতো। তবু পুরোনো যন্ত্রটি যত্ন করে রাখা ছিল, কারণ সেটি ছিল বহু মানুষের স্বপ্নের সাক্ষী।

অনির্বাণ বুঝল, ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার অর্থ সময়কে পিছনে টেনে নেওয়া নয়। বরং পুরোনো অভিজ্ঞতার মূল্য বুঝে নতুন সময়ের সঙ্গে তাকে যুক্ত করা।

শশাঙ্কবাবু দোকানের আলো নিভিয়ে দরজা বন্ধ করলেন। তারপর ফিরে তাকিয়ে বললেন, “জানিস, আগে ভাবতাম, আমার মুদ্রণযন্ত্র বন্ধ হয়ে গেলে আমার জীবনের একটা অধ্যায় শেষ হয়ে যাবে। এখন বুঝি, যন্ত্রটা একা কিছু নয়। যে জ্ঞান, যত্ন আর সুযোগ আমি অন্যদের হাতে তুলে দিতে পারলাম, সেটাই আসল।”

অনির্বাণ মাথা নাড়ল।

বাইরে রাত নেমেছে। শহরের গলিতে আলো জ্বলছে। কিন্তু নবজাগরণ মুদ্রণালয়ের ছোট্ট ঘরে যে স্বপ্ন নতুন করে জন্ম নিয়েছিল, তা আর একটি যন্ত্রের মধ্যে আটকে রইল না। তা ছড়িয়ে পড়ল নতুন লেখার পাতায়, নতুন মানুষের হাতে, নতুন প্রজন্মের চিন্তায়।

নৈতিক শিক্ষা: পুরোনো ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য শুধু আবেগ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন বাস্তব পরিকল্পনা, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার মানসিকতা। কোনও প্রতিষ্ঠান বা দক্ষতার প্রকৃত মূল্য তখনই বাড়ে, যখন তা নতুন প্রজন্মের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *