Categories
বিবিধ

‘সস্তায় পণ্য’ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি, অগ্রিম হাজার হাজার টাকা নিয়ে দোকান বন্ধ—গাজোলে চাঞ্চল্য।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- দামি দামি আসবাবপত্র সহ ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী সস্তা দামে পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে অভিনব প্রতারণার শিকার হলেন বহু মানুষ। ভাড়ায় নেওয়া অর্ডার সাপ্পায়ার্স দোকানের ঝাঁপ বন্ধ দেখে মাথায় হাত পড়ল প্রতারিতদের। তাই প্রতারণার অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন হাজার হাজার টাকা দিয়ে অর্ডার বুক করা কয়েকশো মানুষ। তাদের সকলের ক্ষোভ আছড়ে পড়ল অর্ডার সাপ্লায়ার্সের ঝাঁপ বন্ধ দোকানে। ক্ষোভে দোকানের সাটার ভাঙার চেষ্টা করলেন উত্তেজিত জনতা। বুধবার সাত সকালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল মালদার গাজোলের তুলসীডাঙা এলাকায়। ক্ষুব্ধ মানুষজনের অভিযোগ, তুলসীডাঙার কোড়া গ্রামের কাছে ১২নং জাতীয় সড়কের ধারে মাস খানেক আগে এক অর্ডার সাপ্লায়ার্স দোকান ‘চালু হয়। ভাড়ায় নেওয়া সেই দোকানে বাজার দরের চেয়ে অনেকটাই সস্তায় বিভিন্ন আসবাবপত্র সহ ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী বিক্রি করা হচ্ছিল। তবে বিক্রির পদ্ধতি ছিল অন্যরকম। জিনিসপত্র দেখে পছন্দ করে অগ্রিম টাকা দিয়ে সেই জিনিস বুক করতে হত।এরপর ১০-১২ দিনের মাথায় তা গ্রাহকদের ডেলিভারি দেওয়া হত। সেই মতো সস্তায় জিনিস পাওয়ার প্রলোভনে পড়ে বহু মানুষ হাজার হাজার টাকা দিয়ে তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন আসবাবপত্র ও ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী বুক করেন বলে খবর। কিন্তু অর্ডার ডেলিভারি দেওয়ার আগে বুধবার সকালে হঠাৎ করেই দোকানের ঝাঁপ বন্ধ দেখে গ্রাহকদের মাথায় হাত পড়ে যায়। তারা প্রলোভনে পড়ে প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। অনেকে আবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাই ক্ষুব্ধ মানুষজনের ক্ষোভ গিয়ে আছড়ে পড়ে ঝাঁপ বন্ধ দোকানে। তারা ক্ষোভের জেরে দোকানের সাটার ভাঙার চেষ্টা করেন। যদিও গাজোল থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাশাপাশি গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করে বলে জানা গেছে।

Share This
Categories
বিবিধ

দু’দিনের মধ্যে ফুটপাত ছাড়ুন, না হলে আইনানুগ ব্যবস্থা—মালদায় ব্যবসায়ীদের হুঁশিয়ারি প্রশাসনের।

মালদা, নিজস্বসংবাদদাতা:— এবার মালদা শহরের বুকে ফুটপাথ দখলমুক্ত করতে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামলেন মালদা সদর মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার। মঙ্গলবার তিনি মালদা শহরের নেতাজি মোড় থেকে ফোয়াড়া মোড় পর্যন্ত ফুটপাথ দখলমুক্ত অভিযান চালিয়ে আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ফুটপাথ দখলকারী ব্যবসায়ীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। অন্যথায় আগামীতে প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের হুঁশয়ারি দিলেন তিনি।ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। সেই ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালানো কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই মনোভাব নিয়ে মঙ্গলবার মালদা শহরের নেতাজি মোড় থেকে ফোয়ারা মোড় পর্যন্ত ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের আগামী দু-তিনদিনের মধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করার আবেদন জানাল প্রশাসন। মালদা জেলা ট্রাফিক পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অভিযান চালান মালদা সদর মহকুমা শাসক শম্ভুদীপ সরকার। অভিযানের সময় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করা দোকানদার ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ফুটপাত খালি করে সাধারণ মানুষের চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, দু’দিনের মধ্যে ব্যবসায়ীরা নিজেরাই ফুটপাত দখলমুক্ত না করলে এরপর প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরদার ফুটপাত অভিযান চালানো হবে। সেই অভিযানে ফুটপাত দখল করে রাখা সামগ্রী সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। প্রশাসনের এই উদ্যোগে শহরের যানজট ও পথচারীদের চলাচলের সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

Share This
Categories
বিবিধ

১৮ আগস্টের ঐতিহাসিক স্মৃতিতে মালদায় বিশেষ অনুষ্ঠান, মালদা দিবস পালন কালীতলা ক্লাবের।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা ১৮ আগস্ট:- ঐতিহাসিক ১৮ আগস্ট। এই দিনেই মালদা জেলা স্বাধীন ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক দিনটির স্মৃতিকে সামনে রেখে মঙ্গলবার মালদায় পালিত হল ‘মালদা দিবস’। কালীতলা ক্লাবের উদ্যোগে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং ঐতিহাসিক দিনের তাৎপর্য তুলে ধরার মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ মালদার নেতাজি মোড় সংলগ্ন সরাফা ভবন প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে কালীতলা ক্লাবের সদস্য-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পর ঐতিহাসিক ১৮ আগস্টের গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী। তিনি বলেন, স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্ট হলেও মালদার ইতিহাসে ১৮ আগস্টের গুরুত্ব আলাদা। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মালদা কোন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে স্বাধীন ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল, সেই ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।
এদিনের অনুষ্ঠানে মালদার স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাস এবং জেলার মানুষের দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের কথাও স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, ১৮ আগস্ট শুধু একটি তারিখ নয়, মালদাবাসীর কাছে এটি ঐতিহাসিক আবেগ ও গর্বের দিন। তাই প্রতিবছর এই দিনটিকে যথাযথ মর্যাদায় স্মরণ করা উচিত।
কালীতলা ক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও উৎসাহ দেখা যায়। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হওয়ার পর ঐতিহাসিক দিনের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা হয়। আগামী প্রজন্মের কাছে মালদার এই গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস পৌঁছে দেওয়ার বার্তাও উঠে আসে অনুষ্ঠানে।

Share This
Categories
বিবিধ

‘ভগবানের কৃপায় প্রাণে ফিরেছি’, তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্কিত মালদার তেওয়ারি পরিবার।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শ্রাবণ মাসে বাবাধাম দর্শন শেষে তারাপীঠে এসে অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ল মালদার পুখুরিয়া থানার নসিপুরের তেওয়ারি পরিবার। অলৌকিকভাবে বড়সড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেলেন পরিবারের সাত সদস্য।
​রবিবার গভীর রাতে তারাপীঠের একটি হোটেলের একই ঘরে উঠেছিলেন তাঁরা। সোমবার ভোরে চালকের চিৎকারে ঘুম ভাঙে পরিবারের সদস্যদের। গোটা হোটেল তখন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। বাঁচার তাগিদে দ্রুত বারান্দায় গিয়ে আর্তনাদ শুরু করেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় বারান্দা থেকে তাঁদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়।
​সোমবার রাত ৮টা নাগাদ নসিপুরের বাড়িতে ফেরেন আতঙ্কিত পরিবারের সদস্যরা। এখনও আতঙ্ক কাটেনি গৃহিণী টুম্পা পান্ডে তেওয়ারির। তিনি জানান, “ভগবানের অসীম কৃপাতেই আজ আমরা প্রাণ নিয়ে ঘরে ফিরতে পেরেছি।” ঘটনায় হোটেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Share This
Categories
বিবিধ

মালদহ জেলা পরিষদে বদলের হাওয়া, ২৪ সদস্যের সমর্থনে অনাস্থা—নতুন সভাধিপতি নাকি প্রশাসক?

মালদহ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদহ জেলা পরিষদে সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছিলেন তৃণমূলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। উচ্চআদালতের নির্দেশে আজ সভাধিপতি অপসারণের তলবি সভা ডাকা হয়। সেখানে তৃণমূলের ১৯ জন বিক্ষুব্ধ সদস্যের সঙ্গেই হাজির কংগ্রেসের পাঁচ জেলা পরিষদ সদস্যও। যদিও দুইদিন আগেই নিজেদের পদ থেকে ইস্তফার কথা জানিয়ে মালদহের বিভাগীয় কমিশনারকে চিঠি দেন সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারি সভাধিপতি আবু তৈয়ব মহম্মদ রফিকুল ইসলাম।

মালদা জেলা পরিষদের সদস্য সংখ্যা ৪৩। আজ তৃণমূলের ১৯ জন সদস্য এবং কংগ্রেসের পাঁচজন সদস্য তলবি সভায় হাজির হন। কংগ্রেস দলের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে অনাস্থাকে সমর্থন করতে আসেন কংগ্রেস নেত্রী মৌসম বেনেজির নূর সহ অন্যান্যরা। সবমিলিয়ে অনাস্থার পক্ষে জেলা পরিষদে হাজির হন ২৪ জন সদস্য।

বৈঠকের শেষে সভাধিপতি বিরুদ্ধে থাকা তৃণমূল সদস্যরা বলেন, আমরা তলবি সভা ডেকে অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করিয়েছি। আবার প্রশাসনও জানিয়েছে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির পদত্যাগ পত্র গৃহীত হয়েছে। সব মিলিয়ে সভাধিপতি আর চেয়ারে থাকছেন না। আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন করে বৈঠক ডেকে সভাধিপতি নির্বাচন করা হবে।

কংগ্রেস নেত্রী মৌসম নূর বলেন, আমরা অনাস্থার পক্ষে। সভাধিপতিকে সরাতে চেয়েছিলাম। পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তা দলীয় স্তরে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।

যদিও এদিনে সভাধিপতি ইস্তফা বা অপসারণে জল্পনা তৈরি হয়েছে জেলায়। জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হবে নাকি নতুন সভাধিপতি হবেন কেউ?
মালদা জেলা পরিষদে ৪৩ সদস্যের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ৩৪, কংগ্রেসের পাঁচ এবং বিজেপির চার সদস্য রয়েছেন। এখন কে কার সমর্থনের সভাধিপতি হন অথবা প্রশাসক নিয়োগ হয় কিনা সেটাই দেখার।

Share This
Categories
বিবিধ

শিলাবতীর জলস্তর ঊর্ধ্বমুখী, কজওয়ের উপর দিয়ে বইছে জল—দুশ্চিন্তায় কয়েক হাজার মানুষ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- কয়েকদিনের টানা অতি ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে ফুলেফেঁপে উঠেছে শিলাবতী নদী। এর জেরে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা ২ নম্বর ব্লকের হুমগড় থেকে জোগাড়ডাঙ্গা এলাকার সংযোগকারী কজওয়ের উপর দিয়ে জল বইতে শুরু করেছে। বর্তমানে কজওয়েটি প্রায় কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমগড় ও জোগাড়ডাঙ্গা এলাকার মধ্যে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এই কজওয়েটি। নদীর জল আরও বাড়লে যে কোনও মুহূর্তে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই কজওয়ের উপর নির্ভর করেই প্রতিদিন বহু ছাত্র-ছাত্রী বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত করে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজের ক্ষেত্রেও এই রাস্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি-সহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যও এই পথ দিয়েই বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, আগে এই এলাকায় যাতায়াতের জন্য কাঠের তৈরি একটি সেতুর উপর নির্ভর করতে হতো সাধারণ মানুষকে। কিন্তু বর্ষার সময় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতিবছরই নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। পরে সাধারণ মানুষের স্বার্থে জেলা পরিষদের উদ্যোগে নির্মাণ করা হয় এই পাকা কজওয়েটি।এলাকাবাসীদের দাবি, কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য এই কজওয়েটিই একমাত্র ভরসা। তাই নদীর জলস্তর আরও বৃদ্ধি পেলে কয়েক হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রসঙ্গত, টানা বৃষ্টির কারণে শিলাবতী-সহ জেলার একাধিক নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নদী সংলগ্ন এলাকাগুলিতে বন্যার আশঙ্কাও ক্রমশ বাড়ছে।

Share This
Categories
বিবিধ

টোটো চালাতে ‘চেইন’-এর টাকা দাবির অভিযোগ, তোলাবাজির প্রতিবাদে হবিবপুরে শ্রমিক সংগঠনের আন্দোলন।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- টোটো চালকের কাছ থেকে তোলা আদায় বন্ধের দাবীতে সোমবার মালদার হবিবপুর ব্লকে আন্দোলন করল আরএস.পির শ্রমিক সংগঠন ইউটিইউসি অনুমোদিত মালদা জেলা টোটো ই-রিক্সা মজদুর ইউনিয়ন। আন্দোলনের অঙ্গ হিসেবে এদিন আইহো স্ট্যান্ড থেকে সংগঠনভুক্ত টোটো চালকরা টোটো নিয়ে মিছিল করে হবিবপুর থানায় যান। সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের নিকট তাদের ডেপুটেশন পেশ করেন। এদিনের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন আর.এস.পির জেলা সম্পাদক সর্বানন্দ পান্ডে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, তাদের সংগঠনভুক্ত টোটো চালকদের কাছ থেকে আইহো স্ট্যান্ডে এক হাজার টাকা করে তোলা দাবী করছে কিছু টোটো চালক দুষ্কৃতকারী। এছাড়াও টোটো চালানোর জন্য চেইন বাবদ টাকা দাবী করছে তারা। এর প্রতিবাদেই সোমবার তারা হবিবপুর থানায় এসে তোলাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করার দাবী জানাতে ডেপুটেশন মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ তুলে ধরেন।

Share This
Categories
বিবিধ

রতুয়ায় তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ‘ডিম থেরাপি’, থানার বাইরে বিক্ষোভ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা : – থানা থেকে কোর্টে যাওয়ার পথে পিজন ভ্যানে ওঠে পুলিশকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছিল তৃণমূল নেতা। এবারে এই তৃণমূল নেতাকেই লক্ষ্য করে চলল ডিম থেরাপি। আজ পুলিশি হেফাজত শেষে তাকে পুনরায় কোটে নিয়ে যাওয়ার পথে মালদহের রতুয়া থানা চত্বরেই এই তৃণমূল নেতাকে লক্ষ্য করে ডিম ছুঁড়ে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। উল্লেখ্য কয়েকদিন আগেই তোলাবাজি এবং কাঠ মানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন রতুয়া বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখার্জি ঘনিষ্ঠ তথা সামসি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শ্রবণ কুমার দাস। গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই তৃণমূল নেতা প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশকে হুমকি দেয় এই সরকার থাকবে না! পাঁচ বছর পর দেখে নিব।
আদালতের নির্দেশে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতের পর আজ সোমবার পুনরায় আদালতে তোলার জন্য রতুয়া থানা থেকে বের করতে তাকে লক্ষ্য করে চোর চোর স্লোগান পাশাপাশি চলল ডিম থেরাপি।

Share This
Categories
গল্প

গল্প : নদীর ওপারের আলো।।

পশ্চিমবঙ্গের এক প্রত্যন্ত গ্রাম—চরনদী। গ্রামের একদিকে বিস্তীর্ণ নদী, অন্যদিকে ধানক্ষেত। বর্ষাকালে নদী ফুলে-ফেঁপে উঠলে গ্রামের সঙ্গে পাশের শহরের যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।
নদীর ওপারে ছিল একটি ছোট হাসপাতাল। তাই গ্রামের মানুষের কাছে নদী শুধু জলধারা নয়—জীবন-মরণের সীমানা।
সেই নদীতে নৌকা চালাতেন গদাধর মাঝি। বয়স ষাটের বেশি। তাঁর ছোট্ট কাঠের নৌকার নাম ছিল “আলো”।
নৌকার সামনের দিকে তিনি প্রতিদিন সন্ধ্যায় একটি কেরোসিনের বাতি জ্বালিয়ে রাখতেন।
গ্রামের সবাই জানত—
নদীর ওপারে যদি রাতের অন্ধকারে সেই আলো দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে গদাধর মাঝি এখনও নদীতে আছেন।
আলোর গল্প
একদিন গ্রামের স্কুলছাত্র অভি গদাধর মাঝিকে জিজ্ঞেস করল,
— “মাঝিকাকু, আপনার নৌকার নাম ‘আলো’ কেন?”
গদাধর কিছুক্ষণ নদীর দিকে তাকিয়ে রইলেন।
তারপর বললেন,
— “অনেক বছর আগে এক রাতে আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তখন এই নদীতে কোনো নৌকা ছিল না। অনেক দেরিতে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে পেরেছিলাম। কিন্তু তাকে আর বাঁচানো যায়নি।”
অভি চুপ করে গেল।
গদাধর আবার বললেন,
— “সেই রাত থেকে ঠিক করেছি, আমার নৌকা যতদিন চলবে, কোনো অসুস্থ মানুষ যেন শুধু নদীর কারণে হাসপাতালে পৌঁছতে দেরি না করে।”
অভি বলল,
— “তাই নৌকার নাম ‘আলো’?”
— “হ্যাঁ। কারণ সেদিন যদি নদীর ওপারে একটা আলো থাকত, হয়তো আমার জীবনটাও অন্যরকম হতো।”
ঝড়ের রাত
এক বর্ষার রাতে হঠাৎ প্রচণ্ড ঝড় শুরু হলো।
বৃষ্টি, বজ্রপাত আর তীব্র বাতাসে নদী উত্তাল হয়ে উঠল।
সব নৌকা ঘাটে তুলে রাখা হলো।
গদাধর মাঝিও নৌকা বেঁধে বাড়ি ফিরছিলেন।
ঠিক তখনই গ্রামের এক যুবক ছুটে এসে বলল,
— “কাকা! রমেনদার বউয়ের প্রসববেদনা উঠেছে। অবস্থা খুব খারাপ। হাসপাতালে নিতে হবে।”
সবাই নদীর দিকে তাকাল।
এমন নদীতে নৌকা চালানো প্রায় অসম্ভব।
কেউ বলল,
— “আজ আর যাওয়া যাবে না।”
গদাধর কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর নিজের নৌকার দিকে এগিয়ে গেলেন।
— “আলোটা জ্বেলে দাও।”
একজন বলল,
— “কাকা, নদী আজ খুব খারাপ।”
গদাধর উত্তর দিলেন,
— “আমি জানি। কিন্তু ওই মেয়েটার জন্য নদী আজ একটু কম খারাপ হতে হবে।”
অন্ধকার নদী
নৌকায় উঠলেন গদাধর, রমেন এবং তাঁর স্ত্রী।
বাতাসে নৌকা বারবার দুলছিল।
রমেন ভয়ে কাঁপছিল।
— “কাকা, যদি কিছু হয়?”
গদাধর বললেন,
— “আমার দিকে তাকিও না। ওই আলোটার দিকে তাকিয়ে থাকো।”
নৌকার সামনে ছোট্ট কেরোসিনের বাতিটি ঝড়ের মধ্যে দুলছিল।
কখনও মনে হচ্ছিল নিভে যাবে।
আবার মুহূর্ত পরে জ্বলে উঠছিল।
গদাধর দাঁড় শক্ত করে ধরে নদীর স্রোতের সঙ্গে লড়াই করতে লাগলেন।
হঠাৎ বিশাল একটি ঢেউ নৌকার ওপর আছড়ে পড়ল।
রমেনের স্ত্রী চিৎকার করে উঠলেন।
নৌকা প্রায় উল্টে যাচ্ছিল।
গদাধর সমস্ত শক্তি দিয়ে দাঁড় সামলে নিলেন।
তিনি বললেন,
— “ভয় পেও না। আলো এখনও জ্বলছে।”
হাসপাতালে পৌঁছনো
প্রায় এক ঘণ্টার সংগ্রামের পর নৌকা নদীর ওপারে পৌঁছাল।
হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত মহিলাটিকে ভেতরে নিয়ে গেলেন।
গদাধর বাইরে বসে ভিজতে ভিজতে অপেক্ষা করতে লাগলেন।
কিছুক্ষণ পর ডাক্তার বেরিয়ে এসে হাসলেন।
— “মা ও সন্তান দুজনেই ভালো আছে।”
রমেন গদাধরের পা জড়িয়ে ধরল।
— “কাকা, আপনি না থাকলে…”
গদাধর তাকে থামিয়ে দিলেন।
— “আমার কিছু করিনি। নৌকাটা করেছে।”
তারপর নৌকার দিকে তাকিয়ে বললেন,
— “আর ওই আলোটা।”
আলোর উত্তরাধিকার
বছর কেটে গেল।
অভি বড় হয়ে ইঞ্জিনিয়ার হলো। শহরে চাকরি পেল।
কিন্তু গ্রামের সঙ্গে তার সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হয়নি।
একদিন সে জানতে পারল, গদাধর মাঝি আর নৌকা চালাতে পারছেন না।
বয়স হয়েছে।
নৌকাটিও পুরোনো হয়ে গেছে।
অভি শহর থেকে গ্রামে ফিরে এল।
সে গ্রামের কয়েকজন যুবককে নিয়ে একটি নতুন নৌকা তৈরি করল।
নৌকাটির নাম রাখা হলো—
“নতুন আলো”।
এটি শুধু যাত্রী পারাপারের জন্য নয়, জরুরি রোগী পরিবহনের জন্যও ব্যবহার করা হবে।
নৌকায় রাখা হলো—
প্রাথমিক চিকিৎসার বাক্স, অক্সিজেন সিলিন্ডার, জরুরি ওষুধ এবং একটি শক্তিশালী আলো।
উদ্বোধনের দিন অভি গদাধর মাঝির হাতে নৌকার প্রথম দাঁড়টি তুলে দিল।
গদাধরের চোখে জল এসে গেল।
— “আমি তো ভাবিনি আমার ছোট্ট নৌকার আলো এত দূর যাবে।”
অভি বলল,
— “আলো কখনও এক জায়গায় থাকে না কাকা। একজন জ্বালালে অন্যজন তা নিয়ে এগিয়ে যায়।”
শেষ রাত
কয়েক বছর পর গদাধর মাঝি অসুস্থ হয়ে পড়লেন।
এক শীতের রাতে তিনি বিছানায় শুয়ে জানালার বাইরে তাকিয়ে ছিলেন।
দূরে নদীর ওপারে একটি আলো দেখা যাচ্ছিল।
তিনি ছেলেকে জিজ্ঞেস করলেন,
— “ওটা কী?”
ছেলে বলল,
— “নতুন আলোর নৌকা। আজও একজন রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছে।”
গদাধর মৃদু হাসলেন।
চোখ বন্ধ করে বললেন,
— “তাহলে আলোটা এখনও জ্বলছে।”
সেটাই ছিল তাঁর শেষ কথা।
আজ চরনদীর নদীতে রাত নামলে একসঙ্গে অনেক আলো দেখা যায়।
একটি নৌকা এপারে আসে।
আরেকটি ওপারে যায়।
কেউ বাজার থেকে ফেরে।
কেউ হাসপাতালে যায়।
কেউ বাড়ি ফিরছে।
কিন্তু গ্রামের মানুষ জানে—
এই সব আলোর শুরু হয়েছিল একটি ছোট্ট কেরোসিনের বাতি থেকে।
একজন মানুষ নিজের হারানো জীবনের কষ্টকে অন্য মানুষের বাঁচার আশায় পরিণত করেছিলেন।
নদীর ওপারে আজও সন্ধ্যার পর আলো জ্বলে।
আর সেই আলো যেন দূর থেকে বলে—
“অন্ধকার যত গভীরই হোক, একজন মানুষের ছোট্ট সাহসও অন্য কারও কাছে পথের দিশা হয়ে উঠতে পারে।”
নদী বয়ে চলে।
সময়ও বয়ে চলে।
মানুষ আসে, মানুষ চলে যায়।
কিন্তু কিছু আলো—
নদীর ওপারেও পৌঁছে যায়।
সমাপ্ত। 🪔🌊❤️

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

সরোজিনী নাইডু: কবিতার কোমলতা ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অদম্য সাহস—এক মহীয়সী নারীর জীবনকথা।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন কিছু নারী ছিলেন, যাঁরা একই সঙ্গে সাহিত্য, সমাজসংস্কার, রাজনীতি এবং দেশসেবার ক্ষেত্রে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। সরোজিনী নাইডু তাঁদের মধ্যে অন্যতম। তাঁর কণ্ঠে ছিল কবিতার মাধুর্য, আর তাঁর কথায় ছিল স্বাধীনতার দাবির দৃঢ়তা।
তিনি ছিলেন কবি, স্বাধীনতা সংগ্রামী, নারী অধিকারকর্মী এবং স্বাধীন ভারতের প্রথমদিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নারী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁর কবিতার জন্য তিনি যেমন ‘ভারতের নাইটিঙ্গেল’ নামে পরিচিত হন, তেমনই স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর সাহস তাঁকে জাতীয় ইতিহাসে একটি বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।
জন্ম ও পরিবার
সরোজিনী নাইডুর জন্ম ১৮৭৯ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি হায়দরাবাদে।
তাঁর পিতা অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন একজন শিক্ষাবিদ, বিজ্ঞানী ও সমাজসংস্কারক।
তাঁর মা বরদাসুন্দরী দেবী ছিলেন একজন কবি।
অর্থাৎ ছোটবেলা থেকেই সরোজিনীর পরিবারে শিক্ষা, সাহিত্য ও চিন্তার একটি সমৃদ্ধ পরিবেশ ছিল।
এই পরিবেশ তাঁর ব্যক্তিত্ব গঠনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল।
ছোটবেলা থেকেই অসাধারণ মেধা
সরোজিনী ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন।
মাত্র বারো বছর বয়সে তিনি ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন বলে তাঁর জীবনীতে উল্লেখ রয়েছে।
কৈশোরেই তিনি কবিতা ও সাহিত্যচর্চায় গভীরভাবে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।
তাঁর প্রতিভা দেখে পরিবারও বুঝতে পেরেছিল যে এই মেয়েটির ভবিষ্যৎ সাধারণ পথে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
বিদেশে উচ্চশিক্ষা
সরোজিনী নাইডু উচ্চশিক্ষার জন্য ইংল্যান্ডে যান।
তিনি লন্ডনের কিংস কলেজ এবং পরে কেমব্রিজের গার্টন কলেজে পড়াশোনা করেন।
বিদেশে থাকার সময় তিনি পাশ্চাত্য সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হন।
তবে বিদেশি পরিবেশে থেকেও তাঁর লেখায় ভারতীয় জীবন, প্রকৃতি, সংস্কৃতি এবং মানুষের অনুভূতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
কবি হিসেবে আত্মপ্রকাশ
সরোজিনী নাইডুর কবিতায় ভারতীয় প্রকৃতি, মানুষের জীবন, প্রেম, উৎসব, দুঃখ ও দেশপ্রেমের অনুভূতি ফুটে উঠেছে।
তাঁর কবিতার ভাষা ছিল সুরেলা ও আবেগময়।
তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে The Golden Threshold, The Bird of Time এবং The Broken Wing।
তাঁর সাহিত্যিক প্রতিভার জন্য তিনি ভারতীয় ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি হিসেবে পরিচিত হন।
‘ভারতের নাইটিঙ্গেল’
সরোজিনী নাইডুর কবিতার সুরেলা ভাষা ও সংগীতময়তার কারণে তাঁকে ‘Nightingale of India’, অর্থাৎ ‘ভারতের নাইটিঙ্গেল’ বলা হয়।
তাঁর কবিতায় শুধু সৌন্দর্য ছিল না; ছিল দেশপ্রেমও।
ক্রমে তাঁর সাহিত্যিক পরিচয় রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে মিশে যায়।
ব্যক্তিজীবনে সাহসী সিদ্ধান্ত
সরোজিনী নাইডুর বিবাহ হয় ড. গোবিন্দরাজুলু নাইডুর সঙ্গে।
তাঁদের বিবাহ ছিল আন্তঃজাতিগত বিবাহ।
সেই সময় এ ধরনের বিবাহ সামাজিকভাবে সহজভাবে গ্রহণ করা হতো না।
কিন্তু সরোজিনী নিজের জীবন সম্পর্কে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখিয়েছিলেন।
এটিও তাঁর স্বাধীনচেতা ব্যক্তিত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
রাজনীতিতে প্রবেশ
সরোজিনী নাইডুর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয় ধীরে ধীরে।
তিনি প্রথমে নারীশিক্ষা, নারী অধিকার এবং সামাজিক সংস্কারের বিষয় নিয়ে কথা বলতে শুরু করেন।
পরবর্তীকালে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হন।
তাঁর অসাধারণ বক্তৃতা ক্ষমতা তাঁকে দ্রুত জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখে পরিণত করে।
গান্ধিজির সঙ্গে সম্পর্ক
মহাত্মা গান্ধির নেতৃত্বে স্বাধীনতা আন্দোলনে সরোজিনী নাইডু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গান্ধির অহিংস আন্দোলনের প্রতি তাঁর গভীর বিশ্বাস ছিল।
তিনি ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে মানুষকে স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন।
তাঁর বক্তৃতা ছিল আবেগপূর্ণ, যুক্তিপূর্ণ এবং মানুষের হৃদয় স্পর্শ করার মতো।
নারী অধিকার নিয়ে কাজ
সরোজিনী নাইডু বিশ্বাস করতেন, দেশের স্বাধীনতার পাশাপাশি নারীর স্বাধীনতাও জরুরি।
তিনি নারীদের ভোটাধিকার, শিক্ষা এবং সামাজিক মর্যাদার পক্ষে কথা বলেন।
তিনি চেয়েছিলেন ভারতীয় নারীরা শুধু স্বাধীনতা আন্দোলনের দর্শক না থেকে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হোক।
নারীসমাজকে সংগঠিত করা
সরোজিনী বিভিন্ন সভা ও সম্মেলনে নারীদের সংগঠিত করেন।
তিনি তাঁদের ঘরের বাইরে এসে জাতীয় আন্দোলনে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।
তাঁর বক্তৃতায় একটি বিষয় বারবার ফিরে আসত—
দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুধু পুরুষদের সংগ্রাম নয়।
নারীরাও দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সমানভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি
১৯২৫ সালে সরোজিনী নাইডু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের কানপুর অধিবেশনে সভাপতি নির্বাচিত হন।
তিনি ছিলেন কংগ্রেসের প্রথম ভারতীয় মহিলা সভাপতি।
এর আগে অ্যানি বেসান্ত কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি হয়েছিলেন।
সরোজিনীর এই নেতৃত্ব ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
স্বাধীনতা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা
সরোজিনী নাইডু অসহযোগ আন্দোলন, আইন অমান্য আন্দোলন এবং বিভিন্ন জাতীয় আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
তিনি ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে দেশজুড়ে বক্তৃতা করেন।
তাঁকে বহুবার গ্রেফতারও করা হয়।
কিন্তু কারাবাস তাঁকে থামাতে পারেনি।
লবণ সত্যাগ্রহ
১৯৩০ সালের লবণ সত্যাগ্রহে সরোজিনী নাইডু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
গান্ধিজির নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই আন্দোলন ব্রিটিশ সরকারের লবণ আইনের বিরুদ্ধে এক বিশাল গণআন্দোলনে পরিণত হয়।
গান্ধিজির গ্রেফতারের পর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও সরোজিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
কারাবরণ
স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করার কারণে সরোজিনী নাইডুকে ব্রিটিশ সরকার একাধিকবার কারাবন্দি করে।
কারাগারের জীবন তাঁর জন্য কঠিন ছিল।
তবুও তিনি নিজের আদর্শ থেকে সরে যাননি।
তাঁর কাছে স্বাধীনতা শুধু একটি রাজনৈতিক শব্দ ছিল না; এটি ছিল মানুষের মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার।
ভারত ছাড়ো আন্দোলন
১৯৪২ সালে ‘ভারত ছাড়ো আন্দোলন’ শুরু হলে সরোজিনী নাইডুও এই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
বয়স বাড়লেও তাঁর রাজনৈতিক সক্রিয়তা কমেনি।
স্বাধীনতার শেষ পর্যায় পর্যন্ত তিনি জাতীয় আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্বাধীন ভারতের প্রথম নারী রাজ্যপালদের অন্যতম
ভারত স্বাধীন হওয়ার পর সরোজিনী নাইডু নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
তিনি যুক্তপ্রদেশের রাজ্যপাল হন, যা বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ নামে পরিচিত।
তিনি ভারতের প্রথমদিকের নারী রাজ্যপালদের মধ্যে অন্যতম এবং স্বাধীন ভারতের প্রশাসনিক কাঠামোতে নারীর নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।
সাহিত্য ও রাজনীতি—দুই জগতের সমন্বয়
সরোজিনী নাইডুর বিশেষত্ব ছিল তিনি একই সঙ্গে কবি ও রাজনীতিক ছিলেন।
তাঁর কবিতায় সৌন্দর্য ও আবেগ ছিল।
আর রাজনৈতিক বক্তৃতায় ছিল স্বাধীনতার আহ্বান।
এই দুই ভিন্ন জগতকে তিনি অসাধারণভাবে একত্রিত করেছিলেন।
তাঁর বক্তৃতার শক্তি
সরোজিনী নাইডু ছিলেন অসাধারণ বক্তা।
তিনি কঠিন রাজনৈতিক বিষয়ও সহজ ভাষায় মানুষের কাছে তুলে ধরতে পারতেন।
তাঁর কণ্ঠে ছিল আবেগ।
তাঁর কথায় ছিল দেশপ্রেম।
তাঁর বক্তৃতা শুনে বহু মানুষ স্বাধীনতা আন্দোলনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন।
ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য
সরোজিনী নাইডুর ব্যক্তিত্বে কয়েকটি বৈশিষ্ট্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
সাহস
ব্রিটিশ সরকারের ভয় তাঁকে দমিয়ে রাখতে পারেনি।
সৃজনশীলতা
তিনি সাহিত্যকে সামাজিক ও জাতীয় চেতনা জাগানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন।
নেতৃত্ব
তিনি জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং স্বাধীন ভারতের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
মানবিকতা
দেশের সাধারণ মানুষের দুঃখ ও অধিকার নিয়ে তিনি গভীরভাবে চিন্তা করতেন।
নারীমুক্তির ভাবনা
তিনি বিশ্বাস করতেন, দেশের উন্নতি নারীর উন্নতি ছাড়া সম্ভব নয়।
বর্তমান প্রজন্মের জন্য শিক্ষা
সরোজিনী নাইডুর জীবন আজও আমাদের অনেক কিছু শেখায়।
প্রথমত, একজন মানুষ একই সঙ্গে একাধিক ক্ষেত্রে সফল হতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, প্রতিভা ও শিক্ষাকে সমাজের বৃহত্তর কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত।
তৃতীয়ত, নারীদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
চতুর্থত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ করা যায়।
পঞ্চমত, দেশের স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায় একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।
তাঁর মৃত্যু
সরোজিনী নাইডু ১৯৪৯ সালের ২ মার্চ লখনউতে মৃত্যুবরণ করেন।
স্বাধীন ভারতের মাত্র কয়েক বছর পর তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর জীবন ছিল ব্রিটিশ ভারতের ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন ভারতের জন্ম পর্যন্ত এক দীর্ঘ ঐতিহাসিক যাত্রার সাক্ষী।
তাঁর উত্তরাধিকার
আজও ভারতের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সরোজিনী নাইডুর জীবন পড়ানো হয়।
তাঁর কবিতা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে সমাদৃত।
স্বাধীনতা সংগ্রামে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
আর নারী নেতৃত্বের ক্ষেত্রে তাঁর জীবন আজও একটি অনুপ্রেরণা।
উপসংহার
সরোজিনী নাইডু ছিলেন এক অসাধারণ সমন্বয়ের নাম।
তিনি ছিলেন কবি, কিন্তু শুধু কবিতার জগতে আটকে থাকেননি।
তিনি ছিলেন রাজনীতিক, কিন্তু শুধু ক্ষমতার রাজনীতি করেননি।
তিনি ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী, কিন্তু শুধু প্রতিবাদ করেননি—মানুষকে সংগঠিত করেছেন।
তিনি ছিলেন নারী অধিকারকর্মী, কিন্তু শুধু নারীদের জন্য নয়—সমগ্র দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়েছেন।
সরোজিনী নাইডুর জীবন তাই আমাদের শেখায়—একজন নারীর কণ্ঠ যখন জ্ঞান, সাহস ও মানবিকতার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেই কণ্ঠ শুধু একটি পরিবারকে নয়, একটি জাতিকেও জাগিয়ে তুলতে পারে।
তাঁর জীবন যেন আজও আমাদের বলে—
“স্বপ্ন দেখো, কথা বলো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও এবং নিজের প্রতিভাকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করো—তবেই জীবন সত্যিকার অর্থে অর্থপূর্ণ হয়ে ওঠে।”

Share This