Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২ নভেম্বর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ২ নভেম্বর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৯ – অরুণ মিত্র, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রথিতযশা কবি ও ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের খ্যাতনামা অধ্যাপক ও অনুবাদক।

১৯১১ – অডয়সেয়ান ইয়টিস, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী গ্রিক কবি।

 

১৯২৯ – (ক)  – অমর গোপাল বসু, বাঙালি ভারতীয়-আমেরিকান ইলেক্ট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার, সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, বিশ্বখ্যাত অডিও ইকু্ইপমেন্ট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোস কর্পোরেশন এর প্রতিষ্ঠাতা।

(ক)নোবেল পুরস্কার বিজয়ী কানাডীয়-মার্কিন পদার্থবিদ ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড এডওয়ার্ড টেইলর।

 

১৯৩৫ – শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক ও গল্পকার।

১৯৫৯ – স্কটিশ অভিনেতা, পরিচালক, চিত্রনাট্যকার পিটার মুলান।

 

১৯৬৫ – শাহরুখ খান, ভারতীয় অভিনেতা।

১৯৭২ – সামান্থা এমাক অ্যাণ্ড, ইংরেজ অভিনেত্রী, গায়ক ও পরিচালক।

 

১৯৭৭ – অস্ট্রেলীয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিক্টর ট্রম্পার।

 

১৯৮২ – ফরাসি ফুটবলার চার্লস ইটান্ডজে।

১৮১৫ – জর্জ বুল, ইংরেজ গণিতবিদ ও দার্শনিক।

 

১৮৩৩ – মহেন্দ্রলাল সরকার, ভারতীয় চিকিৎসক ও অধ্যাপক।

 

১৮৬৫ – ওয়ারেন জি. হার্ডিং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৯তম রাষ্ট্রপতি।

১৮৭৭ – ভিক্টর ট্রাম্পার, অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।

 

১৮৮৬ – বাংলাভাষার প্রথম প্রাণপুরুষ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ।

১৮৯৮ – জাকির হুসাইন, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর।

 

১৭৯৫ – জেমস কে. পোক, আমেরিকান আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ১১ তম প্রেসিডেন্ট।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯১৪ – রাশিয়া ওসমানীয় সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে।

১৯১৬ – ব্রিটেনের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেমস আর্থার বেলফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য আবাসভূমি বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে ব্রিটেনের সম্মতির কথা ঘোষণা করেন।

১৯২০ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের প্রথম নিয়মিত বেতার সম্প্রচার শুরু হয়।

১৯৩০ – হাইলে সোলাসি ইথিওপিয়ার সম্রাট হন।

১৯৪৯ – ইন্দোনেশিয়া স্বাধীনতা লাভ করে। এর আগে দেশটি সাড়ে তিনশ বছর ধরে হল্যান্ডের উপনিবেশ ছিল।

১৯৫৭ – সোভিয়েট ইউনিয়ন স্পুটনিক -২ নামে ২য় বারের মত কৃএিম উপগ্রহ মহাকাশে প্রেরণ করে।

১৯৬৩ – সৌদি আরবের রাজা সাউদকে সরিয়ে তার সৎভাই ফয়সাল রাজা হন।

১৮৮০ – জেমস গার্ফিল্ড যুক্তরাষ্ট্রের ২০তম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৮৭৬ – কেশবচন্দ্র সেনের উদ্যোগে ‘ইন্ডিয়ান রিফর্মার অ্যাসোসিয়েশন’ বা ‘ভারত সংস্কার সভা’ স্থাপিত হয়।

১৮৮৯ – উত্তর ডাকোটা ও দক্ষিণ ডাকোটা যুক্তরাষ্ট্রের যথাক্রমে ৩৯ ও ৪০তম রাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়।

১৭৭২ – মর্নিং পোস্ট পত্রিকার প্রথম প্রকাশ।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৭ – দক্ষিণ আফ্রিকার অভিনেতা হেনরি কেলে।

২০১২ – সুইডিশ অভিনেতা, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার হান্স লিন্ডগ্রেন।

২০১৩ – ক্লিফোর্ড নাস, আমেরিকান লেখক ও অধ্যাপক।

১৯৫০ – জর্জ বার্নার্ড শ’, নোবেলজয়ী আইরিশ নাট্যকার।

১৯৬৩ – এনজিও ডিনহ ডিয়েম, ভিয়েতনামী রাজনীতিবিদ, ১ম রাষ্ট্রপতি।

 

১৯৬৬ – পিটার জোসেফ উইলিয়াম ডিবাই, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ডাচ বংশোদ্ভূত আমেরিকান পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ।

 

১৯৭৪ – বাংলাদেশের বিশিষ্ট সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও লেখক বরকতউল্লাহ।

 

১৯৭৫ – পিয়ের পাওলো পাসোলিনি, ইতালিয়ান অভিনেতা, পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।

 

১৯৯৬ – ইভা ক্যাসিডি, আমেরিকান গায়ক ও গিটারিস্ট।

 

১৮১৮ – স্যামুয়েল রোমিলি, বিখ্যাত ব্রিটিশ আইন সংস্কারক।

১৮৪৬ – যিশাইয়র টেগ্নের, সুইডিশ কবি ও বিশপ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অরুণ মিত্র, বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রথিতযশা কবি ও ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের খ্যাতনামা অধ্যাপক ও অনুবাদক।

অরুণ মিত্র রবীন্দ্রোত্তর বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি। তিনি ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপক এবং অনুবাদক হিসাবেও বিখ্যাত ছিলেন। পেশাগতভাবে, তিনি একজন অধ্যাপক ছিলেন।

 

জন্ম ও শিক্ষা—

 

কবি অরুণ মিত্র ১৯০৯ সালের ২ নভেম্বর বর্তমান বাংলাদেশের যশোরে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতার নাম হীরালাল মিত্র এবং মাতার নাম যামিনীবালা দেবী।  অরুণ মিত্র অল্প বয়সেই কলকাতায় চলে আসেন।  তাঁর শিক্ষাজীবন শুরু হয় কলকাতার বঙ্গবাসী স্কুলে।  তিনি ১৯২৬ সালে এই বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। ১৯২৮ সালে বঙ্গবাসী কলেজ থেকে আইসিএস পরীক্ষায় এবং ১৯৩০ সালে রিপন কলেজ (বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে ডিস্টিঙ্কশনসহ বিএ পাস করেন। এই সময়ে তিনি সাহিত্যের চেয়ে সঙ্গীতের প্রতি বেশি আগ্রহ দেখান।  এই সময়েই ভিক্টর হুগোর উপন্যাসগুলি ইংরেজি অনুবাদে পড়া হয় এবং তিনি ফরাসি সাহিত্যের প্রতি আকৃষ্ট হন এবং ফরাসি ভাষা শিখতে শুরু করেন।  বিএ পাস করার পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ শুরু করেন।

 

কর্মজীবন—

 

বাবা-মায়ের বড় ছেলে হওয়ায় পারিবারিক দায়িত্বের চাপে এমএ না করেই ১৯৩১ সালে আনন্দবাজার পত্রিকায় চাকরি নিতে বাধ্য হন। তিনি ১৯৪২ সাল পর্যন্ত আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, কবি ও সাহিত্যিকদের সঙ্গে পরিচিত হন।  বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও বুদ্ধিজীবী সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদার ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমে তাঁর নিকটাত্মীয় ছিলেন।  আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করার সময় অরুণ মিত্র মার্কসবাদের প্রতি আকৃষ্ট হন।  তার ভিত্তিতে ‘বেঙ্গিয়া প্রগতি লেখক সমিতি’ ও ‘সোভিয়েত সুহৃদ সমিতি’র সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।  আনন্দবাজার ছেড়ে তিনি সতেন্দ্রনাথ মজুমদার সম্পাদিত ‘অরণি’ পত্রিকায় যোগ দেন।  ফরাসি সরকারের আমন্ত্রণে, ১৮৪৮ সালে তিনি একটি বৃত্তি গ্রহণ করেন এবং গবেষণার উদ্দেশ্যে ফ্রান্সে যান।  গবেষণা কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি প্যারিসের সোরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট পান।  ফরাসি সাহিত্য অধ্যয়ন করার পর, তিনি ১৯৫২ সালে দেশে ফিরে আসেন এবং এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে ফরাসি ভাষা ও সাহিত্যের অধ্যাপকের পদ গ্রহণ করেন।  এরপর পরিবারটি বিশ বছর এলাহাবাদে বসবাস করেন।  তিনি ১৯৭২ সালে কর্মজীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন এবং কলকাতায় ফিরে আসেন।

 

সাহিত্য—

 

শুধু রাতের শব্দ নয় কাব্যগ্রন্থটি ১৯৭৯ সালে রবীন্দ্র পুরস্কারে এবং খুঁজতে খুঁজতে এতদূর কাব্যগ্রন্থখানি ১৯৮৭ সালে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হয়। তার কাব্য সংকলন পনেরো খণ্ডে প্রকাশিত হয়েছে। তার মৌলিক কাব্যগ্রন্থগুলি হল শুধু রাতের শব্দ নয়, প্রথম পলি শেষ পাথর ও খুঁজতে খুঁজতে এতদূর,   প্রান্তরেখা , উৎসের দিকে , ঘনিষ্ঠ তাপ, মঞ্চের বাইরে মাটিতে ।

 

গ্রন্থাবলী—

 

বাংলায় তিনি একাধিক গ্রন্থ অনুবাদও করেছেন। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভারত: আজ ও আগামীকাল , কাঁদিদ বা আশাবাদ , সে এক ঝোড়ো বছর, ভারতীয় থিয়েটার, গাছের কথা, মায়াকোভস্কি , সার্ত্র ও তাঁর শেষ সংলাপ, অন্যস্বর  ও পল এলুয়রের কবিতা ।

 

১৯৯০ সালে রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি. লিট. উপাধি প্রদান করে।   ফরাসি ভাষা এবং ফরাসি সাহিত্যের উপর ক্রমাগত গবেষণার জন্য তিনি ১৯৯২ সালে ফরাসি সরকার কর্তৃক লিজিয়ন অফ অনারে ভূষিত হন। লেখকের স্ত্রী শান্তি মিত্র (সত্যেন্দ্রনাথ মজুমদারের ভাইঝি) হলেন প্রখ্যাত ভারতীয় বাঙালি অভিনেত্রী তৃপ্তি মিত্র, অগ্রজা, বিখ্যাত অভিনেত্রী ।

 

মৃত্যু–

 

২০০০ সালের ২২ আগস্ট কলকাতায় অরুণ মিত্র প্রয়াত হন।

 

।।তথ্য: সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

তিন দশক ধরে ‘কিং’ শাহরুখই – জন্মদিনে বিশেষ প্রতিবেদেন।

 

শাহরুখ খান ১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর নয়াদিল্লিতে একটি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তার বাবা ভারতের নয়াদিল্লির পাঠান বংশোদ্ভূত।  তাঁর পিতা মীর তাজ মোহাম্মদ খান ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন কর্মী।  তিনি খান আব্দুল গাফফার খানের অনুসারী ছিলেন এবং ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাথে যুক্ত ছিলেন।  তিনি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পেশোয়ারে (বর্তমানে পাকিস্তান) থাকতেন এবং ১৯৪৮ সালে ভারত বিভাগের পর পেশোয়ারের কিসা খাওয়ানি বাজার থেকে নয়াদিল্লিতে চলে আসেন।
শাহরুখ খান, অনানুষ্ঠানিকভাবে এসআরকে নামে পরিচিত, যিনি তাঁর আদ্যক্ষর থেকে গঠিত, একজন ভারতীয় অভিনেতা, প্রযোজক, টেলিভিশন উপস্থাপক।

শাহরুখ খান ৮০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।  যাইহোক, তিনি চৌদ্দটি ফিল্মফেয়ার পুরস্কার সহ অসংখ্য পুরস্কার জিতেছেন, যার মধ্যে আটটি ছিল সেরা অভিনেতার জন্য।  ২০০২ সালে, শাহরুখ খানকে হিন্দি সিনেমায় অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার পদ্মশ্রী পুরস্কারে ভূষিত করে এবং ফ্রান্স সরকার তাঁকে Ordre des Arts et de Lettre এবং Legion d’Honneur উপাধিতে ভূষিত করে।  অভিনেতা হিসাবে বিশ্বব্যাপী অবদানের জন্য শাহরুখ খানকে স্কটল্যান্ডের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়, এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় দ্বারা সম্মানসূচক ডক্টরেট প্রদান করা হয়েছে।  এশিয়া এবং বিশ্বব্যাপী তাঁর ভারতীয় বংশোদ্ভূত প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ভক্ত রয়েছে এবং ৫০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ রয়েছে।  ওয়েলথ-এক্স অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে ধনী হলিউড-বলিউড তারকাদের তালিকায় শাহরুখ খান দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তাঁর চলচ্চিত্রের দর্শক সংখ্যা এবং আয়ের দিক থেকে তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সফল চলচ্চিত্র তারকা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
শাহরুখ খান 1980 এর দশকের শেষদিকে বেশ কয়েকটি টেলিভিশন সিরিয়ালে অভিনয়ের মাধ্যমে তার অভিনয় জীবন শুরু করেন।

 

১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দিওয়ানা চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। তিনি কর্মজীবনের শুরুর দিকে খল চরিত্রে ডর, বাজিগর, ও আঞ্জাম চলচ্চিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি লাভ করেন। এরপর তিনি অসংখ্য বাণিজ্যিকভাবে সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এবং খ্যাতি অর্জন করেন। তন্মধ্যে রয়েছে দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে, দিল তো পাগল হ্যায়, কুছ কুছ হোতা হ্যায়, মোহাব্বতে, ও কভি খুশি কভি গম। তিনি দেবদাস-এ মদ্যপ জমিদার পুত্র দেবদাস মুখার্জি, স্বদেশ-এ নাসার বিজ্ঞানী, চাক দে! ইন্ডিয়া-এ হকি কোচ ও মাই নেম ইজ খান-এ অ্যাসপারগারের লক্ষণে আক্রান্ত ব্যক্তি চরিত্রে অভিনয় করে সমাদৃত হন। তাঁর সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রসমূহ হল প্রণয়ধর্মী হাস্যরসাত্মক ছবি চেন্নাই এক্সপ্রেস, উত্তেজনাপূর্ণ হাস্যরসাত্মক ছবি হ্যাপি নিউ ইয়ার, মারপিটধর্মী ছবি দিলওয়ালে এবং অপরাধমূলক ছবি রইস । স্বল্প বিরতির পর শাহরুখ মারপিটধর্মী চলচ্চিত্র পাঠান  দিয়ে ফিরে আসেন, যেটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি চলচ্চিত্র।

২০১৫ সাল থেকে, শাহরুখ খান চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট এবং এর সহযোগী সংস্থাগুলির সহ-চেয়ারম্যান এবং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দল কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ দল ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের সহ-মালিক৷  তাঁকে প্রায়ই টেলিভিশন শো হোস্ট করতে এবং স্টেজ শোতে পারফর্ম করতে দেখা যায়।  তার পণ্য অনুমোদন এবং শিল্পায়নের জন্য মিডিয়া তাঁকে প্রায়শই “ব্র্যান্ড এসআরকে” হিসাবে উল্লেখ করে।  তিনি শিশুদের শিক্ষায় অবদানের জন্য UNESCO দ্বারা পিরামিড কন মার্নি পুরস্কারে ভূষিত হন এবং ভারতে নারী ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় তার নেতৃত্বের জন্য ২০১৮ সালে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম তাঁকে ক্রিস্টাল পুরস্কার প্রদান করে।  তিনি প্রায়শই ভারতীয় সংস্কৃতির সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের তালিকাভুক্ত হন।  ২০০৮ সালে, নিউজউইক তাকে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ৫০ জন ব্যক্তির মধ্যে একজন হিসেবে নামকরণ করে। কঠোর পরিশ্রম করতে পারেন শাহরুখ। মাত্র চার পাঁচ ঘণ্টা ঘুমান তিনি। তাঁর প্রিয় উক্তি হলো, ‘ঘুমানো মানে জীবন নষ্ট করা’।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বাংলাভাষার প্রথম প্রাণপুরুষ আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

মানুষের অধিকার আর মাতৃভূমির প্রতি নিবেদিত শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের জন্মদিন আজ।

 

শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত – একজন বাঙালি আইনজীবী, সমাজকর্মী, ভাষা সৈনিক।  তিনি মূলত রাজনীতিবিদ হিসেবেই পরিচিত।  তিনি দেশভাগের আগে ভারতীয় উপমহাদেশের ভারতীয় অংশে এবং পরে পূর্ব পাকিস্তানে রাজনীতিবিদ হিসেবে সক্রিয় ছিলেন।

 

প্রাথমিক জীবন—

 

ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৮৮৬ সালের ২ নভেম্বর তৎকালীন বাংলার ত্রিপুরা (বর্তমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া) জেলার রামরাইল গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত কায়স্থ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা জগবন্ধু দত্ত কসবা ও নবীনগর মুন্সেফ আদালতের প্রধান বিচারপতি ছিলেন।  ধীরেন্দ্রনাথ নবীনগর হাই স্কুল, কুমিল্লা কলেজ এবং কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজে অধ্যয়ন করেন।  তিনি ১৯০৪ সালে নবীনগর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন, ১৯০৬ সালে কুমিল্লা কলেজ থেকে এফ.এ.  কলকাতার রিপন কলেজ থেকে ১৯০৮ সালে বিএ এবং ১৯১০ সালে একই কলেজ থেকে বিএল পাস করেন।

 

 

কর্মজীবন—

 

ধীরেন্দ্রনাথের কর্মজীবন শুরু হয় শিক্ষকতার মধ্য দিয়ে। এরপর আইন পেশায় নিয়োজিত হন। তবে রাজনীতি ও আইন পেশার পাশাপাশি তিনি আমৃত্যু দেশ ও মানুষের কল্যাণে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি প্রায় এক বছর কুমিল্লার মুরাদনগরের বাঙ্গুড়া উমালোচন উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন।  তিনি ১৯১১ সালে কুমিল্লা জেলা বারে আইন চর্চার জন্য যোগ দেন।  ১৯০৭ সালে, তিনি ত্রিপুরা হিতসাধনী সভার সম্পাদক নির্বাচিত হন এবং ১৯১৫ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণে অংশ নেন। মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ অনুসরণ করে তিনি ‘মুক্তি সংঘ’ নামে একটি সমাজকল্যাণ সংস্থা গঠন করেন। তিনি কুমিল্লার একটি সুপরিচিত জাতীয়তাবাদী সংগঠন অভয় আশ্রমের কার্যক্রমের সাথেও জড়িত ছিলেন এবং ১৯৩৬ সালে ত্রিপুরা (বর্তমানে কুমিল্লা) জেলা বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দুর্ভিক্ষের সময় ত্রাণসামগ্রী বিতরণে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

 

ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম—

 

সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী এবং ব্যারিস্টার আবদুর রসূলের রাজনৈতিক মতাদর্শ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তিনি ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে যোগদান করেন। ১৯১৯ সালে ময়মনসিংহ শহরে অনুষ্ঠিত বঙ্গীয় প্রাদেশিক কংগ্রেসের সম্মেলনে তিনি অংশগ্রহণ করেন।  দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের আহ্বানে তিনি তিন মাসের জন্য আইন প্র্যাকটিস স্থগিত করেন এবং অসহযোগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।  ১৯৩৭ সালে তিনি বেঙ্গল এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন।  ধীরেন দত্ত বেঙ্গল প্রজাস্বত্ব আইন সংশোধন, বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল বর্রোয়ার্স এবং বেঙ্গল মানিলেন্ডার অ্যাক্ট পাসের সাথে যুক্ত ছিলেন।  তিনি ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে যোগ দেন। ব্রিটিশ বিরোধী কার্যকলাপের জন্য তিনি বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হন এবং বিভিন্ন কারাগারে কঠোর ও দ্রুত সাজা ভোগ করেন।

মুক্তিযুদ্ধ—

 

১৯৬০ সালে, পাকিস্তানে সামরিক শাসন জারি করার পর ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ‘এবডো’-এর শিকার হন।  ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় তাকে গৃহবন্দী করা হয়েছিল এবং তারপর থেকে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত ছিলেন।  তা সত্ত্বেও বাঙালি জাতীয়তাবাদে বিশ্বাসী ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গুরুত্বপূর্ণ বাঙালি নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।  ১৯৭১ সালের ২৯শে মার্চ রাতে কুমিল্লার কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী অ্যাডভোকেট আব্দুল করিমের তত্ত্বাবধানে ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ তাঁর ছোট ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে গ্রেফতার করে ময়নামতি সেনানিবাসে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।

 

পুরস্কার ও সম্মননা—

 

১৯৯৭ সালে দেশের “সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার” হিসাবে তাকে “ভাষা ও স্বাধীনতা আন্দোলনে স্বাধীনতা পুরস্কার” প্রদান করা হয় বাংলা ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও এদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে অসাধারণ অবদানের জন্য।

 

মৃত্যু—

 

২৯ মার্চ, ১৯৭১ সালে তিনি প্রয়াত হন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

জীবন ঘোষাল – ভারত উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব, একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের কঠোর পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়। এই অন্দোলনে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে জীবন ঘোষাল প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। জীবন ঘোষাল ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

জীবন ঘোষাল ওরফে মাখনলাল ছিলেন একজন ভারতীয় স্বাধীনতা কর্মী এবং মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের একজন সদস্য, যেটি ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগারে অভিযান চালিয়েছিলেন।

বিপ্লবী কার্যক্রম—

 

ঘোষাল ব্রিটিশ ভারতের চট্টগ্রামের সদরঘাটে একটি ব্রাহ্মণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি মাখনলাল নামে পরিচিত ছিলেন।  তাঁর পিতার নাম যশোদা ঘোষাল। ছাত্রজীবনেই তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন।  ঘোষাল চট্টগ্রামে পুলিশের অস্ত্রাগার অভিযানে সক্রিয় অংশ নেন।  ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১৮ই এপ্রিল মধ্যরাত্রে চট্টগ্রামের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার মধ্যদিয়ে এই বিদ্রোহ শুরু হয়। ১৮ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত চারদিন কার্যত স্বাধীন থাকে চট্টগ্রাম। মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে সংগঠিত এই বিদ্রোহের অন্যতম নায়ক বিপ্লবী জীবন ঘোষাল। প্রয়োজনীয় অস্ত্র সংগ্রহের জন্য চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন এবং কেন্দ্রীয় অস্ত্রাগারে হামলা চালায় বিপ্লবীরা। পুলিশের অস্ত্রাগার দখলের জন্য গঠিত দলে ছিলেন জীবন ঘোষাল। তাঁরা সফলভাবে তাঁদের দায়িত্ব পালন করতে সমর্থ হন। এই সময় অতিরিক্ত অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংসের নিমিত্তে আগুন লাগাতে গেলে হিমাংশু সেন আহত হন। তাঁকে নিরাপদে রেখে আসার জন্য গনেশ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, জীবন ঘোষাল ও আনন্দ গুপ্ত তাকে নিয়ে শহরে গেলে মূল দলের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান তাঁরা। অস্ত্রাগার দখলের পর সেখানে বিপ্লবীদের হেডকোয়ার্টার স্থাপন করা হয় এবং ভারতীয় পতাকা উত্তোলন ও ঘোষণাপত্র পাঠের মধ্য দিয়ে মাস্টারদা সূর্যসেনের নেতৃত্বে গঠিত হয় সামরিক সরকার। চট্টগ্রাম ব্রিটিশ শাসনমুক্ত হয় বীর চট্টলার গুটিকয় দামাল তরুণের অসীম সাহসী উদ্যোগে। তাঁদের এই বিদ্রোহ শোষণ-বঞ্চনার আঁধারে ঢাকা ভারতবাসীকে সূর্যোদয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছিল।

 

অপারেশনের পর তিনি আরেক তরুণ বিপ্লবী আনন্দ গুপ্তের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে কলকাতার দিকে পালিয়ে যান।  গ্রুপের দুই সিনিয়র সদস্য, গণেশ ঘোষ এবং অনন্ত সিং তাদের যাত্রায় তাদের সঙ্গে ছিলেন।  পুলিশ ফেনী রেলওয়ে স্টেশনে দলটিকে চ্যালেঞ্জ করলেও শেষ পর্যন্ত ঘোষাল ও অন্যরা একটি সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর পালাতে সফল হয়।  তিনি কলকাতা, মির্জাপুর গলিতে এবং হুগলি জেলার চন্দননগরে আশ্রয় নেন।

 

মৃত্যু—

 

পালানোর পর ঘোষাল আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিলেন।  পুলিশ কমিশনার চার্লস টেগার্ট ১৯৩০ সালের ১ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে গোপন আস্তানায় আক্রমণ করেন এবং পরবর্তী যুদ্ধে ঘোষাল নিহত হন।বিপ্লবী জীবন ঘোষালও দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের অনুপ্রাণিত করেছিল ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় সম্বন্ধে দুটি কথা : দিলীপ রায়।।।

আমাদের দেশের প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য কথাশিল্পী বিভূতিভূষণ  বন্দোপাদ্যায়কে শৈশব থেকেই মুগ্ধ করত  । যার জন্য তিনি নিবিড়ভাবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন গ্রাম বাংলার এখানে সেখানে লুকিয়ে থাকা ঝোঁপ-জঙ্গল, লতা-পাতা, বিভিন্ন ধরনের ফুল, নানান প্রজাতির পশু-পাখি, পথ-ঘাট, নদী-নালা, ইত্যাদি । পরবর্তী কালে  প্রকৃতির প্রতি  তাঁর অগাধ ভালবাসার  অভিজ্ঞতা নানাভাবে তাঁর রচনাকে প্রভাবিত ও  সমৃদ্ধ করেছে, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়  । তাঁর অনুভবী এবং সংবেদনশীল মন দিয়ে প্রকৃতির অসামান্য রূপ বর্ণনা করে সাহিত্য সম্ভারকে অন্যতর ভূমিকায় উদ্ভাসিত করেছেন । সেই কারণে আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি,   তাঁর সৃজনশীল সাহিত্য প্রতিভা, অবর্ণনীয় !
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ১২ই সেপ্টেম্বর ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতবর্ষের বাংলা প্রদেশের চব্বিশ পরগণা জেলার কাঁচরাপাড়ার সন্নিকট ঘোষপুর-মুড়াতিপুর গ্রামে মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন  ।  তিনি ছিলেন প্রখ্যাত মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায় ও মৃণালিনী দেবীর পাঁচটি সন্তানের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সন্তান, অর্থাৎ বিভূতিভূষণ দুই ভাই এবং  তিন বোনের মধ্যে ছিলেন সবার বড় । তাঁর বাবা  ছিলেন  তদানীন্তনকালের একজন প্রখ্যাত সংস্কৃত বিষয়ক পণ্ডিত  । মহানন্দ বন্দোপাধ্যায়ের পাণ্ডিত্য  ও  কথকতার জন্য শাস্ত্রী উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন । উল্লেখ থাকে যে, তাঁদের আদি নিবাস ছিল যশোর জেলার ( বর্তমান চব্বিশ পরগনা জেলার ) অন্তর্ভুক্ত বনগ্রাম মহকুমায় অবস্থিত ইছামতী নদীর তীরে ব্যারাকপুর গ্রামে । শোনা যায়  বাবা মহানন্দ বন্দোপাধ্যায় কথকতা ও পৌরাহিত্য করতেন বলে,  তাঁর  বাল্য ও কৈশোর জীবন কাটে দারিদ্র্য , অভাব  ও  অনটনের মধ্যে । বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে প্রথমে গৌরী দেবী  ও পরে ১৯৪০ খ্রিস্টাব্দে রমা দেবীর সাথে দাম্পত্য জীবনে আবদ্ধ হন ।
এবার আসছি তাঁর শিক্ষা জীবন সম্পর্কে  ।  বাবা মহানন্দ বন্দোপাধ্যায়ের কাছে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের শিক্ষার হাতেখড়ি  । লেখাপড়ার পাঠ শুরু  । ছোট থেকেই মেধাবী হওয়ার কারণে নিজ গ্রামের  পাঠশালায় পড়াশোনার পর বনগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে অবৈতনিক শিক্ষার্থী হিসাবে ভর্তি হন  । ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দে বনগ্রাম হাইস্কুল থেকে এনট্রান্স পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন । ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার রিপন কলেজ (অর্থাৎ বর্তমান সুরেন্দ্রনাথ কলেজ) থেকে আই-এ পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ হন । ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে রিপন কলেজ থেকেই বি.এ পরীক্ষায় ডিস্টিংশন সহ উত্তীর্ণ হন । উচ্চতর পড়াশোনার জন্য এম.এ ও আইন বিষয়ে ভর্তি হন । কিন্তু পরিবারের চাপে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে পড়াশোনা ছেড়ে দেন।
এবার আসছি তাঁর কর্ম জীবন সম্পর্কে ।   হুগলী জেলার জাঙ্গিপাড়া গ্রামের বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবনে প্রবেশ । এরপরে সোনারপুর হরিনাভী স্কুলেও শিক্ষাকতা করেন  । ঐ সময়ে গৌরী দেবীর মৃত্যু হলে মনের কষ্টে  সন্ন্যাস গ্রহণ করেন । সেখান থেকে ফিরে এসে খেলৎচন্দ্র ঘোষের বাড়িতে গৃহ শিক্ষক ও সেক্রেটারি হিসাবে কাজ  করা শুরু করেন । পরবর্তীকালে  খেলৎচন্দ্রের  সুপারিশ ক্রমে ভাগলপুর সার্কেলের সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন  । ভাগলপুরে প্রবাসী হিসাবে বসবাস করতে থাকেন, এখানেই তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস “পথের পাঁচালী” রচিত হয় । এভাবে কিছুদিন কাটানোর পর ধর্মতলায় খেলাৎচন্দ্র মেমোরিয়াল স্কুলে শিক্ষকতা করেন । পরে বনগাঁর নিকট গোপালনগর হরিপদ ইনস্টিটিউশনে আমৃত্যু জীবন পর্যন্ত  শিক্ষাকতা করতে থাকেন ।
সাহিত্য সম্বন্ধে আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি, ১৯২১ খ্রিস্টাব্দে প্রবাসী পত্রিকায় “উপেক্ষিতা”  নামক গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে  তাঁর সাহিত্য জীবনে সূত্রপাত  ।  ভাগলপুরের বাঙালিটোলায়  জমিদারির সেরেস্তায় নায়েবের কাজ নিয়ে চলে আসার পর “পথের পাঁচালী” উপন্যাস লেখার মধ্য দিয়ে ভাগলপুরে তাঁর লেখকজীবনের সূত্রপাত  ।  উল্লেখ থাকে যে,  ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ভাগলপুরে বসবাস কালীন  সময়ে  “পথের পাঁচালী”  রচনা শুরু   এবং ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে সেই লেখার শেষ  ।  এই ভাগলপুরের বাঙালিটোলায় লেখক বিভূতিভূষণকে আবিষ্কার করেন যিনি, তাঁর নাম উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় । এখানে একটা কথা ভীষণ প্রাসঙ্গিক,  উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় সাহিত্য ইতিহাসে বিখ্যাত হয়ে আছেন দুজন বিখ্যাত সাহিত্যিককে আবিষ্কার করার কারণে । তাঁদের মধ্যে প্রথমজন হলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর দ্বিতীয়জন হলেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় । উপেন্দ্রনাথ একদিকে সাহিত্যপাগল, অন্যদিকে মজলিসি । তাঁর বাড়ির কাছারিঘরে নিত্যদিন জমজমাট সাহিত্য আড্ডা বসতো । সেই আড্ডায়  অপরিচিত যুবক বিভূতিভূষণের ছিল নিত্য যাতায়াত । বৈঠকখানার সেই আড্ডায়  বিভিন্নরকম  সাহিত্য বিষয়ক আলোচনা ও  মন্তব্যে সকলে মেতে উঠতেন । কিন্তু এই যুবকটি কোনো আলোচনায়  অংশগ্রহণ করতেন  না । একদিন বৈশাখ মাসের  বিকেলের আড্ডায় কেউ উপস্থিত হলেন না ।  উপেন্দ্রনাথ কাছারিঘর থেকে নেমে উঁকি দিয়ে দেখলেন বাইরে রাস্তার উপরে একটি লণ্ঠনের  আলো,  সঙ্গে একটা ছায়ামূর্তি । সেই  ছায়ামূর্তি এসে হাজির হলো তাঁর বৈঠকখানায় । আড্ডারঘরে  একেবারে পেছনের বেঞ্চে গিয়ে বিভূতিভূষণ বসলেন । উপেন্দ্রনাথ বললেন, “একি ! আপনি পেছনে বসলেন কেন ?” প্রত্যুত্তরে বিভূতিভূষণ বললেন, “আরো অনেকে আসবেন, আমি কীভাবে সামনের বেঞ্চটিতে বসি ।“   উপেন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গে বললেন, “আজকে মনে হচ্ছে আর কেউ আসবেন  না । আসুন, আপনি সামনের চেয়ারটাতে বসুন ।“  নানাবিধ গালগল্পের মধ্যে উপেন্দ্রনাথ হঠাৎ বিভূতিভূষণকে জিজ্ঞেস করলেন, তা আপনার কবিতা কিংবা গল্প-উপন্যাস লেখার বাতিকটাতিক আছে নাকি ? বিভূতিভূষণ উত্তরে বললেন,  “না, তেমন কিছু নয়,  একটা উপন্যাস লিখেছি ।“  কিন্তু লেখাটি আদৌ মানসম্পন্ন হয়েছে কিনা বুঝতে পারছি না ! উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায় বিভূতিভূষণকে উদ্দেশ্য করে বললেন,  “তাহলে উপন্যাসের খাতাটি একবার নিয়ে আসুন । দেখি কেমন উপন্যাস লিখেছেন আপনি ?”  এই কথোপকথনের  কয়েক দিনের মধ্যে  বিভূতিভূষণ তাঁর  “পথের পাঁচালী”  উপন্যাসের পাণ্ডুলিপি জমা দিয়ে গেলেন উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের কাছে । তারপর কিছুদিন বাদে একদিন মজলিস শেষে সবাই যখন উঠে  যাচ্ছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে উপেন্দ্রনাথ বিভূতিভূষণকে বললেন,  “আপনি এখনই যাবেন না । আপনার সঙ্গে একটু কথা আছে ।“
সাহিত্য আসর থেকে সবাই বিদায় নেওয়ার পর উপেন্দ্রনাথ বিভূতিভূষণকে বললেন,  “ভাই, আপনার হবে । হবে বলছি কেন ?  আপনার লেখা ভাল হয়েছে । কী এক অসাধারণ উপন্যাস লিখেছেন আপনি ! লেখাটা পড়েই মন-প্রাণ দুটিই জুড়িয়ে গেছে আমার । যাই হোক, এবার আসল কথা বলি, আমি ভাগলপুরে আর থাকছি না । কলকাতায় চলে যাচ্ছি । তবে আমার কলকাতায় যাওয়ার উদ্দেশ্য হচ্ছে, সেখান থেকে একটি পত্রিকা বের করব ‘বিচিত্রা’ নামে । সেখানেই  আমি ছাপতে চাই  আপনার এই  উপন্যাসটি । আপনার এই উপন্যাস দিয়েই যাত্রা শুরু করবে ‘বিচিত্রা’ পত্রিকাটি । এর  কিছুদিনের মধ্যেই কলকাতা থেকে প্রকাশিত হতে শুরু করল বিচিত্রা এবং বিভূতিভূষণের উপন্যাসও কিস্তিতে কিস্তিতে ।  উপন্যাসটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাহিত্যরসিক পাঠকমহলে গুঞ্জন শুরু হলো—কে এই লেখক ? যে সমাজ ও দেশ-গ্রামের তুচ্ছ জিনিসগুলো এত মনোমুগ্ধ করে তাঁর লেখনীতে ফুটিয়ে তুলেছেন  । হঠাৎ একদিন ‘শনিবারের চিঠি’র সম্পাদক সজনীকান্ত দাস বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এসে উপস্থিত । নব্বই  টাকা দিয়ে বললেন—”বিভূতিবাবু, আপনি যদি অনুমতি দেন, তবে “পথের পাঁচালী”  উপন্যাসটি বই আকারে ছাপব ।“  এভাবেই শুরু বিভূতিভূষণের পথচলা ।
এই উপন্যাসটি ছিল বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের  প্রথম ও সবচেয়ে বিখ্যাত সাহিত্যকৃতী যা পরবর্তি কালে চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় “পথের পাঁচালী” চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বিখ্যাত হয়ে ওঠে । এছাড়াও তাঁর বিখ্যাত উপন্যাস  ‘অপরাজিত’ রচনা করেন, যা ছিল পথের পাঁচালী উপন্যাসের পরবর্তী অংশ । এই দুই উপন্যাসের কাহিনীই ছিল তাঁর জীবনকেন্দ্রিক । চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায় এই উপন্যাসের কাহিনীর মাধ্যমে দুটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন যা ভীষণ ভাবে জনপ্রিয়তা অর্জন করে । ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দে কিশোর পাঠ্য ‘চাঁদের পাহাড়’ উপন্যাস ভারতবর্ষের তরুণদের কাছে অতি  জনপ্রিয় ও রোমাঞ্চকর  উপন্যাস। ২০১৩ সালে চিত্র পরিচালক কমলেশ্বর মুখার্জির পরিচালনায় ‘চাঁদের পাহাড়’ চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে যথেষ্ঠ খ্যাতি অর্জন করে ।
পুরস্কার হিসাবে বিখ্যাত ঔপন্যাসিক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ইছামতী উপন্যাসের জন্য ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দে মরণোত্তর রবীন্দ্র পুরস্কার পান । এছাড়াও তাঁর জন্মভূমি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগণা জেলার বনগাঁ মহকুমার পারমাদান বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নাম লেখকের সম্মানার্থে  “বিভূতিভূষণ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য”  রাখা হয়েছে ।
বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় শেষ জীবনের কয়েকটি বৎসর তাঁর ভালোবাসার শেষ চিহ্ন গৌরীকুঞ্জতে কাটিয়েছেন । তিনি তার বাড়িটির নাম স্ত্রীর নামে ‘গৌরীকুঞ্জ’ রেখেছিলেন ।
১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ১লা নভেম্বর বিহারের ঘাটশিলায় (অধুনা ঝাড়খণ্ডের) ৫৬ বৎসর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোক গমন করেন । বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের সৃষ্টির গুনে ইতিহাসে চিরস্মরণীয়  হয়ে থাকবেন আজীবন । তাঁকে আমার শতকোটি প্রণাম ।  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।
——–০———

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব নিরামিষ দিবস কি, কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

আজ ‘বিশ্ব নিরামিষ দিবস’, পৃথিবীজুড়ে বাড়ছে ভেগানদের সংখ্যা,  ভেগান শব্দটির সঙ্গে অনেকেরই পরিচয় নেই। নিরামিষাশীরা যখন প্রাণীজাত সমস্ত খাবারের সঙ্গে আড়ি করেন, তখন তাদের বলে ভেগান। অর্থাৎ শুধু মাছ মাংস নয় ভেগানরা ডিম, দুধ আর দুধের যে কোনও খাবার যেমন ছানা, দই, পনীর, সন্দেশ, রসগোল্লাও খান না।

তার মানে, খাবারের প্লেটে মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, মধু কিছুই থাকবেনা।ভিগানিজমে বিশ্বাসীরা এটাকে নিয়ে গেছেন আরও দূরে যেমন চামড়া, উল বা মুক্তার মতো বিষয়গুলো থেকেও দুরে থাকতে হবে।এটাকেই বলা হয় ভিগানিজম, প্রতিনিয়ত এতে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বিশ্বজুড়ে।

প্রাণীর শরীর থেকে যেহেতু অনেক ধরনের ভাইরাস ছড়ায় এবং তা অতিমারির রূপও ধারণ করতে পারে, ফলে দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানীদের একাংশ জোর দিচ্ছেন প্রাণীজ প্রোটিন বর্জন করার উপর।

পুষ্টিবিজ্ঞানীদের অনেকেই বলেন, নিরামিষ খেলে নাকি বেশিদিন বাঁচা যায়।

ভিগানুয়ারি একটা ব্রিটিশ চ্যারিটি সংস্থা যারা জানুয়ারি মাসে ভেগানিজমে অভ্যস্ত হওয়ার জন্য মানুষকে সহায়তা করে। তারা বলছে, প্রতি বছরই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ছে। ২০১৯ সালে ১৯০ দেশের আড়াই লাখ মানুষ স্বাক্ষর করেছে।

যেহেতু প্রোটিনের বিকল্প উৎস আছে বাজারে সে কারণে ভিগানিজম বৈশ্বিক ইন্ডাস্ট্রিতে রূপ নিচ্ছে। ভেগানিজমের কেন্দ্রে রয়েছে প্রাণী জগতের প্রতি ভালোবাসা। পশুহত্যার বিরোধী অনেকেই এই খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন। বলা হয়, হিপিদের কারণেই নাকি এই ডায়েট সারা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়েছে। শান্তির বাণী ছড়ানোর জন্য তাঁরা প্রাণীজাত খাবার বর্জনের ডাক দিয়েছিলেন। ভারতেও এই ডায়েট ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে।এই খাদ্যাভ্যাসে যেহেতু কোনও রকমের মাংস, মাছ, ডিম এবং দুগ্ধজাত জিনিস খাওয়া যায় না, তাই এগুলো থেকে যে ফ্যাট আসে, সেটাও শরীরে প্রবেশ করে না। অনেক রোগব্যাধিও যে কারণে শরীর থেকে দূরে থাকে। তাই রোগা হওয়ার চেষ্টায় অনেকেই এই ডায়েট মেনে চলেন। ‘ভেজিটেরিয়ান’ শব্দের প্রথম তিনটি ও শেষ দু’টি অক্ষর নিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ভেগান’ (Vegan) শব্দটি।  ১৯৪৪ সালে যুক্তরাজ্যের ডাল্টন ওয়াটসন প্রতিষ্ঠা করেন ভেগান সোসাইটি। মি. ওয়াটসনই ‘ভেগান’ শব্দটির প্রচলন ঘটান।

প্রতি বছর  বিশ্ব নিরামিষ দিবস পালনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র নিরামিষ খাবারের প্রচারই নয়, পরিবেশ ও প্রাণীর সুরক্ষার পাশাপাশি নিরামিষ খাবারের উপকারিতা সম্পর্কেও মানুষকে সচেতন করা।

 

।।তথ্য সংগৃহীত : ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ হ্যালোইন দিবস, জানুন হ্যালোইন কখন এবং কেন পালিত হয়।

হ্যালোইন বা হ্যালোউইন, এছাড়াও অলহ্যালোইন অল হ্যালোজ’ ইভ, বা অল সেইন্টস’ ইভ হিসাবে পরিচিত, একটি বার্ষিক উদ্‌যাপন বা ছুটির দিন যা প্রতি বছর বিভিন্ন দেশে পালিত হয় ৩১ অক্টোবর তারিখে, অল হ্যালোজ’ ডে বা সমস্ত হ্যালোজ দিবসে পাশ্চাত্য খ্রিস্টীয় ভোজোৎসবের প্রাক্কালে।  এটি ফসল কাটার মরসুমের শেষ এবং শীতের শুরু, বা বছরের “অন্ধকার অর্ধেক” চিহ্নিত করেছিল।  হ্যাঁ, হ্যালোউইনের বেশ প্রাচীন ও “পবিত্র” ইতিহাস রয়েছে!  হ্যালোউইনের উত্স এবং আমরা কীভাবে এই দিনটি উদযাপন করি তা জানুন।

 

হ্যালোইন কখন হয়?

 

হ্যালোইন, ঐতিহ্যগতভাবে “অল হ্যালোস ইভ” নামে পরিচিত, খ্রিস্টীয় পবিত্র দিন অল হ্যালোস ডে বা অল সেন্টস ডে (নভেম্বর 1) এর আগের সন্ধ্যায় উদযাপিত হয়।  তাই, হ্যালোইন সবসময় 31 অক্টোবর পালিত হয়।

 

হ্যালোইন, অল হ্যালোস ইভের সংকোচন, 31 অক্টোবর, অল সেন্টস (বা অল হ্যালোস) দিবসের আগের সন্ধ্যায় পালন করা একটি ছুটির দিন।  উদযাপনটি পশ্চিমা খ্রিস্টান অল সেন্টস উৎসবের আগের দিনটিকে চিহ্নিত করে এবং অলহলোটাইডের মরসুমের সূচনা করে, যা তিন দিন স্থায়ী হয় এবং অল সোলস ডে দিয়ে শেষ হয়।  বেশিরভাগ ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বেশিরভাগ অংশে, হ্যালোউইন পালন করা অনেকাংশে অধর্মীয়।

 

হ্যালোউইনের উৎপত্তি হয়েছিল প্রাচীন ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের সেল্টদের মধ্যে সামহেন উৎসবে।  সমসাময়িক ক্যালেন্ডারে 1 নভেম্বরের সাথে সম্পর্কিত দিনে, নতুন বছর শুরু হবে বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল।  সেই তারিখটিকে শীতকালীন সময়ের শুরু বলে মনে করা হত, যে তারিখে পশুদের চারণভূমি থেকে ফেরত আনা হয়েছিল এবং জমির মেয়াদ পুনর্নবীকরণ করা হয়েছিল।  সামহেন উত্সবের সময় যারা মারা গিয়েছিল তাদের আত্মা তাদের বাড়ি দেখতে ফিরে আসবে বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল এবং যারা বছরের মধ্যে মারা গিয়েছিল তারা অন্য জগতে যাত্রা করবে বলে বিশ্বাস করা হয়েছিল।  লোকেরা শীতের জন্য তাদের চুলার আগুন জ্বালানোর জন্য এবং অশুভ আত্মাদের ভয় দেখানোর জন্য পাহাড়ের চূড়ায় আগুন জ্বালায় এবং তারা কখনও কখনও মুখোশ এবং অন্যান্য ছদ্মবেশ পরিধান করত যাতে ভূতের দ্বারা চিনতে না পারে।  এটি সেই উপায়ে ছিল যে ডাইনি, হবগোবলিন, পরী এবং দানবদের মতো প্রাণীরা দিনের সাথে যুক্ত হয়েছিল।  বিবাহ, স্বাস্থ্য এবং মৃত্যুর মতো বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্যও সময়টিকে অনুকূল বলে মনে করা হয়েছিল।  খ্রিস্টীয় 1ম শতাব্দীতে রোমানরা যখন সেল্টদের জয় করেছিল, তখন তারা মৃতদের মৃত্যু এবং ফসলের দেবী পোমোনার স্মরণে তাদের নিজেদের ফেরালিয়া উৎসব যোগ করেছিল।

 

7ম শতাব্দীতে পোপ বনিফেস IV অল সেন্টস ডে প্রতিষ্ঠা করেন, মূলত 13 মে, এবং পরবর্তী শতাব্দীতে, সম্ভবত একটি খ্রিস্টান পালনের সাথে পৌত্তলিক ছুটির পরিবর্তে এটিকে 1 নভেম্বরে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। সবার আগে সন্ধ্যায়  সাধু দিবস একটি পবিত্র, বা পবিত্র, ইভ এবং এইভাবে হ্যালোইন হয়ে ওঠে।  মধ্যযুগের শেষের দিকে, ধর্মনিরপেক্ষ ও পবিত্র দিনগুলি একত্রিত হয়ে গিয়েছিল।  সংস্কারটি মূলত প্রোটেস্ট্যান্টদের ধর্মীয় ছুটির অবসান ঘটিয়েছিল, যদিও ব্রিটেনে বিশেষ করে হ্যালোইন একটি ধর্মনিরপেক্ষ ছুটির দিন হিসেবে পালিত হতে থাকে।  অন্যান্য উত্সবগুলির সাথে, হ্যালোইন উদযাপন মূলত আমেরিকান উপনিবেশবাদীদের মধ্যে নিষিদ্ধ ছিল, যদিও 1800 এর দশকে সেখানে উত্সবগুলি গড়ে উঠেছিল যা হ্যালোইনের ফসল কাটা এবং অন্তর্ভুক্ত উপাদানগুলিকে চিহ্নিত করে।  19 শতকের মাঝামাঝি থেকে যখন আইরিশ সহ বিপুল সংখ্যক অভিবাসী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যায়, তখন তারা তাদের হ্যালোইন রীতিনীতিগুলি তাদের সাথে নিয়ে যায় এবং 20 শতকে হ্যালোইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ছুটিতে পরিণত হয়, বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে।

একটি ধর্মনিরপেক্ষ ছুটির দিন হিসাবে, হ্যালোইন বিভিন্ন কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হয়েছে।  একটি হল সাধারণত নিরীহ প্র্যাঙ্কগুলি টানার অভ্যাস।  উদযাপনকারীরা পার্টিতে এবং ট্রিক-অর-ট্রিটিং-এর জন্য মুখোশ এবং পোশাক পরেন, যা দরিদ্রদের খাবারের জন্য ভিক্ষা করার অনুমতি দেওয়ার ব্রিটিশ অভ্যাস থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়, যাকে “সোল কেক” বলা হয়।  ট্রিক-অর-ট্রিটাররা ঘরে ঘরে এই হুমকি দিয়ে যায় যে তারা ট্রিট না পেলে ট্রিট করবে, সাধারণত ক্যান্ডি।  হ্যালোইন পার্টিতে প্রায়ই আপেলের জন্য ববিংয়ের মতো গেম অন্তর্ভুক্ত থাকে, সম্ভবত রোমান উদযাপন পোমোনা থেকে উদ্ভূত।  কঙ্কাল এবং কালো বিড়ালের পাশাপাশি, ছুটির দিনটি উদযাপনে ভূত, ডাইনি এবং ভ্যাম্পায়ারের মতো ভীতিকর প্রাণীকে অন্তর্ভুক্ত করেছে।  আরেকটি প্রতীক হল জ্যাক-ও’-লণ্ঠন, একটি ফাঁপা কুমড়ো, মূলত একটি শালগম, একটি দানবীয় মুখ খোদাই করা এবং ভিতরে একটি মোমবাতি দিয়ে জ্বলে।  20 শতকের মাঝামাঝি থেকে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) তার প্রোগ্রামগুলির জন্য অর্থ সংগ্রহকে হ্যালোউইনের একটি অংশ করার চেষ্টা করেছে।

 

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

সুরের জাদুকর সঙ্গীতশিল্পী শচীন দেববর্মণ এর প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

শচীন দেববর্মণ (১ অক্টোবর, ১৯০৬ – ৩১ অক্টোবর, ১৯৭৫) বিংশ শতাব্দীতে ভারতীয় বাংলা ও হিন্দী গানের কিংবদন্তীতুল্য ও জনপ্রিয় সঙ্গীত পরিচালক , সুরকার , গায়ক ও লোকসঙ্গীত শিল্পী । কিছুটা অনুনাসিক কণ্ঠস্বরের জন্য তিনি তার শ্রোতাদের কাছে বিশেষভাবে পরিচিত। প্রায় একশো বছর পার করেও বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে তার কালোত্তীর্ণ গানের আবেদন কিছুমাত্র লঘু হয়নি। কেবল সঙ্গীতশিল্পী হিসাবে নয়, গীতিকার হিসাবেও তিনি সার্থক। তিনি বিভিন্ন চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তার পুত্র রাহুল দেববর্মণ ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীতপরিচালক এবং সুরকার ছিলেন। তার ছাত্রী এবং পরবর্তীতে সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন।

 

 

তার জন্ম কুমিল্লার ত্রিপুরা রাজবাড়িতে৷ তবে আদিবাস বর্তমান ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে৷ তিনি ছিলেন ত্রিপুরার চন্দ্রবংশীয় মানিক্য রাজপরিবারের সন্তান। বাবা নবদ্বীপচন্দ্র দেববর্মণের কাছে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন। তৎকালীন ত্রিপুরার অন্তর্গত কুমিল্লার রাজপরিবারের নয় সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। মা মণিপুর রাজবংশের মেয়ে নিরুপমা দেবী। ত্রিপুরার আগরতলায় কুমার বোর্ডিং স্কুলে শচীন দেবের প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়।

 

 

ছোটবেলা থেকেই একটি সংগীতময় পরিবেশে বেড়ে ওঠেন শচীন দেব বর্মন। বাবা ছিলেন একজন সেতারবাদক ও ধ্রুপদী সংগীত শিল্পী। বাবার কাছেই গ্রহণ করেন সংগীতের প্রথম তালিম।১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে হতে ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি সঙ্গীতাচার্য কৃষ্ণচন্দ্র দের কাছে সঙ্গীতচর্চা করেন। এরপর তার সঙ্গীত শিক্ষা চলে উস্তাদ বাদল খান এবং বিশ্বদেব চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে। ধ্রূপদী সঙ্গীতের এই শিক্ষা তার মধ্যে সঙ্গীতের মৌলিক জ্ঞান সঞ্চারে গভীর ভূমিকা পালন করে। এই শিক্ষা তার পরবর্তী জীবনের সুর-সাধনায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। পরবর্তীতে তিনি উস্তাদ আফতাবউদ্দিন খানের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

 

 

শচীন দেব কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ পাস করে ত্রিপুরার রাজদরবারে কিছুদিন চাকরি করেন। পরে চাকরি ছেড়ে কলকাতায় যান এবং ওস্তাদ বাদল খাঁ, আলাউদ্দিন খাঁ, ফৈয়াজ খাঁ, আবদুল করিম খাঁ প্রমুখের কাছে তালিম নেন। ১৯২৩ সালে কলকাতা বেতারে শচীন দেব প্রথম গান করেন এবং ১৯৩২ সালে তার প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড প্রকাশ হয়। এর পর তার বহুসংখ্যক বাংলা ও হিন্দি গানের রেকর্ড বের হয়।তিনি  নজরুল সঙ্গীতও রেকর্ড করেন। এরপর তাঁর বহুসংখ্যক বাংলা ও হিন্দি গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয়। রেকর্ডকৃত তাঁর কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গান হলো: ‘যদি দখিনা পবন’ (রাগপ্রধান), ‘প্রেমের সমাধি তীরে’ (কাব্যগীতি), ‘নিশীথে যাইও ফুলবনে’ (পল্লিগীতি), ‘বধুঁগো এই মধুমাস’ (পল্লিগীতি), ‘ওরে সুজন নাইয়া’ (পল্লিগীতি) প্রভৃতি।
শচীন দেব অনেক বাংলা গানে সুর দিয়েছেন। ১৯৩৪ সালে নিখিল ভারত সঙ্গীত সম্মিলনে গান গেয়ে তিনি স্বর্ণপদক লাভ করেন। ১৯৩৭ সাল থেকে পরপর কয়েকটি বাংলা ছায়াছবিতে তিনি সঙ্গীত পরিচালনা করেন। এক্ষেত্রে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ছায়াছবি হলো: রাজগী, ছদ্মবেশী, জীবন-সঙ্গিনী, মাটির ঘর ইত্যাদি।
শচীন দেব ১৯৪৪ সাল থেকে মুম্বাই-এ বসবাস করেন এবং আশিটির মতো হিন্দি চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনা করে চিত্রজগতে বিশেষ খ্যাতির অধিকারী হন। সেখানে তিনি শিকারী, দেবদাস, সুজাতা, বন্দিনী, গাইড, আরাধনা, বাজি, শবনম, দো ভাই প্রভৃতি ছবিতে সঙ্গীত পরিচালনা করেন।

 

 

অসংখ্য কালজয়ী গান যেমন তার হাত ধরে এসেছে। ‘তুমি এসেছিলে পরশু, কাল কেন আসোনি?’ কিংবা ‘আমি তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল’ অথবা ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই’ আরও আছে ‘শোনো গো দখিন হাওয়া’, ‘নিশিতে যাইও ফুল বনে’, ‘কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া’! এখানেই শেষ নয়! ‘তুমি যে গিয়াছ বকুল-বিছানো পথে’, ‘ঝিলমিল ঝিলমিল ঝিলের জলে’, ‘ঘাটে লাগাইয়া ডিঙা’।

তেমনি তিনি গড়ে তুলেছেন এই উপমহাদেশের অনেক বিখ্যাত গায়ক, গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালককেও। ভারতীয় সংগীতে তিনি স্রষ্টার মতো। গানের আঙিনায় তাকে সম্মান করে ডাকা হয় ‘কর্তা’ বলে। লোকজ ও রাগ সংগীতের সংমিশ্রণে সংগীত ভুবনে এক নতুন ধারা সৃষ্টি করতে পেরেছিলেন তিনি।

শচীন দেববর্মণ তার সংগীত জীবনে অসংখ্য গানের সুর করেছেন, যার অধিকাংশ গানই লতা মঙ্গেশকর, মান্না দে, কিশোর কুমার, মো. রফি ও আশা ভোসলের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের গাওয়া। তিনি প্রায় অর্ধশতাধিক চলচ্চিত্রের সংগীত পরিচালনাও করেছেন।
শচীন দেববর্মণের পুত্র রাহুল দেববর্মণও ভারতের বিখ্যাত সঙ্গীতপরিচালক এবং সুরকার ছিলেন। তার ছাত্রী এবং পরবর্তীতে সহধর্মিনী মীরা দেববর্মণ গীতিকার হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেন।
কাজের স্বীকৃতি হিসেবে শচীন দেব বর্মন জয় করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, পদ্মশ্রী, ফিল্মফেয়ার এশিয়ান ফিল্ম সোসাইটি পুরস্কার, সহ  বহু সন্মাননা। শচীন দেব বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনে উচ্চ পদ অলঙ্কৃত করেন এবং বহু সংগঠন কর্তৃক সম্মানিত হন। ১৯৫৮ সালে সঙ্গীত-নাটক আকাদেমি ও এশিয়ান ফিল্ম সোসাইটি (লন্ডন) এবং ১৯৬৩ সালে ত্রিপুরা ললিতকলা কেন্দ্র তাঁকে অভিনন্দিত করে।

১৯৭৫ সালের ৩১ অক্টোবর মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সংগীতের এই কিংবদন্তি। তাকে এস ডি বর্মণ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্বাধীন ভারতের প্রথম উপ প্রধানমন্ত্রী, ভারতের লৌহমানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল, জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

আজ ৩১ অক্টোবর, লৌহ মানব সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের জন্মদিন। ভারতের প্রাক্তন উপ-প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল পরিচিত ‘আয়রন ম্যান অফ ইন্ডিয়া’ হিসেবে।তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নেহেরু ‘নতুন ভারতের নির্মাতা ও একীকরণকারী’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই থেকেই তিনি লৌহ মানব নামে পরিচিত।  তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পুরোধা। প্রজাতন্ত্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা নেতা সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ছিলেন নিঃস্বার্থ নেতা। একটি আধুনিক ও অখন্ড ভারত গড়ার প্রকৃত যোদ্ধা। যে দেশের স্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে লড়ে গেছেন প্রাণপণে। নতুন রূপ দিয়েছিলেন ভারতের ভাগ্যকে। আজকের এই দিনে আসুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য।

সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল (ভারত-রত্ন, ১৯৯১) ছিলেন একজন ভারতীয় পণ্ডিত ও জাতীয়তাবাদী নেতা। যিনি সরদার প্যাটেল নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তাকে ভারতের লৌহমানব বলা হয়। গুজরাতের কুর্মী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্যাটেল। তার পিতা-মাতা ছিলেন জাভেরভাই ও লাডবাই। তার বাবা ঝাঁসির রানির সেনাবাহিনীতে কাজ করেছিলেন। তার মা ছিলেন একজন খুব আধ্যাত্মিক মহিলা।
গুজরাতি মিডিয়াম স্কুলে তার শিক্ষাজীবন শুরু করে সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল পরবর্তীকালে একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে স্থানান্তরিত হন।১৮৯৭ সালে তিনি উচ্চ বিদ্যালয় পাস করেন এবং আইন পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি শুরু করেন।তিনি তুলনায় বেশি বয়েসে ম্যাট্রিক পাশ করেন (২২ বছর)।তিনি আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করতে ১৯১০ সালে ইংল্যান্ডে যান। তিনি ১৯৩৩ সালে ইনস অফ কোর্ট থেকে আইন বিভাগে ডিগ্রী সম্পন্ন করেন ।ভারতে ফিরে এসে তিনি গুজরাতের গোধরায় তাঁর আইন অনুশীলন শুরু করেন। আইনি দক্ষতার জন্য তাকে ব্রিটিশ সরকার অনেক লাভজনক পদে প্রস্তাব দিয়েছিল তবে তিনি সব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তিনি ব্রিটিশ সরকার এবং তাদের আইনের কট্টর বিরোধী ছিলেন । তাই ব্রিটিশদের পক্ষে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
১৯১৭ সালে সর্দা‌র বল্লভভাই ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের গুজরাত শাখার সেক্রেটারি হিসাবে নির্বাচিত হন । ১৯১৮ সালে কায়রায় বন্যার পরে ব্রিটিশরা জোর করে কর চাপিয়ে দিলে তিনি কৃষকদের কর প্রদান না করার জন্য একটি বিশাল “কর শুল্ক অভিযান” পরিচালনা করেছিলেন। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষকে কৃষকদের কাছ থেকে নেওয়া জমি ফিরিয়ে দিতে বাধ্য করেছিল। তাঁর এলাকার কৃষকদের একত্রিত করার প্রচেষ্টা তাঁকে ‘সর্দার’ উপাধি দিয়েছিল।
তিনি গান্ধী দ্বারা চালিত অসহযোগ আন্দোলনকে সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেছিলেন।

 

 

১৯৩০ সালে মহাত্মা গান্ধীর উদ্যোগে বিখ্যাত লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য কারাবন্দী নেতাদের মধ্যে সর্দা‌র বল্লভভাই পটেল ছিলেন। “লবণ আন্দোলন” চলাকালীন তার অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য অসংখ্য লোকের দৃষ্টিভঙ্গিকে অনুপ্রাণিত করেছিল যারা পরবর্তীকালে এই আন্দোলনকে সফল করতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। কংগ্রেস সদস্যদের অনুরোধে গান্ধী কারাগারে বন্দী থাকাকালীন তিনি গুজরাত জুড়ে সত্যগ্রহ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।
১৯৩১ সালে সর্দার প্যাটেলকে ভারতের তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড আরউইন এবং মহাত্মা গান্ধীর মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি চুক্তির পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এই চুক্তিটি গান্ধি-আরউইন চুক্তি হিসাবে পরিচিতি পায়। একই বছর তিনি করাচি অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ।যেখানে দলটি তার ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণ করেছিল।
১৯৩৪ সালের আইনসভা নির্বাচনের সময় সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষে প্রচার করেছিলেন। যদিও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি। ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে তিনি গান্ধীর প্রতি তার অটল সমর্থন অব্যাহত রেখেছিলেন।
পটেলের রাজনীতি এবং চিন্তাভাবনার উপর গান্ধীর গভীর প্রভাব ছিল । তিনি গান্ধীর প্রতি অটল সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং সারা জীবন তার নীতির পাশে ছিলেন। জওহরলাল নেহেরু, চক্রবর্তী রাজাগোপালাচারী এবং মাওলানা আজাদ সহ নেতারা আইন অমান্য আন্দোলন ব্রিটিশদের দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করবে মহাত্মা গান্ধীর এই ধারণার সমালোচনা করেছিলেন।কিন্তু পটেল গান্ধীর এ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন দিয়েছিলেন। ১৯৪২ সালে তাকে আবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং কংগ্রেসের অন্যান্য নেতাদের সাথে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত তিনি আহমেদনগর দুর্গে বন্দী ছিলেন।

 

 

 

১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর তিনি প্রথম উপ- প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। পটেল স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতবর্ষে প্রায় ৫২২ টি রাজ্যকে ভারতের অধীনে এনে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ব্রিটিশ সরকার এই শাসকদের দুটি বিকল্প দিয়েছিল – তারা ভারত বা পাকিস্তানে যোগ দিতে পারে; বা তারা স্বাধীন থাকতে পারে। এই ধারা অসুবিধা বাড়িয়ে তোলে। কংগ্রেস এই ভয়ঙ্কর কাজটি সর্দার প্যাটেলকে অর্পণ করেছিলেন যিনি ১৯৪৭ সালের তিনি রাজ্যগুলোর সংহতকরণের জন্য তদারকি শুরু করেছিলেন। জম্মু ও কাশ্মীর, জুনাগড় ও হায়দরাবাদ বাদে সকল রাজ্যকে সংহত করতে তিনি সফল হয়েছিলেন। অবশেষে তিনি তার তীব্র রাজনৈতিক বুদ্ধির সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছিলেন এবং জম্মু ও কাশ্মীর, জুনাগড় ও হায়দরাবাদ কে ভারতের অধীন করেছিলেন। আমরা যে ভারতকে আজ দেখতে পাচ্ছি তা হল সরদার বল্লভভাই পটেল যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন তার ফল।ঐক্যের মূর্তি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। তাঁর ছায়া আজও ভারতীয় রাজনীতিতে উজ্জ্বল। নিজেকে কখনও উঁচুতে তুলে ধরতে চাননি তিনি, তেমনটা করেননি কখনও। বরাবর নিজের কাজকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন সবথেকে বেশি। তাঁর কাজই তাঁর পরিচয়। গোটা প্রশাসক জীবনে অসাধ্যসাধন করেছেন সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল। অসামান্য এক স্বাধীনতা সংগ্রামী তিনি। পাশাপাশি এক অসাধারণ প্রশাসকও বটে। নিজে গান্ধীবাদী হলেও অন্ধ অনুসারী নন। আজ মানুষ ভারত বলতে যা বোঝে, সেই ভারত তিনিই গড়ে দিয়েছেন। তাঁকে দেশের ‘লৌহমানব’ বলা হয়। তার সম্মাননায় ভারতের গুজরাতে তার জন্মস্থানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভাস্কর্য তৈরি করা হয়। যার নাম দেওয়া হয় “ঐক্যের মূর্তি।”সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্ট্যাচুই এখন পৃথিবীর উচ্চতম স্ট্যাচু। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ‘স্ট্যাচু অফ ইউনিটি’ নামে এই মূর্তি উন্মোচন করেন। ১৮২ মিটার উঁচু এই মূর্তি নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত। এইছাড়াও তার নামে একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে।২০১৪ সালে তার জন্মদিবস ৩১ অক্টোবরকে রাষ্ট্রীয় একতা দিবস হিসাবে ঘোষণা করা হয়।মৃত্যুর পরে তাঁকে ভারতরত্ন সম্মান দেওয়া হয়। প্যাটেলকে শ্রদ্ধা জানাতে ২০১৪ সালে সূচনা হয় রাষ্ট্রীয় একতা দিবসের। প্রত্যেক বছর তাঁর জন্ম বার্ষিকীতে পালন হবে এই একতা দিবস । ১৯৫০ সালের ১৫ ডিসেম্বর মুম্বাইতে সৰ্দার বল্লভভাই পটেলের পরলোকপ্রাপ্তি ঘটে।

 

 

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া।।

Share This