Categories
প্রবন্ধ

“সত্ত্ব, তমঃ ও রজঃ” তিনটি শব্দ নিয়ে আলোচনা : দিলীপ  রায়।

প্রথমে প্রত্যেক শব্দের অর্থ জানা যাকঃ
সত্ত্বঃ- সত্ত্ব শব্দের অর্থ হলো ধর্মীয় জ্ঞানের প্রকাশ এবং সাত্ত্বিক শব্দের মানে হলো ধর্মজ্ঞানী । সত্ত্ব শব্দটির মূল  কথা হলো সৎ এবং সৎ শব্দের অর্থ হলো সাধু । অর্থাৎ সত্ত্ব বা সাত্ত্বিক বলতে সর্বদা মহৎ বা উন্নত জ্ঞানসম্পন্ন  ভালো কিছুকে বোঝায় । যখন কোনো ব্যক্তি প্রতিটি পরস্থিতিতে ধর্ম, সত্য ও ন্যায়ের বিচার করে তাঁর  আচরণ করে থাকেন,  তখন তাকে সাত্ত্বিক বলা হয়।
তমঃ-  তমঃ শব্দের অর্থ হলো অন্ধকার এবং তমঃ থেকেই তামসিক শব্দের উৎপত্তি ।  “ভালো মন্দের বিচার ব্যতীত জীবন নির্বাহ করা  অথবা কারো সকল আদেশকে বিনা দ্বিধায় পালন করা” এটা  তামসিক আচরণ বলেই গণ্য । অন্যভাবে, কেবল শারীরিক চাহিদা অর্থাৎ ক্ষুধা ও যৌনতার চাহিদাকে পূর্ণ করার জন্য যখন কেউ জীবন কাটায়, তখন সেটা তামসিক আচরণের মধ্যে পড়ে । ইতর প্রাণীরা সাধারণত স্বভাববশতই এই ধরণের জীবন কাটায় বা কাটাতে বাধ্য হয় ।
রজঃ-  রজঃ শব্দের অর্থ  হলো  অহঙ্কার  ।  রজঃগুনী ব্যক্তির মধ্যে ধর্ম বা সত্যের জ্ঞান থাকে, কিন্তু শরীর ও মন বাসনার দ্বারা আবদ্ধ থাকে এবং অহঙ্কার পূর্ণ মন নিয়ে বেঁচে থাকে ।
সংক্ষেপে বলতে গেলে— সত্ত্ব মানে ধর্ম জ্ঞান, মঙ্গল, ভারসাম্য,  রজঃ মানে অহঙ্কার, আবেগ, উত্তেজনা  এবং তমঃ  মানে অন্ধকার, নিস্তেজতা, জড়তা, উদাসীনতা  ।
উপসংহারে বলা যায় – সত্ত্বগুণের স্বরূপ হচ্ছে নির্মল । নির্মল সত্ত্বগুণ দ্বারা পরমাত্মার জ্ঞান লাভ সম্ভব । সত্ত্বগুণের উৎকৃষ্ট উপাদান হচ্ছে জ্ঞান । জ্ঞান বোধশক্তির  বোধক । জ্ঞানই প্রকৃত প্রকাশক । এই  সত্বগুণ রজঃ ও তমঃগুণের বৃত্তিকে অবদমিত করে অন্তঃকরণে স্বচ্ছতা ও নির্মলতা উৎপন্ন করে । অন্যদিকে রজঃগুণ, চঞ্চল স্বরূপ । রজঃ নিজেও যেমন চঞ্চল, তেমনি অপরের মধ্যেও  চঞ্চলতার উৎপাদক ।  রজঃগুণ বাড়লে লোভ, শান্তির অভাব ও আসক্তি এই সমস্ত বৃত্তিগুলির উদ্ভব ঘটে । আর তমঃগুণ হচ্ছে এককথায় সত্ত্বগুণের বিপরীত ! তমঃগুণ ও অজ্ঞানতা পরস্পর ওতোপ্রতভাবে জড়িয়ে থাকে । তমঃগুণ অজ্ঞানতা থেকেই উৎপন্ন হয় আবার অন্যদিকে   অজ্ঞানতা থেকে তমঃগুণ বাড়ে ।
লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ যা কিছু কর্ম করে সেটা দুঃখদায়ক হয় । বেশীমাত্রায় আকাঙ্খার নাম লোভ । মানুষ কর্তব্য কর্ম থেকে বিচ্যুত হলে মনে অশান্তি ও চাঞ্চল্য বাড়ে । পাপ বাড়ে । সুতরাং  কপকটতা করে অর্থোপার্জন,  পাপের নামান্তর ।
ঠাকুর রামকৃষ্ণের ভাষায়ঃ  সত্ত্ব, রজঃ আর তমঃ  – মানুষের এই তিন গুণ । সব মানুষের ভিতর এর লক্ষণ ফুটে ওঠে । সেটা যেমন সংসারীর ক্ষেত্রে সত্যি, তেমনি ভক্তের ক্ষেত্রেও । কিন্তু কেমন করে বোঝা যায়, কে কোন গুণের অধিকারী।
সত্ত্ব, রজঃ  আর  তমঃ গুণের কথা  আমরা সবাই জানি ।  কিন্তু বুঝব কী করে আমরা কে কোন জায়গায় আছি ? আবার সংসারী মানুষ  মনে করে, ভক্ত বোধহয় এসবের ঊর্ধ্বে  ।  সত্যিই কি তাই । এই সব সংশয় নিরসনের জন্য আমাদের গুরুদেবের  শরণ নিতে হয়। ঠাকুর রামকৃষ্ণ  ভক্তমনের এই সন্দেহ নিরসন মিটিয়ে দেন একেবারে সহজ কথায় । তিনি বলেন, “সংসারীর সত্ত্বগুণ কী রকম জানো ? বাড়িটি এখানে ভাঙা, ওখানে ভাঙা — মেরামত করে না  । ঠাকুরদালানে পায়রাগুলো হাগছে, উঠানে শেওলা পড়েছে  হুঁশ নাই। আসবাবগুলো পুরানো, ফিটফাট করবার চেষ্টা নাই । কাপড় যা তাই একখানা হলেই হলো । লোকটি খুব শান্ত, শিষ্ট, দয়ালু, অমায়িক; কাউকে কোনও অনিষ্ট করে না । “সংসারীর রজঃগুণের লক্ষণ বলতে —  ঘড়ি, ঘড়ির চেন, হাতে দুই-তিনটি  আঙটি । বাড়ির আসবাব খুব ফিটফাট । দেওয়ালে কুইনের ছবি, রাজপুত্রের ছবি, কোন বড় মানুষের ছবি । বাড়িটি চুনকাম করা, যেন কোনখানে একটু দাগ নাই । নানারকমের ভাল পোষাক ।“  সংসারীর তমঃগুণের  লক্ষণ হচ্ছে  — “নিদ্রা, কাম, ক্রোধ, অহংকার এই সব ।“  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে পর্বতপ্রেমিক, অক্লান্ত পরিব্রাজক ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনিকার, উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি লেখক যার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভ্রমণকাহিনী, যা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ধারা।  তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনী মণি মহেশ এর জন্য ১৯৭১ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন—

 

উমাপ্রসাদ ১৯০২ সালের ১২ই অক্টোবর  বিজয়াদশমী দিনে জন্মগ্রহণ করেন;  কলকাতার ভবানীপুর এলাকার রাসা রোডের বিখ্যাত মুখোপাধ্যায় পরিবারে।  তাঁর পিতা ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ বেঙ্গল টাইগার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মাতা ছিলেন যোগমায়া দেবী।  আশুতোষ ও যোগমায়ার সাত সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।  বিজয়াদশমীতে জন্ম নেওয়ায় তাঁর ডাক নাম ছিল বিজু।  মা যোগমায়া দেবী ছিলেন একজন অত্যন্ত সুন্দরী এবং করুণাময় প্রগতিশীল মহিলা, যার প্রভাব তার সমস্ত সন্তানের উপর পড়বে নিশ্চিত।  শৈশবে উমাপ্রসাদকে খুব সুন্দর দেখালেও তার শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো ছিল না;  মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হন।  শৈশব থেকেই, লেখক ছিলেন একজন উজ্জ্বল, অন্তর্মুখী, প্রাণী প্রেমিক এবং সহানুভূতিশীল ব্যক্তি।  তাঁর শৈশবের একটি বিবরণ পাওয়া যাবে তাঁর “আমার শৈশব” প্রবন্ধে।  হাটখড়ির পর বাড়ির বিশাল গ্রন্থাগারে উমাপ্রসাদের প্রথম পাঠ শুরু হয়।  তাঁর প্রথম শিক্ষক ছিলেন প্রিয়নাথ বসু এবং মহেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।

শিক্ষা—-

সাত বছর বয়সে ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়।  ১৯১৯ সালে, উমাপ্রসাদ প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।  এরপর ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।  এই পরীক্ষায় বাংলা রচনায় শ্রেষ্ঠত্বের জন্য বঙ্কিমচন্দ্র রৌপ্য পদক ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বৃত্তি ও পুরস্কার, ভাষা ও গণিতে ভালো নম্বরের জন্য ডাফ স্কলারশিপ, ইংরেজি ও গণিতে সারদাপ্রসাদ পুরস্কার এবং পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার জন্য স্টিফেন বিন পদক।  এরপর ওই কলেজ থেকে ১৯২৩ সালে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ পাস করে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন।  তারপর ১৯২৫ সালে, তিনি “প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি” বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন।  এরপর তিনি আইন অধ্যয়ন শুরু করেন এবং ১৯২৮ সালে বিএল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে সপ্তম স্থান অধিকার করেন।

 

পেশা–

প্রথম জীবনে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন।  পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ বিশ বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইন কলেজে অধ্যাপনা করেন।  অত্যন্ত স্ব-গম্ভীর কিন্তু হাস্যরসে পরিপূর্ণ, লেখক আজীবন একজন বিবেকবান এবং অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন।  তার বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী প্রতাপ চন্দ্র চন্দ্র এবং সাংবাদিক অরুণ বাগচি।  শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি আইনজীবী হিসেবেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।  আলিপুর কোর্ট, বিড়লা কোম্পানির আইন উপদেষ্টা, বেঙ্গল লাইব্রেরির ফিনান্স বিভাগের কাউন্সিল মেম্বার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার চেয়ারম্যান, লিকুইডেটর এবং ট্যাবুলেটর।  কর্মক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সংস্পর্শে আসেন।

পরিব্রাজক—

 

 

 

উমাপ্রসাদ ছিলেন একজন অক্লান্ত পরিব্রাজক।  তার যৌবনের শুরুতে, তিনি ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে মাতৃদেবীর সাথে তার প্রথম হিমালয় দর্শনে যান।  অতঃপর এই অকৃতজ্ঞ পথিক দীর্ঘক্ষণ হিমালয়ের পথে হেঁটেছেন – গায়ের ফতুয়া আর লুঙ্গি পরে, কাঁধে ঝোলা।  পরে, গহন জঙ্গলে, রুক্ষ মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াতেন এবং নৌকায় যাত্রী হয়ে সমুদ্রে ভ্রমণ করতেন।  চিত্রকলা ও সিনেমাটোগ্রাফিতে তার গভীর জ্ঞান ছিল।  অসংখ্য স্থিরচিত্র ছাড়াও তিনি ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।  ১৯২৮ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে তোলা তাঁর ছবির অ্যালবাম ‘আলোকচিত্রে হিমালয়’ সেই সময়ের হিমালয়ের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের একটি অমূল্য দলিল।  শুধু হিমালয় নয়, সৌরাষ্ট্রের গিরনার বা এলাহাবাদের কুম্ভ মেলার মতো বিষয়গুলিও তাঁর ছবির প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

সাহিত্যকর্ম—-

 

উমাপ্রসাদ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। পরিব্রাজক হিসাবে উমাপ্রসাদের নিজের দেখা নিজের বিষয়কে নিয়ে সহজ ভাষায় যে সমস্ত বই লিখেছেন সেগুলি বিশিষ্ট সাহিত্য হয়ে উঠেছে। হিমালয় ও ভারতের গিরিপথ ও গিরিশৃঙ্গ বিষয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা বেশি।

তার অন্যান্য আরো গ্রন্থ গুলি হল-

 

 

 

‘শেরপাদের দেশে’, ‘কুয়ারী গিরিপথে’, ‘পালামৌর জঙ্গলে’, ‘ভ্রমণ অমনিবাস’ (৫ খণ্ড), ‘শরৎচন্দ্র প্রসঙ্গ’, ‘শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি ও মৃত্যু প্রসঙ্গ’, ‘স্যার আশুতোষের দিনলিপি’ (অনুবাদ), ‘জলযাত্রা’ , ‘কাবেরী কাহিনী’, ‘বৈষ্ণোদেবী ও অন্যান্য কাহিনী’, ‘আরবসাগরের তীরে’, ‘দুই দিগন্ত’,

‘তপোভূমি মায়াবতী’, ‘কৈলাস ও মানস সরোবর’, ‘মণিমহেশ’,  ‘দুধওয়া’, ‘পঞ্চকেদার’ ‘ক্যালাইডেস্কোপ’।

পুরস্কার—

 

তিনি তার সাহিত্যকর্মের জন্য অনেক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন।  ১৯৭১ সালে, তিনি তার ভ্রমণ গ্রন্থ “মণিমেশ” এর জন্য ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

২৫০ বছরের প্রাচীন মহিষাদল রাজবাড়ির পুজোয় আজও মানুষের ঢল নামে।

বর্তমান সময়ে থিমের রমরমা। মন্ডপ থেকে প্রতিমা সবেতেই থিমের ছোঁয়া। দর্শনার্থীদের ভীড় জমলেও কমেনি প্রাচীন রাজবাড়ির পুজোয় ভীড়। আগেকার সেই জৌলুস, আড়ম্বর আজ অনেক টাই কমে গিয়েছে। কিন্তু নিয়ম মেনেই প্রতিপদে ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গাপুজো দেখতে আজও ভিড় জমান দূর দূরান্তের পাশাপাশি  স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিমা দর্শন করতে আসেন ভিন জেলা, রাজ্যের দর্শনার্থীরাও।
রানি জানকীর আমলে আনুমানিক ১৭৭৬ সালে মহিষাদল রাজ বাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই সময় থেকেই রাজ বাড়ির ঠাকুর দালানে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। রাজত্ব চলে যাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর জৌলুস কমেছে। কিন্তু, নিয়ম-আচারে ছেদ পড়েনি। তাই প্রথা অনুযায়ী মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদের দিন ঘট স্থাপন করে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। ‘মহালয়ার পরের দিন রাজবাড়ির দুর্গা মণ্ডপ লাগোয়া অশ্বত্থ গাছের তলায় নটি ঘট ওঠে। ষষ্ঠী থেকে প্রতি দিনই ঘটপুজো হবে। সপ্তমী থেকে মূর্তি পুজো হয়। প্রতিমার এক পাশে ঘট, অন্য পাশে ধান রাখা হয়। এই দুর্গাপুজো করার পরই শুষ্ক গ্রামে ধান ফলে ছিল। তাই ভালো ফসলের আশায় আজও দেবীর পাশে ধান রাখা হয়। এই ধনের বীজের অঙ্কুর থেকেই পূর্বাভাস পাওয়া যায় এলাকায় ফসল কেমন হবে। পুজোয় ১০৮টি নীলপদ্ম দেওয়ার চলও রয়েছে, যা আসত উত্তর প্রদেশ থেকে। কিন্তু এখন তা আর হয় না, সাদা পদ্মে মায়ের পুজো হয়। আগে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় যাত্রাপালা, ভোগ বিতরণ, কামান দেগে সন্ধিপুজো, বিসর্জনের শোভাযাত্রা সবই হত। পুজোর দিন গুলিতে ঠাকুর দালানেই যাত্রা হত। রাজবাড়ির মহিলারা পর্দার আড়াল থেকে যাত্রা দেখতেন। পুজোর দিন অনুযায়ী ভোগ রান্না হত। যেমন, ষষ্ঠীতে ছয় মন, সপ্তমীতে সাত মন, অষ্টমীতে আট মন, নবমীতে নয় মন চালের প্রসাদ তৈরি করে বিতরণ করা হত। এখন তা আর সম্ভব হয় না। অষ্টমীর সন্ধ্যায় কামান দেগে রাজবাড়ি সহ আশপাশের এলাকার পুজোমণ্ডপে সন্ধি পুজো শুরু হত। দশমীতে বড় নৌকায় করে শোভাযাত্রা বেরতো এবং রাজবাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া হিজলি টাইডাল ক্যানাল হয়ে গেঁওখালিতে রূপনারায়ণ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হত। এখন সে সবই অতীত। রাজত্ব ঘোচার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রাপালা বন্ধ হয়েছে। পুজোর দিন গুলিতে অবশ্য এখনও ভোগ রান্না করা হয়। কিন্তু তা যৎসামান্য। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবি গান হলেও এখন আর হয় না চাত্রাপালা। কামানের পরিবর্তে আতশবাজি এদিকে সরকার কামান দাগায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেটাও ইতিহাসের খাতায় চলে গিয়েছে। এখন কামান দাগার পরিবর্তে আতস বাজির রোশনাইয়ের মধ্যে দিয়ে সন্ধিপুজো করা হয়। বিসর্জনের শোভা যাত্রাও অতীত। রাজবাড়ি লাগোয়া রাজদিঘিতেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে আড়ম্বর কমলেও ঐতিহ্যের টানে আজও বহু মানুষ মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় সামিল হন। দর্শনার্থীদের যাতে কোনও রকম অসুবিধে না হয়, তার জন্য বর্তমান রাজ পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নজরে রেখেছেন। পুজোয় আগত দর্শনার্থী বা পর্যটকদের পরিষেবা দিতে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মূল্য দিয়ে থাকতে হবে। মহিষাদল রাজবাড়ির বর্তমান প্রজন্ম হিসাবে রাজবাড়ি দেখা শোনা করে থাকেন শংকরপ্রসাদ গর্গ ও হরপ্রসাদ গর্গ। রাজবাড়ির পুজো দেখতে এবং রাজ বাড়ির অপরূপ পরিবেশের অনুভূতি নিতে হলে আস্তে হবে মহিষাদলে। প্রাচীন মহিষাদলের ঠাকুর দালান ভগ্নদশায় পরিনত হয়। পুজোর সময় ভীষণ সমস্যা হত। দর্শনার্থীদের কথা ভেবে স্থানীয় বিধায়ক তিলককুমার চক্রবর্তীর উদ্যোগে সেই ঠাকুরদালান নতুন করে নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রজ্যের বহু মানুষ এখানে রাজবাড়ি ও রাজবাড়ির পুজো দেখতে আসেন তাদের কথা ভেবে রাজ পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন রাজবাড়িকে সাজি তোলার কাজ চলছে।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

আর্থ্রাইটিস একটি বেদনাদায়ক রোগ যা মানবদেহের এক বা একাধিক জয়েন্টকে প্রভাবিত করে।  আর্থ্রাইটিস জয়েন্টে ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যায়, যা ব্যক্তির প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপকে আরও বাধা দেয়।  যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয়, আর্থ্রাইটিস একজনের নড়াচড়ার পরিধি কমিয়ে দিতে পারে এবং সোজা হয়ে বসতেও অসুবিধা হতে পারে।  আর্থ্রাইটিসের লক্ষণগুলি সাধারণত বয়সের সাথে আরও খারাপ হয়।

 

আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে কয়েকটি হল জয়েন্টে ব্যথা, জয়েন্টের চারপাশে লালভাব, ফোলাভাব এবং কোমলতা এবং জয়েন্টগুলোতে শক্ত হওয়া, বিশেষ করে সকালে।  আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি লক্ষ্য করা এবং চিকিত্সা করা প্রাথমিক পর্যায়ে বেদনাদায়ক রোগের সাথে মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।

 

প্রতি বছর ১২ অক্টোবর বিশ্ব বাত দিবস (WAD) পালন করা হয়।  দিনটি আর্থ্রাইটিস, বাতজনিত অবস্থা এবং অন্যান্য পেশীবহুল রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নিবেদিত।  বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল আর্থ্রাইটিস নামে পরিচিত একটি দুর্বল স্বাস্থ্য অবস্থার লক্ষণ, উপসর্গ, কারণ, প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করা।
আর্থ্রাইটিস হল বিভিন্ন ধরনের যৌথ-সম্পর্কিত অবস্থার জন্য একটি সমন্বিত শব্দ।  এই অবস্থায় ভুগছেন এমন লোকেরা প্রায়শই ব্যথা, প্রদাহ, শক্ত হওয়া এবং জয়েন্টগুলিতে গতিশীলতা হ্রাসের মতো উপসর্গে ভোগেন।  রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থারাইটিস, জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস, গাউট, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, সেপটিক আর্থ্রাইটিস এবং আরও অনেক কিছু সহ বিভিন্ন ধরনের বাত রয়েছে।  প্রতিটি ধরনের আর্থ্রাইটিস লক্ষণ, উপসর্গ এবং কারণের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়।

ওয়ার্ল্ড আর্থ্রাইটিস ডে ২০২৩ থিম—

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস ২০২৩-এর থিম হল “জীবনের সকল পর্যায়ে একটি RMD সহ জীবন যাপন।”

 

ওয়ার্ল্ড আর্থ্রাইটিস ডে মানুষের জন্য রিউম্যাটিক এবং মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজিজ (RMDs) এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।  এটি আরএমডির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষাকেও প্রচার ও উৎসাহিত করে।

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের ইতিহাস এবং তাৎপর্য—

 

আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড রিউম্যাটিজম ইন্টারন্যাশনাল (এআরআই) বিশ্ব বাত দিবস (ডব্লিউএডি) প্রতিষ্ঠা করেছে।  ১৯৯৬ সালের ১২ অক্টোবর প্রথম বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালিত হয়।
প্রতি বছর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উপলক্ষে, আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশনের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাত এবং পেশীর রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং এই বিধ্বংসী স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনায় বাধা দূর করতে সহযোগিতা করে।

আর্থ্রাইটিসের মতো স্বাস্থ্যের অবস্থা যতটা মনোযোগ দেওয়া উচিত ততটা পায় না।  ফলে মানুষ সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা পায় না।

 

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উদযাপনের মূল তাৎপর্য হল আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে বোঝার প্রচার করা, মিথ এবং ভ্রান্ত ধারণাগুলি দূর করা এবং অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা।

 

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস, জানুন দিনটি পালনের গুরুত্ব।

সূচনা :

 

“বিশ্বব্যাপী মেয়েরা তাদের শিক্ষা, তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং সহিংসতামুক্ত জীবনযাপনের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়।”  প্রতিবন্ধী মেয়েরা সহায়তা এবং পরিষেবা অ্যাক্সেসে অতিরিক্ত বাধার সম্মুখীন হয়,’ জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বলে। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়।  ১১ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে, জাতিসংঘ প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উদযাপন করে।  এ বছর আন্তর্জাতিক মেয়ে দিবসের এগার তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

 

এই দিবস পালনের ইতিহাস:

১৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক মেয়ে শিশু দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।  বিশ্বজুড়ে মেয়েদের অধিকার এবং মেয়েরা যে অনন্য চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হয় তা স্বীকৃতি দেওয়া।

বেসরকারী সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা স্পনসর করা একটি প্রকল্প হিসাবে জন্ম হয়েছিল মেয়ে শিশুর আন্তর্জাতিক দিবস।  প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের “কারণ আমি একটি মেয়ে” নামক আন্দোলনের ফলে এই দিবসের ধারণাটি উদ্ভূত হয়েছিল।  এই আন্দোলনের মূল এজেন্ডা হল বিশ্বজুড়ে কন্যা শিশুর পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।  এই সংগঠনের কানাডিয়ান কর্মীরা সকলেই এই আন্দোলনকে বিশ্ব মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করতে কানাডা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কানাডায় আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।  ১৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে, এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয় এবং ১১ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে, প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়।  প্রতি বছর একটি থিম আছে.  কন্যা শিশু দিবসের প্রথম প্রতিপাদ্য ছিল “বাল্য বিবাহ বন্ধ করা”।  দ্বিতীয়বারের মতো, ২০১৩ সালে, থিম ছিল “মেয়েদের জন্য শিক্ষা খাতে উদ্ভাবন”।  তৃতীয় এবং চতুর্থ মেয়াদের থিম ছিল, “কিশোরীদের ক্ষমতায়ন এবং সহিংসতার চক্রের অবসান” এবং “কিশোরীদের ক্ষমতায়ন: ২০৩০ এর রোডম্যাপ”।

 

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের তাৎপর্য:

শিক্ষা, পুষ্টি, জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ, আইনি অধিকার এবং চিকিৎসার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের মতো বিশ্বজুড়ে মেয়েরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয় সে সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে।  প্রতি বছর দিবসটির থিম পরিবর্তিত হয়।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “এখন সময়, আমাদের সবাইকে মেয়েদের কাজ, তাদের অধিকারের দায়িত্ব নিতে হবে।”  তাদের নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখতে হবে।  এটাই এই দিনের গুরুত্ব।

 

দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য :

 

লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।  অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার অধিকার, পুষ্টি, আইনি সহায়তা এবং ন্যায়বিচার, চিকিৎসা সুবিধা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বাঁকুড়ার জেলার ছাতনা রাজবাড়ির দুর্গা পূজার ইতিহাস জানলে অবাক হবেনই হবেন।

বাঁকুড়ার জেলার এই রাজবাড়ির দুর্গা পূজার ইতিহাস জানলে অবাক হবেনই হবেন। বাঁকুড়ার ছাতনা রাজবাড়ীর দুর্গাপূজা একদম নিখুঁত ভাবে প্রথা মেনে করা হলেও কি কারণে রাজ পরিবারের সদস্যরা পুজোর পর আর মায়ের মুখ দেখেন না? কিজন্য যান না মায়ের মন্দির? কিভাবে সন্ধ্যে নামতেই চুপি চুপি হয়ে যায় বিসর্জন। কারণ গুলি জানতে পৌঁছে গেলাম ছাতনা রাজবাড়ীর বর্তমান রাজা প্রদীপ সিংহ দেও এর কাছে।

 

 

রাজপাট না থাকলেও, এদিন তিনিই সুন্দর করে বলে দিলেন সমস্ত ইতিহাস। বলে দিলেন সামন্ত ভুম ছাতনার সঙ্গে কুলদেবী মা বাসুলীর গভীর সম্পর্ক। বর্তমান রাজার মুখেই জানা গেল ঠিক কিভাবে সামন্ত ভুম ছাতনা এবং মল্লভূম বিষ্ণুপুরের মধ্যে এক বিবাদের জেরে শুরু হয়েছিল ৬০০ বছরের প্রাচীন ছাতনা রাজবাড়ির দুর্গাপুজো।

 

 

প্রদীপ সিংহ দেও জানান ছাপনার ভূমিপুত্র চারণ কবি বড়ু চন্ডীদাসকে কেন্দ্র করে চরম বিবাদ সৃষ্টি হয় বিষ্ণুপুর এবং সামন্ত ভুম ছাতনার মধ্যে। তারপর এই দৈব বিবাদ মেটাতে সন্ধি হয়। কথিত আছে সন্ধিতে উল্লেখ করা ছিল সামন্তভূমের কুলদেবী মা বাসুলি পুজিত হবেন বিষ্ণুপুরে এবং মল্লভূমের মা মৃন্ময়ীর আরাধনা হবে সামন্ত ভুম ছাতনায়। তখন থেকেই শুরু ছাতনা রাজবাড়ীর বিষ্ণুপুরি আদলে দুর্গোৎসব।

 

 

নিষ্ঠা ভরে পূজিত হন মা মৃন্ময়ী। নিজের হাতে পুজো করেন বর্তমান রাজা প্রদীপ সিংহ দেও। পূজার পর পুনরায় বাসুলি মন্দিরে গিয়ে পূজা সেরে নেন মানসিক শান্তির জন্য। নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ছাতনার রাজবাড়িতে দুর্গোৎসব শেষ হলে মন্দিরে এসে মায়ের মুখ দেখেন না রাজ পরিবারের সদস্যরা।

 

 

বিসর্জনের দিন সময় হলে সূর্যাস্তের পর ছাতনার এক বিশেষ পাড়া থেকে জমা হন একাধিক মানুষ। বংশপরম্পরা অনুযায়ী বিগত ৬০০ বছর ধরে এনারাই করে আসছেন বিসর্জনের কাজ। বিসর্জনের সময় ঘরের ভেতরে থাকেন রাজ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অজান্তেই হয়ে যায় মায়ের বিসর্জন।

 

 

একটি ছোট প্রতিবেদনে ছাতনা রাজবাড়ী, কুলদেবী মা বাসুলি এবং রাজবাড়ীর দুর্গাপুজোর পুরো পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব নয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক কিংবদন্তি। প্রতিবছর ছাতনা রাজবাড়ীতে আগ্রহীরা জমা হন দূর দূরান্ত থেকে। জেনে নেন রাজবাড়ীর ইতিহাস এবং দুর্গাপুজোর কিংবদন্তিগুলি।

 

।।কলমে : আবদুল হাই,বাঁকুড়া।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

বিশিষ্ট রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী স্বপন গুপ্ত’র প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।

স্বপন গুপ্ত একজন বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন।  ২০১৫ সালে, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে “সঙ্গীত মহাসম্মান” প্রদান করে।

 

জন্ম ও সঙ্গীত শিক্ষা জীবন—-

 

স্বপন গুপ্তের জন্ম বরিশালে, বর্তমানে বাংলাদেশ, ব্রিটিশ ভারতের।  দেশভাগের সময় তার পরিবার পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় চলে আসে।  স্বপন তখন সবে শিশু।  অন্ধ কিন্তু মেধাবী স্বপন কলকাতা ব্লাইন্ড স্কুলে প্রথম পড়াশুনা করেন।  ১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন থেকে ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক এবং ১৯৬৭ খ্রিস্টাব্দে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।  পড়াশোনার পাশাপাশি পিয়ানো অ্যাকর্ডিয়ান বাজিয়েছেন, শখের মতো গান গেয়েছেন কিন্তু শুরুর দিকে তার কোনো আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত শিক্ষা ছিল না।  কখনো ভাবিনি যে তিনি সঙ্গীতশিল্পী হবেন।
১৯৬৫ খ্রিস্টাব্দে, নরেন্দ্রপুরের কাছে জগদলায় একটি সরস্বতী পূজার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে, প্রখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত দেবব্রত বিশ্বাস তাঁর কণ্ঠস্বর শুনেছিলেন – ‘আকাশ্বর সূর্য-তারা’।  তিনি স্বপন গুপ্তের মধ্যে অনেক সম্ভাবনা দেখেছিলেন।  শীঘ্রই স্বপন মহান শিল্পীর সংস্পর্শে আসেন এবং তার জীবনের গতিপথ পাল্টে যায়।  রবীন্দ্রগানের ছোঁয়ায় তিনি জীবনকে নতুনভাবে বুঝেছেন।  দেবব্রত বিশ্বাসের কাছে প্রায় দশ বছর গানের তালিম নেন, শুরুতে সবার সঙ্গে।  জর্জকে পরে আলাদা করা হয় কারণ তিনি বিশ্বাসের প্রিয় ছাত্র ছিলেন।  বছর দুয়েক পর অডিশন দিয়ে দেবব্রত বিশ্বাস আকাশবাণীর কলকাতা কেন্দ্রে গান গাওয়ার সুযোগ পান।  তাঁর প্রথম রবীন্দ্রসংগীত রেকর্ড ১৯৬৮ সালে HMV থেকে মায়া সেনের তত্ত্বাবধানে ‘লুকলে বলিই শ্রেখ বাহির কারা’ এবং ‘আমার থাটা দে-না আপন মনে’ গানগুলির সাথে প্রকাশিত হয়েছিল।  তিনি পরিচালক শৈবাল মিত্র পরিচালিত ‘চিত্রকর’ ছবিতে দুটি গানে ব্যাকগ্রাউন্ড কণ্ঠ দিয়েছেন এবং ২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল। নিজে অন্ধ হওয়ার কারণে, প্রবীণ অভিনেতা ধৃতিমান চ্যাটার্জি বিনোদবিহারী মুখোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয়ে প্রবীণ অভিনেতা ধৃতিমান চ্যাটার্জিকে সহায়তা করেছিলেন, যিনি প্রতিবন্ধী।

 

তাঁর কিছু স্মরণীয় গান–

আমার ভুবন তো আজ হল কাঙাল,  আজি নির্ভরনিন্দ্রিত ভুবনে জাগে, দুঃখের বরষায় চক্ষের জল যেই নামল, নয়ন তোমারে পায় না দেখিতে (চিত্রকর সিনেমায়),  লিখন তোমার ধূলায় হয়েছে ধূলি, কেন রে এই দুয়ারটুকু পার হতে সংশয়, অনেক কথা যাও যে বলে,  ছি ছি চোখের জলে ভেজাস নে আর মাটি,  বৈশাখের এই ভোরের হাওয়া,  তোমায় কিছু দেবো ব’লে।

 

 

 

সম্মান—-

সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কর্তৃক রবীন্দ্র সঙ্গীত গায়ককে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হয়েছিল।  ২০০২ সালে ভারত সরকারের সামাজিক বিচার মন্ত্রক কর্তৃক জাতীয় পুরস্কার প্রদান করা হয়। ২০১৫ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার “সঙ্গীত মহাসম্মান” প্রদান করে।

জীবনবাসন—-

প্রবীণ রবীন্দ্র সঙ্গীতশিল্পী স্বপন গুপ্ত দীর্ঘদিন ধরে রেকটাল ক্যান্সারে ভুগছিলেন।  ২০২১ সালের আগস্টে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এর সাথে, তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন এবং কলকাতার নিউ টাউনের টাটা মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন।  ২৬ অক্টোবর মহালয়া দেশে ফেরেন।  কিন্তু সোমবার সকালে, ১১ ই অক্টোবর, ৭৫ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। তপতী গুপ্তা হলেন শিল্পী আত্রেয়ী গুপ্তের স্ত্রী ও কন্যা।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

 

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১০ অক্টোবর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১০ অক্টোবর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক)  বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস (১০ অক্টোবর) হল পৃথিবীর সকলের মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, সচেতনতার দিন। এটি ১৯৯২ সালে প্রথমবার পালন করা হয়েছিল।কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসাবে পালন করা হয় ।

 

(খ) স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস।

 

(গ) আন্তর্জাতিক মৃত্যুদন্ড বিরোধী দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০০ – হেলেন হায়েজ, আমেরিকান অভিনেত্রী।

হেলেন হেইস ম্যাকআর্থার (অক্টোবর ১০, ১৯০০ – মার্চ ১৭, ১৯৯৩) ছিলেন একজন আমেরিকান অভিনেত্রী যার ক্যারিয়ার বিরাশি বছর বিস্তৃত ছিল।  তিনি শেষ পর্যন্ত “আমেরিকান থিয়েটারের ফার্স্ট লেডি” ডাকনাম পেয়েছিলেন এবং তিনি ছিলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি এবং প্রথম মহিলা যিনি একটি এমি, একটি গ্র্যামি, একটি অস্কার এবং একটি টনি পুরস্কার (একটি ইজিওটি) জিতেছিলেন।  এছাড়াও তিনি অভিনয়ের ট্রিপল মুকুট জয়ী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন;  আজ অবধি, একমাত্র অন্য ব্যক্তিরা যারা উভয়ই সম্পন্ন করেছেন তারা হলেন রিটা মোরেনো এবং ভায়োলা ডেভিস।  হেইস ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রিগানের কাছ থেকে আমেরিকার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান, প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডমও পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে, তিনি ন্যাশনাল মেডেল অফ আর্টসে ভূষিত হন।

 

১৯০১ – আলবার্তো গিয়াকোমেটি, সুইস ভাস্কর ও চিত্রকর।

 

১৯০৬ – আর. কে. নারায়ণ, ভারতীয় লেখক।

রাসিপুরম কৃষ্ণস্বামী আইয়ার নারায়ণস্বামী (আর কে নারায়ণ নামেই বেশি পরিচিত; ১০ অক্টোবর ১৯০৬ – ১৩ মে ২০০১) একজন ভারতীয় লেখক এবং ঔপন্যাসিক ছিলেন যিনি কাল্পনিক দক্ষিণ ভারতীয় শহর মালগুডিতে তাঁর কাজের জন্য পরিচিত।  তিনি মুল্ক রাজ আনন্দ এবং রাজা রাও-এর সাথে ইংরেজিতে প্রাথমিক ভারতীয় সাহিত্যের একজন প্রধান লেখক ছিলেন।

 

১৯০৮ – সবুর খান, রাজনৈতিক পার্লামেন্টারিয়ান।

১৯১০ – দ্বারকানাথ কোটনিস, ভারতের পাঁচজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন যাঁরা দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সময় চীনে চিকিৎসা সহায়তায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন।

১৯১২ – অনিল মুখার্জি, বাংলাদেশী লেখক এবং রাজনীতিবিদ।

১৯১৩ – ক্লাউডে সাইমন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মালাগাসি ফরাসি লেখক।

১৯১৬ – সমর সেন, ভারতীয় বাঙালি কবি এবং সাংবাদিক।

১৯২৪ – এড উড, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৩০ – হ্যারল্ড পিন্টার, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্রিটিশ সাহিত্যিক।

১৯৩০ – ইভস চাউভিন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

১৯৩৫ – খলিল আল-ওয়াজির, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা।

১৯৩৬ – গেরহার্ড এরটল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ।

১৯৩৭ – সিরাজুল ইসলাম (অভিনেতা), বাংলাদেশী মঞ্চ, বেতার ও টিভির সুপরিচিত অভিনেতা।

১৯৪১ – কেন সারো-ওয়িওা, নাইজেরিয়া লেখক ও সমাজ কর্মী।

১৯৫৪ – ফার্নান্দো সান্টস, সাবেক পর্তুগিজ ফুটবলার ও ম্যানেজার।

১৯৫৭ – রুমিকো তাকাহাশি, জাপানি লেখক ও অঙ্কনশিল্পী।

১৯৬৬ – টনি আলেকজান্ডার অ্যডামস, সাবেক ইংরেজ ফুটবল খেলোয়াড় ও ম্যানেজার।

১৯৭৪ – জুলিও রিকার্ডো ক্রুজ, সাবেক আর্জেন্টিনার ফুটবলার।

 

১৯৭৯ – নিকোলাস মাসু, চিলির টেনিস খেলোয়াড়।

নিকোলাস আলেজান্দ্রো ম্যাসু ফ্রাইড ( জন্ম ১০ অক্টোবর ১৯৭৯), ডাকনাম এল ভ্যাম্পিরো (স্প্যানিশ, ‘দ্য ভ্যাম্পায়ার’), একজন চিলির সাবেক পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়। একজন সাবেক বিশ্ব নং একক, তিনি ২০০৪ এথেন্স অলিম্পিকে একক ও দ্বৈত স্বর্ণপদক জিতেছিলেন । ১৯৮৮ সালে অলিম্পিক টেনিসের পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি একই গেমসে উভয় স্বর্ণপদক জিতেছেন ,  এবং তারা চিলির মাত্র দুটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক । মাসু ২০০৩ মাদ্রিদ মাস্টার্সের ফাইনালেও পৌঁছেছেন এবং ছয়টি একক শিরোপা জিতেছেন। তিনি ২০২০ ইউএস ওপেনের কোচ ছিলেন ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন এবং প্রাক্তন বিশ্ব নং 3 ডমিনিক থিয়েম ।

 

১৯৮২ – ইয়াসির আল-কাহতানি, সৌদি আরব ফুটবল।

 

১৯৮৬ – এজেকিয়েল গারাই, আর্জেন্টিনীয় ফুটবলার।

এজেকিয়েল মার্সেলো গারাই গোন্সালেস (জন্ম ১০ অক্টোবর ১৯৮৬) একজন আর্জেন্টিনীয় ফুটবলার যিনি পর্তুগীজ ক্লাব এস. এল. বেনফিকা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে খেলেন। ২০১১ সালে বেনফিকার হয়ে খেলছেন গারাই।

 

১৯৯১ – জারদান শাকিরি, সুইস ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৯৪ – বায় সূজী, দক্ষিণ কোরিয়ার গায়ক, ড্যান্সার ও অভিনেত্রী।

১৮১৩ – জুসেপ্পে ভের্দি, ইতালীয় সুরকার।

১৮২২ – নরেন্দ্রকৃষ্ণ দেব, কলকাতার শোভাবাজারের মহারাজা।

মহারাজা স্যার নরেন্দ্রকৃষ্ণ দেব বাহাদুর, কে.সি.আই.ই (English Maharaja Sir Narendrakrishna Deb, Bahadur, KCIE) (ইং ১০ অক্টোবর ১৮২২ – ২০ শে মার্চ ১৯০৩) কলকাতার শোভাবাজার রাজ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা নবকৃষ্ণ দেবের পৌত্র ও রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের পুত্র। [১]

 

১৮২৫ – পল ক্রুগার, দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিবিদ ও ৫ম প্রেসিডেন্ট।

১৮৩০ – দ্বিতীয় ইসাবেলা, স্পেনের রানী।

১৮৪৪ – বদরুদ্দিন ত্যাবজী, অবিভক্ত ভারতের খ্যাতনামা বিচারপতি।

১৮৬১ – ফ্রিডটজফ নান্সেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নরওয়েজিয়ান এক্সপ্লোরার ও বিজ্ঞানী।

১৮৭০ – তিনকড়ি,বাংলা রঙ্গমঞ্চের অভিনেত্রী।

 

১৮৯৯ – শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ।

শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গে, (১০ অক্টোবর ১৮৯৯ – ২২ মে ১৯৯১), ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ যিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের একজন অধ্যবসায়ী ছিলেন।  বিংশ শতাব্দীতে, কমিউনিস্ট এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকলাপের জন্য ডাঙ্গেকে কর্তৃপক্ষের দ্বারা গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সামগ্রিকভাবে ১৩ বছরের জন্য জেলে রাখা হয়েছিল।

 

১৭৩১ – হেনরি ক্যাভেন্ডিস, ফরাসি ইংরেজি রসায়নবিদ, পদার্থবিদ ও দার্শনিক।

 

১৭৩৩ – রাজা নবকৃষ্ণ দেব,কলকাতার শোভাবাজার রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম দুর্গাপূজার সূচনা কারী।

নবকৃষ্ণ দেব (English Nabakrishna Deb) যিনি রাজা নবকৃষ্ণ দেব (ইং ১০ অক্টোবর ১৭৩৩- ২২ শে ডিসেম্বর ১৭৯৭) নামে বেশি পরিচিত ও শোভাবাজার রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। ১৭৫৭ সালে কলকাতায় নতুন তৈরি শোভাবাজার রাজবাড়িতে তিনি প্রথম দুর্গাপূজা শুরু করেন যা কলকাতা শহরের সবথেকে পুরোনো দুর্গাপূজা।

 

১৬৮৪ – জাঁ-আন্টইনে ওয়াটেয়াউ, ফরাসি চিত্রশিল্পী।

১৪৬৫ – প্রথম সেলিম, উসমানীয় খলিফা ও নবম উসমানীয় সুলতান।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০২ – হল্যান্ডের হেগ শহরে আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম বৈঠক বা এজলাস অনুষ্ঠিত হয়।

১৯১১ – চীনে দু হাজার বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

১৯১৩ – পানামা খালের গাম্বোয়া বাধ ভেঙে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর একাকার হয়ে যায়।

১৯১৭ – জার্মানির বিরুদ্ধে ব্রাজিল যুদ্ধ ঘোষণা করে।

 

১৯১৯ – পানামা খাল খনন শেষ হয় এবং একে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়।

১৯৩২ – সোভিয়েত ইউনিয়নের নেভা নদীর উপর লেনিন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়।

 

১৯৪২ – কবি কাজী নজরুল ইসলাম মস্তিক ব্যাধিতে আক্রান্ত (মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি আর সুস্থ হননি) হন।

১৯৪৩ – চিয়াং কাই শেক চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯৫৯ – আজেন্টিনায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

১৯৬৪ – এশিয়ার প্রথম টোকিও অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৬৭ – প্রায় ১০০ দেশের মধ্যে মহাশূন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

১৯৭০ – দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপ দেশ ফিজি দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭১ – দিনাজপুরের চড়ারহাট গ্রামে হানাদার বাহিনী মেতে ওঠে হত্যাযজ্ঞে। প্রায় শতাধিক মানুষকে গভীর রাতে ঘুম থেকে তুলে একত্রিত করে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। তাদের মধ্য থেকে গুলিবিদ্ধ ১১ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় সেখানে। পাশের আন্দোল গ্রামটিও রেহাই পায়নি হানাদারদের হাত থেকে।

১৯৭২ – বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বশান্তি পরিষদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘জুলিও কুরি’ পদক প্রদান করা হয়।

১৯৭৩ – বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় গিনি।

১৯৮৬ – সালভাদের ভুমিকম্পে দুই সহস্রাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৯৭ – ফ্রান্সের ৪০ জাতি শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়।

 

১৭৫৬ – লর্ড রবার্ট ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে ৫টি যুদ্ধজাহাজে ৯০০ সৈন্য নিয়ে কলকাতা দখলের জন্য যাত্রা করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০০ – সিরিমাভো বন্দরনায়েকে, শ্রীলঙ্কার ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ।

সিরিমা রাতওয়াত্তে দিয়াস বন্দরনায়েকে (১৭ এপ্রিল ১৯১৬ – ১০ অক্টোবর ২০০০), সাধারণত সিরিমাভো বন্দরনায়েকে নামে পরিচিত), ছিলেন একজন শ্রীলঙ্কার রাজনীতিবিদ।  ১৯৬০ সালে তিনি শ্রীলঙ্কার (তখন ডোমিনিয়ন অফ সিলন) প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৬০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (SLFP) এর সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন  প্রধান নির্বাহী হিসাবে, ১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ এবং ১৯৭০ থেকে ১৯৭৭, এবং আবার ১৯৯৪ থেকে ২০০০ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদ্ধতিতে, তার কন্যা চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার সভাপতিত্বে শাসন করছেন।

 

২০০৪ – ক্রিস্টোফার রীভ, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা।

২০০৫ – মিল্টন অবোটে, উগান্ডা রাজনীতিবিদ ও ২য় প্রেসিডেন্ট।

২০১০ – জোয়ান সুথেরলান্ড, অস্ট্রেলীয় সুইস সরু ও অভিনেত্রী।

 

২০১১ – জগজিৎ সিং, ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম গজল গায়ক।

জগজিৎ সিং (জন্ম জগমোহন সিং ধীমান; ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪১ – ১০ অক্টোবর ২০১১) ছিলেন একজন ভারতীয় সুরকার, গায়ক এবং সঙ্গীতজ্ঞ।  তিনি অসংখ্য ভাষায় রচনা করেছেন এবং গেয়েছেন এবং গজলের পুনরুজ্জীবন ও জনপ্রিয়তার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়, একটি ভারতীয় ধ্রুপদী শিল্প ফর্ম, জনসাধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক কবিতা বেছে নিয়ে এবং শব্দ ও সুরের অর্থের উপর আরও জোর দেওয়ার মাধ্যমে সেগুলি রচনা করে  তাদের দ্বারা উদ্ভূত.  ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পরিপ্রেক্ষিতে, তার রচনাশৈলী এবং গায়কি (গান) বোল-প্রধান হিসাবে বিবেচিত হয়, যা শব্দের উপর জোর দেয়।  তিনি প্রেম গীত (১৯৮১), আর্থ (১৯৮২), এবং সাথ সাথ (১৯৮২), এবং টিভি সিরিয়াল মির্জা গালিব (১৯৮৮) এবং কাহকাশান (১৯৯১) এর মতো চলচ্চিত্রের জন্য তার সঙ্গীতে এটি তুলে ধরেন।  সমালোচকদের প্রশংসা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিংকে সর্বকালের সবচেয়ে সফল গজল গায়ক এবং সুরকার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।  পাঁচ দশকের কর্মজীবন এবং অনেক অ্যালবামের সাথে, তার কাজের পরিসর এবং প্রস্থকে রীতি-সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

 

২০১৫ – রিচার্ড এফ. হেক, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ।

২০১৯ – রাম মোহন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শিক্ষামূলক জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র মীনার রূপদানকারী।

 

২০২১ – পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক আবদুল কাদের।

আবদুল কাদের খান  (১ই এপ্রিল ১৯৩৬ – ১০ অক্টোবর ২০২১) পাকিস্তানে শ্রদ্ধাসহকারে মহসিন-ই-পাকিস্তান (উর্দু: محسن پاکِستان‎‎; আক্ষরিকভাবে: পাকিস্তানের উদ্ধারক), অতি জনপ্রিয় ডঃ এ. কিউ. খান, ছিলেন একজন পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী এবং একজন ধাতুবিদ্যা প্রকৌশলী।

 

২০২২ – মুলায়ম সিং যাদব, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও একসময়ের ভারতের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

মুলায়ম সিং যাদব (২২ নভেম্বর ১৯৩৯ – ১০ অক্টোবর ২০২২) ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, একজন সমাজবাদী ব্যক্তিত্ব এবং সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।  ছয় দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী তার রাজনৈতিক কর্মজীবনে, তিনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিন মেয়াদে এবং ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।  দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য, তিনি লোকসভার ময়নপুরী, আজমগড়, সম্বল ও কনৌজ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী সাতবারের সংসদ সদস্য, দশবার বিধানসভার সদস্য, বিধান পরিষদের সদস্য এবং বিরোধী দলের পদের নেতা ছিলেন  পাশাপাশি বেশ কয়েকবার।  প্রবীণ রাজনীতিবিদ ছিলেন ভারতীয় রাজনীতিতে তার সময়ের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, এবং পার্টির নেতা ও কর্মীরা প্রায়ই নেতাজি (অর্থাৎ হিন্দিতে সম্মানিত নেতা) এবং ধরতিপুত্র (মাতৃভূমির পুত্র) নামে পরিচিত ছিলেন।  ২০২৩ সালে, সমাজতান্ত্রিক নেতাকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হয়েছিল, যা ভারত সরকার কর্তৃক ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার।

 

১৯১৩ – জাপান কাতসুরা তারো, জাপানি রাজনীতিবিদ ও ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।

১৯৬৩ – এডিথ পিয়াফ, ফরাসি গায়ক, গীতিকার ও অভিনেত্রী।

১৯৬৪ – গুরু দত্ত,বিংশ শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের ভারতীয় চলচ্চিত্রের পরিচালক,প্রযোজক ও অভিনেতা।

১৯৭১ – সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, বাঙালি কথাশিল্পী, ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।

১৯৮৩ – রাফ রিচার্ডসন, ইংরেজ মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা।

 

১৯৮৪ – আবদুল করিম আমিরি ফিরুজকুহি, ইরানের প্রখ্যাত কবি, গবেষক ও অধ্যাপক।

সাইয়্যেদ মোস্তফা কুলি মুনতাজাম আল-দাওলার পুত্র আমিরি ফিরুজকুহি ফিরুজকুহের ফারহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন ।
তার পূর্বপুরুষরা করিম খানের শাসনামল থেকে কাজার শাসনের শেষ পর্যন্ত গভর্নর এবং সামরিক কমান্ডার ছিলেন , যাতে তাদের সকলের নাম আমির, যার অর্থ আমির বা রাজা । তার পিতা কাজার মুজাফ্ফর আল-দীন শাহের অধীনে একজন আধুনিকতাবাদী ছিলেন যিনি শাহের সাথে একজন সেনাপতি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে ইউরোপে গিয়েছিলেন, এইভাবে পশ্চিমা সভ্যতার সর্বশেষ অগ্রগতিগুলি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

 

১৯৮৪ – আয়াতুল্লাহ মীর্যা খলিল কামারেহয়ী, বিখ্যাত মুফাসসির ও অধ্যাপক।

১৯৮৫ – ইয়ুল বরয়নের, রাশিয়ান অভিনেতা।

১৯৮৫ – জর্জ অরসন ওয়েলস, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

 

১৯৯৪ – শেখ মোহাম্মদ সুলতান (এস এম সুলতান), বাংলাদেশী প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী।

শেখ মোহাম্মদ সুলতান (১০ আগস্ট ১৯২৩ – ১০ অক্টোবর ১৯৯৪), এস এম সুলতান নামে পরিচিত, ছিলেন একজন বাঙালি ঔপনিবেশিক শিল্পী যিনি চিত্রাঙ্কন এবং অঙ্কনে কাজ করতেন।  তার খ্যাতি তার প্রাত্যহিক জীবনের ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত অতিরঞ্জিতভাবে পেশীবহুল বাংলাদেশী কৃষকদের তার আকর্ষণীয় চিত্রের উপর নির্ভর করে।  সুলতানের প্রথম দিকের কাজগুলি পশ্চিমা টেকনিক এবং ফর্মগুলি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, বিশেষ করে ইমপ্রেশনিজম, তবে, তার পরবর্তী কাজগুলিতে বিশেষ করে, ১৯৭৬ সালে প্রদর্শিত কাজগুলিতে, আমরা আবিষ্কার করি যে তার শিল্প প্রযুক্তি এবং ফর্মগুলিকে উপনিবেশিত করার একটি ধ্রুবক প্রলোভন রয়েছে।

 

১৮২৭ – উগো ফস্কল, ইতালীয় লেখক ও কবি।

 

১৮৩৭ – চার্লস ফুরিয়ার, ফরাসি দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।

ফ্রাঁসোয়া মারি চার্লস ফুরিয়ার (৭ এপ্রিল ১৭৭২ – ১০ অক্টোবর ১৮৩৭) ছিলেন একজন ফরাসি দার্শনিক, একজন প্রভাবশালী প্রারম্ভিক সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ, এবং কল্পনিক সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।  তার কিছু মতামত, যাকে তার জীবদ্দশায় র্যাডিকাল বলে ধরে নেওয়া হয়েছে, আধুনিক সমাজে মূলধারায় পরিণত হয়েছে।  উদাহরণস্বরূপ, ফুরিয়ারকে ১৮৩৭ সালে নারীবাদ শব্দের উদ্ভবের কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

 

১৮৭২ – উইলিয়াম এইচ. সেওারড, আমেরিকান আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ২৪ তম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৬৫৯ – আবেল তাসমান, ডাচ বণিক ও এক্সপ্লোরার।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মানসিক স্বাস্থ্য সকল মানুষের মৌলিক মানবাধিকার : আজ বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।

মানসিক স্বাস্থ্য সকল মানুষের মৌলিক মানবাধিকার।  প্রত্যেকেরই, যেই হোক না কেন তারা যেখানেই হোক না কেন, মানসিক স্বাস্থ্যের সর্বোচ্চ অর্জনযোগ্য মানের অধিকার রয়েছে।  এর মধ্যে রয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত হওয়ার অধিকার, উপলব্ধ, অ্যাক্সেসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য এবং ভাল মানের যত্নের অধিকার এবং সম্প্রদায়ে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা এবং অন্তর্ভুক্তির অধিকার।
ভাল মানসিক স্বাস্থ্য আমাদের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার জন্য অত্যাবশ্যক।  তবুও বিশ্বব্যাপী প্রতি আটজনের মধ্যে একজন মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা নিয়ে বসবাস করছেন, যা তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য, তাদের সুস্থতা, তারা কীভাবে অন্যদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে এবং তাদের জীবিকাকে প্রভাবিত করতে পারে।  মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থাও ক্রমবর্ধমান সংখ্যক কিশোর এবং তরুণদের প্রভাবিত করছে।

 

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস (১০ অক্টোবর) হল পৃথিবীর সকলের মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, সচেতনতার দিন। এটি ১৯৯২ সালে প্রথমবার পালন করা হয়েছিল।কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসাবে পালন করা হয় ।

 

 

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের ইতিহাস—-

 

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস প্রথম ১০ অক্টোবর, ১৯৯২ তারিখে ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল, একটি বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য সংস্থা যা ১৫০ টিরও বেশি দেশে উপস্থিত রয়েছে।  উদ্যোগটি ১৯৯২ সালে মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্ব ফেডারেশনের ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল রিচার্ড হান্টার প্রস্তাব করেছিলেন।

১৯৯৪ সাল পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট থিম ছাড়াই দিবসটি পালিত হতো;  এটি মূলত মানসিক স্বাস্থ্যের সাধারণ সমস্যা সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।  পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্ব ফেডারেশনের তৎকালীন মহাসচিব ইউজিন ব্রডির পরামর্শের ভিত্তিতে, দিবসটি ১৯৯৪ সালের থিমের উপর ভিত্তি করে পালিত হয়েছিল এবং ১৯৯৪ সালের থিম ছিল “বিশ্বব্যাপী মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করা”।  তারপর থেকে, মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্ব ফেডারেশন মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা, এর প্রতিরোধ এবং মানসিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আরও ভাল সুযোগ তৈরি করতে সহায়তা করার জন্য লোকেদের প্রচার ও শিক্ষিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট থিম ঘোষণা করেছে।

 

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের গুরুত্ব—

 

আমরা সবাই জানি, একজন ব্যক্তির মানসিক স্বাস্থ্য একটি সুস্থ সমাজ ও জাতি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ জীবন অর্জনের জন্য মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা থাকা অপরিহার্য।  সাম্প্রতিক অভূতপূর্ব বৈশ্বিক ঘটনা যেমন COVID মহামারী এবং যুদ্ধগুলি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী সংকট নিয়ে এসেছে, যা বিশ্বব্যাপী লক্ষ লক্ষ মানুষকে প্রভাবিত করেছে, যা অবশ্যই চিকিত্সার ফাঁক এবং সুযোগ-সুবিধাগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করার জন্য বিশ্বব্যাপী সংস্থা এবং নীতিনির্ধারকদের মনোযোগ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজন।  মানসিক স্বাস্থ্য সমর্থন।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারাভিযান সংগঠিত করে এবং অন্যদেরকে তাদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশে মানসিক স্বাস্থ্যের মূল্য বোঝার সুযোগ কাজে লাগাতে এবং অংশগ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করার মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একে অপরকে সমর্থন করার জন্য মানুষকে একত্রিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  এটি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের চিন্তাভাবনা ভাগ করে নেওয়ার জন্য এবং তাদের কষ্টের বিষয়ে সোচ্চার হতে এবং অন্যদের সমর্থন করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের সাথে সংযোগ করতে সক্ষম করে।

 

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৩ থিম—

 

এই বছর ২০২৩, বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের থিম হল “মানসিক স্বাস্থ্য একটি সার্বজনীন মানবাধিকার”, বিশ্বব্যাপী সকলের কাছে সচেতনতা সৃষ্টি, জ্ঞানের উন্নতি, সার্বজনীন মানবাধিকার হিসাবে প্রত্যেকের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রচার ও সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপগুলি চালানোর জন্য একটি অনুস্মারক আহ্বান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস, জানব দিনটির গুরুত্ব।

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস, অক্টোবর মাস ধরে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রচারাভিযান যা স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাসব্যাপী প্রচারাভিযান জাতীয় স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পরিচিত।  স্তন ক্যান্সারের প্রতি ব্যাপক মনোযোগ আনার প্রথম সংগঠিত প্রচেষ্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 1985 সালের অক্টোবরে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি এবং ইম্পেরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ফার্মাসিউটিক্যালস (পরবর্তীতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অংশ) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সপ্তাহব্যাপী ইভেন্ট হিসাবে ঘটেছিল।  তারপর থেকে, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক সনাক্তকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে লোকেদের শিক্ষিত করা এবং গবেষণায় সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রচারাভিযানগুলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রসারিত হয়েছে।  আজ, অলাভজনক সংস্থা, সরকারী সংস্থা এবং চিকিৎসা সমিতি স্তন ক্যান্সার সচেতনতা প্রচারের জন্য একসাথে কাজ করে।

 

বিশ্বব্যাপী, স্তন ক্যান্সার সবচেয়ে সাধারণ  স্ক্রীনিং এবং চিকিত্সার বৈশ্বিক বৈষম্য, সেইসাথে বিশ্বব্যাপী এই রোগের ক্রমাগত উচ্চ ঘটনা, ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিক থেকে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা প্রচারে আন্তর্জাতিক আগ্রহের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করেছে।
স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস জুড়ে, বিজ্ঞান ফোরাম, শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম, এবং তথ্যমূলক প্যামফলেট এবং পোস্টারগুলি প্রচারের উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়
স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রতীক হল গোলাপী রঙ।  ১৯৯০ এর দশকে গোলাপী ফিতা সমর্থনের প্রাথমিক প্রতীক হিসাবে দাঁড়িয়েছিল।  যাইহোক, গোলাপী রঙটি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে পোশাক, পোস্টার এবং ইন্টারনেট ওয়েব সাইটগুলি ব্যক্তিগত প্রদর্শনের জন্য এবং Estée Lauder, Inc., একটি সুগন্ধি এবং প্রসাধনী কোম্পানি, গ্লোবাল ইলুমিনেশন চালু করেছে, একটি প্রকল্প যেখানে প্রধান বিশ্ব  স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের সমর্থনে অক্টোবরে এক বা তার বেশি দিনের জন্য ল্যান্ডমার্কগুলিকে গোলাপী আলোয় আলোকিত করা হয়।  আলোকিত ল্যান্ডমার্কের মধ্যে রয়েছে সিডনি অপেরা হাউস, নায়াগ্রা জলপ্রপাত, ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, তাইপেই ১০১ বিল্ডিং এবং লন্ডনের টাওয়ার।

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের প্রকাশ্য বাণিজ্যিকীকরণ স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের সমাধান হিসেবে ম্যামোগ্রাফির সমালোচনার উৎস।  সমালোচকরা দাবি করেন যে অক্টোবর মাসটি মহিলাদের ম্যামোগ্রাফি করতে উত্সাহিত করার বিষয়ে আরও বেশি হয়ে উঠেছে, স্তন ক্যান্সারের কারণ, প্রতিরোধ এবং চিকিত্সা সম্পর্কে অর্থপূর্ণ আলোচনার চেয়ে ম্যামোগ্রাফি প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থাগুলির জন্য স্ক্রীনিং প্রোগ্রামগুলি ব্যয়-কার্যকর থাকে তা নিশ্চিত করে৷  অধিকন্তু, স্তন ক্যান্সার সচেতনতা প্রচারণাগুলি নারীদের স্টিরিওটাইপিং এবং বস্তুনিষ্ঠ করার জন্য এবং স্তন ক্যান্সারের সম্পূর্ণ নারীকরণের জন্য সমালোচিত হয়েছে, গোলাপী পণ্যগুলির অত্যধিক বিপণন এবং এই পণ্যগুলি থেকে স্তন ক্যান্সার গবেষণা বা সম্পর্কিত কারণগুলিতে দান করা হয় সামান্য বা কোন অর্থ।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This