Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস নিয়ে কিছু কথা।

বিশ্ব খাদ্য দিবস 2023: সঠিক খাদ্য এবং পুষ্টির অ্যাক্সেস একটি মৌলিক মানবাধিকার।  যাইহোক, বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার এবং জলের অ্যাক্সেস নেই, বিশ্ব খাদ্য দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এই গ্রহের প্রতিটি মানুষ যাতে সঠিক পুষ্টি এবং সঠিক খাবারের অ্যাক্সেস পায় তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।  খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুধার মোকাবিলা করাও বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু।  প্রতি বছর, বিশ্ব খাদ্য দিবস অনেক নতুন উদ্যোগ এবং সংস্থাগুলির নতুন ধারণার সাথে পালন করা হয়।  আমরা বিশেষ দিনটি উদযাপন করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথে এখানে কয়েকটি জিনিস জানার আছে।

 

বিশ্ব খাদ্য দিবস 2023 ইতিহাস:—

 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা 1945 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর চৌত্রিশ বছর পর, 1979 সালে, FAO সম্মেলনে, বিশ্ব খাদ্য দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ছুটির দিন হিসাবে গৃহীত হয়েছিল।  এর পরে, 150 টিরও বেশি দেশ বিশ্ব খাদ্য দিবসকে উদযাপনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসাবে গ্রহণ করতে একত্রিত হয়েছিল।

 

বিশ্ব খাদ্য দিবস 2023 তাৎপর্য:—

 

এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- পানিই জীবন, পানিই খাদ্য।  কাউকে পিছু ছাড়বেন না।  “পৃথিবীতে জীবনের জন্য জল অপরিহার্য। এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে, আমাদের দেহের 50% এরও বেশি তৈরি করে, আমাদের খাদ্য উত্পাদন করে এবং জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এই মূল্যবান সম্পদ অসীম নয়, এবং আমাদের এটি গ্রহণ করা বন্ধ করতে হবে।  স্বীকৃত। আমরা যা খাই, এবং কীভাবে সেই খাদ্য উত্পাদিত হয় তা সবই জলকে প্রভাবিত করে। একসঙ্গে, আমরা খাদ্যের জন্য জলের পদক্ষেপ নিতে পারি এবং পরিবর্তন হতে পারি,” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাগুলি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লিখেছেন।  এই দিনে, সংস্থাগুলি গ্রহের প্রত্যেকের জন্য খাদ্য এবং জলের সমান অ্যাক্সেসের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একত্রিত হয়।

 

2023বিশ্ব খাদ্য দিবস থিম: “জলই জীবন, জলই খাদ্য। কাউকে পিছিয়ে রাখবেন না”

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

অজ বিশ্ব মান দিবস, জানব দিনটির ইতিহাস, থিম ও তাৎপর্য।

বিশ্ব মান দিবস হল প্রতি বছর ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে পালিত একটি দিবস।  এই দিবসটি পণ্য ও পরিষেবার মান উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী কাজ করে এমন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অবদানকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে।  এই দিবসটি মূলত কর্তৃপক্ষ, উদ্যোক্তা এবং ভোক্তাদের পণ্য ও সেবার মান উন্নয়ন ও বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করার উদ্দেশ্যে পালন করা হয়।

 

বিশ্ব মান দিবসের ইতিহাস—

 

প্রথম বিশ্ব মান দিবস পালিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালে লন্ডনে, যে বছর আন্তর্জাতিক মানক সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  প্রতি বছর ১৪ অক্টোবর, I.E.C., I.S.O., I.T.U. এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানককরণ সংস্থার সদস্যদের সহ সারা বিশ্বের লোকেরা, বিশেষজ্ঞ, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিশ্বব্যাপী প্রমিতকরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সকলের সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা উদযাপন করে।  এই উদযাপন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য লিখিত মানগুলির তাৎপর্য তুলে ধরতে কাজ করে’,

 

১৪ অক্টোবর, ১৯৪৬-এ, লন্ডনে, বিশ্বের ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা পণ্য ও পরিষেবার বৈশ্বিক মান বজায় রাখার জন্য একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান-সেটিং সংস্থার সাথে সম্মত হন, যা পরের বছর তার কার্যক্রম শুরু করে।  দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বব্যাপী এই দিনটি পালিত হয়।  আইএসও ১৯৭০ সাল থেকে এই দিবসটি পালন করে আসছে। প্রতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় বর্তমান বিষয়গুলোকে ঘিরে।

 

বিশ্ব মান দিবস ২০২৩ থিম—

 

 

 

বিশ্ব মান দিবস ২০২৩ এর থিম হল, “একটি উন্নত বিশ্বের জন্য ভাগ করা দৃষ্টিভঙ্গি”।

 

বিশ্ব মান দিবস ২০২৩ তাৎপর্য—

 

প্রমিতকরণের মূল্য সম্পর্কে গভীরভাবে বোঝার এবং এটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার সুযোগটি ২০২৩ সালের বিশ্ব মান দিবস দ্বারা প্রদান করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU), ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (ISO) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইলেক্ট্রোটেকনিক্যালের যৌথ প্রকল্প।  কমিশন (আইইসি), যা বিশ্ব সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করার জন্য প্রতি বছর প্রচারের উপাদান তৈরি করে।  আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি দিক মান দ্বারা প্রভাবিত হয়।  তারা নিশ্চিত করে যে পণ্য এবং পরিষেবাগুলি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে, জীবনের মান উন্নত করে এবং এটিকে নিরাপদ করে।  আরও ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য ২০৩০ এজেন্ডা অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

“সত্ত্ব, তমঃ ও রজঃ” তিনটি শব্দ নিয়ে আলোচনা : দিলীপ  রায়।

প্রথমে প্রত্যেক শব্দের অর্থ জানা যাকঃ
সত্ত্বঃ- সত্ত্ব শব্দের অর্থ হলো ধর্মীয় জ্ঞানের প্রকাশ এবং সাত্ত্বিক শব্দের মানে হলো ধর্মজ্ঞানী । সত্ত্ব শব্দটির মূল  কথা হলো সৎ এবং সৎ শব্দের অর্থ হলো সাধু । অর্থাৎ সত্ত্ব বা সাত্ত্বিক বলতে সর্বদা মহৎ বা উন্নত জ্ঞানসম্পন্ন  ভালো কিছুকে বোঝায় । যখন কোনো ব্যক্তি প্রতিটি পরস্থিতিতে ধর্ম, সত্য ও ন্যায়ের বিচার করে তাঁর  আচরণ করে থাকেন,  তখন তাকে সাত্ত্বিক বলা হয়।
তমঃ-  তমঃ শব্দের অর্থ হলো অন্ধকার এবং তমঃ থেকেই তামসিক শব্দের উৎপত্তি ।  “ভালো মন্দের বিচার ব্যতীত জীবন নির্বাহ করা  অথবা কারো সকল আদেশকে বিনা দ্বিধায় পালন করা” এটা  তামসিক আচরণ বলেই গণ্য । অন্যভাবে, কেবল শারীরিক চাহিদা অর্থাৎ ক্ষুধা ও যৌনতার চাহিদাকে পূর্ণ করার জন্য যখন কেউ জীবন কাটায়, তখন সেটা তামসিক আচরণের মধ্যে পড়ে । ইতর প্রাণীরা সাধারণত স্বভাববশতই এই ধরণের জীবন কাটায় বা কাটাতে বাধ্য হয় ।
রজঃ-  রজঃ শব্দের অর্থ  হলো  অহঙ্কার  ।  রজঃগুনী ব্যক্তির মধ্যে ধর্ম বা সত্যের জ্ঞান থাকে, কিন্তু শরীর ও মন বাসনার দ্বারা আবদ্ধ থাকে এবং অহঙ্কার পূর্ণ মন নিয়ে বেঁচে থাকে ।
সংক্ষেপে বলতে গেলে— সত্ত্ব মানে ধর্ম জ্ঞান, মঙ্গল, ভারসাম্য,  রজঃ মানে অহঙ্কার, আবেগ, উত্তেজনা  এবং তমঃ  মানে অন্ধকার, নিস্তেজতা, জড়তা, উদাসীনতা  ।
উপসংহারে বলা যায় – সত্ত্বগুণের স্বরূপ হচ্ছে নির্মল । নির্মল সত্ত্বগুণ দ্বারা পরমাত্মার জ্ঞান লাভ সম্ভব । সত্ত্বগুণের উৎকৃষ্ট উপাদান হচ্ছে জ্ঞান । জ্ঞান বোধশক্তির  বোধক । জ্ঞানই প্রকৃত প্রকাশক । এই  সত্বগুণ রজঃ ও তমঃগুণের বৃত্তিকে অবদমিত করে অন্তঃকরণে স্বচ্ছতা ও নির্মলতা উৎপন্ন করে । অন্যদিকে রজঃগুণ, চঞ্চল স্বরূপ । রজঃ নিজেও যেমন চঞ্চল, তেমনি অপরের মধ্যেও  চঞ্চলতার উৎপাদক ।  রজঃগুণ বাড়লে লোভ, শান্তির অভাব ও আসক্তি এই সমস্ত বৃত্তিগুলির উদ্ভব ঘটে । আর তমঃগুণ হচ্ছে এককথায় সত্ত্বগুণের বিপরীত ! তমঃগুণ ও অজ্ঞানতা পরস্পর ওতোপ্রতভাবে জড়িয়ে থাকে । তমঃগুণ অজ্ঞানতা থেকেই উৎপন্ন হয় আবার অন্যদিকে   অজ্ঞানতা থেকে তমঃগুণ বাড়ে ।
লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ যা কিছু কর্ম করে সেটা দুঃখদায়ক হয় । বেশীমাত্রায় আকাঙ্খার নাম লোভ । মানুষ কর্তব্য কর্ম থেকে বিচ্যুত হলে মনে অশান্তি ও চাঞ্চল্য বাড়ে । পাপ বাড়ে । সুতরাং  কপকটতা করে অর্থোপার্জন,  পাপের নামান্তর ।
ঠাকুর রামকৃষ্ণের ভাষায়ঃ  সত্ত্ব, রজঃ আর তমঃ  – মানুষের এই তিন গুণ । সব মানুষের ভিতর এর লক্ষণ ফুটে ওঠে । সেটা যেমন সংসারীর ক্ষেত্রে সত্যি, তেমনি ভক্তের ক্ষেত্রেও । কিন্তু কেমন করে বোঝা যায়, কে কোন গুণের অধিকারী।
সত্ত্ব, রজঃ  আর  তমঃ গুণের কথা  আমরা সবাই জানি ।  কিন্তু বুঝব কী করে আমরা কে কোন জায়গায় আছি ? আবার সংসারী মানুষ  মনে করে, ভক্ত বোধহয় এসবের ঊর্ধ্বে  ।  সত্যিই কি তাই । এই সব সংশয় নিরসনের জন্য আমাদের গুরুদেবের  শরণ নিতে হয়। ঠাকুর রামকৃষ্ণ  ভক্তমনের এই সন্দেহ নিরসন মিটিয়ে দেন একেবারে সহজ কথায় । তিনি বলেন, “সংসারীর সত্ত্বগুণ কী রকম জানো ? বাড়িটি এখানে ভাঙা, ওখানে ভাঙা — মেরামত করে না  । ঠাকুরদালানে পায়রাগুলো হাগছে, উঠানে শেওলা পড়েছে  হুঁশ নাই। আসবাবগুলো পুরানো, ফিটফাট করবার চেষ্টা নাই । কাপড় যা তাই একখানা হলেই হলো । লোকটি খুব শান্ত, শিষ্ট, দয়ালু, অমায়িক; কাউকে কোনও অনিষ্ট করে না । “সংসারীর রজঃগুণের লক্ষণ বলতে —  ঘড়ি, ঘড়ির চেন, হাতে দুই-তিনটি  আঙটি । বাড়ির আসবাব খুব ফিটফাট । দেওয়ালে কুইনের ছবি, রাজপুত্রের ছবি, কোন বড় মানুষের ছবি । বাড়িটি চুনকাম করা, যেন কোনখানে একটু দাগ নাই । নানারকমের ভাল পোষাক ।“  সংসারীর তমঃগুণের  লক্ষণ হচ্ছে  — “নিদ্রা, কাম, ক্রোধ, অহংকার এই সব ।“  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

২৫০ বছরের প্রাচীন মহিষাদল রাজবাড়ির পুজোয় আজও মানুষের ঢল নামে।

বর্তমান সময়ে থিমের রমরমা। মন্ডপ থেকে প্রতিমা সবেতেই থিমের ছোঁয়া। দর্শনার্থীদের ভীড় জমলেও কমেনি প্রাচীন রাজবাড়ির পুজোয় ভীড়। আগেকার সেই জৌলুস, আড়ম্বর আজ অনেক টাই কমে গিয়েছে। কিন্তু নিয়ম মেনেই প্রতিপদে ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গাপুজো দেখতে আজও ভিড় জমান দূর দূরান্তের পাশাপাশি  স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিমা দর্শন করতে আসেন ভিন জেলা, রাজ্যের দর্শনার্থীরাও।
রানি জানকীর আমলে আনুমানিক ১৭৭৬ সালে মহিষাদল রাজ বাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই সময় থেকেই রাজ বাড়ির ঠাকুর দালানে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। রাজত্ব চলে যাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর জৌলুস কমেছে। কিন্তু, নিয়ম-আচারে ছেদ পড়েনি। তাই প্রথা অনুযায়ী মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদের দিন ঘট স্থাপন করে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। ‘মহালয়ার পরের দিন রাজবাড়ির দুর্গা মণ্ডপ লাগোয়া অশ্বত্থ গাছের তলায় নটি ঘট ওঠে। ষষ্ঠী থেকে প্রতি দিনই ঘটপুজো হবে। সপ্তমী থেকে মূর্তি পুজো হয়। প্রতিমার এক পাশে ঘট, অন্য পাশে ধান রাখা হয়। এই দুর্গাপুজো করার পরই শুষ্ক গ্রামে ধান ফলে ছিল। তাই ভালো ফসলের আশায় আজও দেবীর পাশে ধান রাখা হয়। এই ধনের বীজের অঙ্কুর থেকেই পূর্বাভাস পাওয়া যায় এলাকায় ফসল কেমন হবে। পুজোয় ১০৮টি নীলপদ্ম দেওয়ার চলও রয়েছে, যা আসত উত্তর প্রদেশ থেকে। কিন্তু এখন তা আর হয় না, সাদা পদ্মে মায়ের পুজো হয়। আগে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় যাত্রাপালা, ভোগ বিতরণ, কামান দেগে সন্ধিপুজো, বিসর্জনের শোভাযাত্রা সবই হত। পুজোর দিন গুলিতে ঠাকুর দালানেই যাত্রা হত। রাজবাড়ির মহিলারা পর্দার আড়াল থেকে যাত্রা দেখতেন। পুজোর দিন অনুযায়ী ভোগ রান্না হত। যেমন, ষষ্ঠীতে ছয় মন, সপ্তমীতে সাত মন, অষ্টমীতে আট মন, নবমীতে নয় মন চালের প্রসাদ তৈরি করে বিতরণ করা হত। এখন তা আর সম্ভব হয় না। অষ্টমীর সন্ধ্যায় কামান দেগে রাজবাড়ি সহ আশপাশের এলাকার পুজোমণ্ডপে সন্ধি পুজো শুরু হত। দশমীতে বড় নৌকায় করে শোভাযাত্রা বেরতো এবং রাজবাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া হিজলি টাইডাল ক্যানাল হয়ে গেঁওখালিতে রূপনারায়ণ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হত। এখন সে সবই অতীত। রাজত্ব ঘোচার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রাপালা বন্ধ হয়েছে। পুজোর দিন গুলিতে অবশ্য এখনও ভোগ রান্না করা হয়। কিন্তু তা যৎসামান্য। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবি গান হলেও এখন আর হয় না চাত্রাপালা। কামানের পরিবর্তে আতশবাজি এদিকে সরকার কামান দাগায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেটাও ইতিহাসের খাতায় চলে গিয়েছে। এখন কামান দাগার পরিবর্তে আতস বাজির রোশনাইয়ের মধ্যে দিয়ে সন্ধিপুজো করা হয়। বিসর্জনের শোভা যাত্রাও অতীত। রাজবাড়ি লাগোয়া রাজদিঘিতেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে আড়ম্বর কমলেও ঐতিহ্যের টানে আজও বহু মানুষ মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় সামিল হন। দর্শনার্থীদের যাতে কোনও রকম অসুবিধে না হয়, তার জন্য বর্তমান রাজ পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নজরে রেখেছেন। পুজোয় আগত দর্শনার্থী বা পর্যটকদের পরিষেবা দিতে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মূল্য দিয়ে থাকতে হবে। মহিষাদল রাজবাড়ির বর্তমান প্রজন্ম হিসাবে রাজবাড়ি দেখা শোনা করে থাকেন শংকরপ্রসাদ গর্গ ও হরপ্রসাদ গর্গ। রাজবাড়ির পুজো দেখতে এবং রাজ বাড়ির অপরূপ পরিবেশের অনুভূতি নিতে হলে আস্তে হবে মহিষাদলে। প্রাচীন মহিষাদলের ঠাকুর দালান ভগ্নদশায় পরিনত হয়। পুজোর সময় ভীষণ সমস্যা হত। দর্শনার্থীদের কথা ভেবে স্থানীয় বিধায়ক তিলককুমার চক্রবর্তীর উদ্যোগে সেই ঠাকুরদালান নতুন করে নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রজ্যের বহু মানুষ এখানে রাজবাড়ি ও রাজবাড়ির পুজো দেখতে আসেন তাদের কথা ভেবে রাজ পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন রাজবাড়িকে সাজি তোলার কাজ চলছে।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

আর্থ্রাইটিস একটি বেদনাদায়ক রোগ যা মানবদেহের এক বা একাধিক জয়েন্টকে প্রভাবিত করে।  আর্থ্রাইটিস জয়েন্টে ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যায়, যা ব্যক্তির প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপকে আরও বাধা দেয়।  যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয়, আর্থ্রাইটিস একজনের নড়াচড়ার পরিধি কমিয়ে দিতে পারে এবং সোজা হয়ে বসতেও অসুবিধা হতে পারে।  আর্থ্রাইটিসের লক্ষণগুলি সাধারণত বয়সের সাথে আরও খারাপ হয়।

 

আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে কয়েকটি হল জয়েন্টে ব্যথা, জয়েন্টের চারপাশে লালভাব, ফোলাভাব এবং কোমলতা এবং জয়েন্টগুলোতে শক্ত হওয়া, বিশেষ করে সকালে।  আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি লক্ষ্য করা এবং চিকিত্সা করা প্রাথমিক পর্যায়ে বেদনাদায়ক রোগের সাথে মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।

 

প্রতি বছর ১২ অক্টোবর বিশ্ব বাত দিবস (WAD) পালন করা হয়।  দিনটি আর্থ্রাইটিস, বাতজনিত অবস্থা এবং অন্যান্য পেশীবহুল রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নিবেদিত।  বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল আর্থ্রাইটিস নামে পরিচিত একটি দুর্বল স্বাস্থ্য অবস্থার লক্ষণ, উপসর্গ, কারণ, প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করা।
আর্থ্রাইটিস হল বিভিন্ন ধরনের যৌথ-সম্পর্কিত অবস্থার জন্য একটি সমন্বিত শব্দ।  এই অবস্থায় ভুগছেন এমন লোকেরা প্রায়শই ব্যথা, প্রদাহ, শক্ত হওয়া এবং জয়েন্টগুলিতে গতিশীলতা হ্রাসের মতো উপসর্গে ভোগেন।  রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থারাইটিস, জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস, গাউট, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, সেপটিক আর্থ্রাইটিস এবং আরও অনেক কিছু সহ বিভিন্ন ধরনের বাত রয়েছে।  প্রতিটি ধরনের আর্থ্রাইটিস লক্ষণ, উপসর্গ এবং কারণের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়।

ওয়ার্ল্ড আর্থ্রাইটিস ডে ২০২৩ থিম—

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস ২০২৩-এর থিম হল “জীবনের সকল পর্যায়ে একটি RMD সহ জীবন যাপন।”

 

ওয়ার্ল্ড আর্থ্রাইটিস ডে মানুষের জন্য রিউম্যাটিক এবং মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজিজ (RMDs) এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।  এটি আরএমডির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষাকেও প্রচার ও উৎসাহিত করে।

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের ইতিহাস এবং তাৎপর্য—

 

আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড রিউম্যাটিজম ইন্টারন্যাশনাল (এআরআই) বিশ্ব বাত দিবস (ডব্লিউএডি) প্রতিষ্ঠা করেছে।  ১৯৯৬ সালের ১২ অক্টোবর প্রথম বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালিত হয়।
প্রতি বছর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উপলক্ষে, আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশনের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাত এবং পেশীর রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং এই বিধ্বংসী স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনায় বাধা দূর করতে সহযোগিতা করে।

আর্থ্রাইটিসের মতো স্বাস্থ্যের অবস্থা যতটা মনোযোগ দেওয়া উচিত ততটা পায় না।  ফলে মানুষ সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা পায় না।

 

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উদযাপনের মূল তাৎপর্য হল আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে বোঝার প্রচার করা, মিথ এবং ভ্রান্ত ধারণাগুলি দূর করা এবং অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা।

 

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস, জানুন দিনটি পালনের গুরুত্ব।

সূচনা :

 

“বিশ্বব্যাপী মেয়েরা তাদের শিক্ষা, তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং সহিংসতামুক্ত জীবনযাপনের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়।”  প্রতিবন্ধী মেয়েরা সহায়তা এবং পরিষেবা অ্যাক্সেসে অতিরিক্ত বাধার সম্মুখীন হয়,’ জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বলে। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়।  ১১ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে, জাতিসংঘ প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উদযাপন করে।  এ বছর আন্তর্জাতিক মেয়ে দিবসের এগার তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

 

এই দিবস পালনের ইতিহাস:

১৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক মেয়ে শিশু দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।  বিশ্বজুড়ে মেয়েদের অধিকার এবং মেয়েরা যে অনন্য চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হয় তা স্বীকৃতি দেওয়া।

বেসরকারী সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা স্পনসর করা একটি প্রকল্প হিসাবে জন্ম হয়েছিল মেয়ে শিশুর আন্তর্জাতিক দিবস।  প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের “কারণ আমি একটি মেয়ে” নামক আন্দোলনের ফলে এই দিবসের ধারণাটি উদ্ভূত হয়েছিল।  এই আন্দোলনের মূল এজেন্ডা হল বিশ্বজুড়ে কন্যা শিশুর পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।  এই সংগঠনের কানাডিয়ান কর্মীরা সকলেই এই আন্দোলনকে বিশ্ব মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করতে কানাডা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কানাডায় আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।  ১৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে, এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয় এবং ১১ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে, প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়।  প্রতি বছর একটি থিম আছে.  কন্যা শিশু দিবসের প্রথম প্রতিপাদ্য ছিল “বাল্য বিবাহ বন্ধ করা”।  দ্বিতীয়বারের মতো, ২০১৩ সালে, থিম ছিল “মেয়েদের জন্য শিক্ষা খাতে উদ্ভাবন”।  তৃতীয় এবং চতুর্থ মেয়াদের থিম ছিল, “কিশোরীদের ক্ষমতায়ন এবং সহিংসতার চক্রের অবসান” এবং “কিশোরীদের ক্ষমতায়ন: ২০৩০ এর রোডম্যাপ”।

 

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের তাৎপর্য:

শিক্ষা, পুষ্টি, জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ, আইনি অধিকার এবং চিকিৎসার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের মতো বিশ্বজুড়ে মেয়েরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয় সে সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে।  প্রতি বছর দিবসটির থিম পরিবর্তিত হয়।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “এখন সময়, আমাদের সবাইকে মেয়েদের কাজ, তাদের অধিকারের দায়িত্ব নিতে হবে।”  তাদের নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখতে হবে।  এটাই এই দিনের গুরুত্ব।

 

দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য :

 

লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।  অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার অধিকার, পুষ্টি, আইনি সহায়তা এবং ন্যায়বিচার, চিকিৎসা সুবিধা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ১০ অক্টোবর, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।

আজ ১০ অক্টোবর। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

 

দিবস—–

 

(ক)  বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস।

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস (১০ অক্টোবর) হল পৃথিবীর সকলের মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষা, সচেতনতার দিন। এটি ১৯৯২ সালে প্রথমবার পালন করা হয়েছিল।কিছু দেশে একে মানসিক রোগ সচেতনতা সপ্তাহের অংশ হিসাবে পালন করা হয় ।

 

(খ) স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস।

 

(গ) আন্তর্জাতিক মৃত্যুদন্ড বিরোধী দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০০ – হেলেন হায়েজ, আমেরিকান অভিনেত্রী।

হেলেন হেইস ম্যাকআর্থার (অক্টোবর ১০, ১৯০০ – মার্চ ১৭, ১৯৯৩) ছিলেন একজন আমেরিকান অভিনেত্রী যার ক্যারিয়ার বিরাশি বছর বিস্তৃত ছিল।  তিনি শেষ পর্যন্ত “আমেরিকান থিয়েটারের ফার্স্ট লেডি” ডাকনাম পেয়েছিলেন এবং তিনি ছিলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি এবং প্রথম মহিলা যিনি একটি এমি, একটি গ্র্যামি, একটি অস্কার এবং একটি টনি পুরস্কার (একটি ইজিওটি) জিতেছিলেন।  এছাড়াও তিনি অভিনয়ের ট্রিপল মুকুট জয়ী প্রথম ব্যক্তি ছিলেন;  আজ অবধি, একমাত্র অন্য ব্যক্তিরা যারা উভয়ই সম্পন্ন করেছেন তারা হলেন রিটা মোরেনো এবং ভায়োলা ডেভিস।  হেইস ১৯৮৬ সালে রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রিগানের কাছ থেকে আমেরিকার সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান, প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অফ ফ্রিডমও পেয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে, তিনি ন্যাশনাল মেডেল অফ আর্টসে ভূষিত হন।

 

১৯০১ – আলবার্তো গিয়াকোমেটি, সুইস ভাস্কর ও চিত্রকর।

 

১৯০৬ – আর. কে. নারায়ণ, ভারতীয় লেখক।

রাসিপুরম কৃষ্ণস্বামী আইয়ার নারায়ণস্বামী (আর কে নারায়ণ নামেই বেশি পরিচিত; ১০ অক্টোবর ১৯০৬ – ১৩ মে ২০০১) একজন ভারতীয় লেখক এবং ঔপন্যাসিক ছিলেন যিনি কাল্পনিক দক্ষিণ ভারতীয় শহর মালগুডিতে তাঁর কাজের জন্য পরিচিত।  তিনি মুল্ক রাজ আনন্দ এবং রাজা রাও-এর সাথে ইংরেজিতে প্রাথমিক ভারতীয় সাহিত্যের একজন প্রধান লেখক ছিলেন।

 

১৯০৮ – সবুর খান, রাজনৈতিক পার্লামেন্টারিয়ান।

১৯১০ – দ্বারকানাথ কোটনিস, ভারতের পাঁচজন চিকিৎসকের মধ্যে একজন যাঁরা দ্বিতীয় চীন-জাপান যুদ্ধের সময় চীনে চিকিৎসা সহায়তায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন।

১৯১২ – অনিল মুখার্জি, বাংলাদেশী লেখক এবং রাজনীতিবিদ।

১৯১৩ – ক্লাউডে সাইমন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী মালাগাসি ফরাসি লেখক।

১৯১৬ – সমর সেন, ভারতীয় বাঙালি কবি এবং সাংবাদিক।

১৯২৪ – এড উড, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৩০ – হ্যারল্ড পিন্টার, সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ব্রিটিশ সাহিত্যিক।

১৯৩০ – ইভস চাউভিন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ফরাসি রসায়নবিদ ও অধ্যাপক।

১৯৩৫ – খলিল আল-ওয়াজির, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা।

১৯৩৬ – গেরহার্ড এরটল, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান পদার্থবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ।

১৯৩৭ – সিরাজুল ইসলাম (অভিনেতা), বাংলাদেশী মঞ্চ, বেতার ও টিভির সুপরিচিত অভিনেতা।

১৯৪১ – কেন সারো-ওয়িওা, নাইজেরিয়া লেখক ও সমাজ কর্মী।

১৯৫৪ – ফার্নান্দো সান্টস, সাবেক পর্তুগিজ ফুটবলার ও ম্যানেজার।

১৯৫৭ – রুমিকো তাকাহাশি, জাপানি লেখক ও অঙ্কনশিল্পী।

১৯৬৬ – টনি আলেকজান্ডার অ্যডামস, সাবেক ইংরেজ ফুটবল খেলোয়াড় ও ম্যানেজার।

১৯৭৪ – জুলিও রিকার্ডো ক্রুজ, সাবেক আর্জেন্টিনার ফুটবলার।

 

১৯৭৯ – নিকোলাস মাসু, চিলির টেনিস খেলোয়াড়।

নিকোলাস আলেজান্দ্রো ম্যাসু ফ্রাইড ( জন্ম ১০ অক্টোবর ১৯৭৯), ডাকনাম এল ভ্যাম্পিরো (স্প্যানিশ, ‘দ্য ভ্যাম্পায়ার’), একজন চিলির সাবেক পেশাদার টেনিস খেলোয়াড়। একজন সাবেক বিশ্ব নং একক, তিনি ২০০৪ এথেন্স অলিম্পিকে একক ও দ্বৈত স্বর্ণপদক জিতেছিলেন । ১৯৮৮ সালে অলিম্পিক টেনিসের পুনঃপ্রবর্তনের পর থেকে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি একই গেমসে উভয় স্বর্ণপদক জিতেছেন ,  এবং তারা চিলির মাত্র দুটি অলিম্পিক স্বর্ণপদক । মাসু ২০০৩ মাদ্রিদ মাস্টার্সের ফাইনালেও পৌঁছেছেন এবং ছয়টি একক শিরোপা জিতেছেন। তিনি ২০২০ ইউএস ওপেনের কোচ ছিলেন ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন এবং প্রাক্তন বিশ্ব নং 3 ডমিনিক থিয়েম ।

 

১৯৮২ – ইয়াসির আল-কাহতানি, সৌদি আরব ফুটবল।

 

১৯৮৬ – এজেকিয়েল গারাই, আর্জেন্টিনীয় ফুটবলার।

এজেকিয়েল মার্সেলো গারাই গোন্সালেস (জন্ম ১০ অক্টোবর ১৯৮৬) একজন আর্জেন্টিনীয় ফুটবলার যিনি পর্তুগীজ ক্লাব এস. এল. বেনফিকা এবং আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে খেলেন। ২০১১ সালে বেনফিকার হয়ে খেলছেন গারাই।

 

১৯৯১ – জারদান শাকিরি, সুইস ফুটবল খেলোয়াড়।

১৯৯৪ – বায় সূজী, দক্ষিণ কোরিয়ার গায়ক, ড্যান্সার ও অভিনেত্রী।

১৮১৩ – জুসেপ্পে ভের্দি, ইতালীয় সুরকার।

১৮২২ – নরেন্দ্রকৃষ্ণ দেব, কলকাতার শোভাবাজারের মহারাজা।

মহারাজা স্যার নরেন্দ্রকৃষ্ণ দেব বাহাদুর, কে.সি.আই.ই (English Maharaja Sir Narendrakrishna Deb, Bahadur, KCIE) (ইং ১০ অক্টোবর ১৮২২ – ২০ শে মার্চ ১৯০৩) কলকাতার শোভাবাজার রাজ পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা মহারাজা নবকৃষ্ণ দেবের পৌত্র ও রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের পুত্র। [১]

 

১৮২৫ – পল ক্রুগার, দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিবিদ ও ৫ম প্রেসিডেন্ট।

১৮৩০ – দ্বিতীয় ইসাবেলা, স্পেনের রানী।

১৮৪৪ – বদরুদ্দিন ত্যাবজী, অবিভক্ত ভারতের খ্যাতনামা বিচারপতি।

১৮৬১ – ফ্রিডটজফ নান্সেন, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নরওয়েজিয়ান এক্সপ্লোরার ও বিজ্ঞানী।

১৮৭০ – তিনকড়ি,বাংলা রঙ্গমঞ্চের অভিনেত্রী।

 

১৮৯৯ – শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতা ।

শ্রীপাদ অমৃত ডাঙ্গে, (১০ অক্টোবর ১৮৯৯ – ২২ মে ১৯৯১), ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ যিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের একজন অধ্যবসায়ী ছিলেন।  বিংশ শতাব্দীতে, কমিউনিস্ট এবং ট্রেড ইউনিয়ন কার্যকলাপের জন্য ডাঙ্গেকে কর্তৃপক্ষের দ্বারা গ্রেফতার করা হয়েছিল এবং সামগ্রিকভাবে ১৩ বছরের জন্য জেলে রাখা হয়েছিল।

 

১৭৩১ – হেনরি ক্যাভেন্ডিস, ফরাসি ইংরেজি রসায়নবিদ, পদার্থবিদ ও দার্শনিক।

 

১৭৩৩ – রাজা নবকৃষ্ণ দেব,কলকাতার শোভাবাজার রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম দুর্গাপূজার সূচনা কারী।

নবকৃষ্ণ দেব (English Nabakrishna Deb) যিনি রাজা নবকৃষ্ণ দেব (ইং ১০ অক্টোবর ১৭৩৩- ২২ শে ডিসেম্বর ১৭৯৭) নামে বেশি পরিচিত ও শোভাবাজার রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। ১৭৫৭ সালে কলকাতায় নতুন তৈরি শোভাবাজার রাজবাড়িতে তিনি প্রথম দুর্গাপূজা শুরু করেন যা কলকাতা শহরের সবথেকে পুরোনো দুর্গাপূজা।

 

১৬৮৪ – জাঁ-আন্টইনে ওয়াটেয়াউ, ফরাসি চিত্রশিল্পী।

১৪৬৫ – প্রথম সেলিম, উসমানীয় খলিফা ও নবম উসমানীয় সুলতান।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯০২ – হল্যান্ডের হেগ শহরে আন্তর্জাতিক আদালতের প্রথম বৈঠক বা এজলাস অনুষ্ঠিত হয়।

১৯১১ – চীনে দু হাজার বছরের রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে।

১৯১৩ – পানামা খালের গাম্বোয়া বাধ ভেঙে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর একাকার হয়ে যায়।

১৯১৭ – জার্মানির বিরুদ্ধে ব্রাজিল যুদ্ধ ঘোষণা করে।

 

১৯১৯ – পানামা খাল খনন শেষ হয় এবং একে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হয়।

১৯৩২ – সোভিয়েত ইউনিয়নের নেভা নদীর উপর লেনিন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়।

 

১৯৪২ – কবি কাজী নজরুল ইসলাম মস্তিক ব্যাধিতে আক্রান্ত (মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি আর সুস্থ হননি) হন।

১৯৪৩ – চিয়াং কাই শেক চীনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

১৯৫৯ – আজেন্টিনায় গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

১৯৬৪ – এশিয়ার প্রথম টোকিও অলিম্পিক গেমস অনুষ্ঠিত হয়।

১৯৬৭ – প্রায় ১০০ দেশের মধ্যে মহাশূন্য চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

১৯৭০ – দক্ষিণ পূর্ব এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত দ্বীপ দেশ ফিজি দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭১ – দিনাজপুরের চড়ারহাট গ্রামে হানাদার বাহিনী মেতে ওঠে হত্যাযজ্ঞে। প্রায় শতাধিক মানুষকে গভীর রাতে ঘুম থেকে তুলে একত্রিত করে নির্মমভাবে হত্যা করে তারা। তাদের মধ্য থেকে গুলিবিদ্ধ ১১ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয় সেখানে। পাশের আন্দোল গ্রামটিও রেহাই পায়নি হানাদারদের হাত থেকে।

১৯৭২ – বঙ্গবন্ধুকে বিশ্বশান্তি পরিষদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘জুলিও কুরি’ পদক প্রদান করা হয়।

১৯৭৩ – বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় গিনি।

১৯৮৬ – সালভাদের ভুমিকম্পে দুই সহস্রাধিক লোকের প্রাণহানি ঘটে।

১৯৯৭ – ফ্রান্সের ৪০ জাতি শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়।

 

১৭৫৬ – লর্ড রবার্ট ক্লাইভ মাদ্রাজ থেকে ৫টি যুদ্ধজাহাজে ৯০০ সৈন্য নিয়ে কলকাতা দখলের জন্য যাত্রা করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০০ – সিরিমাভো বন্দরনায়েকে, শ্রীলঙ্কার ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ।

সিরিমা রাতওয়াত্তে দিয়াস বন্দরনায়েকে (১৭ এপ্রিল ১৯১৬ – ১০ অক্টোবর ২০০০), সাধারণত সিরিমাভো বন্দরনায়েকে নামে পরিচিত), ছিলেন একজন শ্রীলঙ্কার রাজনীতিবিদ।  ১৯৬০ সালে তিনি শ্রীলঙ্কার (তখন ডোমিনিয়ন অফ সিলন) প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিশ্বের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ১৯৬০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি (SLFP) এর সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং দুইবার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তিন মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন  প্রধান নির্বাহী হিসাবে, ১৯৬০ থেকে ১৯৬৫ এবং ১৯৭০ থেকে ১৯৭৭, এবং আবার ১৯৯৪ থেকে ২০০০ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদ্ধতিতে, তার কন্যা চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গার সভাপতিত্বে শাসন করছেন।

 

২০০৪ – ক্রিস্টোফার রীভ, মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেতা।

২০০৫ – মিল্টন অবোটে, উগান্ডা রাজনীতিবিদ ও ২য় প্রেসিডেন্ট।

২০১০ – জোয়ান সুথেরলান্ড, অস্ট্রেলীয় সুইস সরু ও অভিনেত্রী।

 

২০১১ – জগজিৎ সিং, ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম গজল গায়ক।

জগজিৎ সিং (জন্ম জগমোহন সিং ধীমান; ৮ ফেব্রুয়ারি ১৯৪১ – ১০ অক্টোবর ২০১১) ছিলেন একজন ভারতীয় সুরকার, গায়ক এবং সঙ্গীতজ্ঞ।  তিনি অসংখ্য ভাষায় রচনা করেছেন এবং গেয়েছেন এবং গজলের পুনরুজ্জীবন ও জনপ্রিয়তার জন্য কৃতিত্ব দেওয়া হয়, একটি ভারতীয় ধ্রুপদী শিল্প ফর্ম, জনসাধারণের জন্য প্রাসঙ্গিক কবিতা বেছে নিয়ে এবং শব্দ ও সুরের অর্থের উপর আরও জোর দেওয়ার মাধ্যমে সেগুলি রচনা করে  তাদের দ্বারা উদ্ভূত.  ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের পরিপ্রেক্ষিতে, তার রচনাশৈলী এবং গায়কি (গান) বোল-প্রধান হিসাবে বিবেচিত হয়, যা শব্দের উপর জোর দেয়।  তিনি প্রেম গীত (১৯৮১), আর্থ (১৯৮২), এবং সাথ সাথ (১৯৮২), এবং টিভি সিরিয়াল মির্জা গালিব (১৯৮৮) এবং কাহকাশান (১৯৯১) এর মতো চলচ্চিত্রের জন্য তার সঙ্গীতে এটি তুলে ধরেন।  সমালোচকদের প্রশংসা এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের পরিপ্রেক্ষিতে সিংকে সর্বকালের সবচেয়ে সফল গজল গায়ক এবং সুরকার হিসাবে বিবেচনা করা হয়।  পাঁচ দশকের কর্মজীবন এবং অনেক অ্যালবামের সাথে, তার কাজের পরিসর এবং প্রস্থকে রীতি-সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

 

২০১৫ – রিচার্ড এফ. হেক, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান রসায়নবিদ ও শিক্ষাবিদ।

২০১৯ – রাম মোহন, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে শিক্ষামূলক জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্র মীনার রূপদানকারী।

 

২০২১ – পাকিস্তানের পারমাণবিক বোমার জনক আবদুল কাদের।

আবদুল কাদের খান  (১ই এপ্রিল ১৯৩৬ – ১০ অক্টোবর ২০২১) পাকিস্তানে শ্রদ্ধাসহকারে মহসিন-ই-পাকিস্তান (উর্দু: محسن پاکِستان‎‎; আক্ষরিকভাবে: পাকিস্তানের উদ্ধারক), অতি জনপ্রিয় ডঃ এ. কিউ. খান, ছিলেন একজন পাকিস্তানি পরমাণু বিজ্ঞানী এবং একজন ধাতুবিদ্যা প্রকৌশলী।

 

২০২২ – মুলায়ম সিং যাদব, ভারতীয় রাজনীতিবিদ, উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও একসময়ের ভারতের প্রাক্তন প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

মুলায়ম সিং যাদব (২২ নভেম্বর ১৯৩৯ – ১০ অক্টোবর ২০২২) ছিলেন একজন ভারতীয় রাজনীতিবিদ, একজন সমাজবাদী ব্যক্তিত্ব এবং সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা।  ছয় দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী তার রাজনৈতিক কর্মজীবনে, তিনি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিন মেয়াদে এবং ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।  দীর্ঘদিনের সংসদ সদস্য, তিনি লোকসভার ময়নপুরী, আজমগড়, সম্বল ও কনৌজ নির্বাচনী এলাকার প্রতিনিধিত্বকারী সাতবারের সংসদ সদস্য, দশবার বিধানসভার সদস্য, বিধান পরিষদের সদস্য এবং বিরোধী দলের পদের নেতা ছিলেন  পাশাপাশি বেশ কয়েকবার।  প্রবীণ রাজনীতিবিদ ছিলেন ভারতীয় রাজনীতিতে তার সময়ের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, এবং পার্টির নেতা ও কর্মীরা প্রায়ই নেতাজি (অর্থাৎ হিন্দিতে সম্মানিত নেতা) এবং ধরতিপুত্র (মাতৃভূমির পুত্র) নামে পরিচিত ছিলেন।  ২০২৩ সালে, সমাজতান্ত্রিক নেতাকে মরণোত্তর পদ্মবিভূষণে ভূষিত করা হয়েছিল, যা ভারত সরকার কর্তৃক ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার।

 

১৯১৩ – জাপান কাতসুরা তারো, জাপানি রাজনীতিবিদ ও ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।

১৯৬৩ – এডিথ পিয়াফ, ফরাসি গায়ক, গীতিকার ও অভিনেত্রী।

১৯৬৪ – গুরু দত্ত,বিংশ শতকের পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের ভারতীয় চলচ্চিত্রের পরিচালক,প্রযোজক ও অভিনেতা।

১৯৭১ – সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহ, বাঙালি কথাশিল্পী, ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।

১৯৮৩ – রাফ রিচার্ডসন, ইংরেজ মঞ্চ ও চলচ্চিত্র অভিনেতা।

 

১৯৮৪ – আবদুল করিম আমিরি ফিরুজকুহি, ইরানের প্রখ্যাত কবি, গবেষক ও অধ্যাপক।

সাইয়্যেদ মোস্তফা কুলি মুনতাজাম আল-দাওলার পুত্র আমিরি ফিরুজকুহি ফিরুজকুহের ফারহাবাদে জন্মগ্রহণ করেন ।
তার পূর্বপুরুষরা করিম খানের শাসনামল থেকে কাজার শাসনের শেষ পর্যন্ত গভর্নর এবং সামরিক কমান্ডার ছিলেন , যাতে তাদের সকলের নাম আমির, যার অর্থ আমির বা রাজা । তার পিতা কাজার মুজাফ্ফর আল-দীন শাহের অধীনে একজন আধুনিকতাবাদী ছিলেন যিনি শাহের সাথে একজন সেনাপতি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে ইউরোপে গিয়েছিলেন, এইভাবে পশ্চিমা সভ্যতার সর্বশেষ অগ্রগতিগুলি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।

 

১৯৮৪ – আয়াতুল্লাহ মীর্যা খলিল কামারেহয়ী, বিখ্যাত মুফাসসির ও অধ্যাপক।

১৯৮৫ – ইয়ুল বরয়নের, রাশিয়ান অভিনেতা।

১৯৮৫ – জর্জ অরসন ওয়েলস, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।

 

১৯৯৪ – শেখ মোহাম্মদ সুলতান (এস এম সুলতান), বাংলাদেশী প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী।

শেখ মোহাম্মদ সুলতান (১০ আগস্ট ১৯২৩ – ১০ অক্টোবর ১৯৯৪), এস এম সুলতান নামে পরিচিত, ছিলেন একজন বাঙালি ঔপনিবেশিক শিল্পী যিনি চিত্রাঙ্কন এবং অঙ্কনে কাজ করতেন।  তার খ্যাতি তার প্রাত্যহিক জীবনের ক্রিয়াকলাপে নিযুক্ত অতিরঞ্জিতভাবে পেশীবহুল বাংলাদেশী কৃষকদের তার আকর্ষণীয় চিত্রের উপর নির্ভর করে।  সুলতানের প্রথম দিকের কাজগুলি পশ্চিমা টেকনিক এবং ফর্মগুলি দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল, বিশেষ করে ইমপ্রেশনিজম, তবে, তার পরবর্তী কাজগুলিতে বিশেষ করে, ১৯৭৬ সালে প্রদর্শিত কাজগুলিতে, আমরা আবিষ্কার করি যে তার শিল্প প্রযুক্তি এবং ফর্মগুলিকে উপনিবেশিত করার একটি ধ্রুবক প্রলোভন রয়েছে।

 

১৮২৭ – উগো ফস্কল, ইতালীয় লেখক ও কবি।

 

১৮৩৭ – চার্লস ফুরিয়ার, ফরাসি দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ।

ফ্রাঁসোয়া মারি চার্লস ফুরিয়ার (৭ এপ্রিল ১৭৭২ – ১০ অক্টোবর ১৮৩৭) ছিলেন একজন ফরাসি দার্শনিক, একজন প্রভাবশালী প্রারম্ভিক সমাজতান্ত্রিক চিন্তাবিদ, এবং কল্পনিক সমাজতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতাদের একজন।  তার কিছু মতামত, যাকে তার জীবদ্দশায় র্যাডিকাল বলে ধরে নেওয়া হয়েছে, আধুনিক সমাজে মূলধারায় পরিণত হয়েছে।  উদাহরণস্বরূপ, ফুরিয়ারকে ১৮৩৭ সালে নারীবাদ শব্দের উদ্ভবের কৃতিত্ব দেওয়া হয়।

 

১৮৭২ – উইলিয়াম এইচ. সেওারড, আমেরিকান আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও ২৪ তম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

১৬৫৯ – আবেল তাসমান, ডাচ বণিক ও এক্সপ্লোরার।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ স্তন ক্যান্সার সচেতনতা দিবস, জানব দিনটির গুরুত্ব।

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস, অক্টোবর মাস ধরে আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য প্রচারাভিযান যা স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে।  মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মাসব্যাপী প্রচারাভিযান জাতীয় স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস হিসেবে পরিচিত।  স্তন ক্যান্সারের প্রতি ব্যাপক মনোযোগ আনার প্রথম সংগঠিত প্রচেষ্টা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 1985 সালের অক্টোবরে আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটি এবং ইম্পেরিয়াল কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ফার্মাসিউটিক্যালস (পরবর্তীতে অ্যাস্ট্রাজেনেকার অংশ) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি সপ্তাহব্যাপী ইভেন্ট হিসাবে ঘটেছিল।  তারপর থেকে, রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রতিরোধ এবং প্রাথমিক সনাক্তকরণের পদ্ধতি সম্পর্কে লোকেদের শিক্ষিত করা এবং গবেষণায় সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহের প্রচারাভিযানগুলি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রসারিত হয়েছে।  আজ, অলাভজনক সংস্থা, সরকারী সংস্থা এবং চিকিৎসা সমিতি স্তন ক্যান্সার সচেতনতা প্রচারের জন্য একসাথে কাজ করে।

 

বিশ্বব্যাপী, স্তন ক্যান্সার সবচেয়ে সাধারণ  স্ক্রীনিং এবং চিকিত্সার বৈশ্বিক বৈষম্য, সেইসাথে বিশ্বব্যাপী এই রোগের ক্রমাগত উচ্চ ঘটনা, ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিক থেকে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা প্রচারে আন্তর্জাতিক আগ্রহের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করেছে।
স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস জুড়ে, বিজ্ঞান ফোরাম, শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম, এবং তথ্যমূলক প্যামফলেট এবং পোস্টারগুলি প্রচারের উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হয়
স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের প্রধান আন্তর্জাতিক প্রতীক হল গোলাপী রঙ।  ১৯৯০ এর দশকে গোলাপী ফিতা সমর্থনের প্রাথমিক প্রতীক হিসাবে দাঁড়িয়েছিল।  যাইহোক, গোলাপী রঙটি বিভিন্ন উপায়ে ব্যবহার করা হয়, যার মধ্যে পোশাক, পোস্টার এবং ইন্টারনেট ওয়েব সাইটগুলি ব্যক্তিগত প্রদর্শনের জন্য এবং Estée Lauder, Inc., একটি সুগন্ধি এবং প্রসাধনী কোম্পানি, গ্লোবাল ইলুমিনেশন চালু করেছে, একটি প্রকল্প যেখানে প্রধান বিশ্ব  স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের সমর্থনে অক্টোবরে এক বা তার বেশি দিনের জন্য ল্যান্ডমার্কগুলিকে গোলাপী আলোয় আলোকিত করা হয়।  আলোকিত ল্যান্ডমার্কের মধ্যে রয়েছে সিডনি অপেরা হাউস, নায়াগ্রা জলপ্রপাত, ব্র্যান্ডেনবার্গ গেট, এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং, তাইপেই ১০১ বিল্ডিং এবং লন্ডনের টাওয়ার।

স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাসের প্রকাশ্য বাণিজ্যিকীকরণ স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধের সমাধান হিসেবে ম্যামোগ্রাফির সমালোচনার উৎস।  সমালোচকরা দাবি করেন যে অক্টোবর মাসটি মহিলাদের ম্যামোগ্রাফি করতে উত্সাহিত করার বিষয়ে আরও বেশি হয়ে উঠেছে, স্তন ক্যান্সারের কারণ, প্রতিরোধ এবং চিকিত্সা সম্পর্কে অর্থপূর্ণ আলোচনার চেয়ে ম্যামোগ্রাফি প্রযুক্তি সরবরাহকারী সংস্থাগুলির জন্য স্ক্রীনিং প্রোগ্রামগুলি ব্যয়-কার্যকর থাকে তা নিশ্চিত করে৷  অধিকন্তু, স্তন ক্যান্সার সচেতনতা প্রচারণাগুলি নারীদের স্টিরিওটাইপিং এবং বস্তুনিষ্ঠ করার জন্য এবং স্তন ক্যান্সারের সম্পূর্ণ নারীকরণের জন্য সমালোচিত হয়েছে, গোলাপী পণ্যগুলির অত্যধিক বিপণন এবং এই পণ্যগুলি থেকে স্তন ক্যান্সার গবেষণা বা সম্পর্কিত কারণগুলিতে দান করা হয় সামান্য বা কোন অর্থ।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

অজ আন্তর্জাতিক মৃত্যুদন্ড বিরোধী দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ব দিবসটি প্রতি বছর ১০ অক্টোবর পালিত হয় এবং এটি আমাদের বিচার ব্যবস্থা থেকে মৃত্যুদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আলাদা করা একটি দিন।  প্রচারাভিযানটি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জনমত এবং জনসাধারণের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদেরকে এর বিলুপ্তির জন্য লড়াই করতে উত্সাহিত এবং শক্তিশালী করার চেষ্টা করে।  এটি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘ সহ অসংখ্য এনজিও এবং বিশ্ব সরকার দ্বারা সমর্থিত।

 

 

 

মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্ব দিবসের ইতিহাস—-

 

মৃত্যুদণ্ড, যাকে মৃত্যুদণ্ড বলে উল্লেখ করা হয়, সেই ব্যক্তির দ্বারা সংঘটিত অপরাধের শাস্তি হিসাবে একজন ব্যক্তির রাষ্ট্র-অনুমোদিত হত্যা।  পৃথিবীতে সভ্যতার শুরু থেকে প্রায় সব সমাজেই অপরাধী ও ভিন্নমতাবলম্বীদের মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়েছে।
বছরের পর বছর ধরে, মানব সভ্যতাগুলি মৃত্যুদণ্ড রহিত করার চেষ্টা করেছে কিন্তু সমাজকে কয়েক বছর পর ফিরে আসতে দেখেছে।  উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে ৭২৪ খ্রিস্টাব্দে জাপান, যে সময়ে সম্রাট শোমুর নিষেধাজ্ঞা মাত্র কয়েক বছর স্থায়ী হয়েছিল;  ৭৪৭ খ্রিস্টাব্দে চীনে, তাং এর সম্রাট জুয়ানজং দ্বারা এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং নির্বাসন বা চাবুক দিয়ে প্রতিস্থাপিত হয়েছিল – এটিও মাত্র ১২ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মনে করে যে মৃত্যুদণ্ড মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, বিশেষ করে জীবনের অধিকার এবং নির্যাতন বা নিষ্ঠুর, অমানবিক, বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি থেকে মুক্ত বেঁচে থাকার অধিকার।  উভয় অধিকারই ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণার অধীনে সুরক্ষিত।
১৯৭৭ সালে যখন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার কাজ শুরু করেছিল, তখন মাত্র ১৬ টি দেশ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছিল।  আজ, সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮ – বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি দেশ৷  প্রতি বছর, একটি থিম নির্বাচন করা হয়.  তাদের মনোযোগের ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে একজন আইনজীবীর অ্যাক্সেস, শিশু মৃত্যুদণ্ড, মৃত্যুদণ্ডে জীবনযাপনের অবস্থা, দারিদ্র্য এবং ন্যায়বিচার।
সময়ের সাথে সাথে, সমস্ত অঞ্চল থেকে আরও বেশি সংখ্যক সদস্য রাষ্ট্র স্বীকার করে যে মৃত্যুদণ্ড মানব মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে এবং এর বিলুপ্তি মানবাধিকারের বর্ধন এবং প্রগতিশীল উন্নয়নে অবদান রাখে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

১০২৭ বছরের মল্ল রাজ কূলদেবী মৃন্ময়ীর পুজো, রাজবাড়ির দেওয়ালে কান পাতলে আজও যেন শোনা যায় মল্লরাজাদের প্রাচীণ ইতিহাসের পদধ্বনি।

মুর্ছা পাহাড় থেকে মুহুর্মুহু গর্জে উঠল কামান। ৯ টি তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে শুরু হল ১০২৭ বছরের মল্ল রাজ কূলদেবী মৃন্ময়ীর পুজো।  মল্ল রাজারা আর নেই, নেই রাজ্যপাঠ। ভাঙ্গাচোরা রাজবাড়ির দেওয়ালে কান পাতলে আজও যেন শোনা যায় মল্লরাজাদের প্রাচীণ ইতিহাসের পদধ্বনি। প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য মেনে  বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর মল্লরাজাদের দুর্গোৎসবের সূচনা হয়ে গেল। প্রাচীণ রীতি মেনে এদিন থেক শুরু হয়ে টানা ১৭ দিন চলবে পুজো।

‘পট পুজো’ই এখানকার অন্যতম বৈশিষ্ট্য। শহরের শাঁখারি বাজারের ফৌজদার পরিবারের সদস্যরা ধারাবাহিকতা মেনে আজও ফি বছর বড় ঠাকুরাণী, মেজ ঠাকুরাণী ও ছোটো ঠাকুরাণীর আলাদা-আলাদা তিনটি পট আঁকেন। মন্দিরে দেবী মৃন্ময়ী প্রতিমার পাশেই নির্দিষ্ট জায়গায় এই তিনটি পট রেখে পুজো হয়।

 

 

প্রাচীণ প্রথানুযায়ী, দেবী পক্ষের চতুর্থীর দিন থেকে রাজপরিবারের মেজ ঠাকরুন অর্থাৎ দেবী মহালক্ষী ও সপ্তমীর দিন থেকে ছোটো ঠাকরণী অর্থাৎ দেবী মহাসরস্বতীর পুজো শুরু হয়। বড়, মেজো ও ছোটো ঠাকরুণী এই তিনজনকেই দেবী মহামায়ার রুপ হিসেবে মল্লরাজাদের হস্ত লিখিত বলীনারায়নী পুথি অনুযায়ী পূজিতা হন।

নয় নয় করে এই রীতির বয়স ১০২৭ বছর। সেই প্রাচীন রীতি মেনেই আজ মূর্ছা পাহাড় থেকে মুহুর্মুহু গর্জে উঠল কামান। বিষ্ণুপুরে শুরু হল মল্ল রাজ কূল দেবী মৃন্ময়ীর পুজো।

 

 

একসময় মল্ল রাজত্বের রাজধানী ছিল জয়পুরের প্রদ্যুম্নপুরে। ৯৯৭ খৃষ্টাব্দে মল্ল রাজ জগৎমল্ল শিকারের সন্ধানে ঘন জঙ্গলে ঘুরুতে ঘুরতে একসময় এসে হাজির হন আজকের বিষ্ণুপুরে। কথিত আছে সেখানে ক্লান্ত হয়ে রাজা একটি বট গাছের নীচে বিশ্রাম নেওয়ার জন্য বসে পড়লে তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন অলৌকিক কান্ড কারখানা ঘটতে থাকে। জনশ্রুতি সে সময় দেবী মৃন্ময়ী প্রকট হয়ে জগৎমল্লকে বিষ্ণুপুরে মৃন্ময়ীর মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি রাজধানী বিষ্ণুপুরে স্থানান্তরিত করে রাজত্ব শাসনের নির্দেশ দেন।

 

 

কথিত আছে এরপরই মল্ল রাজধানী স্থানান্তরিত হওয়ার পাশাপাশি রাজ প্রাসাদ লাগোয়া বিশাল মৃন্ময়ী মন্দির তৈরি করে শুরু হয় দেবীর আরাধনা। কথিত আছে এরপর থেকেই মল্ল রাজারা সবদিক থেকে সমকালীন অন্যান্য রাজাদের তুলনায় এগিয়ে যেতে শুরু করে। বৈভব আর আভিজাত্যের ছোঁয়া লাগে মৃন্ময়ীর পুজোতেও। রাজার পুজো। তাই তার আচার, সংস্কার ও পুজো পদ্ধতি আলাদা। পুজোর পনেরো দিন আগে জীতাষ্টমীর পরের দিন নবমী তিথিতে শুরু হয় দেবীর পুজো।

 

 

এদিন স্থানীয় একটি পুকুরে পুজো অর্চনা করে মৃন্ময়ীর মন্দিরে নিয়ে আসা হয় বড় ঠাকরুণ নামের একটি পটকে। বড় ঠাকরুণ আসলে মহাকালী। এই পট পুজো অর্চনা করে মন্দিরে আনার প্রতিটি নির্ঘন্ট ঘোষণা করা হয় তোপধ্বনীর মধ্য দিয়ে। এদিন থেকেই কার্যত শুরু হয়ে যায় মল্ল রাজ পরিবারের কূলদেবী মৃন্ময়ীর পুজো। কালের নিয়মে মল্ল রাজত্ব ও রাজারা হারিয়ে গেলেও অতীতের সেই নিয়ম নিষ্ঠা আজো অটুট মৃন্ময়ীর পুজোয়। প্রাচীন নিয়ম মেনে এদিন সকালে রাজ পরিবারের সদস্যরা রাজ পুরোহিত সহ গেলেন স্থানীয় পুকুর ঘাটে।

 

 

পবিত্র মন্ত্র উচ্চারনের মধ্য দিয়ে বড় ঠাকরুনের পট পুজো করে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হল মৃন্ময়ীর মন্দিরে। স্থানীয় মুর্ছা পাহাড় থেকে মুহুর্মুহু গর্জে উঠল কামান। কামানের বজ্র নির্ঘোষ শব্দে মল্ল রাজত্ব জুড়ে ছড়িয়ে পড়ল আগমনীর আগমন বার্তা।

সারা বছরের পাশাপাশি পুজোর এই দিন গুলিতে মন্দির নগরীতে বিষ্ণুপুরে পর্যটকদের ঢল নামে। প্রাচীন ঐতিহ্য আর পরম্পরার সাক্ষী থাকতে আজও জেলা, রাজ্য, দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিদেশ থেকেও প্রচুর মানুষ ভীড় করেন।

 

।।কলমে : আবদুল হাই, বাঁকুড়া।।

Share This