Categories
কবিতা

দুর্যোগের রাত (2) : রাণু সরকার।

এক বর্ষার বিকেলে হঠাৎ প্রচন্ড ঝড় উঠলো,ধুলো উড়ছে, লোকজন ছুটছে, কালপুরষ ও ছুটতে ছুটতে এসে আশ্রয় নিলো এক বাড়ির বারান্দায়।

নির্জন এই গলির আসপাশ সব বাড়ির জানলা দরজা বন্ধ। ঘন ঘন মেঘ ডাকছে, বজ্রপাত হচ্ছে,
জ্বলসে উঠছে আলো, আকাশে আঁকাবাঁকা বিদ্যুতের নীল রেখা টানছে মশালের মতো।

মূলধারায় বৃষ্টি নামলো,বৃষ্টির ঝাপটায় কালপুরষ ভিজে যাচ্ছে,বৃষ্টির জলে একেবারে নেয়ে ঠান্ডায় থর থর করে কাঁপছে।
ভীষণ অসহায় সে এদিক ওদিক তাকাচ্ছে,বৃষ্টিতে কোথাও যেতে পারছে না,কালপুরুষ ডাক দিলো শুনছেন- অনেক বার ডাকার পর নারীর সুমিষ্ট কন্ঠ ভেসে এলো কানে।
ডাক শুনে খোলা জানালার দিকে তাকালো কালপুরুষ
এক সুন্দর অপরূপ নারী চোখে পড়ল তার।

প্রথমে বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইল, ভাবল, এই আমি
কাকে দেখছি এ তো অরুন্ধতী, এটা তোমার বাড়ি?
হ্যাঁ আমার বাড়ি,
ভাবতেই পারছি না তোমার সাথে দেখা হবে,কেমন দেখো আকস্মিক ভাবে সব ঘটে গেলো।
অরুন্ধতী’ তোমার চোখ রহস্যময় একটুও বদলাওনি তুমি আগের মতই দেখছি তোমার চোখ বিদ্যুত হানে মৃদু হেসে অরুন্ধতী বললো তুমি তো বৃদ্ধ হয়েগিছো সেও মৃদু হেসে বললো বয়স বাড়াছে বৃদ্ধ তো হবই।

তুমি ছাড়া আর এখানে কে আছে?
কোন উত্তর দিলো না অরুন্ধতী মাথা নিচু করে আছে
দু’চোখ বেয়ে জল গড়াচ্ছে।
অনেকক্ষণ বাদে উত্তর দিলো সেই কলেজ লাইফের কথা তোমার মনে আছে? মনে নেই আবার খুব আছে।
তুমি মেরুদণ্ডহীন পুরুষ তা না হলে সেই রাতে তোমার বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলো তোমার মা,কিছু বলতে ও করতে পারলে না।

ভাইয়েরা সব আলাদা হলো, আমার এই অবস্থা মা সহ্য করতে পারেনি স্টোকে আগে মা মারা গেলো বাবা নয় মাস পর সহ্য করতে পারেননি মায়ের মৃত্যু
কিছু টাকা আর এই বাড়িটা রেখে গেছেন ভারা আছে নিচের ঘর গুলো চলছে একা মানুষ আর কি।
দরজা খুলে দিলো বললো ভেতরে এসো-
ফ্রেশ হও খাওয়াদাওয়া করে যাবে,তুমি তাড়িয়ে দিয়েছো বলে তো আমি তা করতে পারি না।
এভাবে বলছো?হ্যাঁ বলছি আজ তোমার জন্য আমার সব হারিগেছে। আচ্ছা বলতো তুমি বিয়ে করছো?
না গো করিনি,কেনো?কি করে করবো তোমাকে ভুলতে পারিনি।এখন কি এক হতে পারি আমরা?
তা আর সম্ভব না নতুন করে যন্ত্রণার জন্ম দিতে চাই না
আমি বেশ আছি। তুমি আর এসো না,
তাহলে যে যন্ত্রণার উপদ্রব আরো বাড়বে।
ভীষণ কষ্ট করে যন্ত্রণা সেলাই করেছি ফোঁড় গুলো খুলে যাবে,এই বয়সে সুচের ফোঁড় সহ্য করতে পারবো না।

Share This
Categories
কবিতা

কেউ আসে না ::: রাণু সরকার।।।

আজকাল তেমন একটা কেউ আসে না,
আসলে তাদের আসার অপেক্ষাতে তো আজ আর নেই,
কী আর থাকবো- ঝুড়িঝুড়ি প্রশ্ন নিয়ে আসে আমার কাছে।

আসলে এতো প্রশ্নের উত্তর রাখার মতো টুকরি নেই আমার-
আমি আবার এতো ভার বহন করতে পারিনা, কষ্ট হয় ভীষণ।

প্রাপ্তবয়স্ক হলে কি হবে- বহন করার ক্ষমতা আছে বেশ,এতোটুকুও ক্লান্তি নেই ওদের-
সেবার এসে অনেক প্রশ্ন রেখে গেলো, ভালোবেসে না রাগ করে জানিনা বাপু।

আলগোছে রেখেছি তুলে নাড়াচাড়া দেইনি-
আমি একটু আটপৌরে জীবন যাপন করে থাকি, জগৎ সম্পর্কে তেমন কোন কৌতুহল দেখাই না- যখন যা হবার হবে।
জীবন কী বুঝতে ঋতু লাগেনা।

Share This
Categories
কবিতা

সাজো ঘটনা ::: রাণু সরকার।।

এক নারী, রোজ সকাল হলে চলে আসে একই জায়গায়, বসে কী যেন ভাবে অস্পষ্ট ও মৃদুস্বরে
কথা বলে।

একদিন স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায় তার কথা,
সে- উচ্চস্বরে বললো কত গুলো বছর ধরে ভেবেই যাচ্ছি
কোথায় যে রেখেছি পাচ্ছি না খুঁজে-আমার বাড়ি কোথায়?

ভেবে ভেবে ক্লান্ত হয়ে মরে যাবি তবুও খুঁজে পাবি না তোর বাড়ি,
হা হা হা, হায়রে- নারীর আবার আছে নাকি বাড়ি?

যখন সুস্থ ছিলি একবারও ভেবে দেখার সময়
পাসনি,
মেয়েবেলা আর কৈশোর কাটে বাবার বাড়িতে,
এটাও জানিস না-
যৌবনকাল কাটে স্বামীর বাড়িতে,
যতদিন স্বামী আছে যৌবন আছে রান্না ঘরে কাটাতে হবে,
যে চাকুরি করে তার টাকা আছে তো সব আছে তার ব্যপার আলাদা। সব নারী যদি চাকুরি করতো হতো না আর তোর মতো।
তারপর তোর ছেলের ঘর- যদি ছেলে ও ছেলের বৌ ভালো হয় তবে থাকতে পারবি ও বলবি আমাদের বাড়ি, তোর বলা যাবে না।
ছেলে-বৌ না দেখলে তবে তোকে থাকতে হবে পথে-ঘাটে ,তুই তো চাকুরি করিস না, তোর টাকাও নেই-
পথে-ঘাটেও এখন আর থাকা যায় না রে নারী, দুরবস্থা, বৃদ্ধ হলেও ছাড় নেই।

এবার বল- তোর বাড়ি কোথায়?
বাড়ি খুঁজে খুঁজে শেষে তুই পাগোল হলি।
এই বয়সে স্বামীকে হারালি তারপর গর্ভের
প্রিয়জনের থেকে পেলি না আদরযত্ন শ্রদ্ধা-
নেই তোর প্রতি মনোযোগ তাই তো মানসিক
ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিস-
এখন সবাই তোকে বলে পাগোল—-

Share This
Categories
কবিতা

ভাবনা ::: রাণু সরকার।।।

একদিন সে- ডেকেছিলো-
করেছি অবজ্ঞা!
তার সোহাগ কে দেইনি সময়–
ভাবার অবসর পাইনি
তার অন্তরে এতো ব্যথা-
অন্যমনস্ক ছিলাম হয়তো!

বর্তমানে- তাকানোর স্মৃতি মনকে
পঙ্গু করে!
ঈষৎ ঝাঁকুনি দেয় শরীরে ও প্রশমিত করে পত্রশিরা!
বর্তমানে তার তাকানো কে প্রশ্রয় দেওয়া অলীক দুরাশা!

Share This
Categories
কবিতা

প্রতিবিম্ব : রাণু সরকার।।।

সবসময় আমাকে আগলে রাখে,
আমার সাথে নীরবে কথা হয়-
সুখ দুঃখের-
আমাকে ও খুব ভালোবাসে!

আমার চলার পথ ও নিজেই ঠিক
করে দেয়-
অন্ধকারে যদি ভয় পাই-
তাই তো বুকে জড়িয়ে রেখে কত
স্নেহ কোরে!

আমি আনন্দে দিশাহারা
চোখ বন্ধ করে ওর বুকে
মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়ি–

ও আমার প্রতিবিম্ব!

Share This
Categories
কবিতা

ব্যথা : রাণু সরকার।

ব্যথা বলছে, আমারও তো ব্যথা আছে- কেউ কি তা বোঝে?

হ্যাঁ, বোঝে তো–
কেনো স্পর্শেন্দ্রিয় তো বোঝে।

তবে ভাগিদার কে ?
যে ভাগ বা অংশ পায় সে-
সে কে?
সে হচ্ছে অনুভূতি,
তোমার দেহের বিভিন্ন অঙ্গকে
রক্ষা করছে ব্যথা।
ব্যথার উৎস থেকে ব্যথা দূরে সরে যাবার সময় আরো যে ব্যথারা আছে তাদেরকে সাথে করে নিয়ে যায়,
ব্যথা নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে না, সে ভীষণই ব্যস্ত
তাই তো তার এতো কষ্ট।

ব্যথার সৃষ্টি কেমন তুমি কি কখনো বুঝেছো?
ব্যথা আসে ধীরে ধীরে- তারপর বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তখন সে আহত ক্ষুধিত হিংস্রের মতো হয়ে যায়।

Share This
Categories
কবিতা

আত্মম্ভরি :: রাণু সরকার।।

দৃষ্টিকোণের বোবা জলটা পীড়নকর,
উপলব্ধি করলে বৃহৎ এক কাব্য,
ঠোঁট জুড়ে অকথিত ভাষা,
অথচ নাচ ঘরে শ্রেষ্ঠ নৃত্যশিল্পী,
কিন্তু শরীর জুড়ে অঙ্কিত দাম্ভিকতা
সোহাগে বাড়ে আত্মম্ভরি!

Share This
Categories
কবিতা

ত্রিস্রোতা জীবন : রাণু সরকার।

জীবন কবিতার রচনানুবন্ধ
ত্রিস্রোতা- তাল ছন্দে নৃত্যপটিয়ান,

যখন ছন্দকানা হয় তখন পড়ে ধন্দে
অশান্ত বর্ণরাগে আচমকা ঝুড়বৃষ্টি
গল্প উপন্যাসের সাথে হরদম চলে
সহবাস!

পরিবর্তনপ্রবণ অঙ্গভঙ্গি দ্বারা নেয়
নাট্যরূপ-
উত্তেজনাপূর্ণ কিছু বাণী লক্ষ্যহীন
ঘরে করে ভ্রমণ–

একটি শব্দ সজোরে নিক্ষেপ করে
জানালার কাঁচে,
হয় হাজার খণ্ড রক্তাক্ত হয় আবালবৃদ্ধ-
কোন ভ্রুক্ষেপ নেই-
জ্যোৎস্না রাতে আসে গালভরা হাসি নিয়ে!

Share This
Categories
কবিতা

অজ্ঞাত : রাণু সরকার।

রাস্তায় চলছিলাম, হঠাৎ সম্মুখে বর্তমান
অশীতিপর একজনকে চারজনায়
কাঁধে নিয়ে চললো,
দেখে মনের কুটিরে বসে পড়লো
অসংখ্য খণ্ড খণ্ড বাণীর সাথে চিত্র।

কীভাবে এলাম এখানে, অজ্ঞাত
গন্তব্যস্থল কোথায়- সেও অজানা
সেটা কষ্টের না মুক্তির ?
আমার কাছে জ্ঞানের অতীত।

চিরাচরিত নিয়ম অনুযায়ী
বয়োজ্যষ্ঠরা স্বস্তিবচন দেন-
দীর্ঘায়ু হও,
সেটার প্রকৃত ব্যাঞ্জনাও- অজ্ঞাত ||

Share This
Categories
কবিতা

ঝরা কুঁড়ি : রাণু সরকার।

রাস্তায় চলতে বিহান বেলায়
বাঁকা দৃষ্টিতে দেখেছিলাম মুকুল
কোনদিন হয়নি সংলাপ
হঠাৎ সন্ধ্যা হতে না হতেই গেলো
ঝড়ে-
কী তার কারণ?
হয়তো পড়েছিলো কুদৃষ্টি-
কেনো দেইনি সুদৃষ্ঠি পথের ধারে বলে?-
পড়শিরা যদি করে কানা-কানি-
ক্ষতবিক্ষত পাপড়ি ক্লান্ত কাঁদায়
আছে বিশ্রামে,
ঝড়া কুড়ি কী তার দোষ?
যত্নে ধুয়ে সাজাই হৃদয় পটে!

Share This