Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ভারতীয় মঞ্চশিল্পী কেয়া চক্রবর্তী’র প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

কেয়া চক্রবর্তী ছিলেন একজন প্রতিভাময়ী অপেশাদার ভারতীয় মঞ্চ অভিনেতা।  কেয়া চক্রবর্তী ১৯৪২ সালের ৫ আগস্ট উত্তর কলকাতার একটি বনেদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  বাবার নাম অজিত চক্রবর্তী।  তবে ছোটবেলা থেকেই তিনি মায়ের কাছে মানুষ হন।  তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজের একজন ভালো ছাত্রী ছিলেন।  ইংরেজিতে এমএ পাস করার পর ওই কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন। ‘আন্তিগোনে’ নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করে পশ্চিমবঙ্গ সাংবাদিক অ্যাসোসিয়েশনের ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী’ র পুরস্কার পান।

 

অভিনয় জীবন———

 

অভিনয় করতে ভালোবাসতেন কেয়া।  স্কটিশ চার্চ কলেজের ছাত্র থাকাকালীন, ইংরেজি ১৯৫৮, ১৯৫৯, ১৯৬০ সালে আন্তঃকলেজ নাটক প্রতিযোগিতায় সেরা অভিনয়ের জন্য পুরস্কার জিতেছিল। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় যুব উৎসবের জন্য দিল্লি এবং মহীশূরে আমন্ত্রিত হয়েছিল।  যাইহোক, তিনি নান্দীকার গ্রুপের প্রযোজিত নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা মঞ্চে একজন কিংবদন্তি অভিনেত্রী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।  ১৯৬১ খ্রিস্টাব্দে ‘চার অধ্যায়’ নাটকে প্রথম অভিনয়।  এরপর ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দ থেকে নিয়মিত অভিনয়।  ‘তিনের পয়সার পালা’ ছবিতে অভিনয়ের পর তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে।  ব্রেখটের ‘ভালো মানুষ’ নাটকের বাংলা সংস্করণে তাঁর দ্বৈত-চরিত্রের অভিনয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

 

 

 

নান্দীকার এ অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়, অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত ও কেয়া চক্রবর্তী একসাথে অভিনয় একটা স্বর্ণযুগ ছিল । এর পর ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে কলেজের অধ্যাপনা ছেড়ে বিনা বেতনে নান্দীকারের সর্বক্ষণের কর্মী হন।  তার শেষ অভিনীত নাটক ‘ফুটবল’।

 

কেয়া চক্রবর্তী একজন ভালো অনুবাদক ছিলেন।  অভিনয়ের জন্য বার্নার্ড শ’র নাটক ‘সেন্ট জোয়ান’ অনুবাদ করেছেন।  মাঝে মাঝে টাকার জন্য সিনেমায় অভিনয় করলেও তার আসল ক্ষেত্র ছিল নাটক।  তিনি নাট্যভাবনা নিয়ে কিছু প্রবন্ধ লিখেছেন।

 

 

 

কেয়া চক্রবর্তীর মঞ্চাভিনয় (১৯৬১ – ১৯৭৭ )

নাটক /তাভিনয় সংখ্যা
অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায়:

নটি বিনােদিনী ,  আলাের বাইরে , মূদ্রারাক্ষস , বৃত্ত , বীতংস, অগ্নিবিষয়ক সতর্কতা ও গৌতম ,  হে সময়, উত্তাল সময়, শাহী বাদ ,   নাট্যকারের সন্ধানে দুটি চরিত্র , শের আফগান ,  মঞ্জরী আমের মঞ্জরী , তিন পয়সার পালা,  ভালােমানুষ , নীলিমা , চার অধ্যায় , রাত্রি প্রভৃতি।

রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তর পরিচালনায়—

আন্তিগােনে , ফুটবল,  টক ।

অসিত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায়—- পূর্বরাগ।

শম্ভূ মিত্রের পরিচালনায় ——রক্তকরবী ।

শ্যামানন্দ জালানের পরিচালনায় —–তুঘলক।

 

মৃত্যু——–

 

তাঁর মৃতু ছিল মর্মান্তিক ।  সাঁকরাইলে গঙ্গার ওপর ‘জীবন যে রকম’ চলচ্চিত্রের বহিদৃর্শ্য গ্রহণের সময় (শুটিংয়ের সময়) অভিনয় করতে গিয়ে জলে ডুবে তার মৃত্যু ঘটে ১২ মার্চ,  ১৯৭৭৭ খ্রিস্টাব্দে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

কিংবদন্তি গায়িকা – উৎপলা সেন এর জন্মদিনে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

উৎপলা সেন ১২ মার্চ, ১৯২৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দী বাংলা গানের একজন প্রধান জনপ্রিয় গায়িকা। বাংলা গানের স্বর্ণযুগে প্রেম ও বিরহের গানে তিনি আলাদা বিষণ্ণ সুর তুলে ধরেছেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, স্বামী সতীনাথ মুখোপাধ্যায় এবং অন্যান্য গায়কদের সাথে অনেক জনপ্রিয় দ্বৈত গানও গেয়েছেন।

 

তিনি প্রথমে মা হিরণবালা দেবীর কাছে প্রশিক্ষণ নেন, তারপর ওস্তাদ গুল মোহাম্মদ খানের কাছে।  তিনি ১৯৩৫ সালে ১৯১৩ বছর বয়সে ঢাকা বেতারে প্রথম জনসম্মুখে উপস্থিত হন।  প্রথম রেকর্ড ১৯৩৯ সালে। ১৯৪১ সালে, সুরকার সুধীরলাল চক্রবর্তীর সুর করা এক হাতে মোর পূজা থালি গানটি খুব জনপ্রিয় হয়েছিল।  মহিষাসুরবমর্দিনীর – শান্তি দিল ভরি গানে  আরও জনপ্রিয়তা পান, যা আজও শোনা যায়। এর পর তিনি
চল্লিশের দশকের গোড়ার দিকে কলকাতায় চলে আসেন এবং তখন থেকেই আকাশবাণীর সঙ্গে যুক্ত হন।  বাংলা চলচ্চিত্রেও গান গেয়েছেন আনেক। বেনু সেনের সাথে প্রথম বিয়ে হয় তাঁ। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি সঙ্গীত সহকর্মী সতীনাথ মুখোপাধ্যায় কে ১৯৬৮ সালে বিয়ে করেন।  একটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়।

 

তাঁর ৬০০০ এর বেশি সিনেমা এবং রেকর্ডের গানের অধিকাংশই আজ বিস্মৃতপ্রায়। ইদানীং কালে দুই বাঙলাতেই পুরানো দিনের গানের চর্চা বাড়ছে – কিছু গান ‘পুনঃনির্মাণ’ মাধ্যমে আবার শোনা যাচ্ছে – এবং উৎপলা সেনের নাম আবার জনসমক্ষে শোনা যাচ্ছে। তাঁর কিছু জনপ্রিয় গান হলো যেমন, এত মেঘ এত যে আলো, ময়ুরপঙ্ক্ষী ভেসে যায়, পাখি আজ কোন সুরে গায় বা ঝিকমিক জোনাকির দ্বীপ জ্বলে শিয়রে।

 

দীর্ঘ কয়েক বছর ক্যান্সারাক্রান্ত উৎপলা সেন ১৩ মে, ২০০৫ সালে মারা যান কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

আশির দশক থেকেই সাড়া জাগানো জনপ্রিয় লেখিকা – বাণী বসু’র জন্মদিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

বাণী বসু একজন সমসাময়িক ভারতীয় বাঙালি লেখিকা – উপন্যাস, প্রবন্ধ, কবিতা লেখেন, অনুবাদও করেন। বাণী বসু আশির দশক থেকে একাধিক সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মানে সম্মানিত।  তিনি ১১ মার্চ, ১৯৩৯ খ্রিস্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।  তিনি বিজয় কৃষ্ণ গার্লস কলেজের ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক ছিলেন।  ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক  করার পর, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে এম.এ.  করেন।  শিক্ষার প্রথম স্থান ছিল লেডি ব্রেবোর্ন কলেজ, কলকাতা এবং তারপরে স্কটিশ চার্চ কলেজ।

ছাত্রী জীবন থেকেই বাণী বসু নানা প্রবন্ধ, অনুবাদ গল্প ও কবিতা রচনায় পারদর্শিতার নজির রাখেন। ১৯৮১তে তার প্রথম গল্প আনন্দমেলা ও দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । শারদীয়া আনন্দলোকে ১৯৮৭তে তাঁর  প্রথম উপন্যাস জন্মভূমি মাতৃভূমি প্রকাশিত হয় । কিন্তু তার আগেই তার অনেক অনুবাদ প্রকাশিত ও আদৃত হয়েছে। তাঁর উল্লেখ্য অনুবাদগুলি হলঃ শ্রী অরবিন্দের সনেটগুচ্ছ, সমারসেট মমের সেরা প্রেমের গল্প  ও এইচ ডি লরেন্সের সেরা গল্প।

রচিত উপন্যাস——–

তাঁর রচিত উপন্যাস গুলি হলো – উত্তরসাধক, পঞ্চম পুরুষ, বাইরে, অন্তর্ঘাত, কিনার থেকে কিনারে, মেয়েলি আড্ডার হালচাল, রাধানগর, দিদিমাসির জিন, জন্মভূমি মাতৃভূমি, মৈত্রেয় জাতক, অমৃতা, নূহর নৌকা, সুরূপা কুরূপা, অষ্টম গর্ভ, অষ্টম গর্ভ (দ্বিতীয়), খনামিহিরের ঢিপি, ক্ষত্তা, কালিন্দী, কৃষ্ণ, পাঞ্চাল কন্যা কৃষ্ণা, সুযোদন দূর্যোধন, কৃষ্ণ বাসুদেব, কাক জ্যোৎস্না, অল লেডিস ভ্রমণ, একুশে পা, ট্রেকার্স, অশ্বযোনি, ফেরো মন।

পুরস্কার ও সম্মাননা——–

তারাশঙ্কর পুরস্কার (১৯৯১);  আনন্দ পুরস্কার – (মৈত্রেয় জাতক): ১৯৯৭ ; বঙ্কিম পুরস্কার ( ১৯৯৯);  ভুবনমোহিনী দাসী স্বর্ণপদক (২০০৮), কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার – (খনামিহিরের ঢিপি): ২০১০।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।

সূচনা—

আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভারতেও দিনটি নানান আনুষ্ঠানিকতায় উদযাপিত হয়। নারীর অধিকার রক্ষায় বিশ্বব্যাপী সমতাভিত্তিক সমাজ-রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে প্রতিবছর এই দিনে দিবসটি উদযাপন করা হয়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস এর পূর্বনাম আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস। সারা বিশ্বব্যাপী নারীরা একটি প্রধান উপলক্ষ হিসেবে এই দিবস উদ্‌যাপন করে থাকেন। বিশ্বের এক এক প্রান্তে নারীদিবস উদ্‌যাপনের প্রধান লক্ষ্য এক এক প্রকার হয়। কোথাও নারীর প্রতি সাধারণ সম্মান ও শ্রদ্ধা উদ্‌যাপনের মুখ্য বিষয় হয়, আবার কোথাও মহিলাদের আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠাটি বেশি গুরুত্ব পায়।

 

নারী দিবসের রঙ—

নারীদের ওপর হওয়া বৈষম্য, নির্যাতনের বিরুদ্ধে করা প্রতিবাদে নারীদের জাগ্রত করাই নারী দিবস পালনের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য । নারী দিবসের রঙ নির্ধারিত হয়েছে বেগুনি এবং সাদা, যা নারীর প্রতীক। বেগুনি রঙ নির্দেশ করে সুবিচার ও মর্যাদা, যা দৃঢ়ভাবে নারীর সমতায়ন। ১৯৮৩ সালে পুলিৎজার পুরস্কারজয়ী মার্কিন কৃষ্ণাঙ্গ লেখক এবং নারীবাদী অ্যালিস ওয়াকারের প্রশংসিত উপন্যাস ‘দ্য কালার পারপল’ বইটি এই রঙ নির্ধারণে অনুপ্রেরণা জোগায়। এ বইতে তিনি নারীদের অধিকারের কথা তুলে ধরেছেন । ধারণা করা হয়, সেখান থেকেই নারীবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জুড়ে গেছে বেগুনি-সাদা রঙ। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস।

 

নারী দিবসে জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য—

 

১৯৯৬-অতীত উদ্‌যাপন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, ১৯৯৭-নারী এবং শান্তি, ১৯৯৮-নারী এবং মানবাধিকার, ১৯৯৯-নারী প্রতি সহিংসতামুক্ত পৃথিবী, ২০০০-শান্তি স্থাপনে একতাবদ্ধ নারী, ২০০১-নারী ও শান্তি : সংঘাতের সময় নারীর অবস্থান, ২০০২-আফগানিস্তানের নারীদের বাস্তব অবস্থা ও ভবিষ্যৎ, ২০০৩-লিঙ্গ সমতা ও সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, ২০০৪- নারী এবং এইহ আই ভি/ এইডস, ২০০৫- লিঙ্গ সমতার মাধ্যমে নিরাপদ ভবিষ্যত, ২০০৬-সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারী, ২০০৭-নারী ও নারী শিশুর ওপর সহিংসতার দায়মুক্তির সমাপ্তি, ২০০৮-নারী ও কিশোরীদের ক্ষেত্রে বিনিয়োগ, ২০০৯-নারী ও কিশোরীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে নারী-পুরুষের একতা, ২০১০-সমান অধিকার, সমান সুযোগ- সকলের অগ্রগতি, ২০১১-শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ, ২০১২-গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন- ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সমাপ্তি, ২০১৩-নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার এখনই সময়, ২০১৪-নারীর সমান অধিকার সকলের অগ্রগতির নিশ্চয়তা, ২০১৫- নারীর ক্ষমতায়ন ও মাবতার উন্নয়ন, ২০১৬-অধিকার মর্যাদায় নারী-পুরুষ সমানে সমান। ২০১৭- নারী-পুরুষ সমতায় উন্নয়নের যাত্রা, বদলে যাবে বিশ্ব কর্মে নতুন মাত্রা।২০১৮- সময় এখন নারীর: উন্নয়নে তারা, বদলে যাচ্ছে গ্রাম-শহরের কর্ম-জীবনধারা, ২০১৯-সবাই মিলে ভাবো, নতুন কিছু করো নারী-পুরুষ সমতার নতুন বিশ্ব গড়ো,  ২০২০- প্রজন্ম হোক সমতার, সকল নারী অধিকার, ২০২১-করোনাকালে নারী নেতৃত্ব গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব, ২০২২- যত্নসই আগামীকালের জন্য আজ লিঙ্গ সমতা, ২০২৩ – ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, জেন্ডার বৈষম্য করবে নিরসন।

 

যেভাবে এলো নারী দিবস—

 

সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীর অর্জন উদযাপনের পাশাপাশি সমাজে নারী-পুরুষের সমতার বিষয়টি প্রতিবছর মনে করিয়ে দেয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এর সূচনা সেই ১৬২ বছর আগে। ১৮৫৭ খ্রিস্টাব্দে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মজুরি বৈষম্য, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা ঠিক করা ও কাজের অমানবিক পরিবেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নেমে সরকারি বাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন সুতা কারখানার নারী শ্রমিকরা। সেই মিছিলে চলে সরকার লেঠেল বাহিনীর দমন-পীড়ন। ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন হলো। ক্লারা ছিলেন জার্মান রাজনীতিবিদ; জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির স্থপতিদের একজন। এরপর ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন। ১৭টি দেশ থেকে ১০০ জন নারী প্রতিনিধি এতে যোগ দিয়েছিলেন। এ সম্মেলনে ক্লারা প্রতি বৎসর ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করার প্রস্তাব দেন। সিদ্ধান্ত হয়ঃ ১৯১১ খ্রিস্টাব্দ থেকে নারীদের সম-অধিকার দিবস হিসেবে দিনটি পালিত হবে। দিবসটি পালনে এগিয়ে আসে বিভিন্ন দেশের সমাজতন্ত্রীরা। ১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ পালিত হতে লাগল। অতঃপর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। দিবসটি পালনের জন্য বিভিন্ন রাষ্ট্রকে আহ্বান জানায় জাতিসংঘ। সেই থেকেই ধীরে ধীরে ৮ মার্চ দিবসটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী অধিকারের প্রতীকে পরিণত হয়। অনেক দেশই সরকারিভাবে স্বীকৃতি দেয় দিবসটিকে। অনেক দেশেই এই দিনটি নারীদের জন্য রাষ্ট্রীয় ছুটি হিসেবে পালন করে থাকে।

 

উপসংহার—

এরপর থেকে সারা পৃথিবী জুড়েই পালিত হচ্ছে দিনটি নারীর সমঅধিকার আদায়ের প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করার অভীপ্সা নিয়ে। সারা বিশ্বের সকল দেশে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস।  আশা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বিশ্ব গড়ার কাজে পুরুষের মতো সমান অবদান রাখার প্রত্যয় নিয়ে নারীর এগিয়ে চলা আগামীতে আরো বেগবান হবে।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

বাংলা রঙ্গমঞ্চের নৃত্যগীতে সুদক্ষা খ্যাতনাম্নী অভিনেত্রী নীহারবালা – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন——–

বাংলা রঙ্গমঞ্চের নৃত্যগীতে সুদক্ষা খ্যাতনাম্নী অভিনেত্রী  নীহারবালার জন্ম ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে। তাঁর পিতা ছিলেন কিশোরী মোহন সরকার ও মাতা নীরদা। মাত্র নয় বৎসর বয়সেই তার রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ।  মাতার কাছেই তার শিক্ষা আর বেড়ে ওঠা । সঙ্গীতের শিক্ষা নেন গৌরীশঙ্কর মিশ্র’র কাছে। তবে নৃত্য ও সঙ্গীতে  প্রশিক্ষণের জন্য কিছুদিন মঞ্চ ত্যাগ করেন।  তিনি পুনরায়  ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে রঙ্গমঞ্চে যোগ দেন  নৃত্য ও সঙ্গীতে তালিম নেওয়ার পর।

 

অভিনয় জীবন————

 

স্ত্রী-চরিত্র অভিনয়ে একদিকে নাট্যসম্রাজ্ঞী তারাসুন্দরী ও অন্যদিকে লাস্যময়ী নীহারবালা সেসময় স্টারের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন। ১৯২১ খ্রিস্টাব্দ হতে তিনি দীর্ঘদিন স্টার থিয়েটারে অভিনয় করেন।   “কর্ণার্জুন” নাটকে ‘নিয়তি’ র ভূমিকায় অভিনয় করে প্রথম খ্যাতি লাভ করেন, সালটা তখন ১৯২৩। নাটকটি সেসময় দু-শো রজনী অভিনীত হয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর “চিরকুমার সভা” নাটকে ‘নীরবালা’র ভূমিকায় তার  অভিনয় দেখেন। কবিকে মুগ্ধ করে নাটকে সঠিকভাবে তার নাট্যগীতির প্রয়োগের দক্ষতা ও তিনি কবির প্রশংসা কুড়ান। এরপর গ্রামোফোন কোম্পানি তার অনেক গান রেকর্ড করে।

 

রেকর্ডে প্রকাশিত উল্লেখযোগ্য গানগুলি হল—-

 

আমি কখন ভাঙি কখন গড়ি, প্রাণহীনা পুতুল সমান, কালপ্রবাহ চলে ধীরে।

 

 

 

এর পরে তিনি স্টার থিয়েটার গোষ্ঠীর সঙ্গে বর্মায় যান ১৯২৫ খ্রিস্টাব্দে ।  সেখানে  “কর্ণার্জুন” ও “ইরাণের রানী” দুটি নাটকে অভিনয় করেন। তিনি বহু নাটকে অভিনয় করেছেন তাঁর তিন দশকের অভিনয় জীবনে। তাঁর অভিনিত উল্লেখযোগ্য নাটক গুলি হল—–

 

 

 

মুক্তির ডাক, জয়দেব, চণ্ডীদাস, প্রফুল্ল, বন্দিনী, রাখিবন্ধন, ছিন্নহার, অপ্সরা, সধবার একদশী, রূপকুমারী, বিবাহ বিভ্রাট, মৃণালিনী, কপালকুণ্ডলা , রামী , চন্দনা, আলেয়া , নাহের, সুদত্তা –  প্রভৃতি।

 

স্বল্প দৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র “চন্দ্রশেখর” অভিনয় করে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। এখানে নট ও নাট্যকার  অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায় তার সহঅভিনেতা ছিলেন । যে সকল চলচ্চিত্রে বিভিন্ন ভূমিকায়  তাকে অভিনয় দেখা গিয়েছে সেগুলি হল ———

 

 

 

দেবদাস, প্রহ্লাদ, মিশর রানী, কেলোর কীর্তি, চাঁদ সদাগর, বিদ্যাসুন্দর, আবর্তন, সেলিমা।

 

অবসরকালীন জীবন ও জীবনাবসান——-

 

১৯৪৪ সালে তিনি দক্ষিণ ভারত সফরে পুদুচেরি যান।  ১৯৫০ সালে অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পর, তিনি শ্রী অরবিন্দের পন্ডিচেরি আশ্রমের বাসিন্দা হন এবং সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে থাকেন।  ১৯৫৪ সালের ৭ মার্চ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে, বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়া এক বিদুষী কবি – তরু দত্ত।

তরু দত্ত র জন্ম  মার্চ ৪, ১৮৫৬ সালে। তিনি এক ভারতীয় বাঙালি কবি , অনুবাদক ও ঔপন্যাসিক ছিলেন, যিনি ইংরেজি এবং ফরাসিতে রচনা করেছিলেন ।  বোন অরু ও ভাই আবজুর পর তিনি ছিলেন কনিষ্ঠ সন্তান।  লেখক এবং ভারতীয় বেসামরিক কর্মচারী রমেশ চন্দ্র দত্ত ছিলেন তার খুড়তুত ভাই।  তাদের পরিবার ১৮৬২ সালে খ্রিস্টান হয়ে ওঠে।

 

তিনি ইংল্যান্ডে ফরাসি ভাষায় উচ্চ শিক্ষা লাভ করেন।  তিনি 1871 – 1873 সাল কেমব্রিজে কাটিয়েছিলেন এবং সেই সময় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে “হায়ার লেকচারস ফর উইমেন” তে অংশ নিয়েছিলেন।  এই সময়ে তরু দত্ত সিডনির সাসেক্স কলেজের রেভারেন্ড জন মার্টিনের মেয়ে মেরি মার্টিনের সাথে দেখা করেন এবং তাদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।  দেশে ফিরেও তারা চিঠি আদান-প্রদান করতে থাকে।  ইংল্যান্ড থেকে আগত আত্মীয়দের কাছে তরু দত্তের চিঠিগুলি তাঁর চিঠির সংগ্রহের অন্তর্ভুক্ত।  তার মৌলিক কবিতাগুলো ছোট হলেও মানব জীবনের নানা সমস্যা নিয়ে কাজ করে।  লা জার্নাল নামে একটি ফরাসি উপন্যাস এবং বিয়াঙ্কা নামে একটি ইংরেজি উপন্যাস রয়েছে।

 

তাঁর সংকলন ‘এ শেফ গ্লানড ফরাসি ফিল্ডস’-এ তাঁর ফরাসি কবিতা এবং প্রাচীন গীতিনাট্য এবং ‘লিজেন্ড অফ হিন্দুস্তান’-এর ইংরেজি অনুবাদ রয়েছে যা তাঁর সংস্কৃত সাহিত্যের অনুবাদ ও রূপান্তরগুলি সংকলন করে।  তিনি ”এ সি অব ফলিএজ” কবিতাটিও লিখেছেন।  তিনি একটি সুন্দর কবিতাও লিখেছেন লোটাস।  এতে কবি ফুল সম্পর্কে তার ধারণা উপস্থাপন করেন।  তিনি মানুষের আকারে ফুলের প্রতিনিধিত্ব করেন।  কবি পদ্ম গোলাপকে চিত্র হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

 

 

 

অগাস্ট ৩০, ১৮৭৭ সালে তিনি প্রয়াত হন।

 

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে খ্যাতনামা বাঙালি সাহিত্যিক শৈলবালা ঘোষজায়া।

শৈলবালা ঘোষজায়া একজন খ্যাতনামা বাঙালি সাহিত্যিক। বাংলায় বহু উপন্যাস, ছোটগল্প রচনা করেছিলেন তিনি।

শৈলবালা ২ মার্চ, ১৮৯৪ সালে বাংলাদেশের কক্সবাজারে জন্মগ্রহণ করেন, যেখানে তার বাবা কাজ করতেন।  পরে বাবা, ডাক্তার কুঞ্জবিহারী নন্দী অবসর গ্রহণ করেন এবং বর্ধমান জেলায় চলে আসেন।   তিনি বর্ধমান রাজ গার্লস স্কুলের মেধাবী ছাত্রী ছিলেন।  পিতা ও বড় ভাইয়ের কাছ থেকে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন।  বিয়ের পর লেখাপড়ার কোনো পরিবেশ না থাকলেও গোপনে রাতের বেলা পড়া-লেখা করতেন।  শেখ আন্দু উপন্যাসটি লিখে স্বামীর হাত ধরে প্রবাসী পত্রিকায় পাঠান।  এই রচনাটিই তাকে খ্যাতি এনে দেয়।  বাংলা নারী প্রগতিশীল সাহিত্যে শৈলবালা ঘোষজায়া একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।

 

১৯০৭ সালে, বর্ধমানের মেমারি গ্রামের নরেন্দ্রমোহন ঘোষের সাথে বাল্যকালে তার বিয়ে হয়।  শ্বশুরগৃহে সাহিত্যচর্চা প্রায় নিষিদ্ধ ছিল, তার স্বামী নরেন্দ্রমোহন তার সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত নরেন্দ্রমোহন উন্মাদ রোগাক্রান্ত হয়ে যান ও তার আক্রমনে শৈলবালা নিজে এক চোখের দৃষ্টি হারান। স্বামী মারা গেলে তিনি একটি আশ্রমে থেকে লেখালিখি চালিয়ে গিয়েছিলেন দীর্ঘকাল অবধি।

 

শৈলবালা ঘোষজায়ার প্রকাশিত ৩৮ টি গ্রন্থ ছাড়াও বিভিন্ন মাসিকপত্রে উপন্যাস, আত্মজীবনী ছোটগল্প ইত্যাদি প্রকাশিত ও সমাদৃত হয়েছে। শিশুদের জন্যে রহস্য উপন্যাসও লিখেছেন তিনি। তার রচিত গ্রন্থগুলির মধ্যে নমিতা, জন্ম অপরাধী, জন্ম অভিশপ্তা, মঙ্গল মঠ, মনীষা, ইমানদার, মুচি, বিনির্ণয়, গঙ্গাজল, তেজস্বতী, চৌকো চোয়াল, জয়পতাকা, স্মৃতিচিহ্ন, অন্তরের পথে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। কবিকঙ্কন চন্ডীর ওপর গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখে সরস্বতী উপাধি পান তিনি।

 

কলকাতা  স্নাতক মহিলা সংস্থা  এবং সাহিত্যকারের যৌথ উদ্যোগে লীলা মজুমদার এবং মহাশ্বেতা দেবীর নেতৃত্বে আয়োজিত একটি সাহিত্য সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে তাকে সম্মানিত করা হয়। তার সাহিত্যসেবার জন্যে নদীয়ার মানদ মন্ডলী তাকে ‘সাহিত্য ভারতী’ ও ‘রত্নপ্রভা’ উপাধি প্রদান করে।

 

মৃত্যু—‐—

 

২১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ সালে মারা যান শৈলবালা ঘোষজায়া।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

বাংলা চলচ্চিত্রের নির্বাক ও সবাক দুই যুগেরই স্বনামধন্য ও জনপ্রিয় নায়িকা – নিভাননী দেবী, নৃত্য ও সঙ্গীতে সমান পারদর্শী ছিলেন।

নিভানানী দেবী বাংলা চলচ্চিত্রের নির্বাক ও সবাক- উভয় যুগেরই একজন সুপরিচিত এবং জনপ্রিয় নায়িকা।  মঞ্চে অভিনয় শুরু করে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন।  তিনি নৃত্য ও সঙ্গীতে সমান পারদর্শী ছিলেন।

 

জন্ম ও প্রারম্ভিক জীবন—–

 

নিভানানী দেবীর জন্ম ২ মার্চ, ১৮৯৫-এ পিতা যতীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী ব্রজরাণী দেবীর ঘরে।  তিনি নয় বছর বয়সে তার মাকে এবং ১৫ বছর বয়সে তার বাবাকে হারান। এই পরিস্থিতিতে নিভানানিকে তার ছয় ভাইবোনের সাথে তার মামার বাড়িতে থাকতে হয়েছিল।  সেখানে তাদের লালন-পালন করেন বিখ্যাত অভিনেত্রী চুনিবালা, তাদের মায়ের বন্ধু, এবং তার হাত ধরে ৬ বছর বয়সে বাংলার মঞ্চে প্রবেশ করেন।  অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফি পরিচালিত “সমাজ” নাটকে ছোট ছেলে হিসেবে তার প্রথম অভিনয়।  নাচ-গানেও পারদর্শী ছিলেন।  অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফি, অভিনেত্রী তারাসুন্দরী এবং পরে নরেশ মিত্রের কাছ থেকে তাঁর অভিনয়ের প্রথম শিক্ষা নেওয়া হয়েছিল।

 

অভিনয় জীবন——

 

তিনি প্রথম ‘বলিদান’ নাটকে অভিনয় করে খ্যাতি পান।  ন্যাশনাল থিয়েটারে থাকাকালীন, তিনি যশোরের ধনী জমির মালিক এবং নাট্যপ্রেমী হেমেন্দ্রনাথ রায়চৌধুরীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।  বিয়ের পর তিনি মঞ্চ ছেড়ে চলে যান, কিন্তু পরে অপরেশচন্দ্র মজুমদার এবং প্রবোধ গুহের অনুরোধে তিনি স্টার থিয়েটারে ‘অযোধ্যার বেগম’ নাটকে প্রথমে গুজরি চরিত্রে এবং পরে তারাসুন্দরী অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রধান রাণীর চরিত্রে অভিনয় করেন।  সে সময় বার্মা আর্ট থিয়েটারের সঙ্গে রেঙ্গুনেও অভিনয় করেন।  মিনার্ভা থিয়েটারে থাকাকালীন, আকাশবাণী ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বেতার কেন্দ্রের সাথেও যুক্ত হন।

 

প্রায় পঞ্চাশ বৎসরের অভিনেত্রী জীবনে মঞ্চ ছাড়া চলচ্চিত্রে ৩৫০ টি ছায়াছবিতে অভিনয় করেছেন। শঙ্করাচার্য, বিষবৃক্ষ, নিষিদ্ধ ফল, প্রহ্লাদ প্রভৃতি নির্বাক ছবিতে অভিনয় করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

 

নিভাননী অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলি হল –

চিরকুমার সভা,  কপালকুণ্ডলা,  মীরাবাঈ,  পরপারে,  ইম্পস্টার,  প্রভাস মিলন,  জীবন মরণ,  বামনাবতার, বড়দিদি।

 

তার অভিনীত আরো ছায়াছবিগুলি হল –

 

‘প্রতিশোধ’, ‘শ্রীরাধা’,  ‘যখের ধন’, ‘অমরগীতি’, ‘শাপমুক্তি’, ‘ব্যবধান’, ‘কবি জয়দেব’, ‘জননী’,  ‘দেশের দাবি’ ‘রামপ্রসাদ’, স্বয়ংসিদ্ধা’  ‘সহধর্মিণী’, মানে না মানা’, ‘সাত নম্বর বাড়ি’, প্রভৃতি।

 

নিভাননী দেবী এক শৌখিন নাট্যদলের হয়ে ‘বিপ্রদাস’ নাটকে শেষ অভিনয় করেন এবং তার শেষ অভিনীত ছায়াছবি ছিল ১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে মুক্তিপ্রাপ্ত “রাতের রজনীগন্ধা”। ওই ছবিতে তার সঙ্গে উত্তমকুমার, অপর্ণা সেন ,অজয় ব্যানার্জি, বঙ্কিম ঘোষ প্রমুখেরাও ছিলেন।

মৃত্যু—‐–

১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দের ২২ শে ডিসেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ভারতের স্বাধীনতা সমগ্রামের বিপ্লবী ও প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পত্নী কমলা নেহেরু – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে কমলা নেহেরু  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শহীদ ভগৎ সিং-এর মতই নয় বরং শক্তিশালী নারীদের দ্বারা প্রশস্ত হয়েছিল যারা তাদের মাটিতে দাঁড়িয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিল। কমলা নেহেরু ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা ছিলেন তিনি।

কমলা নেহেরু  একজন স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন, যিনি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা এবং ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর স্ত্রী। পরবর্তীতে তাঁদের কন‍্যা ইন্দিরা ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

 

1899 সালের 1 আগস্ট কমলা রাজপতি এবং জহর মাল অতল কাউল এর ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।  তারা দিল্লিতে বসবাসকারী কাশ্মীরি পণ্ডিত পরিবারের সদস্য।  তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান এবং তার দুই ভাই চাঁদ বাহাদুর কাউল এবং উদ্ভিদবিদ কৈলাশ নাথ কাউল এবং এক বোন স্বরূপ কাটজু ছিল।  তিনি বাড়িতে একজন পণ্ডিত ও মৌলভীর অধীনে শিক্ষা লাভ করেন।

 

কমলা জোহর লাল নেহরুর সাথে জাতীয় আন্দোলনে যোগ দেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সর্বাগ্রে চলে আসেন।  ১৯২১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের সময়, তিনি এলাহাবাদের মহিলাদের সংগঠিত করেন এবং দোকানে বিদেশী কাপড় এবং বিদেশী পানীয় বিক্রির বিরুদ্ধে পিকেটিং শুরু করেন।  যখন তার স্বামীকে “রাষ্ট্রদ্রোহী” বক্তৃতা ঠেকাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, তখন তিনি তার জায়গায় এটি পড়তে গিয়েছিলেন।  ব্রিটিশরা শীঘ্রই বুঝতে পেরেছিল যে কমলা নেহেরু মহিলাদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন এবং সারা দেশে মহিলা সংগঠনগুলিকে সংগঠিত করেছিলেন।  স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িত থাকার জন্য সরোজিনী নাইডু এবং অন্যান্য মহিলাদের সাথে তিনি দুবার গ্রেপ্তার হন।  এই সময়ে তিনি তার বাড়িতে স্বরাজ ভবনে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলেন যেখানে আহত মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবার এবং এলাহাবাদের অন্যান্য বাসিন্দাদের চিকিৎসা করা হয়।  তাঁর মৃত্যুর পর, মহাত্মা গান্ধী, অন্যান্য কংগ্রেস নেতাদের সাথে সহযোগিতায়, তাঁর স্মৃতিতে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে রূপান্তরিত করেন, যা কমলা নেহেরু মেমোরিয়াল হাসপাতাল নামে পরিচিত।

 

কমলা নেহেরু গান্ধীর আশ্রমে কস্তুরবা গান্ধীর সাথে কিছু সময় কাটিয়েছিলেন যেখানে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামী জয়প্রকাশ নারায়ণের স্ত্রী প্রভাবতী দেবীর সাথে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব গড়ে তোলেন।  তারা ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারতের স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযোদ্ধাও ছিলেন।

 

কমলা ২৮ ফেব্রুয়ারী ১৯৩৬ সালে সুইজারল্যান্ডের লসানায় যক্ষ্মা রোগে মারা যান, যেখানে তার মেয়ে এবং শাশুড়ি তার পাশে ছিলেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ভারতীয় চলচ্চিত্রের ফার্স্ট লেডি – ললিতা পাওয়ার, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ললিতা পবার  ছিলেন একজন অতিপ্রজ ভারতীয় অভিনেত্রী। হিন্দি, মারাঠি এবং গুজরাটি চলচ্চিত্রের ৭০০ টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করে তিনি চরিত্রাভিনেত্রী হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন, সেখানে তিনি ভালজি পেন্ধারকরের তৈরি নেতাজি পালকর (১৯৩৮), নিউ হানা পিকচার্সের সেন্ট দমজী, ভি. এস খন্দকার রচিত নবযুগ চিত্রাপতের অমৃত এবং ছায়া ফিল্মসের গোরা কুম্ভর এর মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর অভিনীত অন্যান্য স্মরণীয় ছবির মধ্যে আছে আনাড়ি (১৯৫৯), শ্রী ৪২০ এবং মিস্টার অ্যান্ড মিসেস ৫৫, এবং রামনন্দ সাগরের টেলিভিশন মহাকাব্য ধারাবাহিক রামায়ণের মন্থরার চরিত্রে অভিনয়।

১৯১৬ সালের ১৮ এপ্রিল ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের নাশিক জেলার য়েবলাতে একটি রক্ষণশীল পরিবারে পবার জন্ম গ্রহণ করেন। জন্মের সময় তার নাম ছিল আম্বা লক্ষ্মণ রাও সাগুন। তার বাবা লক্ষ্মণ রাও শাগুন ছিলেন এক ধনী সিল্ক এবং সুতা পণ্যের ব্যবসায়ী।

 

তিনি বিশেষ করে মায়ের ভূমিকায়, বিশেষত খারাপ মায়ের বা শ্বাশুড়ীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। তার বিখ্যাত অভিনয় হলো রাজ কাপুরের সাথে আনাড়ি (১৯৫৯) ছবিতে কঠোর অথচ দয়ালু মিসেস এল. ডি’সা এর চরিত্রে। হৃষীকেশ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় তিনি আজীবন অভিনয় করেছেন, যার জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রীর পুরস্কার লাভ করেছেন। এবং প্রফেসর (১৯৬২) চলচ্চিত্রে কঠোর মায়ের ভূমিকায় যে প্রেমে পড়েন এবং রামানন্দ সাগরের টেলিভিশন ধারাবাহিক রামায়ণে কুটিল কুব্জা দাসী মন্থরার ভূমিকায় অভিনয় করেন। ১৯৬১ সালে তিনি ভারত সরকারের ভারতীয় চলচ্চিত্রের ফার্স্ট লেডি হিসাবে সম্মানিত হন।

 

নির্বাচিত চলচ্চিত্রের তালিকা—-

 

রাম শাস্ত্রী, দাহেজ, অমর গান, দাগ (১৯৫২ সালের চলচ্চিত্র), পারচাইন, শ্রী ৪২০, মি. এন্ড মিসেস ৫৫, আনাড়ি, নাও দো গায়ারাহ, সুজাতা, জঙ্গি (১৯৬১ সালের সুবোধ মুখোপাধ্যায় রচিত চলচ্চিত্র), হাম দুনো, সম্পূর্ণ রামায়ণ, প্রফেসর, সেহরা, গ্রহস্তি,ঘর বাসাকে দেখো,  ফুল অর পাথর, খান্দান, বুন্দ জো বান গাইয়ে মতি, নূর জাহান, আব্রু, মেরি ভাবি, আনন্দ, পুষ্পাঞ্জলী, গোপি, জ্বালা, দুশ্রি সিতা।

 

১৯৫৯: আনাড়ি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেত্রী বিভাগে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার

১৯৬১: সংগীত নাটক একাদেমি পুরস্কার – অভিনয়

 

২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৮ সালে তিনি প্রয়াত হন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This