Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দরী-আকর্ষণীয় কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালা।

মুমতাজ জাহান দেহলভি হলেন একজন ভারতীয় অভিনেত্রী যিনি অনেক হিন্দি ধ্রুপদী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।  তার সমসাময়িক নার্গিস এবং মীনা কুমারীর বিপরীতে, তাকে হিন্দি সিনেমার অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হয়।  তাকে ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের সবচেয়ে সুন্দরী-আকর্ষণীয় অভিনেত্রীদের একজন হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

মমতাজ জাহান দেহলভি  একজন অন্যতম ভারতীয় অভিনেত্রী, যিনি অনেক হিন্দি ধ্রুপদী চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার সমসাময়িক নার্গিস এবং মীনা কুমারীর বিপরীতে তাকে হিন্দি চলচ্চিত্রের সর্বাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়।তিনি ভারতীয় চলচ্চিত্র ইতিহাসের সর্বাধিক সুন্দর-আকর্ষণীয় অভিনেত্রী হিসেবেও গণ্য হন।

 

মমতাজ জাহান নাম দিয়ে অভিনয় শুরু করলেও অভিনেত্রী দেবিকা রাণী তার নাম দেন মধুবালা। মধুবালা শিশুশিল্পী হিসেবে বলিউডে অভিনয় শুরু করলেও মূল নারী চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন ১৪ বছর বয়সে কিদার শর্মার ‘নীলকমল’ ছবিতে রাজকাপুরের নায়িকা হয়ে। ১৯৪৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত মাত্র ২৯ বছরের অভিনয় জীবনে প্রায় ৭০টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। ‘মুঘল-ই-আজম’ (১৯৬০) মধুবালার জীবনের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র।

 

মধুবালা ১৯৩৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি একটি দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।  তার বাবা পাকিস্তানের পেশোয়ারে একটি তামাক কোম্পানিতে কাজ করতেন;  কিন্তু সংসারের অভাবের কারণে চাকরি চলে যাওয়ায় মধুবালা অভিনয়ে যোগ দেন।  তিনি এগারো ভাইবোনের মধ্যে পঞ্চম ছিলেন এবং পাঁচজন অল্প বয়সে মারা যান।

 

মধুবালা অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা—-

 

মেহলো কি খোয়াব, মুঘল-ই-আজম, দো ওস্তাদ, ইনসান জাগ ওঠা, কাল হামারা হায়, ঘী সিপাহী, জাওলা, শরাবী, হাফ টিকিট, বয়ফ্রেন্ড, ঝুমরু, পাসপোর্ট, বারসাত কি রাত, জালি নোট, হাওড়া ব্রিজ, কালা পানি, ফাগুন, পুলিশ, চলতি কা নাম গাড়ি, এক- সাল, নাতা, তীরন্দাজ, নাকাব, বহুত দিন হুয়া, অমর, রেইল কা ডিব্বা, আরমান, সাংদিল, সাকি, বাদল, খাজানা, নাদান, নাজনীন, সাইয়ান, তারানা, বেকসুর, হাঁসতে আঁসু, মধুবালা, নিরালা, নিশানা, পরদেশ, অপরাধী, দৌলত, দুলারি, ইমতিহান, নেকি আওর বদি, পরশ, সিপাহিয়া, জন্মপত্রী, মহল, অমর প্রেম, লাল দুপাট্টা, পারাই আগ, চিত্তর বিজয় , দিল-কি- রানী, খুবসুরত দুনিয়া, মেরা ভগবান, নীল কমল, ফুলওয়ারী, পূজারী, রাজপুতানী, ধন্য ভগত, মুমতাজ মহল, বসন্ত, স্বস্তিক, গেটওয়ে অফ ইন্ডিয়া, ইয়াহুদি কি লাড়কি , ঢাকা কি মলমল, রাজ হাট, শিরিন ফরহাদ, মি. এন্ড মিসেস ৫৫।

 

সম্মাননা—‐—-

 

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ তারিখে তার ৮৬তম জন্মদিনে গুগল ডুডল তৈরি করে সম্মাননা প্রদান করে।

মৃত্যু —–

 

মধুবালার হৃৎপিন্ডে জন্মগত ছিদ্র ছিল। মধুবালার ক্যারিয়ারের স্বার্থে পরিবারের পক্ষ থেকেই অসুখটা তখন গোপন করা হয়। কাজের চাপ আর বদ্ধ স্টুডিওয়ে দিনের পর দিন কাটাতে কাটাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। নয় বছর অসুখের সাথে লড়াই করে অবশেষে ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ সালে মাত্র ৩৬ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্মরণে কিংবদন্তি ভারতীয় বাঙালি গায়িকা বনশ্রী সেনগুপ্ত।

বনশ্রী সেনগুপ্ত ছিলেন একজন কিংবদন্তি ভারতীয় বাঙালি গায়িকা।  তিনি ১৯৮৬ সালে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন সঙ্গীত উৎসবে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।  তিনি বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরি, ওড়িয়া এবং অসমীয়া ছবিতেও গান গেয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবন——–

 

বনশ্রী সেনগুপ্ত ১৯৪৬ সালের দিকে হুগলির চুঁচুড়ায় জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা শৈলেন্দ্রনাথ রায় ছিলেন একজন গুণী সঙ্গীতজ্ঞ (উচ্চাঙ্গ-সঙ্গীতশিল্পী)।  শান্তি সেনগুপ্তকে বিয়ে করে কলকাতায় চলে আসেন বনশ্রী সেনগুপ্ত।

 

 

 

সঙ্গীতজীবন———-

 

বনশ্রী সেনগুপ্ত তার প্রথম জীবনে তার পিতা, গুণী সঙ্গীতজ্ঞ শৈলেন্দ্রনাথ রায়ের অধীনে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু করেন।  পরবর্তীতে, তিনি বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ সুধীন দাশগুপ্তের অধীনে ২০ বছর প্রশিক্ষণ নেন।  তিনি সুধীন দাশগুপ্ত, প্রবীর মজুমদার, নীতা সেন, সাগরউদ্দিন খান, সন্তোষ সেনগুপ্ত, দিনেন্দ্র চৌধুরী প্রমুখ সুরকারদের সাথে কাজ করেছেন। বনশ্রী সেনগুপ্ত ১৯৬৬ সালে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। তার অসংখ্য গান এবং অ্যালবাম রয়েছে।  ষাট ও সত্তরের দশকে অনেক হিট গান উপহার দিয়েছেন তিনি।  এছাড়া তিনি বাংলা, হিন্দি, ভোজপুরি, ওড়িয়া ও অহমিয়া চলচ্চিত্রে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করেছেন।

 

এরূপ চলচ্চিত্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ছুুুটি, নিমন্ত্রণ, বিন্দুর ছেলে, প্রান্তরেখা, রো ভরা বসন্ত, দুুুুলহন বোহি জো পিয়া মন ভায়ে, সানাই, এক যে ছিল দেশ, ন্যায় অন্যায়, আলোয় ফেরা, বিদ্রোহী, অঞ্জলি, ছন্দনীড়, পথ ও প্রাসাদ, নটী বিনোদিনী , বড় বউ  ইত্যাদি। তার গাওয়া উল্লেখযোগ্য ও বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে: “আজ বিকেলের ডাকে তোমার চিঠি পেলাম”, ”আমার অঙ্গে জ্বলে রংমশাল”, “ছি ছি ছি এ কী কাণ্ড করেছি”, “দূর আকাশে তোমার সুর”, “আমার আঁধার ঘরের প্রদীপ”, “সুন্দর বনে সুন্দরী গাছ”, “খুশিয়া হি খুশিয়া” ইত্যাদি।এছাড়া, তিনি আকাশবাণী ও দূূরদর্শনেও সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে কাজ করেন।

 

পুরস্কার——–

 

বনশ্রী সেনগুপ্ত তার সঙ্গীতকর্মের স্বীকৃতিস্বরূপ উত্তম কুমার পুরস্কার, মাদার তেরেসা পুরস্কার, মাইকেল মধুসূদন দত্ত পুরস্কার, বিএফজেএ পুরস্কার, প্রমথেশ বড়ুয়া পুরস্কার ইত্যাদি অর্জন করেন।

 

মৃত্যু ——-

 

বনশ্রী সেনগুপ্ত ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি একাত্তর বছর বয়সে প্রয়াত হন ।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

সরোজিনী নাইডু, স্বনামধন্য ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিশিষ্ট বাগ্মী ও ইন্দো-অ্যাংলিয়ান কবি – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে সরোজিনী নায়ডু  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শহীদ ভগৎ সিং-এর মতই নয় বরং শক্তিশালী নারীদের দ্বারা প্রশস্ত হয়েছিল যারা তাদের মাটিতে দাঁড়িয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিল।  সরোজিনী নায়ডু  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা ছিলেন তিনি।

 

সরোজিনী নায়ডুর জন্ম ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৮৭৯ সালে ভারতের হায়দ্রাবাদ শহরের একটি হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারে। তার পৈতৃক বাড়ি ছিল অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কনকসার গ্রামে। তিনি ছিলেন বিজ্ঞানী, দার্শনিক ও শিক্ষাবিদ অঘোরনাথ চট্টোপাধ্যায় ও কবি বরদাসুন্দরী দেবীর জ্যেষ্ঠা কন্যা।

সরোজিনী নাইডু ছিলেন স্বনামধন্য ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামী, বিশিষ্ট বাগ্মী ও ইন্দো-অ্যাংলিয়ান কবি। তিনি ভারত কোকিলা (দ্য নাইটেঙ্গেল অফ ইন্ডিয়া) নামে পরিচিত। সরোজিনী নাইডু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম (ভারতীয়) মহিলা সভাপতি নির্বাচিত হন। স্বাধীন ভারতে তিনি উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের রাজ্যপালও হয়েছিলেন।

সরোজিনী নাইডু ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সক্রিয় যোদ্ধা। মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে তিনি যোগ দেন ডান্ডি পদযাত্রায়। গান্ধী, আব্বাস তয়েব ও কস্তুরবা গান্ধী গ্রেফতার হলে তিনি ধারাসন সত্যাগ্রহে নেতৃত্ব দেন। তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট বাগ্মী এবং ইংরেজি ভাষার যশস্বী কবি। তাঁর রচিত গ্রন্থ গুলি —-

 

The Golden Threshold (১৯০৫),  The Bird of Time: Songs of Life, Death & the Spring (১৯১২),  The Broken Wing: Songs of Love, Death and the Spring (১৯১৭),  The Sceptred Flute: Songs of India (১৯৪৩), The Feather of the Dawn (১৯৬১), The Gift of India।

 

১৯০৫ সালে, সরোজিনী বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দেন।  ১৯০৩ থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে, তিনি গোপালকৃষ্ণ গোখলে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মুহম্মদ আলী জিন্নাহ, অ্যানি বেসান্ট, সিপি রামস্বামী আইয়ার, মহাত্মা গান্ধী, জওহরলাল নেহরু ইত্যাদির সংস্পর্শে আসেন।
১৯১৫ থেকে ১৯১৮ সালের মধ্যে, তিনি ভারতের বিভিন্ন অংশে যুব ক্ষমতায়ন, শ্রম গর্ব, নারী মুক্তি এবং জাতীয়তাবাদের উপর বক্তৃতা দেন।  ১৯১৬ সালে জওহরলাল নেহরুর সাথে দেখা করার পর, তিনি চম্পারনে নীল চাষীদের জন্য একটি আন্দোলন শুরু করেন।  তিনি ১৯২৫ সালে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন। তিনি কংগ্রেসের প্রথম মহিলা সভাপতি ছিলেন।
১৯১৯ সালের মার্চ মাসে, ব্রিটিশ সরকার সমস্ত রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ নিষিদ্ধ করে রাওলাট আইন জারি করে।  গান্ধীজি যখন প্রতিবাদে অসহযোগ আন্দোলন সংগঠিত করেন, তখন সরোজিনীই প্রথম আন্দোলনে যোগ দেন।  পরবর্তীতে ব্রিটিশ সরকার এই আন্দোলনের ওপর ব্যাপক দমননীতি বাস্তবায়ন করে।

 

১৯১৯ সালের জুলাই মাসে সরোজিনী ইংল্যান্ডে হোমরুল লিগের দূত মনোনীত হন। ১৯২০ সালের জুলাই মাসের তিনি ভারতে প্রত্যাবর্তন করার পর ১ অগস্ট গান্ধীজি অসহযোগ আন্দোলন ঘোষণা করেন। ১৯২৪ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি পূর্ব আফ্রিকান ভারতীয় কংগ্রেসের দুই জাতীয় কংগ্রেস প্রতিনিধির অন্যতম রূপে নির্বাচিত হন।
১৯২৮ সালের অক্টোবর মাসে তিনি নিউ ইয়র্ক সফর করেন। এই সময় যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান আমেরিকান ও আমেরিইন্ডিয়ানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের নিন্দা করেন তিনি। ভারতে প্রত্যাবর্তনের পর তিনি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।

 

১৯৩০ সালের ২৬শে জানুয়ারী, জাতীয় কংগ্রেস ব্রিটিশ সাম্রাজ্য থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে।  ৫ মে গান্ধীজিকে গ্রেফতার করা হয়। এর পরপরই সরোজিনীকে গ্রেফতার করা হয়।  এ সময় তিনি কয়েক মাস কারাবরণ করেন।  ১৯৩১ সালের ৩১ জানুয়ারী, তিনি গান্ধীজির সাথে মুক্তি পান।  ওই বছরের শেষের দিকে তারা আবার গ্রেপ্তার হন।  অসুস্থতার কারণে সরোজিনীকে কিছুদিনের মধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়।  গান্ধীজি ১৯৩৩ সালে মুক্তি পান। ১৯৩১ সালে তিনি গান্ধীজি এবং পন্ডিত মালব্যের সাথে গোলটেবিল বৈঠকে যোগ দেন।  ভারত ছাড়ো আন্দোলনে অংশ নেওয়ার জন্য ১৯৪২ সালের ২ অক্টোবর তাকে আবার গ্রেফতার করা হয়।  এই সময়ে, সরোজিনী গান্ধীজীর সাথে ২১ মাস বন্দী ছিলেন।  মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে সরোজিনী নাইডুর সম্পর্ক এতটাই ঘনিষ্ঠ ছিল যে তিনি গান্ধীজিকে “মিকি মাউস” বলেও ডাকতেন।

 

 

১৯৪৭ সালের মার্চ মাসে এশীয় সম্পর্ক সম্মেলনের স্টিয়ারিং কমিটির পৌরোহিত্য করেন সরোজিনী নায়ডু।
১৯৪৭ সালের ১৫ অগস্ট স্বাধীনতার পর সরোজিনী নায়ডু যুক্তপ্রদেশের (বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ) রাজ্যপাল নিযুক্ত হন। তিনিই ছিলেন ভারতের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল। ১৯৪৯ সালের ২ মার্চ কার্যকালেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় তার।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় যোদ্ধা এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অন্যতম সদস্য কল্পনা দত্ত – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভুমিকা —

 

জাতির মুক্তি ও জাতীয়তাবাদের আন্দোলনে নারীদের ভূমিকা ছিল অসামান্য। সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই প্রতিটি সংগ্রামে তারা ছিলেন সম্মুখ সমরে। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অকুতোভয় যোদ্ধা এবং চট্টগ্রাম যুব বিদ্রোহের অন্যতম সদস্য কল্পনা দত্ত। কল্পনা দত্ত ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। বিংশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার যেসব নারী ব্রিটিশ – বিরোধী বিপ্লবী আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিপ্লবী কল্পনা দত্ত। তার বিপ্লবী মনভাবের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাকে ‘অগ্নিকন্যা’ বলেছেন।

 

জন্ম–

 

কল্পনা দত্তের জন্ম ১৯১৩ সালের ২৭ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানার শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের শান্ত-সবুজ পাহাড়ঘেরা শ্রীপুরে। তার পিতা বিনোদবিহারী দত্ত ও মাতা শোভন বালা দত্ত। কল্পনা দত্তের ঠাকুরদা ডাক্তার দুর্গাদাস দত্ত ছিলেন চট্টগ্রামের একজন স্বনামধন্য ব্যক্তি। ইংরেজ প্রশাসনও তাকে যথেষ্ট সম্মান দিতেন। ফলে তাদের বাড়িটা সবসময় পু‍‌লিশের নজরের বাইরে ছিল। তবে শৈশব থেকেই কল্পনা ছিলেন অন্য সব মেয়েদের থেকে আলাদা। মানসিক দিক থেকেও ছিলেন ব্যতিক্রমী, অত্যন্ত ভাবপ্রবণ এবং স্পর্শকাতর। দুঃখী মানুষের দুঃখের কাহিনী তাকে ব্যথিত করতো। শৈশব তাই সকলকে নিয়ে এক সুখী সমাজের স্বপ্ন দেখতেন।

 

শিক্ষা জীবন—

কল্পনা দত্তের প্রাথমিক লেখাপড়া শেষে তাকে ডা. খাস্তগীর স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন তার বাবা। বীরকন্যা প্রীতিলতাও এই স্কুলের ছাত্রী ছিলেন। কল্পনা দত্ত প্রীতিলতার এক ক্লাসের ছোট ছিলেন। এই স্কুলে প্রতিটি শ্রেণিতে প্রীতিলতা ও কল্পনা দত্ত প্রথম কিংবা দ্বিতীয় ছিলেন। যে কারণে তাদের মধ্যে একটা যোগাযোগ ছিল

চট্টগ্রাম থেকে ১৯২৯ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করার পর কল্পনা দত্ত কলকাতা আসেন এবং বেথুন কলেজ-এ বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বেথুন কলেজে পড়তে পড়তে তিনি নানা ধরনের বিপ্লবী কর্মকান্ডে জরিয়ে পরেন। শহীদ ক্ষুদিরাম এবং বিপ্লবী কানাই লাল দত্তের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি বেথুন কলেজ-এ গড়ে ওঠা ছাত্রী সংঘ-এ যোগদান করেন।

 

প্রীতিলতার সাথে পরিচয়—

 

চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার দখলের নেতা বীর শহীদ সূর্য সেন, পূর্ণেন্দু দস্তিদারের নামের সঙ্গে যে দু’জন নারীর নাম অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে আছে তাদের একজন হলেন প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, আর অন্যজন কল্পনা দত্ত। তিনি ছিলেন মাস্টারদার প্রিয় পাত্রী, রবীন্দ্রনাথের ‘অগ্নিকন্যা’ এবং চট্টগ্রামে সকলের ‘ভুলুদা’ নামে পরিচিত। নারীরাও যে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারেন, সেই সময়ে তা কল্পনা করা যেত না। নারীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় চট্টগ্রামের যুব বিদ্রোহ ব্রিটিশদের ভিতকেই কাঁপিয়ে দিয়েছিল। বেথুন কলেজে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিন পর প্রীতিলতার সাথে পরিচয় ঘটে। প্রীতিলতা আন্তরিকতা সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যবহারে মেয়েদের খুব আপন করে নিতে পারতেন। তখন প্রীতিলতা ওই একই কলেজে ইংরেজি সাহিত্যে বি.এ. পড়ছেন। থাকেন ছাত্রীনিবাসে। এখানে মাষ্টারদার নির্দেশে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। গড়ে তুলেন এক বিপ্লবীচক্র। এই বিপ্লবীচক্রে অনেক মেয়ে সদস্য যোগ দেন। এই বিপ্লবীচক্রে কল্পনাও যুক্ত হলেন। এই চক্রের মূল কাজই ছিল বিপ্লবীকর্মী তৈরির পাশাপাশি অর্থ সংগ্রহ করা। অর্থ সংগ্রহ করে প্রীতিলতা চট্টগ্রামে পাঠাতেন।

 

চট্টগ্রামে সূর্য সেনের সাথে পরিচয়—

১৯৩০ সালে কল্পনা দত্ত আবার চট্টগ্রামে ফিরে যান। এই সময় পুর্নেন্দু দস্তিদারের মাধ্যমে তিনি মাস্টার দা সূর্য সেনের সাথে পরিচিত হন এবং মাস্টার দা প্রতিষ্ঠিত ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মি, চট্টগ্রাম শাখা-য় যোগদান করেন। তখন চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের নেতৃবৃন্দ গণেশ ঘোষ, অনন্ত সিং, লোকনাথ বল প্রমুখ বিচারাধীন বন্দী। সেই সময় মহিলাদের বিপ্লবী দলে প্রবেশের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল। কিন্তু মাস্টার দা এই সমস্ত নিয়ম নীতি শিথিল করে কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার-কে তার দলে গ্রহণ করেন।

 

বিপ্লবী জীবন—-

কলকাতা থেকে ফেরার সময় তিনি গোপনে কিছু বিষ্ফোরক নিয়ে আসেন, এছাড়াও গোপনে গান কটনও তৈরী করেছিলেন। এই সময় বিপ্লবী নেতৃবৃন্দের বিচার ও সাজা রুখতে তিনি বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি কোর্ট এবং জেলে ডিনামাইট দ্বারা বিষ্ফোরনের পরিকল্পনা করেছিলেন, যাতে বিপ্লবী নেতৃবৃন্দ পালাতে সক্ষম হন।
কিন্তু তার পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। ফলে তার বিপ্লবী কর্মকান্ডের উপর কিছু প্রতিবন্ধকতা আসে। যাই হোক এই সময় তিনি প্রায়ই মাস্টার দার সাথে তার গ্রামে ঘুরে গ্রামের মানুষের সুখ দুঃখের খবর নিতেন। এরই সাথে সাথে তিনি ও তার সহযোদ্ধা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার প্রত্যহ গুলি চালনার প্রশিক্ষন নিতেন।

 

ইউরোপীয় ক্লাবে আক্রমণ—

১৯৩১ সালে সূর্য সেন, কল্পনা দত্ত ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে চট্টগ্রামের ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের দায়িত্ব দেন। নির্দিষ্ট দিনের এক সপ্তাহ আগে পুরূষের ছদ্মবেশে একটি সমীক্ষা করতে গিয়ে তিনি ধরা পরেন ও গ্রেফতার হন। জেলে বসে তিনি অপারেশন পাহারতলী এবং বীরাঙ্গনা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের আত্মহত্যার খবর শোনেন।

 

গ্রেফতার ও নির্বাসন—-

জামিনে মুক্তি পেয়ে মাস্টার দার নির্দেশে তিনি কিছু দিন আত্মগোপন করে থাকেন। ১৯৩৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ তাদের গোপন ডেরা ঘিরে ফেলে। কল্পনা এবং মনিন্দ্র দত্ত পালাতে সক্ষম হলেও মাস্টার দা বন্দী হন। কিছুদিন পর কল্পনা এবং তার কিছু সহযোদ্ধা পুলিশের হাতে ধরা পরেন। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলায় মাস্টার দা ও তারকেশ্বর দস্তিদারকে মৃত্যুদন্ডে দণ্ডিত করা হয়। কল্পনা দত্ত যাবজ্জীবন কারাদন্ডে দণ্ডিত হন।

 

পরবর্তী জীবন—

১৯৩৯ সালে মুক্তি লাভের পর তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অঙ্কে সাম্মানিকসহ স্নাতক ডিগ্রী লাভ করেন। তারপর তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যান। ১৯৪৩ সালে C.P.I নেতা পূরণচাঁদ যোশীর সাথে তার বিবাহ হয়। এর পর তিনি চট্টগ্রামে ফিরে যান এবং দলের মহিলা ও কৃষক সংগঠনকে চাঙ্গা করেন। ১৯৪৬ সালে C.P.I প্রার্থী হয়ে তিনি চট্টগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করেন। কিন্তু জয়ী হতে পারেন নি। স্বাধীনতার পর তিনি ভারতে চলে আসেন। ১৯৫০ সালে ইণ্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে চাকরি নেন। পরে দিল্লী থাকতেন। সেখানে নারী আন্দোলনে মুখ্যভূমিকা নেন। ভারত ও তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়ার মৈত্রী সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার যথেষ্ট অবদান ছিল। ‘অল ইণ্ডিয়া ইন্সটিটিউট অফ রাশিয়ান ল্যাঙ্গুয়েজ এর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

 

নারী আন্দোলনে ভূমিকা—

 

দেশভাগের পরও অনেকদিন তিনি চট্টগ্রামেই থেকে যান। ১৯৫০ সালে ইন্ডিয়ান স্ট্যাস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে চাকুরি নেন এবং পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে বসবাস শুরু করেন। সেখানে তিনি নানাবিধ কাজের সাথে যুক্ত হন। ভারতের নারী আন্দোলনে তিনি ভূমিকা রাখেন। কল্পনা দত্ত নারী সমিতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন। তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং ভারতের মৈত্রী সম্পর্কের ক্ষেত্রে তার যথেষ্ট অবদান ছিল।
তিনি অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব ন্যাশনাল ল্যাঙ্গুয়েজ-এর সাধারণ সম্পাদিকাও ছিলেন। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় কল্পনা দত্ত নানাভাবে সহযোগিতা করেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অর্থ ও খাবার সংগ্রহ করণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধুর আমন্ত্রণে অন্যান্য বিপ্লবী কমরেডদের সাথে কল্পনা দত্ত চট্টগ্রাম আসেন। সেখানে মিউনিসিপ্যাল স্কুল প্রাঙ্গণে বিপ্লবী দলকে সম্বর্ধনা দেয়া হয়। কল্পনা দত্তের লেখা বইয়ের নাম- ‘চট্টগ্রাম অভ্যুত্থান’।

 

মৃত্যু—

 

সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের ইতিহাসে কল্পনা দত্ত একটি চিরস্মরণীয় নাম। স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে অসীম সাহস ও বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে চির জাগরুক হয়ে থাকবেন এক অকুতোভয় নারী যোদ্ধা- কল্পনা দত্ত।১৯৯১ সালে চট্টগ্রামে যুব আন্দোলনের ইতিহাস লিখতে শুরু করেছিলেন, শেষ করতে পারেননি। তার জীবনের স্মৃতিকথার তিন হাজার পৃষ্ঠার পাণ্ডুলিপি হারিয়ে ফেলেছিলেন সামান্য এক ভুলের কারণে। সেই মনোবেদনা নিয়ে ১৯৯৫ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি ৮২ বছর বয়সে নয়া দিল্লী তে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ঊর্মিলা দেবী, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে ঊর্মিলা দেবী  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শহীদ ভগৎ সিং-এর মতই নয় বরং শক্তিশালী নারীদের দ্বারা প্রশস্ত হয়েছিল যারা তাদের মাটিতে দাঁড়িয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিল।  ঊর্মিলা দেবী ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা ছিলেন তিনি। ঊর্মিলা দেবী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।

 

জন্ম ও পরিবার—-

 

১৮৮৩ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা জেলার বিক্রমপুরের তেলিরবাগ গ্রামে উর্মিলা দেবী জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতার নাম ভুবনমোহন দাস এবং মাতার নাম নিস্তারিণী দেবী।  স্বামীর নাম অনন্তনারায়ণ সেন। উর্মিলা দেবী ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের বোন।  পিতামহের আদর্শে প্রভাবিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন।

 

রাজনৈতিক জীবন—–

 

দেশবন্ধুর অনুপ্রেরণায় তিনি নারীদের মধ্যে কাজের বিকাশ ঘটান।  ১৯২১ সালে, তিনি ‘নারী-কর্মমন্দির’ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, যার লক্ষ্য ছিল চরকা ও খদ্দরকে জনপ্রিয় করা এবং দেশপ্রেম জাগানো।  ঊর্মিলা দেবী ১৯৩২ সালের অসহযোগ আন্দোলনে আইন অমান্যকারী প্রথম তিনজন মহিলার একজন। তিনি কলকাতা ‘নারী সত্যাগ্রহ সমিতি’র সভাপতি ছিলেন।

 

সাহিত্যকর্ম——

 

সে সময় নারায়ণ পত্রিকায় নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তার প্রকাশিত সাহিত্যগ্রন্থ পুষ্পহার। মহাত্মা গান্ধী, সরোজিনী নাইডু প্রমুখের স্মৃতিকথাও রচনা করেছেন ।

 

মৃত্যু——

 

ঊর্মিলা দেবী মে ১৯৫৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

স্বাধীনতা সংগ্রামী ও ভারতের প্রথম স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজকুমারী বিবিজী অমৃত কাউর – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।

রাজকুমারী বিবিজি অমৃত কৌর আহলুওয়ালিয়া ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন কর্মী যিনি স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম স্বাস্থ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন।
তিনি নারী অধিকারের জন্য তার ওকালতি সহ তার মেয়াদে আনা সংস্কারের জন্য ব্যাপকভাবে স্মরণীয়।
এই নিবন্ধটি IAS পরীক্ষার প্রসঙ্গে রাজকুমারী অমৃত কৌর সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দেবে।

অমৃত কৌর ১৮৮৭ সালের ২ ফেব্রুয়ারি লখনউতে জন্মগ্রহণ করেন।  তার বাবা ছিলেন কাপুরথালার মহারাজার ছোট ছেলে।  অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক হওয়ার সময় তার প্রাথমিক শিক্ষা ইংল্যান্ডের ডরসেটের শেরবোর্ন স্কুল ফর গার্লস-এ হয়েছিল।  তার শিক্ষা সমাপ্তির পর, তিনি ১৯১৮ সালে ভারতে ফিরে আসেন।
স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে রাজকুমারী আমরি কৌরের প্রচেষ্টা শুরু হয় যখন তিনি ইংল্যান্ড থেকে ফিরে আসেন।  তার বাবা গোপাল কৃষ্ণ গোখলের মতো স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ছিলেন।  তিনি ১৯১৯ সালে মুম্বাইতে মহাত্মা গান্ধীর সাথে দেখা করেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিক্ষার মধ্যে অনেক সাধারণ ভিত্তি খুঁজে পেয়ে তিনি ১৬ বছর ধরে তাঁর সচিব হিসাবে কাজ করবেন।

 

রাজকুমারী অমৃত কৌর জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের পর ব্রিটিশ শাসনের একজন সোচ্চার সমালোচক হয়ে ওঠেন।  তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করেন, সামাজিক সংস্কারের দিকে মনোনিবেশ করার সাথে সাথে স্বাধীনতা সংগ্রামের সক্রিয় সদস্য হন।  তিনি সক্রিয়ভাবে দেবদাসী প্রথা এবং বাল্যবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে প্রচারণা চালান।
অমৃত কৌর ছিলেন অল ইন্ডিয়া উইমেনস কনফারেন্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা যা ১৯২৭ সালে মহিলাদের প্রতি আরও ভাল আচরণের পক্ষে কথা বলেছিল। ১৯৩০ সালে এখানে ডান্ডি মার্চ এ অংশগ্রহণের পর তিনি ব্রিটিশদের দ্বারা গ্রেফতার হন। তার মুক্তির পর, তিনি একটি কঠোর জীবনযাপন করতে শুরু করেন  ১৯৩৪ সালে মহাত্মা গান্ধীর আশ্রমে, তার মহৎ পটভূমি থাকা সত্ত্বেও।
রাজকুমারী অমৃত কৌরকে ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসাবে মনোনীত করেছিলেন।  যাইহোক, তিনি ১৯৪২ সালে ভারত ছাড়ো আন্দোলনে জড়িত থাকার কারণে বোর্ড ছেড়ে দেন। আন্দোলনে তার অংশগ্রহণের ফলে তাকে কারাবরণ করা হয়।
অমৃত কৌর সর্বজনীন ভোটাধিকারের জন্য চাপ দেন।  এই লক্ষ্যে, তিনি ভারতীয় ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক সংস্কার সংক্রান্ত লোথিয়ান কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
অমৃত কৌর যথাক্রমে ১৯৪৫ এবং ১৯৪৬ সালে লন্ডন এবং প্যারিসে ইউনেস্কো কনফারেন্সে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের একজন অংশ ছিলেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

জীবন বদলে দেওয়া সারদা মায়ের কয়েকটি বিখ্যাত উক্তি।

সারদা মায়ের এমনই কয়েকটি বিখ্যাত উক্তি আজ জেনে নেব আমরা।

 

* ‘মনটাকে বসিয়ে আলগা না দিয়ে কাজ করা ঢের ভাল। মন আলগা হলেই যত গোল বাধায়।’

 

* ‘দয়া যার শরীরে নাই, সে কি মানুষ? সে তো পশু। আমি কখনও কখনও দয়ায় আত্মহারা হয়ে যাই, ভুলে যাই যে আমি কে।’

 

* ‘একশো জনকে খাওয়াতে হবে না, কিন্তু চোখের সামনে একজন ক্ষুধার্তকে দেখলে তাঁকে একটু খেতে দিও।’

 

* ‘যেমন ফুল নাড়তে নাড়তে ঘ্রাণ বের হয়, চন্দন ঘষতে ঘষতে সুগদ্ধ বের হয়, তেমনই ভগবত্‍ তত্ত্বের আলোচনা করতে করতে তত্ত্বজ্ঞানের উদয় হয়।’

 

* ‘ভাঙতে সবাই পারে, গড়তে পারে ক’জনে? নিন্দা ঠাট্টা করতে পারে সব্বাই, কিন্তু কী করে যে তাকে ভালো করতে হবে, তা বলতে পারে ক’জনে?’

 

* ‘কাজ করা চাই বইকি, কর্ম করতে করতে কর্মের বন্ধন কেটে যায়, তবে নিষ্কাম ভাব আসে। একদণ্ডও কাজ ছেড়ে থাকা উচিত নয়।’

 

* ‘কর্মফল ভুগতে হবেই। তবে ঈশ্বরের নাম করলে যেখানে ফাল সেঁধুত, সেখানে সুঁচ ফুটবে। জপ তপ করলে কর্ম অনেকটা খণ্ডণ হয়। যেমন সুরথ রাজা লক্ষ বলি দিয়ে দেবীর আরাধনা করেছিল বলে লক্ষ পাঁঠায় মিলে তাঁকে এক কোপে কাটলে। তার আর পৃথক লক্ষ বার জন্ম নিতে হল না। দেবীর আরাধনা করেছিল কিনা। ভগবানের নামে কমে যায়।’

 

* ‘কত সৌভাগ্য, মা এই জন্ম, খুব করে ভগবানকে ডেকে যাও। খাটতে হয়, না-খাটলে কি কিছু হয়? সংসারে কাজকর্মের মধ্যেও একটি সময় করে নিতে হয়।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

সুরাইয়া জামাল শেখ ঊনিশ শতকের ভারতীয় চলচ্চিত্রের গায়ক এবং অভিনেত্রী।

সুরাইয়া জামাল শেখ, সুরাইয়া নামে পরিচিত একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র গায়িকা এবং অভিনেত্রী ছিলেন ১৯৪০ এবং ১৯৫০ এর দশকে।  তিনি উপমহাদেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও গায়িকা ছিলেন এবং মালেকা-ই-তাবাসসুম উপাধি পেয়েছিলেন।

প্রাথমিক জীবন——

সুরাইয়া ১৫ জুন ১৯২৯ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তিনি একটি ছোট ফার্নিচার দোকানের মালিকের ঘরে গুজরানওয়ালা, পাঞ্জাবে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তার পিতা লাহোর স্থানান্তরিত হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি মুম্বাইয়ের মেরিন ড্রাইভে তার অ্যাপার্টমেন্ট কৃষ্ণ মহলে বসবাস করছিলেন।

ব্যক্তিগত জীবন——-

সুরাইয়া অভিনেতা দেব আনন্দের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।  তারা ১৯৪৮ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত ৬টি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন। সুরাইয়াকে উপমহাদেশের প্রথম মেলোডি কুইন (মালিকা-ই-তাবাছুম) বা মেলোডির রানী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছিল এবং পরে তাকে নূর জিহান নাম দেওয়া হয়েছিল।

সম্মান ও স্বীকৃতি—-

২০১৩ সালের ৩ মে তার সম্মানে ভারতে তার ছবি সংবলিত ডাকটিকেট প্রকাশ করা হয়।

সুরাইয়া অভিনীত চলচ্চিত্র প্রায় ৬৯টি—

ওয়ারিশ, শোভা, শামা পারওয়ানা, মাসুকা, দিওয়ানা, গুঞ্জ, খুবসুরত, লাল কানওয়ার, মতিমহল, দো সিতারে, সনম, রুস্তম সোহরাব,  শামা, রোশনআরা, মালিক, ট্রলি ড্রাইভার, মিস ৫৮, মি. লম্বু, ইনাম, কাঞ্চন, বিলওয়ামঙ্গল, মির্জা গালিব, রাজপুত, সখিয়াঁ, আফসার, বাড়ি বেহেন, দাস্তান, কামাল কি ফুল, খিলাড়ি, নীলি, শান, অমর কাহানী, বালাম, বাড়ি বেহেন, বোম্বে, চারদিন, দুনিয়া, লেখ, শায়ের, শিঙ্গার, জীত, মিসচিফ, নাচ, শায়ার, আজ কি রাত, আইস, পেয়ার কি জিত, রঙ মহল, বিদ্যা, গাজরে, শক্তি, ভাটাকতি ম্যায়নে, ডাক বাংলা, দর্দ, ম্যায়ঁ কেয়া করু, ফুল, তাদবির, ইয়াতিম, হামারি বাত, ইশারা, স্টেশন মাস্টার, তাজমহল, মাদার ইন্ডিয়া,  দো দিল, দো নায়না, পারওয়ানা, নাটক, আনমোল গান্ধী, জাগ বিটি, ওমর খৈয়াম।

সুরাইয়া ২০০৪ সালে ৭৪ বছর বয়সে ক্যান্সারে মারা যান।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা মীরা দত্তগুপ্ত ।

ভূমিকা—-

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে মীরা দত্তগুপ্ত প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শহীদ ভগৎ সিং-এর মতই নয় বরং শক্তিশালী নারীদের দ্বারা প্রশস্ত হয়েছিল যারা তাদের মাটিতে দাঁড়িয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিল। মীরা দত্তগুপ্ত  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা ছিলেন  মীরা দত্তগুপ্ত ।

 

 জন্ম ও পরিবার——

 

মীরা দত্তগুপ্ত ১৯০৬ সালে ঢাকা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু পৈতৃক জমি ছিল বিক্রমপুরের জৈনসার গ্রামে।  তাঁর পিতার নাম শরৎকুমার দত্তগুপ্ত।  পিতার আদর্শে প্রভাবিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে যোগ দেন।  তার পিতামাতার মনোভাব ছিল দেশপ্রেম।

 

শিক্ষাজীবন—

 

মীরা দত্তগুপ্ত বেথুন কলেজের মেধাবী ছাত্রী।  ১৯৩১ সালে পাটিগণিতের এমএ পরীক্ষায় তিনি প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় হন।  এরপর বিদ্যাসাগর কলেজে শিক্ষকতা শুরু করেন।

 

 রাজনৈতিক জীবন—–

 

পড়াশোনার সময় তিনি বিপ্লবী পার্টিতে যোগ দেন।  বেনু পত্রিকার মহিলা বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।  কিছুদিন ‘সাউথ ক্যালকাটা গার্লস অ্যাসোসিয়েশন’-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।  নারী আন্দোলন গড়ে তুলতে কাজ করেছেন।  ১৯৩৩ সালে তার গতিবিধি পুলিশের নজরে আসে।  ১৯৩৭ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত তিনি দুইবার আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন।  ১৯৪২ সালে আন্দোলনের সময় তিনি অর্থ সংগ্রহ করে বিপ্লবীদের দিয়েছিলেন।  ১৯৪৬ সালে তিনি জেল থেকে বেরিয়ে ‘ফরওয়ার্ড ব্লক’ গঠন করেন।

 

মৃত্যু—-

 

মীরা দত্তগুপ্ত ১৭ জানুয়ারি ১৯৮৩ সালে মারা যান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

কিংবদন্তী অভিনেত্রী সুচিত্রা সেন স্মরণে।

জন্ম পরিচয়–

 

সুচিত্রা সেন একজন ভারতীয় অভিনেত্রী ছিলেন। ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের বাংলা প্রেসিডেন্সির (অধুনা বাংলাদেশের  অন্তর্গত) পাবনা শহরের গোপালপুর মহল্লার হেমসাগর লেনে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা করুণাময় দাশগুপ্ত ছিলেন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মায়ের নাম ইন্দিরা দেবী গৃহবধূ। সুচিত্রা ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান ও তৃতীয় কন্যা। ডাক নাম রমা। তবে বাবা ডাকতেন কৃষ্ণা নামে। পাবনা শহরেই তিনি পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন কবি রজনীকান্ত সেনের নাতনী।

 

তিনি মূলত বাংলা ও হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বাংলা চলচ্চিত্রে উত্তম কুমারের বিপরীতে নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে তিনি বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

 

 

শিক্ষা জীবন—

 

পাবনা শহরের মহাখালী পাঠশালার পাঠ শেষ করে, তিনি পাবনা গার্লস স্কুলে ভর্তি হন। এই স্কুলে তিনি দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পাক-ভারত বিভাজনের সময় এঁদের পুরো পরিবার কলকাতায় চলে যান।

 

বৈবাহিক জীবন—

 

১৯৪৭ সালে বিশিষ্ট শিল্পপতি আদিনাথ সেনের পুত্র দিবানাথ সেনের সঙ্গে সুচিত্রা সেনের বিয়ে হয়। তাদের একমাত্র কন্যা মুনমুন সেনও একজন খ্যাতনামা অভিনেত্রী।তার  নাতনী রিয়া সেন ও রাইমা সেন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

 

অভিনয় জীবন—

১৯৫২ সালে সুচিত্রা সেন বাংলা চলচ্চিত্র জগতের সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৫২ সালে শেষ কোথায় ছবির মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু হয় কিন্তু ছবিটি মুক্তি পায়নি। সুচিত্রা সেনই বাংলা চলচ্চিত্রের প্রথম অভিনেত্রী, যিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে পুরস্কৃত হয়েছিলেন। ‘সাত পাকে বাঁধা’ ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৬৩ সালে মস্কো চলচ্চিত্র উৎসব থেকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান তিনি। ১৯৫৫ সালের দেবদাস ছবির জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেন, যা ছিল তার প্রথম হিন্দি ছবি। উত্তম কুমারের সাথে বাংলা ছবিতে রোমান্টিকতা সৃষ্টি করার জন্য তিনি বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বিখ্যাত অভিনেত্রী। ১৯৬০ ও ১৯৭০ দশকে তার অভিনীত ছবি মুক্তি পেয়েছে। স্বামী মারা যাওয়ার পরও তিনি অভিনয় চালিয়ে গেছেন, যেমন হিন্দি ছবি আন্ধি। এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন নেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। বলা হয় যে চরিত্রটির প্রেরণা এসেছে ইন্দিরা গান্ধী থেকে। এই ছবির জন্য তিনি ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন এবং তার স্বামী চরিত্রে অভিনয় করা সঞ্জীব কুমার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার জিতেছিলেন। হিন্দি চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর দাদাসাহেব সম্মাননা প্রদান করে ভারত সরকার। চলচ্চিত্রের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এ সম্মাননা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন সুচিত্রা সেন। ২০০৫ সালে দাদাসাহেব সম্মাননা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তিনি। সম্মাননা নিতে কলকাতা থেকে দিল্লি যেতে চাননি বলেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

 

উত্তম-সুচিত্রা জুটি—-

 

বাংলা চলচ্চিত্রের জগতে উত্তম-সুচিত্রা জুটিকে এখনো শ্রেষ্ঠ জুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একসময় কলকাতার চলচ্চিত্র পাড়ায় উত্তম-সুচিত্রা জুটি ছাড়া সে সময় কোনো ছবি ‘হিট’ হবে, এটা ভাবা নির্মাতারা ভাবতে পারতেন না। এক পর্যায়ে সাধারণ মানুষ ভাবতে শুরু করে, চলচ্চিত্রের মতো বাস্তবেও হয়তো তারা একই সম্পর্ক ধারণ করেন।দীর্ঘ ২৬ বৎসর অভিনয় জীবনে তিনি মোট ৬১টি ছবিতে অভিনয় করেন। এর ভিতরে ৩১টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমারের বিপরীতে।

 

চলচ্চিত্রের তালিকা (বাংলা)

 

দীপ জ্বেলে যাই (১৯৫৯), চাওয়া পাওয়া (১৯৫৯), হসপিটাল (১৯৬০), স্মৃতিটুকু থাক (১৯৬০)], সপ্তপদী (১৯৬১), সাথীহারা (১৯৬১), বিপাশা (১৯৬২), সাত-পাকে বাঁধা (১৯৬৩), উত্তর ফাল্গুনী(১৯৬৩) ( ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে হিন্দিতে পুনঃনির্মিত হয়েছে মমতা নামে), সন্ধ্যাদীপের শিখা(১৯৬৪), গৃহদাহ (১৯৬৭), কমললতা (১৯৬৯), মেঘকালো (১৯৭০), ফরিয়াদ (১৯৭১), নবরাগ (১৯৭১), আলো আমার আলো (১৯৭২), হারমানা হার (১৯৭২), দেবী চৌধুরানী (১৯৭৪), শ্রাবণ সন্ধ্যায় (১৯৭৪), প্রিয় বান্ধবী (১৯৭৫), আঁধি (১৯৭৫), দত্তা (১৯৭৬), প্রণয় পাশা (১৯৭৮)।

 

হিন্দি—

 

বোম্বাই কা বাবু (১৯৬০),  সারহাত (১৯৬০)।

 

 

পুরস্কার ও সম্মাননা—

তৃতীয় মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী। চলচ্চিত্র সপ্তপদী ( ১৯৬৩ খ্রিষ্টাব্দ)।
ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার মনোনীত, মমতা (১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দ)।
পদ্মশ্রী চলচ্চিত্র শিল্পে বিশেষ অবদানের জন্য (১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দ)।
ফিল্মফেয়ার শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী পুরস্কার মনোনীত, আঁধি। (১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দ)।
বঙ্গবিভূষণ চলচ্চিত্রে সারা জীবনের অবদানের জন্য। (২০১২ খ্রিষ্টাব্দ)।

 

১৯৭৮ সালে সুদীর্ঘ ২৫ বছর অভিনয়ের পর তিনি চলচ্চিত্র থেকে অবসরগ্রহণ করেন। এর পর তিনি লোকচক্ষু থেকে আত্মগোপন করেন এবং রামকৃষ্ণ মিশনের সেবায় ব্রতী হন।সুচিত্রা শেষ জনসম্মুখে আসেন ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে, তাঁর গুরু ভরত মহারাজের মৃত্যুর পর। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি ভারতীয় সময় সকাল ৮টা ২৫ মিনিট নাগাদ কলকাতার বেল ভিউ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে সুচিত্রা সেনের মৃত্যু হয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This