Categories
প্রবন্ধ

লালন শাহ স্মরণে : সুরভি জাহাঙ্গীর।

মানবতার সাধক ফকির লালন শাহের আজ ১৭ অক্টোবর ১৩০তম প্রয়াণ দিবস। তাঁকে জানাই হৃদয়ের শ্রদ্ধাঞ্জলি। লালন শাহ ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ফকির লালন, লালন সাঁই, লালন শাহ, মহাত্মা লালন, সাঁইজী লালন ইত্যাদি নামেও পরিচিত ছিলেন। একাধারে তিনি ছিলেন আধ্যাত্মিক বাউল সাধক, মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং দার্শনিক। তিনি অসংখ্য গানের গীতিকার, সুরকার ও গায়ক ছিলেন। লালনকে বাউল গানের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং ‘বাউল-সম্রাট’ হিসেবেই তাঁকে আখ্যায়িত করা হয়। তারূ গানের মাধ্যমেই ঊনিশ শতকে বাউল গান সর্বোচ্চ জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

লালন ছিলেন একজন মানবতাবাদী সাধক। তিনি ধর্ম-বর্ণ-গোত্রসহ সকল প্রকার জাতিগত বিভেদ থেকে সরে এসে মানবতার ধর্মকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন। অসাম্প্রদায়িক এ মনোভাব থেকেই তিনি তাঁর গান রচনা করেছেন। তাঁর গান ও দর্শন যুগে যুগে প্রভাবিত করেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম ও অ্যালেন গিন্সবার্গের মতো বহু খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক, বুদ্ধিজীবীসহ অসংখ্য মানুষকে। গান্ধীরও ২৫ বছর আগে ভারত উপমহাদেশে সর্বপ্রথম, তাঁকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দেয়া হয়েছিল।
#জন্ম_বিতর্ক
লালনের জীবন সম্পর্কে বিশদ কোনো বিবরণ পাওয়া যায় না। তাঁর জন্ম কোথায়, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। লালন নিজে কখনো তা প্রকাশ করেননি। কিছু সূত্রে পাওয়া যায়, লালন ১৭৭৪ সালের ১৭ অক্টোবর যশোর জেলার ঝিনাইদহ মহাকুমার হরিণাকুন্ডু থানার হারিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অবশ্য কোনো কোনো লালন গবেষক মনে করেন, লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালী থানার ভাড়ারা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ তথ্যের সাথেও অনেকে দ্বিমত পোষণ করেন। বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনের জন্ম যশোর জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে বলে উল্লেখ করা হয়।
#ছেউড়িয়ায়_লালন
হিতকরী পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ নিবন্ধে বলা হয়েছে, লালন তরুণ বয়সে একবার তীর্থভ্রমণে বের হয়ে পথিমধ্যে গুটিবসন্ত রোগে আক্রান্ত হন। তখন তাঁর সাথীরা তাঁকে মৃত ভেবে পরিত্যাগ করে চলে যায়। কালিগঙ্গা নদীতে ভেসে আসা মুমূর্ষু লালনকে উদ্ধার করেন মলম শাহ। তিনি ও তাঁর স্ত্রী মতিজান তাঁকে বাড়িতে নিয়ে সেবা-শুশ্রূষা দিয়ে সুস্থ করে তোলেন। এরপর লালন তাঁর কাছে দীক্ষিত হন এবং কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়াতে স্ত্রী ও শিষ্যসহ বসবাস শুরু করেন। গুটিবসন্ত রোগে একটি চোখ হারান লালন। ছেউড়িয়াতে তিনি দার্শনিক গায়ক সিরাজ সাঁইয়ের সান্নিধ্যে আসেন এবং তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হন।
#ধর্মবিশ্বাস
লালনের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে গবেষকদের মাঝে বেশ মতভেদ রয়েছে, যা তাঁর জীবদ্দশায়ও বিদ্যমান ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত প্রবাসী পত্রিকার ‘মহাত্মা লালন’ নিবন্ধে লালনের প্রথম জীবনী রচয়িতা বসন্ত কুমার পাল উল্লেখ করেন, ‘সাঁইজি হিন্দু কি মুসলমান, এ কথা আমিও স্থির বলিতে অক্ষম।’ বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, লালনের জীবদ্দশায় তাঁকে কোন ধরনের ধর্মীয় রীতি-নীতি পালন করতেও দেখা যায়নি। লালনের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। নিজ সাধনাবলে তিনি সনাতন, ইসলাম ও বিভিন্ন ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করেন। তাঁর রচিত গানে এর পরিচয় পাওয়া যায়। প্রবাসী পত্রিকার এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘লালনের সব ধর্মের লোকের সাথেই সুসম্পর্ক ছিল। মুসলমানদের সাথে সুসম্পর্কের কারণে অনেকে তাঁকে  মুসলমান মনে করতেন। আবার বৈষ্ণবধর্মের আলোচনা করতে দেখে হিন্দুরা তাঁকে বৈষ্ণব মনে করতেন। প্রকৃতপক্ষে লালন ছিলেন মানবতাবাদী এবং তিনি ধর্ম, জাত, কূল, বর্ণ, লিঙ্গ ইত্যাদি অনুসারে মানুষের ভেদাভেদ বিশ্বাস করতেন না।’

তবে বাংলা ১৩৪৮ সালের আষাঢ় মাসে প্রকাশিত মাসিক মোহম্মদী পত্রিকায় এক প্রবন্ধে লালনকে জন্মসূত্রে মুসলিম উল্লেখ করা হয়। আবার কোন কোন লেখক লালন শাহকে হিন্দু বলেও উল্লেখ করেছেন। লালনের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘লালন ধার্মিক ছিলেন। তবে তিনি কোনো বিশেষ ধর্মের রীতিনীতি পালনে আগ্রহী ছিলেন না। সব ধর্মের বন্ধন ছিন্ন করে তিনি মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছিলেন।’ লালনের পরিচয় দিতে গিয়ে সুধীর চক্রবর্তী লিখেছেন, ‘কাঙাল হরিনাথ তাঁকে জানতেন, মীর মশাররফ তাঁকে চিনতেন, ঠাকুরদের হাউসবোটে যাতায়াত ছিল, লেখক জলধর সেন বা অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় তাঁকে সামনাসামনি দেখেছেন কতবার, গান শুনেছেন, তবু জানতে পারেননি লালনের জাত-পরিচয়, বংশধারা বা ধর্ম।’

অবশ্য কিছু লালন অনুসারী যেমন মন্টু শাহের মতে, তিনি হিন্দু বা মুসলমান কোনটিই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন ওহেদানিয়াত নামক একটি নতুন ধর্মীয় মতবাদের অনুসারী। ওহেদানিয়াতের মাঝে বৌদ্ধধর্ম এবং বৈষ্ণব ধর্মের সহজিয়া মতবাদ এবং সুফিবাদসহ আরও অনেক ধর্মীয় মতবাদ বিদ্যমান। লালনের অনেক অনুসারী লালনের গানসমূহকে এই আধ্যাত্মিক মতবাদের কালাম বলে অভিহিত করে থাকে।
#আখড়া_স্থাপন
লালন কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে একটি আখড়া তৈরি করেন, যেখানে তিনি তাঁর শিষ্যদের নীতি ও আধ্যাত্মিক শিক্ষা দিতেন। তাঁর শিষ্যরা তাকে “সাঁই” বলে সম্বোধন করতেন। তিনি প্রতি শীতকালে আখড়ায় একটি ভান্ডারা বা মহোৎসব এর আয়োজন করতেন। সেখানে সহস্রাধিক শিষ্য ও সম্প্রদায়ের লোক জড়ো হতেন এবং সেখানে সংগীত ও আলোচনা হতো। চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর এবং পশ্চিমে অনেক দূর পর্যন্ত বাংলার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বহুসংখ্যক লোক লালন ফকিরের শিষ্য ছিলেন। শোনা যায় তাঁর শিষ্যের সংখ্যা প্রায় দশ হাজারের বেশি ছিল।
#ঠাকুর_পরিবারে
কলকাতার জোড়া সাঁকোর ঠাকুর পরিবারের অনেকের সঙ্গে লালনের পরিচয় ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। বিরাহিমপুর পরগনায় ঠাকুর পরিবারের জমিদারিতে ছিল তাঁর বসবাস এবং ঠাকুর-জমিদারদের প্রজা ছিলেন তিনি। ঊনিশ শতকের শিক্ষিত সমাজে লালন শাহের প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতার পেছনে ঠাকুর পরিবার বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু এই ঠাকুরদের সঙ্গে লালনের একবার সংঘর্ষও ঘটে। কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালির কাঙাল হরিনাথ মজুমদার গ্রামবার্তা প্রকাশিকা নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন। এরই একটি সংখ্যায় তখন ঠাকুর-জমিদারদের প্রজাপীড়নের সংবাদ ও তথ্য প্রকাশের সূত্র ধরে উচ্চপদস্থ ইংরেজ কর্মকর্তারা বিষয়টির প্রত্যক্ষ অনুসন্ধানে আসেন। এতে করে কাঙাল হরিনাথ মজুমদারের ওপর বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ঠাকুর-জমিদারেরা। তাঁকে শায়েস্তা করার উদ্দেশ্যে লাঠিয়াল পাঠালে শিষ্যদের নিয়ে লালন শাহ সশরীরে তা মোকাবিলা করেন এবং লাঠিয়াল বাহিনী পালিয়ে যায়।
লালনের জীবদ্দশায় তাঁর একমাত্র স্কেচটি তৈরি করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর। লালনের মৃত্যুর বছরখানেক আগে ৫ মে ১৮৮৯ সালে পদ্মায় তাঁর বোটে বসিয়ে তিনি এই পেন্সিল স্কেচটি করেন- যা ভারতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যদিও কারো কারো দাবী এই স্কেচটিতে লালনের আসল চেহারা ফুটে ওঠেনি।
#দেহাবসান
১৮৯০ সালের ১৭ অক্টোবর লালন ১১৬ বছর বয়সে কুষ্টিয়ার কুমারখালির ছেউড়িয়াতে নিজ আখড়ায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর প্রায় একমাস আগে থেকে তিনি পেটের সমস্যা ও হাত পায়ের গ্রন্থির সমস্যায় ভুগছিলেন। অসুস্থ অবস্থায় তখন তিনি দুধ ছাড়া অন্য কিছু খেতেন না। এ সময়ে তিনি মাছ খেতে চাইতেন। মৃত্যুর দিন ভোর ৫টা পর্যন্ত তিনি গান-বাজনা করেন এবং এক সময় তাঁর শিষ্যদের বলেন, ‘আমি চলিলাম’ এবং এর কিছু সময় পরই তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর নির্দেশ বা ইচ্ছা না থাকায় তাঁর মৃত্যুর পর হিন্দু বা মুসলমান কোন ধর্মেরই রীতিনীতি পালন করা হয়নি। তাঁরই উপদেশ অনুসারে ছেউড়িয়ায় তাঁর আখড়ার মধ্যে একটি ঘরের ভিতর তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। তাঁর মৃত্যুর ১২ দিন পর তৎকালীন পাক্ষিক পত্রিকা মীর মশাররফ হোসেন সম্পাদিত হিতকরী-তে প্রকাশিত একটি রচনায় সর্বপ্রথম তাঁকে ‘মহাত্মা’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
#লালনতত্ত্ব
লালনের গানে মানুষ ও তাঁর সমাজই ছিল মুখ্য। লালন বিশ্বাস করতেন সকল মানুষের মাঝে বাস করে এক মনের মানুষ। আর সেই মনের মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় আত্মসাধনার মাধ্যমে। দেহের ভেতরেই মনের মানুষ থাকে, যাকে তিনি অচিন পাখি বলেছেন। সেই অচিন পাখির সন্ধান মেলে পার্থিব দেহ সাধনার ভেতর দিয়ে দেহোত্তর জগতে পৌঁছানোর মাধ্যমে। এটাই বাউলতত্ত্বে ‘নির্বাণ’ বা ‘মোক্ষ’ বা ‘মহামুক্তি’ লাভ বলে। তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানবতাবাদকে সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন। তাঁর বহু গানে এই মনের মানুষের প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বিশ্বাস করতেন মনের মানুষ এর কোন ধর্ম, জাত, বর্ণ, লিঙ্গ, কূল নেই। মানুষের দৃশ্যমান শরীর এবং অদৃশ্য মনের মানুষ পরস্পর বিচ্ছিন্ন, কিন্তু শরীরেই মনের বাস। সকল মানুষের মনে ঈশ্বর বাস করেন। লালনের এই দর্শনকে কোন ধর্মীয় আদর্শের অন্তর্গত করা যায় না। তিনি মানব আত্মাকে বিবেচনা করেছেন এক রহস্যময়, অজানা এবং অস্পৃশ্য সত্তা রূপে। খাঁচার ভিতর অচিন পাখি গানে তিনি মনের অভ্যন্তরের সত্তাকে তুলনা করেছেন এমন এক পাখির সাথে, যা সহজেই খাঁচারূপী দেহের মাঝে আসা যাওয়া করে কিন্তু তবুও একে বন্দি করে রাখা যায় না।

আধ্যাত্মিক ভাবধারায় তিনি প্রায় দুই হাজার গান রচনা করেছেন। তার সহজ-সরল শব্দময় গানে মানবজীবনের রহস্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে। মানবতাবাদী লালন দর্শনের মূল কথা হচ্ছে মানুষ। আর এই দর্শন প্রচারের জন্য তিনি শিল্পকে বেছে নিয়েছিলেন। লালনকে অনেকে সাম্প্রদায়িক বলতে চেয়েছেন।
তবে লালন সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন,
‘লালন ফকির নামে একজন বাউল সাধক হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, জৈন ধর্মের সমন্বয় করে কী যেন একটা বলতে চেয়েছেন- আমাদের সবারই সেদিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত।’
#লালনের_প্রভাব
লালনের গান ও দর্শনের দ্বারা অনেক বিশ্বখ্যাত কবি, সাহিত্যিক, দার্শনিক প্রভাবিত হয়েছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ লালনের মৃত্যুর ২ বছর পর তার আখড়া বাড়িতে যান এবং লালনের দর্শনে প্রভাবিত হয়ে ১৫০টি গান রচনা করেন। তাঁর বিভিন্ন বক্তৃতা ও রচনায় তিনি লালনের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। লালনের মানবতাবাদী দর্শনে প্রভাবিত হয়েছেন সাম্যবাদী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। এছাড়া আমেরিকান কবি এলেন গিন্সবার্গ লালনের দর্শনে প্রভাবিত হন এবং তাঁর রচনাবলিতেও লালনের রচনাশৈলীর অনুকরণ দেখা যায়। তিনি আফটার লালন (After Lalon) নামে একটি কবিতাও রচনা করেন। লালনের সংগীত ও ধর্ম-দর্শন নিয়ে দেশ-বিদেশে নানা গবেষণা হয়েছে ও হচ্ছে।
#লালনস্মরণে
লালন স্মরণে অসংখ্য গল্প, কবিতা ও উপন্যাস রচিত হয়েছে এবং সিনেমাও নির্মিত হয়েছে।
লালন সাঁইজির জীবনীর নির্ভরযোগ্য তথ্য ও লালন-দর্শনের মূল কথা নিয়ে সাইমন জাকারিয়া রচনা করেছেন ‘উত্তরলালনচরিত’ শীর্ষক নাটক। নাটকটি ঢাকার সদর প্রকাশনী হতে প্রকাশিত হয়েছে। রণজিৎ কুমার লালন সম্পর্কে সেনবাউল রাজারাম নামে একটি উপন্যাস রচনা করেছেন। পরেশ ভট্টাচার্য রচনা করেছেন বাউল রাজার প্রেম নামে একটি উপন্যাস। কবি ও ঔপন্যাসিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লালনের জীবনী নিয়ে রচনা করেছেন মনের মানুষ উপন্যাস। এই উপন্যাসে কোন নির্ভরযোগ্য সূত্র ব্যতিরেকেই লালনকে হিন্দু কায়স্থ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছ, নাম দেয়া হয়েছে লালন চন্দ্র কর। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত উপন্যাস ‘গোরা’ শুরু হয়েছে লালনের গান ‘’খাঁচার ভিতর অচিন পাখি কেমনে আসে যায়’ দিয়ে। ১৯৩৬ সালে সুনির্মল বসু লালন ফকিরের ভিটে নামে একটি ছোট গল্প রচনা করেন। শওকত ওসমান ১৯৬৪ সালে রচনা করেন দুই মুসাফির নামের একটি ছোটগল্প।
লালনকে নিয়ে কয়েকটি চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে সৈয়দ হাসান ইমাম পরিচালনা করেন লালন ফকির চলচ্চিত্রটি। শক্তি চট্টোপাধ্যায় ১৯৮৬ সালে একই নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ম. হামিদ ১৯৮৮ সালে পরিচালনা করেন তথ্যচিত্র দ্যাখে কয়জনা, যা বাংলাদেশে টেলিভিশনে প্রদর্শিত হয়। তানভীর মোকাম্মেল ১৯৯৬ সালে পরিচালনা করেন তথ্যচিত্র অচিন পাখি। ২০০৪ সালে তানভীর মোকাম্মেলের পরিচালনায় লালন নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হয়। এ চলচ্চিত্রে লালনের ভূমিকায় অভিনয় করেন রাইসুল ইসলাম আসাদ এবং এটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।এছাড়া ২০১০-এ সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে গৌতম ঘোষ মনের মানুষ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন, যা ২০১০ সালে ৪১তম ভারতীয় চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার লাভ করে। উল্লেখ্য, চলচ্চিত্রে লালনকে কোন উল্লেখযোগ্য সূত্র ছাড়াই হিন্দু হিসাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হয়। ২০১১ সালে মুক্তি পায় হাসিবুর রেজা কল্লোল পরিচালিত ‘অন্ধ নিরাঙ্গম’ নামের চলচ্চিত্র। এ চলচ্চিত্রে লালনের দর্শন ও বাউলদের জীবনযাপন তুলে ধরা হয়েছে। (অসম্পূর্ণ)

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায় ।

 

***পৃথিবীতে আমরা মানুষই একমাত্র প্রাণী কাঁদতে কাঁদতে জন্ম গ্রহণ করি। কিন্তু জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টা  অভাব, অভিযোগ,প্রতিবাদ, প্রতিরোধ করতে করতে বাঁচি। আর অবশেষে আমরা অনুশোচনা, আফসোস করতে করতে  মৃত্যু বরন করি। আমাদের মানুষের সৌন্দর্য অনেকটা  হৃদয়ও মস্তিষ্কে বসবাস করে, মানুষের শরীরে নয়, তাই, যার মস্তিষ্কের ভাবনা যত সুন্দর, সে মানুষ হিসেবেও ঠিক ততটাই সুন্দর ৷ আমাদের জীবন ও মৃত্যুর কোনও সূত্র ভগবান আমাদের  দেন নি৷ তাই জীবন ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টা চিরন্তন আনন্দ উপভোগ করার জন্য৷ জন্ম ও মৃত্যুর মধ্যবর্তী সময়টা মহান কাজএ  ব্যবহার করার জন্য৷ কারণ, একজন চমৎকার, বিস্ময়কর  মানুষ  সবসময় আমাদের স্মৃতিতে থাকে, একজন ভালো মানুষ সবসময় আমাদের স্বপ্নে থাকে। কিন্তু একজন আন্তরিক মানুষ সবসময় আমাদের হৃদয়ে থাকবে।  তাই, নিজের জীবন  মহান করে তুলুন৷ সৎ  মানুষের জীবনে ধন, সম্পত্তি, পদমর্যাদা নয়,  সবথেকে প্রয়োজনীয় জিনিস হলো নিরোগ দেহ, পরিতৃপ্ত মন, সততা ও মানসিক প্রশান্তি পূর্ণ জীবন। ধন, জন, যৌবন ও নাম-যশ  সব নশ্বর। বন্ধুত্ব ও প্রেম ক্ষণস্থায়ী। ঈশ্বর সদগুরুদেব একমাত্র আমাদের পথ প্রদর্শক।
তাই:-
স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন:-“ধর্ম এমন একটি ভাব, যাহা পশুকে মনুষ্যত্বে ও মানুষকে দেবত্বে উন্নীত করে।”

স্বামী প্রণবানন্দজী বলেছেন:-“যাহা তোমাকে তোমার লক্ষ্যস্থলে পৌঁছাইয়া দিবে তাহাই প্রকৃত কর্ম ও সাধনা।”

মানুষের জীবনের ছোট ছোট জিনিসগুলোই সবচেয়ে খুব দামি এবং গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের নিজের যা আছে তার প্রশংসা করা এবং ঈশ্বর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত! বন্ধুত্ব এবং শান্তির প্রতীক  আমাদের হাসি এবং সন্তুষ্টি বিশ্বের সাথে  শেয়ার করা দরকার। কারণ, যখন আমাদের জীবনে সুখের একটি দরজা বন্ধ হয়ে যায়, সুখের অন্য দরজাটি খোলে, কিন্তু প্রায়শই আমরা বন্ধ দরজার দিকেই এতক্ষণ তাকিয়ে থাকি যে আমরা আমাদের জন্য খোলা সুখের অন্য দরজাটি দেখতে পাই না। কারণ, আমাদের হৃদয়ে পবিত্রতা, মনে স্বচ্ছতা, কর্মে আন্তরিকতা এবং মানসিক তৃপ্তি হল মানুষের জীবনে আসল সুখের,শান্তির সূত্র।
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ ।
স্বামী আত্মভোলানন্দ

Share This
Categories
প্রবন্ধ

সাতকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগ্রামী ও সশস্ত্র বিপ্লবী।

ভূমিকা—

 

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে সাতকড়ি  ব্যানার্জী প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।সাতকড়ি  ব্যানার্জী  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। সাতকড়ি  ব্যানার্জী ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অক্লান্ত কর্মী। সাতকড়ি  ব্যানার্জী ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন সংগ্রামী এবং সশস্ত্র বিপ্লবী।

 

ছাত্রজীবন—-

 

বিপ্লবী সাতকড়ি ব্যানার্জি ব্রিটিশ ভারতের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বেহালায় ১৭ অক্টোবর ১৮৮৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতার নাম মন্মথ নাথ ব্যানার্জী।  ছাত্র হিসাবে, তিনি বিপ্লবী আন্দোলনের দিকে ঝুঁকে পড়েছিলেন এবং হরিণাভি স্কুলে পড়ার সময় ১৯০৫ সালে সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাগত জানানোর জন্য মানবেন্দ্রনাথ রায়ের সাথে স্কুল থেকে বহিষ্কৃতদের মধ্যে ছিলেন।  এরপর তিনি যুগান্তর দলের প্রবীণ বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন।

 

জার্মান ষড়যন্ত্রে —–

 

১৯১৪ সালে, যখন গদর পার্টির বিপ্লবীরা ‘কোমাগাটামারু’ জাহাজে চড়ে আসেন, তখন তিনি গোপনে তাদের সাহায্য করেন।  তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গেরিলা যুদ্ধের মানচিত্র এবং নকশাও সংগ্রহ করেছিলেন। ১৯১৫ সালে, বিপ্লবী বাঘা যতীন তাকে অস্ত্র আনলোড করার দায়িত্ব দিয়ে একটি জার্মান গানশিপের সাথে যোগাযোগ করতে হ্যালিডে দ্বীপে পাঠান।  তবে বিভিন্ন কারণে জাহাজটি অবতরণ করতে পারেনি।  এই বছরই বাঘা যতীনের দূত হিসাবে নিরালাম্বা স্বামীর সাথে পরামর্শ করতে গিয়েছিলেন।  তিনি যুগান্তর দলের পররাষ্ট্র বিভাগের দায়িত্বে ছিলেন।

 

রাজনৈতিক হত্যার চক্রান্ত—

 

১৯৩০ সালে, সাতকড়ি অত্যাচারী পুলিশ কমিশনার চার্লস ট্যাগার্টের হত্যা প্রচেষ্টায় জড়িত ছিল।  যুগান্তরের বারুইপুর শাখার নেতা থাকাকালে শহীদ কানাইলাল ভট্টাচার্যের স্থানীয় গুরু ছিলেন সাতকড়ি।  ১৯৩১ সালের ২৭ জুলাই কানাইলাল তার পরামর্শে ‘বিমল গুপ্ত’ নামে বিচারক গার্লিককে হত্যা করেন।

 

কারাগার জীবন ও মৃত্যু—

 

১৯১৬ সালের ৪ মার্চ সাতকড়ি ব্যানার্জীকে বন্দী করা হলে, তাকে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়, পরে তাকে উত্তর প্রদেশের নাইনি জেলে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি রাজকীয় বন্দীদের সাথে খারাপ আচরণের প্রতিবাদে ৬৭ দিনের অনশনে গিয়েছিলেন।  ১৯২০ সালের ১৩ জানুয়ারি মুক্তি পাওয়ার পর তিনি আবার সংগঠনের কাজে নিযুক্ত হন।  ১৯২৪ সালে পুলিশ তাকে আবার গ্রেফতার করে এবং তিন বছরের জন্য কারারুদ্ধ করে।  যদিও তিনি ১৯২৭ সালে মুক্তি পান, সরকার তাকে ১৯৩০ সালে তার বিপ্লবী কার্যকলাপের জন্য গৃহবন্দী করে রাখে এবং পরে তাকে সম্পূর্ণরূপে গ্রেফতার করে এবং ১৯৩২ সালে তাকে রাজস্থানের দেউলি কারাগারে প্রেরণ করে। ৬ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৭ সালে, সাতকড়ি ব্যানার্জী জেলে অসুস্থ হয়ে মারা যান।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য বিমোচন দিবস, জানুন দিনটির ইতিহাস, তাৎপর্য ও গুরুত্ব ।

আজ, ১৭ অক্টোবর, জাতিসংঘ ঘোষিত দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস।  জাতিসংঘের উদ্যোগে প্রতি বছর এই দিনে সারা বিশ্বে দিবসটি পালিত হয়।  দিবসটির মূল লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য, ক্ষুধা ও মানবিক বৈষম্য দূর করা।  আমাদের দেশেও দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়।

 

১৯৯৫ সালকে জাতিসংঘ দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক বছর হিসাবে ঘোষণা করেছে।  জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের পর্যবেক্ষণে দেশে দারিদ্র্য ও বঞ্চনার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।  ১৯৯০-এর দশকে উন্নয়নশীল দেশগুলিতে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা দূরীকরণ একটি অগ্রাধিকার হয়ে ওঠে।  এ ক্ষেত্রে দারিদ্র্য ও বঞ্চনা দূরীকরণে সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে ১৯৯২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে এ বিষয়ে কয়েকটি এনজিওর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানানো হয়।
বিশেষ করে, ফরাসি ভিত্তিক এনজিও এটিডি ফোর্থ ওয়ার্ল্ড সহ চরম দারিদ্র্য নির্মূলের জন্য তাদের আন্দোলনের সাফল্যের জন্য ১৭ অক্টোবরে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস উদযাপনের পর্যালোচনা করা হয়েছিল।  এই আলোকে সাধারণ পরিষদও উল্লিখিত বৈঠকে ১৭ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক দারিদ্র্য দূরীকরণ দিবস হিসেবে ঘোষণা করেছে।

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবসের লক্ষ্য হল দারিদ্র্য এবং সমাজে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া এবং সংলাপকে উন্নীত করা।  এটি একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে যে দারিদ্র্য একটি জটিল, বহুমুখী সমস্যা যা আয়ের অভাবের পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির মতো বিষয়গুলিকে প্রভাবিত করে৷  যদিও দারিদ্র্য নির্মূল করা একটি কঠিন কাজ, সমস্যাটি মোকাবেলা করা পণ্য-নির্ভর অঞ্চলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বহুমুখীকরণ এবং টেকসই প্রবৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যেতে পারে।  দিবসটি দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহযোগিতা, মানবাধিকার এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের মূল্য তুলে ধরে।  এটি একটি গুরুতর তবে আশাব্যঞ্জক উপলক্ষ।  থিম থেকে ইতিহাস পর্যন্ত, দিনটি সম্পর্কে আরও জানতে নিচে স্ক্রোল করুন।

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস ২০২৩ থিম—-

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য এই বছরের আন্তর্জাতিক দিবসের প্রতিপাদ্য হল “শালীন কাজ এবং সামাজিক সুরক্ষা: সকলের জন্য চর্চায় মর্যাদা রাখা,” যার লক্ষ্য হল শালীন কাজের সর্বজনীন প্রবেশাধিকার এবং সমস্ত মানুষের জন্য মানবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখার উপায় হিসাবে সামাজিক সুরক্ষা।

 

 

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবসের ইতিহাস—-

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবসটি প্রথম ১৭ অক্টোবর, ১৯৮৭ তারিখে পালিত হয়েছিল। সেই দিন ১০০০০০ এরও বেশি লোক প্যারিসের ট্রোকাডেরোতে উপস্থিত হয়েছিল, যা ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র লেখার স্থান ছিল, যারা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে।  চরম দারিদ্র্য, সহিংসতা এবং ক্ষুধায় মারা গিয়েছিল।  তারা যুক্তি দিয়েছিল যে দারিদ্র্য মানবাধিকার লঙ্ঘন করে এবং সেই অধিকারগুলি সমুন্নত রাখতে সহযোগিতা প্রয়োজন।  তারপর থেকে, ১৭ অক্টোবর, বিভিন্ন বয়স, ধর্ম এবং সামাজিক ব্যাকগ্রাউন্ডের লোকেরা তাদের প্রতিশ্রুতি পুনর্নিশ্চিত করতে এবং সুবিধাবঞ্চিতদের প্রতি তাদের সহানুভূতি দেখাতে একত্রিত হয়েছে।  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের রেজুলেশন ৪৭/১৯৬, ২২ ডিসেম্বর, ১৯৯২ তারিখে গৃহীত হয়েছে, ১৭ অক্টোবরকে দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে।

 

দারিদ্র্য দূরীকরণের জন্য আন্তর্জাতিক দিবস তাৎপর্য—

 

 

 

এই দিনটি অত্যন্ত তাৎপর্য বহন করে কারণ এটি তার সমস্ত মাত্রায় দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের বিশ্বব্যাপী অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।  এটি এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্তদের দুঃখকষ্ট দূর করার জন্য সম্মিলিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে দারিদ্র্য থেকে উদ্ভূত গভীর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং মানবাধিকারের সমস্যাগুলি মোকাবেলার প্রতিশ্রুতির উপর জোর দেয়।  এই দিনটি সংহতি এবং টেকসই, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অন্বেষণের আহ্বান জানায় যা নিশ্চিত করে যে কেউ পিছিয়ে থাকবে না, কারণ আমরা এমন একটি বিশ্বের জন্য সংগ্রাম করি যেখানে দারিদ্র্য ব্যক্তিদের মর্যাদা, সুযোগ এবং আশার জীবনযাপনে আর বাধা দেয় না।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

অতুলচন্দ্র ঘোষ : এক অগ্নিবীরের কথা।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে অতুল চন্দ্র ঘোষ প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। অতুল চন্দ্র ঘোষ ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।অতুল চন্দ্র ঘোষ ছিলেন ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অক্লান্ত কর্মী।

 

অতুল চন্দ্র ঘোষ (২ মার্চ ১৮৮১ – ১৫ অক্টোবর ১৯৬২) ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের একজন কর্মী, লোক সেবক সংঘের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলা ভাষা আন্দোলন (মানভূম) এবং পুরুলিয়া জেলার বঙ্গভূক্তি আন্দোলনের প্রধান স্থপতি।

 

অতুল চন্দ্র ঘোষ পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব বর্ধমান জেলার খন্ডঘোষে জন্মগ্রহণ করেন।  পিতার নাম মাখনলাল ঘোষ।  বর্তমান অযোধ্যার পুরুলিয়া জেলায় পৈতৃক হিটলাল ঘোষের কাছে তাঁর শৈশব কেটেছে।  পরে সেখানকার একজন আইনজীবী মেসোমশাই তাকে লালন-পালন করেন।  ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বর্ধমান মহারাজা স্কুল থেকে প্রবেশিকা এবং ১৯০১ খ্রিস্টাব্দে কলেজ থেকে এফএ এবং কলকাতা মেট্রোপলিটন কলেজ থেকে বিএ পাস করেন।  ক্লাসে যোগ দিন।  ১৯০৪ সালে বিএ পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন এবং ১৯০৮ সালে পুরুলিয়ায় আইন অনুশীলন শুরু করেন। তিনি স্কুলের গ্রন্থাগারিক-অ্যাকাউন্টেন্ট অঘোরচন্দ্র রায়ের কন্যা লাবণ্য প্রভাকে বিয়ে করেন।

 

 

 

অতুল চন্দ্র এবং লাবণ্যপ্রভা স্বামী-স্ত্রী মহাত্মা গান্ধী ও নিবারণ চন্দ্র দাশগুপ্তের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় হন।  ১৯২১ সালে তিনি আইন ব্যবসা ছেড়ে অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন।  বিহার প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটির সেক্রেটারি (১৯২১ – ১৯৩৫) এবং মানভূম জেলা কংগ্রেস কমিটির সভাপতি (১৯৩৫-১৯৪৭) হিসাবে মানভূম এবং কাছাকাছি এলাকায় অনেক কাজ করেছেন।  ১৯২১ সালে মানভূমে কংগ্রেস পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয় যেখানে নিবারণ চন্দ্র দাশগুপ্ত এবং অতুল চন্দ্র ঘোষ যথাক্রমে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।  ১৯৩৫ সালের ১৭ জুলাই নিবারণবাবুর মৃত্যুর পর অতুল চন্দ্র রাষ্ট্রপতি হন।  তিনি জেলা সত্যাগ্রহ কমিটির সেক্রেটারি হন (১৯৩০) এবং লবণ সত্যাগ্রহে এবং পরে ‘ভারত ছাড়’ আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য এবং জাতীয় সপ্তাহে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের জন্য জেলে যান (১৯৪৫)।  মানভূমের ভাষা নীতি নিয়ে কংগ্রেস সরকারের সাথে মতবিরোধের কারণে তিনি জাতীয় কংগ্রেস (১৯৪৭) ত্যাগ করেন এবং একই বছরে লোক সেবক সংঘ প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিহার সরকারের প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত নীতির বিরুদ্ধে তার আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।  মানভূম কেশরী নামে পরিচিত হয়।  তিনি ১৯৫০-১৯৫২ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বহুবার সত্যাগ্রহ করেছিলেন।  ১৯৫৩ সাল থেকে সংঘ ‘টুসু’ গানের আয়োজন করেছে।  সংঘ রাজ্য পুনর্গঠন কমিটির কাছে স্মারকলিপি পেশ করে (১৯৫৩-১৯৫৫)।  তিনি বিশ্বাস করতেন যে বাঙালি-বিহার সীমান্ত সমস্যাটি বন্ধুত্বপূর্ণভাবে সমাধান করা যেতে পারে।  তারপর ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে পুরুলিয়া জেলা গঠিত হয়।  এজন্য তাকে বঙ্গভূক্তি আন্দোলনের স্থপতিও বলা হয়।  তিনি মহাত্মা গান্ধীর গণতন্ত্র পঞ্চায়েত রাজ প্রতিষ্ঠা, গ্রামীণ শিল্পের উন্নয়ন, নিরক্ষরতা দূরীকরণ ইত্যাদি আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন। অতুল চন্দ্র ঘোষ বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘মুক্তি’-এর সম্পাদক ছিলেন।  তার মৃত্যুর পর তার স্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা লাবণ্যপ্রভা ঘোষ সম্পাদনার দায়িত্ব নেন।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবস: থিম, ইতিহাস এবং তাৎপর্য।

বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবস সম্পর্কে আপনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি জানা দরকার:

 

বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবস হল একটি বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা ইভেন্ট যা প্রতি বছর 16ই অক্টোবর চিকিৎসায় অ্যানেস্থেশিয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে পালিত হয়।  এই দিনটি অ্যানেস্থেশিয়া পেশাদারদেরও স্বীকৃতি দেয়, যারা প্রায়শই অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট হিসাবে পরিচিত, যারা রোগীদের কোনও অস্বস্তি না অনুভব করেই অস্ত্রোপচার করতে সহায়তা করে।

এই দিনে, বিভিন্ন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা, চিকিৎসা পেশাজীবী, হাসপাতাল এবং ক্লিনিকগুলি একত্রে যোগদান করে এবং অ্যানেস্থেশিয়ার প্রথম সফল প্রদর্শনীকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, প্রদর্শনী এবং সেমিনারের মতো বেশ কয়েকটি ইভেন্ট এবং প্রচারাভিযান পরিচালনা করে।

 

 

 

অ্যানেস্থেশিয়ার প্রকারগুলি:—

1. সাধারণ এনেস্থেশিয়া
2.স্থানীয় এনেস্থেশিয়া
3. আঞ্চলিক এনেস্থেশিয়া

4. মেরুদণ্ড এবং এপিডুরাল এনেস্থেশিয়া
5.শমন

 

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবসের ইতিহাস:—

 

1846 সালের 16 অক্টোবর বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবসটি অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহারের প্রথম প্রদর্শনীর স্মরণ করে। ম্যাসাচুসেটস জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তাররা প্রথমবারের মতো রোগীর উপর ইথার ব্যবহার করেন।  এটি অস্ত্রোপচারের ইতিহাসে একটি জলাবদ্ধ মুহূর্ত ছিল।
প্রথম অ্যানেস্থেটিক পদ্ধতির পর থেকে 170 বছরে অনেকগুলি অগ্রগতি হয়েছে, তবে প্রায় 5 বিলিয়ন লোক এখনও নিরাপদ অ্যানেস্থেশিয়া অনুশীলনের অ্যাক্সেসের অভাব রয়েছে, WFSA অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসারে।

 

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবস 2023 থিম—

 

এই বছর 2023, বিশ্ব অ্যানেস্থেসিয়া দিবসের থিম হল “অ্যানেস্থেসিয়া এবং ক্যান্সারের যত্ন”, ক্যান্সারের চিকিৎসায় অ্যানেস্থেসিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান এবং ক্যান্সার রোগীর ফলাফল বাড়ানোর জন্য অ্যানেস্থেশিয়া পরিষেবাগুলিকে শক্তিশালী করার জন্য পরামর্শ দেওয়া।

বছর বছর, বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবসের থিমগুলি হল:

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবস 2022 থিম: ওষুধের নিরাপত্তা

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবস 2021 থিম: টিমওয়ার্ক

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবস 2020 থিম: অ্যানাস্থেসিওলজিস্টদের পেশাগত সুস্থতা

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবস 2019 থিম: পুনরুত্থান

 

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবসের গুরুত্ব—

 

অ্যানেস্থেসিয়া হল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যা রোগীদের অস্ত্রোপচার, টিস্যু নমুনা অপসারণ (যেমন, ত্বকের বায়োপসি), দাঁতের কাজ, নির্দিষ্ট স্ক্রীনিং এবং ডায়াগনস্টিক পরীক্ষার মতো চিকিত্সার সময় ব্যথা অনুভব করা থেকে বিরত রাখে।  এটি রোগীদের সার্জারি করতে সক্ষম করে যা তাদের স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘ জীবন উন্নত করে।

ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় 80% রোগীর চিকিত্সা বা উপশম করার জন্য অ্যানেস্থেশিয়া এবং অস্ত্রোপচারের যত্ন প্রয়োজন।  ক্যান্সার রোগীদের সু-সমন্বিত বহুবিষয়ক চিকিত্সার প্রয়োজন, এবং অবেদনকে অবশ্যই এটির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসাবে দেখা উচিত এবং উপযুক্তভাবে সংস্থান করা উচিত।

অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার জন্য, ডাক্তাররা অ্যানেস্থেটিক নামক ওষুধ ব্যবহার করেন।  বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন প্রভাব সহ চেতনানাশক ওষুধের একটি সংগ্রহ তৈরি করেছেন।  এই ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে সাধারণ, আঞ্চলিক এবং স্থানীয় অ্যানেস্থেটিক।
সাধারণ অ্যানেস্থেসিয়া পুরো শরীরকে প্রভাবিত করে, রোগীদের অজ্ঞান করে এবং নড়াচড়া করতে অক্ষম করে।  স্থানীয় চেতনানাশক শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশের চিকিত্সা করে, যেমন একটি একক দাঁত।  ছানি অপসারণ এবং আঁচিল এবং আঁচিলের মতো ত্বকের ছোট বৃদ্ধির মতো চোখের প্রক্রিয়াগুলির জন্য এগুলি ঘন ঘন দন্তচিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।  আঞ্চলিক চেতনানাশক শরীরের আরও বিশিষ্ট অংশ যেমন একটি বাহু, একটি পা, বা কোমরের নীচের কিছুর চিকিত্সা করে।  এই ধরনের নান্দনিক সাধারণত হাত এবং জয়েন্ট সার্জারির জন্য, প্রসবের যন্ত্রণা কমাতে বা সি-সেকশন ডেলিভারির সময় ব্যবহৃত হয়।

ক্যান্সারের বিশ্বব্যাপী বোঝা বাড়ছে, এবং মামলার সংখ্যা 2040 সালের মধ্যে 19∙3 থেকে 28∙4 লাখে উন্নীত হবে। সাধারণ ব্যথা ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে গুরুতর যত্নের জন্য বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য উপযুক্ত অ্যানেস্থেশিয়া সংস্থান থাকা অপরিহার্য।

প্রথম চেতনানাশক অস্ত্রোপচারের 170 বছর অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও এবং এটি সফল হওয়া অগণিত সাফল্যের পরেও, প্রায় 50 কোটি মানুষ নিরাপদ অ্যানেস্থেশিয়া কৌশলগুলিতে অ্যাক্সেসের অভাব অব্যাহত রেখেছে, তাই বিশ্ব অ্যানেস্থেটিক দিবস রাজনৈতিক ইচ্ছাকে সংগঠিত করার, জনসাধারণকে শিক্ষিত করার জন্য একটি শক্তিশালী অ্যাডভোকেসি হাতিয়ার হতে পারে।  , এবং বিশ্বব্যাপী চেতনানাশক সম্প্রদায়ের অর্জনকে শক্তিশালী করা।

 

বিশ্ব এনেস্থেশিয়া দিবস: তাৎপর্য—

 

এটি একটি দিন বিশ্বব্যাপী অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের তাদের প্রচেষ্টা এবং রোগীর যত্নে তাদের ভূমিকার জন্য স্বীকৃতি দেওয়ার।  বিশ্ব অ্যানেস্থেশিয়া দিবসে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে এখনও প্রচলিত সমস্যাগুলিকে মোকাবেলা করার জন্য বিশ্বজুড়ে বেশ কয়েকটি প্রচারাভিযান অনুষ্ঠিত হয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস নিয়ে কিছু কথা।

বিশ্ব খাদ্য দিবস 2023: সঠিক খাদ্য এবং পুষ্টির অ্যাক্সেস একটি মৌলিক মানবাধিকার।  যাইহোক, বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মানুষের স্বাস্থ্যকর খাবার এবং জলের অ্যাক্সেস নেই, বিশ্ব খাদ্য দিবসের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং এই গ্রহের প্রতিটি মানুষ যাতে সঠিক পুষ্টি এবং সঠিক খাবারের অ্যাক্সেস পায় তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়ার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।  খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুধার মোকাবিলা করাও বিশ্ব খাদ্য দিবস উদযাপনের কেন্দ্রবিন্দু।  প্রতি বছর, বিশ্ব খাদ্য দিবস অনেক নতুন উদ্যোগ এবং সংস্থাগুলির নতুন ধারণার সাথে পালন করা হয়।  আমরা বিশেষ দিনটি উদযাপন করার জন্য প্রস্তুত হওয়ার সাথে সাথে এখানে কয়েকটি জিনিস জানার আছে।

 

বিশ্ব খাদ্য দিবস 2023 ইতিহাস:—

 

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা 1945 সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর চৌত্রিশ বছর পর, 1979 সালে, FAO সম্মেলনে, বিশ্ব খাদ্য দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ছুটির দিন হিসাবে গৃহীত হয়েছিল।  এর পরে, 150 টিরও বেশি দেশ বিশ্ব খাদ্য দিবসকে উদযাপনের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসাবে গ্রহণ করতে একত্রিত হয়েছিল।

 

বিশ্ব খাদ্য দিবস 2023 তাৎপর্য:—

 

এ বছর বিশ্ব খাদ্য দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে- পানিই জীবন, পানিই খাদ্য।  কাউকে পিছু ছাড়বেন না।  “পৃথিবীতে জীবনের জন্য জল অপরিহার্য। এটি পৃথিবীর পৃষ্ঠের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে, আমাদের দেহের 50% এরও বেশি তৈরি করে, আমাদের খাদ্য উত্পাদন করে এবং জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু এই মূল্যবান সম্পদ অসীম নয়, এবং আমাদের এটি গ্রহণ করা বন্ধ করতে হবে।  স্বীকৃত। আমরা যা খাই, এবং কীভাবে সেই খাদ্য উত্পাদিত হয় তা সবই জলকে প্রভাবিত করে। একসঙ্গে, আমরা খাদ্যের জন্য জলের পদক্ষেপ নিতে পারি এবং পরিবর্তন হতে পারি,” মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও কৃষি সংস্থাগুলি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে লিখেছেন।  এই দিনে, সংস্থাগুলি গ্রহের প্রত্যেকের জন্য খাদ্য এবং জলের সমান অ্যাক্সেসের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একত্রিত হয়।

 

2023বিশ্ব খাদ্য দিবস থিম: “জলই জীবন, জলই খাদ্য। কাউকে পিছিয়ে রাখবেন না”

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

দেবী এখানে মাটির প্রতিমা নন, এই রাজবাড়িতে দশভুজা পূজিত হন পটে আঁকা চিত্রে, ৫০০ বছরের প্রাচীন পঁচেটগড় রাজবাড়ি পুজো।

দেবী এখানে মাটির প্রতিমা নন, এই রাজবাড়িতে দশভুজা পূজিত হন পটে আঁকা চিত্রে। আগে মহালয়া থেকে পুজো শুরু হয়ে যেত। সময়ের সঙ্গে হারিয়েছে রাজ আমলের সেই জৌলুস। এখন ষষ্ঠী থেকে পুজো শুরু হয়। পুজো ঘিরে সাজো-সাজো রব পড়ে যায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পঁচেটগড় রাজবাড়ির দুর্গা দালানে। ইতিহাসের পাতা ওলটালে দেখা যাবে, প্রায় ৫০০ বছর আগে পঁচেটগড় রাজবাড়িতে শুরু হয় দুর্গাপুজো। যদিও সেই সময়কাল নিয়ে রয়েছে বিতর্ক।

 

 

ওড়িশার কটক জেলার আটঘর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বাড়ির আদিপুরুষ কালুমুরারি মোহন দাস মহাপাত্র। এই দুঃসাহসিক যুবক আকবরের রাজ কর্মচারী ছিলেন। ওড়িশার রাজা মুকুন্দদেব আকবরের সঙ্গে সঙ্গবদ্ধ হয়ে উভয়ের সাধারণ শত্রু গৌড়ের রাজা গৌড়েশ্বর সুলেমন কররানীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হন। সেই যুদ্ধে কালুমুরারির অসামান্য কৃতিত্ব প্রকাশ পায়। কথিত আছে, সেই সময় পটাশপুর পরগনায় এসে বাদশাহ প্রদত্ত নানকর ভূমি লাভ করে জমিদারি সূচনা করেন কালুমুরারি।

 

 

প্রথমে কল্যাণপুরে থাকতেন। পরে পঁচেট গ্রামে খাঁড়ে বিশাল গড় নির্মাণ করেন তিনি। পরবর্তীকালে সেখান থেকে উদ্ধার হয় এক শিবলিঙ্গ। সেই শিবলিঙ্গকে কেন্দ্র করে কালুমুরারি মোহন দাস মহাপাত্র তৈরি করেন পঞ্চেশ্বর মন্দির। এখানে বেনারস থেকে আরও চারটি শিবলিঙ্গ এনে স্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে পঞ্চেশ্বর নামটির প্রচার হতে থাকে। সে সময় রাজবাড়িতে শক্তি সাধনা হত। সেই শক্তি সাধনা করতে গিয়ে শুরু হয় দুর্গাপুজো। রাজাদের রাজত্ব আর নেই নেই।

 

 

রাজত্ব না থাকলেও রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় আজও রয়ে গিয়েছে। সেকালের প্রাচীন নিয়মকানুন মেনেই আজও পুজো হয়। প্রতিবছর ষষ্ঠীতে ঢাক,ঢোল, কাঁসর, ঘন্টা ধ্বনি সহযোগে পঁচেটগড় রাজবাড়ির প্রাচীন পুকুর থেকে দুর্গাপুজোর ঘট স্থাপন করা হয়। মূলত ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত চলে রাজবাড়ির পুজো। তবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে বাড়ির পূজোয়। রাজপরিবার শৈব থেকে বৈষ্ণব হয়েছে।

 

 

ফলে এক অলৌকিক কারণে বন্ধ হয়ে যায় মূর্তিপুজো। জমিদার বাড়িতে শোলা ও পটে আঁকা দুর্গাপুজোর শুরু তখন থেকেই। এখনো অবশ্য শোলা বাদ পড়েছে। নেই শেই পটে আঁকা দুর্গা। আগে বলি দেওয়া হলেও এখন সেই বলি প্রথা বন্ধ। বছরের অন্যান্য দিনগুলো রাজবাড়ির বর্তমান সদস্যরা বাইরে থাকলেও পুজোর কয়েকটা দিন বাড়িতেই ফিরে আসেন। ষষ্ঠী থেকে দশমী এলাকাবাসীর ভিড়ে গমগম করে রাজবাড়ি।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস: এমন অভিনব দিন কেন পালন করা হয় জানেন? কবেই বা শুরু হয়েছিল, এর গুরুত্ব কি, জানুন।

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২০২৩ তারিখ ১৫ অক্টোবর, এটি সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অত্যাবশ্যক অনুশীলন সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশ্বব্যাপী আহ্বান হিসাবে কাজ করে।  এটি রোগ প্রতিরোধে এবং জীবন রক্ষায় এই সহজ অভ্যাসের স্বাচ্ছন্দ্য এবং ব্যয়-কার্যকারিতার উপর জোর দেয়।

 

১৫ অক্টোবর, আমরা গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে পালন করি – সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার তাৎপর্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য নিবেদিত একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।  এই সহজ কিন্তু কার্যকর অনুশীলনটি রোগ প্রতিরোধ এবং জীবন বাঁচানোর একটি সাশ্রয়ী উপায়।
কোভিড-১৯ মহামারীর পরে হাতের স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেছে।  গ্লোবাল হ্যান্ড ওয়াশিং ডে, প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয়, সর্বজনীন হাতের স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসাবে কাজ করে।  এটির লক্ষ্য বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এর ভূমিকার উপর জোর দিয়ে হাত ধোয়াকে একটি দৈনিক আচারে পরিণত করা।

 

১৫ অক্টোবর পালিত গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলনের উপর আলোকপাত করে।  লক্ষ্য রোগ প্রতিরোধ এবং জীবন সংরক্ষণে এর সাশ্রয়ী মূল্যের এবং শক্তিশালী ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।  কোভিড-১৯ মহামারী চলাকালীন হাতের পরিচ্ছন্নতার ব্যাপক স্বীকৃতির পরে, উদ্যোগটি আরও বেশি আকর্ষণ লাভ করেছে।
১৫ অক্টোবর, বিশ্বব্যাপী হাত ধোয়া দিবস হিসাবে বার্ষিক পালিত হয়, বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন হাতের স্বাস্থ্যবিধি অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য একটি নিবেদিত প্রচেষ্টা হিসাবে দাঁড়িয়েছে।  এটি একটি বিশ্বব্যাপী অ্যাডভোকেসি দিবস যা সারা বিশ্বের মানুষের মঙ্গলের জন্য হাত ধোয়াকে একটি দৈনিক অভ্যাস করার গুরুত্বের উপর জোর দেয়।

 

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২০২৩ ওভারভিউ—

 

২০০৮ সাল থেকে, প্রতি ১৫ অক্টোবর গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং দিবসের বার্ষিক উদযাপনকে চিহ্নিত করে, সাবান এবং জল দিয়ে হাত ধোয়ার সহজ, কার্যকর এবং সাশ্রয়ী মূল্যের অভ্যাসকে সমর্থন করার জন্য নিবেদিত৷
গুরুত্বপূর্ণ মুহুর্তে এই অভ্যাসটি অন্তর্ভুক্ত করা, যেমন টয়লেট ব্যবহার করার পরে বা খাওয়ার আগে, ডায়রিয়া এবং নিউমোনিয়ার মতো গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমাতে গভীর প্রভাব ফেলে, অবশেষে জীবন বাঁচায়।  এর বাইরে, ইনফ্লুয়েঞ্জা এবং COVID-19 সহ বিভিন্ন সংক্রমণ এবং ভাইরাসের বিস্তারের বিরুদ্ধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা হিসাবে কাজ করে।

 

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২০২৩, ইতিহাস—-

 

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং পার্টনারশিপ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার পক্ষে ওকালতি করার জন্য নিবেদিত আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতা, গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২০০৮ সালে আত্মপ্রকাশ করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৭টি০ দেশের ১২০ মিলিয়নেরও বেশি শিশু সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসকে আলিঙ্গন করেছে।  তারপর থেকে, গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে বিকশিত হয়েছে, ক্রমাগতভাবে এর নাগাল এবং প্রভাবকে প্রসারিত করছে।
২০০৮ সালে, গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং পার্টনারশিপ (GHP) কিকস্টার্টার গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বিশ্বব্যাপী প্রতিশ্রুতিকে চ্যাম্পিয়ন করতে।  মিশনটি স্পষ্ট: হাত ধোয়ার স্বাস্থ্যের সুবিধাগুলিকে আলোকিত করা এবং বিশ্বব্যাপী জনস্বাস্থ্যের প্রচেষ্টায় হাত ধোয়ার আচরণের পরিবর্তনকে অন্তর্ভুক্ত করার পক্ষে সমর্থন করা।
তার নম্র সূচনা থেকে, গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে একটি বৈশ্বিক প্রপঞ্চে পরিণত হয়েছে, লক্ষাধিক ক্রিয়াকলাপে জড়িত যা ভাল হাতের পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধি করে এবং সংক্রামক রোগের বিস্তারের বিরুদ্ধে লড়াই করে।

 

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২০২৩, থিম—

 

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২-এর০২৩ থিম হল “একসাথে, আসুন সংক্রমণ প্রতিরোধে এবং স্বাস্থ্যসেবায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রতিরোধের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রচেষ্টাকে ত্বরান্বিত করি৷  আসুন হাতের পরিচ্ছন্নতা বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপত্তা ও গুণমানের সংস্কৃতি গড়ে তুলি।”
গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২০২৩ স্লোগান: “একসাথে কাজ ত্বরান্বিত করুন।  জীবন বাঁচান: আপনার হাত পরিষ্কার করুন।

 

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২০২৩ এর গুরুত্ব—

 

ভাইরাসের বিস্তার রোধ করার সবচেয়ে সহজ এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল হাতের সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি, বিশেষ করে সাবান দিয়ে হাত ধোয়া।  এখন এবং ভবিষ্যতে উভয় সম্প্রদায়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য সাবান দিয়ে হাত ধোয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটি কেবল আমাদের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যই রক্ষা করে না, এটি ব্যক্তি, সম্প্রদায় এবং বৃহত্তর বিশ্বের ভবিষ্যত গঠনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  ১৫ অক্টোবর গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং দিবসটি আমাদের সুস্থতার ক্ষেত্রে হাত ধোয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বোঝার জন্য নিবেদিত৷

 

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে ২০২৩, তাৎপর্য—

 

গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং দিবসের সারমর্ম হ’ল হাত ধোয়ার সুবিধাগুলি গ্রহণ করা এবং স্বাস্থ্যকর পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা।  আমাদের হাতগুলি রোগের প্রাথমিক প্রবেশদ্বার হিসাবে কাজ করে তা স্বীকার করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা সমস্ত বয়সের ব্যক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হয়ে ওঠে।
এই অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি, নিয়মিত হাত ধোয়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার এবং উপযুক্ত প্রসাধন সামগ্রী গ্রহণের মতো অভ্যাসগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য একটি অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।  উপরন্তু, দিনটি নাগরিকদের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধির গুরুত্ব তৈরি এবং প্রচারে সরকারী উদ্যোগের স্বীকৃতি দেয়।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

সনাতন ধর্ম অনুসারে তর্পণ এর গুরুত্ব কি জানুন।

মহৎ আলয় থেকেই মহালয় কথাটির উৎপত্তি বলে জানা যায়। ভাদ্রমাসের কৃষ্ণা প্রতিপদ থেকে আশ্বিনের কৃষ্ণ পঞ্চদশী ,অর্থাৎ অমাবস্যা অবধি প্রেত লোক থেকে পিতৃপুরুষের আত্মারা  মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন নিজের ছেড়ে দেওয়া গৃহ পরিজনের মায়ায় ।
সনাতন ধর্মে যেকোনো পারিবারিক শুভ কাজ করতে গেলে তাদের পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার , তর্পণ শুধু পূর্ব পুরুষদের উদ্দেশ্যে নয় , পৃথিবীর  সমগ্র জীবকুলের মঙ্গল সাধনের উদ্দেশ্যে তর্পণ করার রেওয়াজ রয়েছে ।
ভগবান রামচন্দ্র লঙ্কা বিজয়ের পূর্বে তর্পণ করেছিলেন বলে পুরান সুত্রে জানা যায় । সেই অনুযায়ী এই মহালয়া তিথিতে যারা পিতৃ মাতৃহীন তারা তাদের পূর্ব পুরুষদের স্মরণ করে তাদের আত্মার শান্তি কামনা করে অঞ্জলী প্রদান করে সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিন প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হলে তাদের আত্মার যে সমাবেশ ঘটে তাকে মহালয় বলে । এই দিনটিকেই পিতৃ পক্ষের শেষ দিন অর্থাৎ দেবী পক্ষের সূচনা কাল বলে ধরা হয় ।
মহাভারতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে ,প্রসিদ্ধ দাতা কর্নের মৃত্যু হলে তাঁর আত্মা স্বর্গে গমন করে । ঠিক তখনই তাকে স্বর্গে স্বর্ণ ও রৌপ্য খাদ্য হিসাবে প্রদান করা হয় । তার প্রতি এহেন আচরণে তিনি স্তম্ভিত হয়ে দেবরাজ ইন্দ্রের নিকট তার কারণ জানতে চান । উত্তরে দেবরাজ ইন্দ্র তার কাছে ব্যাখ্যা করেন , আপনি সারা জীবনই স্বর্ণ ও রৌপ্য প্রদান করে এসেছেন , পিতৃগণের উদ্দেশ্যে কোনরূপ খাদ্য খাবার প্রেরণ করেননি , সেই কারণেই আপনাকে স্বর্ণ ও রৌপ্য দেওয়া হয়েছে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করার জন্য । এরপর কর্ণ তার ভুল স্বীকারের সাথে সাথে জানান তিনি তার পিতৃ গণের সম্পর্কে অবগত ছিলেন না । নিজের ইচ্ছায় তিনি কিছুই করেন নি , ঠিক তখনই কর্ণকে ষোলো দিনের জন্য মর্ত্যে গিয়ে পিতৃ লোকের উদ্দেশ্যে জল ও অন্ন প্রদান করার অনুমতি দেওয়া হয় । প্রকৃত পক্ষে এই ষোলো দিনকেই পিতৃপক্ষ বলে অভিহিত করা হয় ।
আবার হিন্দু শাস্ত্র মতে সূর্য্য কন্যা রাশি তে প্রবেশ করলে পিতৃপক্ষের সূচনা হয় । সনাতন ধর্মাবলম্বী রা বিশ্বাস করে থাকেন এই সময় পিতৃপুরুষেরা পিতৃ লোক ত্যাগ করে তাদের পরবর্তী প্রজন্মের গৃহে অবস্থান করেন । পরে জলঘন সূর্য্য যখন আবার বৃশ্চিক রাশি তে প্রবেশ করে তখন তারা আবার পিতৃ লোকে পুনর্গমন করেন । পূর্ব পুরুষরা যেহেতু তাদের গৃহে অবস্থান করেন তাই তর্পনের মাধ্যমে সনাতন ধর্মাবলম্বী রা তাদের পূর্ব পুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন । তবে আজকের শুভ দিন উপলক্ষে মৃৎশিল্পীরা দুর্গা প্রতিমার চক্ষুদান করে থাকেন।  শত্রু বিনাশ দিবস হিসেবে ধর্মীয় বিশ্বাসে পালিত হয়ে থাকে এই দিনটি ।

Share This