Categories
প্রবন্ধ

মহালয়া মানেই যে মুখ ভেসে ওঠে সকল বাঙালির মনে, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র, বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি বেতার সম্প্রচারক, নাট্যকার, অভিনেতা ও নাট্য পরিচালক।

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাংলা বেতার সম্প্রচারক, নাট্যকার, অভিনেতা এবং থিয়েটার পরিচালক। তিনি কলকাতার বাসিন্দা ছিলেন। পঙ্কজকুমার মল্লিক এবং কাজী নজরুল ইসলামের সমসাময়িক বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ১৯৩০ সাল থেকে দীর্ঘকাল অল ইন্ডিয়া রেডিওতে রেডিও সম্প্রচারকারী হিসাবে কাজ করেছিলেন।

এ সময় তিনি বেশ কিছু নাটক রচনা ও প্রযোজনাও করেন।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ তার রেডিও সঙ্গীত সংগ্রহ মহিষাসুরমর্দিনীর জন্য সর্বাধিক পরিচিত। ১৯৩১ সাল থেকে আজ অবধি, এই অনুষ্ঠানটি মহালয়ার দিনে কলকাতার আকাশবাণী থেকে ভোর 4 টায় সম্প্রচার করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানের ভাষ্য ও শ্লোক পাঠ করেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ বেশ কিছু নাটকে অভিনয় ও নির্দেশনাও দিয়েছেন। ১৯৫৫ সালে, তিনি ফরবিডেন ফ্রুট নামে একটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন।

প্রথম জীবন ও শিক্ষা—-

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ১৯০৫ সালের ৪ আগস্ট উত্তর কলকাতার মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম ছিল বুশি। পিতা রায় বাহাদুর কালীকৃষ্ণ ভদ্র এবং মাতা সর্বাবালা দেবী। পরে তার পরিবার দাদি যোগমায়া দেবীর কেনা 7, রামধন মিত্র লেনে চলে আসে। কালীকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন বহুভাষী। তিনি ১৪টি ভাষা জানতেন। তিনি নিম্ন আদালতে দোভাষী হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীকালে তিনি বাংলা সাহিত্যের জগতে একজন পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত হন। কালীকৃষ্ণ পুলিশ কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী কালীচরণ ঘোষের দ্বিতীয় সন্তান সরলাবালা দেবীকে বিয়ে করেছিলেন। ১৯২৭ সালে তিনি ‘রায়বাহাদুর’ উপাধি পান। কালীকৃষ্ণের দুই পুত্র ছিল – ভূপেন্দ্রকৃষ্ণ ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ১৯২৬ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯২৮ সালে কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক হন।

কর্মজীবন—-

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ বেশ কিছু ধ্রুপদী গল্পকে বেতার নাটকে রূপান্তরিত করেছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে তিনি অল ইন্ডিয়া রেডিওতে যোগ দেন। সেই থেকে তিনি দুর্গাপূজা উপলক্ষে দেবী দুর্গার পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে দুই ঘণ্টার সঙ্গীত অনুষ্ঠান মহিষাসুরমর্দিনীর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। অনুষ্ঠানটি লিখেছেন বাণীকুমার ভট্টাচার্য এবং সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন পঙ্কজকুমার মল্লিক। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভাষ্য ও শ্লোক পাঠ প্রদান করেন। আজও এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজা শুরু হয়। তিনি সাতটি ছদ্মনামে অসংখ্য রেডিও শো হোস্ট করেছেন। তিনি অনেক উপন্যাস ও নাটক লিখেছেন।
বীরেন্দ্রকৃষ্ণ মেস নং ৪৯ সহ বেশ কিছু নাটক রচনা করেন। তিনি বিমল মিত্রের উপন্যাস সাহেব বিবি গোলাম মঞ্চস্থ করেন। ১৯৫২ সালে তিনি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সুবর্ণ গোলক নাটকে অভিনয় করেন।

উত্তরাধিকার—-

আজও, দূর্গা পূজার শুরুতে মহালয়ার দিনে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠানের একটি রেকর্ডিং কলকাতার আকাশবাণী থেকে প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানটি এতটাই জনপ্রিয় ছিল যে ১৯৭৬ সালে আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ বীরেন্দ্রকৃষ্ণের পরিবর্তে জনপ্রিয় অভিনেতা উত্তম কুমারকে নিয়ে আরেকটি অনুষ্ঠান সম্প্রচার করলে তা জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আকাশবাণী কর্তৃপক্ষকে সেই অনুষ্ঠানের পরিবর্তে মূল মহিষাসুরমর্দিনী অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হবে।
২০১৯ সালে, চলচ্চিত্র নির্মাতা সৌমিক সেন এই ঘটনাটি নিয়ে মহালয়া নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছিলেন। শুভাশীষ মুখোপাধ্যায় এতে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। অন্যদিকে উত্তম কুমারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন যিশু সেনগুপ্ত।
২০০৬ সালের মহালয়া দিবসে, বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কন্যা সুজাতা ভদ্র তার পিতার মহান কৃতিত্বের জন্য রয়্যালটি হিসাবে সারেগামা ইন্ডিয়া লিমিটেড থেকে ৫০৯১৭ টাকার চেক পেয়েছিলেন।

রচনাবলি—-

হিতোপদেশ, ১৯৪৮; বিশ্বরূপ-দর্শন, ১৯৬৩; রানা-বেরানা, ১৯৬৫; ব্রতকথা সমগ্র, ১৯৮৫; শ্রীমদ্ভাগবত: সম্পূর্ণ দ্বাদশ স্কন্দ, উপেন্দ্রচন্দ্র শাস্ত্রীর সঙ্গে, ১৯৯০।

নাটক—

ব্ল্যাকআউট, সাত তুলসী, ১৯৪০।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

রানাঘাটের ঘোষ বাড়ির পুজো আজও তার ঐতিহ্য বহন করে চলেছে।

রানাঘাট শুধু নয় নদিয়ার প্রাচীন পূজোর পূজোর মধ্যে অন্যতম ঘোষ বাড়ির পুজো। অভুক্ত বাংলার তৃতীয় কিংবা চতুর্থ বর্ষ।১৫২০ খিস্টাব্ধ চৌতন্য চরণ ঘোষ তিনি হুগলি জেলা আকনা থেকে এই খানে আসেন ব্রম্ভডাঙ্গা যা পরে রানাঘাট নাম হয় আমদের মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। এবং দুর্গা পূজো সূচনা করেন।চৌতন্য চরণ ঘোষ নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি মারা যাবার পর তার ছোট ভাই মকারন্ধ ঘোষের বংশধররা দুর্গা পুজো করে আসছেন। বর্তমানে ২৯তম বংশ পরম্পরায় এই পূজো হচ্ছে। এই বংশের ২৯তম পুরুষ রঙ্গীত ঘোষ বলেন দুর্গা পুজো প্রথম  শুরুর  যে মাটি দিয়ে পাটা তৈরি হয়েছিল সেই মাটি দিয়ে আজও পাটা তৈরি হয়ে আসছে। ওই মাটি তুলে রাখা হয় কিছু মাটি ।

 

 

সেই মাটি দিয়ে নতুন মাটি দিয়ে পাটা তৈরি হয় বছরের পর বছর। এই ভাবে হয়ে আসছে দেবী মূর্তি।৫০৪ বছর ধরে হয়ে আসছে এই পূজো। একটা সময় ৫১টি পাঠা ও মোষ বলি হতো ১৯৩৪সালে পাঠা বলি বন্ধ হয়ে যায় স্বপ্নাদেশে। এবং ঘোষ বংশের রামগোপাল ঘোষ মারা যান। ক্ষয় ক্ষতি হয় তার পর থেকে আর বলি হয়নি বন্ধ হয়ে যায়। পঞ্চমীতে বোধন শুরু হয় ষষ্ঠী তে নয়। তারপর অধিবাসের সময় রক্ষা প্রদীপ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। প্রদীপ জ্বালান এই বংশের পুরুষ সেই প্রদীপ নেবে না। বিসর্জন হয়ে গেলে পাঠ ভেঙে সেইরক্ষা প্রদীপের থেকে প্রদীপ জ্বালিয়ে বাড়ির বিভিন্ন ঘরে নিয়ে যাওয়া হয় । সেই প্রদীপের আলোতে ১০৮বার দুর্গা নাম লেখা হয় কলাপাতার ওপর লেখা হয় তারপর চূর্ণী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয় নয় তো তুলসী তলায় দেওয়া হয়।

 

 

এরপর মুড়ি মুড়কি, পকান্ন দেওয়া হয়। নবমীর দিন থোর ও মোচার ভোগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি কাদা খেলা হয়। রান্না করা ভোগ অষ্টমী দিন দেওয়া হয়। আর অন্য দিন গুলি কাচা ভোগ দেওয়া হয়। মশলা, চাল, দেওয়া হয়। দশমীর দিন শুক্ত মাছ ভাত খাইয়ে বরণ করা হয়। ওই দিন টাটকা ফুলে পূজো হয়না বাশি ফুলে পূজো হয়। এই প্রাচীন পূজো দেখতে তাই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ দেখতে আসেন পাশাপাশি এইখানে পূজো ও অঞ্জুলি দেন অনেকে। রানাঘাটের ঘোষ বাড়ির পুজো আজও তার ঐতিজ্য বহন করে চলেছে।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

অজ বিশ্ব মান দিবস, জানব দিনটির ইতিহাস, থিম ও তাৎপর্য।

বিশ্ব মান দিবস হল প্রতি বছর ১৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিকভাবে পালিত একটি দিবস।  এই দিবসটি পণ্য ও পরিষেবার মান উন্নয়নে বিশ্বব্যাপী কাজ করে এমন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অবদানকে সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যে।  এই দিবসটি মূলত কর্তৃপক্ষ, উদ্যোক্তা এবং ভোক্তাদের পণ্য ও সেবার মান উন্নয়ন ও বজায় রাখার বিষয়ে সচেতন করার উদ্দেশ্যে পালন করা হয়।

 

বিশ্ব মান দিবসের ইতিহাস—

 

প্রথম বিশ্ব মান দিবস পালিত হয়েছিল ১৯৪৬ সালে লন্ডনে, যে বছর আন্তর্জাতিক মানক সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  প্রতি বছর ১৪ অক্টোবর, I.E.C., I.S.O., I.T.U. এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানককরণ সংস্থার সদস্যদের সহ সারা বিশ্বের লোকেরা, বিশেষজ্ঞ, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিশ্বব্যাপী প্রমিতকরণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী সকলের সহযোগিতামূলক প্রচেষ্টা উদযাপন করে।  এই উদযাপন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য লিখিত মানগুলির তাৎপর্য তুলে ধরতে কাজ করে’,

 

১৪ অক্টোবর, ১৯৪৬-এ, লন্ডনে, বিশ্বের ২৫টি দেশের প্রতিনিধিরা পণ্য ও পরিষেবার বৈশ্বিক মান বজায় রাখার জন্য একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মান-সেটিং সংস্থার সাথে সম্মত হন, যা পরের বছর তার কার্যক্রম শুরু করে।  দিবসটিকে স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্বব্যাপী এই দিনটি পালিত হয়।  আইএসও ১৯৭০ সাল থেকে এই দিবসটি পালন করে আসছে। প্রতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয় বর্তমান বিষয়গুলোকে ঘিরে।

 

বিশ্ব মান দিবস ২০২৩ থিম—

 

 

 

বিশ্ব মান দিবস ২০২৩ এর থিম হল, “একটি উন্নত বিশ্বের জন্য ভাগ করা দৃষ্টিভঙ্গি”।

 

বিশ্ব মান দিবস ২০২৩ তাৎপর্য—

 

প্রমিতকরণের মূল্য সম্পর্কে গভীরভাবে বোঝার এবং এটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করার সুযোগটি ২০২৩ সালের বিশ্ব মান দিবস দ্বারা প্রদান করা হয়েছে। এটি আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (ITU), ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন (ISO) এবং ইন্টারন্যাশনাল ইলেক্ট্রোটেকনিক্যালের যৌথ প্রকল্প।  কমিশন (আইইসি), যা বিশ্ব সম্প্রদায়কে শক্তিশালী করার জন্য প্রতি বছর প্রচারের উপাদান তৈরি করে।  আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি দিক মান দ্বারা প্রভাবিত হয়।  তারা নিশ্চিত করে যে পণ্য এবং পরিষেবাগুলি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করে, জীবনের মান উন্নত করে এবং এটিকে নিরাপদ করে।  আরও ন্যায়সঙ্গত এবং টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার জন্য ২০৩০ এজেন্ডা অবশ্যই সম্পন্ন করতে হবে।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

নদিয়ার দুটি প্রাচীন দূর্গা পুজোর ইতিহাস ও তার সম্পর্কে কিছু কথা।

রানাঘাটের পালবাড়ির পুজো ২৬৫বছরে পদার্পণ করলো।

 

২৬৫বছরের পাল বাড়ির পুজো। নদিয়ার প্রাচীন পুজো রানাঘাটের পালবাড়ির বনেধি পুজো ২৬৫বছরে পদার্পণ করলো। প্রাচীন জমিদার বাড়ির এতিহ্য বাড়িটি আজও রয়েছে তবে রক্ষণা বেখ্যনে কিছুটা ভাটা পড়লেও জমিদার বাড়ির এতিহ্য আজও রয়েছে পরিবার ভাগ হয়েছে কিন্তূ দূর্গাপূজা আজও তার  এতিহ্য ধরে রেখেছে।

 

 

265 বছরের পুজো সাগরেস্বর পাল এই পুজো শুরু করেছিলেন। তাদের বংশধর এই পুজো করে আসছেন। এই বাড়িতে চারটে শরিক প্রথ্যেক বছর হয়এই পুজো করেন ।বৈশিষ্ট্য এখানে মাকে লুচি ভোগ ও কাচা ভোগ দেওয়া হয়। নবমীর দিন কাদা খেলা অষ্টমীর দিন ধুনো পড়ানো হয়। এই পুজোর জনপ্রিয়তা। তবে পুজোর বিশিষ্ট দিন গুলি আনন্দ উচ্ছল থাকে।

 

 

তবে এই পুজোর একটি আশ্চর্য ঘটনা ঘটনা ঘটে থাকে পুজোর দশমীর দিন কেউ না কেউ প্রসাদ চাইতে আসে বাড়ি থেকে প্রসাদ দিতে গেলে তাকে আর দেখা যায় না। এই পুজো ঘিরে পরিবারের সদস্য ছাড়াও বাইরে থেকে এই পুজোতে আসে একসঙ্গে সবাই মিলে দিন গুলো আনন্দে কাটে।

 

 

 রানাঘাট হিজুলির গাঙ্গুলি বাড়ির পুজো 

 

রানাঘাটের প্রাচীন পুজোর মধ্যে অন্যতম রানাঘাট হিজুলির গাঙ্গুলি বাড়ির পুজো ১৮৭ বছরে।১৮৩৭ সালে পুজো শুরু হয়। এই পুজো শুরু করেন স্বর্গীয় গণেশ গাঙ্গুলি লক্ষ্মীনারায়ণ গাঙ্গুলি তার আগে এই পুজো হয়েছিল কিন্তু সেটা জানা যায় নি। এখানে মা দুর্গা এক চালা ঢাকের সাজ।

 

 

মৃৎ শিল্পী তিন পুরুষ ধরে প্রতিমা তৈরি করে আসছেন। জন্মাষ্টমীর পরের দিন নন্দ উৎসবের দিন ঠাকুরের কাঠামো পুজো হয়। তবে রীতি হচ্ছে মেয়েদের নামে প্রথম সংকল্প করা হয়। সেই রীতি মেনে এখনও পরম্পরায় ঘরের মহিলাদের নামে সংকল্প হয়।চার দিনই বলি হয়। বর্তমানে ফল বলি হয়। জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় ছাগ বলি হতো।

 

 

সেই ছাগ বলি বন্ধ হয়ে যায়। তারপর স্বপ্নাদেশ দুর্গা পুজো সূচনা। দেড় মণ ভোগ হয় চার দিন কলাই ডালের খিচুড়ি করা হয়। পুরোপুরি গঙ্গা জল দিয়ে সমস্ত কাজ করা। আর চার দিন ১২জন স্থানীয় ব্রাম্বন দের নেমেন্তন্ন করে খাওয়ানো হয়। সেই রীতি আজও চলে আসছে।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ

“সত্ত্ব, তমঃ ও রজঃ” তিনটি শব্দ নিয়ে আলোচনা : দিলীপ  রায়।

প্রথমে প্রত্যেক শব্দের অর্থ জানা যাকঃ
সত্ত্বঃ- সত্ত্ব শব্দের অর্থ হলো ধর্মীয় জ্ঞানের প্রকাশ এবং সাত্ত্বিক শব্দের মানে হলো ধর্মজ্ঞানী । সত্ত্ব শব্দটির মূল  কথা হলো সৎ এবং সৎ শব্দের অর্থ হলো সাধু । অর্থাৎ সত্ত্ব বা সাত্ত্বিক বলতে সর্বদা মহৎ বা উন্নত জ্ঞানসম্পন্ন  ভালো কিছুকে বোঝায় । যখন কোনো ব্যক্তি প্রতিটি পরস্থিতিতে ধর্ম, সত্য ও ন্যায়ের বিচার করে তাঁর  আচরণ করে থাকেন,  তখন তাকে সাত্ত্বিক বলা হয়।
তমঃ-  তমঃ শব্দের অর্থ হলো অন্ধকার এবং তমঃ থেকেই তামসিক শব্দের উৎপত্তি ।  “ভালো মন্দের বিচার ব্যতীত জীবন নির্বাহ করা  অথবা কারো সকল আদেশকে বিনা দ্বিধায় পালন করা” এটা  তামসিক আচরণ বলেই গণ্য । অন্যভাবে, কেবল শারীরিক চাহিদা অর্থাৎ ক্ষুধা ও যৌনতার চাহিদাকে পূর্ণ করার জন্য যখন কেউ জীবন কাটায়, তখন সেটা তামসিক আচরণের মধ্যে পড়ে । ইতর প্রাণীরা সাধারণত স্বভাববশতই এই ধরণের জীবন কাটায় বা কাটাতে বাধ্য হয় ।
রজঃ-  রজঃ শব্দের অর্থ  হলো  অহঙ্কার  ।  রজঃগুনী ব্যক্তির মধ্যে ধর্ম বা সত্যের জ্ঞান থাকে, কিন্তু শরীর ও মন বাসনার দ্বারা আবদ্ধ থাকে এবং অহঙ্কার পূর্ণ মন নিয়ে বেঁচে থাকে ।
সংক্ষেপে বলতে গেলে— সত্ত্ব মানে ধর্ম জ্ঞান, মঙ্গল, ভারসাম্য,  রজঃ মানে অহঙ্কার, আবেগ, উত্তেজনা  এবং তমঃ  মানে অন্ধকার, নিস্তেজতা, জড়তা, উদাসীনতা  ।
উপসংহারে বলা যায় – সত্ত্বগুণের স্বরূপ হচ্ছে নির্মল । নির্মল সত্ত্বগুণ দ্বারা পরমাত্মার জ্ঞান লাভ সম্ভব । সত্ত্বগুণের উৎকৃষ্ট উপাদান হচ্ছে জ্ঞান । জ্ঞান বোধশক্তির  বোধক । জ্ঞানই প্রকৃত প্রকাশক । এই  সত্বগুণ রজঃ ও তমঃগুণের বৃত্তিকে অবদমিত করে অন্তঃকরণে স্বচ্ছতা ও নির্মলতা উৎপন্ন করে । অন্যদিকে রজঃগুণ, চঞ্চল স্বরূপ । রজঃ নিজেও যেমন চঞ্চল, তেমনি অপরের মধ্যেও  চঞ্চলতার উৎপাদক ।  রজঃগুণ বাড়লে লোভ, শান্তির অভাব ও আসক্তি এই সমস্ত বৃত্তিগুলির উদ্ভব ঘটে । আর তমঃগুণ হচ্ছে এককথায় সত্ত্বগুণের বিপরীত ! তমঃগুণ ও অজ্ঞানতা পরস্পর ওতোপ্রতভাবে জড়িয়ে থাকে । তমঃগুণ অজ্ঞানতা থেকেই উৎপন্ন হয় আবার অন্যদিকে   অজ্ঞানতা থেকে তমঃগুণ বাড়ে ।
লোভের বশবর্তী হয়ে মানুষ যা কিছু কর্ম করে সেটা দুঃখদায়ক হয় । বেশীমাত্রায় আকাঙ্খার নাম লোভ । মানুষ কর্তব্য কর্ম থেকে বিচ্যুত হলে মনে অশান্তি ও চাঞ্চল্য বাড়ে । পাপ বাড়ে । সুতরাং  কপকটতা করে অর্থোপার্জন,  পাপের নামান্তর ।
ঠাকুর রামকৃষ্ণের ভাষায়ঃ  সত্ত্ব, রজঃ আর তমঃ  – মানুষের এই তিন গুণ । সব মানুষের ভিতর এর লক্ষণ ফুটে ওঠে । সেটা যেমন সংসারীর ক্ষেত্রে সত্যি, তেমনি ভক্তের ক্ষেত্রেও । কিন্তু কেমন করে বোঝা যায়, কে কোন গুণের অধিকারী।
সত্ত্ব, রজঃ  আর  তমঃ গুণের কথা  আমরা সবাই জানি ।  কিন্তু বুঝব কী করে আমরা কে কোন জায়গায় আছি ? আবার সংসারী মানুষ  মনে করে, ভক্ত বোধহয় এসবের ঊর্ধ্বে  ।  সত্যিই কি তাই । এই সব সংশয় নিরসনের জন্য আমাদের গুরুদেবের  শরণ নিতে হয়। ঠাকুর রামকৃষ্ণ  ভক্তমনের এই সন্দেহ নিরসন মিটিয়ে দেন একেবারে সহজ কথায় । তিনি বলেন, “সংসারীর সত্ত্বগুণ কী রকম জানো ? বাড়িটি এখানে ভাঙা, ওখানে ভাঙা — মেরামত করে না  । ঠাকুরদালানে পায়রাগুলো হাগছে, উঠানে শেওলা পড়েছে  হুঁশ নাই। আসবাবগুলো পুরানো, ফিটফাট করবার চেষ্টা নাই । কাপড় যা তাই একখানা হলেই হলো । লোকটি খুব শান্ত, শিষ্ট, দয়ালু, অমায়িক; কাউকে কোনও অনিষ্ট করে না । “সংসারীর রজঃগুণের লক্ষণ বলতে —  ঘড়ি, ঘড়ির চেন, হাতে দুই-তিনটি  আঙটি । বাড়ির আসবাব খুব ফিটফাট । দেওয়ালে কুইনের ছবি, রাজপুত্রের ছবি, কোন বড় মানুষের ছবি । বাড়িটি চুনকাম করা, যেন কোনখানে একটু দাগ নাই । নানারকমের ভাল পোষাক ।“  সংসারীর তমঃগুণের  লক্ষণ হচ্ছে  — “নিদ্রা, কাম, ক্রোধ, অহংকার এই সব ।“  (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত)

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে পর্বতপ্রেমিক, অক্লান্ত পরিব্রাজক ও অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভ্রমণ কাহিনিকার, উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়।

উমাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, একজন বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি লেখক যার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভ্রমণকাহিনী, যা বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ধারা।  তিনি তাঁর ভ্রমণকাহিনী মণি মহেশ এর জন্য ১৯৭১ সালে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন—

 

উমাপ্রসাদ ১৯০২ সালের ১২ই অক্টোবর  বিজয়াদশমী দিনে জন্মগ্রহণ করেন;  কলকাতার ভবানীপুর এলাকার রাসা রোডের বিখ্যাত মুখোপাধ্যায় পরিবারে।  তাঁর পিতা ছিলেন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ বেঙ্গল টাইগার আশুতোষ মুখোপাধ্যায় এবং মাতা ছিলেন যোগমায়া দেবী।  আশুতোষ ও যোগমায়ার সাত সন্তানের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়।  বিজয়াদশমীতে জন্ম নেওয়ায় তাঁর ডাক নাম ছিল বিজু।  মা যোগমায়া দেবী ছিলেন একজন অত্যন্ত সুন্দরী এবং করুণাময় প্রগতিশীল মহিলা, যার প্রভাব তার সমস্ত সন্তানের উপর পড়বে নিশ্চিত।  শৈশবে উমাপ্রসাদকে খুব সুন্দর দেখালেও তার শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো ছিল না;  মাত্র ৫ বছর বয়সে তিনি টাইফয়েডে আক্রান্ত হন।  শৈশব থেকেই, লেখক ছিলেন একজন উজ্জ্বল, অন্তর্মুখী, প্রাণী প্রেমিক এবং সহানুভূতিশীল ব্যক্তি।  তাঁর শৈশবের একটি বিবরণ পাওয়া যাবে তাঁর “আমার শৈশব” প্রবন্ধে।  হাটখড়ির পর বাড়ির বিশাল গ্রন্থাগারে উমাপ্রসাদের প্রথম পাঠ শুরু হয়।  তাঁর প্রথম শিক্ষক ছিলেন প্রিয়নাথ বসু এবং মহেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়।

শিক্ষা—-

সাত বছর বয়সে ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয়।  ১৯১৯ সালে, উমাপ্রসাদ প্রথম বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।  এরপর ১৯২১ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে আইএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন।  এই পরীক্ষায় বাংলা রচনায় শ্রেষ্ঠত্বের জন্য বঙ্কিমচন্দ্র রৌপ্য পদক ও দ্বিজেন্দ্রলাল রায় বৃত্তি ও পুরস্কার, ভাষা ও গণিতে ভালো নম্বরের জন্য ডাফ স্কলারশিপ, ইংরেজি ও গণিতে সারদাপ্রসাদ পুরস্কার এবং পরীক্ষায় প্রথম হওয়ার জন্য স্টিফেন বিন পদক।  এরপর ওই কলেজ থেকে ১৯২৩ সালে ইংরেজিতে অনার্সসহ বিএ পাস করে প্রথম বিভাগে প্রথম স্থান অধিকার করেন।  তারপর ১৯২৫ সালে, তিনি “প্রাচীন ভারতীয় ইতিহাস ও সংস্কৃতি” বিষয়ে প্রথম শ্রেণীতে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাস করেন।  এরপর তিনি আইন অধ্যয়ন শুরু করেন এবং ১৯২৮ সালে বিএল পরীক্ষায় প্রথম বিভাগে সপ্তম স্থান অধিকার করেন।

 

পেশা–

প্রথম জীবনে সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেন।  পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ বিশ বছর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আইন কলেজে অধ্যাপনা করেন।  অত্যন্ত স্ব-গম্ভীর কিন্তু হাস্যরসে পরিপূর্ণ, লেখক আজীবন একজন বিবেকবান এবং অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন।  তার বিখ্যাত ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী প্রতাপ চন্দ্র চন্দ্র এবং সাংবাদিক অরুণ বাগচি।  শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি আইনজীবী হিসেবেও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন।  আলিপুর কোর্ট, বিড়লা কোম্পানির আইন উপদেষ্টা, বেঙ্গল লাইব্রেরির ফিনান্স বিভাগের কাউন্সিল মেম্বার, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার চেয়ারম্যান, লিকুইডেটর এবং ট্যাবুলেটর।  কর্মক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র, আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র এবং দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের সংস্পর্শে আসেন।

পরিব্রাজক—

 

 

 

উমাপ্রসাদ ছিলেন একজন অক্লান্ত পরিব্রাজক।  তার যৌবনের শুরুতে, তিনি ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে মাতৃদেবীর সাথে তার প্রথম হিমালয় দর্শনে যান।  অতঃপর এই অকৃতজ্ঞ পথিক দীর্ঘক্ষণ হিমালয়ের পথে হেঁটেছেন – গায়ের ফতুয়া আর লুঙ্গি পরে, কাঁধে ঝোলা।  পরে, গহন জঙ্গলে, রুক্ষ মরুভূমিতে ঘুরে বেড়াতেন এবং নৌকায় যাত্রী হয়ে সমুদ্রে ভ্রমণ করতেন।  চিত্রকলা ও সিনেমাটোগ্রাফিতে তার গভীর জ্ঞান ছিল।  অসংখ্য স্থিরচিত্র ছাড়াও তিনি ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে কৈলাস-মানস সরোবর যাত্রার একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন।  ১৯২৮ থেকে ১৯৭০ সালের মধ্যে তোলা তাঁর ছবির অ্যালবাম ‘আলোকচিত্রে হিমালয়’ সেই সময়ের হিমালয়ের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের একটি অমূল্য দলিল।  শুধু হিমালয় নয়, সৌরাষ্ট্রের গিরনার বা এলাহাবাদের কুম্ভ মেলার মতো বিষয়গুলিও তাঁর ছবির প্রদর্শনীতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

সাহিত্যকর্ম—-

 

উমাপ্রসাদ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি বিশেষ অনুরাগী ছিলেন। পরিব্রাজক হিসাবে উমাপ্রসাদের নিজের দেখা নিজের বিষয়কে নিয়ে সহজ ভাষায় যে সমস্ত বই লিখেছেন সেগুলি বিশিষ্ট সাহিত্য হয়ে উঠেছে। হিমালয় ও ভারতের গিরিপথ ও গিরিশৃঙ্গ বিষয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা বেশি।

তার অন্যান্য আরো গ্রন্থ গুলি হল-

 

 

 

‘শেরপাদের দেশে’, ‘কুয়ারী গিরিপথে’, ‘পালামৌর জঙ্গলে’, ‘ভ্রমণ অমনিবাস’ (৫ খণ্ড), ‘শরৎচন্দ্র প্রসঙ্গ’, ‘শ্যামাপ্রসাদের ডায়েরি ও মৃত্যু প্রসঙ্গ’, ‘স্যার আশুতোষের দিনলিপি’ (অনুবাদ), ‘জলযাত্রা’ , ‘কাবেরী কাহিনী’, ‘বৈষ্ণোদেবী ও অন্যান্য কাহিনী’, ‘আরবসাগরের তীরে’, ‘দুই দিগন্ত’,

‘তপোভূমি মায়াবতী’, ‘কৈলাস ও মানস সরোবর’, ‘মণিমহেশ’,  ‘দুধওয়া’, ‘পঞ্চকেদার’ ‘ক্যালাইডেস্কোপ’।

পুরস্কার—

 

তিনি তার সাহিত্যকর্মের জন্য অনেক সম্মান ও পুরস্কার পেয়েছেন।  ১৯৭১ সালে, তিনি তার ভ্রমণ গ্রন্থ “মণিমেশ” এর জন্য ভারত সরকারের সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
গল্প প্রবন্ধ রিভিউ

২৫০ বছরের প্রাচীন মহিষাদল রাজবাড়ির পুজোয় আজও মানুষের ঢল নামে।

বর্তমান সময়ে থিমের রমরমা। মন্ডপ থেকে প্রতিমা সবেতেই থিমের ছোঁয়া। দর্শনার্থীদের ভীড় জমলেও কমেনি প্রাচীন রাজবাড়ির পুজোয় ভীড়। আগেকার সেই জৌলুস, আড়ম্বর আজ অনেক টাই কমে গিয়েছে। কিন্তু নিয়ম মেনেই প্রতিপদে ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। প্রায় ২৫০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এই দুর্গাপুজো দেখতে আজও ভিড় জমান দূর দূরান্তের পাশাপাশি  স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিমা দর্শন করতে আসেন ভিন জেলা, রাজ্যের দর্শনার্থীরাও।
রানি জানকীর আমলে আনুমানিক ১৭৭৬ সালে মহিষাদল রাজ বাড়ির দুর্গাপুজো শুরু হয়। সেই সময় থেকেই রাজ বাড়ির ঠাকুর দালানে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। রাজত্ব চলে যাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর জৌলুস কমেছে। কিন্তু, নিয়ম-আচারে ছেদ পড়েনি। তাই প্রথা অনুযায়ী মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদের দিন ঘট স্থাপন করে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। ‘মহালয়ার পরের দিন রাজবাড়ির দুর্গা মণ্ডপ লাগোয়া অশ্বত্থ গাছের তলায় নটি ঘট ওঠে। ষষ্ঠী থেকে প্রতি দিনই ঘটপুজো হবে। সপ্তমী থেকে মূর্তি পুজো হয়। প্রতিমার এক পাশে ঘট, অন্য পাশে ধান রাখা হয়। এই দুর্গাপুজো করার পরই শুষ্ক গ্রামে ধান ফলে ছিল। তাই ভালো ফসলের আশায় আজও দেবীর পাশে ধান রাখা হয়। এই ধনের বীজের অঙ্কুর থেকেই পূর্বাভাস পাওয়া যায় এলাকায় ফসল কেমন হবে। পুজোয় ১০৮টি নীলপদ্ম দেওয়ার চলও রয়েছে, যা আসত উত্তর প্রদেশ থেকে। কিন্তু এখন তা আর হয় না, সাদা পদ্মে মায়ের পুজো হয়। আগে মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় যাত্রাপালা, ভোগ বিতরণ, কামান দেগে সন্ধিপুজো, বিসর্জনের শোভাযাত্রা সবই হত। পুজোর দিন গুলিতে ঠাকুর দালানেই যাত্রা হত। রাজবাড়ির মহিলারা পর্দার আড়াল থেকে যাত্রা দেখতেন। পুজোর দিন অনুযায়ী ভোগ রান্না হত। যেমন, ষষ্ঠীতে ছয় মন, সপ্তমীতে সাত মন, অষ্টমীতে আট মন, নবমীতে নয় মন চালের প্রসাদ তৈরি করে বিতরণ করা হত। এখন তা আর সম্ভব হয় না। অষ্টমীর সন্ধ্যায় কামান দেগে রাজবাড়ি সহ আশপাশের এলাকার পুজোমণ্ডপে সন্ধি পুজো শুরু হত। দশমীতে বড় নৌকায় করে শোভাযাত্রা বেরতো এবং রাজবাড়ির সামনে দিয়ে বয়ে যাওয়া হিজলি টাইডাল ক্যানাল হয়ে গেঁওখালিতে রূপনারায়ণ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হত। এখন সে সবই অতীত। রাজত্ব ঘোচার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রাপালা বন্ধ হয়েছে। পুজোর দিন গুলিতে অবশ্য এখনও ভোগ রান্না করা হয়। কিন্তু তা যৎসামান্য। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কবি গান হলেও এখন আর হয় না চাত্রাপালা। কামানের পরিবর্তে আতশবাজি এদিকে সরকার কামান দাগায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় সেটাও ইতিহাসের খাতায় চলে গিয়েছে। এখন কামান দাগার পরিবর্তে আতস বাজির রোশনাইয়ের মধ্যে দিয়ে সন্ধিপুজো করা হয়। বিসর্জনের শোভা যাত্রাও অতীত। রাজবাড়ি লাগোয়া রাজদিঘিতেই প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে আড়ম্বর কমলেও ঐতিহ্যের টানে আজও বহু মানুষ মহিষাদল রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় সামিল হন। দর্শনার্থীদের যাতে কোনও রকম অসুবিধে না হয়, তার জন্য বর্তমান রাজ পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নজরে রেখেছেন। পুজোয় আগত দর্শনার্থী বা পর্যটকদের পরিষেবা দিতে রাত্রীযাপনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে মূল্য দিয়ে থাকতে হবে। মহিষাদল রাজবাড়ির বর্তমান প্রজন্ম হিসাবে রাজবাড়ি দেখা শোনা করে থাকেন শংকরপ্রসাদ গর্গ ও হরপ্রসাদ গর্গ। রাজবাড়ির পুজো দেখতে এবং রাজ বাড়ির অপরূপ পরিবেশের অনুভূতি নিতে হলে আস্তে হবে মহিষাদলে। প্রাচীন মহিষাদলের ঠাকুর দালান ভগ্নদশায় পরিনত হয়। পুজোর সময় ভীষণ সমস্যা হত। দর্শনার্থীদের কথা ভেবে স্থানীয় বিধায়ক তিলককুমার চক্রবর্তীর উদ্যোগে সেই ঠাকুরদালান নতুন করে নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্যের পাশাপাশি ভিন রজ্যের বহু মানুষ এখানে রাজবাড়ি ও রাজবাড়ির পুজো দেখতে আসেন তাদের কথা ভেবে রাজ পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন রাজবাড়িকে সাজি তোলার কাজ চলছে।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।

আর্থ্রাইটিস একটি বেদনাদায়ক রোগ যা মানবদেহের এক বা একাধিক জয়েন্টকে প্রভাবিত করে।  আর্থ্রাইটিস জয়েন্টে ব্যথা এবং শক্ত হয়ে যায়, যা ব্যক্তির প্রতিদিনের ক্রিয়াকলাপকে আরও বাধা দেয়।  যদি সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করা হয়, আর্থ্রাইটিস একজনের নড়াচড়ার পরিধি কমিয়ে দিতে পারে এবং সোজা হয়ে বসতেও অসুবিধা হতে পারে।  আর্থ্রাইটিসের লক্ষণগুলি সাধারণত বয়সের সাথে আরও খারাপ হয়।

 

আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে কয়েকটি হল জয়েন্টে ব্যথা, জয়েন্টের চারপাশে লালভাব, ফোলাভাব এবং কোমলতা এবং জয়েন্টগুলোতে শক্ত হওয়া, বিশেষ করে সকালে।  আর্থ্রাইটিসের প্রাথমিক লক্ষণগুলি লক্ষ্য করা এবং চিকিত্সা করা প্রাথমিক পর্যায়ে বেদনাদায়ক রোগের সাথে মোকাবিলা করতে সহায়তা করবে।

 

প্রতি বছর ১২ অক্টোবর বিশ্ব বাত দিবস (WAD) পালন করা হয়।  দিনটি আর্থ্রাইটিস, বাতজনিত অবস্থা এবং অন্যান্য পেশীবহুল রোগ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নিবেদিত।  বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হল আর্থ্রাইটিস নামে পরিচিত একটি দুর্বল স্বাস্থ্য অবস্থার লক্ষণ, উপসর্গ, কারণ, প্রাথমিক রোগ নির্ণয়, প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা সম্পর্কে মানুষকে শিক্ষিত করা।
আর্থ্রাইটিস হল বিভিন্ন ধরনের যৌথ-সম্পর্কিত অবস্থার জন্য একটি সমন্বিত শব্দ।  এই অবস্থায় ভুগছেন এমন লোকেরা প্রায়শই ব্যথা, প্রদাহ, শক্ত হওয়া এবং জয়েন্টগুলিতে গতিশীলতা হ্রাসের মতো উপসর্গে ভোগেন।  রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থারাইটিস, জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিস, গাউট, সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস, সেপটিক আর্থ্রাইটিস এবং আরও অনেক কিছু সহ বিভিন্ন ধরনের বাত রয়েছে।  প্রতিটি ধরনের আর্থ্রাইটিস লক্ষণ, উপসর্গ এবং কারণের পরিপ্রেক্ষিতে পরিবর্তিত হয়।

ওয়ার্ল্ড আর্থ্রাইটিস ডে ২০২৩ থিম—

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস ২০২৩-এর থিম হল “জীবনের সকল পর্যায়ে একটি RMD সহ জীবন যাপন।”

 

ওয়ার্ল্ড আর্থ্রাইটিস ডে মানুষের জন্য রিউম্যাটিক এবং মাস্কুলোস্কেলিটাল ডিজিজ (RMDs) এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে।  এটি আরএমডির ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও চিকিৎসা শিক্ষাকেও প্রচার ও উৎসাহিত করে।

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবসের ইতিহাস এবং তাৎপর্য—

 

আর্থ্রাইটিস অ্যান্ড রিউম্যাটিজম ইন্টারন্যাশনাল (এআরআই) বিশ্ব বাত দিবস (ডব্লিউএডি) প্রতিষ্ঠা করেছে।  ১৯৯৬ সালের ১২ অক্টোবর প্রথম বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস পালিত হয়।
প্রতি বছর বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উপলক্ষে, আর্থ্রাইটিস ফাউন্ডেশনের মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বাত এবং পেশীর রোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করতে এবং এই বিধ্বংসী স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ব্যবস্থাপনায় বাধা দূর করতে সহযোগিতা করে।

আর্থ্রাইটিসের মতো স্বাস্থ্যের অবস্থা যতটা মনোযোগ দেওয়া উচিত ততটা পায় না।  ফলে মানুষ সঠিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা পায় না।

 

 

বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস উদযাপনের মূল তাৎপর্য হল আর্থ্রাইটিস সম্পর্কে বোঝার প্রচার করা, মিথ এবং ভ্রান্ত ধারণাগুলি দূর করা এবং অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য প্রদান করা।

 

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস, জানুন দিনটি পালনের গুরুত্ব।

সূচনা :

 

“বিশ্বব্যাপী মেয়েরা তাদের শিক্ষা, তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা এবং সহিংসতামুক্ত জীবনযাপনের জন্য তাদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষার ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়।”  প্রতিবন্ধী মেয়েরা সহায়তা এবং পরিষেবা অ্যাক্সেসে অতিরিক্ত বাধার সম্মুখীন হয়,’ জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বলে। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়।  ১১ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে, জাতিসংঘ প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উদযাপন করে।  এ বছর আন্তর্জাতিক মেয়ে দিবসের এগার তম বার্ষিকী পালিত হচ্ছে।

 

এই দিবস পালনের ইতিহাস:

১৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১১ অক্টোবরকে আন্তর্জাতিক মেয়ে শিশু দিবস হিসাবে ঘোষণা করে।  বিশ্বজুড়ে মেয়েদের অধিকার এবং মেয়েরা যে অনন্য চ্যালেঞ্জগুলির মুখোমুখি হয় তা স্বীকৃতি দেওয়া।

বেসরকারী সংস্থা প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা স্পনসর করা একটি প্রকল্প হিসাবে জন্ম হয়েছিল মেয়ে শিশুর আন্তর্জাতিক দিবস।  প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের “কারণ আমি একটি মেয়ে” নামক আন্দোলনের ফলে এই দিবসের ধারণাটি উদ্ভূত হয়েছিল।  এই আন্দোলনের মূল এজেন্ডা হল বিশ্বজুড়ে কন্যা শিশুর পুষ্টি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা।  এই সংগঠনের কানাডিয়ান কর্মীরা সকলেই এই আন্দোলনকে বিশ্ব মঞ্চে প্রতিষ্ঠা করতে কানাডা সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কানাডায় আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।  ১৯ ডিসেম্বর, ২০১১ তারিখে, এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা গৃহীত হয় এবং ১১ অক্টোবর, ২০১২ তারিখে, প্রথম আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়।  প্রতি বছর একটি থিম আছে.  কন্যা শিশু দিবসের প্রথম প্রতিপাদ্য ছিল “বাল্য বিবাহ বন্ধ করা”।  দ্বিতীয়বারের মতো, ২০১৩ সালে, থিম ছিল “মেয়েদের জন্য শিক্ষা খাতে উদ্ভাবন”।  তৃতীয় এবং চতুর্থ মেয়াদের থিম ছিল, “কিশোরীদের ক্ষমতায়ন এবং সহিংসতার চক্রের অবসান” এবং “কিশোরীদের ক্ষমতায়ন: ২০৩০ এর রোডম্যাপ”।

 

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবসের তাৎপর্য:

শিক্ষা, পুষ্টি, জোরপূর্বক বাল্যবিবাহ, আইনি অধিকার এবং চিকিৎসার অধিকার সম্পর্কে সচেতনতার অভাবের মতো বিশ্বজুড়ে মেয়েরা যে সমস্যার সম্মুখীন হয় সে সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করে।  প্রতি বছর দিবসটির থিম পরিবর্তিত হয়।
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, “এখন সময়, আমাদের সবাইকে মেয়েদের কাজ, তাদের অধিকারের দায়িত্ব নিতে হবে।”  তাদের নেতৃত্বে বিশ্বাস রাখতে হবে।  এটাই এই দিনের গুরুত্ব।

 

দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য :

 

লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা এই দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য।  অন্যান্য উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রের মধ্যে রয়েছে শিক্ষার অধিকার, পুষ্টি, আইনি সহায়তা এবং ন্যায়বিচার, চিকিৎসা সুবিধা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষা, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং জোরপূর্বক ও বাল্যবিবাহ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বাঁকুড়ার জেলার ছাতনা রাজবাড়ির দুর্গা পূজার ইতিহাস জানলে অবাক হবেনই হবেন।

বাঁকুড়ার জেলার এই রাজবাড়ির দুর্গা পূজার ইতিহাস জানলে অবাক হবেনই হবেন। বাঁকুড়ার ছাতনা রাজবাড়ীর দুর্গাপূজা একদম নিখুঁত ভাবে প্রথা মেনে করা হলেও কি কারণে রাজ পরিবারের সদস্যরা পুজোর পর আর মায়ের মুখ দেখেন না? কিজন্য যান না মায়ের মন্দির? কিভাবে সন্ধ্যে নামতেই চুপি চুপি হয়ে যায় বিসর্জন। কারণ গুলি জানতে পৌঁছে গেলাম ছাতনা রাজবাড়ীর বর্তমান রাজা প্রদীপ সিংহ দেও এর কাছে।

 

 

রাজপাট না থাকলেও, এদিন তিনিই সুন্দর করে বলে দিলেন সমস্ত ইতিহাস। বলে দিলেন সামন্ত ভুম ছাতনার সঙ্গে কুলদেবী মা বাসুলীর গভীর সম্পর্ক। বর্তমান রাজার মুখেই জানা গেল ঠিক কিভাবে সামন্ত ভুম ছাতনা এবং মল্লভূম বিষ্ণুপুরের মধ্যে এক বিবাদের জেরে শুরু হয়েছিল ৬০০ বছরের প্রাচীন ছাতনা রাজবাড়ির দুর্গাপুজো।

 

 

প্রদীপ সিংহ দেও জানান ছাপনার ভূমিপুত্র চারণ কবি বড়ু চন্ডীদাসকে কেন্দ্র করে চরম বিবাদ সৃষ্টি হয় বিষ্ণুপুর এবং সামন্ত ভুম ছাতনার মধ্যে। তারপর এই দৈব বিবাদ মেটাতে সন্ধি হয়। কথিত আছে সন্ধিতে উল্লেখ করা ছিল সামন্তভূমের কুলদেবী মা বাসুলি পুজিত হবেন বিষ্ণুপুরে এবং মল্লভূমের মা মৃন্ময়ীর আরাধনা হবে সামন্ত ভুম ছাতনায়। তখন থেকেই শুরু ছাতনা রাজবাড়ীর বিষ্ণুপুরি আদলে দুর্গোৎসব।

 

 

নিষ্ঠা ভরে পূজিত হন মা মৃন্ময়ী। নিজের হাতে পুজো করেন বর্তমান রাজা প্রদীপ সিংহ দেও। পূজার পর পুনরায় বাসুলি মন্দিরে গিয়ে পূজা সেরে নেন মানসিক শান্তির জন্য। নির্ঘণ্ট অনুযায়ী ছাতনার রাজবাড়িতে দুর্গোৎসব শেষ হলে মন্দিরে এসে মায়ের মুখ দেখেন না রাজ পরিবারের সদস্যরা।

 

 

বিসর্জনের দিন সময় হলে সূর্যাস্তের পর ছাতনার এক বিশেষ পাড়া থেকে জমা হন একাধিক মানুষ। বংশপরম্পরা অনুযায়ী বিগত ৬০০ বছর ধরে এনারাই করে আসছেন বিসর্জনের কাজ। বিসর্জনের সময় ঘরের ভেতরে থাকেন রাজ পরিবারের সদস্যরা। তাদের অজান্তেই হয়ে যায় মায়ের বিসর্জন।

 

 

একটি ছোট প্রতিবেদনে ছাতনা রাজবাড়ী, কুলদেবী মা বাসুলি এবং রাজবাড়ীর দুর্গাপুজোর পুরো পুঙ্খানুপুঙ্খ ইতিহাস তুলে ধরা সম্ভব নয়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে একাধিক কিংবদন্তি। প্রতিবছর ছাতনা রাজবাড়ীতে আগ্রহীরা জমা হন দূর দূরান্ত থেকে। জেনে নেন রাজবাড়ীর ইতিহাস এবং দুর্গাপুজোর কিংবদন্তিগুলি।

 

।।কলমে : আবদুল হাই,বাঁকুড়া।

Share This