Categories
বিবিধ

বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষার দাবি, পূর্বস্থলীতে ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শনে প্রশাসন ও বিধায়ক।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের নসরতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের গঙ্গাভাঙন কবলিত কিশোরগঞ্জ এলাকা পরিদর্শন করলেন পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ দফাদার। বৃহস্পতিবার তাঁর সঙ্গে ছিলেন পূর্বস্থলী ১ নম্বর ব্লকের বিডিও অনন্যা বিশ্বাস, সেচ দপ্তরের আধিকারিক এবং প্রশাসনের অন্যান্য প্রতিনিধিরা।এদিন গঙ্গাবক্ষে নৌকায় করে ভাঙনপ্রবণ এলাকা ঘুরে দেখেন তাঁরা। নদীর ভাঙনের বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলিও পরিদর্শন করা হয়। পরে কিশোরগঞ্জ গ্রামে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন বিধায়ক ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা।
এলাকাবাসীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে গঙ্গাভাঙনের কারণে বসতভিটা ও কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কা, ভাঙাচোরা রাস্তা, পর্যাপ্ত আলোর অভাবসহ একাধিক নাগরিক সমস্যার কথা প্রশাসনের নজরে আনেন। বাসিন্দাদের দাবি, কয়েকদিন আগে সরকারের উদ্যোগে প্রায় ৭০০ মিটার এলাকায় বালির বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের কাজ করা হলেও খাঁচা ফেলে স্থায়ী ভাবে কাজের দাবি জানান তারা। তাঁদের বক্তব্য, অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এই সমস্যা থেকে রেহাই মিলবে না।
বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ দফাদার এলাকাবাসীর বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং ভাঙন প্রতিরোধ-সহ অন্যান্য নাগরিক সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Share This
Categories
বিবিধ

‘নতুন জীবন’ নাটকে মাদকের বিরুদ্ধে বার্তা, স্কুল পড়ুয়াদের সচেতন করল প্রয়াস।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নিজস্ব প্রতিবেদক: বুধবার মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা নিয়ে সচেতনতার প্রচার করলো ফালাকাটা প্রয়াস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। নেশা মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষে সংস্থার পক্ষ থেকে ক্ষীরেরকোট উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রদের উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভার আয়োজন করার পাশাপাশি ‘নুতন জীবন’ শীর্ষক নাটকের মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিকার সম্পর্কে তুলে ধরা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জটেশ্বর ফাঁড়ির এস.আই. সন্তোষ রায়, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আকাশ ভগত ও প্রয়াসের সভাপতি শুভজিৎ সাহা। । উপস্থিত বক্তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজ থেকে মাদকের অপব্যবহার দূর করতে প্রশাসনের উদ্যোগ ও জনসচেতনতার গুরুত্বও তুলে ধরেন। কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রয়াসের সভাপতি শুভজিৎ সাহা বলেন, বর্তমান সময়ে যুব সমাজের একাংশ মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ছে, যা পরিবার ও সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এই প্রবণতা রুখতে বিভিন্ন জায়গায় ও বিদ্যালয়ে সচেতনতা মূলক প্রচারের মাধ্যমে একটি সুস্থ,নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার উদ্দেশ্যেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ দিলীপ ঘোষের, ‘ধৈর্য হারিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী’ দাবি বিজেপি নেতার।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এনকাউন্টার বিতর্ক, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে বিতর্ক এবং দলীয় কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে একাধিক বিষয়ে মুখ খুললেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বিভিন্ন প্রসঙ্গে তিনি রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরব হন।
এনকাউন্টার প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, বাংলায় পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছিয়ে ছিল। তাঁর দাবি, অপরাধ দমনে পুলিশকে কঠোর হতে হবে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করতে হবে। তিনি বলেন, অপরাধী পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ আইনি সীমার মধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিরোধীরা এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুললেও অপরাধীদের শাস্তির বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, অপরাধীদের বিচারের সুযোগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
এনকাউন্টার নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ও পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে সবসময় সন্দেহ তৈরি করা উচিত নয়। তাঁর দাবি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারকে দৃঢ় অবস্থান নিতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের সঙ্গে তাঁর আচরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের যথাযথ সম্মান দেওয়া হয় না।
মুখ্যমন্ত্রীর একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় আচরণ ও বক্তব্যে সংযম থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি তৃণমূলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগও তোলেন।
কুণাল ঘোষের মন্তব্যের প্রসঙ্গেও দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে তৃণমূল নেতাদের বক্তব্যই দলের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে এক ছাত্র গ্রেফতারের প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানান দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, প্রতিবাদের ধরন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক থাকতে পারে, তবে সরকারকে মানুষের ক্ষোভ ও মতামতকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তবে দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যগুলির বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিক্রিয়া এলে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Share This
Categories
বিবিধ

অফিস টাইমে বিটি রোডে দুর্ঘটনা, যানজটে নাকাল যাত্রীরা; ঘটনাস্থলে পুলিশ।

বেলঘরিয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ফের ভয়াবহ দুর্ঘটনা বিটি রোডে। এদিন বেলা বারোটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বিটি রোডের রথ তলা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন ডানলপের দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী চার চাকার গাড়ি ধাক্কা মারে স্কুটি চালক এক ডেলিভারি বয় কে। তারপর গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রবল গতিতে ধাক্কা মারে একটি টোটোর পেছনে, আর টোটো টি সামনে ছিল একটি ট্রাক, পিছন থেকে ধাক্কা খেয়ে টোটোটি আছড়ে পড়ে সামনের ট্রাকটির পেছনে। সামনে এবং পেছনে উভয়দিকেই ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে মুছরে যায় টোটোটি। গুরুতর আহত হন টোটো চালক। বেলঘড়িয়া উত্তর বাসুদেবপুর এর বাসিন্দা শংকর দাস। তাকে স্থানীয় মানুষ ও ট্রাফিক পুলিশের সাহায্যে উদ্ধার করে সাগর দত্ত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।। স্থানীয় সূত্রের খবর যাত্রীবাহী গাড়িটিতে চালকসহ দুজন যাত্রী থাকলেও তাদের কোনরকম আঘাত লাগেনি। বরং দুর্ঘটনার পরেই গাড়ি থেকে নেমে পালিয়ে যায় চালক। একেবারে ব্যস্ত অফিস সময় এই দুর্ঘটনার ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয় বি টি রোডে। বেলঘড়িয়া থানার পুলিশ পৌঁছে নিয়ন্ত্রণে আনে পরিস্থিতি।

Share This
Categories
বিবিধ

সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সরব দিলীপ ঘোষ, মেদিনীপুরে একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- “আগে কোন ধর্ষণের কোন সাজা হতো না বরং তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হতো”, কারণ এই যে দুর্নীতি তার পিছনে নেতা মন্ত্রীরা থাকতেন, আজ সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং প্রশাসন খুব সক্রিয় হয়েছে, সমস্ত অপরাধীদের বিচার হবে সাজা হবে। শনিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের DAV স্কুলে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঠিক এভাবেই বিগত সরকারকে নিশানা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও কৃষিবিপন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। অন্যদিকে “আয়ুষ্মান ভারত”প্রকল্পের যারা সুবিধা পাবে না তাদের জন্য স্বাস্থ্য বীমার ঘোষণা করেছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, এবার সেই প্রসঙ্গ নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন কেন্দ্রের বিভিন্ন দিক রয়েছে, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সবকিছুতেই পিছিয়ে রয়েছে, চিকিৎসা করার পয়সা নেই, তাই সাধারণ মানুষ যাতে বঞ্চিত না হয় তার জন্য রাজ্য সরকার তাদের পাশে দাঁড়াবেন। অন্যদিকে রাজ্যের ৮০ লক্ষ পরুয়া সরকারি বিদ্যালয় ছেড়ে বেসরকারি বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন করছে, সেই বিষয় নিয়ে দিলীপ ঘোষ জানিয়েছেন পশ্চিম বাংলায় বেশি ড্রপ আউট বেশি। সেই রকম বাল্যবিবাহ’তে চ্যাম্পিয়ন গোটা ভারতবর্ষে। আগে কমিনিউস্টরা তারা খুব প্রগ্রেসীপ,তারা স্কুল শিক্ষা ব্যবস্থার বারোটা বাজিয়ে সামাজিক বন্ধনে সরকারের বারোটা বাজিয়েছে,বাকি যা ছিলো অন্তর্যামী যাত্রা ছিল, বাঙালি বাঙালি বলে সব দিকটার সর্বনাশ করেছে। আজও যারা একবিংশ শতাব্দীর কথা বলে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে পারেনি,ভারতবর্ষের অন্য রাজ্য এবং গরিব রাজ্য থেকে আমরা পিছিয়ে আছি। সরকারি স্কুল থেকে যেভাবে বাচ্চারা বেরিয়ে যাচ্ছে, স্কুলে পড়াশোনা হয় না, কারণ শিক্ষক নেই। খুব ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের রাজ্যে যাচ্ছে। মানুষ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে, আমরা ঠিকঠাকভাবে পালন করার চেষ্টা করব।

Share This
Categories
বিবিধ

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান, কল্যাণীর ঐতিহ্যবাহী মন্দির সংস্কারে শুরু প্রাথমিক কাজ।

নদীয়া কল্যাণী, নিজস্ব সংবাদদাতা : – মন্দির সংস্কারে সহোযোগিতার আশ্বাস কল্যাণীর বিধায়ক অনুপম বিশ্বাসের!
কল্যাণী বিধান সভার বিধায়ক অনুপম বিশ্বাসের তৎপরতায় মন্দির সংস্কারে এগিয়ে আসলো ভারতীয় জনতা পার্টি কিষাণ মোর্চার কার্য কর্তারা!
১৯৬২ সালে কল্যাণী শহরে প্রতিষ্ঠা পায় কালীমাতা মন্দির।
বিগত তৃণমূল সরকারের সময় মন্দির নিয়ে তেমন কোন উৎসাহ বা মন্দির কমিটি কোন সহ যোগিতা পায় নি।
রাজ্যে পালাবদলের পর আশায় বুক বেঁধে ছিল মন্দির কমিটি।
জানা যায় মন্দির কর্তৃপক্ষ বহু বার কল্যাণী পৌরসভায় আবেদন করেছিলেন মন্দিরে চুড়ায় একটি গাছ কাটার জন্য কিন্তু তৃণমূল সরকার পরিচালিত পৌর বোর্ড থাকায় তেমন কোন সহযোগিতা করা হয় নি।
রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠন হতেই মন্দির কমিটি তোরজোড় শুরু করে।
মন্দির সংস্কারের খবর পায় কল্যাণী বিধান সভার বিধায়ক অনুপম বিশ্বাস।
বিধায়কের নির্দেশ মতো আজ মন্দির কমিটির পাশে এসে দাড়ায় ভারতীয় জনতা পার্টি কিষাণ মোর্চার কার্য কর্তারা।
এদিন সকাল থেকেই শুরু হলো মন্দির সংস্কারের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ।
বিধায়কের সহোযোগিতা পেয়ে যথেষ্ট খুশি মন্দির কর্তৃপক্ষ থেকে ভক্তপ্রান মানুষেররা।

Share This
Categories
বিবিধ

ভক্তি ও ভালোবাসায় ২২ বছরের পথচলা, মেদিনীপুরের সুমনার সাজানো রথ দেখতে ভিড় হাজার মানুষের।

মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা : – মাত্র তিন বছর বয়সে একটি ছোট্ট রথের জন্য কান্না। সেই শিশুসুলভ আবদারই আজ পরিণত হয়েছে ২২ বছরের এক অনন্য ঐতিহ্যে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর সদর ব্লকের কঙ্কাবতী গ্রামের বাসিন্দা সুমনা দাস টানা ২২ বছর ধরে নিজের হাতে সাজানো রথ নিয়ে রথযাত্রার শোভাযাত্রার আয়োজন করে চলেছেন। বর্তমানে তিনি বি.এড.-এর ছাত্রী। পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিবছর রথ এলেই তাঁর বাড়িতে শুরু হয়ে যায় উৎসবের আমেজ।
রথযাত্রার প্রায় ১৫ দিন আগে থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। রথ পরিষ্কার করা, নতুন করে রং করা, বিভিন্ন ছবি আঁকা এবং নানান সাজসজ্জায় রথকে আকর্ষণীয় করে তোলেন সুমনা নিজেই। রথযাত্রার দিন খোল-করতাল সহযোগে হরিনাম সংকীর্তন, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। গ্রামের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন। ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণও করা হয়।
এই উদ্যোগের সূচনার কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সুমনা। তিনি বলেন, “আমার যখন মাত্র তিন বছর বয়স, তখন মায়ের কোলে চেপে গ্রামের রথ দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখি অনেক বাচ্চার হাতে ছোট ছোট রথ। আমার হাতেও একটি রথ চাই বলে জেদ ধরি। কিন্তু দোকানে তখন আর কোনও রথ অবশিষ্ট ছিল না। মা অনেক চেষ্টা করেও আমাকে বোঝাতে পারেননি। তখনই আমাদের পাড়ার রাজু বারিক কাকু বলেছিলেন, তিনি আমার জন্য রথ বানিয়ে দেবেন। পরের দিন সত্যিই আমার উচ্চতার থেকেও বড় একটি রথ তৈরি করে দেন। সেই রথ নিয়েই আমার রথযাত্রার শুরু।”
তিনি আরও বলেন, “কয়েক বছর পর আমার উচ্চতা বেড়ে গেলে সেই রথটি ছোট মনে হতে থাকে। তখন আবার নতুন করে বড় রথের আবদার করি। পাড়ারই এক দাদু আরও বড় একটি কাঠের রথ তৈরি করে দেন। সেই রথই আজও ব্যবহার করছি। প্রতি বছর নিজের হাতে সাজিয়ে শোভাযাত্রা বের করি। ভক্তি আর ভালোবাসা থেকেই এই আয়োজন করে আসছি।”
রথযাত্রার দিন দেবতাকে মাসির বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাত দিন ধরে নিয়ম মেনে পূজার্চনা চলে। উল্টো রথের দিন একই শোভাযাত্রার মাধ্যমে দেবতার বাড়ি ফেরা হয়। এই কয়েকদিন বাড়িতে কার্যত উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়।
সুমনার বাবা ভবতারণ দাস পেশায় ব্যবসায়ী এবং মা বুবুন দাস গৃহবধূ। মেয়ের এই উদ্যোগে প্রথম দিন থেকেই পাশে রয়েছেন তাঁরা। রথযাত্রার সমস্ত খরচ পরিবার বহন করে। রথ সাজানো, শোভাযাত্রার আয়োজন, প্রসাদ বিতরণ-সহ প্রতিটি কাজে পরিবারের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
প্রথমে এটি ছিল একটি পারিবারিক উদ্যোগ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গ্রামবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে কঙ্কাবতী গ্রামের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে এই রথযাত্রা। প্রতিবছর অসংখ্য মানুষ এই শোভাযাত্রায় সামিল হন। ছোটবেলার এক আবেগ আজ গ্রামের মানুষের মিলনমেলা, ভক্তি ও সম্প্রীতির এক সুন্দর নিদর্শন হয়ে উঠেছে।

Share This
Categories
বিবিধ

যেখানে ছাত্ররা সুরক্ষিত নয় সেখানে ছাত্রীরা কতটা সুরক্ষিত!

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মেদিনীপুর শহরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে ওরাল সেক্স করার অভিযোগে অস্থায়ী কর্মীকে আটক করলো কোতোয়ালি থানার পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় অভিভাবকেরা জমায়েত হন স্কুলে। খবর দেওয়া হয় কোতোয়ালি থানায়। বিশাল পুলিশ বাহিনী পৌঁছায় স্কুলে। ওই ছাত্রের পরিবার থানায় লিখিত অভিযোগ জানায়। যদিও স্কুল কর্তৃপক্ষের কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওই কর্মীকে স্কুল চত্বর থেকেই আটক করে নিয়ে যায় পুলিশ। ওই ছাত্রের মা বলেন, সকালে স্কুলে এসেছিল। বাড়ি যাওয়ার পর বলে তাকে ওই কর্মী বাথরুমে যাওয়ার সময় ওরাল সেক্স করে। যেখানে ছাত্ররা সুরক্ষিত নয় সেখানে ছাত্রীরা কতটা সুরক্ষিত। চাই দোষীর উপযুক্ত শাস্তি।

Share This
Categories
বিবিধ

নয়াবসত রাজ্য সড়কে হাতির মিছিল, দুই পাশে দাঁড়িয়ে পড়ল একাধিক যানবাহন।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শনিবার সাতসকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহর সংলগ্ন নয়াবসত এলাকায় চন্দ্রকোনারোড-গোয়ালতোড়গামী রাজ্য সড়কের উপর হঠাৎ উঠে পড়ল ১৫ থেকে ১৬ টি হাতির একটি বড় দল । রাজ্য সড়ক পেরোনোর সময় দুই ধারে দাঁড়িয়ে রইল একাধিক যানবাহন। বর্তমানে হাতিগুলি ঘাগড়ার জঙ্গলে প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই বনদপ্তরের তরফ থেকে হাতিকে উত্যক্ত না করার বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করেছে বনদপ্তর।

Share This
Categories
বিবিধ রিভিউ

সরকারি স্কুলে আধুনিক শিক্ষার উদ্যোগ, স্মার্ট ক্লাসরুমে বদলের বার্তা দিলেন BDO ও স্কুল পরিদর্শক।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বর্ধমান জেলার রায়না দুই ব্লক গোতান অঞ্চলে বারাটি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই স্মার্ট ক্লাসরুম উদ্বোধন করেন রায়না দুই ব্লকে BDO শাহীদ আলী , রাইনা তিন সার্কেলের ইন্সপেক্টর দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ব্লক অফিসের মিড ডে মিল অফিসার চন্দন সরকার সহ আরো অনেকে,BDO ও SI বলেন আমরা সকলেই এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে গ্রহণ করছি।
স্মার্ট ক্লাসরুমের মাধ্যমে শিক্ষাদানে প্রযুক্তি ব্যবহারের দ্বার উন্মুক্ত হলো।
এখানে অডিও-ভিজ্যুয়াল পাঠ, ইন্টারঅ্যাকটিভ শিক্ষণ, এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ শিক্ষণ উপকরণ শিশুদের কল্পনা ও জ্ঞানবৃদ্ধির সুযোগ বাড়াবে। গরীব ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের জন্য এ ধরনের সুযোগ এক সুফলবৃদ্ধি, কারণ তারা শহরের সুবিধাভোগীদের মতো আধুনিক শিক্ষার সঙ্গেও খাপ খাইয়ে নিতে পারবে।এই উদ্যোগটি কেবল প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়ার কাজ নয়; এটি শিক্ষার মানে পরিবর্তন আনার একটি প্রয়াস।
শিক্ষকগণকে অনুরোধ জানাই—এই নতুন সরঞ্জাম ভালোভাবে কাজে লাগিয়ে পাঠদানকে আরও আকর্ষণীয় ও ফলপ্রসূ করে তুলুন। এলাকার অভিভাবকগণ, আপনার শিশুসন্তানদের সরকারি স্কুলে পড়ান, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপনাদের পাশে আছে আপনাদের সহযোগিতা, উৎসাহ এবং নিয়মিত অংশগ্রহণই শিশুদের শিক্ষায় স্থিতিশীলতা আনবে।
স্থানীয় প্রশাসন, স্কুল পরিচালনা কমিটি এবং সকল দাতাদের পাশে থেকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা কাজ করেছেন—তাদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষা যখন প্রযুক্তি ও আন্তরিক শিক্ষকের সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়, তখন শিশুরা কেবল পড়াবে না, তারাও চিন্তাশীল, সৃজনশীল এবং আত্মবিশ্বাসী নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে। এই স্মার্ট ক্লাসরুম সেই লক্ষ্য অর্জনে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে।
আমি সবাইকে আবারও অভিনন্দন জানাচ্ছি এবং স্কুলের ভবিষ্যৎ সফল ও সমৃদ্ধশালী হোক—এই কামনাই করছি। ধন্যবাদ।
আজকে এই মহৎ অনুষ্ঠানে ছিলেন, স্কুলে প্রধান শিক্ষিকা জপমালা দত্ত সহ স্কুলের শিক্ষকরা
কি জানাচ্ছেন বিডিও শাহিদ আলী, স্কুল পরিদর্শক দেবব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা জপমালা দত্ত
নিজস্ব সংবাদদাতা বঙ্গ এক্সপ্রেস নিউজ

Share This