Categories
বিবিধ

চন্দ্রকোনা রোডে কলেজ-রাজনীতি নিয়ে চর্চা, বৈঠককে কেন্দ্র করে শুরু বিতর্ক।

নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দ্রকোনা রোড :- চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন বেশ কিছুদিন হলো। একসময় এলাকার রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি ছিল এক ডাকে। চন্দ্রকোনা রোড এলাকায় ‘বিজেপি’ বললেই একসময় যার নাম সবার প্রথমে উঠে আসত, দীর্ঘদিনের সেই দাপুটে দলীয় মুখকে ঘিরেই এবার নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। স্থানীয় চন্দ্রকোনা রোড গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের পরিচালন সমিতির পরবর্তী সভাপতি (প্রেসিডেন্ট) হিসেবে তার নাম মনোনীত হতে পারে— এমনই এক জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। তবে এই গুঞ্জনের আবহেই তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্কও।

সম্প্রতি ওই কলেজেরই বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে উক্ত নেতার একটি ‘গোপন বৈঠক’ ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্যও ছড়িয়েছে। জানা গেছে, দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে স্থানীয় জনমানসে। প্রশ্ন উঠছে এই বৈঠকের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে। কারণ, যার সাথে এই বৈঠক হয়েছে, সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম, তহবিল তছরুপ, চুরি ও দুর্নীতিসহ নানা অনৈতিক ও অরাজকতামূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করার পেছনেও ওই অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও পড়ুয়াদের একাংশ। গুঞ্জনে শোনা যাচ্ছে এমন একজন বিতর্কিত ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সাথে একদা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা কলেজ সভাপতি পদের অন্যতম দাবিদারের এই গোপন বৈঠককে ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ বলছেন ওই নেতা একসময় সিপিএমের সঙ্গে সেটিং করে চাকরি পেয়েছিল। দীর্ঘদিন গোপন সেটিং করেই জীবন অতিবাহিত করেছে। তার ভুলভাল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অনেকের রাজনৈতিক কেরিয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও বর্তমানে তিনি বিজেপির উচ্চপদস্থ এবং সম্মানীয় পদে আসীন তাই এই ব্যক্তিকে ঘিরে মুখে কুলুপ বিজেপির। তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন কলেজের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসার আগেই কেন একজন বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকের সাথে গোপনে বৈঠক করতে হলো? তবে কি কোনো বিশেষ সমঝোতা বা ‘ডিল’ করার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক? এই বৈঠকের পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে?

স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো পবিত্র জায়গা। সেখানে যদি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির সাথে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এমন গোপন আঁতাত তৈরি হয়, তবে কলেজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা চাই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কেউ কলেজের দায়িত্বে আসুক।” যদিও এই গুঞ্জন এবং গোপন বৈঠক প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সভাপতি মনোনয়নের আগেই এই ‘গোপন বৈঠক’ বিতর্ক যে গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের পরিচালন পর্ষদ গঠনের আবহকে অনেকটাই উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।

Share This
Categories
বিবিধ

রেসিপি ::: রাজমা মসালা।।।

পরিচিতি—— রাজমা মসালা উত্তর ভারতের, বিশেষ করে পাঞ্জাবের, অন্যতম জনপ্রিয় নিরামিষ পদ। লাল রাজমা, পেঁয়াজ, টমেটো, আদা-রসুন এবং সুগন্ধি মশলার সংমিশ্রণে তৈরি এই ঘন ঝোল স্বাদে যেমন সমৃদ্ধ, তেমনি পুষ্টিগুণেও ভরপুর। গরম ভাত বা জিরা রাইসের সঙ্গে রাজমা মসালা উত্তর ভারতের একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার। বর্তমানে এটি সারা ভারতেই অত্যন্ত জনপ্রিয়।
উপকরণ (৪–৫ জনের জন্য)——
রাজমা – ১½ কাপ
পেঁয়াজ – ২টি মাঝারি (কুচি)
টমেটো – ৩টি বড় (পিউরি)
আদা-রসুন বাটা – ১ টেবিল চামচ
কাঁচা লঙ্কা – ২টি (কুচি)
জিরে – ১ চা চামচ
তেজপাতা – ১টি
হলুদ গুঁড়ো – ½ চা চামচ
ধনে গুঁড়ো – ১½ চা চামচ
জিরা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো – ১ চা চামচ
গরম মশলা গুঁড়ো – ½ চা চামচ
কাসুরি মেথি – ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
মাখন – ১ টেবিল চামচ
সাদা তেল – ২ টেবিল চামচ
লবণ – স্বাদমতো
ধনেপাতা কুচি – ২ টেবিল চামচ
গরম জল – প্রয়োজনমতো
প্রণালী———-
১. রাজমা ভালোভাবে ধুয়ে সারারাত বা অন্তত ৮–১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন।
২. প্রেসার কুকারে রাজমা, লবণ ও পর্যাপ্ত জল দিয়ে ৬–৮টি সিটি পর্যন্ত সেদ্ধ করুন। রাজমা সম্পূর্ণ নরম হওয়া জরুরি।
৩. কড়াইয়ে তেল গরম করে জিরে ও তেজপাতা ফোড়ন দিন।
৪. পেঁয়াজ কুচি সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভেজে আদা-রসুন বাটা ও কাঁচা লঙ্কা যোগ করে কষান।
৫. টমেটো পিউরি, হলুদ, ধনে গুঁড়ো, জিরা গুঁড়ো ও কাশ্মীরি লঙ্কা গুঁড়ো দিয়ে তেল ছাড়া পর্যন্ত রান্না করুন।
৬. সেদ্ধ রাজমা এবং প্রয়োজনমতো সেদ্ধর জল মিশিয়ে দিন।
৭. মাঝারি থেকে কম আঁচে ১৫–২০ মিনিট ফুটতে দিন, যাতে মশলার স্বাদ রাজমায় ভালোভাবে মিশে যায়।
৮. শেষে মাখন, গরম মশলা গুঁড়ো ও কাসুরি মেথি মিশিয়ে ২–৩ মিনিট রান্না করুন।
৯. ধনেপাতা কুচি ছড়িয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন।
পরিবেশন———‐–
রাজমা মসালা গরম সাদা ভাত, জিরা রাইস, বাসমতি ভাত, নান, তন্দুরি রুটি বা পরোটার সঙ্গে পরিবেশন করুন। পাশে পেঁয়াজের স্যালাড ও লেবুর টুকরো দিলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
কিছু টিপস——–
রাজমা দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং হজমও সহজ হয়।
রাজমা নরম না হলে ঝোলের স্বাদ ভালো হয় না।
রান্নার শেষে সামান্য মাখন দিলে রেস্তোরাঁর মতো স্বাদ আসে।
ঝোল ঘন করতে চাইলে কয়েকটি সেদ্ধ রাজমা চামচ দিয়ে চটকে মিশিয়ে দিন।
পুষ্টিগুণ—-‐-‐-
রাজমা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাশিয়ামের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি সরবরাহ করে।
রন্ধন-ঐতিহ্য—–‐—
রাজমা মসালা পাঞ্জাবি রান্নার একটি ঐতিহ্যবাহী পদ, যা আজ ভারতের প্রতিটি অঞ্চলে জনপ্রিয়। সরল উপকরণ, সমৃদ্ধ স্বাদ এবং উচ্চ পুষ্টিগুণের জন্য এটি প্রতিদিনের খাবার থেকে শুরু করে বিশেষ আয়োজন—সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে সমাদৃত।

Share This
Categories
বিবিধ

মালদায় জওহর নবোদয় বিদ্যালয় নির্মাণের পথে বড় পদক্ষেপ, প্রস্তাবিত জমি ঘুরে দেখলেন বিধায়ক।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদা জেলার মধ্যে পুরাতন মালদা ব্লকের ভাবুক অঞ্চলের সৈয়দপুর এলাকায় কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যোগে গড়ে উঠবে জওহর নবোদয় বিদ্যালয়। সিবিএসই বোর্ড নিয়ন্ত্রণাধীন আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম নবোদয় বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য বৃহস্পতিবারই ১১ একর জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। আর এই ঘোষণার পর শুক্রবার পুরাতন মালদার ভাবুক অঞ্চলের সৈয়দপুর মৌজায় গিয়ে প্রস্তাবিত জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ের জমি পরিদর্শন করলেন মালদা বিধানসভার বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা। এদিনের এই
পরিদর্শনে বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুরাতন মালদা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রুম্পা রাজবংশী সহ অন্যান্যরা। তারা সকলে মিলে সৈয়দপুর এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক গোপাল চন্দ্র সাহা জানান, কেন্দ্রীয় সরকার মালদা জেলার মধ্যে একমাত্র জওহর নবোদয় বিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এজন্য পুরাতন মালদা ব্লকের ভাবুক অঞ্চলের সৈয়দপুর এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই বিদ্যালয় গড়ে তোলার জন্য বৃহস্পতিবার রাজ্য মন্ত্রীসভার ক্যাবিনেট সৈয়দপুরে ১১ একর জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছে। আর এই সিদ্ধান্তের পর আজ তিনি জমি পরিদর্শনে এসেছেন। সিবিএসই বোের্ড পরিচালিত আবাসিক ইংরেজি মাধ্যম নবোদয় বিদ্যালয় গঠলে মালদাবাসী উপকৃত হবেন! গরীব ঘরের ছেলেমেয়েরা বিনামূল্যে এই বিদ্যালয়ে তাদের ছেলেমেয়েদের পড়াতে পারবেন।

Share This
Categories
বিবিধ

অস্ত্র হাতে ছবি ভাইরাল নিয়ে বিতর্ক, প্রাক্তন ছাত্রনেতাকে ঘিরে শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অস্ত্র হাতে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের নেতার ছবি ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়।যদিও ভাইরাল হওয়া সেই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আমরা।মালদার সামসি কলেজের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন ইউনিট প্রেসিডেন্ট শেখ রিয়াজুলের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য।মালদার রতুয়ার বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল।সামসি কলেজের ইউনিট প্রেসিডেন্ট ছিলেন শেখ রিয়াজুল ,তা স্বীকার করে নিয়েছেন মালদা জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সভাপতি প্রসূন রায়।তিনি বলেন,এখন কোন সংগঠন নেই। সমস্ত ইউনিট ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে।সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবিটি দেখেছি।পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।এই ঘটনায় তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে বিজেপি।গোটা ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানোতোর।ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

১৯৯৩-এর স্মৃতি আজও অমলিন, একুশে জুলাইয়ের আগে শহীদ পরিবারের আবেগঘন স্মৃতিচারণ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বয়স জনিত কারণে শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে, হাঁটা চলা কিংবা অন্যান্য কাজকর্ম করতেও সমস্যা হচ্ছে। তাই ইচ্ছা থাকলেও এই বছর অসুস্থতার কারণে ২১ জুলাই তৃণমূলের শহীদ দর্পণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না কেশপুরের শহীদ আব্দুল খালেকের স্ত্রী কহিনুরা বিবি। ১৯৯৩ সালের ২১ শে জুলাই ঘটনার পরের থেকে যতবার কলকাতার ধর্মতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে শহীদ তর্পণ অনুষ্ঠান হয়েছে ততবারই মমতার ডাকে মঞ্চে হাজির ছিলেন কোহিনুরা। শারীরিক অসুস্থতার কারণে এ বছর তিনি শহীদ তর্পণ অনুষ্ঠানে যেতে পারবেন না বলে মনটা একটু খারাপ রয়েছে।

১৯৯৩ সালের একুশে জুলাই, সেই দিনটার বর্ণনা দিতে গিয়ে কোহিনুরা বললেন – ‘ ও ( আব্দুল খালেক ) দলটাকে খুব ভালবাসত। সিপিএমের অনেক অত্যাচার সহ্য করেও কংগ্রেস টা করত। আগের দিন ২০ জুলাই বাড়িতে বাঁশ কেটে যুব কংগ্রেসের পতাকা তৈরি করে সন্ধ্যা বেলায় কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। কেশপুরের সে সময়ের কংগ্রেস নেতাকর্মীদের সঙ্গেই তিনি কলকাতায় যান। একুশে জুলাই রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানে অংশ নেন। সেই দিন আন্দোলনকারী যুব কংগ্রেস কর্মীদের ওপর গুলি চলে। অনেকেই মারা যান,কেউ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কেশপুরের কংগ্রেস নেতারা যখন কলকাতা থেকে বাড়ি ফিরবেন তখন দেখেন আব্দুল খালেক দলের মধ্যে নেই। তখনই তার খোঁজ শুরু হয়। বেশ কিছুক্ষণ পর কলকাতার হাসপাতলে গুলিবিদ্ধ আব্দুল খালেক এর সন্ধান মেলে। তখনো তিনি জীবিত ছিলেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। এক সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তিনি মারা যান। ‘ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে চোখ ভিজে যায় কহিনুরার। আঁচল দিয়ে চোখ মুছে ফের কোহিনুরা বলেন ‘ এরপর থেকেই একুশে জুলাই ধর্ম তলায় শহীদ তর্পণ অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে আমরা যেতাম। প্রত্যেক বছরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি দিয়ে আমাকে ডাকেন। প্রতিবছরই শহীদ তর্পন অনুষ্ঠানে গিয়েছি।।গত বছর ২০২৫ সালেও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে মঞ্চে হাজির হয়েছিলাম দিদির ডাকে। এবার অসুস্থতার কারণে আর যাওয়া হবে না ‘
কোহিনুরাদের পাশে থেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর্থিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় এক লক্ষ দশ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে জানালেন কোহিনুরা। এছাড়াও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন রেলমন্ত্রী হন সেই সময় তার ছেলে শাহজাহান আলীর রেলে চাকরি হয়। কোহিনুরা কখনো পার্টির লোকের সঙ্গে কখনোবা ছেলের সঙ্গে কলকাতায় শহীদ তর্পণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন। বারংবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন কোহিনুরা। এবং বলছেন আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলাম এবং থাকব।তৃণমূল কংগ্রেস এখন আর সরকারে নেই বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী পদে নেই এই বিষয়ে কেশপুরের শহীদ পত্নীর স্ত্রী বললেন ‘ কি জানি কি হয়েছে আমি এতসব বুঝিনা,আমি মমতাদিকেই চিনি। ‘ কেশপুরের গরগোজপোতা গ্রামে কোহিনুরাদের বাড়ি। মাটির তিনতলা বাড়িটি এখনো শহীদের বাড়ি হিসাবেই কেশপুরের লোকজন চেনে। কোহিনুরার তিন মেয়ে এক ছেলে। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। একমাত্র ছেলে শাহজাহান রেলে চাকরি করেন। অনেক ঘাত প্রতিঘাতের মুখোমুখি হলেও মমতার থেকে মুখ ফেরায় নি গোটা পরিবার। ২০২৬ সালে রাজ্যে পালা বদল হয়েছে। তৃণমূল সরকার সরে গিয়ে এসেছে বিজেপি সরকার। তার পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। একদিকে কালীঘাট তৃণমূল অপরদিকে ঋতব্রত তৃণমূলে ভাগ হয়ে গেছে তৃণমূল দলটা। তার ওপর রাজ্য সরকার ধর্মতলায় তৃণমূলের শহীদ সমাবেশের অনুমতি দেয় নি। তৃণমূলের শহীদ সমাবেশ কোথায় হবে,কিভাবে হবে বা আদৌ হবে কিনা এই নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। এই বিষয় নিয়ে এইবারও কি শহীদ তর্পন অনুষ্ঠানে যাবেন? প্রশ্ন করা হলে এর উত্তর দিতে গিয়ে কোহিনুরা বললেন ‘ শরীর খুবই খারাপ এবার আর যাওয়ার ইচ্ছা নেই। গতবারই অসুস্থতার কারণে যেতে চাইনি। তাও ছেলের সঙ্গে গিয়েছিলাম। এবার আর যাওয়া হবে না শরীরটা খুবই দুর্বল।’অন্যদিকে কেশপুরের তৃণমূল নেতা তথা জেলা পরিষদের সদস্য মহম্মদ রফিক বললেন ‘ আব্দুল খালেক যুব কংগ্রেসের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। আমরা একসঙ্গেই ট্রেনে করে সেই দিন রাইটার্স বিল্ডিং অভিযানে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় দেখি দলে আব্দুল খালেক নেই। চারিদিকে খোঁজ খবর শুরু হল। রাতের দিকে খবর পেলাম আব্দুল খালেক গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। সে এক ভয়ঙ্কর দিন ছিল, ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। ‘

Share This
Categories
বিবিধ

১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজ শুরু, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আশার আলো।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গ্রামীণ এলাকার কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এমজিএনআরইজিএ (মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন) প্রকল্পে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। পূর্বের ১০০ দিনের পরিবর্তে এবার ১২৫ দিন পর্যন্ত কাজের সুযোগ মিলছে। ১ জুলাই থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই প্রকল্পের আওতায় কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে জেলার হাজার হাজার জব কার্ডধারী শ্রমিক অতিরিক্ত ২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। শুক্রবার জেলা কালেক্টরেট অফিসে এক সাংবাদিক সম্মেলন করে এই প্রকল্পের বিষয়ে বিস্তারিত জানান জেলা শাসক বীজিন কৃষ্ণা।
জেলার বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করা হচ্ছে। কোথাও নতুন পুকুর খনন, কোথাও পুরনো পুকুর সংস্কার, কোথাও ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কার, কোথাও নিচু জমি ভরাট, গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার, জমি সমতলিকরণ-সহ একাধিক জনস্বার্থমূলক কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। এই কাজগুলির মাধ্যমে যেমন গ্রামের পরিকাঠামোর উন্নতি হবে, তেমনই গ্রামীণ শ্রমিকদের হাতে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানও তৈরি হবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিদ্যমান জব কার্ডধারীদের তথ্য হালনাগাদ করা হচ্ছে এবং ১২৫ দিনের কাজের সুবিধা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রায় চার হাজার ভুয়ো বা অযোগ্য জব কার্ড চিহ্নিত করে বাতিল করা হয়েছে। প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের দাবি।
উল্লেখ্য, রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ ছিল। সেই সময় রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকারের মধ্যে আর্থিক ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে প্রকল্পের কাজ এবং অর্থ বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার থাকায় সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি পুনরায় চালু হয়েছে । ১ জুলাই থেকে ১২৫ দিনের কাজ শুরু হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বহু পরিবারের আয়ের সুযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
গ্রামীণ শ্রমিকদের মতে, অতিরিক্ত ২৫ দিনের কাজ তাদের পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা আরও কিছুটা বাড়াবে। বর্ষাকাল এবং কৃষিকাজের ফাঁকে এই প্রকল্পের কাজ তাদের নিয়মিত আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হয়ে উঠবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

Share This
Categories
বিবিধ

কুমারহাট-প্রয়াগ-ক্ষেত্রহাটে বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত, সমস্যায় সাধারণ মানুষ।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বেশ কয়েকদিন ধরে মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাটের কুমারহাট, প্রয়াগ,ক্ষেত্রহাট সহ বেশ কিছু এলাকায় বৈদ্যুতিক পরিষেবা ব্যাহত। যার কারনে কার্যত ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকার সাধারণ মানুষদের। এলাকার মানুষজনদের অভিযোগ হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হলেই বৈদ্যুতিক পরিষেবা বন্ধ। এর কারণেই এলাকার বৃদ্ধ মানুষজন থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষজনদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয় পরিবার-পরিজনদের। ইতিমধ্যেই সংবাদ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে বৈদ্যুতিক দপ্তরকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে বৈদ্যুতিক পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।

Share This
Categories
বিবিধ

খামারে গোখরা সাপের তাণ্ডব, সর্পবন্ধুর তৎপরতায় উদ্ধার বিষধর।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- এক গৃহস্থের মুরগির খামারে ঢুকে বেশ কয়েকটি মুরগির ডিম আস্ত গিলে নিল একটি গোখরা সাপ। খামারে থাকা দুটি মুরগি কেও কামড়ে মেরে দিয়েছে সাপটি। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ক্ষীরপাই পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাতর পাড়া এলাকার ঘটনা। শুক্রবার স্থানীয় সর্প বন্ধু মলয় ঘোষ এসে সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। একটা দুটো করে মোট সাতটি ডিম খেয়েছিল সাতটি। সাপটি উদ্ধারের পর সব ডিম গুলি পেট থেকে বের করে দেয় সাপটি। বর্ষাকালের সাপের উপদ্রব থাকেই। এই সময় সাপ থেকে রেহাই পেতে কি করনীয় ব্যাখ্যা করলেন মলয় ঘোষ।

Share This
Categories
বিবিধ

দ্বারিগেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালের পরিষেবা উন্নয়নে ৮ দফা দাবি, স্বাস্থ্য আধিকারিকের দ্বারস্থ যুব কংগ্রেস।।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:-পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গড়বেতা তিন নম্বর ব্লকের চন্দ্রকোনারোড শহর সংলগ্ন দ্বারিগেড়িয়া গ্রামীণ হাসপাতালের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পরিকাঠামোর বিষয় নিয়ে শুক্রবার ব্লক যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি নিয়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। মূলত তাদের দাবিগুলি হল হাসপাতাল চত্বর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে,৬০ টি বেডের ব্যবস্থা করতে হবে, বিনামূল্যে সমস্ত পরীক্ষা করাতে হবে, গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনে সিজারের ব্যবস্থা করতে হবে, এই সব দাবিগুলি নিয়ে এই দিন স্মারকলিপি প্রদান করা হয় যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে। এই দিন উপস্থিত ছিলেন শালবনী বিধানসভার যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী বুলা কর্মকার,সাধারণ সম্পাদক তাজু মল্লিক,আমরান খান, বাবর আলী খান সহ অন্যান্য যুব কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকেরা।

Share This
Categories
বিবিধ

বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা, গোপালনগর বিহারীলাল বিদ্যাপীঠে সচেতনতামূলক শিবির।

পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বাল্যবিবাহ মুক্ত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলার পাঁশকুড়া থানার গোপালনগর বিহারীলাল বিদ্যাপীঠে অনুষ্ঠিত হলো ছাত্রীদের নিয়ে সচেতনতা শিবির।এই সচেতনতা মুলক শিবিরের আয়োজন করে পাঁশকুড়া থানা ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “শক্তি বাহিনী” । এই সচেতনতা শিবিরের মাধ্যমে কম বয়সে বা ন্যূনতম ১৮ বছরের আগে মেয়েদের বিয়ে যাতে না দেওয়া হয়।কম বয়সে বিয়ে দিলে মেয়েদের কি কি শারীরিক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। কম বয়সে স্কুল পালিয়ে বিয়ে করার প্রবণতায় কতটা সমস্যার মধ্যে পড়তে হবে,সে বিষয়ে ছাত্রীদের নিয়ে আলোচনা করা হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন উপস্থিত ছিলেন পাঁশকুড়া থানার আই সি শুভব্রত নাথ,লেডি এস আই গার্গী ব্যানার্জী,এছাড়া উপস্থিত ছিলেন এসআই সৌমেন মন্ডল ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।এদিন গোপালনগর হাই স্কুলের অষ্টম থেকে দশম শ্রেণীর ছাত্রীরা এই সেমিনারে অংশ নেয়।

Share This