Categories
রিভিউ

আজ ৩০ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ৩০ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক) স্বাধীনতা দিবস, ভানাতু প্রজাতন্ত্র।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯৪৫ – পাত্রিক মোদিয়ানো, ফরাসি ঔপন্যাসিক।

১৯৪৭ – ফ্রাঁসোয়াজ বারে সিনৌসি‌, ফরাসি ভাইরোলজিস্ট।

১৯৪৭ – আর্নল্ড শোয়ার্জনেগার, অস্ট্রিয়ান-আমেরিকান বডিবিল্ডার, অভিনেতা, মডেল, ব্যবসায়ী এবং রাজনীতিবিদ।

১৯৪৮ – জঁ রেনো, মরোক্কো ও ফরাসি অভিনেতা।

১৯৫৫ – ববিতা, বাংলাদেশী অভিনেত্রী।

১৯৬০ – রিচার্ড লিংকলেটার, মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার।

১৯৬১ – লরেন্স ফিশবার্ন, মার্কিন অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার।

১৯৬৪ – ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, জার্মান ফুটবলার ও ফুটবল কোচ।

১৯৬৫ – টিম মানটন, ইংলিশ ক্রিকেটার।

১৯৬৯ – এরল স্টুয়ার্ট, সাবেক দক্ষিণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ও রাগবি ইউনিয়ন খেলোয়াড়।

১৯৭০ – ক্রিস্টোফার নোলান, ইংরেজ-মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রযোজক এবং চিত্রনাট্যকার।

১৯৭৪ – হিলারি সোয়াঙ্ক, মার্কিন অভিনেত্রী।

১৯৭৫ – তাজিন আহমেদ, বাংলাদেশী অভিনেত্রী, সাংবাদিক ও উপস্থাপক।

১৯৮২ – জেমস অ্যান্ডারসন, ইংরেজ ক্রিকেটার।

১৯৯২ – ফাবিয়ানো কারুয়ানা, ইতালীয়-মার্কিন দাবাড়ু।

১৯৯৫ – ইরভিং লোজানো, মেক্সিকান ফুটবলার।

১৯৯৬ – সাবরিনা পড়শী, বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী।

১৮১৮ – এমিলি ব্রন্টি, ইংরেজ ঔপন্যাসিক ও কবি।

১৮৫৫ – জার্মান শিল্পপতি সিমেন্স কম্পানির প্রতিষ্ঠাতা জর্জ ভিলহেম ফন সিমেন্স।

১৮৬২ – নিকোলাই ইউদেনিচ, রাশিয়ান জেনারেল।

১৮৬৩ – হেনরি ফোর্ড, মার্কিন ব্যবসায়ী এবং বহু উৎপাদন পদ্ধতিতে ব্যবহৃত বিন্যাসকরণ সজ্জার জনক।।

১৮৭৪ – বিলি মেরেডিথ, ব্রিটিশ ফুটবলার।

১৮৮২ – বিপ্লবী সত্যেন্দ্রনাথ বসু ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক বিপ্লবী-শহীদ।

১৮৮৬ – ভারতীয় চিকিৎসক ও সমাজ সংস্কারক মুথুলক্ষ্মী রেড্ডী।

১৮৮৭ – কাজী মোতাহার হোসেন, বাংলাদেশী পরিসংখ্যানবিদ, বিজ্ঞানী, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।

১৮৯৩ – ফাতেমা জিন্নাহ, পাকিস্তানি দন্তচিকিৎসক, জীবনীলেখক, রাজনীতিবিদ ও পাকিস্তানের নেতৃত্বস্থানীয় প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন।

১৮৯৮ – হেনরি মুর, ইংরেজ শিল্পী।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯১৪ – প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু।

১৯৩৫ – বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা পেঙ্গুইনের বই প্রথম প্রকাশিত হয়।

১৯৪৮ – লিভারপুলে বিশ্বের প্রথম বন্দর রাডার কেন্দ্র স্থাপিত হয়।

১৯৫৭ – ভারতে রপ্তানিতে সহায়তা প্রদানের জন্য ইসিজিসি লিমিটেড (পূর্বতন এক্সপোর্ট ক্রেডিট গ্যারান্টি কর্পোরেশন লি) গঠিত হয়।

১৯৬৯ – মার্কিন নভোখেয়া মেরিনার ৬-এর মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে মঙ্গল গ্রহ থেকে পৃথিবীতে ছবি পাঠানো হয়।

১৯৮০ – পূর্ব অষ্ট্রেলিয়ার দ্বীপ দেশ ভানুয়াটো স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৯৮ – জাপানে কাইজো ওবুচি নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

১৬০২ – মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় হল্যান্ডের রাজনৈতিক প্রভাব ও উপনিবেশিক তৎপরতা শুরু হয়।

১৬২৯ – ইতালির নেপলস শহরে ভূমিকম্পে ১০ হাজার লোকের প্রাণহানি।

১৬৫৬ – পোলিশদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে ওয়ারশ যুদ্ধের অবসান হয়।

১৫০২ – ক্রিস্টোফার কলম্বাস তার ৪র্থ সমুদ্র যাত্রায় হন্ডুরাসের উপকূলবর্তী গুয়ানায়া দ্বীপে অবতরণ করেন।

৭৬২ – আব্বাসীয় খলিফা আল-মনসুর কর্তৃক বাগদাদ শহরের প্রতিষ্ঠা।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৪ – হীরেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি রাজনীতিবিদ, ইতিহাসবিদ ও শিক্ষাবিদ।

২০০৭ – (ক) ইংমার বারিমান, সুইডিশ মঞ্চ ও চলচ্চিত্র নির্দেশক।

(খ) – মিকেলাঞ্জেলো আন্তোনিওনি, ইতালীয় আধুনিকতাবাদী চলচ্চিত্র পরিচালক।

২০২০ – সোনম শেরিং লেপচা ভারতের লেপচা সংস্কৃতির ধারক,বাহক ও সংরক্ষক।

১৯৪৭ – জর্জ চ্যালেনর, ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটার।

১৯৫৬ – যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধি, বাঙালি পণ্ডিত ও বাঙলা শব্দকোষ প্রণেতা।

১৯৮০ – গোপাল ঘোষ, বাঙালি চারুশিল্পী।

১৯৮৪ – মরিস ট্রেমলেট, ইংরেজ ক্রিকেটার।

১৯৮৭ – বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালী ঔপন্যাসিক ও ছোট গল্পকার।

১৮৯৮ – অটো ফন বিসমার্ক, জার্মান সাম্রাজ্যের স্থপতি ও প্রথম জার্মান চ্যান্সেলর।

১৭৭১ – টমাস গ্রে, ইংরেজ কবি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ঊনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার, প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি : দিলীপ  রায়।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার । তাঁর পসম্পর্কে বলা যেতে পারে, তিনি লেখক, দার্শনিক, পণ্ডিত, অনুবাদক, প্রকাশক ও মানবহিতৈষী । সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য প্রথম জীবনেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন । সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও অপরবোধ্য করে তোলেন । বাংলা গদ্যের সার্থক রূপকার তিনিই ।
বিদ্যাসাগরের যখন জন্ম (১৮২০), তখন শিক্ষা সংস্কারে ও বাংলা ভাষার আধুনিকরণের একটা ডামাডোল পরিস্থিতি । বিশৃঙ্খলার বাতাবরণ । শিক্ষার লক্ষ্য, পদ্ধতি ও পাঠক্রম নিয়ে চলছিল নানান বিতর্ক । অথচ বাঙালী সমাজ জানে, আধুনিক শিক্ষা ও সমাজ  সংস্কারে বিদ্যাসাগরের গৌরবময় অবদানের কথা ।

তাঁর নির্মিত বাংলা ভাষার ভিত্তির ওপরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম অধ্যায় । বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে বোধগম্য এবং সবরকমের ভাব ও চিন্তা প্রকাশের যোগ্য করে তুলেছিলেন । তাই আজও বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় ।
আটপৌরে বাঙালি পোশাকে বিদ্যাসাগর ছিলেন সর্বত্রগামী । প্রবল জেদ ও আত্নসম্মানবোধ নিয়ে সরকারি চাকরি করেছেন, দ্বিরুক্তি না করে ইস্তফা দিয়েছেন । পাঠ্যবই লিখে ছেপে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছেন, দানের জন্য ধারও করেছেন ।  উনিশ শতকে সমাজ বদলের সব আন্দোলনেই তিনি ছিলেন পুরোভাগে । এমন ব্যক্তিত্ব সবসময়ে  ব্যতিক্রম ।
বিদ্যাসাগরের একটা আপ্ত বাক্য আজও সমাজজীবনে উজ্জীবিত, “কোনো বিষয়ে প্রস্তাব করা সহজ, কিন্তু নির্বাহ করে ওঠা কঠিন” । অথচ তিনি এককভাবে ধুতিচাদর পরে একটার পর একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা বাস্তবায়িত করে গেছেন, যেমন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যঃ শিক্ষার সংস্কার ও বিধবা বিবাহ প্রচলন । এটা সর্বজনবিদিত, বিদ্যাসাগরের লড়াইটা ছিল একার লড়াই । বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে বিশ্বকবি  রবীন্দ্রনাথের  মন্তব্য পরিষ্কার, তিনি গতানুগতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন  স্বতন্ত্র, সচেতন ও পারমার্থিক ।
এটা অনস্বীকার্য যে,  বাঙালী সমাজে আজও বিদ্যাসাগরের প্রদীপ্ত উপস্থিতি ‘বর্ণপরিচয়’ দিয়ে । প্রাথমিক শিক্ষায় ‘বর্ণপরিচয়’ এর  মাহাত্ম্য সকলের জানা । মুর্শিদাবাদ  জেলার শক্তিপুর হাই স্কুলের বাংলা ক্লাসের  দিদিমণি আমার রচনা লেখার গঠন অবলোকন করে হঠাৎ তাঁর সম্মুখে তিনি আদর করে ডেকে আমাকে বললেন, “তুই বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ গ্রন্থের নাম শুনেছিস” ? মাথা নেড়ে আমি  বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় গ্রন্থটির নাম শুনেছি জানালাম ।  তারপর চুপি চুপি বাংলা বিষয়ের শ্রদ্ধেয়া দিদিমণি বললেন, রোজ রাতে শোওয়ার আগে বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’  বইখানা পড়বি । রচনা লেখার সময়ে তোর বানানের জড়তা কেটে যাবে ।“  সুতরাং শৈশব থেকে বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় আজও অমলিন । সেই বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ অতিক্রান্ত  । তাই দুশো বছর ধরে শিক্ষা জীবনের বাস্তবতায় ও শিক্ষা বিকাশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগর আজও প্রাসঙ্গিক ।
বিদ্যাসাগর যখন জন্মগ্রহন করেছিলেন সেই  সময়টা ছিল রামমোহনের যুগ, যিনি একজন শিক্ষিত ও অগ্রণী পুরুষ ছিলেন এবং সমাজ সংস্কারের অন্যতম কারিগর ।  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর  মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । ঈশ্বরচন্দ্রের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন সুপণ্ডিত ও বলিষ্ঠ দৃঢ়চেতা পুরুষ। তিনিই ঈশ্বরচন্দ্রের নামকরণ করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধায় কলকাতায় স্বল্প বেতনের চাকরিতে খুব কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করতেন । পরিবার নিয়ে শহরে বাস করা তাঁর সাধ্যের অতীত ছিল। সেই কারণে বালক ঈশ্বরচন্দ্র গ্রামেই মা ভগবতী দেবী’র  সঙ্গে বাস করতেন।
পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির ছ’মাসের মধ্যেই পাঁচ টাকা বৃত্তি পান ।  তাঁর প্রতিভার অসাধারণ ক্ষমতা দেখে শিক্ষকেরা সকলে স্তম্ভিত । তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি দু-বছর ওই কলেজে ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্মজীবন শুরু করেন ফোর্ট উইলিয়াম (১৮৪১) কলেজের প্রধান পন্ডিত হিসাবে । ঐসময়েই  তাঁর ইংরেজি শিক্ষার যথাযথ শিক্ষালাভ । কেননা বিদ্যাসাগরকে সকলে জানতেন সংস্কৃতের পণ্ডিত হিসাবে । ইংরেজি হাতের লেখাও ছিল নজরকাড়া । ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে অর্থাৎ ১৮৫১ সালের ২২শে জানুয়ারী ঐ  কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কলেজের অনেক সংস্কার করেন।  ঐ সময়েই ১৮৫১ সালে বিদ্যালয় দেখলেন, সংস্কৃত কলেজে গোড়া থেকেই  শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ ও বৈদ্য সন্তানদের পড়বার অধিকার ছিল । কিন্তু বৈদ্যদের আবার ধর্মশিক্ষায় ছিল আপত্তি । স্বভাবতই প্রশ্ন উঠল কায়স্থ ও অন্যান্য হিন্দু বর্ণদের কথা । তখনকার পণ্ডিত সমাজের তোয়াক্কা না করে, বিদ্যাসাগর তদানীন্তন কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সেক্রেটারিকে জানিয়ে দিলেন ব্রাম্মণ ও বৈদ্য ছাড়া অন্যান্য বর্ণের বিশেষ করে শূদ্রদের সংস্কৃত কলেজে প্রবেশে তাঁর আপত্তি নেই । যদিও সেই সময় সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকরা বিদ্যাসাগরের মতে গররাজী ছিলেন, তথাপি বিদ্যাসাগরের মতটাকেই মান্যতা দিয়েছিলেন তদানীন্তনকালের কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সেক্রেটারি । এবং পর পরই ১৮৫৪ সালের শেষে বিদ্যাসাগর হিন্দুদের সব শ্রেনীর জন্য সংস্কৃত কলেজের দরজা খুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন এবং সেই প্রস্তাব যথাসময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ।
সংস্কৃত কলেজের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ এবং বাংলা ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন ছাড়া,  শিক্ষা প্রসারে তাঁর আরও অবদান সর্বজনবিদিত ।  ১৮৫৪ সালে চার্লস উডের শিক্ষা সনদ গৃহীত হওয়ার পর সরকার গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশে ১৮৫৫ সালের মে মাসে বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদের অতিরিক্ত সহকারী স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি এবং মেদিনীপুর জেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে বাংলা ভাষাকে সহজবোধ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন । ১৮৫৫ সালে বাংলা নববর্ষের দিনে  বর্ণপরিচয়ের প্রথমভাগ  প্রকাশ করে তিনি বাঙালীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা) ও বেথুন সোসাইটিসহ আরও কিছু সংগঠনের সম্মানিত সভ্য ছিলেন। ১৮৫৮ সালে যাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফেলো নির্বাচিত হন,  তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম।  ১৮৫৯ সালে তিনি “ক্যালকাটা ট্রেনিং স্কুল” স্থাপনে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। ১৮৬৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় “হিন্দু মেট্রেপলিটন ইসস্টিটিউট”। ইংরাজ অধ্যাপকের সাহায্য ছাড়া এবং কোনোরকম সরকারি সাহায্য ছাড়া, বিদ্যাসাগর স্কুলটিকে ১৮৭২ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে পরিণত করেছিলেন । বর্তমানে এর নাম “বিদ্যাসাগর কলেজ”। এটি দেশের প্রথম কলেজ যার প্রতিষ্ঠাতা – পরিচালক – শিক্ষক স্কলেই ভারতীয় ।  এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন লাভ করেন।
ব্রাম্মণ হয়েও বিদ্যাসাগর ত্রিসন্ধ্যা জপ করেননি । কোনো  মন্দিরে যাননি এবং ঈশ্বর  বিষয়ক কোনো লেখা তিনি লেখেননি । বিদ্যাসাগর ছিলেন নাস্তিক । ধর্ম সম্বন্ধে  তিনি শুধু মনে করতেন জগতের কল্যাণসাধন ও বিদ্যাচর্চা । এপ্রসঙ্গে কবি শঙ্খ ঘোষের উক্তিটি প্রনিধাযোগ্য, ধর্মের কোন বহিরঙ্গ মানতেন না । তিনি, আচরণও করতেন না । এখন যেমন অনেকে বলেন, ধর্মটা ব্যক্তিগত ব্যাপার, অনেকটা সেইরকম ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ, বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন । সেদিনের সমাজে প্রচলিত প্রথার নির্মম পরিণতির জন্য নারীদের ভাগ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন আপামর জনতা অবলোকন করেছিলেন । শোনা যায়, একসময় রাজা  রাজবল্লভ নিজের বালবিধবা কন্যাকে পুনর্বিবাহ দেওয়ার অনুমতি সমাজের পণ্ডিতদের কাছ থেকে পেয়েও সেই বিবাহ কারও কারও বাধায় দিতে পারেননি ।  বিদ্যাসাগরের “বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা” বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ ও সমাজ চমকে উঠেছিল । শেষ পর্য্যন্ত ১৮৫৫ সালের ১৬ই  জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়  । তারপর ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন স্রকারিভাবে আইন হিসাবে মঞ্জর হয় ।   বিদ্যাসাগরের দরদী হৃদয় কেঁদেছিল সেকালের সমগ্র হিন্দু নারী সমাজের দুর্গতি দুর্দশায় । বিধবা বিবাহ আইন নামে পরিচিত ১৮৫৬ সালের আইনটি কেবলমাত্র বিধবা নারীর দ্বিতীয় বিবাহের স্বীকৃতি দেয়নি, আইনটি যেমন বিবাহকে আইনসিদ্ধ করে তেমনই মৃত স্বামীর এবং দ্বিতীয় বিবাহের এবং পৈত্রিক বিষয় সম্পত্তিতে অধিকার সুনিদ্দিষ্ট করে ।  বিভিন্নভাবে জানা যায়, ১৮৫৬ থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত মোট ৬০টি বিধবা বিবাহ সংঘটিত   হয়  ।  আরও      জানা   যায়,   বিদ্যাসাগর     ও  তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচণ্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন। পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী। তা ছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি। এতে একটা জিনিস পরিস্কার,  বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে বিদ্যাসাগরের দৃঢ় সংকল্প শতভাগ সফল ।
তিনি হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় তৈরি করেন, যাকে পরবর্তীতে বেথুন কলেজ নামকরণ করা হয়। নারীদের শিক্ষার দিকে আনার জন্য তিনি একটি অর্থায়নের ব্যবস্থা করেন, যা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠা ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল। এখান থেকে মেয়েদের শিক্ষার জন্য যাবতীয় অর্থের ব্যবস্থা করা হতো। ১৮৫৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৮৫৮ সালের মে মাস অবধি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে বিদ্যাসাগর ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।
বিদ্যাসাগরের দয়া এবং মানবিকতার জন্যে তিনি করুণাসাগর নামে পরিচিত । দরিদ্রদের দানে তিনি সর্বদাই মুক্তহস্ত ছিলেন ।  তিনি তাঁর দান এবং দয়ার জন্যে বিখ্যাত হয়েছিলেন । এখানে বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র উক্তি প্রনিধানযোগ্য,
“বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে,
করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,
দীন যে, দীনের বন্ধু ! উজ্জ্বল জগতে
হেমাদ্রির হেম কান্তি অম্লান কিরণে” ।
তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি ঐতিহ্যিক এবং রক্ষণশীল পরিবারে এবং সমাজ সংস্কারের জন্যে তিনি যুক্তিও দিতেন হিন্দু শাস্ত্র থেকে কিন্তু তিনি ছিলেন ধর্ম ও ঈশ্বর সম্পর্কে সন্দিহান মনের। তাঁর বোধোদয় গ্রন্থ যেমন তিনি শুরু করেছেন পদার্থের সংজ্ঞা দিয়ে । পরে সংজ্ঞা দিয়েছেন ঈশ্বরের,  যাঁকে তিনি বলেছেন সর্বশক্তিমান, সর্বত্র বিরাজমান চৈতন্যস্বরূপ।
তিনি তাঁর একক ও সহযোগীর উদ্যোগে রেখে গেলেন আধুনিক ব্যবহারযোগ্য একটি (উচ্চারণ অনুযায়ী ও মুদ্রণযোগ্য) বাংলা ভাষা, প্রাথমিক ও নীতিশিক্ষার বহু জনপ্রিয় গ্রন্থ, বাংলা মাধ্যম স্কুলব্যবস্থা ও নারীশিক্ষার পাকা বুনিয়াদ । মাতৃ/বাংলা ভাষার শিক্ষার আর একটি প্রাক শর্ত হল ভাল পাঠ্যপুস্তকের সুলভতা । বিদ্যাসাগরের সময় তার যথেষ্ট অভাব ছিল । বিদ্যাসাগরকেও অবতীর্ণ হতে দেখা যায় এক দিকে, বাংলায় ব্যকরণসিদ্ধ মুদ্রণযোগ্য অক্ষর ও বানান সংস্কার করে, নানা পাঠ্যপুস্তক রচনা, ছাপা ও বিপণনের আয়োজন । পাঠ্যপুস্তক রচনার পাশাপাশি ছাপা  বইয়ের সম্পাদনা ও সম্মার্জনার প্রতি তাঁর অখণ্ড মনোযোগ চিরদিন বজায় ছিল । একবার  তিনি হতদরিদ্র সাঁওতালদের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন তিনি, সেই সময় (১৮৭৮) চর্যাপদের আবিস্কর্তা, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও তাঁর এক সঙ্গী লখনউ যাওয়ার পথে এক রাত বিদ্যাসাগরের আতিথ্যগ্রহণ করেন । রাত্রে বিশ্রামের পর সকালে উঠে শাস্ত্রী মশাই দেখলেন, “বিদ্যাসাগর মহাশয় বারান্দায় পাইচারি করিতেছেন এবং মাঝে মাঝে টেবিলে বসিয়া কথামালা কি বোধোদয়ের প্রূফ দেখিতেছেন । প্রূফে  বিস্তর কাটকুটি  করিতেছেন । যেভাবে প্রূফগুলি পড়িয়া আছে, বোধ হইল, তিনি রাত্রেও প্রূফ দেখিয়াছেন । আমি বলিলাম, কথামালার প্রূফ আপনি দেখেন কেন ? তিনি বলিলেন, ভাষাটা এমন জিনিস, কিছুতেই মন  স্পষ্ট হয় না ; যেন আর একটা শব্দ পাইলে ভাল হইত ; — তাই সর্বদা কাটকুটি করি । ভাবিলাম — বাপ রে, এই বুড়ো বয়সেও ইহার বাংলার ইডিয়ামের ওপর এত নজর ।“ (সূত্রঃ অ-বা-প,পৃঃ৪/ ২৭-৯-১৯) ।
এই অনন্য ও  বিরাট ব্যক্তিত্বের মানুষটি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ধর্মের কোনও বহিরঙ্গ মানতেন না এমনকি, আচরণও করতেন না ।   অথচ চালচলনে তিনি ছিলেন নিতান্তই সাদাসিধে ।  খুব বিনয়ী  এবং জীবনে  দৃঢ় সংকল্প এবং উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে ছিলেন  তিনি দৃঢ় মনোভাবাপন্ন । তিনি ছিলেন  একাধারে মহান সমাজ সংস্কারক  অন্যদিকে এক জন শিক্ষাবিদ  এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন অবিরাম । ভারতে শিক্ষার প্রতি তার অবদান এবং নারীর অবস্থার পরিবর্তন জন্য তিনি চিরস্বরণীয়। তাঁর অবর্ণনীয় মাতৃ ভক্তি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে আজও চর্চিত ।
হিন্দু ধর্মের কুসংস্কারের বিরোধী, বিধবা বিবাহের প্রচলনকারী, নারী শিক্ষার প্রবর্তক, উনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক, বর্ণপরিচয় ও বহু গ্রন্থের রচয়িতা, মহান শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিনের প্রাক্কালে তাঁর মহান স্মৃতির প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য ।
————————-০——————————

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং পালনের গুরুত্ব।

সমগ্র বিশ্বে বাঘের সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৯ জুলাই তারিখে আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস বা বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হয়।২০১০ সালে সেণ্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ব্যাঘ্র অভিবর্তনে এই দিবসের সূচনা হয়। এই দিবস পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য হল বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘের সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করে এর সম্পর্কে থাকা ভুল ধারণা ও ভয় দূর করা। প্রতি বছর বিভিন্ন কার্যসূচীর মাধ্যমে এই দিবস পালন করা হয়। বাঘ ভারতের জাতীয় পশু হওয়ার কারণে এই দিবসের মহত্ব এখানে বেশি ধরা হয়।
২০১০ সালে নভেম্বরে প্রথম বাঘ দিবস উদযাপিত হয়। বিংশ শতকের গোড়া থেকেই বন্য বাঘের সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে যায়। এই বিষয়টি উপলব্ধি করার পরেই বাঘ দিবস পালনের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়। রাশিয়ায় সেন্ট পিটার্সবার্গ টাইগাই সামিটে প্রথম বাঘ দিবস পালিত হয়। বাঘেদের স্বাভাবিক বাসস্থান রক্ষা করাই ছিল এই সামিটের মূল উদ্দেশ্য।
সামিটে যে ১৩টি দেশ অংশগ্রহণ করে, সেগুলি হল – ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল, ভুটান, মায়ানমার, চিন, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, লাওস, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া এবং রাশিয়া। এই সামিটে ২০২২-এর মধ্যে বন্য বাঘের সংখ্যা ৬০০০-এর বেশি বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়।
সপ্তম বিশ্ব বাঘ দিবস গোটা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ভাবে পালন করা হয়। ভারত, বাংলাদেশ, নেপাল প্রভৃতি বাঘের বেশি ঘনত্ব থাকা দেশের সাথে ইংল্যান্ড ও আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রেও বিভিন্ন স্থানীয় কার্যসূচীর মাধ্যমে এই দিবস পালন করা হয়। কিছু জনপ্রিয় তারকা তাদের সোসাল মিডিয়ায় নিজেদের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে এতে অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংস্থা (WWF) এর রেঞ্জারসমূহে বিনিয়োগ করে “দ্বিগুণ বাঘ” অভিযান চালায়। কয়েকটি কোম্পানী বিশ্ব বন্যপ্রাণী সংস্থার সঙ্গে মিলিতভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

তথ্য অনুযায়ী বিংশ শতকের গোড়া থেকেই বন্য বাঘের সংখ্যা ৯৫ শতাংশ কমে যায়। বিষয়টি উপলব্ধি করার পরেই বাঘ দিবস পালনের বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়।প্রতি বছর বিভিন্ন কার্যসূচীর মাধ্যমে এই দিবস পালন করা হয়। বাঘ ভারতের জাতীয় পশু হওয়ার কারণে এই দিবস আমাদের দেশের একটু বেশিমাত্রায় উপযোগী। গোটা বিশ্বে নগরায়নের কারণে বাঘেরা তাদের স্বাভাবিক বাসস্থানের ৯০ শতাংশই হারিয়ে ফেলেছে। বর্তামানে বিশ্বে বাঘের সংখ্যা ৪০০০-এরও কম।
আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস বা বিশ্ব বাঘ দিবস সমগ্র বিশ্বে বাঘের সংরক্ষণের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতি বছর ২৯ জুলাই তারিখে পালন করা হয়। ২০১০ সালে সেণ্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত ব্যাঘ্র অভিবর্তনে এই দিবসের সূচনা হয়। বিশ্ব বাঘ দিবস পালনের মুখ্য উদ্দেশ্য হল বাঘের প্রাকৃতিক আবাস রক্ষা করা এবং বাঘের সংরক্ষণের জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করা। এছাড়াও বাঘের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে থাকা ভুল ধারণা ও ভয় দূর করাও আন্তর্জাতিক বাঘ দিবস পালনের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্যে।
ভারতের জাতীয় পশু বাঘ হওয়ায় ভারতে এই দিনটি বিশেষ উল্লেখযোগ্য। বাঘেদের স্বাভাবিক বাসস্থান বৃদ্ধি ও বাঘের সংখ্যা বাড়ানো এই বাঘ দিবসের মূল উদ্দেশ্য।

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৯ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৯ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

(ক) জাতীয় থাই ভাষা দিবস, থাইল্যান্ড।

(খ) জাতীয় সংগীত দিবস,রোমানিয়া।

(গ) আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

 

১৯০৪ – জাহাঙ্গীর রতনজী দাদাভাই টাটা, ভারতীয় শিল্পপতি।

১৯০৫ – দগ হামারহোল্ড, সুয়েডীয় কূটনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ এবং লেখক।

১৯৩৫ – সৈয়দ হাসান ইমাম, বাংলাদেশী অভিনেতা, ও আবৃত্তিকার।

১৯৫১ – রেজাউল বারী ডিনা, বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ।

১৯৫৩ – অনুপ জালোটা ভজন ও গজলের খ্যাতিমান ভারতীয় গায়ক।

১৯৫৯ – সঞ্জয় দত্ত, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।

১৮৪১ – অঁরি ফেয়ল, ফরাসি খনি প্রকৌশলী ও খনির পরিচালক।

১৮৪৩ – ইয়োহানেস শ্মি‌ট‌, জার্মান ভাষাবিজ্ঞানী।

১৮৬৯ – বুথ টার্কিংটন, মার্কিন ঔপন্যাসিক ও নাট্যকার।

১৮৮৩ – বেনিতো মুসোলিনি, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ কালে ইতালির সর্বাধিনায়ক।

১৮৮৮ -দীনেশরঞ্জন দাশ, বাঙালি লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক ।

১৮৯২ – উইলিয়াম পাওয়েল, মার্কিন অভিনেতা।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৫ – জ্যোর্তিবিদরা সৌরজগতের অন্যতম বামন গ্রহ এরিস আবিষ্কার করেন।

১৯১১ – কলকাতার মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাব ইষ্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্ট দলকে হারিয়ে প্রথম আইএফএ শীল্ড লাভ করে।

১৯২১ – এডলফ হিটলার জার্মানির জাতীয় সমাজতান্ত্রিক ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা নির্বাচিত হোন।

১৯৫৭ – আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন গঠিত হয়।

১৯৫৮ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্‌স অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অথবা নাসা প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৮৭ – ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী ইংলিশ চ্যানেলের নিচে সুরঙ্গপথ (ইউরোটানেল) নির্মাণের চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

১৮৫১ – অ্যানেবেল দ্য গ্যাসপ্যারিস ১৫ ইউনোমিয়া অ্যাস্টরয়েড আবিষ্কার করেন।

১৮৫৮ – যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের মধ্যে হ্যারিস চুক্তি স্বাক্ষরিত।

১৮৭৬ – ডা মহেন্দ্রলাল সরকার উচ্চ শিক্ষার জাতীয় প্রতিষ্ঠান ও বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্র ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কালটিভেশন অফ সাইন্স কলকাতায় প্রতিষ্ঠা করেন।

১৮৯৯ – যুদ্ধ ও যুদ্ধপরাধ সংক্রান্ত প্রথম হেগ কনভেনশন স্বাক্ষরিত হয়।

১৫৬৭ – রাজা ষষ্ঠ জেমস স্কটল্যান্ডের সিংহাসনে আরোহণ করেন।

১৫৮৮ – ব্রিটিশ রাজকীয় নৌবাহিনী এ্যাংলো-স্প্যানিশ যুদ্ধে ফ্রান্সের গ্রেভলাইনস সমুদ্র তীরে স্প্যানিশ আর্মাডাকে পরাজিত ও ধ্বংস করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৪ – প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায় , বাঙালি নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী।

২০১৮ – রমাপদ চৌধুরী , বাঙালি ঔপন্যাসিক এবং গল্পকার।

১৯৬২ – রোনাল্ড ফিশার, বিখ্যাত পরিসংখ্যানবিদ।

১৯৬৯ – আন্দলিব সাদানী, ফার্সি ও উর্দু ভাষার কবি, গল্পকার, গবেষক এবং সমালোচক।

১৯৮৩ – রেমন্ড ম্যাসি, কানাডীয়-মার্কিন অভিনেতা, পরিচালক ও প্রযোজক।

১৯৮৩ – লুইস বুনুয়েল, স্পেনীয় চলচ্চিত্র পরিচালক ও সুরিয়ালিস্ট আন্দোলনের নেতা।

১৯৯৪ – ডরোথি মেরি হজকিন, ব্রিটিশ রসায়নবিদ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী।

১৯৯৬ – ভারতরত্ন অরুণা আসফ আলী ,ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সংগ্রামী ও সমাজকর্মী।

১৯৯৬ – মার্সেল পল শোয়োতজেনবার্গার, ফরাসী গণিতবিদ।

১৯৯৮ – জেরোম রবিন্স, মার্কিন পরিচালক, নৃত্যশিল্পী, নৃত্য পরিচালক ও মঞ্চ প্রযোজক।

১৮৯১ – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, ঊনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার।

১৮৯০ – ভিনসেন্ট ভ্যান গখ, ওলন্দাজ চিত্রকর।

১০৯৯ – পোপ দ্বিতীয় আরবান।

১১০৮ – ফরাসী রাজা প্রথম ফিলিপ।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটি পালনের গুরুত্ব।

আজ বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস,প্রতি বছর ২৮ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ৷ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস আবিষ্কারক নোবেলবিজয়ী বিজ্ঞানী বারুচ স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ জন্মদিনে চিকিৎসাবিদ্যায় তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিবছর এইদিনে (২৮ জুলাই) হেপাটাইটিস দিবস উদযাপন করা হয়। সরাবিশ্বের মতো ভারতেও গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয় এ দিবস। দিবসটির উদ্দেশ্য হচ্ছে সারাবিশ্বে হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা; রোগনির্ণয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা ৷বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, সারা বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ হেপাটাইটিসের কোনো না কোনো ধরনে আক্রান্ত। অথচ প্রতি ১০ জনের ৯ জনই জানেন না যে, তাদের হেপাটাইটিস আছে। প্রতিবছর গোটা বিশ্বে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ১.৪ মিলিয়ন লোক মারা যায় ৷ ফলে ভাইরাসটি প্রতিরোধে অসচেতনতা ও সময় মতো শনাক্ত না হওয়ায় অসংখ্য রোগী চিকিৎসার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। যা অনাকাঙ্খিত মৃত্যুর ঘটনা বাড়াচ্ছে।

 

হেপাটাইটিস লিভার টিস্যুর প্রদাহ জনিত একটি জটিল রোগ। এই সংক্রমণে প্রথম দিকে কোন লক্ষণ প্রকাশ পায় না। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্তদের অল্প কিছু লক্ষণ দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, চামড়া হলুদ হওয়া, ক্লান্তি, পেট ব্যাথা, প্রস্রাব হলুদ ইত্যাদি।
সাধারণত এই লক্ষণগুলো কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয় এবং অল্প কিছু লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার পর দীর্ঘ ভোগান্তি শেষে রোগীর মৃত্যু হয়। ভাইরাসটির সংক্রমণের পর রোগের লক্ষণ প্রকাশ পেতে ৩০ থেকে ১৮০ দিন সময় লাগতে পারে।
হেপাটাইটিস ভাইরাসের ভ্যারিয়েন্ট বিভিন্ন ধরনের হতে পারে। যেমন: হেপাটাইটিস এ, হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি, ডি এবং হেপাটাইটিস ই। এদের মধ্যে হেপাটাইটিস এ ও ই মূলত দূষিত খাবার এবং পানির মাধ্যমে ছড়ায়। হেপাটাইটিস বি প্রধানত যৌনবাহিত রোগ। তবে গর্ভাবস্থা বা প্রসবের সময় মা থেকে শিশুরাও এতে আক্রান্ত হতে পারে।
এছাড়া এটি রক্তের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে । হেপাটাইটিস সি সাধারণত সংক্রামিত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন, সিরিঞ্জের মাধ্যমে মাদক ব্যবহারকারীদের একত্রে মাদক নেওয়ার সময় এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। হেপাটাইটিস ডি শুধুমাত্র হেপাটাইটিস বিতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সংক্রামিত করতে পারে।

 

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপে অন্যতম আটটি অফিসিয়াল পাবলিক হেলথের মধ্যে একটি ৷ অন্যান্য দিবসসমূহ হলো বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস, বিশ্ব রক্তদাতা দিবস, বিশ্ব ইম্যুনাইজেশন সপ্তাহ, বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস, বিশ্ব তামাক দিবস, বিশ্ব ম্যালেরিয়া দিবস এবং বিশ্ব এইডস দিবস।

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস এর এ বারের থিম “ এক জীবন, এক লিভার ” থিমের অধীনে, WHO-এর বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের প্রচারাভিযান দীর্ঘ, সুস্থ জীবনযাপনের জন্য হেপাটাইটিস থেকে লিভারকে রক্ষা করার গুরুত্ব তুলে ধরে।

 

পটভূমি—-

 

২০০৮ সালের ২৮ জুলাই বিশ্ববাসীকে সচেতন করতে হেপাটাইটিস দিবস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করে ‘বিশ্ব হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্স’। ২০১১ সালে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসটিকে স্বীকৃতি দেয়। নোবেলবিজয়ী বিজ্ঞানী বারুচ স্যামুয়েল ব্লুমবার্গ হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস আবিষ্কার করেন। তিনি এই রোগ নির্ণয়ের জন্য পরীক্ষাব্যবস্থা উন্নত করেন ও টিকা দেওয়া শুরু করেন। চিকিৎসাবিদ্যায় তার এই অবদানকে স্বীকৃতি জানাতে তার জন্মদিনে (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালিত হয়।

 

 

 

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস এখন ১০০ টিরও বেশি দেশে বিনামূল্যে স্ক্রীনিং, পোস্টার প্রচারাভিযান, বিক্ষোভ, কনসার্ট, টক শো, ফ্ল্যাশ মব এবং টিকাদান ড্রাইভের মতো ইভেন্টের মাধ্যমে স্বীকৃত হয়।  প্রতি বছর ডব্লিউএইচও এবং ওয়ার্ল্ড হেপাটাইটিস অ্যালায়েন্স সারা বিশ্বের সমস্ত ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

 

বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস পালনের গুরুত্ব: —

 

হেপাটাইটিসের বিভিন্ন রূপ এবং সেগুলি কীভাবে সংক্রমিত হয় সে সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা;

ভাইরাল হেপাটাইটিস এবং এর সাথে সম্পর্কিত রোগ প্রতিরোধ, স্ক্রীনিং এবং নিয়ন্ত্রণকে শক্তিশালী করা;

হেপাটাইটিস বি ভ্যাকসিন কভারেজ বৃদ্ধি এবং জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে একীকরণ; এবং

হেপাটাইটিস একটি বিশ্বব্যাপী প্রতিক্রিয়া সমন্বয়.

 

দিবসটির উদ্দেশ্য হচ্ছে সারাবিশ্বে হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি ও ই সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা। রোগনির্ণয়, প্রতিরোধ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা ৷

 

 

 

প্রতি বছর একটি নির্দিষ্ট থিম উপর ফোকাস.  থিমের তালিকা নিম্নরূপ:

২০১১: হেপাটাইটিস প্রত্যেককে, সর্বত্র প্রভাবিত করে।  এটা জানেন.  এটা মোকাবিলা.  তার মুখোমুখি.

২০১২: এটি আপনার ধারণার চেয়ে কাছাকাছি।

২০১৩: এই নীরব হত্যাকারীকে থামাতে আরও কিছু করতে হবে।

২০১৪: হেপাটাইটিস: আবার চিন্তা করুন

২০১৫: ভাইরাল হেপাটাইটিস প্রতিরোধ।  এখনই কাজ করুন।

২০১৬: হেপাটাইটিস-এক্ট এখনই জানুন।

২০১৭: হেপাটাইটিস নির্মূল করুন।

২০১৮: পরীক্ষা।  চিকিৎসা।  হেপাটাইটিস।

২০১৯: হেপাটাইটিস নির্মূলে বিনিয়োগ করুন।

২০২০: হেপাটাইটিস মুক্ত ভবিষ্যত।

২০২১: হেপাটাইটিস অপেক্ষা করতে পারে না।

২০২২: হেপাটাইটিস যত্নকে আপনার কাছাকাছি নিয়ে আসা।

২০২৩ : এক জীবন, এক লিভার।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৮ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৮ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

 

(ক)  বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

২০০০ – ইরিনা তিথী, উদ্যোক্তা।

১৯০১ – বাংলাদেশের বামপন্থী রাজনীতিবিদ কমরেড মণি সিং।

১৯০৪ – নোবেলজয়ী সোভিয়েত পদার্থবিদ পাভেল আ. চেরেনকভ।

১৯১২ -কমল দাশগুপ্ত, আধুনিক সহজ সরল মেলোডি প্রধান বাংলা গানের সেরা সুরকার।

১৯৩০ – ফিরোজা বেগম, বাঙালি নজরুলসঙ্গীত শিল্পী।

১৯৩৫ – অশোক শেখর গঙ্গোপাধ্যায়, ভারতের প্রখ্যাত শিপ্প বিশেষজ্ঞ ও সাবেক রাজ্যসভা সদস্য।

১৯৩৮ – সুখেন দাস, ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের একজন বিখ্যাত অভিনেতা এবং চলচ্চিত্র পরিচালক।

১৯৫৪ – হুগো চাভেজ, ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদ ও রাষ্ট্রপতি।

১৯৫৬ – অশোক সেন, ভারতীয় বাঙালি তাত্ত্বিক পদার্থবিদ।

১৯৮১ – মাইকেল ক্যারিক, ইংরেজ ফুটবলার।

১৯৮৭ – পেদ্রো রোদ্রিগেজ, স্পেনীয় ফুটবলার।

১৯৯৩ – হ্যারি কেন, ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক।

১৮০৪ – লুডউইগ ফয়েরবাক, জার্মানীর একজন বস্তুবাদী দার্শনিক।

১৮৭৪ – প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও চিকিৎসক বিমলচন্দ্র ঘোষ।

১৬৩৫ – রবার্ট হুক, ইংরেজ চিকিৎসাবিদ ও রসায়নবিদ।

১১৬৫ -মহীউদ্দীন ইবনে আরাবী, একজন আরব সুফি সাধক লেখক ও দার্শনিক।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৯৭৪ – যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিঙ্নের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

১৯৭৬ – চীনের টাংশানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে আট লাখ লোকের প্রাণহানি।

১৯৮৮ – চীনে টক্কর খেয়ে একশো জাহাজডুবি।

১৯১৩ – বঙ্গীয় কৃষক লীগ প্রতিষ্ঠা।

১৯১৪ – অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির সার্বিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু।

১৯৫০ – তাইওয়ানকে সাহায্য করার ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান।

১৯৬৩ – জেনারেল আমিন আল হাফিজ সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট হন।

১৯৬৭ -পূর্ব চীনের তাঙ্ক শান শহরে সাত দশমিক নয় মাত্রার ভয়াবহ ভুমিকম্প হয়েছিল।

১৮২১ – স্পেনের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে পেরু স্বাধীনতা ঘোষণা করে।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০১ – আহমদ ছফা, বাংলাদেশী লেখক, কবি ও সমালোচক।

২০০৪ – ফ্রান্সিস ক্রিক, ইংরেজ পদার্থবিদ, আণবিক জীববিজ্ঞানী এবং স্নায়ুবিজ্ঞানী।

২০১০ – শ্যামল গুপ্ত, আধুনিক বাংলা রোমান্টিক গানের গীতিকার।

২০১৬ – মহাশ্বেতা দেবী, ভারতীয় বাঙালি সাহিত্যিক ও মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী।

২০১৭- ৯নং সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আহমদ।

১৯৩৪ – মারি ড্রেসলার, কানাডীয়-মার্কিন নির্বাক চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও কৌতুকাভিনেতা।

১৯৬৮ – অটো হান, জার্মান ভৌত রসায়নিবিদ।

১৯৭২ – চারু মজুমদার, বাঙালি মার্কসবাদী বিপ্লবী।

১৯৮০ – মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি।

১৯৯৭ – সত্য বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যজগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

১৭৫০ – জোহান সেবাস্টিয়ান বাখ, জার্মান সুরকার।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৭ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৭ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৯ – মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম, (বিশ্ববিখ্যাত অনুজীব বিজ্ঞানী ও গবেষক)।

১৯০৯ – কানাইলাল ভট্টাচার্য (ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের বিপ্লবী)।

১৯১৩ – কল্পনা দত্ত, (ভারতীয় বিপ্লবী এবং রাজনীতিবিদ)।

১৯২২ – নির্মলেন্দু চৌধুরী, (ভারতের বাঙালি লোকসঙ্গীত শিল্পী, সুরকার ও গীতিকার – বাংলার লোকসঙ্গীতের প্রসারে ও প্রচারে যাঁর অবদান অসীম)।

১৯৩১ – আব্দুল আলীম, (বাংলা লোক সঙ্গীতের কণ্ঠশিল্পী)।

১৯৫৫ – অ্যালান বর্ডার, (সাবেক অস্ট্রেলিয়ার প্রথিতযশা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৯৬০ – এমিলি থর্নবেরি, (ব্রিটিশ রাজনীতিবিদ)।

১৯৬৩ – কে. এস. চিত্রা, (ভারতীয় নেপথ্য সঙ্গীতশিল্পী এবং কর্ণাটকী সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ)।

১৯৬৩ – ডনি ইয়েন, (হংকং অভিনেতা, মার্শাল আর্টিস্ট, চলচ্চিত্র পরিচালক এবং প্রযোজক)।

১৯৬৭ – রাহুল বসু, (খ্যাতনাম ভারতীয় অভিনেতা, চিত্রনাট্যলেখক, পরিচালক এবং সমাজকর্মী)।

১৯৬৭ – নীল স্মিথ, (সাবেক ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন)।

১৯৭১ – সজীব ওয়াজেদ, (বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং বাংলাদেশের জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র)।

১৯৮১ – কলিন্স ওবুয়া, (কেনীয় ক্রিকেটার)।

১৯৮৯ – মায়া আলী, (পাকিস্তানি অভিনেত্রী)।

১৯৯০ – কৃতি স্যানন, (ভারতীয় অভিনেত্রী)।

১৯৯৩ – জর্ডান স্পাইয়েথ, (আমেরিকান গলফার)।

১৮৩৫ – জোযুয়ে কার্দুচ্চি, (নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ইতালীয় কবি এবং শিক্ষক)।

১৮৫৭ – আর্নেস্ট টমসন ওয়ালিস, (প্রাচ্যবিদ ও জাদুঘর বিশেষজ্ঞ)।

১৮৮১ – হান্স ফিশার (নোবেলবিজয়ী জার্মান জৈবরসায়ন বিজ্ঞানী)।

১৮৯৯ – পার্সি হর্নিব্রুক, (অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন)।

১৬১২ – চতুর্থ মুরাদ, (উসমানীয় সুলতান)।

১৬৬৭ – ইয়োহান বার্নুয়ি, (সুইস গণিতবিদ)।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৫ – আরব সাগরে ভারতের একটি তেল ও গ্যাস উত্তোলন মঞ্চ অগ্নিকান্ডে ধ্বংস হয়ে।

২০০৭ – ঢাকা-মিয়ানমার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ চুক্তি স্বাক্ষর।

১৯০৮ – লন্ডনে চতুর্থ অলিম্পিক প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

১৯২০ – বিমান চালনার জন্য প্রথম রেডিও কম্পাস ব্যবহার শুরু।

১৯২১ – টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদলের প্রধান বায়োকেমিস্ট ফ্রেডরিখ বেন্টিং হরমোন ইনসুলিন আবিষ্কারের ঘোষণা দেন।

১৯৪১ – জার্মান বাহিনী ইউক্রেনে প্রবেশ করে।

১৯৫৩ – কোরিয়া যুদ্ধের অবসান ঘটেছিল এই দিন। আমেরিকা, চীন, উত্তর কোরিয়ার সন্ধি চুক্তির মাধ্যমে।

১৯৫৫ – অস্ট্রিয়া পুনরায় স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৭১ – প্রশাসনের সুবিধার্থে মুজিবনগর সরকার সমগ্র দেশকে ৯টি অঞ্চলে ভাগ করে।

১৯৮৭ – ভারত-শ্রীলঙ্কা শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর।

১৮৬৮ – আটলান্টিক টেলিগ্রাফ কেবল স্থাপনের কাজ শেষ করে।

১৮৮৯ – ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ব্রিটিশ ইন্ডিয়া শাখা গঠিত হয়।

১৭৬১ – পানিপথের তৃতীয় যুদ্ধ সংঘটিত হয়।

১৭৭২ – পোল্যান্ডকে বিভক্ত করার জন্য ইউরোপের তিনটি বৃহৎ শক্তির মধ্যে প্রথম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ।

১৭৯৪ – ফ্রান্সে ম্যাক্সিমিলিয়োন রোবিস পিয়ের ও তার সমর্থকদের ফাঁসি দেয়ার পর দেশটির উত্তেজনাকর পরিস্থিতির অবসান ঘটে ।

১৬৫৬ – ওয়ারশ যুদ্ধ শুরু এবং সুইডেনের পোল্যান্ড দখল।

১৬৯৪ – ব্যাংক অব ইংল্যান্ড অনুমোদন লাভ করে ।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০৩ – বব হোপ, (মার্কিন কৌতুকাভিনেতা, অভিনেতা, গায়ক, নৃত্যশিল্পী, মল্লক্রীড়াবিদ ও লেখক)।

২০১৫ – এপিজে আবদুল কালাম, (ভারতীয় বিজ্ঞানী, ভারতের একাদশ রাষ্ট্রপতি)।

২০২০ – ইসরাফিল আলম, (বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য)।

২০২১ – (ইংল্যান্ড জাতীয় দলের সাবেক পেসার) মাইক হেনড্রিক।

১৯১৭ – এমিল টেওডোর কখার, (সুইস চিকিৎসক ও চিকিৎসা গবেষক)।

১৯৩১ – কানাইলাল ভট্টাচার্য (ভারতের ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিযুগের বিপ্লবী)।

১৯৪৬ – গারট্রুড স্টেইন, (মার্কিন ঔপন্যাসিক, কবি, নাট্যকার ও শিল্প সংগ্রাহক)।

১৯৭০ – অ্যান্টনিও ডি অলিভিয়ার সালাজার, (পর্তুগিজ রাজনীতিবিদ এবং ১০০তম প্রধানমন্ত্রী)।

১৯৮০ – মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, (ইরানের শেষ রাজা)।

১৯৮১ – উইলিয়াম ওয়াইলার, (একাডেমি পুরস্কার বিজয়ী মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক)।

১৯৮৪ – জেমস মেসান, (ইংরেজ অভিনেতা)।

১৯৮৭ – সালিম আলী, (বিখ্যাত ভারতীয় পক্ষীবিদ ও প্রকৃতিপ্রেমী)।

১৯৯২ – আমজাদ খান, (জনপ্রিয় ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা এবং পরিচালক)।

১৯৯৪ – কেভিন কার্টার, (দক্ষিণ আফ্রিকান পুরস্কার-বিজয়ী ফটোসাংবাদিক)।

১৮৪১ – মিখাইল লেরমন্তফ, (রুশ কবি ও ঔপন্যাসিক)।

১৮৪৪ – জন ডাল্টন , (ইংরেজ রসায়নবিদ, আবহাওয়াবিজ্ঞানী ও পদার্থবিদ)।

১২৭৬ – আরাগনের প্রথম জেমস, (আরাগণের রাজা)।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৬ জুলাই, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।

আজ ২৬ জুলাই। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-

 

দিবস—–

(ক)  মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী

(খ) আন্তর্জাতিক দিবস৷

(গ) কিউবার জাতীয় বিপ্লব দিবস।

(ঘ) লাইবেরিয়ার স্বাধীনতা দিবস।

(ঙ) মালদ্বীপের স্বাধীনতা দিবস।

(চ) ভারতে কার্গিল যুদ্ধে বিজয় দিবস।

 

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৯০৪ – মালতী চৌধুরী, (ভারতের বিশিষ্ট সর্বোদয় নেত্রী ও সমাজকর্মী)।

১৯০৮ – সালবাদোর আইয়েন্দে, (চিলির রাষ্ট্রপতি)।

১৯২২ – জেসন রবার্ডস, (মার্কিন মঞ্চ, চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অভিনেতা)।

১৯২৭ – গুলাবরায় রামচাঁদ, (ভারতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৯২৮ – স্ট্যানলি কুবরিক, (মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রযোজক)।

১৯২৮ – বার্নিস রুবেনস, (ওয়েল্‌স বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ লেখিকা)।

১৯৪২ – আলফ্রেড মার্শাল, (ইংল্যান্ডের উনবিংশ শতাব্দীর প্রভাবশালী অর্থনিতীবিদ)।

১৯৪৫ – হেলেন মিরেন, (ব্রিটিশ অভিনেত্রী)।

১৯৪৯ – থাকসিন সিনাওয়াত্রা, (থাইল্যান্ডের বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ)।

১৯৫০ – পল সিমর, (মার্কিন কম্পিউটার বিজ্ঞানী)।

১৯৫৫ – আসিফ আলি জারদারি, (পাকিস্তানের ১৪তম রাষ্ট্রপতি)।

১৯৬৪ – সান্ড্রা বুলক, (জার্মান-আমেরিকান অভিনেত্রী, প্রযোজক এবং মানবপ্রেমিক)।

১৯৬৫ – জেরেমি পিভেন, (মার্কিন অভিনেতা ও প্রযোজক)।

১৯৬৭ – জেসন স্টেথাম, (ইংরেজ অভিনেতা)।

১৯৭১ – খালেদ মাহমুদ সুজন, (বাংলাদেশী সাবেক ক্রিকেটার এবং কোচ)।

১৯৭৩ – কেট বেকিনসেল, (ব্রিটিশ অভিনেত্রী)।

১৯৮০ – জাসিন্ডা আরডার্ন, (নিউজিল্যান্ডীয় রাজনীতিক)।

১৯৮৫ – গেল ক্লিশি, (ফরাসি ফুটবলার)।

১৯৮৯ – আইভিয়ান সার্কোজ, (মিস ওয়ার্ল্ড সুন্দরী প্রতিযোগিতা, ২০১১-এর বিশ্বসুন্দরী)।

১৮৪২ – বের্টোল্ড ডেলব্রুক, (জার্মান ভাষাবিজ্ঞানী)।

১৮৫৬ – জর্জ বার্নার্ড শ, আইরিশ সাহিত্যিক।

১৮৫৮ – টম গারেট, (অস্ট্রেলীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৮৬৫ – রজনীকান্ত সেন, (বাঙালি কবি এবং সুরকার)।

১৮৮৮ – রেজিনাল্ড হ্যান্ডস, (দক্ষিণ আফ্রিকান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার)।

১৮৯৪ – অ্যালডাস হাক্সলি, (ইংরেজি উপন্যাসিক ও দার্শনিক)।

 

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

২০০৩ – ইস্টবেঙ্গল ক্লাব ফুটবলে আন্তর্জাতিক ট্রফি আশিয়ান কাপ বিজয় করে ।

১৯০৮ – যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই গঠিত হয়।

১৯৫৩ – ফিদেল ক্যাস্ত্রোর নেতৃত্বে কিউবার স্বৈরাচারী বাতিস্তা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়।

১৯৫৬ – মিশর সরকার সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করে।

১৯৬৫ – যুক্তরাজ্য হতে মালদ্বীপ স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৯১ – সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট পার্টি মার্কসবাদ-লেলিনবাদের পথ থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয়।

১৯৯৯ – ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত কার্গিল যুদ্ধে চূড়ান্তভাবে জয়ী হয়।

১৮৪৭ – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে লাইবেরিয়া স্বাধীনতা অর্জন করে।

১৮৫৬ – ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রচেষ্টায় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনাধীনে ভারতবর্ষের সকল বিচারব্যবস্থায় হিন্দু বিধবাদের পুনর্বিবাহ ‘দ্য হিন্দু উইডো’স রিম্যারেজ অ্যাক্ট,১৮৫৬ অনুসারে বৈধতা পায়।

১৮৭৬ – কলকাতায় সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর নেতৃত্বে তার বন্ধু আনন্দমোহন বসু ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন বা ভারতসভা প্রতিষ্ঠা করেন।

 

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

২০০০ – জন টুকি, (মার্কিন পরিসংখ্যানবিদ)।

২০১৩ – সুং জেগি, (দক্ষিণ কোরীয় নারীবাদ-বিরোধী ও উদারনীতিবাদী ব্যক্তি)।

২০২০ – (ভারতীয় বাঙালি কবি) বিজয়া মুখোপাধ্যায়।

কম্পিউটার মাউসের সহ-উদ্ভাবক উইলিয়াম ইংলিশ।

২০২২ – পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত এক টাকার ডাক্তার (সুশোভন বন্দ্যোপাধ্যায়)।

১৯১৫ – ইংরেজ অভিধানকার (জেমস হেনরি মারি)।

১৯২৫ – গট্‌লব ফ্রেগে, (জার্মান গণিতবিদ)।

১৯৩৪ – উইনসর ম্যাকে, (আমেরিকান কার্টুনিস্ট এবং অ্যানিমেশন তৈরিকারক)।

১৯৪১ – বেনজামিন হোর্ফ, (মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী)।

১৯৫২ – ইভা পেরন, (আর্জেন্টিনার স্বৈরশাসক জুয়ান পেরনের দ্বিতীয়া স্ত্রী)।

১৯৫৬ – মোহিতলাল মজুমদার, (বাঙালি কবি)।

১৯৫৭ – কার্লস কাস্তিলো আর্মস, (গুয়েতেমালান সামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনীতিবিদ)।

১৯৮০ – মোহাম্মদ রেজা পাহলভি, (ইরানের শেষ রাজা)।

১৯৮৭ – চিন্ময় চট্টোপাধ্যায়, (ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী)।

১৯৮৮ – ফজলুর রহমান মালিক, (ইসলামের অন্যতম পরিচিত বিদ্বান ব্যক্তি)।

১৯৯৯ – আজাদ আজাদ হিন্দ ফৌজের রানী ঝাঁসি রেজিমেন্টের সৈনিক নীরা আর্য।

১৫৩৩ – আটাওয়ালপা, (ইনকা সাম্রাজ্যের ১৩তম ও শেষ স্বাধীন সম্রাট)।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৬ জুলাই, কার্গিল বিজয় দিবস, জানুন দিনটির ইতিহাস ও গুরুত্ব।

কার্গিল বিজয় দিবস ভারতের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। দেশের জন্য জীবন উৎসর্গকারী ভারতীয় বীরদের স্মরণে সারা দেশে কার্গিল বিজয় দিবস উদযাপিত হয়।প্রতি বছর ২৬ জুলাই কার্গিল যুদ্ধের বীরদের সম্মানে দিনটি পালিত হয়। এই দিনটি সারা ভারতে এবং জাতীয় রাজধানী নয়াদিল্লিতে পালিত হয়, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী প্রতি বছর ইন্ডিয়া গেটে অমর জওয়ান জ্যোতিতে সৈন্যদের শ্রদ্ধা জানান।  ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর অবদানকে স্মরণ করার জন্য সারা দেশে অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়।

১৯৯৯ সালে লাদাখের উত্তর কারগিল জেলার পাহাড়ের চূড়ায় পাকিস্তানি বাহিনীকে তাদের দখলকৃত অবস্থান থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য কার্গিল যুদ্ধে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের বিজয়কে পালন করতে প্রতি ২৬ জুলাই ভারতে পালিত হয় কার্গিল বিজয় দিবস  ।

 

প্রাথমিকভাবে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী যুদ্ধে তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে, দাবি করে যে এটি কাশ্মীরি সামরিক বাহিনী দ্বারা সৃষ্ট হয়েছে। তবে হতাহতদের রেখে যাওয়া নথি, যুদ্ধবন্দিদের সাক্ষ্য এবং পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান পারভেজ মোশাররফের বিবৃতিতে জেনারেল আশরাফ রশিদের নেতৃত্বে পাকিস্তানি আধা-সামরিক বাহিনী জড়িত ছিল।

 

 

১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর থেকে, সিয়াচেন হিমবাহের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ রয়েছে। ১৯৯৯ সালের মে মাসে, পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনী কাশ্মীর এবং লাদাখের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্ন করতে নিয়ন্ত্রণ রেখায় (LOC) প্রবেশ করে। এইভাবে, তারা ভারতীয় সৈন্যদের লক্ষ্য করার জন্য ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করে এবং পর্বতশ্রেণী দখল করে। ভারত সরকার শীঘ্রই কাজ শুরু করে এবং ‘অপারেশন বিজয়’ দিয়ে জবাব দেয়।

১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পরে, দুই প্রতিবেশীর সামরিক বাহিনীকে জড়িত তুলনামূলকভাবে কয়েকটি প্রত্যক্ষ সশস্ত্র সংঘাতের দীর্ঘ সময়কাল ছিল – পার্শ্ববর্তী পাহাড়ে সামরিক ফাঁড়ি স্থাপন করে সিয়াচেন হিমবাহ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য উভয় দেশের প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করেনি।  শৈলশিরা এবং ১৯৮০ এর দশকে এর ফলে সামরিক সংঘর্ষ।  1990-এর দশকে, তবে, কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যকলাপের কারণে উত্তেজনা ও সংঘাত বৃদ্ধি পায়, সেইসাথে 1998 সালে উভয় দেশের পারমাণবিক পরীক্ষা পরিচালনার ফলে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধের পরিবেশ তৈরি হয়।
পরিস্থিতি প্রশমিত করার প্রয়াসে, উভয় দেশই ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাহোর ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করে, কাশ্মীর সংঘাতের একটি শান্তিপূর্ণ ও দ্বিপাক্ষিক সমাধান প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে।  ১৯৯৮-১৯৯৯ সালের শীতকালে, পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর কিছু উপাদান গোপনে পাকিস্তানি সৈন্য এবং আধাসামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রণ রেখার (LOC) ভারতের দিকে ভূখণ্ডে পাঠাচ্ছিল।  অনুপ্রবেশের কোড-নাম ছিল ‘অপারেশন বদ্রি’।  পাকিস্তানি অনুপ্রবেশের লক্ষ্য ছিল কাশ্মীর ও লাদাখের মধ্যে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ভারতীয় বাহিনীকে সিয়াচেন হিমবাহ থেকে প্রত্যাহার করা, এইভাবে ভারতকে বৃহত্তর কাশ্মীর বিরোধের নিষ্পত্তিতে আলোচনায় বসতে বাধ্য করা।  পাকিস্তানও বিশ্বাস করেছিল যে এই অঞ্চলে যে কোনও উত্তেজনা কাশ্মীর সমস্যাকে আন্তর্জাতিকীকরণ করবে, এটি একটি দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।  তবুও আরেকটি লক্ষ্য হতে পারে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণের মাধ্যমে ভারতের কাশ্মীর রাজ্যে দশকব্যাপী বিদ্রোহের মনোবল বাড়ানো।

প্রাথমিকভাবে, অনুপ্রবেশের প্রকৃতি এবং ব্যাপ্তি সম্পর্কে সামান্য জ্ঞানের সাথে, এলাকার ভারতীয় সৈন্যরা অনুপ্রবেশকারীরা জিহাদি বলে ধরে নিয়েছিল এবং ঘোষণা করেছিল যে তারা কয়েক দিনের মধ্যে তাদের উচ্ছেদ করবে।  অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা নিযুক্ত কৌশলের পার্থক্য সহ LOC বরাবর অন্যত্র অনুপ্রবেশের পরবর্তী আবিষ্কার, ভারতীয় সেনাবাহিনী বুঝতে পেরেছিল যে আক্রমণের পরিকল্পনাটি অনেক বড় পরিসরে ছিল।  প্রবেশের দ্বারা জব্দ করা মোট এলাকা সাধারণত  ১৩০ কিমি ২ – ২০০ কিমি ২ এর মধ্যে গ্রহণ করা হয়।  ভারত সরকার ২০০০০০ ভারতীয় সৈন্যদের একত্রিত করা অপারেশন বিজয়ের সাথে প্রতিক্রিয়া জানায়।  ২৬ জুলাই, ১৯৯৯ তারিখে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈন্যদের তাদের দখলকৃত অবস্থান থেকে উচ্ছেদের মাধ্যমে যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে, এইভাবে এটিকে কার্গিল বিজয় দিবস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

 

 

ভারতীয় সৈন্যরা ধাপে ধাপে পাকিস্তানি সেনাদের পরাজিত করেছিল।প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে দুই মাসব্যাপী যুদ্ধটি তিনটি পর্বে হয়েছিল। প্রথম পর্যায়ে, পাকিস্তানি বাহিনী টাইগার হিল এবং অন্যান্য পোস্টে নিজেদের অবস্থান করে ভারতীয় ভূখণ্ডে আক্রমণ করে। দ্বিতীয় পর্যায়ে, ভারতীয় সেনাবাহিনী পরিবহন রুট দখল করে এবং পাকিস্তানি আক্রমণাত্মক লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে প্রতিক্রিয়া জানায়। কার্গিল যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে, ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতীয় বিমান বাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানি সেনাদের সরিয়ে দেওয়ার মিশন সম্পূর্ণ করতে সক্ষম হয়েছিল।

 

২৬ শে জুলাই, ১৯৯৯-এ যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সৈন্যদের তাদের দখলকৃত অবস্থান থেকে উচ্ছেদের মাধ্যমে, এইভাবে এটিকে কার্গিল বিজয় দিবস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। যুদ্ধের সময় ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ৫২৭ জন সেনা প্রাণ হারিয়েছিলেন। ক্যাপ্টেন বিক্রম বাত্রা সেই সাহসী সৈনিকদের একজন যারা দেশের জন্য লড়াই করে প্রাণ হারিয়েছিলেন। তিনি ভারতের সর্বোচ্চ বীরত্ব পুরস্কার পরম বীর চক্রে ভূষিত হন।

 

এই দিনে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্ডিয়া গেটে অমর জওয়ান জ্যোতিতে সৈন্যদের শ্রদ্ধা জানান। বাইরের শক্তির হাত থেকে দেশকে সুরক্ষিত রাখতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অবদান উদযাপনের জন্য দেশজুড়ে উদযাপনেরও আয়োজন করা হয়। স্মৃতিসৌধে শহিদদের পরিবারকেও স্বাগত জানানো হয়।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

চন্দননগর শহরের ৩ টি দর্শনীয় ভ্রমণ স্থান।

ঘুরতে কে না ভালোবাসে। বিশেষ করে বাঙালিরা সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ে ভ্রমনের নেশায়। কেউ পাহাড়, কেউ সমুদ্র আবার কেউ প্রাচীন ঐতিহাসিক স্থান ভালোবাসে ভ্রমণ করতে। প্রকৃতি কত কিছুই না আমাদের জন্য সাজিয়ে রেখেছে। কতটুকুই বা আমরা দেখেছি। এ বিশাল পৃথিবীতে আমরা অনেক কিছুই দেখিনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার দুনিয়ায় আজ গোটা পৃথিবীটা হাতের মুঠোয়় এলেও প্রকৃতিকে চাক্ষুষ প্রত্যক্ষ করা এ এক আলাদা রোমাঞ্চ, আলাদা অনুভূতি যার রেষ হৃদয়ের মনিকোঠায় থেকে যায় চিরকাল।। তাইতো আজও মানুষ বেরিয়ে পড়়ে প্রকৃতির কে গায়ে মেখে  রোমাঞ্চিত হওয়ার নেশায়। কেউ চায় বিদেশে ভ্রমণে, আবার কেউ চায় দেশের বিভিন্ন স্থান ভ্রমণে। এমনি এক ভ্রমণ এর জায়গা হলো  দাওয়াইপানি।

 

আপনি যখন গ্রীষ্মের তাপ থেকে বাঁচতে চান, তখন আপনার মাথায় সবচেয়ে বেশি চিন্তা আসে কী?  শহর খাদ এবং একটি হিল স্টেশনের দিকে রওনা, তাই না?  যাইহোক, আমাদের নিজস্ব দার্জিলিং-এর দিকে রওনা হওয়া লক্ষাধিক লোকে আপনি যদি হতাশ হয়ে পড়েন, তাহলে হারাবেন না।  আশেপাশে অনেক বিচিত্র ছোট অফ-ট্র্যাক পর্যটন গন্তব্য রয়েছে যা আপনার অবস্থানকে স্মরণীয় করে তুলতে পারে।

যারা দার্জিলিং  এ ঘুরতে যান তারা অবশ্যই দার্জিলিং এ পর্যটকদের ভিড় সম্পর্কে জানেন,তাই অনেকে  দার্জিলিং এর কাছাকাছি অফবিট লোকেশান এর খোজ করেন যেখানে তারা শান্ত মনে প্রকৃতিকে উপভোগ করতে পারবেন ও তার সাথে রাজকীয় কাঞ্চঞ্জঙ্ঘার দর্শন পাওয়া গেলে তো কোন কোথায় হয় না । হ্যাঁ ঠিক এমনি একটি ভ্রমণ স্থান দাওয়াইপানি।দার্জিলিং শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে অবস্থিত একটি অখ্যাত গ্রাম হল এই দাওয়াইপানি, দাওয়াইপানি গ্রামটির উচ্চতা হল ৬৫০০ ফিট । প্রায় ৬ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে যে সাদায় মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘার দৃশ্য দেখা যাবে তা বলা বাহুল্য। বরং বলা চলে, দাওয়াইপানি থেকে ধরা দেবে হিমালয়ের এক প্যানোরমিক ভিউ। তার মধ্যে নেপাল ও ভুটান হিমালয়ের নামজাদা শৃঙ্গও রয়েছে।

 

দাওয়াইপানি কথাটির মানে হোল ঔষধের জল , এই গ্রামে একটি স্থানিয় নদি আছে যেটির নাম হোল ‘খোলা’ এই নদীর জল খনিজ পদার্থে পরিপুষ্ট , কোন ক্ষত স্থানে এই জল লাগালে সেটি নিরাময় হয়ে যায়। বহু কাল পূর্বে এক ইংরেজ অফিসার এই গ্রামে এই ঔষধীয় জলের আবিস্কার করেন তারপর থেকে এই স্থানটির নাম হয় দাওাইপানি।

দাওয়াইপানির নীচ দিয়ে বয়ে চলেছে পাহাড়ি খরস্রোতা নদী। সেখানে ব্রিটিশদের তৈরি করা একটি সেতুও রয়েছে। ইচ্ছা হলে পাহাড়ি গ্রামের রাস্তা ধরে ঘুরে নিতে পারেন। যদিও দাওয়াইপানি শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশ আপনাকে এই গ্রামের প্রেমে ফেলতে বাধ্য। প্রকৃতির মাঝে কটা দিন কাটিয়ে যাওয়ার এক দুরদান্ত ঠিকানা।

চারিদিকে সবুজ অরণ্যে ঘেরা ,মেঘমুক্ত আকাশ, পাখিদের কোলারব এবং তার সাথে কাঞ্চজঙ্ঘার হাতছানি যা প্রকৃতি প্রেমিদের কাছে সর্গ থেকে কিছু কম নয় এইসব হোল এই দাওয়াইপানির মুল বৈশিষ্ট্য । এখানে দরকার পরবে না কোন Alarm Clock এর পাখিদের মিষ্টি কুঞ্জন আপনাদের ঘুম ভাঙ্গিয়ে তুলবে।
দাওাইপানির হমস্তে রুম থেকেই আকাশ পরিস্কার থাকলে দেখতে পাবেন কাঞ্চজঙ্ঘার গোটা পর্বতশৃঙ্খলা ও তার সাথে পাহাড়ি উপত্যকার এবং তার মাঝ দিয়ে খেলা করা মেঘেদের অসাধারন ভিউ ।

 

দাওয়াইপানি আউটডোর কার্যকলাপ:

ট্রেকিং – যাযাবর হোমস্টে – দাওয়াইপানি থেকে পেশোক রোড পর্যন্ত এক ঘন্টার একটি জনপ্রিয় হালকা ট্রেক।  গুরুতর ট্রেকারদের জন্য মাঝারি থেকে উচ্চ অসুবিধার স্তরের আরও কয়েকটি ট্রেকিং ট্রেইল রয়েছে।
জঙ্গলে হাইক – এই জায়গাটিকে ঘিরে ঘন হিমালয় বনাঞ্চল।  তাই একটি হাইকিং অ্যাডভেঞ্চারে যান এবং প্রকৃতির রহস্যগুলি আবিষ্কার করুন।
পাখি পর্যবেক্ষন – ঘন জঙ্গল হল বিভিন্ন ধরণের পাখির প্রাকৃতিক আবাস।
খামার পরিদর্শন – সবজি এবং ফলের স্থানীয় খামার পরিদর্শন উপভোগ করুন।
ঐতিহ্যবাহী নৃত্য – স্থানীয়দের ঐতিহ্যবাহী নৃত্যের সাক্ষী হয়ে সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকলাপে নিমগ্ন হন।

দাওয়াইপানি কাছাকাছি আকর্ষণ:

রিসোর্টটি দার্জিলিং শহর থেকে অল্প দূরত্বে এবং তাই এখান থেকে বেশ কয়েকটি জায়গায় পৌঁছানো সহজ।
দার্জিলিং – পাহাড়ের রাণী রাজকীয় টাইগার হিল ভিউপয়েন্ট থেকে শুরু করে, টয় ট্রেন রাইড, মল এরিয়া শপিং থেকে শুরু করে বিশ্ব বিখ্যাত দার্জিলিং চায়ের সূক্ষ্ম স্বাদ গ্রহণের জন্য সমস্ত ধরণের পর্যটন আকর্ষণ অফার করে।
রিসোর্টটি লামাহাট্টা, সিটং বা ‘কমলা গ্রাম’, কালিম্পং ইত্যাদির মতো অন্যান্য শহরের কাছাকাছিও।

 

কিভাবে যাবেন:
ট্রেনে: হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে ট্রেনে চড়ুন, NJP-এ নামুন।  দাওয়াইপানি গ্রাম থেকে ৭৬ কিমি দূরে।  রাস্তার অবস্থার উপর নির্ভর করে দাওয়াইপানি পৌঁছাতে প্রায় ২ ঘন্টা, ৫০ মিনিট সময় লাগে।
ফ্লাইটে: বাগডোগরা বিমানবন্দরটি গ্রাম থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এবং বিমানবন্দর থেকে পৌঁছাতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে।

শিলিগুড়ি থেকে দাওয়াইপানির দূরত্ব প্রায় ৭০ কিমি এবং এনজেপি রেল স্টেশন থেকে দূরত্ব প্রায় ৭৬কিমি ও বাগদোগরা বিমানবন্দর থেকে দূরত্ব প্রায় ৭৫ কিমি. ।দার্জিলিং থেকে এক ঘণ্টার পথ দাওয়াইপানি। আর শিলিগুড়ি দিয়ে গেলে গাড়িতে সময় লাগবে মাত্র দেড় ঘণ্টা। দার্জিলিং থেকে বেশ উঁচুতে অবস্থিত হলেও ঘুম স্টেশন থেকে মাত্র কুড়ি মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যেতে পারবেন দাওয়াইপানি।

 

যেহেতু দাওয়াইপানি উচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত, তাই সারা বছরই এখানে শীতল আবহাওয়া থাকে।  বর্ষা এখানে বিশ্বাসঘাতক কারণ দাওয়াইপানিতে জুলাই এবং আগস্ট মাসে খুব ভারী বৃষ্টিপাত হয়।  সুতরাং, এই মাসগুলি ব্যতীত, আপনি বছরের যে কোনও সময় আপনার ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন।  একটি সতর্কীকরণ: দাওয়াইপানি পরিদর্শন করার সময় ভারী পশমের সাথে নিজেকে বন্ধন করতে ভুলবেন না।

 

শান্ত, নিরিবিলি, ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম। হাওয়া-জল বদল করতে ঘুরে আসতে পারেন দাওয়াইপানি। ‘দাওয়াই’ কথাটার অর্থ ওষুধ। আর ‘পানি’ মানে জল-হাওয়া। সুতরাং উত্তরবঙ্গের এই গ্রামে এলে আপনার শরীর আর মন দুটোই ভাল হয়ে যাবে নিমেষে।যারা দৈনিক জীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে একটু ফ্রেশ হয়ে নিতে চান তাদের কাছে এই স্থানটি একটি আদশ স্থান হতে পারে, হাতে দু-দিন সময় থাকলে তা অনায়াসে এখানে কেটে যাবে ।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This