সুখ খুঁজেছি পথে পথে,
খুঁজেছি শহরজুড়ে,
কখনো ভেবেছি সুখটা বুঝি
রয়েছে অনেক দূরে।
দামি বাড়ি, দামি গাড়ি,
চাকচিক্যময় আলো,
এসব পেলেই জীবন বুঝি
হয়ে উঠবে ভালো।
দিন পেরিয়ে রাত আসে,
সময় যায় যে বয়ে,
মনের ভেতর শূন্যতা রয়
হাজার সুখের মাঝেও।
একদিন এক বৃদ্ধ মানুষ
বসলেন পথের ধারে,
মুখে তাঁর একচিলতে হাসি,
শান্তি চোখের তারায়।
জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী এমন সুখ
পেয়েছেন জীবনে?’
হেসে তিনি বললেন আমায়,
‘ভালো থেকো মনে।’
‘দুটো ভাত আর মাথার ছাদ,
আপনজনের মায়া,
সন্ধ্যাবেলায় ঘরে ফেরার
একটুখানি ছায়া।
অসুখ হলে কেউ জিজ্ঞেস করে,
‘কেমন আছো তুমি?’
এই তো আমার সুখের পৃথিবী,
এই তো জীবনের ভূমি।’
কথাগুলো শুনে সেদিন
থেমে গেলাম ক্ষণ,
বুঝতে পারলাম সুখের মানে
বদলে গেল মন।
সুখ তো শুধু অর্থ নয়,
নয় প্রাসাদের ঘর,
সুখ লুকিয়ে ছোট্ট হাসি,
ভালোবাসার পরশ।
মায়ের মুখে হাসি দেখা,
বাবার পাশে বসা,
বন্ধুর সঙ্গে দুঃখ ভাগে
একটু সাহস খোঁজা।
শিশুর মুখে খিলখিল হাসি,
বৃষ্টিভেজা সকাল,
প্রিয়জনের মিষ্টি কথা,
রোদ্দুর ঝলমল।
যে মানুষ অল্প পেয়েও
কৃতজ্ঞ থাকতে জানে,
সুখের আলো জ্বলে ওঠে
তারই হৃদয়খানে।
তাই তো আজ শিখেছি আমি
জীবনকে ভালোবাসতে,
অল্পতেই তৃপ্ত হয়ে
সবার পাশে দাঁড়াতে।
সুখ খুঁজতে দূরে যেয়ো না,
দেখো নিজের ঘরে,
ভালোবাসার ছোট্ট প্রদীপ
জ্বলছে অন্তরে।