Categories
কবিতা বিবিধ

কবিতা: বৃদ্ধাশ্রমের জানালায়।।

জানালার পাশে বসে বাবা দূর আকাশের দিকে চায়, চেনা পথের ধুলো মেখে স্মৃতিরা ফিরে ফিরে যায়।

একদিন এই হাত ধরেই সন্তান হাঁটতে শিখেছিল, বাবার কাঁধে চড়ে সে যে নীল আকাশকে চিনেছিল।

মায়ের আঁচল ছিল তখন সবচেয়ে নিরাপদ ঘর, একটু ব্যথায় মা-ই বুঝতেন কোথায় জমেছে জ্বর।

রাত জেগে কত গল্প বলা, কত আদরের গান, সন্তানের মুখে হাসি ফোটাতে উজাড় করতেন প্রাণ।

আজকে সেই মা-বাবা দুজন অন্য ঠিকানায়, সন্তানেরই ব্যস্ত জীবনে তাঁদের সময় কোথায়?

উৎসব এলে জানালাতে প্রদীপ জ্বলে ধীরে, চোখের জলে পুরোনো ছবি বুকে রাখেন ঘিরে।

ফোনের শব্দ কানে এলেই চমকে ওঠে মন, হয়তো আজকে সন্তান বলবে, “কেমন আছো এখন?”

কিন্তু ফোন আসে না যে, দিন গড়িয়ে যায়, অপেক্ষাতে সন্ধ্যা নামে, রাত নেমে আসে গায়।

বাবার চোখে অভিমান নেই, মায়ের মুখে অভিযোগ নয়, সন্তান ভালো থাকুক শুধু— এই তো তাঁদের জয়।

তবু প্রশ্ন জাগে মনে, কোথায় গেল সেই টান? যে মানুষরা জীবন দিল, তাঁদের কেন এমন অবসান?

বৃদ্ধ হওয়া অপরাধ নয়, অপরাধ নয় দুর্বলতা, বয়স বাড়লে আরও বেশি প্রয়োজন ভালোবাসা।

যাঁদের হাত ধরে আমরা পৃথিবী চিনতে শিখি, তাঁদের হাত ছেড়ে দিয়ে কীভাবে সুখী থাকি?

একটু সময়, একটু কথা, একটু স্নেহের ছোঁয়া, বৃদ্ধ হৃদয় ভরিয়ে দিতে এর বেশি কী বা চাওয়া?

আজ যে বাবা জানালাতে অপেক্ষা করেন বসে, কাল যে আমরাও দাঁড়াব গিয়ে সময়েরই দরজাতে।

জীবনচক্র ঘুরে ঘুরে একই প্রশ্ন আনে, আজকের অবহেলা কালকে ফিরবে অন্যখানে।

বৃদ্ধাশ্রমের জানালাতে শুধু অশ্রু জমতে দিও না, যাঁদের কাছে পৃথিবী পেয়েছ, তাঁদের কখনো ভুলে যেয়ো না।

মা-বাবা তো বোঝা নন, তাঁরাই জীবনের আলো, শেষ বয়সে পাশে থেকো— তাতেই তাঁদের ভালো।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *