কুমোরের হাতে মাটি নিয়ে
কলস গড়ে ধীরে,
চাকার ঘূর্ণি ঘুরতে থাকে
ছোট্ট ঘরের নীড়ে।
নরম মাটি আকার পায়
আদর আর যত্নে,
সাধারণের মধ্যেও যে
সৌন্দর্য থাকে গোপনে।
রোদে শুকিয়ে আগুন পেয়ে
শক্ত হয় তার গা,
জীবন যেন শেখায় তাকে
সহ্য করার ভাষা।
গ্রামের পথে কলস ভরে
জল আনতে যায় বউ,
শীতল জলে তৃষ্ণা মেটে,
স্বস্তি পায় সবাই।
কলস জানে, শূন্য হলে
ভরে উঠতে হয়,
ভাঙন এলে নতুন করে
গড়ার সাহস চাই।
মানুষও তো মাটির মতো
নেয় নানা রূপ,
দুঃখ-সুখের আগুন পেরিয়ে
খুঁজে পায় স্বরূপ।
অহংকারের ভার না রেখে
নম্র হও সবার কাছে,
ফাঁকা পাত্র জল পায় যেমন,
শেখার জায়গা রাখো নিজের মাঝে।
মাটির কলস নীরব থেকে
বলে জীবনের কথা,
সহজ হও, স্নেহ বিলাও,
এটাই সুখের ব্যাখ্যা।
মাটি থেকে জন্ম আমাদের,
মাটিতেই শেষ ঠিকানা,
মাটির গন্ধ ভুলে গিয়ে
নিজেকে হারিয়ো না।