রাত বারোটা তেরো মিনিট।
কলকাতার আকাশে তখন ঘন মেঘ। জানলার কাচে বৃষ্টির ফোঁটা আছড়ে পড়ছে। অরিত্র সেন বিছানায় শুয়ে ছিল, কিন্তু ঘুম আসছিল না। গত কয়েক সপ্তাহে তার জীবনে এত কিছু ঘটে গেছে যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া তার পক্ষে সহজ হচ্ছিল না।
তেরো নম্বর বাড়ির রহস্যের সমাধান হয়েছে। তার হারিয়ে যাওয়া বোন অদিতি ফিরে এসেছে। বহু বছর ধরে মৃত বলে পরিচিত বাবা অরিন্দম সেনও পরিবারের কাছে ফিরেছেন। আর যে দাদুকে সে একসময় পরিবারের সম্মানিত মানুষ বলে জানত, তাঁর অপরাধের ইতিহাস এখন পুলিশের তদন্তের বিষয়।
সবকিছু যেন শেষ।
অথচ অরিত্রর মনে হচ্ছিল, কোনও অদৃশ্য হাত তাকে এখনও অতীতের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
হঠাৎ তার ফোনের পর্দা জ্বলে উঠল।
একটি অচেনা নম্বর থেকে বার্তা এসেছে।
‘তেরো নম্বর দরজা বন্ধ হয়েছে। এবার চৌদ্দ নম্বর ঘর খুলবে। সেখানে তোমার জন্য এমন একজন অপেক্ষা করছে, যাকে তুমি কোনওদিন জন্মাতে দেখনি, অথচ সে তোমার চেয়েও বয়সে বড়।’
অরিত্র বার্তাটি দুবার পড়ল।
তারপর নম্বরটিতে ফোন করল।
ফোন বন্ধ।
সে বার্তাটির স্ক্রিনশট তুলে বাবাকে পাঠাতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই দ্বিতীয় একটি বার্তা এল।
‘এই রহস্যের কথা অরিন্দম সেনকে জানিয়ো না। তিনি জানেন, চৌদ্দ নম্বর ঘরে কী আছে।’
অরিত্রর আঙুল থেমে গেল।
তার বাবা কি তবে আরও কিছু লুকিয়ে রেখেছেন?
পরদিন সকালেই সে বাবার সঙ্গে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিল।
কিন্তু সকালে উঠে দেখল, বাবা বাড়িতে নেই। মৃণালিনী জানালেন, ভোর পাঁচটায় একটি ফোন পাওয়ার পর অরিন্দম বেরিয়ে গেছেন। কোথায় যাচ্ছেন, তা বলেননি।
“কোনও ফোন এসেছিল?” অরিত্র জিজ্ঞাসা করল।
মা মাথা নাড়লেন।
“আমি শুধু শুনেছি, উনি বলছিলেন—‘না, এবার আর কাউকে মরতে দেব না।’ তারপর তাড়াতাড়ি বেরিয়ে গেলেন।”
অরিত্রর বুকের ভিতরটা কেঁপে উঠল।
চৌদ্দ নম্বর ঘর।
বাবার গোপন কথা।
আর সেই অচেনা বার্তা।
সবকিছুর মধ্যে কোনও একটা যোগসূত্র রয়েছে।
সে বাবার ঘরে গেল। আলমারি, টেবিল, বইয়ের তাক—সব খুঁজেও কিছু পেল না। অবশেষে টেবিলের নীচের ড্রয়ার খুলতেই একটি পুরোনো খাম চোখে পড়ল।
খামের উপরে লেখা—
‘অরিত্রর জন্য। আমার মৃত্যুর পর।’
কিন্তু অরিন্দম তো জীবিত!
অরিত্র খাম খুলল।
ভিতরে একটি পুরোনো ট্রেনের টিকিট, একটি ছোট্ট চাবি এবং হাতে লেখা একটি ঠিকানা।
স্থান: শিমুলডাঙা, নদিয়ার একটি পরিত্যক্ত জমিদারবাড়ি।
চিঠিতে লেখা—
“অরিত্র,
যদি কখনও চৌদ্দ নম্বর ঘরের কথা জানতে পারো, তবে বুঝবে আমার অতীত আবার তোমার সামনে ফিরে এসেছে।
শিমুলডাঙার বাড়িটিতে একসময় চৌদ্দটি ঘর ছিল। তেরোটি ঘর মানুষের ব্যবহারের জন্য, আর শেষ ঘরটি এমন একটি সত্যকে লুকিয়ে রাখার জন্য তৈরি হয়েছিল, যা জানাজানি হলে আমাদের পরিবারের ইতিহাস বদলে যেত।
আমি তোমাকে সেখানে যেতে নিষেধ করতে পারতাম। কিন্তু এবার আর তোমাকে আটকানোর অধিকার আমার নেই।
তবে একটি কথা মনে রেখো—চৌদ্দ নম্বর ঘরের দরজা খোলার আগে ঘড়ির দিকে তাকাবে। কারণ ওই ঘরে সময়ের হিসাব অন্যরকম।
ইতি, বাবা।”
অরিত্র চিঠিটা ভাঁজ করে পকেটে রাখল।
সে জানত, তাকে শিমুলডাঙায় যেতেই হবে।
দুপুরের ট্রেনে অরিত্র নদিয়ার উদ্দেশে রওনা দিল।
ট্রেন যখন শহর ছেড়ে গ্রামবাংলার দিকে এগোতে লাগল, জানলার বাইরে ধানখেত, পুকুর, ছোট ছোট স্টেশন পেছনে পড়ে যেতে লাগল। কিন্তু অরিত্রর চোখ বারবার চলে যাচ্ছিল বাবার দেওয়া পুরোনো টিকিটটির দিকে।
টিকিটে তারিখ লেখা ছিল—১৭ নভেম্বর, ১৯৯৮।
সেই দিনই তার জন্ম।
কিন্তু টিকিটটি কাটা হয়েছিল তার জন্মের তিন মাস আগে।
আরও আশ্চর্যের বিষয়, যাত্রীর নামের জায়গায় লেখা—
‘অরিত্র সেন—বয়স ৪৬ বছর।’
অরিত্রর বয়স এখন আটাশ।
কে তার জন্মের আগেই তার নামে টিকিট কেটেছিল?
আর কেনই বা সেখানে তার বয়স ছেচল্লিশ লেখা?
ট্রেনের কামরায় বসে থাকা এক বৃদ্ধ হঠাৎ টিকিটটির দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি কি শিমুলডাঙায় যাচ্ছেন?”
অরিত্র চমকে উঠল।
“হ্যাঁ। আপনি কী করে জানলেন?”
বৃদ্ধ উত্তর দিলেন না। বরং জানলার বাইরে তাকিয়ে বললেন, “ওই বাড়িতে যাবেন না। যারা চৌদ্দ নম্বর ঘরে ঢুকেছে, তারা সবাই ফিরে এসেছে ঠিকই, কিন্তু কেউ আগের মানুষ হয়ে ফেরেনি।”
“আপনি কি কাউকে চেনেন, যিনি ওই ঘরে গিয়েছিলেন?”
বৃদ্ধ ধীরে ধীরে অরিত্রর দিকে তাকালেন।
“আমি নিজেই গিয়েছিলাম।”
অরিত্রর গলা শুকিয়ে গেল।
“কবে?”
“১৯৭৮ সালে।”
“তারপর কী হয়েছিল?”
বৃদ্ধ নিজের বাঁ হাতের কবজি দেখালেন। সেখানে একটি পুরোনো ঘড়ি বাঁধা। ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে বারোটা তেরো মিনিটে।
“আমি ঘরে ঢোকার সময় আমার বয়স ছিল উনিশ। বেরিয়ে আসার সময় আমার বয়সও ছিল উনিশ। কিন্তু বাইরে ততক্ষণে কেটে গেছে সাতাশ বছর।”
অরিত্র স্তব্ধ হয়ে গেল।
“এটা কীভাবে সম্ভব?”
বৃদ্ধ মৃদু হাসলেন।
“সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই তো আপনি যাচ্ছেন।”
পরের স্টেশনে ট্রেন থামতেই বৃদ্ধ উঠে দাঁড়ালেন। নামার আগে তিনি অরিত্রর হাতে একটি কাগজ গুঁজে দিলেন।
“যদি ঘরের ভিতর নিজেরই আরেকটি রূপ দেখতে পান, তার সঙ্গে কথা বলবেন না। আর মনে রাখবেন, যে ঘড়ি বারোটা তেরো মিনিটে থেমে থাকে, সেটি কখনও সময় দেখায় না। সেটি দেখায় মৃত্যুর মুহূর্ত।”
বৃদ্ধ নেমে গেলেন।
অরিত্র জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখল, প্ল্যাটফর্মে আর কেউ নেই।
ট্রেন ছাড়ার পর সে কাগজটা খুলল।
সেখানে একটি মাত্র বাক্য লেখা—
‘অরিন্দম সেন তোমার বাবা, কিন্তু তোমার জন্মের সাক্ষী তিনি নন।’
বিকেল চারটে নাগাদ অরিত্র শিমুলডাঙায় পৌঁছল।
স্টেশন থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে জমিদারবাড়ি। চারপাশে ঘন গাছপালা, ভাঙা ইটের পথ, পরিত্যক্ত পুকুর। বাড়িটির সামনে পৌঁছে অরিত্র দেখল, লোহার গেটে বড় বড় অক্ষরে লেখা—
‘সেনবাড়ি। প্রবেশ নিষেধ।’
গেটের তালায় বাবার দেওয়া চাবিটি লাগাতেই সেটি খুলে গেল।
ভিতরে ঢুকে অরিত্র অবাক হয়ে দেখল, বাড়িটি বাইরে থেকে যতটা জরাজীর্ণ মনে হচ্ছিল, ভিতরে ততটা নয়। উঠোন ঝাঁট দেওয়া, বারান্দায় ধুলো কম, এমনকি একটি ঘরে তাজা ফুল রাখা।
কেউ এখানে নিয়মিত আসে।
দোতলার করিডরে চৌদ্দটি দরজা। প্রথম তেরোটির গায়ে নম্বর লেখা। কিন্তু শেষ দরজাটির গায়ে কোনও নম্বর নেই।
অরিত্র এগিয়ে গিয়ে দরজাটি পরীক্ষা করল।
হাতল ঠান্ডা।
দরজার নীচ দিয়ে হালকা হলুদ আলো বেরিয়ে আসছে।
ঠিক তখনই পিছন থেকে একজন বৃদ্ধার কণ্ঠ শোনা গেল।
“আপনি অবশেষে এলেন।”
অরিত্র ঘুরে দাঁড়াল।
সাদা শাড়ি পরা এক বৃদ্ধা দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর হাতে একটি ট্রে। ট্রেতে দুটো চায়ের কাপ।
“আপনি কে?” অরিত্র জিজ্ঞাসা করল।
“আমার নাম সরলা। এই বাড়ির দেখাশোনা করি।”
“এখানে তো কেউ থাকে না বলে শুনেছি।”
সরলা মৃদু হাসলেন।
“মানুষ থাকে না। কিন্তু অপেক্ষা তো থাকে।”
“কিসের অপেক্ষা?”
“আপনার।”
অরিত্রর মনে হল, তার শরীরের সমস্ত রক্ত যেন জমে যাচ্ছে।
সরলা ট্রে থেকে একটি কাপ তুলে তার হাতে দিলেন।
“চা খান। তারপর ঘর খুলবেন।”
“আপনি জানেন, ভিতরে কী আছে?”
“জানি। তবে আপনি যা দেখতে যাচ্ছেন, তা দেখার জন্য আপনি এখনও প্রস্তুত নন।”
অরিত্র চায়ের কাপ নামিয়ে রাখল।
“আমি প্রস্তুত কি না, সেটা আমি ঠিক করব।”
সে বাবার দেওয়া ছোট্ট চাবিটা বের করল।
চাবি তালায় ঢুকতেই ভিতর থেকে ঘড়ির শব্দ শোনা গেল।
টিক।
টিক।
টিক।
দরজার ওপাশে যেন অসংখ্য ঘড়ি একসঙ্গে চলছে।
অরিত্র চাবি ঘোরাল।
দরজাটি ধীরে ধীরে খুলে গেল।
ঘরের ভিতরে একটি বড় টেবিল, দেওয়ালে অসংখ্য ঘড়ি, আর মাঝখানে একটি পুরোনো কাঠের চেয়ার।
চেয়ারে বসে আছে একজন যুবক।
তার বয়স আটাশের কাছাকাছি।
পরনে নীল শার্ট, কালো প্যান্ট। চুলের বাঁ দিকে ছোট্ট একটি দাগ। চোখের নীচে একই রকম তিল।
অরিত্রর নিজের মুখের সঙ্গে তার মুখের কোনও পার্থক্য নেই।
যুবকটি ধীরে ধীরে মাথা তুলল।
“অবশেষে তুমি এলে, অদ্বৈত।”
অরিত্রর বুকের ভিতর ধক করে উঠল।
“আমার নাম অরিত্র।”
যুবকটি হাসল।
“তোমাকে এই নামেই বড় করা হয়েছে। কিন্তু তোমার জন্মের সময় যে নাম রাখা হয়েছিল, সেটা আমি জানি।”
“তুমি কে?”
যুবকটি টেবিলের উপর রাখা একটি পুরোনো জন্মসনদ এগিয়ে দিল।
সেখানে দুটি শিশুর নাম লেখা—
‘অদ্বৈত মুখার্জি’ এবং ‘অরিত্র সেন’।
জন্মের তারিখ একই।
কিন্তু নীচের লাইনে এমন একটি তথ্য লেখা ছিল, যা অরিত্রর মাথা ঘুরিয়ে দিল।
দুজনের জন্মের ব্যবধান: ৪৮ বছর।
অরিত্র কাগজটা ফেলে দিল।
“এটা অসম্ভব!”
যুবকটি উঠে দাঁড়াল।
“তোমার কাছে অসম্ভব। কিন্তু এই ঘরে সময় একবারও সোজা পথে চলে না।”
“তুমি কি আমার যমজ ভাই?”
যুবকটি মাথা নাড়ল।
“না। আমি তুমি।”
অরিত্র পিছিয়ে গেল।
“তুমি কী বলতে চাইছ?”
যুবকটি দেওয়ালের ঘড়িগুলোর দিকে তাকাল। প্রতিটি ঘড়ির কাঁটা থেমে আছে বারোটা তেরো মিনিটে।
“আমি সেই অরিত্র, যে এই ঘর থেকে বেরোতে পারেনি। আর তুমি সেই অরিত্র, যে এখনও নিজের জীবনের শুরুতেই দাঁড়িয়ে আছে।”
“কিন্তু আমার বয়স আটাশ!”
“তোমার শরীরের বয়স আটাশ। কিন্তু তোমার জীবনের একটি অংশ এখানে আটকে আছে। তুমি জন্মানোর আগেই এই ঘরে তোমার ভবিষ্যৎ লেখা হয়েছিল।”
অরিত্র আর কথা বলতে পারল না।
যুবকটি টেবিলের ড্রয়ার খুলে একটি ছবি বের করল।
ছবিতে দেখা যাচ্ছে, অরিত্র একটি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে। পাশে অরিন্দম সেন। ছবির নীচে তারিখ—
‘১৭ নভেম্বর, ২০৪৪।’
অরিত্রর হাত কাঁপতে লাগল।
“এটা তো ভবিষ্যতের তারিখ!”
যুবকটি মৃদু হাসল।
“হ্যাঁ। কারণ চৌদ্দ নম্বর ঘরে সময় থেমে থাকে না। এখানে অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যৎ একই দরজার তিনটি দিক।”
ঠিক তখনই ঘরের সব ঘড়ি একসঙ্গে বাজতে শুরু করল।
ঢং!
ঢং!
ঢং!
বারোটা তেরো মিনিট।
যুবকটি অরিত্রর হাত চেপে ধরল।
“শোনো। তোমার বাবা এখন বিপদে। এই ঘর খোলার কথা তিনি কখনও চাননি। কারণ এখানে যে সত্য লুকিয়ে আছে, তা জানলে তুমি তাঁকে আর কখনও ক্ষমা করতে পারবে না।”
অরিত্র চিৎকার করে উঠল, “কী সত্য?”
যুবকটি তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল—
“তোমার বাবা তোমাকে এই পৃথিবীতে আসতে দেননি।”
অরিত্রর চোখ বিস্ফারিত হয়ে গেল।
“কী বললে?”
“তুমি যে জীবন বেঁচে আছ, সেটি আসলে তোমার দ্বিতীয় জীবন। প্রথম জীবনে তুমি জন্মানোর আগেই মারা গিয়েছিলে। আর তোমাকে বাঁচানোর জন্য অরিন্দম এমন একটি কাজ করেছিলেন, যার মূল্য এখনও তাঁকে দিতে হচ্ছে।”
ঘরের আলো হঠাৎ নিভে গেল।
অন্ধকারের মধ্যে অরিত্র অনুভব করল, কেউ তার হাত থেকে চাবিটা কেড়ে নিচ্ছে।
তারপর সেই পরিচিত কণ্ঠ আবার ভেসে এল।
“এবার তোমার পালা। ঘর থেকে বেরোবে, না কি আমার জায়গায় থেকে যাবে?”
আলো ফিরে আসতেই অরিত্র দেখল, চেয়ারটি খালি।
যুবকটি নেই।
টেবিলের উপর শুধু একটি কাগজ পড়ে আছে।
কাগজে লেখা—
‘যদি সত্য জানতে চাও, তবে ১৭ নভেম্বর, ২০৪৪-এর আগে তোমার বাবাকে খুঁজে বের করো। নইলে তোমার দ্বিতীয় জীবনও শেষ হয়ে যাবে।’
অরিত্র ঘড়ির দিকে তাকাল।
তার ফোনে তারিখ দেখাচ্ছে—২৪ অক্টোবর, ২০২৬।
অর্থাৎ তার হাতে এখনও আঠারো বছর সময় আছে।
কিন্তু পরের মুহূর্তেই ফোনে একটি নতুন বার্তা এল।
প্রেরক—অরিন্দম সেন।
‘অরিত্র, তুমি যদি চৌদ্দ নম্বর ঘরে ঢুকে থাকো, তাহলে মনে রেখো—ওখানে যে মানুষটিকে দেখেছ, সে তোমার ভবিষ্যৎ নয়। সে তোমার প্রথম জীবনের শেষ সাক্ষী।’
বার্তাটির নীচে আরও একটি লাইন—
‘আর সে তোমাকে হত্যা করতে চায়।’
ঠিক তখনই ঘরের দরজা নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে গেল।
আর দেওয়ালের ঘড়িগুলোর কাঁটা উল্টো দিকে ঘুরতে শুরু করল।
প্রথম পর্ব সমাপ্ত।