আজ অস্ত্রোপচারের আগে রোগীকে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া চিকিৎসাবিজ্ঞানের স্বাভাবিক ও অপরিহার্য অংশ। আধুনিক অপারেশন থিয়েটারে প্রশিক্ষিত অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের উপস্থিতি ছাড়া বড় অস্ত্রোপচার কল্পনা করাই কঠিন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এমন একটি সময় ছিল, যখন অ্যানেস্থেশিয়া নিজেই ছিল নতুন ও ঝুঁকিপূর্ণ একটি ক্ষেত্র। তখন আলাদা করে ‘অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট’ নামে কোনও প্রতিষ্ঠিত বিশেষজ্ঞের ধারণাও ছিল না।
সেই সময়েই ভারতের হায়দরাবাদে চিকিৎসার এক কঠিন ও অপরিচিত ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন ডা. রূপাবাই ফুরদুনজি। চিকিৎসা-ইতিহাসের গবেষণায় তাঁকে বিশ্বের প্রথম যোগ্যতাসম্পন্ন নারী অ্যানেস্থেটিস্ট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৮৮৯ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত তিনি হায়দরাবাদের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগের কাজে যুক্ত ছিলেন।
তাঁর কাহিনি শুধু একজন চিকিৎসকের সাফল্যের গল্প নয়। এটি এমন এক সময়ের গল্প, যখন একজন নারী চিকিৎসাবিজ্ঞানের এমন একটি ক্ষেত্রে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন, যার ভবিষ্যৎ তখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট ছিল না।
যখন অ্যানেস্থেশিয়া ছিল নতুন বিজ্ঞান
উনিশ শতকের শেষভাগে অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত কষ্টকর অভিজ্ঞতা। আধুনিক ব্যথানিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তখনও বিকশিত হয়নি। ক্লোরোফর্ম ও অন্যান্য অ্যানেস্থেটিক ব্যবহারের মাধ্যমে রোগীকে অচেতন বা ব্যথাবোধহীন অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল।
কিন্তু অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া নিজেই ছিল একটি বিশেষ দক্ষতার কাজ।
কতটা ওষুধ দিতে হবে?
কীভাবে রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস পর্যবেক্ষণ করতে হবে?
কীভাবে অচেতন অবস্থায় রোগীকে নিরাপদ রাখতে হবে?
এই প্রশ্নগুলির উত্তর তখনও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো সুসংগঠিত ছিল না।
এই পরিস্থিতিতে রূপাবাই ফুরদুনজির কাজ ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। Indian Journal of Anaesthesia-তে প্রকাশিত চিকিৎসা-ইতিহাসের গবেষণায় বলা হয়েছে, তিনি হায়দরাবাদের British Residency Hospital, Afzalgunj Hospital এবং Zenana Hospital-এ অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার কাজ করতেন।
হায়দরাবাদ মেডিক্যাল স্কুলে শিক্ষা
রূপাবাই ১৮৮৫ থেকে ১৮৮৯ সালের মধ্যে Hyderabad Medical School-এ চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়ন করেন। সে সময় এই প্রতিষ্ঠানে পাশ্চাত্য চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় পড়ানো হত। তাঁর অর্জিত ‘Hakeem’ ডিগ্রিটি সে সময়কার ব্যবস্থায় চিকিৎসা শিক্ষার একটি স্বীকৃত যোগ্যতা ছিল। ১৮৮৯ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি চিকিৎসা পেশায় প্রবেশ করেন।
তখন নারী চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম। আরও কঠিন ছিল এমন একটি ক্ষেত্রে কাজ করা, যেখানে অস্ত্রোপচারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থেকে রোগীর জীবন ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে হত।
কিন্তু রূপাবাই সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন।
তাঁর কাজের দক্ষতা দ্রুত চিকিৎসকদের নজরে আসে।
এডওয়ার্ড লরির সঙ্গে কাজ
হায়দরাবাদ মেডিক্যাল স্কুলের Principal এবং British Residency-র Chief Surgeon ছিলেন Surgeon Major Edward Lawrie। ক্লোরোফর্ম অ্যানেস্থেশিয়ার ব্যবহার নিয়ে হায়দরাবাদে যে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও পরীক্ষা চালানো হয়েছিল, রূপাবাই তার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
Hyderabad Chloroform Commissions-এর সময় তাঁর দক্ষতা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। ১৮৯১ সালে প্রকাশিত A Report on Hyderabad Chloroform Commissions গ্রন্থে Edward Lawrie রূপাবাইয়ের ক্লোরোফর্ম ব্যবহারের দক্ষতার প্রশংসা করেছিলেন।
এখানেই তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রকাশ পায়।
তিনি শুধু হাসপাতালের একজন কর্মী ছিলেন না; অ্যানেস্থেশিয়ার কার্যকারিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে চলা সমকালীন চিকিৎসা-পরীক্ষার অংশও হয়েছিলেন।
একটি নতুন পেশার জন্মের আগে
আজ ‘অ্যানেস্থেসিওলজি’ একটি পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাবিদ্যা। কিন্তু রূপাবাই যখন কাজ শুরু করেন, তখন এই বিশেষত্বের আলাদা কাঠামো ছিল না।
Indian Journal of Anaesthesia-র ঐতিহাসিক নিবন্ধে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, সেই সময় অ্যানেস্থেসিওলজি নামে আলাদা specialty বা অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট নামে আলাদা specialist প্রতিষ্ঠিত ছিল না। সাধারণত সার্জনরাই অ্যানেস্থেশিয়া দিতেন এবং রোগী অচেতন হয়ে পড়ার পর তাকে দেখাশোনার দায়িত্ব নার্স বা মেডিক্যাল ছাত্রের ওপর পড়ত।
এই পরিস্থিতিতে রূপাবাইয়ের দক্ষতা আরও তাৎপর্যপূর্ণ।
কারণ তিনি এমন একটি কাজকে পেশাগত দক্ষতার পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিলেন, যা তখনও চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলাদা শাখা হিসেবে স্বীকৃতি পায়নি।
ইউরোপে আরও জ্ঞান অর্জনের সুযোগ
রূপাবাইয়ের দক্ষতার স্বীকৃতি শুধু হায়দরাবাদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
১৯০৯ সালে তাঁকে যুক্তরাজ্যের Edinburgh-এ পাঠানো হয় অ্যানেস্থেটিক ব্যবহারের বিষয়ে আরও জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য। সেই সময় অ্যানেস্থেশিয়ার আলাদা ডিগ্রি বা বিশেষায়িত qualification না থাকায় তিনি Edinburgh University থেকে Physics ও Chemistry-তে Diploma অর্জন করেন—এই বিষয়গুলির জ্ঞান অ্যানেস্থেটিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়েছিল।
এই ঘটনা তাঁর শিক্ষার প্রতি মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় বহন করে।
তিনি শুধু অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভর করে থেমে থাকেননি। যে ক্ষেত্রটি তখনও বিকাশমান, সেই ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বিজ্ঞান আরও গভীরভাবে শেখার জন্য বিদেশে গিয়েছেন।
অ্যানেস্থেশিয়ার ইতিহাসে নারীর এক বিরল উপস্থিতি
রূপাবাইয়ের সময়ে চিকিৎসাক্ষেত্রে নারীদের প্রবেশই ছিল কঠিন। তার ওপর অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত অ্যানেস্থেশিয়ার মতো একটি ক্ষেত্র বেছে নেওয়া ছিল আরও বড় সিদ্ধান্ত।
আজকের চোখে আমরা হয়তো ভাবতে পারি—এতে বিশেষ কী?
কিন্তু সেই সময়ের সামাজিক ও চিকিৎসা-পরিবেশ বিবেচনা করলে বোঝা যায়, তাঁর পথ কতটা অস্বাভাবিক ছিল।
তাঁর কাজের মধ্যে ছিল রোগীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী অ্যানেস্থেশিয়া পরিচালনা, অপারেশনের সময় রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং জীবনসংকটের সম্ভাবনা সামলানোর দক্ষতা।
অর্থাৎ তাঁর পেশা ছিল শুধু জ্ঞাননির্ভর নয়; ছিল দায়িত্ব, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং অসাধারণ সতর্কতারও পরীক্ষা।
Annie Besant-এর সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক যোগাযোগ
রূপাবাইয়ের জীবনের আরেকটি আকর্ষণীয় ঘটনা তাঁর ১৯০৯ সালের ইউরোপযাত্রার সঙ্গে জড়িত।
Edinburgh যাওয়ার পথে একই জাহাজে তাঁর সঙ্গে ভ্রমণ করেছিলেন Annie Besant। রূপাবাইয়ের জন্য Besant একটি সুপারিশপত্র লিখেছিলেন। চিকিৎসা-ইতিহাসের গবেষণায় সংরক্ষিত এই চিঠিকে রূপাবাইয়ের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ছোট্ট ঘটনাটি আমাদের সেই সময়ের সামাজিক নেটওয়ার্কের একটি চিত্রও দেয়।
ভারতীয় নারীরা যখন শিক্ষার ও পেশার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করছিলেন, তখন তাঁদের পথ কখনও কখনও একে অপরের সঙ্গে অপ্রত্যাশিতভাবে যুক্ত হচ্ছিল।
দীর্ঘ কর্মজীবন
রূপাবাই ১৮৮৯ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত হায়দরাবাদের বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে চিকিৎসা-ইতিহাসের গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর কর্মস্থলের মধ্যে British Residency Hospital, Afzalgunj Hospital এবং Zenana Hospital-এর নাম পাওয়া যায়।
পরে তিনি Nizam’s Medical Service-এর অধীনে Chaderghat Hospital-এর Superintendent হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন এবং আনুমানিক ১৯২০ সালের দিকে অবসর নেন।
অর্থাৎ তাঁর পেশাগত জীবন শুধুমাত্র অ্যানেস্থেশিয়া প্রয়োগের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। চিকিৎসা-প্রশাসনের দায়িত্বও তিনি সামলেছিলেন।
ইতিহাসের পাতায় কেন হারিয়ে গেলেন?
রূপাবাইয়ের গল্পের একটি বেদনাদায়ক দিক হল—তাঁর কাজের গুরুত্ব তাঁর জীবদ্দশায় যতটা আলো পাওয়ার কথা ছিল, ততটা পায়নি।
তাঁর সম্পর্কে বহু তথ্য বহু বছর ধরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। এমনকি তাঁর জীবনের বিভিন্ন নথি কীভাবে সংরক্ষিত হল, সেটিও একটি আকর্ষণীয় ইতিহাস।
Indian Journal of Anaesthesia-তে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, ১৯৮৮ সালে গবেষকরা Harmusji Kause নামের একজন ব্যক্তির কাছে রূপাবাইয়ের পুরনো certificate ও ব্যক্তিগত চিঠির সন্ধান পান। এই নথিগুলি পরবর্তীকালে Indian Institute of History of Medicine-এ সংরক্ষিত হয়।
অর্থাৎ তাঁর ইতিহাস নতুন করে সামনে আসে অনেক বছর পরে।
একজন চিকিৎসক, যিনি উনিশ শতকের শেষভাগে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা-ক্ষেত্রে কাজ করেছিলেন, তাঁর স্মৃতি পুনরুদ্ধারের কাজ করতে হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের গবেষকদের।
কেন তাঁর গল্প আজও গুরুত্বপূর্ণ
রূপাবাই ফুরদুনজির গুরুত্ব শুধু ‘প্রথম’ হওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
ইতিহাসে প্রথম হওয়া অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁর প্রকৃত অবদান ছিল এমন একটি সময়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করা, যখন সেই পেশাটির ভবিষ্যৎ কাঠামোই সম্পূর্ণ তৈরি হয়নি।
তিনি দেখিয়েছিলেন—
একজন নারী শুধু চিকিৎসা পড়তে পারেন না, কঠিন clinical responsibility-ও নিতে পারেন।
একজন নারী শুধু চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করতে পারেন না, নতুন একটি বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বিকাশেও অবদান রাখতে পারেন।
আর বিজ্ঞান যখন পরিবর্তনের মধ্যে থাকে, তখন সাহসী ও দক্ষ মানুষরাই তার পরবর্তী পথ তৈরি করেন।
আজকের অ্যানেস্থেসিওলজির সঙ্গে তাঁর যোগ
আজ অ্যানেস্থেসিওলজি অত্যন্ত উন্নত। রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস, হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, অক্সিজেনের মাত্রা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় বিষয় অত্যাধুনিক যন্ত্রে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
অপারেশনের আগে রোগীর মূল্যায়ন, অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেশিয়া পরিচালনা এবং অপারেশনের পর রোগীর নিরাপত্তা—সবই বিশেষ প্রশিক্ষণের অংশ।
এই আধুনিক ব্যবস্থার সঙ্গে উনিশ শতকের চিকিৎসার তুলনা করলে পার্থক্য বিশাল।
কিন্তু সেই দীর্ঘ পথের শুরুতে যে চিকিৎসকেরা ঝুঁকি নিয়ে নতুন পদ্ধতি ব্যবহার করেছিলেন, তাঁদের অবদান ভুলে গেলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
রূপাবাই ফুরদুনজি সেই পথিকৃৎদের অন্যতম।
বর্তমানেও World Federation of Societies of Anaesthesiologists তাঁকে বিশ্বের প্রথম নারী অ্যানেস্থেটিস্ট হিসেবে স্মরণ করে।
এক বিস্মৃত নামের পুনরাবিষ্কার
রূপাবাইয়ের জীবনের গল্প আমাদের আরও একটি শিক্ষা দেয়—ইতিহাসে বিখ্যাত হওয়া আর ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া এক জিনিস নয়।
অনেক মানুষ তাঁদের সময়ে অসাধারণ কাজ করেছেন, কিন্তু তাঁদের নাম পাঠ্যবইয়ে স্থান পায়নি। তাঁদের কাজের গুরুত্ব বুঝতে বহু বছর পরে গবেষণা করতে হয়েছে।
রূপাবাই ফুরদুনজিও তেমনই এক নাম।
হায়দরাবাদের হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে ক্লোরোফর্ম প্রয়োগ থেকে শুরু করে Edinburgh-এ গিয়ে বিজ্ঞান শেখা—তাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায়েই ছিল নতুন কিছু করার সাহস।
তিনি এমন সময়ে কাজ করেছিলেন, যখন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা এখনও নিজের পরিচয় খুঁজছিল।
আর সেই অস্থির সময়ে একজন ভারতীয় নারী নিজের দক্ষতার মাধ্যমে প্রমাণ করেছিলেন—চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ নির্মাণে নারীরাও প্রথম সারির ভূমিকা নিতে পারেন।
ডা. রূপাবাই ফুরদুনজির নাম তাই শুধু অ্যানেস্থেশিয়ার ইতিহাসের একটি ‘প্রথম’ নয়; এটি ভারতীয় নারী চিকিৎসকদের দীর্ঘ পথচলার এক গুরুত্বপূর্ণ প্রারম্ভিক অধ্যায়।
ইতিহাসের ধুলো জমা নথি থেকে তাঁর নাম যতবার সামনে আসে, ততবারই মনে হয়—ভারতের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এখনও কত অজানা নারীর গল্প আমাদের আবিষ্কার করা বাকি।