Categories
বিবিধ

বাগডিহায় ঝড়-বৃষ্টির তাণ্ডব, সপরিবারে আইসিডিএস কেন্দ্রে আশ্রয়—প্রাথমিক ত্রাণ দিল ব্লক প্রশাসন।

জামুড়িয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা :-পুজোর আর কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা। চারদিকে উৎসবের আবহের মধ্যেই কয়েক মুহূর্তের প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল চারটি বাড়ি। কোনো বাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে গেল, কোনোটির ভেঙে পড়ল টালির চাল ও আবার কোন বাড়ির উপর বিশাল আকৃতির গাছ মাটি শুদ্ধ উপরে পোড়ায় ভেঙে পড়ল বাড়ির মাটির দেওয়াল। দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে যায় বাড়ির নথিপত্র ও আসবাবপত্র। এই পরিস্থিতিতে দুটি পরিবারকে গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি তথা আইসিডিএস কেন্দ্রে অস্থায়ী আশ্রয় নিতে হয়েছে। তবে ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর নেই।

বুধবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি ঘটে জামুড়িয়া থানার অন্তর্গত বাগডিহা গ্রামের বাউরিপাড়া এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার পর হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারটি বাড়ি। এর মধ্যে দুটি বাড়ির টিনের ছাউনি সম্পূর্ণ উড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ওই দুই পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে নিয়ে যান। বাকি দুটি বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম।

ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জামুড়িয়া ব্লক প্রশাসনের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও আধিকারিকরা। তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শনের পাশাপাশি পরিবারগুলির হাতে শুকনো খাবার, জামাকাপড় ও রান্নার সামগ্রী-সহ প্রাথমিক ত্রাণ তুলে দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির কর্তা দিলীপ বাউরি ও রেখা বাউরি জানান, আচমকাই ঘরের ভিতরে জল পড়তে শুরু করে। পরে তাঁরা দেখেন, মাথার উপর ছাউনি নেই। কিছুক্ষণের মধ্যেই মাটির বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। কোনওক্রমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বর্তমানে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন তাঁরা।

ব্লক প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি আপাতত আইসিডিএস কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। তাঁদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার রাতেই এলাকায় পৌঁছান জেলা বিজেপির কৃষাণ মোর্চার সভাপতি রমেশ ঘোষ। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলি পরিদর্শন করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

দুর্যোগের পর আতঙ্কে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয় ও প্রশাসনিক সহযোগিতার আশায় রয়েছে।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *