Categories
গল্প বিবিধ

যে ছেলেটি মানুষের হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছিল।।

১. একটি ছোট্ট অপমান

পূর্ব মেদিনীপুরের সবুজে ঘেরা গ্রাম আনন্দপুরে থাকত সায়ন। সে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি গ্রামের মানুষের সঙ্গে মিশতে ভালোবাসত। কারও বাজারের ব্যাগ ভারী হলে এগিয়ে যেত, কারও সাইকেল খারাপ হলে মেরামতির দোকান পর্যন্ত পৌঁছে দিত। কিন্তু সে কখনও ভাবেনি, একদিন তার জীবনের সবচেয়ে বড় কাজ হবে কয়েকজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের মুখে হারিয়ে যাওয়া হাসি ফিরিয়ে দেওয়া।

ঘটনাটা ঘটল এক সোমবার সকালে।

সায়ন মায়ের সঙ্গে বাজারে গিয়েছিল। সবজি কেনার সময় পাশের দোকানে কাজ করা শেফালি মাসি একটি কাগজ হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কাগজটিতে কী লেখা আছে, তিনি বুঝতে পারছিলেন না। দোকানদারকে জিজ্ঞেস করতেই সে বিরক্ত হয়ে বলল, “এত বছরেও নিজের নামটুকু পড়তে শিখলেন না? সব সময় অন্যকে জিজ্ঞেস করতে হয়!”

শেফালি মাসি মাথা নিচু করে রইলেন। তাঁর চোখে জল চিকচিক করছিল। তিনি কাগজটি ভাঁজ করে আঁচলের মধ্যে রেখে দিলেন।

সায়নের খুব খারাপ লাগল।

বাড়ি ফেরার পথে সে মাকে জিজ্ঞেস করল, “মা, শেফালি মাসি ছোটবেলায় স্কুলে যাননি?”

মা বললেন, “অভাবের সংসার ছিল। ছোটবেলাতেই কাজে লেগে পড়েছিলেন। পরে বিয়ে, সংসার, ছেলেমেয়ের দায়িত্ব—আর পড়াশোনা করা হয়নি। এমন মানুষ গ্রামে অনেক আছেন।”

সায়ন অবাক হয়ে বলল, “কিন্তু এখন তো মাসি চাইলে শিখতে পারেন!”

মা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “শেখার ইচ্ছা থাকলেই হয় না রে। অনেক সময় মানুষের বয়স বাড়ে, কিন্তু নিজের অক্ষমতা নিয়ে লজ্জাও বাড়তে থাকে। তখন সে আর কারও সামনে ভুল করতে চায় না।”

মায়ের কথাটা সায়নের মনে থেকে গেল।

সেদিন রাতে সে ভাবল, গ্রামের যাঁরা ছোটবেলায় পড়াশোনার সুযোগ পাননি, তাঁদের যদি কেউ ধৈর্য ধরে শেখায়, তাহলে কেমন হয়?

২. অদ্ভুত একটি প্রস্তাব

পরদিন স্কুলে গিয়ে সায়ন তার বাংলা শিক্ষিকা মধুমিতা দেবীর সঙ্গে কথা বলল।

“ম্যাডাম, আমাদের গ্রামে অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আছেন, যাঁরা ঠিকমতো পড়তে বা লিখতে পারেন না। আমরা কি তাঁদের শেখানোর ব্যবস্থা করতে পারি?”

শিক্ষিকা কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর বললেন, “অবশ্যই করা যায়। তবে মনে রেখো, তাঁদের শিশুদের মতো পড়ানো যাবে না। তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি। শেখানোর পদ্ধতি তাঁদের প্রয়োজন ও সম্মানের কথা ভেবেই তৈরি করতে হবে।”

সায়ন জানতে চাইল, “কীভাবে শুরু করব?”

শিক্ষিকা পরামর্শ দিলেন, প্রথমে গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কারা শিখতে চান, তাঁরা কী শিখতে চান এবং কখন সময় দিতে পারবেন—এসব জানতে হবে। কাউকে জোর করা যাবে না। কারও অক্ষমতাকে প্রকাশ্যে আলোচনার বিষয়ও করা যাবে না।

সায়ন তার তিন বন্ধু—অয়ন, তৃষা ও রাহুলকে বিষয়টি জানাল।

রাহুল প্রথমে বলল, “বড় মানুষদের আবার নতুন করে পড়াশোনা শেখানো খুব কঠিন হবে না?”

তৃষা উত্তর দিল, “কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তবে আমাদের আগে জানতে হবে, তাঁরা কীভাবে শিখতে স্বচ্ছন্দ বোধ করবেন।”

চার বন্ধু মিলে একটি ছোট পরিকল্পনা তৈরি করল। তারা ঠিক করল, গ্রামের মানুষের অনুমতি নিয়ে সন্ধ্যায় সপ্তাহে তিন দিন একটি বিনা খরচের শিক্ষাকেন্দ্র চালাবে। স্কুলের অব্যবহৃত একটি ঘর ব্যবহারের জন্য প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন করা হলো। তিনি অনুমতি দিলেন।

কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্য জায়গায়।

গ্রামের মানুষকে শেখার জন্য রাজি করানো সহজ হচ্ছিল না।

কেউ বললেন, “এই বয়সে আর পড়ে কী হবে?”

কেউ বললেন, “আমার হাত কাঁপে, লিখতে পারব না।”

আবার কেউ সরাসরি বললেন, “লোকে হাসবে।”

সায়ন বুঝল, বই-খাতা জোগাড় করার আগে মানুষের মনের দরজা খুলতে হবে।

৩. প্রথম দিনের ক্লাস

অনেক অনুরোধের পর প্রথম দিন এলেন মাত্র চারজন। শেফালি মাসি, গ্রামের কৃষিশ্রমিক নিতাই কাকা, পরিচারিকার কাজ করা বাসন্তী পিসি এবং রিকশাচালক গোপালদা।

সায়ন তাঁদের সামনে খাতা ও পেনসিল রাখল।

কিন্তু কেউই খাতা খুললেন না।

নিতাই কাকা অস্বস্তি নিয়ে বললেন, “বাবা, আমাদের দিয়ে আর হবে না। হাতের লেখাও ভালো নয়, চোখেও কম দেখি।”

সায়ন হাসল। “কাকা, প্রথম দিনেই সুন্দর হাতের লেখা করতে হবে, এমন কোনও নিয়ম নেই। আজ আমরা শুধু নিজেদের নাম লিখে দেখব। তাও যদি কঠিন মনে হয়, সমস্যা নেই। ধীরে ধীরে শিখব।”

সে বোর্ডে নিজের নাম লিখল। তারপর প্রত্যেককে তাঁদের নামের প্রথম অক্ষর চিনতে সাহায্য করল।

শেফালি মাসি পেনসিল ধরেছিলেন, কিন্তু হাত এগোচ্ছিল না।

“ভুল হলে?”

সায়ন বলল, “ভুল হলে আবার লিখব। আমি তো প্রতিদিন পড়তে গিয়ে ভুল করি। ভুল করেই তো শিখি।”

শেফালি মাসি ধীরে ধীরে একটি অক্ষর লিখলেন। অক্ষরটি একটু বাঁকা হয়ে গেল।

তিনি সঙ্গে সঙ্গে হাত সরিয়ে নিলেন।

সায়ন বলল, “দেখুন, আপনি কিন্তু লিখতে শুরু করেছেন। এটিই আজকের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

শেফালি মাসি প্রথমবার একটু হাসলেন।

সেদিন তাঁরা মাত্র কয়েকটি অক্ষর শিখলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার সময় তাঁদের চোখে যে আনন্দ ছিল, সায়ন বুঝতে পারল, ছোট্ট উদ্যোগটি হয়তো একদিন অনেক বড় হয়ে উঠবে।

৪. শেখার নতুন পদ্ধতি

দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শিক্ষাকেন্দ্রে আরও কয়েকজন যোগ দিলেন। কেউ দোকানে কাজ করেন, কেউ কৃষিকাজ করেন, কেউ বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। সারাদিন পরিশ্রমের পরে সন্ধ্যায় ক্লাসে আসা তাঁদের পক্ষে সহজ ছিল না।

সায়ন ও তার বন্ধুরা তাই পড়াশোনাকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করল।

তাঁরা শুধু বর্ণমালা শেখাতেন না। বাজারের তালিকা পড়া, বাসের গন্তব্য চেনা, ওষুধের প্যাকেটের লেখা বুঝতে সাহায্য করা, নিজের নাম লেখা, সহজ হিসাব করা—এসব বিষয়ও শেখানো হতো। অবশ্য ওষুধের নির্দেশ বুঝতে অসুবিধা হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের সাহায্য নিতে হবে, সেটাও তাঁরা মনে করিয়ে দিতেন।

গোপালদা একদিন বললেন, “আমি তো শুধু গাড়ি চালাই। আমার আর কতটুকু পড়তে হবে?”

সায়ন জিজ্ঞেস করল, “আপনি যদি কোনও নতুন জায়গায় যাত্রী নিয়ে যান, রাস্তার নাম বা গন্তব্য চিনতে পারলে সুবিধা হবে না?”

গোপালদা একটু ভেবে বললেন, “তা তো হবেই!”

সেদিন থেকে তিনি নিয়মিত আসতে লাগলেন।

বাসন্তী পিসি বাড়ির খরচের হিসাব শিখতে চাইলেন। নিতাই কাকা নিজের নাম লিখতে শিখে ব্যাংকের কাগজপত্রের সাধারণ তথ্য বুঝতে আগ্রহী হলেন। সায়ন তাঁদের বুঝিয়ে দিল, গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক নথিতে সই করার আগে সব শর্ত বুঝে নেওয়া জরুরি। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মীর সাহায্য নিতে হবে।

ধীরে ধীরে শিক্ষাকেন্দ্রটি শুধু পড়াশোনার জায়গা রইল না। এটি হয়ে উঠল অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার জায়গা, যেখানে কেউ কাউকে ছোট করতেন না।

৫. আবার সেই অপমান

সবকিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু একদিন গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে শেফালি মাসির সঙ্গে আবার একটি ঘটনা ঘটল।

অনুষ্ঠানের জন্য কিছু জিনিস কেনা হয়েছিল। হিসাবের কাগজে তাঁর নাম লেখা ছিল। একজন পরিচিত মানুষ কাগজটি দেখে ঠাট্টা করে বললেন, “আপনি আবার পড়তে শিখছেন নাকি? এত বয়সে এসব করে কী হবে?”

শেফালি মাসি কোনও উত্তর দিলেন না। পরদিন তিনি ক্লাসে এলেন না। তার পরের দিনও না।

সায়ন চিন্তিত হয়ে তাঁর বাড়িতে গেল। দেখল, শেফালি মাসি উঠোনে বসে সবজি কাটছেন।

সায়ন জিজ্ঞেস করল, “মাসি, কয়েক দিন ক্লাসে আসছেন না কেন?”

শেফালি মাসি নিচু গলায় বললেন, “আর ভালো লাগছে না বাবা। এত বয়সে পড়াশোনা করতে গিয়ে সবাই হাসাহাসি করে। আমার দ্বারা হবে না।”

সায়ন চুপ করে তাঁর পাশে বসে পড়ল।

কিছুক্ষণ পরে বলল, “মাসি, আপনি যদি রান্না শিখতে চান, কেউ কি আপনাকে বলবে যে এই বয়সে রান্না শেখা যায় না? আপনি তো সংসারের কত কাজ জানেন। এখন নতুন কিছু শিখছেন বলে আপনার পুরোনো অভিজ্ঞতার মূল্য কমে যাচ্ছে না।”

শেফালি মাসি কোনও কথা বললেন না।

সায়ন আবার বলল, “আপনি আমার কাছে শুধু একজন শিক্ষার্থী নন। আপনি আমার শিক্ষকও। আপনার কাছ থেকে আমি কত কিছু শিখেছি! আপনি যেভাবে সংসার সামলান, যেভাবে অল্প টাকায় এত মানুষের জন্য রান্না করেন, সেটা কি কম শিক্ষা?”

শেফালি মাসির চোখ ভিজে উঠল।

তিনি বললেন, “কিন্তু আমার ভুলগুলো দেখলে সবাই হাসে।”

সায়ন দৃঢ়ভাবে উত্তর দিল, “যে মানুষ শেখার চেষ্টা করছেন, তাঁর ভুল নিয়ে হাসা উচিত নয়। ভুল তো আমাদের সবারই হয়।”

শেফালি মাসি সেদিনই ক্লাসে ফিরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন।

পরের দিন তিনি শুধু নিজে এলেন না, পাশের বাড়ির আরেকজন মহিলাকেও সঙ্গে নিয়ে এলেন।

৬. আত্মবিশ্বাসের পরীক্ষা

তিন মাস কেটে গেল।

শিক্ষাকেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের নাম লিখতে পারেন, পরিচিত শব্দ পড়তে পারেন এবং সহজ বাক্যের অর্থ বুঝতে পারেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন দৈনন্দিন হিসাবও করতে শিখেছেন।

মধুমিতা দেবী প্রস্তাব দিলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ছোট্ট মিলনসভার আয়োজন করা হোক। সেখানে তাঁরা যা শিখেছেন, তা নিজেদের মতো করে দেখাবেন।

প্রথমে অনেকে রাজি হলেন না।

নিতাই কাকা বললেন, “সবার সামনে পড়তে হবে? যদি আটকে যাই?”

সায়ন বলল, “কেউ পরীক্ষা নিতে বসবে না। আমরা শুধু আমাদের শেখার আনন্দ ভাগ করে নেব। কেউ না চাইলে সবার সামনে পড়তে হবে না।”

শেষ পর্যন্ত সবাই সম্মত হলেন।

মিলনসভার দিন স্কুলের ঘরটি সাজানো হলো। গ্রামের কয়েকজন শিক্ষক, অভিভাবক এবং স্থানীয় মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রথমে গোপালদা নিজের নাম লিখলেন। তারপর একটি ছোট বাক্য পড়লেন—‘আমি প্রতিদিন নতুন কিছু শিখি।’

সবাই হাততালি দিলেন।

এরপর বাসন্তী পিসি নিজের তৈরি একটি সাধারণ খরচের হিসাব দেখালেন। নিতাই কাকা বোর্ডে নিজের নাম লিখলেন। তাঁর হাত কাঁপছিল, কিন্তু তিনি থামলেন না।

সবশেষে উঠলেন শেফালি মাসি।

তিনি হাতে একটি কাগজ নিয়ে দাঁড়ালেন। কাগজে কয়েকটি সহজ বাক্য লেখা ছিল। প্রথম বাক্যটি পড়তে গিয়ে তিনি আটকে গেলেন। ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

সায়ন দূর থেকে মৃদু হাসি দিয়ে মাথা নাড়ল।

শেফালি মাসি আবার চেষ্টা করলেন।

এবার তিনি পড়লেন, “আমি শেফালি। আমি শিখতে পারি। আমার বয়স হয়েছে, কিন্তু আমার শেখা শেষ হয়নি।”

ঘরজুড়ে হাততালি বেজে উঠল।

শেফালি মাসি কাগজটি নামিয়ে চোখ মুছলেন। তাঁর মুখে এমন এক হাসি ফুটে উঠল, যা সায়ন কোনও দিন ভুলতে পারবে না।

৭. সবচেয়ে বড় পুরস্কার

সেই দিনের পরে শিক্ষাকেন্দ্রে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়ল। গ্রামের কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বেচ্ছায় পড়াতে এগিয়ে এলেন। স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও পালা করে সাহায্য করতে লাগল।

সায়ন বুঝতে পারল, এই কাজ শুধু তার একার নয়। গ্রামের মানুষের মধ্যে শেখার ইচ্ছা ছিল; দরকার ছিল এমন একটি পরিবেশ, যেখানে তাঁরা নির্ভয়ে ভুল করতে পারবেন এবং আবার চেষ্টা করার সুযোগ পাবেন।

একদিন শেফালি মাসি বাজার থেকে ফিরে সায়নের হাতে একটি কাগজ দিলেন।

“দেখ তো বাবা, আমি কী এনেছি!”

সায়ন কাগজটি খুলে দেখল, সেটি বাজারের একটি রসিদ। শেফালি মাসি রসিদের কয়েকটি শব্দ চিনতে পেরেছেন এবং মোট টাকার হিসাবও মিলিয়ে দেখেছেন।

তিনি গর্ব করে বললেন, “এবার দোকানদার কী লিখেছে, তার কিছুটা নিজেই বুঝতে পারলাম। সবটা এখনও পারি না, কিন্তু আগে তো এটুকুও পারতাম না!”

সায়ন হাসল। “আপনি আরও শিখবেন, মাসি।”

শেফালি মাসি বললেন, “শুধু পড়তে শেখাইনি রে, তুই আমাকে আবার চেষ্টা করতে শিখিয়েছিস।”

সেদিন রাতে সায়ন নিজের খাতায় লিখল—

“মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় বাধা সব সময় বইয়ের কঠিন শব্দ নয়। কখনও কখনও সবচেয়ে বড় বাধা হলো নিজের সম্পর্কে তৈরি হওয়া সেই বিশ্বাস—‘আমি পারব না।’ কাউকে শেখানোর আগে যদি আমরা তার মনে এই বিশ্বাস জাগাতে পারি যে সে চেষ্টা করার যোগ্য, তাহলে শেখার পথ অনেক সহজ হয়ে যায়।”

জানালার বাইরে তখন নিস্তব্ধ রাত। দূরের একটি বাড়িতে আলো জ্বলছিল। সেই আলোয় বসে শেফালি মাসি নিজের খাতায় নতুন অক্ষর লিখছিলেন।

অক্ষরগুলো এখনও পুরোপুরি সুন্দর হয়নি। কোথাও রেখা বাঁকা, কোথাও মাত্রা একটু এদিক-ওদিক। কিন্তু তাঁর হাত আর থেমে যাচ্ছিল না।

কারণ তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, শেখার কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। আর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার জন্য কখনও কখনও একজন মানুষের বিশ্বাসই যথেষ্ট—যে বিশ্বাস বলে, “তুমি পারবে, আবার চেষ্টা করো।”

সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *