ইতিহাসে কিছু মানুষের কাজ খুব বড় শিরোনাম তৈরি করে না। তাঁদের হাতে থাকে না কোনও যুদ্ধজয়ের কাহিনি, থাকে না ক্ষমতার বড় পদ। অথচ তাঁদের কাজ নিঃশব্দে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনকে বদলে দেয়। খাদ্য, পুষ্টি, শিক্ষা, শিশুস্বাস্থ্য এবং নারীর ক্ষমতায়নের মতো বিষয়কে কেন্দ্র করে এমনই এক নীরব বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন ড. রাজাম্মাল পি. দেবদাস।
তিনি ছিলেন পুষ্টিবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, গবেষক এবং নারীশিক্ষার এক দৃঢ় প্রবক্তা। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল—বিজ্ঞানকে সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা। বিশেষ করে শিশুদের পুষ্টি, স্কুলশিক্ষায় স্বাস্থ্য ও খাদ্যবিষয়ক জ্ঞান এবং নারীদের শিক্ষার প্রসারে তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। Nutrition Society of India-ও তাঁকে পুষ্টিবিজ্ঞান, হোম সায়েন্স এবং নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্মরণ করে।
শৈশব থেকেই শিক্ষার প্রতি আকর্ষণ
রাজাম্মাল পি. দেবদাসের জন্ম ১৯১৯ সালে তামিলনাড়ুর চেঙ্গামে। তাঁর বাবা সরকারি চাকরিতে ছিলেন। বাবার বদলির কারণে শৈশবে তাঁকে বিভিন্ন জায়গায় পড়াশোনা করতে হয়েছিল। এই পরিবর্তনশীল পরিবেশ তাঁর শিক্ষাজীবনে কিছুটা কঠিন পরিস্থিতি তৈরি করলেও পড়াশোনার প্রতি তাঁর আগ্রহ কখনও কমেনি।
পরিবারের দায়িত্ব এবং সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেও তিনি নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যান। বিয়ের পরেও তিনি শিক্ষা থামিয়ে দেননি। বরং নিজের পড়াশোনাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান। Avinashilingam Institute-এর জীবনীতে তাঁর অধ্যবসায়, কঠোর পরিশ্রম এবং শিক্ষার প্রতি গভীর আগ্রহের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই জায়গাটিই তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
একজন নারীর শিক্ষাজীবন বিয়ের পরে থেমে যেতে বাধ্য নয়—রাজাম্মাল নিজের জীবন দিয়ে সেই ধারণার বিরোধিতা করেছিলেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকায় যাত্রা
উচ্চশিক্ষার প্রতি তাঁর আকাঙ্ক্ষা তাঁকে বিদেশে নিয়ে যায়। তিনি Ohio State University-তে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ সালে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীকালে তিনি Home Science ও Nutrition-এর ক্ষেত্রে উচ্চতর গবেষণা চালিয়ে যান।
সেই সময়ে একজন ভারতীয় নারীর পক্ষে বিদেশে গিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করা ছিল অত্যন্ত কঠিন।
কিন্তু রাজাম্মাল শুধু ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফিরে আসেননি। তিনি সেই শিক্ষাকে দেশের মানুষের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
তাঁর কাছে শিক্ষা ছিল ব্যক্তিগত উন্নতির মাধ্যম নয়; শিক্ষা ছিল সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার।
পুষ্টিবিজ্ঞানকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া
আজ আমরা পুষ্টি নিয়ে অনেক কথা বলি। সুষম খাদ্য, শিশুর পুষ্টি, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট, অপুষ্টি, স্কুলের মধ্যাহ্নভোজ—এসব শব্দ এখন আমাদের পরিচিত।
কিন্তু কয়েক দশক আগে ভারতীয় সমাজে পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে সাধারণ মানুষের সচেতনতা এতটা বিস্তৃত ছিল না।
রাজাম্মাল দেবদাস এই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেন।
তিনি বুঝেছিলেন, পুষ্টির সমস্যা শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধান করা যাবে না। মানুষের খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক অর্থনীতি, স্থানীয় খাদ্যসংস্কৃতি এবং শিক্ষার সঙ্গে পুষ্টিকে যুক্ত করতে হবে।
তাই তাঁর গবেষণার একটি বড় অংশ ছিল community nutrition বা সমাজভিত্তিক পুষ্টি নিয়ে।
তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত কাজের মধ্যে শিশু ও প্রাক্-প্রাথমিক বয়সের পুষ্টি, স্কুলের পুষ্টিকর খাবার, স্থানীয় খাদ্য ব্যবহার করে অপুষ্টি মোকাবিলা এবং পুষ্টিশিক্ষার মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
স্কুলের খাবার ও শিশুপুষ্টি
রাজাম্মাল দেবদাসের কাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল স্কুলের শিশুদের পুষ্টি।
তিনি মনে করতেন, শিশুর শিক্ষা শুধু বইয়ের জ্ঞান দিয়ে সম্পূর্ণ হয় না। একটি ক্ষুধার্ত শিশু মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে পারে না। শারীরিক সুস্থতা এবং মানসিক বিকাশের সঙ্গে খাদ্য ও পুষ্টির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
এই ভাবনা থেকেই তিনি স্কুলের পুষ্টিকর খাবারের কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেন।
Jamnalal Bajaj Foundation-এর তথ্য অনুযায়ী, তিনি ১৯৬৩ সালেই একটি model school lunch programme প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং পরে তামিলনাড়ুর রাজ্যব্যাপী পুষ্টিকর মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচির সঙ্গে পরামর্শদাতা হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
এই কাজের গুরুত্ব আজকের দিনে আরও স্পষ্ট।
স্কুলের খাবার শুধু একটি খাবারের প্লেট নয়—এটি শিশুর স্কুলে উপস্থিতি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত একটি সামাজিক বিনিয়োগ।
শিক্ষকদেরও পুষ্টিশিক্ষায় যুক্ত করা
রাজাম্মাল দেবদাসের কাজের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ছিল—তিনি শুধু শিশুদের নয়, শিক্ষকদেরও এই উদ্যোগের অংশ করেছিলেন।
তাঁর নেতৃত্বে তামিলনাড়ুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠক্রমে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যশিক্ষা যুক্ত করার প্রকল্প পরিচালিত হয়। ১৯৭৮ সালের একটি গবেষণাপত্রে এই প্রকল্পের বিবরণ প্রকাশিত হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তামিলনাড়ুর ৬৬৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যশিক্ষাকে পাঠক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয় এবং ৩,৬০০ প্রাথমিক শিক্ষককে এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল।
এখানে তাঁর চিন্তার গভীরতা বোঝা যায়।
একজন গবেষক চাইলে শুধু গবেষণাপত্র লিখে থেমে যেতে পারতেন। কিন্তু রাজাম্মাল চেয়েছিলেন গবেষণার ফল যেন শ্রেণিকক্ষে পৌঁছয়।
অর্থাৎ গবেষণা → শিক্ষক → শিশু → পরিবার—এই ধারাবাহিকতার মাধ্যমে তিনি পুষ্টিজ্ঞানকে সমাজে ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন।
নারীশিক্ষার প্রতি অঙ্গীকার
রাজাম্মাল দেবদাসের কাজের আরেকটি বড় স্তম্ভ ছিল নারীশিক্ষা।
তিনি বিশ্বাস করতেন, নারীর শিক্ষা শুধু একজন নারীর জীবন বদলায় না; তার প্রভাব পড়ে পুরো পরিবার এবং পরবর্তী প্রজন্মের ওপর।
এই বিশ্বাস থেকেই তিনি নারীশিক্ষার জন্য কাজ করেন এবং Avinashilingam Institute-এর সঙ্গে দীর্ঘ সময় যুক্ত থাকেন।
তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন এবং শেষ পর্যন্ত Chancellor ও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।
এই প্রতিষ্ঠানটি নারীকে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
রাজাম্মালের কাছে শিক্ষা ছিল আত্মনির্ভরতার পথ।
গ্রাম ও প্রান্তিক মানুষের জন্য কাজ
শহরের শিক্ষিত মানুষের মধ্যে পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা তৈরি করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে। কিন্তু গ্রামীণ ও দরিদ্র পরিবারের কাছে সেই জ্ঞান পৌঁছে দেওয়া অনেক কঠিন।
রাজাম্মাল দেবদাস তাই গ্রামীণ উন্নয়ন এবং community-based programme-এর ওপর গুরুত্ব দেন।
তাঁর উদ্যোগের সঙ্গে rural centre, প্রাক্-প্রাথমিক শিশুদের জন্য পরিষেবা এবং নারীদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক কর্মসূচি যুক্ত ছিল। Jamnalal Bajaj Foundation-এর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে শহর ও প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় pre-school ও crèche পরিচালনা করা হয়েছিল, যেখানে কর্মরত বা অসুস্থ মায়েদের ছোট শিশুদের যত্নের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।
এই কাজের মধ্যে ছিল শিক্ষা, পুষ্টি এবং সামাজিক নিরাপত্তাকে একসঙ্গে দেখার একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।
প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্যও উদ্যোগ
শুধু সাধারণ শিশু নয়, প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়েও তাঁর কাজ ছিল উল্লেখযোগ্য।
তিনি Community Based Rehabilitation বা CBR ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল প্রতিবন্ধী শিশুদের স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা, শিক্ষা, সামাজিক এবং বৃত্তিমূলক সুযোগের সঙ্গে যুক্ত করা।
এখানে তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তিনি সমাজের উন্নয়নকে কেবল সংখ্যার বিচারে দেখেননি। তাঁর কাছে উন্নয়ন মানে ছিল—যে শিশুটি পিছিয়ে পড়েছে, তাকেও এগিয়ে আসার সুযোগ দেওয়া।
গবেষণা ও লেখালেখি
রাজাম্মাল দেবদাস ছিলেন একজন সক্রিয় লেখক ও গবেষকও।
Nutrition Society of India-এর তথ্য অনুযায়ী, তাঁর নামে ৫০০-রও বেশি গবেষণাপত্র এবং ৫৭টি বইয়ের উল্লেখ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন এবং প্রায় ৪০টি দেশে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক Nutrition/Home Science Conference-এ অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি শুধু গবেষণা করতেন না; গবেষণার ফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য শিক্ষামূলক উপকরণ তৈরি এবং community outreach-এর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
তাঁর লেখালেখির ক্ষেত্রেও পুষ্টি ও শিক্ষার বিষয় বিশেষ গুরুত্ব পায়।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
রাজাম্মাল দেবদাসের কাজ শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।
তিনি আন্তর্জাতিক পুষ্টিবিজ্ঞান মহলেও পরিচিত ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি International Union of Nutritional Sciences-এর International Nutrition Award লাভ করেন।
তিনি Nutrition Society of India-এর সভাপতিও ছিলেন। ১৯৮৭ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৯২ সালে ভারত সরকার তাঁকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। ১৯৯৮ সালে তিনি Jamnalal Bajaj Award for Development and Welfare of Women and Children লাভ করেন।
এই পুরস্কারগুলি তাঁর কাজের বহুমাত্রিকতাকেই তুলে ধরে।
বিজ্ঞান যখন মানুষের কাজে লাগে
রাজাম্মাল দেবদাসের জীবন থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শেখা যায়—বিজ্ঞান তখনই প্রকৃত অর্থে সফল হয়, যখন তার সুফল মানুষের জীবনে পৌঁছায়।
পুষ্টিবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করা এক বিষয়।
কিন্তু সেই গবেষণাকে স্কুলের খাবারে, শিশুদের স্বাস্থ্যশিক্ষায়, পরিবারের খাদ্যাভ্যাসে এবং গ্রামীণ মানুষের জীবনে কাজে লাগানো সম্পূর্ণ অন্য বিষয়।
রাজাম্মাল এই দ্বিতীয় পথটি বেছে নিয়েছিলেন।
তিনি গবেষণাকে সমাজের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন।
একজন শিক্ষাবিদের আসল সাফল্য
একজন শিক্ষকের সাফল্য শুধু কতজন ছাত্র পরীক্ষায় ভালো ফল করল, তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
কখনও একজন শিক্ষকের আসল সাফল্য বোঝা যায় তিনি কতজন মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করেছেন তার মধ্যে।
রাজাম্মাল দেবদাস নারীশিক্ষার প্রসারে কাজ করেছেন, পুষ্টিবিজ্ঞানকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করেছেন, শিশুদের খাদ্য ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেছেন এবং গ্রামীণ সমাজের কাছে বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
তাই তাঁর উত্তরাধিকার শুধু কোনও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবনে নেই।
তা ছড়িয়ে আছে পুষ্টিশিক্ষায়, স্কুলের খাবারে, নারীশিক্ষায় এবং সমাজভিত্তিক স্বাস্থ্যচিন্তায়।
শেষ জীবন ও উত্তরাধিকার
২০০২ সালের ১৭ মার্চ রাজাম্মাল দেবদাসের মৃত্যু হয়। কিন্তু তাঁর কাজ থেমে যায়নি।
তাঁর স্মৃতিতে Nutrition Society of India এবং Avinashilingam Education Trust-এর উদ্যোগে Rajammal P. Devadas Memorial Lecture Award চালু হয়। এই উদ্যোগ তাঁর পুষ্টিবিজ্ঞান, হোম সায়েন্স এবং নারী উন্নয়নের কাজকে স্মরণ করে।
এমনকি Avinashilingam Institute-এ তাঁর নামে Nutrition Sciences-এর একটি Chair প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার লক্ষ্য নারী গবেষকদের উন্নত গবেষণায় উৎসাহিত করা এবং Food Science ও Nutrition-এর ক্ষেত্রে গবেষণা ও outreach programme পরিচালনা করা।
অর্থাৎ একজন মানুষ চলে গেলেও তাঁর চিন্তা যদি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেঁচে থাকে, তাহলে তাঁর কাজ আরও বহু বছর মানুষের উপকার করতে পারে।
উপসংহার
রাজাম্মাল পি. দেবদাসের জীবন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সমাজ পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় কোনও আন্দোলন দরকার হয় না।
একটি স্কুলের রান্নাঘর থেকেও পরিবর্তন শুরু হতে পারে।
একটি শিশুর পুষ্টিকর খাবারের প্লেট থেকেও ভবিষ্যৎ তৈরি হতে পারে।
একজন শিক্ষিত নারী থেকে একটি পরিবার বদলে যেতে পারে।
একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক হাজার হাজার শিশুর কাছে জ্ঞান পৌঁছে দিতে পারেন।
আর একজন গবেষক যদি তাঁর গবেষণাকে মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন, তাহলে সেই গবেষণা বইয়ের পাতায় আটকে থাকে না—তা সমাজের সম্পদে পরিণত হয়।
ড. রাজাম্মাল পি. দেবদাস সেই পথেরই একজন অগ্রদূত।
তিনি দেখিয়েছেন—
“মানুষের জীবনে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দেওয়াই বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”
তাঁর জীবন তাই শুধু একজন পুষ্টিবিজ্ঞানীর জীবনী নয়; এটি শিক্ষা, বিজ্ঞান, নারীশক্তি এবং মানবিক সমাজ গঠনের এক দীর্ঘ ও অনুপ্রেরণাময় অধ্যায়।