মাথাভাঙ্গা, নিজস্ব সংবাদদাতা : – সপ্তমীর সকালে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনা মাথাভাঙ্গায়। মাথাভাঙ্গা-১ ব্লকের বৈরাগীরহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের গরিবপুর এলাকায় ১৬ নম্বর রাজ্য সড়কে দুটি ছোট চার চাকার গাড়ির মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে আহত ৫ জন।
আহতদের মধ্যে বর্তমানে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন একই পরিবারের মহিলা সহ ৪ জন। আহতরা হলেন – নৃপেন ওঝা, বিষাদি বিশ্বাস, প্রসেনজিৎ বিশ্বাস ও মিঠুন ওঝা। প্রত্যেকের আঘাত গুরুতর। কারো পা ভেঙে দুমড়ে গেছে, কারো কপাল-মাথা ফেটে রক্ত ঝরছে, কারো বুকে মারাত্মক চোট। এদের মধ্যে মিঠুন ওঝা ফৌজি ডিপার্টমেন্টে কর্মরত।
স্বপ্ন ভেঙে চুরমার সপ্তমীর সকালে
জানা গেছে, আহতদের বাড়ি নদীয়া জেলার ধানতলা থানার দত্তপুলিয়া এলাকায়। গতকাল তারা সকলে মিলে একটি গাড়ি নিয়ে দিনহাটায় পারিবারিক কাজে এসেছিলেন। রাতে দিনহাটায় আত্মীয়ের বাড়িতে কাটিয়ে আজ ভোরে নদীয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। উদ্দেশ্য ছিল, নদীয়াতে গিয়ে পরিবার নিয়ে অষ্টমীর অঞ্জলি দেবেন, ঠাকুর দেখবেন। কিন্তু সপ্তমীর সকালেই সেই স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে গেল।
থাকার কথা ছিল বাড়িতে, ঘোরার কথা ছিল পুজো মন্ডপে মন্ডপে, এখন থাকতে হচ্ছে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের বেডে।
আহতরা যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে বলেন, “কালো রঙের গাড়িটি যেভাবে দ্রুত গতিতে হেলতে দুলতে আসছিল, তখনই বুঝেছিলাম দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। চালকের আসনে থাকা প্রসেনজিৎ গাড়িটি থামিয়ে রাস্তার ধারে নিয়ে যায়, তবুও রক্ষা হলো না। কালো গাড়িটি আমাদের গাড়িতে সজোরে ধাক্কা মেরে উপরে উঠে যায়। ভেবেছিলাম এই বোধহয় শেষ। মা দুর্গার আশীর্বাদে প্রাণে বেঁচে গেলাম।”
উল্লেখ্য, দুর্ঘটনার পর থেকে কালো গাড়ির চালককে ঘটনাস্থল বা অন্য কোথাও দেখা যায়নি।
দুর্ঘটনার জেরে দুটি গাড়ির সামনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয়রা। মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি দুটি থানায় নিয়ে যায়।