Categories
রিভিউ

আজ ১৬ এপ্রিল, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১৬ এপ্রিল। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক)  আজ বিশ্ব কণ্ঠ দিবস।
(খ) হাজব্যান্ড অ্যাপ্রিসিয়েশন ডে।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৬৪৬ – জুলিস হার্ডোইন ম্যানসার্ট, ফ্রান্সের বিশিষ্ট স্হপতি।
১৭২৮ – জোসেফ ব্ল্যাক, ফরাসি বংশোদ্ভূত স্কটস চিকিৎসক ও রসায়নবিদ।

১৮৪৪ – আনাতোল ফ্রঁস নোবেলজয়ী ফরাসি কবি সাংবাদিক ও ঔপন্যাসিক।
১৮৬৭ – উইলবার রাইট, মার্কিন প্রকৌশলী ও উড়োজাহাজের আবিস্কারক।

১৮৮৫ – বিপ্লবী উল্লাসকর দত্ত, ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন অন্যতম ব্যক্তিত্ব।

১৮৮৯ – চার্লি চ্যাপলিন, ইংরেজ চলচ্চিত্র অভিনেতা ও চলচ্চিত্রকার।
১৮৯৬ – ক্রিস্টান জারা, তিনি ছিলেন রোমানীয় ফরাসি কবি ও সমালোচক।
১৯২১ – পিটার ইউস্টিনফ, ইংরেজ কবি নাট্যকার চলচ্চিত্রকার চিত্রনাট্যকার,বেতার সম্প্রচারক ।

১৯২৭ – পোপ বেনেডিক্ট, ষোড়শ।
১৯৪৭ – গেরি রাফেরটয়, স্কটিশ গায়ক ও গীতিকার।
১৯৫৪ – এলেন বারকিন, আমেরিকান অভিনেত্রী।

১৯৬০ – রাফায়েল বেনিতেজ, সাবেক স্প্যানিশ ফুটবলার ও ম্যানেজার।
১৯৬০ – পিয়ের লিটবারস্কি, সাবেক জার্মান ফুটবলার ও ম্যানেজার।

১৯৬৫ – মার্টিন লরেন্স, আমেরিকান অভিনেতা, পরিচালক, প্রযোজক ও চিত্রনাট্যকার।
১৯৭২ – কোনকিতা মার্টিনেজ, সাবেক স্প্যানিশ বংশোদ্ভূত আমেরিকান টেনিস খেলোয়াড়।
১৯৭৭ – ফ্রেড্রিক লুক্সুমবার্গ, সুইডিশ ফুটবলার।
১৯৭৮ – লারা দত্ত, ভারতীয় মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী, মিস ইউনিভার্স-২০০০।
১৯৮৫ – টায়ে টাইও, নাইজেরিয়ান ফুটবলার।
১৯৮৬ – শিনজি অকাযাকি, জাপানি ফুটবলার।
১৯৮৭ – আরন লেননোন, ইংরেজ ফুটবল খেলোয়াড়।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৮৫৩ – ভারতের বোম্বেতে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
১৯১২ – হ্যারিয়েট কুইয়েম্বি প্রথম নারী হিসাবে বিমানে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেন।
১৯১৬ – রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
১৯১৭ – ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন সুইজারল্যান্ড থেকে পেত্রোগ্রাদে ফিরে আসেন।
১৯১৭ – লেনিন বিখ্যাত ‘এপ্রিল থিসিস’ ঘোষণা করেন।
১৯১৭ – জার্মানির বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘোষণা।
১৯৪৮ – সশস্ত্র ইহুদীবাদী ইসরাইলীরা ফিলিস্তিনের একটি ইংরেজ সেনা ঘাটিতে হামলা চালালে ৯০ জন ফিলিস্তিনী শহীদ হন।
১৯৬১ – কিউবান নেতা ফিদেল কাস্ত্রো জাতীয় সম্প্রচার মাধ্যমে ঘোষণা দেন যে, তিনি মার্কসবাদী-লেনিনবাদী এবং কিউবায় কমিউনিজম ব্যবস্থা প্রচলন হতে যাচ্ছে।
১৯৯৭ – মক্কা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মীনায় হাজী ক্যাম্পে একটি গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণে ৩৪৩ জন হাজী অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যায় এবং ১২৯০ জন আহত হয়।
২০০১ – ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে পাঁচ দিনের সীমান্ত সংঘর্ষ শুরু হয়, যা কোনরূপ সমাধান ছাড়াই সমাপ্ত হয়।
২০০৭ – আইভরি কোস্ট-এর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লরেন্ট বাগবো প্রথম গৃহযুদ্ধের অবসানের ঘোষণা দেন।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৬৪৫ – টোবিয়াস হিউম, স্কটিশ সৈনিক, ভায়োল বাদক এবং সুরকার।
১৭৮৮ – জর্জ-লুই ল্যক্লের, কোঁত দ্য বুফোঁ, ফরাসি গণিতবিদ, ফরাসি প্রকৃতিবিদ, গণিতজ্ঞ, জীববিজ্ঞানী, বিশ্বতত্ত্ববিদ ও লেখক।
১৮৫০ – ম্যারি তুসো, মাদাম তুসো জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা।
১৮৫৯ – অ্যালেক্সিস ডি টকুয়েভিলে,ফরাসি ইতিহাসবিদ, রাজনীতিবিদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী।
১৮৯৬ – হরিনাথ মজুমদার কাঙাল হরিনাথ নামে পরিচিত সাংবাদিক সাহিত্যিক ও বাউল গান রচয়িতা।
১৯১৬ – টম হোরান, আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার।
১৯২৮ – পাভেল আক্সেলরদ, একজন রুশ মেনশেভিক ও সমাজ-গণতন্ত্রী।
১৯৫১ – অদ্বৈত মল্লবর্মণ, বাঙালি ঔপন্যাসিক।
১৯৫৮ – রোজালিন্ড ফ্রাঙ্কলিন, ইংরেজ ভৌত রসায়নবিদ এবং ক্রিস্টালবিদ।
১৯৬২ – খান বাহাদুর হাশেম আলি খান, বাঙ্গালি রাজনীতিবিদ।
১৯৬৬ – নন্দলাল বসু প্রখ্যাত বাঙালি চিত্রশিল্পী ।
১৯৭২ – ইয়াসুনারি কাওয়াবাতা, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জাপানি লেখক।
১৯৭৪ – ভারতপ্রেমিক, রবীন্দ্রস্নেহধন্য ও শ্রীনিকেতনের রূপকার লিওনার্ড নাইট এলমহার্স্ট।
১৯৮৭ – প্রখ্যাত বাঙালি অভিনেতা বিকাশ রায়।
১৯৮৮ – খলিল আল-ওয়াজির, ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা।
২০১৫ – স্টানিস্লাভ গ্রস, চেক আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও চেক প্রজাতন্ত্রের ৫তম প্রধানমন্ত্রী।
২০২১ – কিংবদন্তি অভিনেত্রী, চলচ্চিত্র নির্মাতা, সাবেক সাংসদ সারাহ বেগম কবরী।
২০২১ – পিডিএফ ও ফটোশপের উদ্ভাবক ও সফটওয়্যার কোম্পানি এডোবির সহ-প্রতিষ্ঠাতা চার্লস গ্যাসকি।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৫ এপ্রিল, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১৫ এপ্রিল। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
দিবস—–
(ক)  আন্তর্জাতিক সর্বজনীন সংস্কৃতি দিবস।
(খ) ভারতে পহেলা বৈশাখ বা বাংলা নববর্ষ, পশ্চিমবঙ্গে সরকারি ছুটি হিসেবে পালিত হয়।
(গ) সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গ দিবস ১৫ এপ্রিল তারিখে পালিত হয়।
(ঘ) বিশ্ব শিল্পকলা দিবস।
আজ যাদের জন্মদিন—-

১৪৫২ – লিওনার্দো দা ভিঞ্চি, ইতালীয় রেনেসাঁসের কালজয়ী চিত্রশিল্পী।

১৬৪২ – অটোমানের সুলতান দ্বিতীয় সুলাইমান।
১৭০৭ – লিওনার্ট অয়লার, গণিতজ্ঞ।
১৭৭২ – ফরাসি জীববিজ্ঞানী ও প্রাণিবিজ্ঞানী এতিয়েন জফ্রোয়া সাঁ-হিলের।
১৮০৬ – আলেকজান্ডার ডাফ খ্রিষ্টধর্মযাজক ও বৃটিশ ভারতে শিক্ষাবিস্তারে পুরোধা ব্যক্তিত্ব।
১৮৩২ – জার্মান কবি, চিত্রশিল্পী ও অঙ্কনশিল্পী উইলহেলম বুসচ।
১৮৫৮ – ফরাসি সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী ও দার্শনিক ডেভিড এমিল ডুর্খাইম।
১৮৭৪ – ইয়োহানেস ষ্টার্ক, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান পদার্থবিদ।

১৮৭৭ – দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার ভারতের বাঙালি শিশুসাহিত্যিক।
১৮৯০ – নিকোলাই ত্রুবেৎস্‌কোয়, একজন রুশ ভাষাবিজ্ঞানী।
১৮৯৪ – রাশিয়ান জেনারেল ও রাজনীতিবিদ নিকিতা খ্রুশ্চেভ।
১৮৯৬ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী রাশিয়ান পদার্থবিজ্ঞানী ও রসায়নবিদ নিকোলাই সেময়োনোভ।
১৮৯৮ – ইবরাহিম ইসমাইল চুন্দ্রিগড়, পাকিস্তানের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।
১৯০৫ – তারকেশ্বর সেনগুপ্ত, ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী,সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্য ও চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠনের অন্যতম কর্মী।
১৯০৭ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ডাচ জীববিজ্ঞানি নিকোলাস টিনবারগেন।
১৯১২ – উত্তর কোরিয়ার জেনারেল, রাজনীতিবিদ ও ১ম সুপ্রিম লিডার কিম ইল-সাং।
১৯১৪ – অজিতকুমার গুহ, বাঙালি শিক্ষাবিদ এবং লেখক।
১৯২০ – জার্মান সৈনিক ও রাজনীতিক, জার্মানি ৬ষ্ঠ প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ভন ওয়েইযসাকের।
১৯২৮ – আনোয়ার পাশা, বাংলাদেশী লেখক।
১৯৩১ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুইডিশ মনোবৈজ্ঞানিক, কবি ও অনুবাদক টমাস ট্রান্সট্রোমারন।
১৯৩৩ – অনিলকুমার দত্ত ভারতীয় শিল্পী ও শিক্ষাব্রতী।
১৯৩৯ – এল. কে. সিদ্দিকী, বাংলাদেশী রাজনীতিবিদ।
১৯৪৩ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী আমেরিকান পদার্থবিদ রবার্ট জোসেফ লেফকোইতজ।
১৯৫৮ – ইংরেজ অভিনেতা, লেখক, কবি ও নাট্যকার বেঞ্জামিন সফনিয়।
১৯৬৩ – সাবেক পাকিস্তানি ক্রিকেটার মনজুর এলাহী।
১৯৭০ – আমেরিকান অভিনেতা ফ্লেক্স আলেকজান্ডার।
১৯৮৬ – ইংরেজ ফুটবলার টন হেয়াটন।
১৯৯০ – এমা ওয়াটসন, বিখ্যাত ব্রিটিশ অভিনেত্রী ও মডেল।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৮৬৫ – মার্কিন রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিঙ্কন আততায়ীর গুলিতে নিহত হন।
১৯৭৬ – আমেরিকা লিবিয়ার ত্রিপলি এবং ইয়ানগাজীতে হামলা চালায়।
১৯১২ – উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের নিউফাউন্ডল্যান্ডে বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ২২২৪ জন ত্রু যাত্রী নিয়ে ডুবে যায়।
১৯৭২ – উত্তর ভিয়েতনামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক বোমা হামলা চালায়।
১৯৯৭ – মিনায় হাজি ক্যাম্পে অগ্নিকান্ডে ৩৪৩ জন হাজির মৃত্যু হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৮৬৫ – আব্রাহাম লিংকন, মার্কিন রাষ্ট্রপতি (আততায়ীর গুলিতে নিহত)।
১৯৩৮ – সেসার ভাইয়েহো, পেরুর কবি, লেখক, নাট্যকার এবং সাংবাদিক।
১৯৫৭ – জগদীশ গুপ্ত, ভারত উপমহাদেশের অন্যতম কবি, ঔপন্যাসিক এবং ছোট গল্পকার।
১৯৬৬ – হবীবুল্লাহ বাহার চৌধুরী, বাঙালি রাজনীতিবিদ, লেখক।
১৯৮০ – জঁ-পল সার্ত্র্‌, ফরাসি অস্তিত্ববাদী দার্শনিক, নাট্যকার, সাহিত্যিক এবং সমালোচক।
১৯৮৬ – জ্যঁ জ্যেঁনে, ফরাসি সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক অধিকার আন্দোলনকর্মী।
১৯৮৯ – হু ইয়াওবাং, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব।
১৯৯০ – গ্রেটা গার্বো, সুয়েডীয়-মার্কিন অভিনেত্রী।
১৯৯৮ – উইলিয়াম কংডন, আমেরিকান চিত্রশিল্পী।
২০০৩ – রেজ বানডি, ইংরেজ অভিনেতা ও ড্যান্সার।
২০১১ – ইতালিয়ান সাংবাদিক, লেখক ও সমাজকর্মী ভিটরিও আরিগনি।
২০১৫ – সূর্য বাহাদুর থাপা, নেপালের রাজনীতিবিদ ও ২৪ তম প্রধানমন্ত্রী।
২০২২ – বিশিষ্ট ভারতীয় বাঙালি চিকিৎসক বৈদ্যনাথ চক্রবর্তী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

শিবনীবাসের চড়ক মেলা – বাংলার প্রাচীন ইতিহাস ও পরম্পরার মেলবন্ধন।।।।

শিবনীবাসের চড়ক মেলা। চরক পূজা পশ্চিমবঙ্গ, ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লোকোৎসব। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, প্রতিবছর চৈত্র সংক্রান্তিতে বা চৈত্রের শেষ দিনে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয় এবং বৈশাখের প্রথম দু-তিন দিনব্যাপী চড়ক পূজার উৎসব চলে। এটি চৈত্র মাসে পালিত হিন্দু দেবতা শিবের গাজন উৎসবের একটি অঙ্গ।

কথিত আছে, এই দিনে শিব-উপাসক বাণরাজা দ্বারকাধীশ কৃষ্ণের সংগে যুদ্ধে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মহাদেবের প্রীতি উৎপাদন করে আকাঙ্ক্ষায় ভক্তিসূচক নৃত্যগীতাদি ও নিজ গাত্ররক্ত দ্বারা শিবকে তুষ্ট করে অভীষ্ট সিদ্ধ করেন। সেই স্মৃতিতে শৈব সম্প্রদায় এই দিনে শিবপ্রীতির জন্য উৎসব করে থাকেন।।
অনুরূপভাবে, নদীয়ার ১৮ আগস্ট পরিচালক সমিতির উদ্যোগে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও নববর্ষের আগমন সন্ধিক্ষণে এবং পুরাতন বৎসরের অবসান লগ্নে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শিবলিঙ্গের মন্দির প্রাঙ্গণে চরক পূজা। এই শিব নিবাসের চড়ক পূজার মূল ঐতিহ্য এবং বৈচিত্রবাহী আকর্ষণ হল প্রতি বছর চড়ক পূজার চরক গাছ শিবনিবাস এর শিবলিঙ্গের পার্শ্ববর্তী চূর্ণী নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। সারা বছর এই সড়ক গাছ চূর্ণী নদীতে দৃষ্টিগোচর না হলেও প্রতিবছর গাজন বা চরক পূজার আগের দিন অর্থাৎ নীল পূজার দিন প্রত্যুষ কালে দৃষ্টিগোচর হয় সেই গাছ অর্থাৎ ডাঙায় ফিরে আসে সেই চরক গাছ।
এই ঘটনা গভীরভাবে ছাপ ফেলে শিবনিবাস বাসী তথা নদিয়া বাসীর কাছে। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের প্রতিষ্ঠিত শিব মন্দিরের চরক উৎসবে মূল বৈশিষ্ট্য হল চরক গাছের গোড়ায় শিব দুর্গার পূজা দেওয়া হয়। এবং বিভিন্ন খ্যাতনামা সন্ন্যাসীরা এসে উপস্থিত হন এবং পিঠে বরছি ফুটিয়ে চরক আবর্তন করেন। পাশাপাশি পিঠে বর্ষি বেঁধে রথ টানা প্রচলন আছে ।শিব ঠাকুর অত্যন্ত জাগ্রত হওয়ায় কোন ত্রুটি বা কোন ভুল ভ্রান্তি হলে সয়াল ওঠার ঘটনা কোন আশ্চর্য ঘটনা নয়। প্রত্যেক বছর 18ই আগস্ট কমিটির উদ্যোগে এই বৃহৎ চড়ক মেলা তথা গাজন উৎসবের আয়োজন করা হয় যা ভক্তি ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা। কেন্দ্র করে হাজার হাজার ভক্ত সমাগম হয়।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

ভগবতী যাত্রা – একটি বিশেষ পর্যালোচনা।।।।

ভগবতী যাত্রা । নদীয়ার সীমান্ত লাগোয়া কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকে ১লা বৈশাখ মানে আলাদা উন্মাদনা। আলাদা আবেগ । ১লা বৈশাখ মানেই ভগবতী যাত্রা । আর ভগবতী যাত্রা মানেই গোয়ালে গরু পুজো করা হয়। আগের মতো এখনও গ্রেস্ত বাড়িতে লক্ষ্মী , গণেশ, নারায়ণ পুজোও করা হয়। গ্রামবাসীদের দৃঢ বিশ্বাস ১ লা বৈশাখের সাত সকালে গোরুর পুজো করা হলে সংসারে সমৃদ্ধি হয়।

তাই পুজোর মতো সমস্ত উপকরণ সাজিয়ে গোরু পুজো করা হয় প্রথা মেনে। স্থানীয় ভাবে এই পুজোকে ভগবতী যাত্রাও বলা হয়। গোয়ালঘরে পুজোতে ফল কাটা, মিষ্টি, গঙ্গাজল, ফুল, ঘি, থরে থরে সাজানো থাকে। উড়ে যায় ধূপ ধুনোর গন্ধ।
পুরোহিত ঘন্টা বাজিয়ে মন্ত্রোচ্চারণ করে গোরু পুজো করে। গোটা কৃষ্ণগঞ্জ ব্লকের শিব নিবাস, পাবাখালি ,মাজদিয়া, আদিত্যপুর সহ আশপাশ এলাকায় ১লা বৈশাখে এই গোরু পুজো করা হয়। পুজোর সময় শঙখ, উলুধ্বনি, এমনকি কীর্তনও হয়। নববর্ষের দিন মাইকের ঝনঝনানিও কম থাকে। বাড়ি বাড়ি লক্ষ্মী, গণেশ ,নারায়ণ পুজো করা হয়। এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণগঞ্জের বয়স্ক ব্যক্তিরা বলেন,’ কৃষ্ণগঞ্জে ব্যবসায়িক কেন্দ্র হওয়ায় ১লা বৈশাখ দিনটি আলাদা গুরুত্ব পাই । পাশাপাশি প্রতিটি কৃষক পরিবারকে পুজা পাঠের সঙ্গে গোয়ালের রাখাল বালকদের গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হয়। দুপুরে তাদের খাওয়া-দাওয়ার পাশাপাশি নতুন জামা কাপড় দেওয়ার রীতি । কিন্ত কোন রকম ভাবে মাইকের আওয়াজ, অসভ্যতা দেখা যায় না। বরং এই দিনটা অন্য রকম থাকে। বাড়ি বাড়ি পুজো থাকে, শাঁখ বাজে। উলুধ্বনি আসে। ধূনোর গন্ধ আসে। ‘.সারা বছর গোয়াল ভরা ধান, গোয়ালঘরে গোরুর বাটে যেন দুধ ভরে যায়। সর্বোপরি সংসারে সুখ স্বাচ্ছন্দ্যে ভরে ওঠে এই কামনা, আশায় গোরু পুজো করা হয়।১লা বৈশাখের সকালে গোরুকে স্নান করানো হয়। গোরুর শিংয়ে হলুদ তেল মাখানো হয়। কপালে সিঁদুরের লাল টিপ পড়ানো হয়। পুজোর আগের দিন মাটির সরা কিনে নিয়ে আনা হয়। সেই সরাতে সকালে দুয়ানো দুধ ঢেলে দেওয়া হয়। গোয়াল ঘরের মধ্যে ইটের উনুন তৈরি করা হয়। সেই উনুনে পাটকাঠির আগুন জ্বালানো হয়।
আগুন দাউদাউ করে জ্বলে উঠতেই দুধ রাখা সরা উনুনে বসিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে সঙ্গে দুধ ফুটতে থাকে। একসময় দুধ উথলে পড়ে। পোড়া দুধের গন্ধ গোটা এলাকায় ভরে যায়।গ্রামবাসীরা বিশ্বাস করেন, দুধ না উথলে পড়লে সংসারে অলক্ষণ দেখা দেয় । তাই গোয়ালঘরে দুধ ফোটানোর সময় বাড়ির লোকজন উদ্বেগের মুখ নিয়ে থাকে। কতক্ষণে দুধ ফুটে উথলে পড়বে। দুধ কিরকম ফুটছে এ চর্চায় গ্রামে গ্রামে হয়। বলা যেতেই পারে প্রতিটি গ্রেস্ত বাড়িতে ভগবতীর যাত্রা উপলক্ষে পরিবারের আনন্দ উল্লাস অন্য মাত্র এনে দেয় ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব শিল্পকলা দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় ও গুরুত্ব।।।

প্রতি বছর, ১৫ এপ্রিল, বিশ্বব্যাপী ব্যক্তিরা বিশ্ব শিল্প দিবস উদযাপন করে। শিল্প, একটি ধারণা যা বিভিন্ন সংস্কৃতির দ্বারা স্বতন্ত্রভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, এই উদযাপনের সময় একটি কেন্দ্রীয় ফোকাস হিসাবে কাজ করে, এর বৃদ্ধি এবং উপলব্ধি প্রচার করে। এই উপলক্ষটি মানুষের জন্য একটি মৃদু ধাক্কা হিসাবে কাজ করে তাদের ব্যস্ত জীবনের মাঝে বিরতি দিন এবং তাদের চারপাশের সৌন্দর্যের প্রশংসা করুন, ব্যস্ত সময়সূচীর কারণে প্রায়ই উপেক্ষিত হয়, অনেকের কাছে এটি নিয়মিতভাবে আর্ট গ্যালারী করা চ্যালেঞ্জিং মনে হতে পারে, তাই এই বার্ষিক পালন একটি সময়োপযোগী অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে বিশ্বের সৌন্দর্য অনুভব করার সহজ আনন্দের মধ্যে, বিশ্ব শিল্প দিবস জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার জন্য, কৌতূহল জাগানো এবং ব্যক্তিদের মধ্যে আকর্ষক কথোপকথনকে উত্সাহিত করার জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে কাজ করে।

2019 সালে UNESCO-এর ৪০ তম সাধারণ সম্মেলনের সময় প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব শিল্প দিবস, বিশ্বব্যাপী শিল্পের বৃদ্ধি, প্রসার এবং প্রশংসাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে একটি স্মারক। শিল্প সৃজনশীলতা লালন, উদ্ভাবন লালন এবং বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রচারের জন্য একটি অনুঘটক হিসাবে কাজ করে। এটি জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে, কৌতূহল উদ্দীপিত করতে এবং অর্থপূর্ণ কথোপকথনের সুবিধার্থে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্পের এই স্থায়ী গুণগুলি এর তাত্পর্যকে অন্ডারস্কোর করে, পরিবেশ তৈরি এবং সুরক্ষিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে যা শিল্পী এবং শৈল্পিক স্বাধীনতাকে চ্যাম্পিয়ন করে। শিল্পের বিকাশে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে, আমরা কেবল আমাদের সাংস্কৃতিক ল্যান্ডস্কেপকে সমৃদ্ধ করি না বরং স্বাধীনতা ও শান্তির বৈশিষ্ট্যযুক্ত একটি বিশ্বের সন্ধানে অবদান রাখি।”

“বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ থিম–

বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ এর থিম

২০২৫ সালের বিশ্ব শিল্প দিবসের প্রতিপাদ্য “ঐক্য ও রূপান্তরের জন্য শিল্প”।

” থিমটি শিল্পের সারমর্মকে একটি প্রাণবন্ত এবং লালনকারী শক্তি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করে যা বিশ্বব্যাপী সম্প্রদায়ের মধ্যে সংযোগ, সৃজনশীলতা এবং সহযোগিতাকে উৎসাহিত করে। ঠিক একটি বাগানের মতো, যেখানে বিভিন্ন গাছপালা একসাথে থাকে এবং সমৃদ্ধ হয়, শিল্প বিভিন্ন অভিব্যক্তি, ধারণা এবং দৃষ্টিভঙ্গির চাষের জন্য একটি উর্বর ভূমি হিসাবে কাজ করে। এটি একটি সম্মিলিত স্থানের প্রতিনিধিত্ব করে যেখানে বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ডের ব্যক্তিরা তাদের অনন্য কণ্ঠস্বর এবং অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে একত্রিত হয়, যা মানব সংস্কৃতির সমৃদ্ধ ট্যাপেস্ট্রিতে অবদান রাখে।

অভিব্যক্তির এই রূপক বাগানে, প্রতিটি শিল্পকর্ম একটি প্রস্ফুটিত ফুলের মতো, যা তার স্রষ্টার ব্যক্তিত্ব এবং সৃজনশীলতাকে প্রতিফলিত করে। একটি বাগানের বিকাশের জন্য যেমন যত্ন এবং মনোযোগের প্রয়োজন, তেমনি শৈল্পিক সম্প্রদায়েরও বৃদ্ধি এবং উন্নতির জন্য সমর্থন এবং উত্সাহ প্রয়োজন। তদুপরি, থিমটি মানুষের মধ্যে বিভাজন এবং সংযোগ স্থাপনের জন্য শিল্পের রূপান্তরকারী শক্তিকে আন্ডারস্কোর করে। শৈল্পিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে, সম্প্রদায়গুলি সাধারণ চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলা করতে, ভাগ করা মূল্যবোধ উদযাপন করতে এবং বোঝাপড়া এবং সহানুভূতি প্রচার করতে একত্রিত হতে পারে।”

“বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ ইতিহাস–

আন্তর্জাতিক শিল্প সমিতির সাধারণ পরিষদের সময় ১৫ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব শিল্প দিবস প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০১২ সালে এর সূচনা সম্মানিত লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির জন্মদিনের সাথে মিলে যায়, সহনশীলতা, বিশ্ব শান্তি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বহুসংস্কৃতির মত মূল্যবোধের প্রতীক যা তিনি তুলে ধরেছিলেন। উদ্বোধনী উদযাপনটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ আর্ট (I.A.A.) এর সমস্ত জাতীয় কমিটির কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পেয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্বকারী ১৫০ জন শিল্পী অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে।
ইভেন্টে কনফারেন্স, বর্ধিত জাদুঘরের সময়, এবং বহিরঙ্গন শিল্প প্রদর্শনীগুলি পেইন্টিং, প্রিন্ট, ভাস্কর্য, ভিডিও এবং আরও অনেক কিছু সহ বিভিন্ন শিল্পকর্ম প্রদর্শন করে। শিল্প, স্থাপত্য, সঙ্গীত, চিত্রকলা, ভাস্কর্য, নৃত্য, সাহিত্য এবং সিনেমার মতো অগণিত আকারে, ব্যক্তিদের তাদের সৃজনশীলতা এবং আবেগ প্রকাশের মাধ্যম হিসাবে কাজ করে। প্রকৃত শিল্পকে বিশ্ব সম্পর্কে শিল্পীর উপলব্ধি এবং এর প্রতি তাদের আবেগের একটি খাঁটি অভিব্যক্তি হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা মানুষের মধ্যে মিল এবং পার্থক্য উভয়ই প্রতিফলিত করে।
বিশ্ব শিল্প দিবস ব্যক্তিদের জন্য তাদের চারপাশের সৌন্দর্যের প্রশংসা করতে এবং বাধা ছাড়াই আত্ম-প্রকাশকে আলিঙ্গন করার জন্য একটি মর্মান্তিক অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে। এটি শিল্পের উত্সাহ এবং টেকসই বিকাশের পক্ষে সমর্থন করে, সৌন্দর্য চিত্রিত করতে এবং আবেগের প্রকাশকে উত্সাহিত করতে এর ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়। অব্যাহত সমর্থনের মাধ্যমে, শিল্পীরা তাদের সৃজনশীল প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমাদের জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারে।”
“বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ তাৎপর্য–
আমরা বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ পালন করার সময়, সাংস্কৃতিক উপলব্ধি প্রচার, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং শৈল্পিক স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন করার ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য স্বীকার করা অপরিহার্য। এখানে পাঁচটি মূল বিষয় রয়েছে যা ২০২৫ সালের বিশ্ব শিল্প দিবসের তাৎপর্যকে আন্ডারস্কোর করে:
সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য উদযাপন: বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৪ বিশ্বজুড়ে সংস্কৃতির সমৃদ্ধ বৈচিত্র্য এবং শৈল্পিক অভিব্যক্তি উদযাপন করার জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম প্রদান করে। এটি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আলিঙ্গন ও সংরক্ষণের গুরুত্বের অনুস্মারক হিসাবে কাজ করে।
সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনের প্রচার: এই পালন ব্যক্তিদের তাদের সৃজনশীল সম্ভাবনা অন্বেষণ করতে এবং শৈল্পিক অভিব্যক্তির সীমানাকে এগিয়ে নিতে উত্সাহিত করে। বিশ্ব শিল্প দিবস উদযাপনের মাধ্যমে, সমাজ বিভিন্ন শিল্প ফর্ম জুড়ে সৃজনশীলতা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।
কথোপকথন এবং বোঝাপড়াকে উত্সাহিত করা: শিল্পের অর্থপূর্ণ কথোপকথন শুরু করার এবং ব্যক্তি এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে বোঝাপড়াকে উন্নীত করার ক্ষমতা রয়েছে। বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৪ গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে কথোপকথনের সুবিধা দেয়, সহানুভূতিকে উত্সাহিত করে এবং শিল্পের সার্বজনীন ভাষার মাধ্যমে পারস্পরিক শ্রদ্ধা বৃদ্ধি করে।
শৈল্পিক স্বাধীনতার পক্ষে ওকালতি: বিশ্ব শিল্প দিবসটি শৈল্পিক স্বাধীনতা এবং মত প্রকাশের সুরক্ষার পক্ষে সমর্থন করার একটি প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করে। শিল্পীরা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রকাশ করতে পারে এমন পরিবেশ তৈরির গুরুত্ব স্বীকার করে, সমাজ মৌলিক মানবাধিকার সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
অনুপ্রেরণামূলক সামাজিক পরিবর্তন: শিল্পের ইতিবাচক পরিবর্তনকে অনুপ্রাণিত করার এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং ন্যায়সঙ্গত সমাজ গঠনে অবদান রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব শিল্প দিবস ২০২৫ব্যক্তিদের তাদের শৈল্পিক প্রতিভা ব্যবহার করে সামাজিক সমস্যাগুলি সমাধান করতে, বৈচিত্র্যকে উন্নীত করতে এবং সবার জন্য একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যত তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে।”

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

প্রভাস রায়: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এক অনন্য যোদ্ধার কাহিনী।।।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব প্রভাস রায় দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণার বুরুলে ১৪ এপ্রিল, ১৯০৭-এ জন্মগ্রহণকারী রায়ের সক্রিয়তার জগতে যাত্রা শুরু হয়েছিল। বুরুল উচ্চ বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা ছিল গুরুত্বপূর্ণ; এখানেই তিনি মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোগী প্রচন্দ্র সেনের সাথে সাক্ষাত করেন, যা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে বিপ্লবী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার সূচনা করে।

রায়ের রাজনৈতিক সক্রিয়তা ১৯২০-এর দশকে একটি সিদ্ধান্তমূলক মোড় নেয়। তিনি স্বদেশী ও খিলাফত আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছিলেন, ভারতের স্বাধীনতা ও ঐক্যের পক্ষে ছিলেন। ১৯২৬ সালে তাকে গ্রেফতার থেকে অল্পের জন্য পালিয়ে যেতে দেখেছিল, স্বাধীনতা সংগ্রামে তার গভীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ। তার প্রতিশ্রুতি তাকে ১৯৩০ সালে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার অভিযানের পর আত্মগোপনে যেতে বাধ্য করে, শুধুমাত্র ১৯৩২ সালে তাকে বন্দী করা হয়।
কারাবাসের সময়, রায়ের মতাদর্শ একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয় কারণ তিনি সহ বন্দীদের কাছ থেকে মার্কসবাদ শিখেছিলেন। ১৯৩৭ সালে তার মুক্তির ফলে তিনি কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগদান করেন এবং শ্রমিক ও কৃষক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন, বিশেষ করে কাঁসারি হালদারের সাথে ঐতিহাসিক তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। চব্বিশ পরগনার জেলা কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং পরে ১৯৬৪ সালের পার্টি বিভক্তির পরে সিপিআই(এম)-এ যোগদান সহ বিভিন্ন ভূমিকার মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা অব্যাহত ছিল।
রায়ের নির্বাচনী সাফল্য তার জনপ্রিয়তা এবং জনগণের দ্বারা তার প্রতি আস্থার প্রতীক। ১৯৫২ থেকে ১৯৬২ ব্যতীত, ১৯৮২ সালের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে জয়লাভ করার একটি প্রশংসনীয় রেকর্ডের সাথে, তার আইনসভা কর্মজীবন উত্সর্গ এবং সেবা দ্বারা চিহ্নিত ছিল। রায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম ও দ্বিতীয় যুক্তফ্রন্ট এবং বামফ্রন্ট উভয় মন্ত্রিসভার প্রধান সদস্য ছিলেন।
প্রভাস রায়ের উত্তরাধিকার ইংল্যান্ডে ২৩ মে, ১৯৯১-এ তাঁর মৃত্যুর পরেও প্রসারিত। তার অবদানের সম্মানে, পশ্চিমবঙ্গের বামফ্রন্ট সরকার আমতলায় “প্রভাস রায় শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্র” প্রতিষ্ঠা করে। এই প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক সক্রিয়তা, শিক্ষা এবং সমাজের উন্নতির জন্য নিবেদিত জীবনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, যা তার জন্মভূমিতে রায়ের স্থায়ী প্রভাবের সারাংশকে অন্তর্ভুক্ত করে।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ১৪ এপ্রিল, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ১৪ এপ্রিল। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) পহেলা বৈশাখ (বাংলাদেশ)।
আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৮৯ – ঐতিহাসিক আর্নল্ড জোসেফ টয়েনবি।

১৮৯১ – ভীমরাও রামজি আম্বেডকর হলেন একজন ভারতীয় জাতীয়তাবাদী, আইনজ্ঞ এবং ভারতের দলিত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা।
১৯০৪ – জন গিলগুড, ইংরেজ অভিনেতা ও মঞ্চ পরিচালক।
১৯০৭ – প্রভাস রায় স্বদেশী ও খিলাফত আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
১৯০৭ – পূরণচাঁদ জোশী ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের প্রথম সারির নেতাদের একজন এবং প্রথম সচিব।
১৯২২ – আলি আকবর খান মাইহার ঘরানার ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী।
১৯৪৭ – সাযযাদ কাদির, প্রখ্যাত সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।
১৯৬৪ – মান্না, চলচ্চিত্র অভিনেতা ও প্রযোজক।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৮২৮ – ওয়েবস্টার তার অভিধানের প্রথম সংস্করণ কপিরাইটভুক্ত করেন।
১৮৯০ – প্যান আমেরিকা জোট প্রতিষ্ঠিত হয়।
১৯৪৪ – বম্বের (বর্তমানে মুম্বাই) ভিক্টোরিয়া ডাকে গোলাবারুদ র্ভতি জাহাজে বিস্ফোরণ, ১২ শতাধিক লোকের মৃত্যু।
১৯৫৮ – অরুণা আসফ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রথম নারী মেয়র নির্বাচিত।
১৯৬১ – কিউবা সরকারের বিরুদ্ধে সেদেশের বিপ্লবীদের অভিযান শুরু হয়।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় মাদাগাস্কার।
১৯৭৫ – বাংলাদেশে মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ৬ দলীয় জোট গঠন।
১৯৮৬ – বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) প্রতিষ্ঠা।
১৯৮৮ – আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের লক্ষ্যে সোভিয়েত সরকার জেনেভা চুক্তি স্বাক্ষর করে।
২০০২ – ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে তার দায়িত্বভার নেন।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৬৮০ – মারাঠা নেতা ছত্রপতি শিবাজী।
১৮৬৫ – যুক্তরাষ্ট্রের ১৬তম প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকন আততায়ীর গুলিতে আহত হন।
১৯২৫ – জন সিঙ্গার সার্জেন্ট, আমেরিকান চিত্রশিল্পী ।
১৯৩০ – ভ্লাদিমির মায়াকোভস্কি, রুশ এবং সোভিয়েত কবি, নাট্যকার, শিল্পী ও চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯৬৩ – রাহুল সাংকৃত্যায়ন ভারতীয় সুপণ্ডিত ও স্বনামধন্য পর্যটক।
১৯৮৪ – অণিমা হোড় – একজন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামী, শ্রমিকনেত্রী এবং সমাজকর্মী।
১৯৮৬ – নীতীন বসু ভারতের বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক।
১৯৮৬ – ফরাসী ঔপন্যাসিক ও নারীবাদী সিমন দ্য বোভোয়ার।
২০২১ – আব্দুল মতিন খসরু, বাংলাদেশের সাবেক আইনমন্ত্রী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

গাজনের এক বিশেষ আকর্ষণ শিব পার্বতীর বিয়ে – এক পৌরানিক ইতিহাস।।।।

পার্বতী শিবকে বিবাহ করার ইচ্ছা রাখতেন। পাশাপাশি সমস্ত দেবী-দেবতাও শিব-পার্বতীর বিবাহে ইচ্ছুক ছিলেন। পার্বতীর কাছ থেকে বিবাহের প্রস্তাব নিয়ে দেবতারা কন্দর্পকে শিবের কাছে পাঠিয়েছিলেন। শিব সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন ও তৃতীয় নেত্র দিয়ে তাঁকে ভস্ম করে দেন। কিন্তু শিবকে নিজের স্বামীরূপে মেনে নিয়েছিলেন পার্বতী।

তাই শিবকে পাওয়ার জন্য কঠোর তপস্যা শুরু করেছিলেন তিনি। তাঁর তপস্যার জোরে সমস্ত স্থানে হাহাকার শুরু হয়েছিল। বড় বড় পর্বতের ভিতও নড়ে গিয়েছিল। তখন শিব নিজের ধ্যান থেকে উঠেছিলেন এবং পার্বতীকে বলেছিলেন যে তিনি যেন কোনও যুবরাজের সঙ্গে বিয়ে করে নিয়েছিলেন। কারণ শিবের সঙ্গে বসবাস করা সহজ নয়।
কিন্তু হিমালয় কন্যা পার্বতী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, তিনি শিব ছাড়া কাউকে বিবাহ করবেন না। পার্বতীর ভালোবাসা দেখে মহাদেব তাঁকে বিবাহ করতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। শিব যখন পার্বতীর সঙ্গে বিবাহ করতে যান, তখন তাঁর সঙ্গে ডাকিনি, ভূত-প্রেত, পেত্নী ছিল। ডাকিনি ও পেত্নীরা শিবকে ভস্ম দিয়ে সাজিয়ে দিয়েছিলেন ও হাড়ের মালা পরিয়েছিলেন।

শিবের এই আশ্চর্যজনক বরযাত্রী পার্বতীর গৃহে পৌঁছালে সমস্ত দেবতা চমকে ও ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। এই বিচিত্র রূপে শিবকে মেনে নিতে পারেননি পার্বতীর মা। তখন তিনি শিবের সঙ্গে নিজের মেয়ের বিবাহ দিতে অসম্মত হয়েছিলেন। পরিস্থিতি খারাপ দিকে এগোতে দেখে পার্বতী শিবকে বিবাহের জন্য নিয়মনীতি অনুযায়ী তৈরি হয়ে আসতে প্রার্থনা করেছিলেন। শিব তাঁর প্রার্থনা স্বীকার করেছিলেন। সমস্ত দেবী-দেবতাকে সুন্দর ভাবে বরবেশে সাজিয়ে দিয়েছিলেন। ঐশ্বরিক জল দিয়ে মহাদেবকে স্নান করানো হয়, রেশমের ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছিল। শিবের এই দিব্য রূপ দেখে পার্বতীর মা বিবাহে রাজি হয়েছিল। ব্রহ্মার উপস্থিতিতে এই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল।

শান্তিপুর শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডের উত্তম সরকার প্রায় ৩৬ বছর আগে, ওপার বাংলা থেকে আনা এই গাজন শুরু করেন। এ বছরেও ৪৫ জন সন্ন্যাস গ্রহণ করেছে। হর গৌরীর বিবাহ এখানকার প্রধান আকর্ষণ। মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে ছাদনা তলায় শুভদৃষ্টি মালা বদল আগুনে খই দেওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত কিছু অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে, যা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষায় থাকে আশেপাশের বিভিন্ন মানুষজন।
উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন নীল পুজো , কাটাভাঙ্গা আগুনের উপর দিয়ে হাটা এ ধরনের নানান সংযমী সন্ন্যাসী কর্মকাণ্ড। শিব পার্বতীর বিবাহ। এছাড়া জীব মুখ এবং পিঠে বর্ষি গেথানো অবস্থায় চরকে ঘোরানো। এ বিষয়ে তারা এতটাই পারদর্শী যে চাপরা থেকে তাদেরকে আহ্বান জানানো হয়েছে বড়শি গেথানোর কাজে। চড়কের দিন অর্থাৎ বাংলার শুভ নববর্ষে মৎস্য মুখ করে সন্ন্যাসীদের ব্রত ভঙ্গ করা হয়।
।।নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ভারতবর্ষের সংবিধান নির্মাতা, ভারতরত্ন, বাবা সাহেব ডঃ ভীমরাও রামজি আম্বেদকরের জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।।।

একজন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারক হিসেবে আধুনিক ভারতে আম্বেদকরের প্রভাব লক্ষণীয় ছিলো। স্বাধীনতাত্তোর ভারতে তাঁর সামাজিক রাজনৈতিক চিন্তাধারা সমগ্র রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সম্মান অর্জন করে। তার যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো অনেকের জীবনেই প্রভাব ফেলে এবং আজকের ভারতে দলিতদের আর্থসামাজিক অবস্থার উত্তরণে আইনি এবং অন্যান্য সাহায্য প্রদানে সাহায্য করে।

ভীমরাও রামজি আম্বেদকর (১৪ই এপ্রিল ১৮৯১ – ৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬), যিনি বাবাসাহেব আম্বেদকর নামেও পরিচিত, তিনি ছিলেন একজন ভারতীয় ব্যবহারশাস্ত্রজ্ঞ (জ্যুরিস্ট), রাজনৈতিক নেতা, বৌদ্ধ আন্দোলনকারী, দার্শনিক, চিন্তাবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, ঐতিহাসিক, সুবক্তা, বিশিষ্ট লেখক, অর্থনীতিবিদ, পণ্ডিত, সম্পাদক, রাষ্ট্রবিপ্লবী ও বৌদ্ধ পুনর্জাগরণবাদী।
তিনি ভারতের সংবিধানেরবখসড়া কার্যনির্বাহক সমিতির সভাপতিও ছিলেন। তিনি ভারতীয় জাতীয়তাবাদী এবং ভারতের দলিত আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা। ইনি ভারতের সংবিধানের মুখ্য রচয়িতা । ২০১২ সালে হিস্ট্রি টি. ভি.১৮ আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ভারতীয়দের ভোটের দ্বারা তিনি “শ্রেষ্ঠ ভারতীয়”ও নির্বাচিত হন।
ভীমরাও রামজি আম্বেদকর ভারতের গরীব “মহর” পরিবারে (তখন অস্পৃশ্য জাতি হিসেবে গণ্য হত) জন্ম গ্রহণ করেন। আম্বেদকর সারাটা জীবন সামাজিক বৈষম্যতার , “চতুর্বর্ণ পদ্ধতি”-হিন্দু সমাজের চারটি বর্ণ এবং ভারতবর্ষের অস্পৃশ্য প্রথার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে গেছেন। তিনি বৌদ্ধ ধর্মে ধর্মান্তরিত হন এবং হাজারো অস্পৃশ্যদের থেরবাদী বৌদ্ধ ধর্ম স্ফুলিঙ্গের মতো রূপান্তরিত করে সম্মানিত হয়েছিলেন। আম্বেদকরকে ১৯৯০ সালে মরণোত্তর “ভারতরত্ন” – ভারতের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় উপাধি’তে ভূষিত করা হয়। বহু সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাধাবিপত্তি পেরিয়ে, ভারতের মহাবিদ্যালয় শিক্ষা অর্জনে আম্বেদকর প্রথম “সমাজচ্যুত ব্যক্তি” হিসেবে পরিণত হয়েছিলেন। অবশেষে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডন অর্থনীতি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে ডিগ্রি (বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ উপাধি) লাভ করার পর, আম্বেদকর বিদ্বান ব্যক্তি হিসেবে সুনাম অর্জন করেন এবং কিছু বছর তিনি আইন চর্চায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন, পরে তিনি ভারতের অস্পৃশ্যদের সামাজিক অধিকার ও সামাজিক স্বাধীনতার উপর ওকালতির সময় সমসাময়িক সংবাদপত্র প্রকাশ করেছিলেন। কিছু ভারতীয় বৌদ্ধালম্বীদের দ্বারা তিনি “বোধিসত্ত্ব” (গৌতম বুদ্ধের পূর্ব জন্ম) উপাধিতে সম্মানিত হয়েছিলেন ,যদিও তিনি নিজেকে “বোধিসত্ত্ব” হিসেবে কখনো দাবি করেননি।
১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতার দিন, নব্য গঠিত কংগ্রেসশাসিত সরকার আম্বেদকরকে জাতির প্রথম আইন মন্ত্রী পদ অর্পণ করেন, যা তিনি সানন্দে গ্রহণ করেছিলেন। ২৯ই আগস্ট, আম্বেদকরকে সংবিধান খসড়া সমিতির সভাপতি করা হয়, যা স্বাধীন ভারতের নতুন সংবিধান রচনার উদ্দেশ্যে বিধানসভা কর্তৃক দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। আম্বেদকর তাঁর সহকর্মী ও সমসাময়িক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে প্রচুর প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। এই কাজে আম্বেদকর প্রাচীন বৌদ্ধ ধর্মে সঙ্ঘের-চর্চা নিয়ে বৌদ্ধ ধর্মীয় গ্রন্থে অধিক পড়াশোনাই অনেক সহায়ক হিসেবে কাজ করেছিলো। ব্যালটের দ্বারা ভোট প্রদান, তর্ক-বিতর্কের ও অগ্রবর্তী নীতিমালা, করণীয় বিষয়সূচী, সভা-সমিতি ও ব্যবসায় সংক্রান্ত প্রস্তাবনা সমূহের ব্যবহার ইত্যাদি সংঘ চর্চা দ্বারা সমন্বয় সাধিত হয়। সংঘ চর্চা প্রাচীন ভারতের কিছু রাষ্ট্রীয় প্রজাতান্ত্রিক উপজাতিগোষ্ঠী যেমন শাক্যবংশ (Shakyas) ও লিচ্ছবিররা (Lichchavis) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। অতঃপর আম্বেদকর যদিও তার সাংবিধানিক অবয়ব তৈরিতে পশ্চিমা প্রণালীর ব্যবহার করেন, বস্তুত এর অনুপ্রেরণা ছিলো ভারতীয়, বাস্তবিকপক্ষে উপজাতীয়।
গ্রানভিলে অস্টিন আম্বেদকর কর্তৃক প্রণীত ভারতীয় সংবিধান খসড়াকে বর্ণনা দেন এভাবে “একনিষ্ঠ ও সর্বোত্তম সামাজিক নথি পত্র।”… ‘অধিকাংশ ভারতের সংবিধানের অধিকাংশ অনুচ্ছেদ স সামাজিক বিপ্লব এবং সামাজিক বিপ্লব পরিপোষণের উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে। ” আম্বেদকর কর্তৃক প্রণীত ভারতীয় সংবিধানে সর্বাধিক অধিকারসুরক্ষা জনসাধারণের প্রতি প্রদান করা হয়েছে -যেমন ধর্মীয় স্বাধীনতা, অস্পৃশ্যতা বিলোপ এবং সব ধরনের বৈষম্য বিধিবহির্ভূতকরণ। আম্বেদকর নারীদের অধিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকারের জন্য যুক্তি প্রদর্শন করেন। তিনি এতে বিধানসভার সমর্থন অর্জন করে সিডিউল কাস্টেসভুক্ত নারী সদস্যদের বা সিডিউল উপজাতীয়দের জন্য বেসরকারি খাতে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় কর্মক্ষেত্রে চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান করে কোটার ব্যবস্থা করেন। ভারতের আইন প্রণেতারা আশা করেন এর মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক বিভাজন দূর হবে ও ভারতীয় অস্পৃশ্যরা অধিক সুযোগ-সুবিধা পাবে।
১৯৪৯ সালের ২৬ই নভেম্বর গণ-পরিষদ কর্তৃক সংবিধানটি গৃহীত হয়। আম্বেদকর ১৯৫১ সালে হিন্দু কোড বিল খসড়াটি সংসদে পড়ে থাকার কারণে।(stalling in parliament) রাখার কারণে মন্ত্রিপরিষদ থেকে পদত্যাগ করেন। হিন্দু কোড পৈতৃক সম্পত্তি, বিবাহ ও অর্থনীতি আইনের আওতায় লিঙ্গসমতার নীতি প্রতিষ্ঠা করে। প্রধানমন্ত্রী নেহেরু, মন্ত্রিসভা ও অনেক কংগ্রেস নেতারা একে সমর্থন জানালেও বেশিরভাগ সাংসদ এর সমালোচনা করেন। আম্বেদকর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ১৯৫২’র নির্বাচনে লোকসভায় (lower house of parliament) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, কিন্তু হেরে যান। তাকে পরে রাজ্যসভার সাংসদ পদে সমাসীন করা হয়। ১৯৫২ সালের মার্চ মাসে এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি এই সদস্যপদে বহাল ছিলেন।
আম্বেদকরের জন্য তাঁর দিল্লীসভা ২৬ আলীপুর রাস্তায় একটি স্মারক স্থাপিত হয়। তাঁর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করে আম্বেদকর জয়ন্তী বা ভীম জয়ন্তী হিসেবে পালিত হয়। তাঁকে মরণোত্তর ১৯৯০ সালে ভারতের সর্বোচ্চ উপাধি “ভারত রত্ন” দেয়া হয়েছিল। তাঁর সম্মানে বহু সরকারি প্রতিষ্টানের নামকরণ করা হয়।
১৯৪৮ সাল থেকে আম্বেদকর ডায়াবেটিস রোগে ভুগছিলেন। শারীরিক অবনতির জন্য ১৯৫৪ সালে জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত তিনি শয্যাশায়ী ছিলেন ও একপর্যায়ে তার দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলেন ।রাজনৈতিক কারণে তিনি ক্রমশ অনেক তিক্তবিরক্ত হয়ে উঠেন, যা তাঁর স্বাস্থ্যের কাল হয়ে দাঁড়ায়। ১৯৫৫ সালের পুরোটা জুড়ে তিনি প্রচুর কাজ করার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অধিকতর অবনতি হয়। টানা তিন দিন “বুদ্ধ ও তাঁর ধর্ম” বইটির সর্বশেষ পাণ্ডুলিপি তৈরির পর তিনি ৬ই ডিসেম্বর ১৯৫৬ সালে তার দিল্লীর নিজ বাড়িতে ঘুমন্ত অবস্থায় চির নিদ্রায় শায়িত হন।
।।তথ্য সুত্রঃ উইকিপিডিয়া ও ইন্টারনেট থেকে সংকলিত ।।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

স্মরণে, প্রখ্যাত কণ্ঠ শিল্পী ও সঙ্গীতাচার্য তারাপদ চক্রবর্তী।।।

তারাপদ চক্রবর্তী ছিলেন একজন কণ্ঠশিল্পী ও সুরকার। তিনি কোটালি ঘরানার পথপ্রদর্শক ছিলেন যা একটি রাগ পরিবেশনের সময় আলাপের ধীর পরিবেশনের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত।

জন্ম—

সঙ্গীতশিল্পী তারাপদ চক্রবর্তী ১৩ এপ্রিল, ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ ভারতের ফরিদপুর জেলার কোটালীপাড়ায়, বর্তমান বাংলাদেশের একটি সঙ্গীত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।

তাঁর পিতা ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ পন্ডিত কুলচন্দ্র চক্রবর্তী এবং মাতা দুর্গারাণী দেবী। তার বাবা, দাদা এবং প্রপিতামহ সবাই সঙ্গীতে পারদর্শী ছিলেন। পরিবার থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি।

সঙ্গীতচর্চা–

তিনি কলকাতা বেতারে তবলা বাদকের চাকরি নেন। ধীরে ধীরে তিনি উচ্চাঙ্গের শিল্পী শিল্পী হিসেবে বিখ্যাত হয়ে ওঠেন। তিনি বাংলা খেয়াল ও বাংলা ঠুমরি গানের প্রবর্তক। বিভিন্ন সময়ে তারাপদ ওস্তাদ এনায়েত খান, ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান, ওস্তাদ হাফিজ আলী খান এবং অন্যান্য সঙ্গীত সম্রাটের সাথে তবলা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সুরকার তারাপদ চক্রবর্তী কিছু নতুন রাগ তৈরি করেছেন। তার মধ্যে ‘ছায়াহিন্দোল’ অন্যতম। তাঁর সুরতীর্থ নামে একটি গ্রন্থ আছে।

উপাধি—

তিনি বিভিন্ন উপাধিতে ভূষিত হন। ভাটপাড়া পণ্ডিতসমাজ কতৃর্ক সঙ্গীতাচার্য, বিদ্বৎ সম্মিলনী থেকে সঙ্গীতরত্নাকর ও কুমিল্লা সংগীত পরিষদ থেকে ”সংগীতার্ণব” উপাধি লাভ করেন। ১৯৭২ সালে তিনি সংগীত-নাটক অ্যাকাডেমির সদস্য নির্বাচিত হন এবং রাজ্য সরকারের আকাদেমি পুরস্কার পান। ১৯৭৩ সালে ভারত সরকার তাঁকে জীবনসায়াহ্নেপদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করলে তিনি ওই উপাধি গ্রহণে অসম্মতি জানান। তিনি বিশ্বভারতীর নির্বাচন-বোর্ডের সদস্য ছিলেন।
তারাপদ চক্রবর্তীর ১ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৫ সালে কলকাতায় মৃত্যু একটি যুগের অবসান ঘটিয়েছে, কিন্তু তার সঙ্গীতের উত্তরাধিকার প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট

Share This