কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ১৪ মে ২০২৬ তারিখে কলকাতায় প্রধান মুখ্য আয়কর আয়ুক্ত, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম অঞ্চলের দপ্তরের উদ্যোগে “প্রারম্ভ ২০২৬” নামে এক বৃহৎ জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আয়কর আইন, ২০২৫-এর বিভিন্ন বিধান সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিই ছিল এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।
এই কর্মসূচিতে আয়কর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন আধিকারিকবৃন্দ, বাণিজ্য ও শিল্প সংগঠনের প্রতিনিধিরা, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কর বিশেষজ্ঞ, করদাতা এবং সংবাদমাধ্যমের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম অঞ্চলের প্রধান মুখ্য আয়কর আয়ুক্ত সুরভি ভার্মা গর্গ বলেন যে, নতুন আয়কর আইন, ২০২৫ সরলীকরণ, স্বচ্ছতা এবং সহজ কর-অনুবর্তিতার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন যে, নতুন আইনটির লক্ষ্য কর আইনকে আরও সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য ও করদাতা-বান্ধব করে তোলা, যাতে কর-সংক্রান্ত বিরোধ হ্রাস পায়, কর-নিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায় এবং স্বেচ্ছায় কর-অনুবর্তিতাকে উৎসাহিত করা যায়।
এই কর্মসূচির পরবর্তী ধাপে ১৯ ও ২১ মে ২০২৬ তারিখে পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমের বিভিন্ন স্থানে আঞ্চলিক জনসংযোগমূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের প্রধান আয়কর আয়ুক্তগণ এবং আয়কর আয়ুক্ত (টিডিএস)-এর নেতৃত্বে এই কর্মসূচিগুলি অনুষ্ঠিত হবে। এর উদ্দেশ্য হল করদাতা, পেশাজীবী, বাণিজ্য সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা এবং নতুন আইনের অধীনে সচেতন ও সঠিক কর-অনুবর্তিতাকে উৎসাহিত করা।
অনুষ্ঠানে আয়কর আইন, ২০২৫-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য নিয়ে প্রযুক্তিগত অধিবেশন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ইন্টার্যাক্টিভ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য আয়কর আয়ুক্ত শ্রী অশোক কুমার ঝা আয়কর আইন, ১৯৬১ থেকে নতুন আইন কাঠামোয় উত্তরণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত ব্যক্ত করেন এবং সরলীকরণ ও করদাতা-সুবিধার বৃহত্তর উদ্দেশ্যগুলি তুলে ধরেন।
• “কর সেতু” নামে একটি শিক্ষামূলক ও জনসচেতনতামূলক নির্দেশিকা সম্পর্কে একটি বিশেষ অধিবেশন আয়োজন করা হয়, যেখানে আয়কর আইন, ১৯৬১ এবং আয়কর আইন, ২০২৫-এর মধ্যে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলীর (FAQ) মাধ্যমে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
• নতুন আয়কর আইন, ২০২৫-এর গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এবং সর্বাধিক ব্যবহৃত ফর্মসমূহ সম্পর্কিত তথ্যপুস্তিকা বিভিন্ন ভাষায় সাধারণ মানুষের জন্য উপলব্ধ করা হয়।
• এছাড়াও, অনুষ্ঠানে ‘কর সাথী’ এআই বট সম্বলিত বিশেষ কিয়স্ক স্থাপন করা হয়, যাতে কর-সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধি পায় এবং দর্শনার্থীদের কর বিষয়ক প্রশ্নের ইন্টার্যাক্টিভ উপায়ে উত্তর প্রদান করা যায়।
এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন অংশীজন, পেশাজীবী এবং সংবাদমাধ্যমের সদস্যদের উৎসাহী অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়। পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম অঞ্চলে সচেতনতা, স্বচ্ছতা এবং করদাতা-অংশগ্রহণ আরও সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে এই অনুষ্ঠান একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে