Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

Zurich : সৌন্দর্য, ইতিহাস ও আধুনিকতার এক অপূর্ব মেলবন্ধন।

✨ ভূমিকা :- ইউরোপের অন্যতম সুন্দর ও উন্নত দেশ Switzerland। আর সেই দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাণবন্ত শহর হলো Zurich। বরফে ঢাকা আল্পস পর্বতমালা, নীল হ্রদ, প্রাচীন স্থাপত্য, নিখুঁত পরিচ্ছন্নতা এবং আধুনিক জীবনের এক অনন্য সমন্বয় এই শহরকে পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করেছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ এখানে ভ্রমণে আসেন। অনেকে মনে করেন সুইজারল্যান্ড মানেই শুধু বরফ আর পাহাড়। কিন্তু জুরিখ সেই ধারণাকে আরও বিস্তৃত করে। এটি শুধু একটি সুন্দর শহরই নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম ধনী ও উন্নত আর্থিক কেন্দ্র। এখানে যেমন আছে ইতিহাসের ছোঁয়া, তেমনই রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, শিল্প, সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অসাধারণ সমাহার।

🏔️ জুরিখের ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিচয় Zurich সুইজারল্যান্ডের উত্তর-মধ্য অংশে অবস্থিত। শহরটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে লিমাট নদী এবং এর দক্ষিণে রয়েছে বিখ্যাত Lake Zurich। চারপাশে সবুজ পাহাড় ও দূরে বরফে ঢাকা আল্পস পর্বতমালা শহরটিকে করেছে স্বপ্নের মতো সুন্দর। জুরিখ সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় শহর হলেও এটি অত্যন্ত শান্ত, পরিষ্কার ও সুশৃঙ্খল। বিশ্বের সবচেয়ে বসবাসযোগ্য শহরের তালিকায় প্রায়ই এর নাম উঠে আসে।

📜 ইতিহাসের পাতায় জুরিখ জুরিখের ইতিহাস প্রায় ২০০০ বছরের পুরোনো। রোমান সাম্রাজ্যের সময় এই অঞ্চল একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র ছিল। মধ্যযুগে এটি ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী বাণিজ্য শহরে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে ব্যাংকিং ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতির ফলে জুরিখ বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম কেন্দ্র হয়ে ওঠে। আজ বিশ্বের অনেক বড় বড় আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখানে অবস্থিত। জুরিখের পুরোনো শহর বা Old Town এখনও সেই প্রাচীন ইতিহাসের সাক্ষী বহন করে চলেছে। সরু পাথরের রাস্তা, শত বছরের পুরোনো ভবন এবং ঐতিহাসিক গির্জা শহরটির ঐতিহ্যকে আজও জীবন্ত রেখেছে।

🌊 লেক জুরিখ — প্রকৃতির অপূর্ব উপহার Lake Zurich জুরিখের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। বিশাল এই হ্রদের স্বচ্ছ নীল জল এবং চারপাশের সবুজ পরিবেশ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। গ্রীষ্মকালে এখানে বোট রাইড, সাঁতার, কায়াকিং এবং বিভিন্ন জলক্রীড়ার ব্যবস্থা থাকে। সন্ধ্যাবেলায় লেকের ধারে হাঁটার অভিজ্ঞতা সত্যিই অসাধারণ। সূর্যাস্তের সময় আকাশের রঙ আর হ্রদের জলে তার প্রতিফলন যেন এক জীবন্ত চিত্রকর্ম। শীতকালে বরফঢাকা পাহাড়ের পটভূমিতে লেক জুরিখ আরও বেশি মোহনীয় হয়ে ওঠে।

🏰 পুরোনো শহর — ইতিহাসের জীবন্ত জাদুঘর জুরিখের Old Town বা Altstadt হলো শহরের ঐতিহাসিক কেন্দ্র। এখানে হাঁটলে মনে হয় যেন কয়েকশ বছর পেছনে চলে গেছেন। পাথরের সরু রাস্তা, পুরোনো ঘড়ির টাওয়ার, ঐতিহাসিক বাড়ি এবং ছোট ছোট ক্যাফে এই অঞ্চলকে করেছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। এখানে অবস্থিত বিখ্যাত Grossmünster গির্জাটি জুরিখের অন্যতম প্রতীক। এর দুটি উঁচু টাওয়ার দূর থেকেই নজর কাড়ে। এছাড়াও Fraumünster গির্জার রঙিন কাঁচের শিল্পকর্ম বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত।

🛍️ Bahnhofstrasse — বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল শপিং স্ট্রিট Bahnhofstrasse পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত ও ব্যয়বহুল শপিং স্ট্রিটগুলোর একটি। এখানে রয়েছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের অসংখ্য দোকান, বিলাসবহুল ঘড়ি, গয়না এবং ফ্যাশন শোরুম। সুইস ঘড়ির প্রতি যাদের আগ্রহ রয়েছে, তাদের জন্য এটি স্বর্গের মতো। এছাড়া চকলেট প্রেমীদের জন্যও এখানে রয়েছে বিখ্যাত সুইস চকলেটের দোকান। শুধু কেনাকাটাই নয়, রাস্তার সৌন্দর্য, সাজানো গাছপালা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশও পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

🚆 জুরিখের পরিবহন ব্যবস্থা সুইজারল্যান্ডের পরিবহন ব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সেরা, আর জুরিখ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে রয়েছে আধুনিক ট্রাম, বাস ও ট্রেন ব্যবস্থা। সময়নিষ্ঠতা এতটাই নিখুঁত যে ট্রেন কয়েক সেকেন্ড দেরি করলেও মানুষ অবাক হয়। Zurich Hauptbahnhof ইউরোপের অন্যতম ব্যস্ত রেলস্টেশন। এখান থেকে সহজেই সুইজারল্যান্ডের অন্যান্য শহর এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করা যায়।

🍫 সুইস চকলেট ও খাবারের স্বাদ সুইজারল্যান্ড মানেই বিশ্ববিখ্যাত চকলেট। জুরিখে গেলে সুইস চকলেট না খেলে ভ্রমণই অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এখানে বিভিন্ন ধরনের হাতে তৈরি চকলেট পাওয়া যায়। পাশাপাশি সুইস চিজও অত্যন্ত জনপ্রিয়। জনপ্রিয় খাবারের মধ্যে রয়েছে— Cheese Fondue Raclette Rösti Swiss Pastry Alpine Cheese জুরিখের ছোট ছোট ক্যাফেগুলো অত্যন্ত সুন্দর ও আরামদায়ক। কফির কাপে চুমুক দিতে দিতে শহরের সৌন্দর্য উপভোগ করার অভিজ্ঞতা অনন্য।

🎨 শিল্প, সংস্কৃতি ও জাদুঘর জুরিখ শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের শহর নয়, এটি শিল্প ও সংস্কৃতিরও কেন্দ্র। Swiss National Museum সুইজারল্যান্ডের ইতিহাস ও সংস্কৃতি জানার জন্য অন্যতম সেরা জায়গা। এছাড়া Kunsthaus Zürich আর্ট মিউজিয়ামে রয়েছে ইউরোপের বিখ্যাত শিল্পীদের অসংখ্য চিত্রকর্ম। প্রতিবছর এখানে বিভিন্ন সঙ্গীত উৎসব, আর্ট প্রদর্শনী এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

❄️ শীতের জুরিখ — বরফের রাজ্য শীতকালে জুরিখ যেন রূপকথার শহরে পরিণত হয়। চারদিকে সাদা বরফ, ঝলমলে আলো এবং ক্রিসমাস মার্কেট পুরো শহরকে উৎসবমুখর করে তোলে। এই সময় পর্যটকেরা কাছাকাছি আল্পস অঞ্চলে স্কিইং ও স্নোবোর্ডিং করতে যান।

🌸 গ্রীষ্মের জুরিখ — সবুজ ও প্রাণবন্ত গ্রীষ্মকালে জুরিখ হয়ে ওঠে সবুজ ও প্রাণচঞ্চল। লেকের ধারে মানুষ রোদ পোহায়, নৌবিহার করে এবং খোলা আকাশের নিচে সময় কাটায়। রাস্তার ধারে ফুলের সাজ, উন্মুক্ত ক্যাফে এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শহরটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

🏞️ কাছাকাছি দর্শনীয় স্থান জুরিখ থেকে খুব সহজেই সুইজারল্যান্ডের অনেক বিখ্যাত জায়গায় যাওয়া যায়। যেমন— Interlaken Jungfraujoch Lucerne Mount Titlis Zermatt এই সব জায়গা বরফ, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য বিশ্ববিখ্যাত।

💰 জুরিখে ভ্রমণের খরচ জুরিখ পৃথিবীর অন্যতম ব্যয়বহুল শহর। এখানে হোটেল, খাবার এবং যাতায়াতের খরচ তুলনামূলক বেশি। তবে পরিকল্পনা করে ভ্রমণ করলে খরচ কিছুটা কমানো সম্ভব। সম্ভাব্য খরচ হোটেল: প্রতিরাতে ৮,০০০–৩০,০০০ টাকা খাবার: প্রতিদিন ৩,০০০–৮,০০০ টাকা ট্রান্সপোর্ট: ১,৫০০–৩,০০০ টাকা দর্শনীয় স্থান: আলাদা টিকিট প্রয়োজন হতে পারে

📸 জুরিখ কেন এত জনপ্রিয়? জুরিখ জনপ্রিয় হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো— ✔ অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ✔ নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন শহর ✔ উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা ✔ ইতিহাস ও আধুনিকতার সমন্বয় ✔ সুইস চকলেট ও ঘড়ি ✔ পাহাড় ও লেকের অপূর্ব দৃশ্য ✔ শান্ত ও আরামদায়ক পরিবেশ ।

একজন ভ্রমণপিপাসুর চোখে জুরিখ যে কেউ একবার জুরিখে গেলে শহরটির প্রেমে পড়ে যায়। এখানে জীবনের গতি দ্রুত হলেও পরিবেশ অত্যন্ত শান্ত। মানুষ ভদ্র, রাস্তা পরিষ্কার, আর প্রকৃতি যেন প্রতিটি মুহূর্তে মুগ্ধ করে। ভোরের আলোয় লেক জুরিখ, সন্ধ্যার আলোয় Bahnhofstrasse কিংবা তুষারঢাকা পাহাড়ের পটভূমিতে শহরের দৃশ্য — সবকিছুই মনে গভীর ছাপ ফেলে যায়।

উপসংহার:-  Zurich শুধু একটি শহর নয়, এটি সৌন্দর্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস এবং আধুনিকতার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এখানে প্রকৃতি ও মানুষের তৈরি সভ্যতা এত সুন্দরভাবে মিলেমিশে গেছে যে এটি পৃথিবীর অন্যতম স্বপ্নের গন্তব্য হয়ে উঠেছে। যারা শান্ত, পরিচ্ছন্ন এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশে কিছু সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য জুরিখ নিঃসন্দেহে আদর্শ একটি ভ্রমণস্থান। বরফঢাকা পাহাড়, নীল হ্রদ, পুরোনো স্থাপত্য এবং আধুনিক শহুরে জীবনের এই মেলবন্ধন জীবনের স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। সুইজারল্যান্ড ভ্রমণের স্বপ্ন যদি কখনও দেখেন, তাহলে জুরিখকে অবশ্যই আপনার তালিকার প্রথম দিকে রাখুন।

Share This
Categories
অনুগল্প গল্প

অনুগল্প: “ফিরে যদি আসো…

” নির্মলা রোজ ভোরবেলা উঠেই ব্যালকনির দিকের চিঠির বাক্সটা দেখে। আজও… কিচ্ছু নেই। পঁচিশ বছর আগেও ঠিক এমন এক সকালে, রুদ্র বলেছিল — — “চলে যাচ্ছি, কিন্তু লিখব রোজ। জানবে, আমি ভুলিনি।” প্রথমে চিঠি এসেছিল নিয়মিত, তারপর মাসে একবার, তারপর বছরে একবার… তারপর… আর কিছুই না। তবু নির্মলা অপেক্ষা করে গেছে। চুলের রঙ বদলেছে, চোখের দৃষ্টিতে এসেছে কাচের ঝাপসা, তবুও অপেক্ষা বদলায়নি। আজ সে চিঠি লেখে — “রুদ্র, যদি ফিরে আসো, জানিও… আমি রোজই অপেক্ষা করেছি। দরজাটা আজও খোলা… — নির্মলা” চিঠিটা সে রাখে জানলার পাশে, বাতাসে উড়তে থাকে। পেছনে তার ঘর — নিঃসঙ্গ, নীরব… কিন্তু দরজাটা আজও হালকা খোলা।

Share This
Categories
বিবিধ

তৃণমূল নেতার বাড়ির পাশেই গেরুয়া পোঁচ, চর্চায় ঝাড়-আলতা গ্রাম পঞ্চায়েত।

ধুপগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জেলায় জেলায় বদলাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরণ। এবার তৃণমূল জমানার সমস্ত চিহ্ন মুছে ফেলতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকের দিনেই জলপাইগুড়ির ঝাড়-আলতা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে দেখা গেল সেই ছবি। একসময়ের বিরোধী-শূন্য এই তৃণমূল ঘাঁটিতে এবার খোদ শাসক দলের দাপুটে নেতার বাড়ির পাশেই চলল রং পরিবর্তনের কাজ।ঝাড়-আলতা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা বীরেন রায়ের বাড়ির ঢিল ছোড়া দূরত্বে অবস্থিত একটি স্থানীয় ক্লাব। তৃণমূল জমানায় আদিবাসী উন্নয়ন তহবিলের (Tribal Development Fund) অধীনে সেখানে একটি কমিউনিটি হল গড়ে তোলা হয়েছিল। পূর্বতন সরকারের নিয়ম মেনে গোটা বিল্ডিংটি নীল-সাদা রঙে রাঙানো ছিল। আজ স্থানীয় বিজেপি যুব নেতৃত্বের উদ্যোগে, সম্পূর্ণ নিজস্ব আর্থিক সাহায্যে সেই নীল-সাদা বিল্ডিংয়ে পোঁচ পড়ল গেরুয়া রঙের। তবে রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রেখে ভবনের কিছুটা অংশ নীল-সাদা রাখা হবে বলে দাবি করেছেন বিজেপি যুব কর্মীরা।রং পরিবর্তনের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এদিন সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। প্রাক্তন প্রধানের স্বামী বীরেন রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ – তৃণমূল সমর্থক না হলে এতদিন এলাকার যুবকদের এই মাঠে খেলতে দেওয়া হতো না।বীরেন রায়ের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে নেশাজাতীয় মাদক পাচার এবং যুবসমাজকে বিপথগামী করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝাড়-আলতা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এখন জেলা রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

গেরুয়া পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে বিজয় উদযাপন বিজেপি সমর্থকদের।

রায়দিঘি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- Raydighi বিধানসভায় গেরুয়া ধ্বজ উড়িয়ে শান্তির বার্তা দিলেন বিজেপি নেতৃত্বরা। সোমবার বিকেলে বিশাল শোভাযাত্রা সহকারে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা কোম্পানিরঠেক বাজার এলাকায় গেরুয়া ধ্বজ উত্তোলন করেন।

এদিনের কর্মসূচিকে রায়দিঘি বিধানসভার জন্য “ঐতিহাসিক দিন” বলেই বর্ণনা করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। শোভাযাত্রায় অংশ নেন বহু কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। দলীয় পতাকা, স্লোগান ও উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

গেরুয়া ধ্বজ উত্তোলনকে ঘিরে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শান্তি, উন্নয়ন ও মানুষের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

Share This
Categories
বিবিধ

দলীয় স্লোগান আর ওয়াকি-টকির নির্দেশে মুখরিত বিজেপির বিজয় মিছিল।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:- নির্বাচনে জয়ের আনন্দে সোমবার Falakata ব্লকের গুয়াবরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব মালসাগাঁও এলাকার ১৩/১৬৪ নম্বর বুথে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় মিছিলে অংশ নেন অসংখ্য কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ মানুষ। দলীয় পতাকা, স্লোগান এবং উচ্ছ্বাসে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মিছিলটি পূর্ব মালসাগাঁওয়ের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে।

এদিনের ওই অনুষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে ওয়াকি-টকির অভিনব ব্যবহার। গোটা মিছিল ও অনুষ্ঠানকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে একাধিক দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপির কর্মীর হাতে দেখা যায় ওয়াকি-টকি। কোথায় মিছিল পৌঁছেছে, কোথায় ভিড় বেশি হচ্ছে কিংবা কোথায় যেতে হবে— সমস্ত নির্দেশ মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল ওই যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে। আধুনিক প্রযুক্তির এই ব্যবহারকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। অনেকেই এটিকে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেন।

বিজয় উৎসবকে আরও আনন্দঘন করে তুলতে উপস্থিত মানুষদের জন্য ঝালমুড়ির পাশাপাশি মাছ ও মাংস-ভাতের বিশেষ আয়োজন করা হয়। এলাকার বহু মানুষ একসঙ্গে এই আনন্দ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বিজয়ের উচ্ছ্বাস ভাগ করে নেন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, মানুষের আশীর্বাদ ও সমর্থনেই এই জয় এসেছে এবং আগামী দিনেও এলাকার উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

গোপন সূত্রের খবরেই সাফল্য, হোটেল থেকে উদ্ধার বিভিন্ন কোম্পানির বিয়ার।

আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা :- ভুটান সীমান্ত লাগোয়া জয়গাঁ-পাশাখা রোডের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিয়ার উদ্ধার করল পুলিশ। জয়গাঁ থানার পুলিশের দাবি, অভিযানে বিভিন্ন কোম্পানির মোট ২৭০ লিটার বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ওই হোটেলে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিয়ার। ঘটনায় হোটেল মালিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়া বিয়ার কী উদ্দেশ্যে মজুত করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোনও বেআইনি কারবার জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জয়গাঁ থানার পুলিশ।

Share This
Categories
বিবিধ

সীমান্তে নিরাপত্তা বাড়লেও উচ্ছেদের আশঙ্কায় চিন্তায় বহু পরিবার।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— শপথ গ্রহণের পরেই রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন Suvendu Adhikari। তার মধ্যে অন্যতম ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের খোলা অংশে দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের লক্ষ্যে বিএসএফকে ৪৫ দিনের মধ্যে জমি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত। রাজ্য সরকারের এই ঘোষণাকে ঘিরে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। Malda জেলার একাধিক সীমান্তবর্তী এলাকায় এখনও বিস্তীর্ণ অংশে কাঁটাতারের বেড়া নেই। বিশেষ করে Habibpur ব্লকে প্রায় ৮২ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩২ কিলোমিটার এলাকায় এখনও কাঁটাতার নেই। এছাড়াও প্রায় ৯ কিলোমিটার নদীপথ সীমান্ত হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। নতুন সরকারের এই ঘোষণায় খুশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁটাতার না থাকার সুযোগে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি পাচারকারী ও বিভিন্ন চোরাকারবারিদের আনাগোনা চলত। গবাদি পশু পাচার থেকে শুরু করে নানা বেআইনি কারবারে এই খোলা সীমান্ত ব্যবহার হত বলেও দাবি এলাকাবাসীর। তাদের আশা, দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ হলে সীমান্তে বেআইনি কার্যকলাপ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে। তবে এরই পাশাপাশি নতুন করে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে সীমান্ত সংলগ্ন বহু পরিবারের মধ্যে। অনেকের বাড়ি ও জমি সীমান্তের খুব কাছাকাছি হওয়ায় কাঁটাতার নির্মাণের পর তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের দাবি, নিরাপত্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সমস্যার বিষয়টিও সরকারকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে হবে।

Share This
Categories
বিবিধ

ডোমজুড়ের সাপুঁইপাড়ায় জমা নোংরা জলে অতিষ্ঠ বাসিন্দারা, পথ অবরোধে ক্ষোভ প্রকাশ।

ডোমজুড়, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ডোমজুড় বিধানসভার সাপুঁইপাড়া বসুকাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের ২৮২ নম্বর বুথে দীর্ঘদিন ধরে নোংরা, দুর্গন্ধযুক্ত জমা জলের সমস্যায় চরম ভোগান্তির শিকার স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকার এই গলিটি সকলের কাছে ‘উড়িয়া কচুরির দোকান গলি’ নামেই পরিচিত। প্রতিদিন ছোট থেকে বড় সকলকেই এই নোংরা জল পেরিয়ে স্কুল, অফিস এবং অন্যান্য জরুরি কাজে যাতায়াত করতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই পরিস্থিতির কারণে বহু মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বারবার পঞ্চায়েত সদস্যকে বিষয়টি জানানো হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান করা হয়নি। শুধু আশ্বাস দেওয়া হয়েছে—“করে দেবো”, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, এই গলিতে কীভাবে একের পর এক ফ্ল্যাট তৈরির অনুমতি দেওয়া হলো, যেখানে জল নিকাশের কোনো সঠিক ব্যবস্থা নেই। ফ্ল্যাটের বর্জ্য জল জমে পুরো এলাকা আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। অবশেষে বাধ্য হয়ে আজ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কিছু সময়ের জন্য পথ অবরোধ করেন এবং প্রতিবাদে সরব হন। তাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাস্তার সমস্যা সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং পঞ্চায়েত ঘেরাও করা হবে। যদিও শোনা যাচ্ছে, বর্তমানে এই বুথের পঞ্চায়েত সদস্য এলাকায় উপস্থিত নেই।

Share This
Categories
বিবিধ

“পরিষেবা স্বাভাবিক করতে মাঠে বিজেপি বিধায়ক, স্বস্তিতে সাধারণ মানুষ”।

পূর্ব বর্ধমান, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পূর্বস্থলী দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে পঞ্চায়েত পরিষেবা ঘিরে নতুন বার্তা দিল বিজেপি। ভোটের ফল প্রকাশের পর একাধিক পঞ্চায়েতে তালা ঝোলানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে সোমবার পূর্বস্থলী দক্ষিণের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক প্রাণকৃষ্ণ তপাদার নিজে উপস্থিত থেকে পূর্বস্থলী ১ ব্লকের নাদনঘাট, সমুদ্রগড় ও নশরতপুর পঞ্চায়েতের তালা খুলে দেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে কয়েকটি পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছিল। সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজকর্মে সমস্যার মুখে পড়ছিলেন। এদিন পঞ্চায়েতগুলিতে গিয়ে প্রাণকৃষ্ণ তপাদার প্রশাসনিক পরিষেবা দ্রুত স্বাভাবিক করার বার্তা দেন। তিনি বলেন, “পঞ্চায়েত মানুষের জন্য। রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ রাখা কোনওভাবেই কাম্য নয়। মানুষের স্বার্থে পঞ্চায়েতের দরজা খোলা থাকবে এবং স্বাভাবিক কাজকর্ম চালু রাখতে যা যা প্রয়োজন, তা করা হবে।” এদিন বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে পঞ্চায়েত চত্বরে কিছু সময়ের জন্য উৎসাহ-উদ্দীপনার পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের আশা, এর ফলে এলাকার নাগরিক পরিষেবা ফের আগের ছন্দে ফিরবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, নবনির্বাচিত বিধায়কের এই পদক্ষেপ পূর্বস্থলী দক্ষিণের রাজনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা বহন করছে। নশরতপুর পঞ্চায়েতের প্রধান কানন বর্মন বলেন, “বিধায়ক আমাকে ফোন করে পঞ্চায়েতে এসে পরিষেবা দেওয়ার কথা বলেছেন। মানুষের স্বার্থে পরিষেবা চালু রাখার এই উদ্যোগ ভালো লেগেছে।”

Share This
Categories
বিবিধ

“পতাকা নয়, আগে পরিষেবা — কল্যাণপুরে বার্তা বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পালের”।

বারুইপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা :- রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক পঞ্চায়েতে তালাবন্দি পরিস্থিতির অভিযোগ সামনে আসে। সেই আবহেই সোমবার বারুইপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী ছবি। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পঞ্চায়েতের তালা খুলে সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা চালু করার উদ্যোগ নিলেন বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল। শুধু তাই নয়, পঞ্চায়েত ভবনের সামনে লাগানো বিজেপির দলীয় পতাকাও সরিয়ে ফেলা হয় তাঁর উপস্থিতিতেই। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচনের সময় সরকারি কর্মচারীদের নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করার কারণে বহু পঞ্চায়েতে স্বাভাবিক প্রশাসনিক পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সেই সময় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রয়োজনের কারণে পঞ্চায়েত ভবনগুলিতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও বেশ কিছু জায়গায় সেই তালা আর খোলা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে। ফলে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র, আবাস যোজনা, বার্ধক্য ভাতা, রেশন, পানীয় জল সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন সাধারণ মানুষ। সোমবার সকালে কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পৌঁছন বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলীয় কর্মী-সমর্থক এবং এলাকার বহু সাধারণ মানুষ। প্রথমে পঞ্চায়েত ভবনের সামনে লাগানো বিজেপির পতাকা খুলে ফেলা হয়। এরপর পঞ্চায়েতের তালা খুলে ভিতরে প্রবেশ করা হয় এবং স্বাভাবিক পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, কোনও রাজনৈতিক দখলদারিত্ব নয়, বরং সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং প্রশাসনিক পরিষেবা পুনরায় চালু করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, পঞ্চায়েত কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি নয়, এটি সাধারণ মানুষের পরিষেবা দেওয়ার কেন্দ্র। তাই সেখানে রাজনৈতিক রং নয়, মানুষের স্বার্থই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিজেপি প্রার্থী বিশ্বজিৎ পাল বলেন, “নির্বাচনের সময় প্রশাসনিক প্রয়োজনে পরিষেবা বন্ধ ছিল। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষ যাতে আবার স্বাভাবিক পরিষেবা পান, সেই কারণেই আজ পঞ্চায়েত খোলা হয়েছে। আমরা চাই মানুষ নির্বিঘ্নে সরকারি সুবিধা পাক।” তিনি আরও বলেন, “পঞ্চায়েত মানুষের। এখানে কোনও রাজনৈতিক দখলদারিত্বের প্রশ্ন নেই। তাই পঞ্চায়েতের সামনে লাগানো দলীয় পতাকাও খুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তনের পরে মানুষ নতুন আশার আলো দেখছেন। সেই আনন্দ ভাগ করে নিতেই আজ কর্মী, পঞ্চায়েত কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষকে মিষ্টিমুখ করানো হয়েছে।” এদিন পঞ্চায়েত চত্বরে উৎসবের আবহও চোখে পড়ে। বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণ করা হয়। দীর্ঘদিন পর পঞ্চায়েত খুলে যাওয়ায় খুশি সাধারণ মানুষও। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, বহু জরুরি কাজ দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। পঞ্চায়েত খুলে যাওয়ায় এখন সাধারণ মানুষের সুবিধা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নানা জল্পনা। বিরোধীদের একাংশের দাবি, গোটা ঘটনাটির মধ্যেই রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা রয়েছে। যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য জনপরিষেবা স্বাভাবিক রাখা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় পঞ্চায়েত ঘিরে উত্তেজনা, দলবদল ও দখল রাজনীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তারই মধ্যে কল্যাণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে বিজেপির পতাকা সরিয়ে পরিষেবা চালুর এই ঘটনাকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। এলাকায় যাতে শান্তি বজায় থাকে এবং মানুষ স্বাভাবিক পরিষেবা পান, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

Share This