Categories
উপন্যাস

যে গ্রামে রাত নামে না (তৃতীয় পর্ব)।

তৃতীয় পর্ব — যে রাত শেষ হয়নি

ঘরের দরজা বন্ধ।

বাইরে অসংখ্য কণ্ঠ।

একসঙ্গে ডাকছে—

“অনন্যা…”

“অনন্যা…”

“অনন্যা…”

নির্মলবাবু দরজায় পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

অনন্যা মেঝেতে বসে।

তার হাতে সেই পুরনো ঘড়ি।

কাঁটা আটকে আছে—

২:১৭।

অনন্যার মাথার ভেতর যেন হাজারটা শব্দ একসঙ্গে ঘুরছে।

“আমি কে?”

নির্মলবাবু ধীরে ধীরে বললেন,

“এই প্রশ্নটার উত্তর তুই অনেক বছর ধরে জানিস। শুধু মনে রাখিস না।”

“আমার স্মৃতি মুছে দিয়েছিল কে?”

“কেউ না।”

“তাহলে?”

“তুই নিজেই ভুলে গিয়েছিলি।”

অনন্যা মাথা তুলল।

“মানুষ নিজের জীবন ভুলে যায়?”

“সব মানুষ নয়।”

নির্মলবাবু জানলার দিকে তাকালেন।

“কখনও কখনও একটা শিশু এমন কিছু দেখে, যা তার পক্ষে মেনে নেওয়া অসম্ভব। তখন মস্তিষ্ক নিজের মতো করে একটা নতুন গল্প বানিয়ে নেয়।”

“আমার সঙ্গে কী হয়েছিল?”

নির্মলবাবু একটা চেয়ার টেনে বসলেন।

“পনেরো বছর আগে তুই আর মৌ এখানে এসেছিলি।”

“কার সঙ্গে?”

“তোর বাবা-মায়ের সঙ্গে।”

“কেন?”

“তোর বাবা তখন এই গ্রামের কাছে একটা জলাধার নির্মাণ প্রকল্পের কাজে ছিলেন।”

অনন্যা অবাক হয়ে গেল।

তার বাবা সরকারি ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন—এটা সে জানত।

কিন্তু চাঁদপুরার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক ছিল, সে জানত না।

নির্মলবাবু বললেন,

“সেই সময় গ্রামে একটা পুরনো বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তোর বাবা সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু প্রকল্পের ঠিকাদাররা রিপোর্ট চাপা দিতে চেয়েছিল।”

“তার সঙ্গে আমার কী সম্পর্ক?”

“সেই রাতে তোর বাবা কিছু নথি নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।”

“তারপর?”

“দুর্ঘটনা।”

“কী দুর্ঘটনা?”

“গাড়ি রাস্তা থেকে নেমে যায়।”

অনন্যার চোখ বড় হয়ে গেল।

“আমার বাবা মারা গিয়েছিলেন?”

“না।”

“তাহলে?”

“তিনি গুরুতর আহত হন।”

“কিন্তু আমাদের তো বলা হয়েছিল…”

নির্মলবাবু থামিয়ে দিলেন।

“তোর মা অনেক বছর ধরে যা বলেছে, তার সবটা সত্যি নয়।”

অনন্যা উঠে দাঁড়াল।

“আমি আমার মাকে প্রশ্ন করব।”

“তোর মা এখন কোথায়?”

“কলকাতায়।”

“ফোন কর।”

অনন্যা ফোন বের করল।

নম্বর ডায়াল করল।

একবার।

দু’বার।

তিনবার।

ফোন বেজে চলল।

কেউ ধরল না।

তারপর একটা মেসেজ এল।

“এই নম্বরে এখন যোগাযোগ করা সম্ভব নয়।”

অনন্যার বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

“কী হচ্ছে?”

নির্মলবাবু বললেন,

“তোর মা জানে তুই এখানে এসেছিস?”

“হ্যাঁ।”

“তাহলে সে জানে কী হতে চলেছে।”


রাত তখন ১টা ৪৫।

নির্মলবাবু একটা পুরনো আলমারি খুললেন।

ভেতর থেকে বের করলেন মোটা একটা খাতা।

খাতার পাতাগুলো হলদে।

প্রথম পাতায় লেখা—

চাঁদপুরা রাত পর্যবেক্ষণ নথি

অনন্যা অবাক হয়ে তাকাল।

“এগুলো কী?”

“গত তিরিশ বছরের নোট।”

“আপনি এগুলো লিখেছেন?”

“হ্যাঁ।”

“কেন?”

“কারণ প্রথমে আমিও ভেবেছিলাম এই গ্রামের ঘটনাগুলো কুসংস্কার। পরে বুঝলাম, ব্যাপারটা অন্য।”

“কী অন্য?”

নির্মলবাবু একটা পাতা খুললেন।

তারিখ—

১৭ অক্টোবর, ২০১১।

তার নিচে লেখা—

রাত ২:১৭ — বিদ্যুৎ নেই। আকাশ অস্বাভাবিক উজ্জ্বল। পুকুরের জল অস্থির। দুই শিশু নিখোঁজ।

অনন্যার হাত কাঁপতে লাগল।

“দুই শিশু?”

নির্মলবাবু মাথা নাড়লেন।

“তুই আর মৌ।”

আরেকটা পাতা।

রাত ৩:০৫ — মৌকে পুকুরের ধারে পাওয়া যায়।

অনন্যা নিঃশ্বাস বন্ধ করে পড়তে লাগল।

পরের লাইন—

অনন্যাকে পাওয়া যায়নি।

তারপর একটা লম্বা ফাঁকা জায়গা।

তার নিচে কাঁপা হাতে লেখা—

ভোর ৫:৪০ — অনন্যাকে উদ্ধার করা হয়।

অনন্যা ফিসফিস করে বলল,

“তাহলে আমি বেঁচে ছিলাম!”

“হ্যাঁ।”

“তাহলে আপনি বললেন আমি মারা গিয়েছিলাম কেন?”

নির্মলবাবু কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।

“তোর শরীর বেঁচে ছিল।”

“আর?”

“কিন্তু তুই তখন নিজের নাম, নিজের বাড়ি, নিজের বাবা-মা—কিছুই চিনতে পারছিলি না।”

অনন্যা চোখ বন্ধ করল।

“মৌ?”

“মৌকে পুকুরের ধারে পাওয়া গিয়েছিল।”

“ও বেঁচে ছিল?”

নির্মলবাবু এবার উত্তর দিতে দেরি করলেন।

“হ্যাঁ।”

অনন্যার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল।

“তাহলে ও কোথায় গেল?”

“সেটাই রহস্য।”


হঠাৎ বাইরে একটা প্রচণ্ড শব্দ হল।

ধাম!

ঘরের জানলা কেঁপে উঠল।

নির্মলবাবু উঠে দাঁড়ালেন।

“সময় হয়ে গেছে।”

ঘড়ির দিকে তাকালেন।

২:১৬।

অনন্যা বলল,

“আর এক মিনিট।”

“হ্যাঁ।”

“তারপর?”

“তারপর চাঁদপুরা তোর সঙ্গে যা ঘটেছিল সেটা আবার দেখাবে।”

“কীভাবে?”

নির্মলবাবু বললেন,

“চল।”

“কোথায়?”

“পুকুরের কাছে।”

“আপনি তো এতক্ষণ—”

“আজ না গেলে তুই কোনওদিন জানতে পারবি না।”

দু’জন বাইরে বেরিয়ে এল।

আকাশ আগের মতো আলোয় ভরা।

গ্রামের কোনও মানুষ নেই।

সব বাড়ির দরজা বন্ধ।

সব জানলা বন্ধ।

কিন্তু প্রতিটি জানলার আড়াল থেকে যেন কেউ তাকিয়ে আছে।

পুকুরের কাছে পৌঁছতেই অনন্যা থেমে গেল।

জল একেবারে স্থির।

নির্মলবাবু বললেন,

“ঘড়ির দিকে তাকাস না।”

কিন্তু অনন্যা তাকিয়ে ফেলল।

২:১৭।

হঠাৎ—

চারপাশের সব শব্দ বন্ধ হয়ে গেল।

পাখি নেই।

ঝিঁঝিঁ নেই।

বাতাস নেই।

এমনকি নিজের নিঃশ্বাসের শব্দও নেই।

তারপর পুকুরের জলে একটা দৃশ্য ফুটে উঠল।

যেন জলটা আয়না হয়ে গেছে।

অনন্যা দেখল—

পনেরো বছর আগের রাত।

দু’টো ছোট মেয়ে দৌড়ে যাচ্ছে।

একজন অনন্যা।

আরেকজন মৌ।

মৌ কাঁদছে।

“দিদি, বাবা কোথায়?”

অনন্যা বলছে,

“বাবা আসবে।”

হঠাৎ দূরে একটা গাড়ির আলো।

তারপর একটা প্রচণ্ড শব্দ।

গাড়ি রাস্তার ধারে উলটে যায়।

দু’জন শিশু ভয়ে পুকুরের দিকে দৌড়ে যায়।

মৌ পিছলে পড়ে।

অনন্যা তাকে ধরতে যায়।

দু’জনেই জলে পড়ে।

অনন্যা চিৎকার করে—

“মৌ!”

মৌ হাত বাড়িয়ে বলে,

“দিদি!”

তারপর—

একটা বিশাল ঢেউ।

দৃশ্য অন্ধকার।

অনন্যা চোখ বন্ধ করে ফেলল।

“না…”

কিন্তু দৃশ্য থামল না।

সে দেখল—

নির্মলবাবু দৌড়ে আসছেন।

তার সঙ্গে আরও কয়েকজন গ্রামবাসী।

তারা প্রথমে মৌকে উদ্ধার করছে।

তারপর অনেকক্ষণ পর অনন্যাকেও।

কিন্তু তখন অনন্যা অচেতন।

মৌ জেগে আছে।

সে বারবার বলছে—

“আমার দিদিকে বাঁচান।”

তারপর একটা মানুষ এসে দাঁড়াল।

অনন্যার বাবা।

রক্তাক্ত।

কিন্তু জীবিত।

তিনি মৌকে কোলে তুলে নিলেন।

“ভয় পাস না।”

মৌ কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“দিদি?”

“দিদি বেঁচে আছে।”

তারপর দৃশ্য বদলে গেল।

একটা ছোট হাসপাতালের ঘর।

অনন্যা বিছানায়।

ডাক্তার বলছেন—

“মেয়েটা শারীরিকভাবে বেঁচে গেছে। কিন্তু ওর স্মৃতিতে সমস্যা হয়েছে।”

তার বাবা মাথা নিচু করে বসে।

মা কাঁদছেন।

মৌ দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে।

তার হাতে সেই লাল ফিতা।

সে ধীরে ধীরে বলছে,

“দিদি আমাকে চিনবে তো?”

দৃশ্য আবার বদলে গেল।

এবার হাসপাতালের করিডর।

একজন পুলিশ অফিসার তার বাবাকে বলছেন,

“দুর্ঘটনাটা দুর্ঘটনা নয়। গাড়ির ব্রেক কাটা হয়েছিল।”

অনন্যার বাবা বলছেন,

“আমি জানি কারা করেছে।”

পুলিশ বলল,

“প্রমাণ?”

“আমার কাছে আছে।”

তারপর—

একটা ছায়ামূর্তি করিডরের শেষে দাঁড়িয়ে।

অনন্যার বাবা তাকে দেখে চমকে ওঠেন।

দৃশ্য থেমে যায়।

অনন্যা চোখ খুলল।

“তারপর কী হয়েছিল?”

নির্মলবাবু বললেন,

“তোর বাবা সেই রাতেই নিখোঁজ হয়ে যান।”

“নিখোঁজ?”

“হ্যাঁ।”

“আর মা?”

“তোর মা তোকে নিয়ে কলকাতায় ফিরে যায়।”

“মৌ?”

নির্মলবাবু চুপ।

অনন্যা চিৎকার করে উঠল,

“মৌ কোথায়?”

হঠাৎ পেছন থেকে একটা মেয়ের গলা—

“এখানে।”

অনন্যা ঘুরে দাঁড়াল।

পুকুরের ওপারে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে।

লাল ফিতা।

ভেজা চুল।

কিন্তু এবার মেয়েটা আট বছরের নয়।

প্রায় তেইশ বছরের।

অনন্যারই সমবয়সী।

মেয়েটি ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।

অনন্যার ঠোঁট কাঁপল।

“মৌ?”

মেয়েটি হাসল।

“হ্যাঁ, দিদি।”

অনন্যা দৌড়ে গেল।

দু’জন একে অপরকে জড়িয়ে ধরল।

কেউ কথা বলতে পারল না।

শুধু কান্না।

পনেরো বছরের কান্না।


অনেকক্ষণ পরে মৌ বলল,

“তুই আমাকে ভুলে গিয়েছিলি।”

অনন্যা কাঁদতে কাঁদতে বলল,

“আমি জানতাম না।”

“আমি জানতাম তুই একদিন আসবি।”

“তুই কোথায় ছিলি?”

“এই গ্রামেই।”

“কেন?”

মৌ পুকুরের দিকে তাকাল।

“কারণ বাবা চেয়েছিল আমি এখানে থাকি।”

“বাবা?”

“হ্যাঁ।”

“বাবা বেঁচে আছে?”

মৌ মাথা নাড়ল।

“ছিল।”

অনন্যা থেমে গেল।

“ছিল?”

“কয়েক বছর আগে মারা গেছে।”

“তাহলে এতদিন আমাকে কেন জানাসনি?”

মৌ মৃদু হেসে বলল,

“আমি অনেকবার চেষ্টা করেছি।”

“কীভাবে?”

“রেকর্ডারে।”

অনন্যার চোখ বড় হয়ে গেল।

“আমার রেকর্ডার?”

“হ্যাঁ।”

“তুই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলি?”

“হ্যাঁ।”

“কিন্তু আমার নিজের গলা কেন শুনতাম?”

মৌ উত্তর দিল,

“কারণ তোর পুরনো রেকর্ডিংগুলো আমি ব্যবহার করেছিলাম।”

অনন্যা বুঝতে পারল।

গত রাতের রহস্যময় কণ্ঠগুলো কোনও অতিপ্রাকৃত শক্তি নয়।

তার নিজের পুরনো রেকর্ড করা কণ্ঠ।

কিন্তু প্রশ্নটা থেকেই গেল—

“আর আয়নায় যে মেয়েটাকে দেখেছিলাম?”

মৌ কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।

“ওটা আমি জানি না।”

অনন্যা তাকাল।

মৌ বলল,

“কিছু জিনিস এই গ্রামের সঙ্গে সত্যিই জড়িয়ে আছে।”

“কী জিনিস?”

“ভয়।”


সকালে সূর্য উঠল।

প্রথমবার অনন্যা চাঁদপুরায় সত্যিকারের সকাল দেখল।

সোনালি আলো পুকুরের জলে পড়েছে।

পাখিরা ডাকছে।

গ্রামের মানুষজন বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছে।

সবকিছু স্বাভাবিক।

নির্মলবাবু এসে বললেন,

“এবার তুই যেতে পারিস।”

অনন্যা বলল,

“মৌও যাবে।”

মৌ মাথা নাড়ল।

“হ্যাঁ।”

তারা দু’জনে বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়াল।

বাস এল।

অনন্যা জানলার পাশে বসল।

মৌ পাশে।

বাস ছাড়ার আগে অনন্যা শেষবার চাঁদপুরার দিকে তাকাল।

পুকুরটা দূরে।

তার জল শান্ত।

নির্মলবাবু হাত নাড়ছেন।

বাস চলতে শুরু করল।

অনন্যা ব্যাগ থেকে সেই পুরনো ঘড়িটা বের করল।

কাঁটা এখনও—

২:১৭।

সে মৃদু হেসে ঘড়িটা জানলার বাইরে ছুড়ে ফেলতে গেল।

ঠিক তখনই মৌ তার হাত ধরে ফেলল।

“ফেলিস না।”

“কেন?”

মৌ বলল,

“ওটা শুধু ঘড়ি নয়।”

“তাহলে?”

মৌ ঘড়িটার পেছনটা খুলে দিল।

ভেতরে একটা ছোট কাগজ ভাঁজ করা।

অনন্যা খুলল।

মাত্র এক লাইন—

“যে রাতের সত্যি সবাই জানে না, সেই রাত কখনও পুরোপুরি শেষ হয় না।”

অনন্যা কাগজটা পড়ে চুপ করে রইল।

তারপর কাগজটা ভাঁজ করে রেখে দিল।

বাস অনেক দূরে চলে গেছে।

চাঁদপুরা চোখের আড়ালে।

কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে—

অনন্যার ফোন বেজে উঠল।

স্ক্রিনে কোনও নম্বর নেই।

শুধু লেখা—

UNKNOWN

সে ফোন ধরল না।

মৌ বলল,

“ধরিস না।”

ফোন বন্ধ হয়ে গেল।

কয়েক সেকেন্ড পর আবার বেজে উঠল।

এইবার স্ক্রিনে একটা নাম ভেসে উঠল।

বাবা।

অনন্যা আর মৌ দু’জনেই একে অপরের দিকে তাকাল।

মৌয়ের মুখ সাদা হয়ে গেল।

“বাবা তো মারা গেছে।”

ফোন বাজতেই থাকল।

অনন্যা কাঁপা হাতে কলটা ধরল।

ওপাশে কয়েক সেকেন্ড কোনও শব্দ নেই।

তারপর খুব পরিচিত একটা পুরুষ কণ্ঠ—

“তোমরা চাঁদপুরা থেকে বেরিয়ে এসেছ?”

অনন্যার চোখে জল চলে এল।

“বাবা?”

ওপাশ থেকে উত্তর এল—

“হ্যাঁ।”

মৌ কাঁপতে কাঁপতে ফোনটা কেড়ে নিল।

“আপনি কোথায়?”

ওপাশ থেকে দীর্ঘ নীরবতা।

তারপর—

“যেখানে তোমাদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।”

কল কেটে গেল।

অনন্যা আর মৌ কিছুক্ষণ কথা বলতে পারল না।

বাস এগিয়ে চলেছে।

আর অনেক দূরে, চাঁদপুরার পুকুরের ধারে—

একজন মানুষ দাঁড়িয়ে।

তার হাতে একটা পুরনো ঘড়ি।

ঘড়ির কাঁটা ধীরে ধীরে নড়ল।

২:১৭ থেকে ২:১৮।

পনেরো বছর পর—

চাঁদপুরায় প্রথমবার রাতের সময় এক মিনিট এগোল।

কিন্তু সেই মানুষটি হাসল না।

সে শুধু আকাশের দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—

“এবার দ্বিতীয় রাত শুরু হবে।”

— সমাপ্ত —

উপন্যাস ৪ শেষ

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *