তৃতীয় পর্ব — শেষ যাত্রা
মোবাইলটা অর্কের হাত থেকে পড়ে গেল।
মায়ের শেষ কথাটা মাথার মধ্যে ঘুরছিল—
“তুই যাঁকে দেখেছিস, তিনি তোর বাবা নন।”
কিন্তু অর্ক নিজের চোখে দেখেছে।
সুব্রত সেন।
তার বাবা।
একই মুখ।
একই গলা।
শৈশবের সেই পরিচিত দৃষ্টি।
তাহলে মা মিথ্যে বলছেন?
নাকি নামহীন স্টেশনেই এমন কিছু ঘটেছে, যা তার যুক্তির বাইরে?
অর্ক ধীরে ধীরে চারপাশে তাকাল।
স্টেশন ফাঁকা।
ট্রেন নেই।
মেঘলা নেই।
শুধু একটা পুরনো ঘড়ি।
১১:৪৭।
সে ফাইলটা শক্ত করে বুকে চেপে ধরল।
তারপর হঠাৎ খেয়াল করল—
ফাইলের ভেতরে একটা কাগজ ছিল, যা সে আগে দেখেনি।
কাগজের ওপরে লেখা—
“দেবব্রত রায় কোথায় আছে—তা জানতে হলে মাধবপুরে ফিরে যাও।”
তার নিচে আরও একটা লাইন—
“এবার একা যেও না।”
অর্ক চারদিকে তাকাল।
কেউ নেই।
কিন্তু তার মনে হল, অন্ধকারের মধ্যে কেউ তাকে দেখছে।
পরদিন ভোরে অর্ক মাধবপুরে ফিরে এল।
স্টেশন তখন প্রায় ফাঁকা।
চায়ের দোকানের বৃদ্ধ তাকে দেখে চমকে উঠলেন।
“তুই ফিরেছিস?”
“হ্যাঁ।”
“ট্রেনে উঠেছিলি?”
অর্ক মাথা নাড়ল।
বৃদ্ধ কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,
“কাকে দেখেছিস?”
অর্ক সরাসরি বলল,
“আমার বাবাকে।”
বৃদ্ধের মুখ শক্ত হয়ে গেল।
“সুব্রত?”
“হ্যাঁ।”
“অসম্ভব।”
“আমার মাও বলেছে তিনি মারা গেছেন।”
বৃদ্ধ চুপ।
অর্ক বলল,
“আপনি জানতেন?”
“আমি অনেক কিছু জানি।”
“তাহলে বলুন।”
বৃদ্ধ একটা বেঞ্চে বসে পড়লেন।
“তোর বাবা মারা যায়নি।”
অর্কের চোখ বড় হয়ে গেল।
“তাহলে?”
“কিন্তু যাকে তুই নামহীন স্টেশনে দেখেছিস, সে তোর বাবা ছিল না।”
“আপনি কীভাবে জানেন?”
“কারণ তোর বাবা আমাকে একবার বলেছিল—যদি কখনও তুই সেই স্টেশনে পৌঁছাস, তাহলে বুঝব তুই এখনও বেঁচে আছিস।”
“এটা কী ধরনের কথা?”
বৃদ্ধ দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“তোর বাবা অনেক বছর ধরে একটা অপরাধের প্রমাণ খুঁজছিল।”
“দেবব্রত রায়?”
বৃদ্ধ মাথা নাড়লেন।
“হ্যাঁ।”
“সে কোথায়?”
“মাধবপুরেই।”
অর্ক চমকে উঠল।
“কোথায়?”
বৃদ্ধ স্টেশনের ওপারে একটা পুরনো রাস্তার দিকে তাকালেন।
“পুরনো সিগন্যাল বাংলোর কাছে।”
দুপুরে অর্ক সেখানে পৌঁছল।
বাংলোটা জঙ্গলের মধ্যে।
ভাঙা দেওয়াল।
জং ধরা জানলা।
দরজার ওপর একটা মরচে পড়া ফলক—
D. RAY
অর্ক দরজায় ধাক্কা দিল।
কেউ উত্তর দিল না।
সে দরজা ঠেলে খুলল।
ভেতরে একটা টেবিল।
দুটি চেয়ার।
দেয়ালে পুরনো রেল মানচিত্র।
আর টেবিলের ওপর একটা চশমা।
অর্ক চশমাটা তুলে নিল।
ঠিক তখন পিছন থেকে গলা—
“ওটা নামিয়ে রাখো।”
অর্ক ঘুরে দাঁড়াল।
একজন বৃদ্ধ লোক দরজায় দাঁড়িয়ে।
সাদা চুল।
পাতলা শরীর।
চোখে গভীর ক্লান্তি।
অর্ক বলল,
“আপনি দেবব্রত রায়?”
লোকটি উত্তর দিলেন না।
“মেঘলার মৃত্যুর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কী?”
বৃদ্ধের মুখ কেঁপে উঠল।
“মেঘলা…”
“হ্যাঁ।”
“তুমি অর্ক?”
অর্ক স্তব্ধ।
“আপনি আমার নাম জানেন?”
“তোমাকে আমি ছোটবেলা থেকেই চিনি।”
“তাহলে সত্যিটা বলুন।”
দেবব্রত ধীরে ধীরে চেয়ারে বসলেন।
“তোমার বাবা আর আমি একই প্রকল্পে কাজ করতাম। প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছিল। আমি জড়িত ছিলাম।”
“আপনি?”
“হ্যাঁ।”
“মেঘলা সেটা জানতে পেরেছিল?”
“হ্যাঁ।”
“তাই তাকে মেরে ফেলেছিলেন?”
দেবব্রত মাথা নিচু করলেন।
“না।”
অর্ক থেমে গেল।
“তাহলে কে?”
দেবব্রত একটা পুরনো ফাইল বের করলেন।
“মেঘলা মারা যাওয়ার রাতে আমি তাকে থামাতে গিয়েছিলাম।”
“কেন?”
“কারণ সে এমন কিছু জানত, যা জানলে শুধু আমি নয়, আরও অনেক বড় মানুষ ধরা পড়ত।”
“আপনি তাকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে কী হয়েছিল?”
দেবব্রত চোখ বন্ধ করলেন।
“সেদিন রাতে মেঘলা স্টেশনে এসেছিল। তার কাছে নথি ছিল। আমি তাকে অনুসরণ করছিলাম।”
“তারপর?”
“তোমার বাবাও সেখানে পৌঁছে যায়।”
অর্কের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।
“বাবা?”
“হ্যাঁ।”
“তারপর?”
“তোমরা দু’জন—তুমি আর মেঘলা—আগেই সেখানে ছিলে।”
অর্ক চোখ বন্ধ করল।
মনে পড়ল—
বৃষ্টি।
রাগ।
মেঘলার কণ্ঠ।
“অর্ক, আমাকে বিশ্বাস করো।”
দেবব্রত বললেন,
“তুমি মেঘলাকে সন্দেহ করেছিলে। তুমি ভেবেছিলে সে তোমার বাবার বিরুদ্ধে প্রমাণ নষ্ট করতে এসেছে।”
“কিন্তু সে তো প্রমাণ বাঁচাতে এসেছিল!”
“হ্যাঁ।”
“আমি ভুল বুঝেছিলাম।”
“হ্যাঁ।”
“তারপর ট্রেন?”
দেবব্রত মাথা নাড়লেন।
“ওই ট্রেনটা সরকারি সময়সূচির ট্রেন ছিল না।”
“তাহলে?”
“আমি একটা পুরনো মালগাড়ির রুট ব্যবহার করে লোকজনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলাম।”
অর্ক তাকিয়ে রইল।
“কেন?”
“প্রমাণগুলো নিয়ে মেঘলাকে নিরাপদ জায়গায় পাঠাতে।”
“কিন্তু ট্রেন এসে গেল?”
“হ্যাঁ।”
“আর মেঘলা?”
“তুমি লাইনের পাশে পড়ে গিয়েছিলে। মেঘলা তোমাকে সরিয়ে দেয়।”
অর্কের চোখ ভিজে গেল।
“তারপর?”
“মেঘলা নিজে সরে যেতে পারেনি।”
দেবব্রত মাথা নিচু করলেন।
“ট্রেন তাকে নিয়ে যায়।”
ঘরটা নিস্তব্ধ।
অর্ক বলল,
“তাহলে এটা দুর্ঘটনা।”
“হ্যাঁ।”
“কিন্তু সবাই কেন বলেছিল আমি ওকে মেরেছি?”
দেবব্রত দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“কারণ পরের ঘটনাগুলো অনেক বেশি ভয়ঙ্কর।”
দেবব্রত একটা পুরনো সংবাদপত্র বের করলেন।
শিরোনাম—
“কিশোরী রেল দুর্ঘটনায় নিহত।”
অর্ক খবরটা পড়ল।
কিন্তু তার নিচে আরেকটা খবর ছিল।
“রেল প্রকল্পের নথি নিখোঁজ।”
দেবব্রত বললেন,
“মেঘলার কাছে থাকা নথি আর পাওয়া যায়নি।”
“কোথায় গেল?”
“তোমার বাবা লুকিয়ে ফেলেছিলেন।”
“কেন?”
“কারণ তিনি বুঝেছিলেন, তোমাদের দু’জনের জীবন বিপদে।”
“তারপর?”
“তিনি তোমাকে কলকাতায় পাঠান।”
“আর মেঘলা?”
দেবব্রত ধীরে বললেন,
“মেঘলা মারা যায়।”
অর্ক চোখ নামিয়ে ফেলল।
“কিন্তু ট্রেনটা?”
“ট্রেনটা সেই রাতের স্মৃতি।”
“মানে?”
“সেই দুর্ঘটনার সঙ্গে জড়িত লোকজনের অপরাধবোধ, ভয় আর অসমাপ্ত সত্যের কারণে ট্রেনটার গল্প তৈরি হয়েছিল।”
অর্ক বলল,
“তাহলে আমি যে ট্রেনে উঠলাম?”
দেবব্রত তার দিকে তাকালেন।
“তুমি সত্যিই ট্রেনে উঠেছিলে।”
“কীভাবে?”
“এই প্রশ্নের উত্তর আমার কাছে নেই।”
হঠাৎ ঘরের দরজায় শব্দ হল।
দু’জনেই তাকাল।
দরজায় দাঁড়িয়ে—
অর্কের মা।
অর্ক অবাক হয়ে গেল।
“মা!”
তিনি ধীরে ধীরে ঘরে ঢুকলেন।
চোখে জল।
“তুই এখানে আসবি জানতাম।”
অর্ক বলল,
“তুমি এতদিন আমাকে সত্যিটা বলোনি কেন?”
মা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকলেন।
“কারণ তোর বাবা আমাকে বলেছিলেন, তুই যদি সব মনে রাখিস, তুই নিজেকে দোষী ভাববি।”
“আমি তো এখন সব জেনে গেছি।”
মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
“তোর বাবা বেঁচে ছিলেন। কিন্তু তিনি আর বাড়ি ফেরেননি।”
“কেন?”
“কারণ তিনি দেবব্রত আর অন্যদের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করছিলেন।”
দেবব্রত মাথা নিচু করলেন।
“শেষ পর্যন্ত প্রমাণগুলো পুলিশের হাতে গিয়েছিল।”
অর্ক তাকাল।
“তাহলে?”
মা বললেন,
“তোর বাবা কয়েক বছর পর অসুস্থ হয়ে মারা যান।”
অর্ক থমকে গেল।
“কোথায়?”
“একটা পাহাড়ি শহরে।”
“তুমি বলেছিলে গাড়ি দুর্ঘটনা।”
মা চোখ নামিয়ে বললেন,
“আমি মিথ্যে বলেছিলাম।”
“কেন?”
“কারণ আমি চেয়েছিলাম তুই স্বাভাবিক জীবন যাপন করিস।”
অর্ক কিছু বলল না।
তারপর মৃদু গলায় জিজ্ঞেস করল,
“নামহীন স্টেশনে আমি যাকে দেখেছি?”
মা তাকালেন।
“তোর বাবা?”
“হ্যাঁ।”
মা ধীরে ধীরে মাথা নাড়লেন।
“তুই হয়তো তাঁকে দেখেছিস।”
“মানে?”
“কিছু মানুষকে আমরা চোখে দেখি না। স্মৃতির মধ্যে দেখি।”
অর্ক উত্তর দিল না।
সন্ধ্যা নেমে গেল।
অর্ক আবার মাধবপুর স্টেশনে ফিরল।
আজ ১৭ অক্টোবর।
বারো বছর আগে যে রাতে মেঘলা মারা গিয়েছিল।
স্টেশনে লোকজন জমেছে।
কেউ জানে না কেন।
ঘড়ির কাঁটা এগোচ্ছে।
১১:৩০।
১১:৩৫।
১১:৪০।
অর্ক প্ল্যাটফর্মের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে।
তার হাতে মেঘলার পুরনো লাল ডায়েরি।
আজ ডায়েরির সব পাতা সাদা।
শুধু শেষ পাতায় একটা বাক্য—
“আমাকে আর খুঁজো না।”
অর্ক চোখ বন্ধ করল।
“মেঘলা।”
বাতাসে একটা মৃদু শব্দ।
“অর্ক।”
সে চোখ খুলল।
প্ল্যাটফর্মের ওপারে মেঘলা দাঁড়িয়ে।
আজ সে সাদা পোশাক পরেনি।
সাধারণ নীল পোশাক।
মুখে শান্ত হাসি।
অর্ক ধীরে ধীরে এগিয়ে গেল।
“তুমি এসেছ?”
মেঘলা বলল,
“তুমি আমাকে খুঁজতে এসেছিলে।”
“আমি তোমাকে ভুলে গিয়েছিলাম।”
“তুমি আমাকে ভুলোনি।”
“তাহলে?”
“তুমি নিজেকে ক্ষমা করতে পারোনি।”
অর্কের চোখ ভিজে গেল।
“আমি তোমাকে বাঁচাতে পারিনি।”
মেঘলা মাথা নাড়ল।
“তুমি আমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলে।”
“কিন্তু—”
“কোনও কোনও মানুষকে আমরা জীবনে রাখতে পারি না।”
“তাহলে এতদিন তুমি ট্রেনে ছিলে কেন?”
মেঘলা মৃদু হাসল।
“হয়তো তুমি আমাকে যেতে দাওনি।”
অর্ক চুপ।
“আজ আমাকে যেতে দাও।”
দূরে হুইসেল।
১১:৪৭।
পুরনো ট্রেন আবার এল।
কিন্তু আজ অর্ক ভয় পেল না।
মেঘলা ট্রেনে উঠল।
দরজায় দাঁড়িয়ে বলল,
“শেষ স্টেশন বলে কিছু নেই, অর্ক।”
“তাহলে?”
“যতক্ষণ কেউ আমাদের মনে রাখে, কোনও যাত্রাই পুরোপুরি শেষ হয় না।”
অর্ক হাসল।
“আমি তোমাকে মনে রাখব।”
মেঘলা মাথা নাড়ল।
“তাহলে এবার আমি যেতে পারি।”
ট্রেন ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল।
অর্ক দেখল, কামরার জানলায় মেঘলা দাঁড়িয়ে আছে।
তারপর আলোটা দূরে সরে গেল।
আর একসময়—
কিছুই নেই।
পুরনো রেললাইন।
নীরবতা।
রাতের আকাশ।
অর্ক ঘড়ির দিকে তাকাল।
১১:৪৮।
প্রথমবার ট্রেন চলে যাওয়ার পর সময় এগিয়ে গেছে।
সে বুঝল—
যাত্রাটা শেষ হয়েছে।
ছয় মাস পরে।
কলকাতা।
অর্ক একটা বই প্রকাশ করেছে।
নাম—
“শেষ স্টেশনের আগে”
বইটির প্রথম পাতায় লেখা—
“যারা চলে যায়, তারা সবসময় হারিয়ে যায় না। কিছু মানুষ আমাদের স্মৃতির ভেতর এমন একটা স্টেশন বানিয়ে যায়, যেখানে আমরা মাঝে মাঝে ফিরে যাই। কিন্তু একদিন সেই স্টেশন থেকেও বিদায় নিতে হয়।”
বইয়ের শেষ অধ্যায়ে অর্ক মেঘলার সত্যি লিখেছে।
রেল প্রকল্পের দুর্নীতি প্রকাশিত হয়েছে।
দেবব্রত রায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।
মেঘলার নাম সরকারি নথিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে।
দুর্ঘটনায় নিহত এক অজ্ঞাতপরিচয় কিশোরীর বদলে—
মেঘলা সেন।
একজন মানুষ।
একজন বন্ধু।
একজন সাহসী মেয়ে।
যে নিজের জীবন দিয়ে সত্যিটাকে বাঁচিয়ে রেখেছিল।
অর্ক মাঝে মাঝে মাধবপুরে যায়।
স্টেশনটা এখন বদলে গেছে।
পুরনো লাইন তুলে ফেলা হয়েছে।
সেখানে নতুন ঘাস জন্মেছে।
চায়ের দোকানের বৃদ্ধ আর নেই।
স্টেশনের দেওয়ালে একটা ছোট ফলক লাগানো হয়েছে—
“মেঘলা স্মৃতি উদ্যান”
অর্ক সেখানে দাঁড়িয়ে থাকে।
কখনও কখনও তার মনে হয়, দূরে হুইসেল শুনছে।
কিন্তু সে আর ফিরে তাকায় না।
কারণ সে জানে—
কিছু ট্রেনের দিকে শেষবার তাকিয়ে থাকতে হয় না।
তাদের যেতে দিতে হয়।
একদিন সন্ধ্যায় অর্ক উদ্যানের বেঞ্চে বসে লাল ডায়েরিটা খুলল।
এবার প্রথম পাতায় নতুন একটা লেখা দেখা গেল।
তার নিজের হাতের লেখা।
“মেঘলা, এবার তুমি সত্যিই মুক্ত।”
অর্ক মৃদু হাসল।
ডায়েরিটা বন্ধ করল।
তারপর উঠে দাঁড়াল।
পেছনে সূর্য ডুবছে।
রেললাইনের ওপর শেষ আলো পড়েছে।
কোনও ট্রেন নেই।
কোনও হুইসেল নেই।
কোনও অদৃশ্য যাত্রী নেই।
শুধু বাতাস।
আর সেই বাতাসের মধ্যে যেন খুব দূর থেকে একটা মেয়ের গলা ভেসে এল—
“বিদায়, অর্ক।”
অর্ক চোখ বন্ধ করে উত্তর দিল,
“বিদায়, মেঘলা।”
তারপর সে বাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করল।
এইবার পিছনে তাকাল না।
কারণ সে জানত—
কিছু ভালোবাসার শেষ মানে বিচ্ছেদ নয়।
কিছু শেষ মানে মুক্তি।
আর কিছু ট্রেন—
চিরকাল অপেক্ষা করে না।
— সমাপ্ত —