দ্বিতীয় পর্ব : যে মানুষটি ফিরে এসেছিল
দরজায় আবার কড়া নাড়ার শব্দ হল।
ঠক।
ঠক।
ঠক।
অভীক আর হরিপদ দুজনেই স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে।
বাড়ির ভেতর যেন হঠাৎ সব শব্দ থেমে গেছে।
ঘড়ির কাঁটার টিকটিক শব্দটাও অস্বাভাবিক জোরে শোনা যাচ্ছে।
হরিপদ ফিসফিস করে বললেন,
—দরজা খুলিস না।
অভীক তাকালেন তাঁর দিকে।
—কিন্তু বাইরে কে?
—আমি জানি না।
—আপনি তো বললেন লোকটা এসেছে।
—বলেছি।
—তাহলে কে?
হরিপদ উত্তর দিলেন না।
নিচে আবার কড়া নাড়া হল।
এবার সঙ্গে একটা গলা—
—হরিপদদা, দরজা খুলুন।
হরিপদ হঠাৎ পিছিয়ে গেলেন।
অভীক বুঝতে পারল, এই কণ্ঠস্বর তিনি চেনেন।
—কে?
বাইরে থেকে উত্তর এল,
—আমি রণেন।
হরিপদ ফিসফিস করে বললেন,
—অসম্ভব।
—কেন?
—রণেন তো মারা গেছে।
অভীক চমকে উঠল।
—কত বছর আগে?
—চৌদ্দ বছর।
দুজনের চোখাচোখি হল।
অভীক ধীরে বলল,
—তাহলে বাইরে কে?
কোনো উত্তর নেই।
কিছুক্ষণ পর দরজার নিচ দিয়ে একটা খাম ভেতরে ঢুকে এল।
হরিপদ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলেন।
অভীক এগিয়ে গিয়ে খামটা তুলে নিল।
সামনে লেখা—
“অভীকের জন্য।”
ভেতরে মাত্র একটা ছবি।
পুরনো নদীর ছবি।
তারিখ—
১৬ নভেম্বর ২০০৯।
ছবির এক পাশে অয়ন দাঁড়িয়ে।
আর তার পাশে একজন পুরুষ।
অভীক ছবিটা হাতে নিয়ে জমে গেল।
পুরুষটিকে সে চিনতে পারল।
রণেন মুখোপাধ্যায়।
অয়নের স্কুলের শিক্ষক।
যিনি নাকি অয়ন নিখোঁজ হওয়ার মাত্র এক বছর পর হৃদরোগে মারা গিয়েছিলেন।
কিন্তু ছবির পেছনে আরও একটা কথা লেখা ছিল—
“যাকে মৃত ভাবছিস, সে মৃত নয়।”
হঠাৎ দরজায় প্রচণ্ড ধাক্কা পড়ল।
হরিপদ বললেন,
—পেছনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে চল।
অভীক ছবি আর ক্যাসেটগুলো নিয়ে নিল।
দুজনেই বাড়ির পেছনের সরু পথ দিয়ে বেরিয়ে এল।
কুয়াশায় কিছুই দেখা যাচ্ছে না।
হরিপদ দ্রুত হাঁটছেন।
অভীক পেছনে তাকিয়ে দেখল—
চৌধুরী বাড়ির বারান্দায় একজন দাঁড়িয়ে।
কালো চাদর।
মাথায় টুপি।
মুখ দেখা যাচ্ছে না।
কিন্তু লোকটা হাত তুলে একটা ইশারা করল।
তারপর কুয়াশার মধ্যে মিলিয়ে গেল।
হরিপদের বাড়ি খুব দূরে নয়।
সেখানে পৌঁছে দরজা বন্ধ করেই তিনি একটা পুরনো কাঠের বাক্স বের করলেন।
—এবার তোকে সব বলতে হবে।
অভীক চুপ করে দাঁড়িয়ে।
হরিপদ বাক্সটা খুললেন।
ভেতরে পুরনো কাগজপত্র।
একটা স্কুলের রেজিস্টার।
কিছু ছবি।
আর একটা ছোট ডায়েরি।
—এগুলো অয়নের।
অভীক ডায়েরিটা খুলল।
প্রথম কয়েক পাতা সাধারণ।
স্কুলের কথা।
বন্ধুদের কথা।
নদীর কথা।
তারপর ২০০৯ সালের অক্টোবর মাসের একটা লেখা—
“রণেন স্যার আমাকে একটা অদ্ভুত কথা বলেছেন। উনি বলেছেন, বাবা-মা সবাইকে সব কথা বলা যায় না।”
আরেকটি পাতায়—
“দাদা আমাকে বলেছিল নদীর কাছে না যেতে। কিন্তু রণেন স্যার বললেন, নদীর ওপারে গেলে আমি এমন একটা জিনিস দেখতে পাব, যেটা দেখলে দাদা আর কখনও আমাকে ছোট ভাববে না।”
অভীক থমকে গেল।
—রণেন স্যার অয়নকে নদীর ওপারে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন?
হরিপদ বললেন,
—সম্ভবত।
—তাহলে কাকা?
—তোর কাকা জানতেন।
—কী জানতেন?
হরিপদ মুখ নামিয়ে বললেন,
—রণেনের সঙ্গে অয়নের দেখা করার কথা ছিল।
অভীক হঠাৎ উঠে দাঁড়াল।
—তাহলে কাকা আমাকে এত বছর মিথ্যে বললেন কেন?
—কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন।
—কাকে?
হরিপদ কোনো উত্তর দিলেন না।
অভীক ডায়েরির পাতা উল্টাতে থাকল।
শেষ পাতায় শুধু একটা লাইন।
“দাদা, যদি আমি ফিরে না আসি, তাহলে উত্তরের ঘরে রাখা নীল ফাইলটা খুঁজে নিস।”
অভীক চোখ বন্ধ করল।
নীল ফাইল।
উত্তরের ঘর।
অয়নের ক্যাসেট।
সবকিছু যেন একই জায়গায় এসে মিশছে।
সন্ধ্যার আগেই তারা আবার চৌধুরী বাড়িতে ফিরল।
এইবার অভীক একাই উত্তরের ঘরে ঢুকল।
হরিপদ বাইরে দাঁড়িয়ে।
ঘরের প্রতিটি জিনিস খুঁজতে শুরু করল অভীক।
টেবিল।
আলমারি।
বইয়ের তাক।
খাটের নিচে।
কোথাও নীল ফাইল নেই।
শেষে তার চোখ পড়ল জানালার পাশে কাঠের প্যানেলের দিকে।
প্যানেলটা অন্যগুলোর তুলনায় একটু উঁচু।
সে চাপ দিতেই একটা অংশ খুলে গেল।
ভেতরে ছোট একটা গোপন তাক।
সেখানে সত্যিই একটা নীল ফাইল।
অভীক ফাইলটা বের করল।
ভেতরে ছিল—
জমির নথি।
কিছু ছবি।
ব্যাংকের লেনদেনের কাগজ।
আর একটা টাইপ করা রিপোর্ট।
শিরোনাম—
“মাধবপুর নদীতীর উন্নয়ন প্রকল্প — গোপন আর্থিক নথি।”
অভীক পড়তে শুরু করল।
রূপসাগর নয়, মাধবপুরের নদীর তীরজুড়ে একটা বড় পর্যটন প্রকল্প করার পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু প্রকল্পের জন্য যেসব জমি দরকার, সেগুলোর মালিকেরা জমি বিক্রি করতে রাজি ছিলেন না।
তাই কয়েকজন দালাল ভুয়ো কাগজ তৈরি করে জমি দখলের চেষ্টা করছিল।
নথির শেষে কয়েকটি নাম।
দেবাশিস মল্লিক।
রণেন মুখোপাধ্যায়।
আর—
অরুণ চৌধুরী।
অভীক স্তব্ধ।
তার কাকার নামও সেখানে।
কিন্তু পাশে লেখা—
“অভ্যন্তরীণ তথ্য সরবরাহকারী।”
অর্থাৎ কাকা চক্রের সদস্য ছিলেন না।
বরং তাদের বিরুদ্ধে তথ্য দিচ্ছিলেন।
অভীক আরও পড়ল।
একটা নোট—
“রণেন প্রকল্পের হিসাব সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানে। অয়ন ঘটনাটি দেখে ফেলেছে।”
অভীক ফাইলটা শক্ত করে ধরল।
অয়ন কী দেখেছিল?
ঠিক তখনই দরজার বাইরে শব্দ।
হরিপদ বললেন,
—অভীক!
অভীক বাইরে বেরিয়ে এল।
করিডোরের শেষ দিকে একটা ছায়া।
লোকটা ধীরে ধীরে এগিয়ে এল।
এবার মুখ দেখা গেল।
অভীক স্তব্ধ।
লোকটি বয়স্ক হয়েছে।
চুল পেকে গেছে।
চোখের পাশে বলিরেখা।
কিন্তু মুখটা স্পষ্ট।
রণেন মুখোপাধ্যায়।
হরিপদ পিছিয়ে গেলেন।
—আপনি?
রণেন মৃদু হাসলেন।
—হ্যাঁ।
অভীক এগিয়ে গেল।
—আপনি মারা যাননি?
—না।
—তাহলে সবাইকে কেন বলা হয়েছিল আপনি মারা গেছেন?
রণেন দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
—কারণ আমাকে মৃত থাকতে হয়েছিল।
—কেন?
—বাঁচার জন্য।
অভীক চিৎকার করে উঠল,
—অয়ন কোথায়?
রণেন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন,
—তোর ভাই বেঁচে আছে।
অভীকের চোখে জল চলে এল।
—কোথায়?
—সেটা আমি এখনই বলতে পারব না।
—কেন?
—কারণ তুই এখনও পুরো সত্যিটা জানিস না।
অভীক রাগে কাঁপছিল।
—পনেরো বছর ধরে আমি একটা মিথ্যের মধ্যে বেঁচে আছি। এখনো আপনি বলছেন পুরো সত্যি জানি না?
রণেন ধীরে বললেন,
—অয়নকে কেউ হত্যা করেনি।
—তাহলে?
—তাকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
—কে?
রণেনের চোখ হরিপদের দিকে গেল।
—তোর কাকা।
অভীক হরিপদের দিকে তাকাল।
হরিপদ চোখ নামিয়ে ফেললেন।
—কেন?
রণেন বললেন,
—কারণ অয়ন এমন একটা জিনিস দেখে ফেলেছিল, যেটা প্রকাশ হলে অনেক বড় মানুষ জেলে যেত।
—কী জিনিস?
রণেন বললেন,
—একটা দুর্ঘটনা।
অভীক থমকে গেল।
—কোন দুর্ঘটনা?
—তোর বাবার।
অভীক যেন কিছু বুঝতে পারল না।
—আমার বাবা তো বহু বছর আগেই মারা গেছেন।
—আমি জানি।
—তাহলে?
রণেন বললেন,
—তোর বাবা মারা যাওয়ার আগের রাতে একটা বাস দুর্ঘটনা ঘটেছিল।
অভীক মনে করার চেষ্টা করল।
কিছুই মনে পড়ল না।
রণেন বললেন,
—সেই বাসে এমন কিছু নথি যাচ্ছিল, যেগুলো মাধবপুরের জমি দখলের চক্রকে ধ্বংস করে দিতে পারত।
—তারপর?
—বাসটা নদীর সেতুর কাছে দুর্ঘটনায় পড়ে।
—কেউ মারা গিয়েছিল?
—তিনজন।
রণেন একটু থামলেন।
—কিন্তু দুর্ঘটনার পরে নথিগুলো আর পাওয়া যায়নি।
অভীক বলল,
—অয়ন সেটা দেখেছিল?
—হ্যাঁ।
—কীভাবে?
—অয়ন সেদিন নদীর ধারে ছিল।
তারপর রণেন ধীরে বললেন,
—আর সে দেখেছিল, দুর্ঘটনার পরে একজন মানুষ বাস থেকে নথির বাক্স বের করে নিয়ে যাচ্ছে।
অভীকের গলা শুকিয়ে গেল।
—কে?
রণেন বললেন,
—তোর কাকা নয়।
—তাহলে?
রণেন তার দিকে তাকিয়ে বললেন,
—যে মানুষটা এখনো তোর পরিবারের সবচেয়ে কাছের একজন বলে পরিচয় দেয়।
অভীক কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তার মাথায় একের পর এক মুখ ভেসে উঠছে।
কিন্তু কোন মুখ?
কাকা?
হরিপদ?
রণেন?
আর কেউ?
রণেন বললেন,
—অয়নকে আমি নদীর ওপার থেকে তুলে এনেছিলাম।
—তারপর?
—আমি বুঝেছিলাম ওকে খুঁজতে লোক আসবে।
—তাই ওকে লুকিয়ে রাখলেন?
—হ্যাঁ।
—কোথায়?
রণেন উত্তর দিলেন না।
—আমি ওকে নিরাপদ জায়গায় পাঠিয়েছিলাম।
—কোথায়?
রণেন বললেন,
—কলকাতার বাইরে।
অভীক এগিয়ে গেল।
—ও কি জানে আমি ওকে খুঁজছি?
রণেন মাথা নাড়লেন।
—জানে।
—তাহলে আমার কাছে আসছে না কেন?
রণেনের মুখ ভারী হয়ে গেল।
—কারণ ওর একটা শর্ত আছে।
—কী শর্ত?
—তুই যেন আগে সত্যিটা জানতে পারিস।
—কোন সত্যি?
রণেন বললেন,
—তোর কাকার মৃত্যুর সত্যি।
ঘরটা হঠাৎ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।
অভীক ফিসফিস করে বলল,
—কাকা তো স্বাভাবিকভাবেই মারা গেছেন।
রণেন মাথা নাড়লেন।
—না।
—তাহলে?
—ওকে মারা হয়েছে।
হরিপদ হঠাৎ বলে উঠলেন,
—রণেন, আর নয়।
রণেন তার দিকে তাকালেন।
—এত বছর চুপ থেকেছি, হরিপদদা। আর কত?
অভীক ধীরে ধীরে বলল,
—কাকাকে কে মেরেছে?
রণেন উত্তর দিলেন না।
বরং বললেন,
—আজ রাতে তুই ঘুমাবি না।
—কেন?
—কারণ তোর কাকা যে জিনিসটা রেখে গেছে, সেটা খুঁজতে আজ রাতেই লোক আসবে।
অভীক অবাক হয়ে তাকাল।
—কী জিনিস?
রণেন বললেন,
—অয়নের আসল পরিচয়।
অভীক হতভম্ব।
—মানে?
রণেন তার দিকে তাকিয়ে বললেন,
—অয়ন শুধু তোর ভাই নয়।
—তাহলে?
—ও এমন একটা ঘটনার জীবন্ত সাক্ষী, যেটা পনেরো বছর ধরে অনেক মানুষকে ভয় দেখিয়ে রেখেছে।
রণেন চলে যাওয়ার আগে একটা ছোট কাগজ দিলেন।
তাতে একটি ঠিকানা।
মাধবপুর থেকে প্রায় চল্লিশ কিলোমিটার দূরে।
একটি ছোট পাহাড়ি শহরের নাম।
নবগ্রাম।
আর নিচে একটি নাম—
অর্ক সেন।
অভীক জিজ্ঞেস করল,
—এটা কার নাম?
রণেন বললেন,
—অয়নের নতুন নাম।
অভীক কাগজটা শক্ত করে ধরল।
—আমি কি ওর সঙ্গে দেখা করতে পারব?
—পারবি।
—কখন?
রণেন দরজার দিকে হাঁটতে হাঁটতে বললেন,
—আগামীকাল।
তারপর থেমে গেলেন।
—কিন্তু তার আগে আজ রাতটা পার করতে হবে।
রণেন চলে গেলেন।
বাড়িতে আবার নীরবতা।
অভীক জানালার কাছে দাঁড়াল।
বাইরে কুয়াশা।
দূরে নদী দেখা যাচ্ছে না।
হরিপদ ধীরে এসে বললেন,
—তুই সত্যিই ওকে খুঁজতে যাবি?
অভীক বলল,
—হ্যাঁ।
—তাহলে একটা কথা মনে রাখিস।
—কী?
—সবাই যে তোকে সাহায্য করছে, এমন ভাবিস না।
অভীক ঘুরে তাকাল।
—আপনিও?
হরিপদ উত্তর দিলেন না।
রাত বারোটা পেরিয়ে গেছে।
অভীক উত্তরের ঘরে বসে নীল ফাইল পড়ছে।
হঠাৎ নিচতলা থেকে একটা শব্দ এল।
কাঁচ ভাঙার শব্দ।
সে উঠে দাঁড়াল।
তারপর পায়ের শব্দ।
একজন।
না—
দুজন।
অভীক দরজার কাছে গিয়ে দাঁড়াল।
করিডোরে আলো নেই।
নিচে কারা যেন ফিসফিস করছে।
একটা গলা বলল,
—ফাইলটা খুঁজে বের কর।
অন্যজন বলল,
—ছেলেটা কোথায়?
অভীকের বুক ধক করে উঠল।
সে দ্রুত নীল ফাইলটা ব্যাগে ঢুকিয়ে ফেলল।
তারপর জানালার দিকে তাকাল।
জানালাটা বাইরে থেকে বন্ধ।
কিন্তু কাঠের প্যানেলের নিচে একটা সরু ফাঁক।
অভীক সেটা সরাতেই একটা ছোট ধাতব বাক্স বেরিয়ে এল।
বাক্সের ভেতরে—
একটা ছবি।
একটা পুরনো পরিচয়পত্র।
আর একটা চিঠি।
চিঠির ওপর লেখা—
“দাদা, এবার আমাকে খুঁজে নিস।”
অভীক কাঁপা হাতে চিঠিটা খুলল।
মাত্র তিনটি লাইন।
“আমি অর্ক নই।
আমি অয়ন।
আর আমি জানি, আমাদের বাবাকে কে মেরেছিল।”
ঠিক সেই মুহূর্তে নিচ থেকে দরজা ভাঙার শব্দ এল।
অভীক জানালার দিকে তাকাল।
কুয়াশার মধ্যে দূরে একজন দাঁড়িয়ে।
সে মুখ তুলে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে আছে।
তার হাতে একটা কালো ব্যাগ।
আর তার কবজিতে—
একটা পুরনো ঘড়ি।
রুপোর চেন।
অভীকের মনে হল, এই ঘড়িটা সে আগে কোথাও দেখেছে।
কিন্তু কোথায়?
তারপর হঠাৎ তার মনে পড়ল—
ছোটবেলার একটা ছবি।
বাবার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন মানুষ।
আর সেই মানুষটির হাতে ঠিক একই ঘড়ি।
অভীক ফিসফিস করে বলল,
—না…
তারপর ছবিটা হাতে নিয়ে আলোয় ধরল।
ছবির মানুষটির মুখ স্পষ্ট।
রণেন নয়।
হরিপদ নয়।
অরুণ কাকাও নয়।
অভীক মানুষটাকে চিনতে পারল।
তার নিজের পরিবারের একজন।
যাকে সে এখনও সবচেয়ে বেশি বিশ্বাস করে।
তারপরই বাইরে থেকে একটা গলা ভেসে এল—
—অভীক, দরজা খোল।
সেই কণ্ঠস্বর খুব পরিচিত।
এবং সেই কণ্ঠস্বর শুনেই অভীক বুঝল—
কুয়াশার বাড়ির আসল রহস্য এখনও শুরুই হয়নি।
চলবে…