Categories
গল্প বিবিধ

শেষ মাটির বাঁধ।।।

কুসুমডাঙা গ্রামটি ছিল একটি বড় পুকুরের পাশে। পুকুরটির নাম ছিল রত্নসাগর। গ্রামের বয়স্ক মানুষদের মতে, প্রায় একশো বছর আগে তাঁদের পূর্বপুরুষেরা নিজের হাতে মাটি কেটে পুকুরটি তৈরি করেছিলেন। পুকুরের জল দিয়ে চাষ হত, গরু-ছাগল জল খেত, আর গ্রীষ্মকালে গ্রামের মানুষও এই পুকুরের ওপর অনেকটাই নির্ভর করতেন।

পুকুরের পশ্চিম দিকে ছিল একটি লম্বা মাটির বাঁধ। সেই বাঁধের ওপর দিয়ে গ্রামের মানুষ হেঁটে বাজারে যেতেন। শিশুরা স্কুলে যেত, কৃষকেরা মাঠে যেতেন, আর সন্ধ্যায় বৃদ্ধেরা সেখানে বসে গল্প করতেন।

সেই গ্রামে থাকত ষোলো বছরের ছেলে সৌরভ। তার বাবা নিতাই মণ্ডল ছিলেন কৃষক। সংসারে অভাব ছিল, কিন্তু সৌরভের মন ছিল সাহসে ভরা। সে পড়াশোনার পাশাপাশি বাবাকে মাঠের কাজে সাহায্য করত।

সৌরভের ঠাকুরদা একসময় গ্রামের পুকুর ও জলাশয় দেখাশোনার কাজে যুক্ত ছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, “জলকে শুধু সম্পদ ভাবলে চলবে না, সৌরভ। জলকে ধরে রাখার ব্যবস্থাটাও রক্ষা করতে হয়।”

সৌরভ ছোটবেলায় কথাটির গুরুত্ব বুঝত না। কিন্তু এক বছর ভয়ংকর খরা দেখা দেওয়ার পর সে বুঝতে পারল, পুকুর আর বাঁধের মূল্য কতখানি।

সেবার গ্রীষ্মে বৃষ্টি খুব কম হয়েছিল। পুকুরের জল অনেকটা নেমে গিয়েছিল। কয়েকটি কৃষকের জমিতে ফাটল ধরেছিল। গ্রামের মানুষ জল বাঁচাতে নানা ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। তখনই সৌরভের ঠাকুরদা তাকে নিয়ে বাঁধের ওপর দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, “এই বাঁধটা যদি না থাকত, বর্ষার জল ধরে রাখার উপায় আরও কমে যেত।”

সেই থেকে সৌরভের মনে বাঁধটির প্রতি আলাদা টান তৈরি হয়েছিল।

১. বাঁধের ফাটল

বর্ষা আসার আগে একদিন সৌরভ স্কুল থেকে ফিরছিল। হঠাৎ তার চোখে পড়ল, মাটির বাঁধের মাঝামাঝি একটি সরু ফাটল তৈরি হয়েছে। প্রথমে সে ভাবল, হয়তো শুকনো মাটির সাধারণ ফাটল। কিন্তু কাছে গিয়ে দেখল, ফাটলের পাশের মাটি একটু বসে গেছে।

সে বাড়ি ফিরে বাবাকে জানাল।

নিতাই বললেন, “অনেক দিন ধরেই বাঁধটার কিছু অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। পঞ্চায়েতকে জানানো দরকার।”

পরদিন বাবা-ছেলে কয়েকজন গ্রামবাসীকে নিয়ে বাঁধটি দেখতে গেলেন। তাঁরা দেখলেন, কয়েকটি জায়গায় ঘাস উঠে গেছে, বৃষ্টির জল নামার পথ বন্ধ হয়ে আছে, আর বাঁধের এক পাশ থেকে মাটি ধসে পড়ছে।

গ্রামের বৃদ্ধ রঘুনাথবাবু বললেন, “আগে প্রতি বছর বর্ষার আগে আমরা সবাই মিলে বাঁধের ছোটখাটো মেরামত করতাম। এখন আর কেউ তেমন খোঁজ রাখে না।”

একজন দোকানদার বললেন, “এখন তো সব কাজ সরকারি লোকের। গ্রামের মানুষ নিজেরা এসব করতে গেলে ঝামেলায় পড়তে পারে।”

কথাটি শুনে সবাই চুপ করে গেলেন।

সৌরভ বুঝল, সমস্যাটা শুধু মাটির ফাটল নয়। বাঁধটির দায়িত্ব কার, কীভাবে মেরামত হবে, আর বিপদের আগে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত—এসব নিয়েও পরিষ্কার ধারণা নেই।

সে বলল, “আমরা অন্তত সমস্যাটা লিখে জানাতে পারি। বিশেষজ্ঞরা দেখে বলবেন কী করা দরকার।”

তার প্রস্তাবে কয়েকজন সম্মতি জানালেন।

২. কাগজে আঁকা বিপদ

সৌরভ স্কুলের ভূগোলের শিক্ষক অমলেন্দুবাবুর কাছে গেল। শিক্ষক বাঁধের অবস্থা শুনে বললেন, “এটা অবহেলা করার মতো বিষয় নয়। তবে নিজেরা মাটি ফেলে ফাটল ঢেকে দিলেই সমস্যা মিটবে না। বাঁধের গঠন পরীক্ষা করে সঠিক পদ্ধতিতে মেরামত করতে হবে।”

তিনি সৌরভকে একটি কাগজে পুকুর ও বাঁধের একটি সাধারণ নকশা আঁকতে সাহায্য করলেন। কোথায় ফাটল, কোথায় মাটি ধসেছে, কোথায় বৃষ্টির জল জমে থাকে—সব চিহ্নিত করা হল।

সৌরভ ও তার দুই বন্ধু কয়েক দিন ধরে নিরাপদ দূরত্ব থেকে বাঁধের অবস্থা নথিভুক্ত করল। তারা ছবি তুলল, তারিখ লিখল এবং কোথায় কী পরিবর্তন হচ্ছে তা খাতায় রাখল।

অমলেন্দুবাবু তাদের বললেন, “তোমরা তথ্য সংগ্রহ করছ, এটা ভালো। কিন্তু বাঁধের ওপর বিপজ্জনক অংশে দাঁড়াবে না, ফাটলের কাছে খেলবে না, আর পুকুরের জল বাড়লে কোনো ঝুঁকি নেবে না।”

এরপর শিক্ষক ও গ্রামের কয়েকজন প্রবীণ মানুষ পঞ্চায়েতের কাছে লিখিত আবেদন জমা দিলেন। তাঁরা বাঁধটির পেশাদার পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় মেরামতের দাবি জানালেন।

কিন্তু কাজের অনুমোদন ও ব্যবস্থা করতে সময় লাগছিল।

এদিকে আকাশে বর্ষার মেঘ জমতে শুরু করেছে।

৩. প্রথম বড় বৃষ্টি

এক সন্ধ্যায় হঠাৎ প্রবল বৃষ্টি শুরু হল। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বৃষ্টি পড়তে লাগল। পুকুরের জল দ্রুত বাড়তে লাগল। বাঁধের যে অংশে আগে ফাটল দেখা গিয়েছিল, তার আশপাশের মাটি আরও নরম হয়ে গেল।

সৌরভের বাবা বাইরে থেকে ফিরে বললেন, “আজ রাতটা ভালো যাচ্ছে না। জল বাড়ছে।”

গ্রামের কয়েকজন মানুষ বাঁধের কাছাকাছি গিয়ে অবস্থা দেখতে চাইলেন। কিন্তু অমলেন্দুবাবু ও নিতাই তাঁদের থামালেন।

“অন্ধকারে ওখানে যাওয়া বিপজ্জনক,” শিক্ষক বললেন। “বাঁধ দুর্বল হলে হঠাৎ ধস নামতে পারে। দূর থেকে নিরাপদ জায়গায় থেকে খবর দিতে হবে।”

পঞ্চায়েতের সঙ্গে যোগাযোগ করা হল। স্থানীয় প্রশাসনকেও পরিস্থিতির কথা জানানো হল। কিছু মানুষকে সতর্ক করে দেওয়া হল, যেন তাঁরা পুকুরের নিচু দিকের বাড়িগুলিতে নজর রাখেন এবং প্রয়োজনে নিরাপদ জায়গায় যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।

সেই রাতে সৌরভ ঘুমোতে পারল না। জানলার বাইরে বৃষ্টির শব্দ শুনতে শুনতে তার মনে হচ্ছিল, বাঁধটির ফাটল যেন আরও বড় হয়ে যাচ্ছে।

ভোরের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমল। কিন্তু পুকুরের জল তখন বাঁধের একেবারে ওপরের অংশের কাছাকাছি চলে এসেছে।

সৌরভ দূর থেকে দেখতে পেল, বাঁধের এক পাশের মাটি ভিজে গিয়ে বসে পড়েছে। সে সঙ্গে সঙ্গে বাবাকে জানাল। বাবা খবরটি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিলেন।

৪. গ্রামের মানুষ একসঙ্গে

সকাল হতেই প্রশাসনের কর্মীরা এলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন জলসম্পদ ও মাটির বাঁধ মেরামতের কাজে অভিজ্ঞ কয়েকজন কর্মী। তাঁরা নিরাপদ দূরত্ব থেকে পরিস্থিতি পরীক্ষা করে জানালেন, বাঁধের একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরও ক্ষতি হতে পারে।

প্রথম কাজ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে দূরে রাখা। পুকুরের নিচু অংশে থাকা কয়েকটি পরিবারকে সতর্ক করা হল। প্রয়োজনে আশ্রয় নেওয়ার জন্য স্কুলঘর প্রস্তুত রাখা হল।

গ্রামের মানুষ উদ্বিগ্ন হলেও এবার কেউ নিজের মতো করে বাঁধে মাটি ফেলতে গেলেন না। তাঁরা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের নির্দেশ অনুযায়ী সাহায্য করলেন। কেউ খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দিলেন, কেউ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করলেন, কেউ বয়স্ক মানুষদের নিরাপদ স্থানে যেতে সাহায্য করলেন।

সৌরভও স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে কাজ করল। সে শিশুদের নিয়ে স্কুলঘরের এক পাশে বসে থাকল, যাতে তারা আতঙ্কিত না হয়। তাদের গল্প শোনাল, কাগজে ছবি আঁকতে দিল।

একটি ছোট ছেলে তাকে জিজ্ঞাসা করল, “দাদা, বাঁধটা ভেঙে যাবে?”

সৌরভ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল, “আমরা সবাই মিলে সাবধানে কাজ করছি। যারা এই কাজ জানেন, তাঁরা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তুই এখন এখানে নিরাপদে থাক।”

সে জানত, মিথ্যা আশ্বাস দেওয়া ঠিক নয়। বিপদের সময় সত্যি কথা বলা এবং সঠিক নির্দেশ মেনে চলাই জরুরি।

৫. মাটির লড়াই

পরবর্তী কয়েক দিন মেরামতের কাজ চলল। দুর্বল অংশের অবস্থা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হল। কোথায় মাটি শক্ত করতে হবে, কোথায় জল বেরোনোর ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে, আর কোথায় অতিরিক্ত নজরদারি দরকার—সব সিদ্ধান্ত নিলেন অভিজ্ঞ কর্মীরা।

গ্রামের মানুষও পাশে রইলেন। তবে তাঁরা আর নিজেরা অনুমান করে বাঁধের গায়ে মাটি চাপা দিলেন না। সবাই বুঝেছিলেন, এমন কাজে ভুল হলে বিপদ আরও বেড়ে যেতে পারে।

কাজ চলাকালীন সৌরভ দেখল, কত রকম মানুষের সাহায্য একসঙ্গে দরকার হয়। কেউ প্রকৌশলগত কাজ করছেন, কেউ যন্ত্রপাতি আনছেন, কেউ যোগাযোগের ব্যবস্থা করছেন, আবার কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করছেন।

একদিন অমলেন্দুবাবু বললেন, “দেখেছিস, একটা বাঁধ শুধু মাটি দিয়ে তৈরি নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবন, কৃষি, পানীয় জল এবং গ্রামের নিরাপত্তা।”

সৌরভ মাথা নাড়ল।

সে বুঝল, বাঁধ রক্ষা করার অর্থ শুধু একটি কাঠামো বাঁচানো নয়। এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনযাত্রাকেও সুরক্ষিত রাখা।

অবশেষে দুর্বল অংশের জরুরি মেরামত শেষ হল। জল কমতে শুরু করল। বিশেষজ্ঞরা জানালেন, বর্ষার বাকি সময়েও বাঁধের ওপর নজরদারি চালিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতে স্থায়ী সংস্কারের পরিকল্পনাও প্রয়োজন।

গ্রামের মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন।

৬. নতুন দায়িত্ব

বর্ষা শেষে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে একটি সভা ডাকা হল। সেখানে ঠিক করা হল, পুকুর ও বাঁধের অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো ফাটল, মাটি ধস বা অস্বাভাবিক জলস্তর দেখা গেলে দ্রুত জানানো হবে। তবে মেরামতের কাজ হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও অনুমোদন অনুযায়ী।

সৌরভ ও তার বন্ধুরা স্কুলের সাহায্যে একটি সচেতনতা দল গঠন করল। তাদের কাজ ছিল বাঁধের বিপজ্জনক অংশে খেলাধুলা না করা, জল বাড়লে সতর্ক থাকা এবং কোনো সমস্যা চোখে পড়লে বড়দের জানানো।

রঘুনাথবাবু একদিন সৌরভকে বললেন, “তোদের দেখে মনে হচ্ছে, আমাদের পুরোনো অভ্যাসের কিছু ভালো দিক আবার ফিরে আসছে।”

সৌরভ বলল, “আগে সবাই নিজের মতো করে কাজ করত। এখন আমরা বুঝেছি, একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কিন্তু সঠিক নিয়ম মেনেও চলতে হবে।”

রঘুনাথবাবু মৃদু হেসে বললেন, “এই শিক্ষাটাই সবচেয়ে দরকার।”

কয়েক মাস পরে পুকুরে জল আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরল। ধানখেতে সবুজ চারা দুলতে লাগল। কৃষকেরা নতুন মরসুমের প্রস্তুতি নিলেন। সন্ধ্যায় মানুষ আবার বাঁধের নিরাপদ অংশ দিয়ে হাঁটতে শুরু করলেন।

একদিন সৌরভ ঠাকুরদার পুরোনো ছবির বাক্সে একটি বিবর্ণ ছবি খুঁজে পেল। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বহু বছর আগে গ্রামের মানুষ একসঙ্গে দাঁড়িয়ে আছে। পেছনে রত্নসাগর পুকুর, সামনে মাটির বাঁধ।

সৌরভ ছবিটি বাবাকে দেখাল।

বাবা বললেন, “দেখ, এই বাঁধ আমাদের আগের প্রজন্ম তৈরি করেছিল। কিন্তু শুধু তাদের তৈরি করলেই তো চলবে না। আমাদেরও এর যত্ন নিতে হবে।”

সৌরভ ছবিটি যত্ন করে রেখে দিল।

সেদিন বিকেলে সে পুকুরের পাশে দাঁড়িয়ে দেখল, সূর্যের আলো জলে পড়ে চিকচিক করছে। বাঁধটি আগের মতোই মাটির, কিন্তু তার চোখে এখন আর সেটি শুধু একটি পথ নয়। এটি গ্রামের মানুষের সম্মিলিত দায়িত্বের প্রতীক।

সে মনে মনে ঠিক করল, বড় হয়ে জলসম্পদ ও পরিবেশ নিয়ে পড়াশোনা করবে। গ্রামের মানুষ কীভাবে জল সংরক্ষণ করতে পারেন, কীভাবে প্রাকৃতিক বিপদের আগে প্রস্তুতি নিতে পারেন—সেই বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে শিখবে।

তার স্বপ্নের শুরু হয়েছিল একটি সরু ফাটল দেখে। সেই ফাটল তাকে শিখিয়েছিল, ছোট সমস্যা অবহেলা করলে বড় বিপদ হতে পারে। আবার সময়মতো সতর্ক হওয়া, তথ্য জানানো এবং একসঙ্গে কাজ করাও অনেক ক্ষতি কমাতে পারে।

সন্ধ্যার বাতাসে পুকুরের জল হালকা ঢেউ তুলল।

সৌরভ বাঁধের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল, “তোমাকে শুধু মাটি দিয়ে নয়, আমাদের দায়িত্ব দিয়েও শক্ত রাখতে হবে।”

মাটির বাঁধ কোনো উত্তর দিল না। কিন্তু তার ওপর দিয়ে বাড়ি ফিরতে থাকা মানুষের পায়ের শব্দে যেন গ্রামের নতুন প্রতিজ্ঞা শোনা গেল।

তারা বুঝেছিল, কোনো সম্পদ চিরকাল নিজে নিজে টিকে থাকে না। তাকে রক্ষা করতে হয়, তার দুর্বলতা বুঝতে হয়, আর বিপদের সময় একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে হয়।

সেই দিন থেকে রত্নসাগরের বাঁধ শুধু গ্রামের পুরোনো পথ রইল না—হয়ে উঠল সচেতনতা, সহযোগিতা এবং দায়িত্বের এক জীবন্ত শিক্ষা।

সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *