Categories
গল্প বিবিধ

যে ছেলেটি নীরবতার আড়ালে সত্যের কণ্ঠস্বর খুঁজে পেয়েছিল।

১. যে কথাগুলো মুখে আসত না

পূর্ব মেদিনীপুরের ছোট্ট শহর শ্যামপুরে থাকত অয়ন নামে এক কিশোর। নবম শ্রেণির ছাত্র অয়ন পড়াশোনায় ভালো ছিল, কিন্তু সবার সামনে কথা বলতে গেলেই তার গলা আটকে যেত। বিশেষ করে অনেক মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কিছু বলতে হলে তার বুক ধড়ফড় করত, হাত ঘেমে উঠত, আর পরিচিত শব্দগুলোও যেন অচেনা হয়ে যেত।

ক্লাসে শিক্ষক প্রশ্ন করলে অয়ন উত্তর জানলেও হাত তুলত না। সহপাঠীরা যখন বিতর্ক প্রতিযোগিতা কিংবা বক্তৃতার জন্য নাম লেখাত, তখন সে চুপচাপ নিজের খাতায় চোখ রাখত।

কেউ কেউ তাকে নিয়ে হাসাহাসিও করত।

একদিন টিফিনের সময় রাহুল বলল, “অয়ন, তুই এত চুপচাপ থাকিস কেন? তোর মুখে কি তালা লাগানো?”

কথাটা শুনে কয়েকজন হেসে উঠল।

অয়নও হাসার চেষ্টা করল। কিন্তু তার বুকের ভেতরটা কেমন মোচড় দিয়ে উঠল।

বাড়ি ফিরে সে মাকে বলল, “মা, আমি যদি সবার সামনে ঠিক করে কথা বলতে না পারি, তাহলে কি আমার কথার কোনো দাম নেই?”

মা কাজ থামিয়ে ছেলের দিকে তাকালেন।

“কথার দাম গলার জোরে হয় না, অয়ন। কথার দাম হয় তার সত্যি আর যুক্তিতে। তবে নিজের কথা বলার অভ্যাসটাও তৈরি করতে হয়।”

অয়ন মায়ের কথা শুনল, কিন্তু সমস্যাটা কীভাবে কাটাবে, তা বুঝতে পারল না।

২. একটি অন্যায়ের শুরু

তাদের স্কুলে প্রতি বছর বইমেলা ও বিজ্ঞান প্রদর্শনীর আয়োজন করা হতো। ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের তৈরি মডেল, ছবি, গল্পের বই এবং নানা ধরনের শিক্ষামূলক উপকরণ প্রদর্শন করত।

সেই বছর নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীরা মিলে একটি বিজ্ঞান মডেল তৈরি করেছিল। মডেলটি ছিল বৃষ্টির জল কীভাবে সংরক্ষণ করে স্কুলের বাগানে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে। দলের সদস্য ছিল অয়ন, নীল, সোহিনী এবং আরও কয়েকজন।

অয়নই বাড়িতে বসে মডেলের নকশা তৈরি করেছিল। সে পুরোনো বোতল, সরু পাইপ, ছোট জলাধার এবং মাটির পাত্র ব্যবহার করে দেখিয়েছিল কীভাবে ছাদের জল নষ্ট না করে জমিয়ে রাখা যায়।

প্রদর্শনীর দিন শিক্ষকরা মডেলটি দেখে প্রশংসা করলেন। প্রধান শিক্ষক বললেন, “এই কাজটি খুবই ব্যবহারিক। তোমরা চাইলে স্কুলের বাগানেও এমন ব্যবস্থা করা যায়।”

সবাই খুশি হলো।

কিন্তু পুরস্কার ঘোষণার দিন দেখা গেল, মডেলটির জন্য সম্মাননা পেল অন্য একটি দল। অয়নদের নাম তালিকায় নেই।

প্রথমে তারা ভাবল, হয়তো বিচারকদের সিদ্ধান্ত এমনই হয়েছে। কিন্তু পরে নীল একটি বিষয় লক্ষ করল। প্রদর্শনীর জমা দেওয়া নথিতে তাদের দলের নামের জায়গায় অন্য দলের নাম লেখা হয়েছে।

সোহিনী অবাক হয়ে বলল, “এটা কী করে হলো? আমরা তো সময়মতো সব জমা দিয়েছিলাম!”

নীল বলল, “আমার মনে হয় নথি বদলে গেছে। কিন্তু আমরা প্রমাণ করব কীভাবে?”

অয়ন চুপ করে রইল। তার কাছে জমা দেওয়ার রসিদের একটি ছবি ছিল। সেখানে তাদের দলের নাম ও মডেলের বিবরণ স্পষ্ট লেখা ছিল।

সে ছবিটি বন্ধুদের দেখাল।

সোহিনী বলল, “তাহলে প্রধান শিক্ষককে দেখাতে হবে।”

অয়নের বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

প্রধান শিক্ষকের ঘরে গিয়ে কথা বলা! সেখানে ভুল বোঝাবুঝি হলে? যদি তিনি রেগে যান? যদি কথা বলতে গিয়ে অয়ন আটকে যায়?

সে মাথা নিচু করে বলল, “তোরা বল। আমি তোদের সঙ্গে যাব।”

৩. নীরব থাকার মূল্য

পরের দিন তিন বন্ধু প্রধান শিক্ষকের ঘরে গেল। অয়নও সঙ্গে ছিল। নীল ঘটনাটা বোঝানোর চেষ্টা করল। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নথি তখন অফিসে পাওয়া যাচ্ছিল না।

প্রধান শিক্ষক বললেন, “এটা যদি ভুল হয়ে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই খতিয়ে দেখা হবে। তবে শুধু মুখের কথায় সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তোমাদের কাছে যা প্রমাণ আছে, জমা দাও।”

তারা রসিদের ছবি জমা দিল।

কয়েক দিন কেটে গেল। কোনো খবর এল না।

এদিকে স্কুলের কিছু ছাত্র বলতে শুরু করল, অয়নদের দল নাকি হেরে গিয়ে অজুহাত দিচ্ছে। রাহুল একদিন বলল, “পুরস্কার পাসনি বলে এত নাটক করার কী আছে?”

অয়ন প্রতিবাদ করতে চেয়েও পারল না।

বাড়ি ফিরে তার মনে হলো, চুপ করে থাকাই বোধহয় সহজ। সত্যি কথা বলেও যদি কেউ বিশ্বাস না করে, তাহলে এত চেষ্টা করে লাভ কী?

সেদিন রাতে সে খাতায় কয়েকটি বাক্য লিখল—

‘আমি সব কথা বলতে পারি না। কিন্তু যা দেখেছি, তা জানি। আমার কথা আটকে যেতে পারে, কিন্তু সত্যিটা তো আটকে যায়নি।’

বাক্যগুলো লিখে তার নিজেরই একটু সাহস হলো।

পরদিন বাংলা শিক্ষিকা মধুমিতা দেবী ক্লাসে এসে জানালেন, আগামী মাসে আন্তঃশ্রেণি বিতর্ক প্রতিযোগিতা হবে। বিষয়—‘বিদ্যালয়ে ন্যায়বিচার ও দায়িত্ববোধের গুরুত্ব’।

সবাই যখন দল গঠনে ব্যস্ত, তখন অয়নের খাতায় লেখা বাক্যগুলো তার মনে পড়ল।

সে প্রতিযোগিতায় নাম লেখানোর সিদ্ধান্ত নিল।

৪. নিজের সঙ্গে লড়াই

নাম লেখানোর কথা শুনে রাহুল অবাক হয়ে বলল, “তুই বিতর্কে নাম দিবি? সবার সামনে কথা বলবি?”

অয়ন এবার মাথা তুলে বলল, “হ্যাঁ, চেষ্টা করব।”

রাহুল আর কিছু বলল না। তবে তার মুখের হাসি অয়নের চোখ এড়াল না।

মধুমিতা দেবী অয়নকে ডেকে বললেন, “তুমি কেন এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাও?”

অয়ন ধীরে ধীরে বলল, “ম্যাডাম, আমি অনেক সময় কথা বলতে পারি না। কিন্তু আমি চাই, নিজের কথা গুছিয়ে বলতে শিখতে।”

শিক্ষিকা হাসলেন।

“খুব ভালো। মনে রেখো, বক্তৃতা মানে দ্রুত কথা বলা নয়। নিজের বক্তব্য পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা। তুমি ধীরে বলবে, প্রয়োজনে থামবে, তারপর আবার শুরু করবে। ভুল হলে সেটাও স্বাভাবিক।”

তিনি অয়নকে প্রতিদিন অল্প সময় অনুশীলন করতে বললেন।

প্রথম দিন অয়ন এক মিনিটও টানা বলতে পারল না। দ্বিতীয় দিন দু-একটি বাক্য বলেই থেমে গেল। তৃতীয় দিন তার গলা কেঁপে উঠল।

তবু সে হাল ছাড়ল না।

সে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলত। নিজের বক্তব্য ছোট ছোট অংশে ভাগ করত। কঠিন শব্দের বদলে সহজ শব্দ ব্যবহার করত। গুরুত্বপূর্ণ বাক্যের পরে কোথায় একটু থামতে হবে, সেটাও চিহ্নিত করত।

মা রান্না করার সময় তার কথা শুনতেন। ছোট বোন শ্রেয়া দর্শক সেজে বসত। কখনও সে প্রশ্ন করত, কখনও ইচ্ছে করে ভুল ধরত।

একদিন অয়ন বিরক্ত হয়ে বলল, “তুই বারবার প্রশ্ন করিস কেন?”

শ্রেয়া হেসে বলল, “প্রতিযোগিতায় সবাই প্রশ্ন করতে পারে। বাড়িতে অনুশীলন করলে মঞ্চে ভয় কমবে।”

অয়ন বোনের দিকে তাকিয়ে হাসল।

দিনের পর দিন অনুশীলন করতে করতে তার একটা নতুন অভ্যাস তৈরি হলো—ভয় পেলেই থেমে যাওয়ার বদলে সে গভীর শ্বাস নিয়ে পরের বাক্যটি বলার চেষ্টা করত।

৫. প্রতিযোগিতার দিন

অবশেষে প্রতিযোগিতার দিন এল।

স্কুলের বড় হলঘরে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক এবং বিচারকেরা উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে অয়নের হাত ঠান্ডা হয়ে গেল। মাইক্রোফোনের দিকে তাকাতেই তার মনে হলো, এখান থেকে পালিয়ে যায়।

ঠিক তখন মধুমিতা দেবী কাছে এসে বললেন, “মনে রেখো, তুমি কাউকে হারাতে আসোনি। তুমি তোমার কথাগুলো পৌঁছে দিতে এসেছ।”

অয়ন মাথা নাড়ল।

তার নাম ঘোষণা করা হলো।

সে মঞ্চে উঠে দাঁড়াল। সামনে অসংখ্য মুখ। প্রথম বাক্যটি বলতে গিয়ে তার গলা আটকে গেল।

হলঘর নিস্তব্ধ।

কেউ কেউ নড়েচড়ে বসতে লাগল। অয়নের মনে হলো, এবার নিশ্চয়ই সবাই হাসবে।

কিন্তু সে চোখ বন্ধ করে একবার গভীর শ্বাস নিল। তারপর ধীরে ধীরে বলল—

“সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং আমার প্রিয় বন্ধুরা, আজ আমি ন্যায়বিচার নিয়ে কথা বলতে চাই। কারণ ন্যায়বিচার শুধু বড় আদালতের বিষয় নয়। আমাদের স্কুলের প্রতিদিনের ছোট ছোট ঘটনাতেও ন্যায়বিচারের প্রয়োজন।”

তার গলা প্রথমে কাঁপছিল। কয়েকটি শব্দে সে থামল। কিন্তু এবার সে থেমে যাওয়াকে ব্যর্থতা ভাবল না।

সে বলতে লাগল, “কোনো প্রতিযোগিতায় কে জিতল, সেটাই সব নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রত্যেকের কাজের সঠিক মূল্যায়ন হয়েছে কি না। কোনো ভুল হলে তা স্বীকার করার সাহস থাকতে হবে। আর অভিযোগ উঠলেই কাউকে দোষী ভাবা উচিত নয়। প্রমাণ খুঁজতে হবে, দুই পক্ষের কথা শুনতে হবে।”

তারপর সে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে একটি উদাহরণ দিল। দলের নাম ভুল নথিভুক্ত হলে কীভাবে ছাত্রছাত্রীরা হতাশ হতে পারে, কীভাবে একটি ছোট ভুল তাদের পরিশ্রমকে আড়াল করে দিতে পারে, তা ব্যাখ্যা করল।

সে কারও নাম বলল না, কাউকে অভিযুক্ত করল না।

শুধু বলল, “ন্যায়বিচার মানে সব সময় নিজের পক্ষে রায় পাওয়া নয়। ন্যায়বিচার মানে সত্যিটা জানার সুযোগ পাওয়া।”

বক্তব্য শেষ করে অয়ন মাইক্রোফোন থেকে সরে এল।

কয়েক মুহূর্ত নীরবতা ছিল। তারপর হলঘর হাততালিতে ভরে উঠল।

অয়ন অবাক হয়ে গেল। তার চোখে জল এসে গিয়েছিল, কিন্তু এবার সে লজ্জা পেল না।

৬. সত্যের সামনে দাঁড়ানো

প্রতিযোগিতায় অয়ন প্রথম হয়নি। সে পেয়েছিল বিশেষ প্রশংসাপত্র—‘যুক্তিপূর্ণ বক্তব্য ও সাহসী উপস্থাপনা’র জন্য।

কিন্তু সেই দিনের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটল।

মধুমিতা দেবী এবং অন্য কয়েকজন শিক্ষক বিজ্ঞান প্রদর্শনীর নথি আবার পরীক্ষা করলেন। জমা দেওয়ার রসিদ, শিক্ষার্থীদের তৈরি মডেলের ছবি এবং অফিসের রেজিস্টার মিলিয়ে দেখা গেল, সত্যিই নাম নথিভুক্ত করার সময় ভুল হয়েছিল।

কোনো ছাত্র ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের কাজ নিজের নামে নিয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া গেল না। ভুলটি হয়েছিল নথি তৈরি করার সময়।

প্রধান শিক্ষক দুই দলের ছাত্রছাত্রীকে ডেকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করলেন। অয়নদের দলকে তাদের কাজের জন্য আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হলো। একই সঙ্গে তিনি জানালেন, ভবিষ্যতে নথি জমা নেওয়ার সময় দুবার যাচাই করা হবে।

তিনি অয়নদের বললেন, “তোমরা অভিযোগ করেছ বলে নয়, তোমরা প্রমাণ দিয়েছ এবং বিষয়টি যাচাই করার সুযোগ করে দিয়েছ বলে ভুলটা ধরা পড়েছে। কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে তথ্য ও সংযম দুটোই দরকার।”

অয়ন বুঝল, সত্য প্রতিষ্ঠা করতে চিৎকার করা সব সময় জরুরি নয়। ধৈর্য ধরে প্রমাণ তুলে ধরাও প্রতিবাদের একটি শক্তিশালী উপায়।

পরের দিন রাহুল তার কাছে এসে বলল, “সেদিন তোকে নিয়ে মজা করেছিলাম। ঠিক করিনি। সরি।”

অয়ন একটু থেমে বলল, “সমস্যা নেই। তবে কাউকে কিছু বলার আগে পুরো ঘটনাটা জেনে নিস।”

রাহুল মাথা নাড়ল।

৭. নতুন এক শুরু

সময়ের সঙ্গে অয়নের কথা বলার ভয় পুরোপুরি চলে যায়নি। এখনও বড় মঞ্চে উঠলে তার বুক ধড়ফড় করে। কখনও কখনও কথা বলতে গিয়ে সে আটকে যায়।

কিন্তু এখন সে জানে, থেমে যাওয়া মানেই শেষ হয়ে যাওয়া নয়।

পরের বছর স্কুলের ছাত্র সংসদে একটি নতুন উদ্যোগ শুরু হলো—‘শুনব সবার কথা’। সপ্তাহে এক দিন ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের সমস্যা, প্রস্তাব কিংবা মতামত শিক্ষকদের সামনে তুলে ধরতে পারত। কেউ চাইলে সরাসরি কথা বলত, কেউ লিখে জমা দিত।

এই উদ্যোগের নিয়ম তৈরিতে অয়ন সাহায্য করেছিল। তার প্রস্তাব ছিল, যে কথা বলছে তাকে মাঝপথে থামানো যাবে না, আর অভিযোগ উঠলে যাচাই না করে কাউকে দোষী করা যাবে না।

একদিন ছোট্ট এক ছাত্র এসে তাকে বলল, “দাদা, আমি ক্লাসে কথা বলতে ভয় পাই। সবাই হাসবে বলে মনে হয়।”

অয়ন তার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমিও একসময় ভয় পেতাম। এখনও কখনও ভয় পাই। কিন্তু তুই ছোট করে শুরু কর। প্রথমে একজন বন্ধুর সামনে বল, তারপর দুজনের সামনে। আর ভুল করলে আবার চেষ্টা করবি।”

ছেলেটি জিজ্ঞাসা করল, “তাহলে কি একদিন আমিও মঞ্চে কথা বলতে পারব?”

অয়ন মৃদু হেসে বলল, “পারবি কি না, সেটা আজই ঠিক করার দরকার নেই। আজ শুধু প্রথম বাক্যটা বলার চেষ্টা কর।”

সেদিন বাড়ি ফেরার পথে অয়ন আকাশের দিকে তাকাল। তার মনে হলো, এত দিন সে ভেবেছিল তার নীরবতাই তার দুর্বলতা। এখন সে বুঝেছে, নীরবতা কখনও কখনও মানুষকে মন দিয়ে শুনতে শেখায়। আর যখন সত্যি কথা বলার সময় আসে, তখন সেই শোনার অভিজ্ঞতাই কথাকে আরও অর্থপূর্ণ করে তোলে।

অয়ন বড় বক্তা হয়ে উঠেছিল কি না, তা সময়ই বলবে। কিন্তু সে একটি বিষয় শিখে ফেলেছিল—নিজের কণ্ঠস্বর খুঁজে পাওয়া মানে অন্যের চেয়ে জোরে কথা বলা নয়; সত্যকে সম্মান করে, অন্যের কথা শুনে, সাহসের সঙ্গে নিজের বক্তব্য তুলে ধরা।

শিক্ষা: ভয় থাকা মানেই মানুষ দুর্বল নয়। ধৈর্য, প্রস্তুতি, সত্যের প্রতি নিষ্ঠা এবং অন্যের কথা শোনার ক্ষমতা মানুষকে সাহসী করে তোলে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হলে আবেগের পাশাপাশি প্রমাণ, সংযম ও ন্যায়বোধও জরুরি।

সমাপ্ত।

Share This

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *