জীবন যখন শেষ বিকেলে ধীরে ধীরে নামে, পুরোনো সব স্মৃতিগুলো ফিরে আসে মনে।
যে পথ ধরে ছুটেছিলাম স্বপ্ন নিয়ে বুকে, আজ সে পথে হাঁটতে গিয়ে চোখ ভিজে যায় দুঃখে।
কত মানুষ এসেছিল যে জীবন নদীর ঘাটে, কেউবা রইল হাতটি ধরে, কেউ হারাল পথে।
কত কথা বলা হলো না, কত অভিমান জমে, কত আপন দূরে গেল সময়েরই নিয়মে।
যে বাড়িটাতে হাসির মেলা বসত সকাল-সাঁঝে, সেই বাড়িটা নীরব এখন, স্মৃতি শুধু বাজে।
বাবার গম্ভীর কণ্ঠস্বর আজও কানে ভাসে, মায়ের স্নেহভরা মুখখানি স্বপ্ন হয়ে আসে।
বন্ধুদের সেই আড্ডাগুলো হারিয়ে গেছে কোথায়, ব্যস্ততার এই পৃথিবীতে কে আর সময় পায়?
তবু মনে হয়, জীবন আমার একেবারে বৃথা নয়, কারও মুখে হাসি ফুটলে সেখানেই তো জয়।
কাউকে যদি ভালোবেসে একটু সুখ দিয়ে যাই, কারও দুঃখের অন্ধকারে আলোর প্রদীপ জ্বালাই,
তবে আমার চলে যাওয়াও হবে না একা একা, কোনো হৃদয়ে স্মৃতি হয়ে থাকবে আমার লেখা।
জীবন মানে শুধু পাওয়া নয় যে সারাক্ষণ, কিছু হারানো শিখিয়ে দেয় ভালোবাসার মানে।
তাই তো বলি, যতদিন এই বুকের মাঝে প্রাণ, আপনজনকে ভালোবেসে করে যেয়ো দান।
সম্পদ কিংবা খ্যাতি নয়, নয় যে বাহার, মানুষের মনে ভালোবাসাই জীবনের উপহার।
শেষ বিকেলের অস্তরাগে যখন থামবে পথচলা, ভালো কাজের স্মৃতিগুলোই হবে সঙ্গী, হবে সম্বল।