ফারাক্কা, মুর্শিদাবাদ: দুর্গাপুজো মানেই থিমের চমক, নজরকাড়া প্যান্ডেল আর আলোর বাহার। কিন্তু এবছর পুজোর উদ্বোধনে একেবারে অন্য ছবি দেখা গেল ফারাক্কার বিন্দুগ্রাম সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির উদ্যোগে। কোনও বিশেষ থিম বা প্যান্ডেলের চাকচিক্য নয়, বরং সমাজের প্রবীণ মানুষদের সম্মান জানিয়ে অনন্য নজির গড়ল এই পুজো কমিটি।
এবার ২০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বিন্দুগ্রাম সার্বজনীন দুর্গাপুজো। পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ৮০ বছরের ঊর্ধ্বে প্রায় ২০ জন প্রবীণ মহিলা ও পুরুষের হাতে তুলে দেওয়া হয় শারদ সম্মাননা। সম্মান হাতে পেয়ে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া প্রবীণদের মুখে ফুটে ওঠে হাসি।
তাঁদের সেই আনন্দঘন মুহূর্ত উপস্থিত সকলের নজর কাড়ে। বর্তমান সময়ে প্রবীণদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধার বার্তা দিতেই কমিটির এই বিশেষ উদ্যোগ।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়, প্রবীণদের হাত দিয়েই প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে পুজোর উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফারাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী।
প্রবীণদের সম্মান জানানোর এই উদ্যোগ দেখে তিনিও অভিভূত হন। পাশাপাশি এলাকার কৃতী ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীতে চাকরি পাওয়া যুবক-যুবতীদের হাতেও তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা।
পুজো মণ্ডপের বিভিন্ন জায়গায় লাগানো হয়েছে সচেতনতামূলক ব্যানার। স্বচ্ছ ভারত অভিযান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ-সহ বিভিন্ন সামাজিক বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা ও নিয়ম মেনেই পুজোর আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কমিটি।
ফারাক্কার বিডিও সুজয় ব্যাপারী এই উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, প্রবীণদের সম্মান জানানো এবং তাঁদের হাত দিয়ে পুজোর উদ্বোধন করার ভাবনা সমাজের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে। একইসঙ্গে কৃতী ছাত্রছাত্রী ও প্রতিরক্ষা বাহিনীতে কর্মরতদের সম্মানিত করার উদ্যোগও প্রশংসনীয়।
বিন্দুগ্রাম সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির সভাপতি বাবলু ঘোষ জানান, প্রবীণদের যথাযথ সম্মান দেওয়া এবং এলাকার কৃতী সন্তানদের উৎসাহিত করাই তাঁদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। পুজো শুধু আনন্দ-উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের লক্ষ্য।
অন্যদিকে, কমিটির সম্পাদক পীযূষ কান্তি সরকার জানান, ২০তম বর্ষে তাঁদের পুজোকে আরও অর্থবহ করে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রবীণদের মুখে হাসি ফোটানো, নতুন প্রজন্মকে উৎসাহ দেওয়া এবং সামাজিক সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে পুজোকে মানুষের আরও কাছে পৌঁছে দিতে চান তাঁরা।
সব মিলিয়ে, বিন্দুগ্রাম সার্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির এই উদ্যোগ বুঝিয়ে দিল, পুজোর আসল আকর্ষণ শুধু থিম বা প্যান্ডেলে নয়, মানুষের প্রতি সম্মান, ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার মধ্যেও লুকিয়ে রয়েছে।