ঘড়ির কাঁটাগুলো উল্টো দিকে ঘুরছে।
টিকটিক শব্দটা ক্রমশ জোরে হচ্ছে। দেওয়ালের চৌদ্দটি ঘড়িতে আলাদা আলাদা সময় দেখা যাচ্ছে। একটিতে রাত বারোটা তেরো, অন্যটিতে ভোর পাঁচটা, আবার কোনওটিতে দুপুর দুটো।
অরিত্র দরজার হাতল ধরে টানল।
দরজা খুলল না।
সে সমস্ত শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিল। কাঠের দরজা কেঁপে উঠল, কিন্তু একচুলও নড়ল না।
ঠিক তখনই টেবিলের উপর রাখা ফোনটা বেজে উঠল।
পর্দায় ভেসে উঠল—‘বাবা’।
অরিত্র তাড়াতাড়ি ফোন ধরল।
“বাবা! আমি চৌদ্দ নম্বর ঘরে আটকে পড়েছি। এখান থেকে বেরোতে পারছি না!”
ওপাশ থেকে অরিন্দমের উদ্বিগ্ন গলা শোনা গেল।
“তুমি কি ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছ?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে এখনই দেওয়ালের ঘড়িগুলোর দিকে তাকিও না। চোখ বন্ধ করো। আর মন দিয়ে আমার কথা শোনো।”
অরিত্র চোখ বন্ধ করল।
“এই বাড়িটা তৈরি হয়েছিল ১৯৭৮ সালে। তোমার প্রপিতামহ বিশ্বাস করতেন, মানুষের স্মৃতি আর সময়কে আলাদা করা যায়। তিনি এমন একটি ঘর তৈরি করেছিলেন, যেখানে কোনও মানুষের জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তকে একসঙ্গে দেখা সম্ভব। কিন্তু সেই পরীক্ষার সময় একটা ভয়ংকর ঘটনা ঘটে। ঘরের ভিতরে থাকা মানুষটির স্মৃতি, অতীত এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনা একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়।”
“কিন্তু আমি যে লোকটাকে দেখেছি, সে কে?”
অরিন্দম কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।
“সে তোমারই একটি সম্ভাব্য রূপ। তোমার জীবনে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা তুমি মনে করতে পারো না। সেই ঘটনার অন্য একটি পরিণতি এই ঘরের মধ্যে তোমার সামনে এসেছে।”
“আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!”
“বুঝবে। কিন্তু আগে ঘর থেকে বেরোও। টেবিলের নীচে একটি লোহার বাক্স আছে। তার ভিতরে একটা ছোট্ট আয়না পাবে। আয়নাটার পিছনে তিনটি সংখ্যা লেখা আছে। সেই সংখ্যাগুলো ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে মিলিয়ে দরজার তালায় বসাবে।”
অরিত্র হাঁটু গেড়ে টেবিলের নীচে হাতড়াতে লাগল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার হাতে একটি ছোট্ট লোহার বাক্স ঠেকল।
বাক্সটি খুলতেই একটি গোল আয়না বেরিয়ে এল।
আয়নার পিছনে খোদাই করা তিনটি সংখ্যা—
১৭, ১১, ৯৮।
অরিত্রর বুক ধক করে উঠল।
১৭ নভেম্বর, ১৯৯৮।
তার জন্মের তারিখ।
সে দরজার কাছে গিয়ে তালাটি পরীক্ষা করল। সেখানে তিনটি সংখ্যার ঘর রয়েছে। সংখ্যাগুলো বসাতেই তালার ভিতর থেকে ক্লিক শব্দ হল।
দরজা খুলে গেল।
অরিত্র ছুটে বাইরে বেরিয়ে এল।
কিন্তু করিডরে এসে সে থমকে দাঁড়াল।
বাড়ির ভিতরটা আর আগের মতো নেই। দেওয়ালে নতুন রং, মেঝেতে পরিষ্কার কার্পেট, আর বারান্দায় দাঁড়িয়ে রয়েছে কয়েকজন মানুষ। তাঁদের পোশাক দেখে মনে হচ্ছে, তাঁরা ১৯৯০-এর দশকের মানুষ।
একটি ছোট্ট ছেলে করিডর দিয়ে দৌড়ে গেল।
ছেলেটির কবজিতে কালো সুতো বাঁধা।
অরিত্র তাকিয়ে রইল।
ছেলেটি ঘুরে তার দিকে তাকাতেই অরিত্রর বুকের ভিতর কেঁপে উঠল।
ছেলেটির মুখ অবিকল তার ছোটবেলার মুখের মতো।
“তুমি কে?” অরিত্র জিজ্ঞাসা করল।
ছেলেটি হাসল।
“আমি অদ্বৈত।”
তারপর দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নীচে নেমে গেল।
অরিত্র তার পিছনে ছুটল।
কিন্তু নীচে পৌঁছে দেখল, উঠোনে কেউ নেই। বাড়িটা আবার পরিত্যক্ত। দেওয়ালে শ্যাওলা, মেঝেতে ধুলো, চারপাশে নীরবতা।
সে ফোন বের করে বাবাকে আবার কল করল।
ফোন বন্ধ।
ঠিক তখনই পিছন থেকে সরলার গলা শোনা গেল।
“আপনি ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন, কিন্তু সময় থেকে বেরোতে পারেননি।”
অরিত্র ঘুরে দাঁড়াল।
বৃদ্ধা সরলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছেন।
“আপনি জানতেন, আমার সঙ্গে এমন হবে?”
“জানতাম না। তবে আশঙ্কা করেছিলাম।”
“আমি যে ছেলেটিকে দেখলাম, সে কে?”
সরলা ধীরে ধীরে এগিয়ে এলেন।
“সেটা আপনার নিজের স্মৃতি। আপনি যখন ছোট ছিলেন, তখন এই বাড়িতে এসেছিলেন। আপনার মনে নেই, কারণ সেই দিনের অনেক ঘটনা আপনার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।”
“আমার বাবা কেন সবকিছু লুকিয়েছেন?”
সরলা উত্তর দেওয়ার আগে চারপাশে তাকালেন।
“কারণ আপনার বাবা আপনাকে বাঁচাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি যেভাবে আপনাকে বাঁচিয়েছেন, তার ফলে আরও একজন মানুষের জীবন বদলে গেছে।”
“কে সেই মানুষ?”
সরলা চোখ নামিয়ে বললেন, “আপনার দিদি অদিতি।”
অরিত্র স্তব্ধ হয়ে গেল।
“অদিতির সঙ্গে এর কী সম্পর্ক?”
“আপনি যখন জন্মেছিলেন, তখন আপনার যমজ বোন অদিতির জন্মের রেকর্ড নিয়ে বড়সড় গোলমাল হয়েছিল। কিন্তু সেটা শুধু পরিচয় বদলের ঘটনা ছিল না। আপনার বাবা একটি পরীক্ষার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি চেষ্টা করেছিলেন, আপনার জীবনের যে মুহূর্তটি হারিয়ে গিয়েছিল, সেটিকে ফিরিয়ে আনতে।”
“কোন মুহূর্ত?”
“আপনার জন্মের আগের রাত।”
সরলা তাঁকে একটি ছোট্ট ঘরে নিয়ে গেলেন। ঘরের ভিতরে একটি কাঠের আলমারি। আলমারির ভিতর থেকে তিনি একটি পুরোনো ক্যাসেট বের করলেন।
“এটি আপনার বাবার রেকর্ডিং। এত বছর ধরে আমি এটি লুকিয়ে রেখেছি।”
অরিত্র ক্যাসেটটি হাতে নিল।
“এতে কী আছে?”
“আপনার বাবার স্বীকারোক্তি।”
সেদিন সন্ধ্যায় অরিত্র কলকাতায় ফিরে এল। সারা পথ তার মাথায় ঘুরছিল সরলার কথা। সে সরাসরি বাড়ি না গিয়ে একটি পুরোনো ক্যাসেট প্লেয়ার কিনল। তারপর বাড়িতে ফিরে নিজের ঘরের দরজা বন্ধ করে ক্যাসেটটি চালাল।
প্রথমে কিছুক্ষণ শোঁ শোঁ শব্দ।
তারপর বাবার কণ্ঠ।
“আজ ১৬ নভেম্বর, ১৯৯৮। আমি জানি না, এই রেকর্ডিং কোনওদিন কেউ শুনবে কি না। কিন্তু যদি অরিত্র শুনে, তবে আমার কথা মন দিয়ে শোনো, বাবা।”
অরিত্রর চোখ ভিজে উঠল।
“তোমার জন্মের আগে তোমার মায়ের গর্ভে দুটি শিশু ছিল। চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, একটি শিশুকে বাঁচানো কঠিন হতে পারে। আমি সেই সময় একটি গবেষণাগারের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। সেখানে মানুষের স্মৃতি ও সময় সম্পর্কে কিছু পরীক্ষা চলছিল। আমি বিশ্বাস করেছিলাম, সেই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তোমাকে বাঁচানো যাবে।”
কিছুক্ষণ নীরবতা।
তারপর অরিন্দমের গলা আরও ভারী হয়ে উঠল।
“কিন্তু আমি ভুল করেছিলাম। পরীক্ষার সময় তোমার জীবনের দুটি সম্ভাব্য পরিণতি তৈরি হয়েছিল। একটিতে তুমি বেঁচে ছিলে, অন্যটিতে তুমি জন্মের আগেই মারা গিয়েছিলে। আমি তোমাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু সেই পরীক্ষার ফলে তোমার স্মৃতির কিছু অংশ এমনভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেনি।”
অরিত্র শ্বাস বন্ধ করে শুনছিল।
“আমি তোমার জন্মের তারিখ বদলাইনি, কিন্তু তোমার পরিচয়ের কিছু নথি বদলেছিলাম, যাতে গবেষণার সঙ্গে তোমার সম্পর্ক গোপন থাকে। পরে যখন বুঝলাম, পরীক্ষাটি বিপজ্জনক, তখন সবকিছু বন্ধ করে দিই। কিন্তু চৌদ্দ নম্বর ঘর বন্ধ করতে পারিনি।”
ক্যাসেটে আচমকা একটা শব্দ হল।
তারপর বাবার কণ্ঠ আবার শোনা গেল।
“সবচেয়ে বড় বিপদ হল, সেই ঘরের মধ্যে তোমার একটি স্মৃতি আটকে আছে। সেই স্মৃতি যদি সম্পূর্ণভাবে ফিরে আসে, তাহলে তুমি এমন কিছু দেখতে পাবে, যা তোমার বর্তমান জীবনকে বদলে দিতে পারে।”
রেকর্ডিং থেমে গেল।
অরিত্র দীর্ঘক্ষণ চুপ করে বসে রইল।
তাহলে চৌদ্দ নম্বর ঘরের যুবকটি কি সত্যিই তার ভবিষ্যৎ নয়? সে কি তার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিরই একটি রূপ?
ঠিক তখনই দরজায় টোকা পড়ল।
অরিত্র দরজা খুলে দেখল, অদিতি দাঁড়িয়ে আছে।
তার মুখে উদ্বেগ।
“দাদা, বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”
অরিত্র উঠে দাঁড়াল।
“কখন থেকে?”
“আজ দুপুর থেকে। তাঁর ফোন বন্ধ। তাঁর ঘরে একটা চিঠি পেয়েছি।”
অদিতি একটি ভাঁজ করা কাগজ এগিয়ে দিল।
চিঠিতে লেখা—
‘অরিত্র যদি চৌদ্দ নম্বর ঘরে ঢুকে থাকে, তবে আমাকে খুঁজতে এসো না। আমি এমন একটি জায়গায় যাচ্ছি, যেখানে তোমাদের কারও যাওয়া উচিত নয়।’
চিঠির নীচে একটি ঠিকানা।
শিমুলডাঙা নয়।
কলকাতার একটি পুরোনো হাসপাতাল।
অরিত্র ঠিকানাটা পড়েই চিনতে পারল। এই সেই হাসপাতাল, যেখানে তার জন্মের সময় তাকে ভর্তি করা হয়েছিল।
অদিতি বলল, “দাদা, বাবা কি সত্যিই সময় নিয়ে কোনও পরীক্ষা করেছিলেন?”
অরিত্র উত্তর দিল না।
সে শুধু বাবার চিঠিটা পকেটে রাখল।
“আমাদের হাসপাতালে যেতে হবে।”
রাত সাড়ে দশটা।
হাসপাতালটি বহু বছর আগে বন্ধ হয়ে গেছে। চারপাশে আগাছা, ভাঙা দেওয়াল, মরচে ধরা গেট। কিন্তু ভিতরে ঢুকতেই অরিত্র দেখল, একটি ঘরে আলো জ্বলছে।
ঘরটির দরজায় লেখা—
‘গবেষণা বিভাগ—প্রবেশ নিষেধ।’
দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকতেই তারা দেখল, অরিন্দম একটি টেবিলের সামনে বসে আছেন। তাঁর সামনে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য নথি, পুরোনো ছবি এবং একটি ছোট্ট ধাতব যন্ত্র।
বাবাকে দেখে অরিত্র ছুটে গেল।
“তুমি এখানে কী করছ?”
অরিন্দম মুখ তুললেন।
“তোমাদের এখানে আসার কথা ছিল না।”
অদিতি বলল, “আপনি আমাদের কাছ থেকে আর কত কিছু লুকিয়ে রাখবেন?”
অরিন্দম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
“আমি তোমাদের রক্ষা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন বুঝতে পারছি, সত্যিটা লুকিয়ে রাখা আর সম্ভব নয়।”
তিনি টেবিলের উপর একটি ছবি রাখলেন।
ছবিতে একটি ছোট্ট ছেলে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে। তার পাশে একজন চিকিৎসক। ছবির নীচে লেখা—
‘১৭ নভেম্বর, ১৯৯৮। পরীক্ষার প্রথম পর্যায়।’
অরিত্র ছবিটা হাতে নিয়ে দেখল।
ছেলেটি তার মতো দেখতে।
কিন্তু ছবির পিছনে একটি অদ্ভুত তথ্য লেখা ছিল—
‘রোগীর বয়স: ০ বছর। পর্যবেক্ষণের সময়: ৪৮ বছর।’
অরিত্রর গলা শুকিয়ে গেল।
“এটা কীভাবে সম্ভব?”
অরিন্দম বললেন, “এটাই চৌদ্দ নম্বর ঘরের প্রকৃত রহস্য। সেখানে সময়কে আটকে রাখা হয়নি। সেখানে মানুষের স্মৃতি আর সম্ভাব্য জীবনের রেকর্ড তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার সময় কিছু রেকর্ড বাস্তব মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে যায়।”
“তাহলে ঘরের ভিতরে যে লোকটিকে দেখেছি, সে কি বাস্তব নয়?”
“সে বাস্তবও হতে পারে, আবার তোমার স্মৃতির প্রতিফলনও হতে পারে। আমি এখনও নিশ্চিত নই।”
অরিত্র বাবার দিকে তাকাল।
“তুমি কি জানো, সে আমাকে কী বলেছে?”
অরিন্দম মাথা নাড়লেন।
“সে বলেছে, আমার প্রথম জীবন শেষ হয়ে গেছে। আর আমার দ্বিতীয় জীবনও শেষ হতে চলেছে।”
অরিন্দমের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।
“তাহলে সে তোমার কাছে পৌঁছে গেছে।”
“কে?”
বাবা উত্তর দেওয়ার আগেই ঘরের পিছনের দেওয়ালে থাকা একটি মনিটর নিজে থেকেই জ্বলে উঠল।
পর্দায় দেখা গেল চৌদ্দ নম্বর ঘর।
সেই যুবকটি আবার চেয়ারে বসে আছে।
কিন্তু এবার তার সামনে আরেকজন মানুষ দাঁড়িয়ে।
অরিত্রর মতো দেখতে সেই যুবকটি মাথা তুলল।
আর তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটি মুখ ঘোরাতেই অরিত্র চিৎকার করে উঠল।
কারণ লোকটি আর কেউ নয়।
অরিত্র নিজেই।
কিন্তু তার মুখে গভীর ক্ষত, চোখের নীচে কালো দাগ, আর গলায় রক্তের চিহ্ন।
মনিটরের ভিতরের অরিত্র ধীরে ধীরে ক্যামেরার দিকে তাকাল।
তারপর বলল—
“বাবা, ওকে বলো, চৌদ্দ নম্বর ঘর থেকে যেন আর কখনও বেরোতে না পারে। কারণ ও যদি বাইরে আসে, তাহলে আমি জন্মাব না।”
মনিটর অন্ধকার হয়ে গেল।
অরিত্র বাবার দিকে তাকিয়ে ফিসফিস করে বলল—
“বাবা… তাহলে আমি কে?”
অরিন্দম কোনও উত্তর দিলেন না।
শুধু টেবিলের উপর রাখা ধাতব যন্ত্রটি তুলে নিয়ে বললেন—
“এবার তোমাকে এমন একটি সত্য জানাতে হবে, যার জন্য হয়তো তুমি আমাকে কোনওদিন ক্ষমা করতে পারবে না।”
দ্বিতীয় পর্ব সমাপ্ত।