Categories
কবিতা

চিরন্তন পদাবলী ::: প্রবীর কুমার চৌধুরী।।।

সাধ জাগে হাস্নুহানার গন্ধ খুঁজি সুঘ্রানে
অসহ্য গাদাল পাতা ছড়ানো পথে ।
সকালগুলো বড় ভয়াভয়-
চোখ খুলতেই ভয় আর আতঙ্ক ।
প্রেয়সীর ছলনা, কুমারী যৌবনের কান্নায় দিশাহারা হই,
এখনও প্রাত্যহিক মৃত্যু মিছিল চলে, অশ্রু ঢালে-
বশ্যতা স্বীকারে কঠোরতায় বাধ্য করে অবনী।

হয়তো খালি চোখে চাঁদকে মনে হয় মহাপ্রেমিক,
ক্ষনেক চুম্বন ধারায় ভরে যায় এ দেহ, মন,
জোছনার স্নিগ্ধধারায় যে কামনার সঙ্গম –
অবশেষে নষ্ট চন্দ্রের যন্ত্রণাময় দংশন।
আলোছায়ার পরে আছে উলঙ্গ কুয়োতলা
চেনা চামড়ার মধ্যে লুকিয়ে আছে একটি লাশ
তবে কি মুক্তি দিলো কুৎসিত পৃথিবীর কারাগার ?

খিদেওয়ালা ডেকে তোলে নিত্য তার যা অভ্যাস,
এবার শুরু হবে দৈনন্দিন কালযাপনে হিংস্রতায় অবগাহন।

সংরক্ষিত
গড়িয়া,কলকাতা।

Share This
Categories
কবিতা

ঘুম ভেঙে এসো ::: প্রবীর কুমার চৌধুরী।।।

অবক্ষয়ের করাল ছায়ায়-
আজ সব কবলিত, তবুও মায়ায় নিরুপায় ।
সীমাহীন আস্পর্ধায়-
কলঙ্কিত এ অধ্যায়,
তুমি চুপ কেন দুঃসময়ে, শিক্ষার দম্ভ?
এইতো সময় দক্ষযজ্ঞের,হয় হোক আরম্ভ।

চাতকের মতো অপেক্ষার জল না চেয়ে
কলমে রক্ত ভরে বিদ্রোহে এসো ধেয়ে।
সবলা, অবলা,যত নিচের তলা, হোক উত্থান,
সূর্যের আগুনে ঝলসিয়ে করব মহাপ্রস্থান।
ইতিহাস কথা বল,আর নয় চোখ ছলছল,
অমৃত ছেঁচে অশনিকে দেব হলাহল।

সংরক্ষিত/ প্রবীর কুমার চৌধুরী

Share This
Categories
কবিতা

ঘুরবে কি চাকা ::: দেবদাস চৌধুরী।।।

হৃদয়ের বীনায় যে সুর বাজে-
দক্ষিণা বাতাসে ভেসে পৌঁছাবে তোমার কাছে।
মনের নীল লেফাফায় সোহাগের আতর মাখিয়ে-
কিছু সংলাপ পাঠিয়েছিলাম তোমার নিভৃত অন্দরমহলে,
এখনও অজানা তোমার দুচোখের স্নেহধন্য কিনা।

দীর্ঘ অপেক্ষায় ফিরে আসবে সময়
ফিরে আসবে একদিন ঘুরতে ,ঘুরতে চাকা।

জনতার স্রোতে নিত্য ভেসে যাই
খাঁটি মানুষের সন্ধানে ,সন্ধানে দিবস কাটাই,
সত্যের ইতিহাস জানি চাপা থাকার নয়, কোন আগুন্তুফে।
নিত্য যুদ্ধে রণক্লান্ত সময় তবুও সূর্যে আবর্তনে পোড়ে,
এই ভিটার মাটির আবর্তনে আজও তোমার অবয়ব গড়ে।

কিযে হবের আতঙ্কের জাল বিছায় নিষ্ঠুর পৃথিবী
তবুও না বোঝার ভান, রীতি ভাঙছে পর্বতারোহী।

সংরক্ষিত
গড়িয়া,কলকাতা।

Share This
Categories
কবিতা

ওম শান্তি ওম :: প্রবীর কুমার চৌধরী।।।

যুগসন্ধিক্ষনের এই নৈশব্দ ভেঙে এস
পায়ে পায়ে সব দ্বিধা মাড়িয়ে
আমার ভগ্নকুঁড়ের এক চিলতে দাওয়ায়
পরম শান্তির ঘন জ্যোৎস্না মাখতে ।
চাঁদনীর গভীর রাতে কোন উপাখ্যান আমি শোনাতে চাইনি
কিংবা তোমার নরম বুকের গভীর খাদের উষ্ণতা ।

আমি সাগর পারের চঞ্চল ঢেউ গুনতে-গুনতে
তোমাতেই বিলীন হতে চেয়েছি অনাদিকাল ধরে
আর তখনই তুমি নগ্নহয়ে দাঁড়িয়ে ছিলে সূর্যের গায়
আমার এ তনু,মন শিউরে উঠেছিল ,অনাগত অভিশাপ
আকাশ, বাতাস মথিত করে লীন হল তোমার গর্ভে
সেদিন থেকেই শুরু হলো পৃথিবীর দুঃস্বপ্নের রাত।

নদী হয়ে প্রবাহিত হতে চেয়েছি তোমার মরুপ্রায় গহন মনে
আমি চেয়েছি আমার শীতল তরঙ্গ মালায় তুমি-
নৈঃশব্দের অবগাহনে নির্মল ,পবিত্র হয়ে
পাঞ্চজন্য হাতে আজীবন ব্রতী হবে সাধনায়
তোমার গর্ভজাতর সৌম্যকান্তি অবয়ব
উচ্চারণ করবে ” ওম শান্তি ওম, শান্তি,শান্তি ওম …”।

সংরক্ষিত
গড়িয়া,কলকাতা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব ডাক দিবস, জানুন দিনটির ইতিহাস।

বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৪: পোস্ট হল চিঠি লেখা এবং পার্সেল পাঠানোর একটি পদ্ধতি।  পোস্ট হল একটি যোগাযোগ যা লিখিত আকারে।  লিখিত চিঠি বা অন্য কোন পার্সেল যা অন্য ব্যক্তির কাছে পাঠানোর প্রয়োজন তা পোস্ট অফিসে পোস্ট করা হয়।  পোস্টম্যান পোস্ট অফিস থেকে চিঠিপত্র এবং পার্সেল সংগ্রহ করে সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়।  পোস্ট অফিসের প্রাথমিক কাজ হল চিঠি বা পার্সেল সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, প্রেরণ এবং বিতরণ।  এটি যোগাযোগ করতে দীর্ঘ দূরত্বে থাকা লোকেদের সাহায্য করে।  রোমে অগাস্টাস সিজারের (62 BCE – 14 CE) সময়ে প্রথম ডাক পরিষেবা সংগঠিত হয়েছিল।  অধিকন্তু, সারা বিশ্বে ডাক ব্যবস্থা খুব দ্রুত বিকশিত হয়েছে।  এখন স্কটল্যান্ডের সানকুহারের হাই স্ট্রিটে সবচেয়ে পুরানো পোস্ট অফিস।  ব্রিটিশ পোস্টাল মিউজিয়াম অনুসারে, এই ডাকঘরটি ১৭১২ খ্রিস্টাব্দ থেকে কাজ করছে।  প্রতি বছর ৯ই অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়।  এই নিবন্ধটি আপনাকে বিশ্ব ডাক দিবসের ইতিহাস, বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৪ থিম, বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৪ এর তাৎপর্য, বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৪ উদ্ধৃতি এবং বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৪ সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ FAQs এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে সাহায্য করবে।

বিশ্ব ডাক দিবস 2023: ইতিহাস

১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) কংগ্রেস কর্তৃক বিশ্ব ডাক দিবস প্রথম ঘোষণা করা হয়। ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয় কারণ এই দিনে ১৮৭৪ সালে সুইজারল্যান্ডে সার্বজনীন ডাক দিবস শুরু হয়েছিল। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন যোগাযোগে বিশ্বব্যাপী বিপ্লব শুরু করে এবং এটি বিশ্বের অন্যদের চিঠি লেখার ক্ষমতা শুরু করে। বিশ্ব ডাক দিবস শুরু হওয়ার পর থেকে, সারা বিশ্বের দেশগুলি এই দিনটি উদযাপনে অংশ নেয়।
বিশ্ব ডাক দিবসের থিম ২০২৪

বিশ্ব ডাক দিবসের থিম 2024 তার যাত্রা জুড়ে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক উদযাপন করে, যার থিম ” যোগাযোগ সক্ষম করার 150 বছর এবং সারা দেশে মানুষের ক্ষমতায়ন” । এই থিমটি ডাক ব্যবস্থার রূপান্তরমূলক ভূমিকাকে সম্মান করে যেখানে ডাক পরিষেবাগুলি বিশিষ্ট এবং বিগত দেড় শতাব্দিতে সারা বিশ্বে মানুষ, ব্যবসা এবং সরকারকে সংযুক্ত করে ভূমিকা পালন করেছে৷
থিমটি চিঠির মাধ্যমে মৌলিক যোগাযোগ সহজতর করা থেকে আজকাল বৈশ্বিক ই-কমার্স এবং আর্থিক পরিষেবাগুলিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হয়ে ওঠার যাত্রাকে তুলে ধরে ৷ আমরা যখন বিশ্ব ডাক দিবস 2024 উদযাপন করছি , তখন এই থিমটি দূরত্ব কমিয়ে, সম্প্রদায়ের ক্ষমতায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রচার করার সময় ডাক পরিষেবার স্থিতিস্থাপকতা, অভিযোজনযোগ্যতা এবং উদ্ভাবনকে স্বীকার করে।

বিশ্ব ডাক দিবস ২০২৪: তাৎপর্য

ডাক খাত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্ব ডাক দিবস পালন করা হয়।  এই দিনটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ডাক সেক্টরের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কেও স্মরণ করিয়ে দেয়।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ডাক খাতের অবদান জানার জন্য বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়। ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন তরুণদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক চিঠি লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।  প্রতি বছর এই দিনে, ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন বছরের সেরা পোস্ট পরিষেবা ঘোষণা করে।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
কবিতা

কবিতায় কান্না ::: প্রবীর কুমার চৌধুর।।।

কবিতার নিচে চাপাপড়া অব্যক্ত কান্না-
তুমি শুনেছ কি ?
জানালার নীচে জমে থাকা কালোর মধ্যে
অসংখ্য ভাইরাস মোহচ্ছব করে
তুমি দেখছো কি ,?

জীবনের ধারাপাত ঝড়ে পরে শূন্যতার দেওয়ালে
ঝাপসা চোখদুটো অন্ধকারেই নিশ্চিন্ত।
কবিতার এখনও কি সময় হয়নি ঘুম ভাঙার ?
রক্তাক্ত শরীর ব্যবচ্ছেদের ঘৃন্যজীবন –
এর পরেও কি ঈশ্বর্তুল্যের সম্মান প্রত্যাশায় ?

আচরণ বিধি সাইনবোর্ডে জ্বলজ্বল নক্ষত্রের মতো
আচরণ বিধি ভাঙার প্রতিযোগিতায় দোষারোপ
আমি তো অনুধাবন করি বাধ্যবাধকতায়-
নিষ্পেষিত জনজীবন।
তুমি দেখেছো কি সময়ের প্রহসন?

এসো মাটি কিনি দুইগজ, তারপর –
ছাইমেখে মেখে হই নির্লোভ ভোলানাথ
ভস্মীভূত হওয়ার আগে একবার তোমাকে ছুঁয়ে-
দেখতে চাই নব্য বিশ্বরূপ
করোনা,আমফান,নিঃস্বর্গ ত্রাসে -ত্রাসে ঈশ্বর।

Share This
Categories
কবিতা

চাপা থাক অলিন্দে :: প্রবীর কুমার চৌধুরী।।

আজকাল ডানাদুটো ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ে,
স্বপ্নের পাহাড় ডিঙাতে অপারগ হয়ে-
নেমে আসি আচেনা আঙিনায়।
অপরিচিত চোখগুলো অপার বিস্ময়ে জরিপ করে,
ঠিক তখনই তুমি হয়তো আমাতেই নদী খোঁজ-
তোমার শুস্ক,রুক্ষ সময়ের অবগাহনে।

চাঁদের রূপের বহিঃপ্রকাশ জ্যোৎস্নার বিভাবরী,
সেই মুহূর্তে তোমার অষ্টাদশী এলোচুলে-
আমার হারানো যৌবন স্মৃতির পথ ধরে হাঁটে,
অশান্ত বেলার অন্বেষণে প্রখর রৌদ্রে ।
এপাশ-ওপাশ ঠেলেঠুলে রক্তমাংসের কিছুটা দলা উঠে আসে,
খুশির মেহেন্দি মাখা দুটি হাতে খুঁজি হারানো চিরশ্বাশত প্রেম।

উৎস থেকে বিচ্যুত বেদনায় মেঘমালা ঝড়ে পড়ে,
এসো সেই বৃষ্টিতে ভিজে,ভিজেই চোখের জল লুকাই।
অনভিপ্রেত বিধ্বংসী পতনের বাধা পেড়িয়ে,পেড়িয়ে-
আজ কোত্থাও না থেমে অতৃপ্তির কাঁটা তুলি প্রতিটি হৃদয়ের।
কবিতা যা লিখেছি সব জমা থাক আগামীর দেরাজে,
অন্তর্নিহিত অক্ষরমালায় বিদ্রোহ রেখে গেলাম আগামীর সঞ্চয়ে।

সংরক্ষিত
গড়িয়া,কলকাতা।

Share This
Categories
কবিতা

এই দুঃসময়ে :: প্রবীর কুমার চৌধুরী।।

বড় দুঃসময় ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে সমানে
পাঙ্গাস আকাশ শোকাতুর,বিহ্বল ভয়াভয় তুফানে।
বেলাশেষে গোধূলি আজ প্রেমহীন,অপাংতেও,
রক্ষা নেই একান্তেও ,পাকেচক্রে দৈবপাকে নিষ্কৃতি মেলে।

বড় অসহায় তিমিরে মৃত্যুহাসে একনাগাড়ে,
আত্মীয়-পরিজন নিপাত্তা,খোঁজহীন বিবরে,
শ্মশান বন্ধু এখন শুধু ইতিহাস খোঁজে ভয়ে,ত্রাসে।
সকল রোগের নিদানে একই নামাবলি গায়।

এতো কষ্টেও হাসি আসছে,শ্মশান পথেও –
নিজেকে পুরুষ্ট করার নির্লজ্য প্রয়াস, নানা মতেও-
শেষ সময়েও মিথ্যার নিবীত ঢাকা আঙিনায়
কেউ,কেউ প্রকাশে ব্যস্ত দানের খতিয়ান।

পৃথিবী জুড়েই নিস্কৃতির ব্রহ্মাস্ত্র খুঁজতে খুঁজতেও –
ক্লান্তিতে ভেঙে পড়ে কিছু মানবিক। ঘুমহীন ব্যস্ত কাকভোরেও।
এতো জেনেও উর্ধলোকের কিছু অর্বাচীন অবহেলায় মত্ত-
বেহুশ,বেতাল ,লেখে নিত্য অনিয়ম জীবনের পাঁচালি।

একটু শান্তিতে থাকতে দাও ঈশ্বর,গর্বিত আওয়াজে-
তোমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নাভিশ্বাস উঠছে সমাজে।
জানি অনিচ্ছাতেও যেতে হবে ,মৃত্যুদূত দাঁড়িয়ে দরজায়,
আর নিষ্প্রয়োজন সহমর্মিতা,জানি মেঘে বৃষ্টি নেই যতটা গর্জায়।

সংরক্ষিত
গড়িয়া, কলকাতা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং এর গুরুত্ব।।।

১৯৯৫ সাল থেকে, প্রতি বছর ৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।  শিক্ষকদের অবদানকে স্মরণ করতে এই দিনটি পালন করা হয়।
ইউনেস্কোর মতে, শিক্ষা ও উন্নয়নে শিক্ষকদের অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি দিতে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।
বিশ্বের ১০০টি দেশে এই দিবসটি পালিত হয়।  এডুকেশন ইন্টারন্যাশনাল এবং এর ৪০১টি সদস্য সংস্থা এই দিবসটি উদযাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  দিবসটি উপলক্ষে, জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষকতা পেশার অবদান স্মরণ করতে ইআই প্রতি বছর একটি থিম নির্বাচন করে।
ইতিহাস—
৫ অক্টোবর, 1966-এ UNESCO/ILO শিক্ষকদের মর্যাদা বিস্তারিত করার জন্য ফ্রান্সের প্যারিসে একটি আন্তঃসরকারি সম্মেলনের আয়োজন করে এবং সম্মেলনের শেষে ইউনেস্কো এবং ILO-এর প্রতিনিধিরা এই সম্মেলনের সুপারিশে স্বাক্ষর করেন।  প্রথমবারের মতো, এই সুপারিশটি বিশ্বজুড়ে শিক্ষকদের অধিকার, এবং দায়িত্ব এবং শিক্ষকতা পেশার বিভিন্ন দিক বর্ণনা করেছে।
১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর, UNESCO শিক্ষকদের অংশগ্রহণ ও উন্নয়নে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করার জন্য এবং শিক্ষার বিষয়ে শিক্ষকদের সমস্যা এবং অগ্রাধিকারগুলি তুলে ধরার জন্য প্রথম বিশ্ব শিক্ষক দিবস তৈরি করে।  ৫অক্টোবর তারিখটিকে আন্তর্জাতিকভাবে শিক্ষক দিবস উদযাপনের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল কারণ এটি ছিল ১৯৬৬ ILO/UNESCO সুপারিশ গ্রহণের বার্ষিকী।  এই সুপারিশ গ্রহণ করার সময়, সরকার যোগ্য, যোগ্য এবং অনুপ্রাণিত শিক্ষকের গুরুত্ব উপলব্ধি করে।
১১ নভেম্বর, ১৯৯৭-এ, ইউনেস্কোর ২৯ তম অধিবেশন চলাকালীন, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষকতা ও গবেষণা কর্মীদের কভার করার জন্য একটি সুপারিশ গৃহীত হয়েছিল।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৩ থিম—
এই বছর, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের মূল প্রতিপাদ্য কেন্দ্রীভূত হবে, ‘আমাদের যে শিক্ষার জন্য শিক্ষক প্রয়োজন: শিক্ষক ঘাটতি দূর করার জন্য বিশ্বব্যাপী অপরিহার্য।’  থিমটির লক্ষ্য বিশ্বে শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের ক্রমহ্রাসমান সংখ্যার উন্নতি করা।
শিক্ষক দিবসের গুরুত্ব—-
বিশ্ব শিক্ষক দিবসে শিক্ষকদের সেবা এবং শিক্ষায় তাদের অবদানকে স্বীকৃত করা হয় এবং ছাত্র ও সমাজের উন্নয়নে তাদের ভূমিকা ও গুরুত্বের প্রশংসা করা হয়।
শিক্ষক দিবস এমন একটি উপলক্ষ যা শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে এবং তাদের পেশা সম্পর্কিত কিছু সমস্যা সমাধানের প্রবণতা রাখে এবং তাই এই পেশার প্রতি উজ্জ্বল তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে।
বিভিন্ন সংস্থা যেমন UNESCO, Education International (EI), UNICEF, UNDP, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), ইত্যাদি এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রচারাভিযান এবং সম্মেলনের আয়োজন করে।  ইউনেস্কো প্রতি বছর এই দিবসের জন্য একটি থিম বরাদ্দ করে এবং এই থিমের উপর প্রচারণা চালায়।
UNESCO হামদান বিন রশিদ আল-মাকতুম পুরস্কার বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রতি দুই বছর পর পর অসাধারণ শিক্ষকদের জন্য US$300,000 প্রদান করা হয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৩  বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৩—-
শিক্ষক দিবস একটি বিশ্বব্যাপী পালনীয় এবং এটি সরকারি ছুটির দিন নয়।  বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপনের তারিখ দেশ অনুযায়ী পরিবর্তিত হতে পারে।  উদাহরণস্বরূপ, জাতিসংঘ (UN) বেশ কয়েকটি দেশের সাথে প্রতি বছর ৫ অক্টোবর এই দিনটি উদযাপন করে, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার মে মাসের প্রথম পূর্ণ সপ্তাহে এবং অস্ট্রেলিয়া অক্টোবরের শেষ শুক্রবার এটি পালন করে।
১০০ টিরও বেশি দেশ বিশ্ব শিক্ষক দিবসকে স্মরণ করে এবং প্রতিটি দেশ এই অনুষ্ঠান উদযাপনের জন্য নিজস্ব তারিখ রাখে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—-
বিশ্ব শিক্ষক দিবস একটি বিশ্বব্যাপী পালন।  এটা সরকারি ছুটির দিন নয়।
ইউনেস্কো প্রতি বছর এই দিবসের জন্য একটি থিম বরাদ্দ করে।
১০৯ টিরও বেশি দেশ বিশ্ব শিক্ষক দিবসকে স্মরণ করে এবং প্রতিটি দেশ নিজস্ব উদযাপন করে।
প্রথম বিশ্ব শিক্ষক দিবস ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর, শিক্ষকদের মর্যাদা সম্পর্কিত ILO/UNESCO সুপারিশের ১৯৬৬ সালের বার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।  এই সুপারিশটি শিক্ষকদের অধিকার, দায়িত্ব, মান, নিয়োগ, এবং শিক্ষাদান ও শেখার শর্ত বর্ণনা করে।
১৯৯৭ সালে, ইউনেস্কোর ২৯ তম অধিবেশন চলাকালীন, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষকতা ও গবেষণা কর্মীদের কভার করার একটি সুপারিশ গৃহীত হয়েছিল।
ইউনেস্কো সু-প্রশিক্ষিত এবং যোগ্য শিক্ষকের সরবরাহকে তার শীর্ষ অগ্রাধিকারগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে।
ইউনেস্কোর মতে, একজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক হলেন সেই ব্যক্তি যার নির্ধারিত যোগ্যতা রয়েছে এবং তিনি ন্যূনতম সংগঠিত শিক্ষাগত শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, যা একটি প্রদত্ত দেশে প্রাসঙ্গিক স্তরে শিক্ষাদানের জন্য প্রয়োজনীয়।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস শিক্ষকতা পেশাকে প্রচার করার একটি সুযোগ।
২০০২ সালে, কানাডা একটি ডাকটিকিট জারি করে বিশ্ব শিক্ষক দিবসকে সম্মানিত করে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবসের তাৎপর্য কী?
শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের অবদানের জন্য শিক্ষকদের সম্মান ও প্রশংসা করার জন্য বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়।  এদিন স্কুল-কলেজে শিক্ষকদের সম্মানে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
কবিতা

কালবেলায় অবগাহন ::: প্রবীর কুমার চৌধুরী।।।

আজানুলম্বিত বাহু মেলে মস্তিষ্কে হাত রাখে বিধাতা
হস্তনির্গত বিষধর সাপ যেন বহুফনায় করে দংশন
নীলকণ্ঠ নহি,নীলাক্রান্ত মৃত্যুই প্রাত্যহিক উপসংহার।
ভক্তি বিনত নত মাথা,মিথ্যা অভিশাপে ভরাও হে কালকূট।

কালবেলার সরিয়ে চাদর ঘুমন্ত দাবনায় রাখে মাথা,
কামনায় আবৃত চোখে প্রস্ফুটিত স্তন পান করে জিঘাংসায়।
নগ্নতায় ভরায় এ ধরণীর নির্মল সিঁথির সিঁদুর,
তারপর বেশ্যাদ্বারের মাটি শুষে নেয় সহস্র সতীর অশ্রুবিন্দু।

শুস্ক নদীতে পচা, গলা,ফোলা প্রাণহীন শবেদের অবগাহন,
বালুকায় অষ্টপ্রহর ভাঙা গড়ার চিরাচরিত ইতিহাস।
অগ্নিদগ্ধ দক্ষিণা বাতাসের তৃপ্তিহীন দীর্ঘশ্বাস বাতায়নে,
শতসহস্র পরিযায়ী ফিরে যায় ক্ষত বিক্ষত ডানা মেলে।

ঝরা পাতার দীর্ঘশ্বাস ,দূষণ,শোষণ আর লোভে মৃত্যু হাসে
প্রতি প্রভাতে গণিকার ঘুম ভাঙে শত ব্যথা বয়ে পাঁজরে ।
পুরুষের প্রতিস্পধী দেবী মাটি খোঁজে কুমারের টুলিতে, টুলিতে,
অনুশোচনায় চোখ মোছে স্বাধীনতা,অদৃশ্য বেড়ি পায়ে ক্লান্ত যৌবন।

সোনালী ধান প্রেতাত্মা হয়ে ঘুরে বেড়ায় সবুজ শস্য ক্ষেতে,
প্রাণহীন কাকতাড়ুয়া মহাশূন্যে হাত মেলে দীর্ঘ তপস্যায়।
আজ হয়তো কোন পোয়াতির গর্ভে অপেক্ষায় নির্ভীক-
পুরুষাকার, হয়তো দেশাত্ববোধের আগামী রূপকার।

সংরক্ষিত/ প্রবীর কুমার চৌধুরী।

Share This