Categories
কবিতা

চৈতন্য বিহীন কাপালিক ও অতৃপ্ত একোয়ারিয়ামের প্রেতপুরী : নিমাই জানা।

অবৈধ কনটাজিয়াস স্তন , মেগালড্রেট ক্যান্সার ফুলদানির টবের মত দোদুল্যমান প্যান্থারা চামড়ার কারখানা , টু পাই এইট ও স্বস্তিক ছত্রাক ভৃঙ্গের মতো প্রচেত বীজের দাঁতালো পাখিদের ক্যাটায়নিক হাড়ের থেকেও আরো ক্ষুদ্রতম কোন বিমুগ্ধ সরোবরে তিনটি প্রেত মাংস বিক্রি করা ময়ূরী স্নান করছে মেনকা গন্ধের ইবলিশ দাঁতের মার্গ শাস্ত্র দিয়ে , সারারাত তিনটে জবাই নিজেদের পোশাকে কটকটে তৈলাক্ত একটা গলা বন্ধ খুনিকে ধরে রেখেছে ভ্যানিসেবল আরবিয়ান মেন্থল হ্যান্ডওয়াশ বেসিনের উন্মুক্ত তলপেটে, জীবিত মাংস খেয়ে বমি করছি কাইনেটিক মাংসের ,

কটকটে খুনিদের গলা ধোয়া রক্তাক্ত জলের ভেতরে ক্যানবেরি, মার্গার পাখিদের রমন দৃশ্যের অনিষিক্ত ডিম্বকোষের তরল গলাটাকে ডুবিয়ে লাল চৈতন্যের কাপালিকের রোমাঞ্চে পূর্ণ ৩৩ উপপাদ্যের লিঙ্গবর্ধক রক্ত নালিকা আবিষ্কার করি কুকুরদের ধরে ধরে,  কৃত্রিম গলার হাড় তৈরি করি অথচ যজ্ঞের পিতার ডিম্বকোষে কামড়ে ধরে তেরো ডিগ্রি শুক্র মাখানো পিঁপড়ের ফরমিক লেজের ক্ষার বিষয়ক সোডিয়াম সাইট্রেট চামড়ার উপর ন্যাতানো ফেটে যাওয়া ডিমের নেতানো নুলিয়াটি সাঁতারুদের ধরে ধরে গর্ভপাত ঘরে নিয়ে যাচ্ছে , কবরের ভেতর নিঃশব্দে বসে থাকা কালো মাকড়সা হত্যাকারীর জঘন্য অন্ধকারের কার্বোনেট ঈশ্বরের তাপ বিক্রি করা তলপেটের অদ্রবীভূত খণ্ডাংশ , বিজ্ঞাপন বিহীন শৌচাগারে থকথকে শ্যাওলা জেগে ওঠা অতি নাইট্রোজেনঘটিত চিৎকারে নখ ডুবিয়ে লিঙ্গের ভেতরে জমে থাকা স্কোয়াশ ছাড়াচ্ছি , লিঙ্গের ভেতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছি ১২ এম এম ক্যাথিটার ও ব্রাকিয়ালের রক্তের ভেতরে এক একটি ডায়ালিসিস নল সারারাত প্রশমশালায় লাল রঙের তুলোতে মুখ গুঁজে ক্ষুধার্ত হয়ে পড়ি নিজের রেচনালীর মাংস খাব , কে জান্নাত দেখি রক্তের ফোটা দেখে বমি বন্ধের ঔষধ দেখে ঠোঁটের স্কোয়া মাছ দেখে নৌকা দেখে নৌকার ভিতর লুকিয়ে রাখা প্রেম দ্রব্য দেখে যারা নারীর তলপেটে অদৃশ্য কাজ ভাঙ্গায় আয়নায় মুখ ভেঙ্গে দ্রোণাচার্য ভাঙার কুরুক্ষেত্রে পৃথিবীর নষ্ট নক্ষত্রের বংশধরদের প্রিম্যাচিউ ইজাকুলেশন দেখে ,

হায় চর্বি!  তিন দিন হল আমার মুখের কাছে একটা কালচিতিকা সাপ নষ্ট মলমূত্র আর মুত্রের খনিতে ১৩৩ জোড়া মাথা কাটা ভ্রুণের রোস্টেট বিস্কুট রেখে যাচ্ছে , নিজের দেহটাকেই দেখি উলঙ্গ করে , গোলাপের পাঁপড়ি মাখাই মরচে লাগা স্ক্রু টাইট দেই মাথার ক্রেনিয়ালে পিঠের সপ্তম কক্সিসে ঢুকিয়ে দেই অ্যাবাকাস আর প্লাস্টিক পাইপের ভাঙ্গা টুকরো। ঘুমের ঘোরে পিতার সাথে ভ্রমণ করি ঢেলে দেই পাতলা বীর্য আর একটা পরিতক্ত পুকুরে ফেলি ঘোড়ার ডিম
প্রতিটি হাতে অভিশাপ মাখানো আছে , পিতাকে প্রণাম করতে নেই ছুঁতে নেই ঈশ্বর ভাবতে নেই ছাল ছাড়াতে নেই বায়ুমন্ডলে নিয়ে যেতে নেই বারুদ মাখাতে নেই কঙ্কালের মুখে টক লেবুর জেলিফিকেসন খাওয়াতে নেই অথচ তার দিকে তাক করে রাখতে হয় অর্গাজমোগ্লিপিক লিঙ্গ , হিমায়িত এমব্রোয়ডারি বীজের রক্ত উদ্রেক আগ্নেয়শিলার থেকেও আরো ধ্বংসাত্মক কোন মহাজাগতিক নক্ষত্রের ঋষি পুত্রের ভরদ্বাজ বিধ্বংসী অস্ত্রের নৈঃশব্দ্য শ্বেতাঙ্গ অস্থিসন্ধি থেকে বেরিয়ে পৃথিবীর নীহারিকায় অজস্র ব্রহ্মাণ্ড খুঁজে বেড়াচ্ছে আমার শরীরের নীলাভ ও মেনকা পুরীতে বাস করা বাদাম রঙের ফুসফুস বিক্রেতা , আমি মাঝরাতে হাসপাতালের মর্গে যাই হাসপাতালে রোডে যাই কুয়াশার কামড় খেতে খেতে এখানে হাঁ করে তাকিয়ে থাকি ব্যালকনির ডিপ লাল পিঙ্গলার সাথে সাথে রমন বিকারক অগ্নুৎপাত অন্তর্বাসে , তরুণ সর্দি ও জাইলেম ফেলা কুকুরের জুতো মুখে করে উঠে যাই সিঁড়ি দিয়ে দেখি রাজহাঁসের চিৎকারে ইলিশ মাছেরা রক্তের স্রাব  চেটে চেটে খাচ্ছে শেষ রাতের যৌন বর্ধক খেয়ে ।

পৃথিবীতে তিনজন লোহার ব্যবসায়ী কোনদিন গ্রেপ্তার হয়নি যাদের জাহাজ ছিল তারা মাঠে ব্রহ্মাকে পুষে রাখত আর কাঠের উনুনে ভাজতে দিত নিজের মালপিজিয়ান নালিকা , গলার ভেতরে টি বি রোগের রোগীরা জরায়ু বিক্রি করে পৃথিবীর জন্য নীলনদ কিনতো , কাঁচের মতো স্ফটিক ও ঘনত্বময় মোমের প্রলেপ মাখিয়ে গেঁথে দেয় জীবিত ও মৃত মানুষের মাথার ব্লেড , পৃথিবীতে ব্রহ্মচর্য জানে না বলে তার তলপেটে আঙ্গুরের সিস্টাইটিস গুলো অহেতুক পলল গন্ধের মহাপ্রাকৃত জননাঙ্গে পুঁতে দিচ্ছে একটা অমৃত মানুষের জীবন ও চরক সংহিতা সমূহ পৃথিবীতেই শুধু আর্থাইটিক মানুষদের নষ্ট বরফের ভেতর ডানাওয়ালা একটি করে গুপ্ত হত্যার মহার্ঘ্য গুদামঘর আছে , গুদাম ঘরে যাই সাবক হত্যাকারীদের ফনা নিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে ভেঙে দেই বরফের হিমালয় অদৃশ্য চামড়া গুলো জলে ভিজিয়ে পৃথিবীর জন্য নৌকা বানাচ্ছে আর উলঙ্গ ঈশ্বর তৃতীয়বার হোয়াইট ওয়াসেবল ভি জেল নিয়ে জানালার পাশে একুরিয়াম বানাচ্ছে লবঙ্গের কাঠ দিয়ে।

মাছেদের মতোই আঁশের ভেতরে নিহত পাতালপুরির সব জন্মের পরজন্ম পরজন্মের পর অতি জন্ম অতি জন্মের পরও কারণ জন্ম কারণ জন্মের থেকেও অচ্ছ্যুৎ জন্ম ফেলে স্তনবিহীন নিউট্রিনো রাক্ষসেরা সাতটি কঙ্কালের মাথা নিয়ে জগদীশ্বর গর্তের ভেতর অলৌকিক মহাপ্রদীপ জ্বেলে সঙ্গমশূন্য যক্ষ্মার ঔষধি ও ঔষধালয়ে মৃত তামাক গাছের চাষ করছে , প্রতিটি প্রস্রাব শৌচালয়ের প্রস্রাব ও পায়খানা ত্যাগের বিমুগ্ধ নিউক্লিয় ক্রন্দন বিষয়ক হড়হড়ে গন্ধর্বদেশে আমাদের মৃত পিতার একটি ভয়ংকর স্কেলিটন দাঁড়িয়ে আছে , আমি তৃতীয়বারের জন্য আবারো মৃত্যুর পোশাক পরে জলের অনেক অতলে উড়তে থাকা প্যারাগ্লাইডিং আর সারকো ফেরাস পর্বতের নিঝুম বরফের জিনসেং টুকরোয় নাচতে থাকা নিধুবন অপ্সরাদের ফ্রোজেন শোলডারের তলায় ঘামতে থাকা পাইনের জীবাণু আর লোমবর্ধক স্টেরয়েড লিপগ্লসে বারবার ফিরে আসা কমলালেবুর আত্মহত্যার সব গলার ফাঁস গুলো মৃত্যুর ভিতর ডি constructive আত্মহত্যা তত্ত্ব নিয়ে মেডিকেল সুপারভিশন দিচ্ছে যক্ষা রোগীদের জন্য , আর কোন সিংহাসন রথের বিবিধ অলংকরণ দৃশ্য নেই। জলাধারে জলাধারে অতৃপ্ত সঙ্গমের চর্ম রোগের চক্রাকার স্যুট প্যান্ট গলা কাটা গেজির রোমাঞ্চ পূর্ণ হাত গুলো নাইট্রিক ছত্রাকের মতো ঝুলে আছে। আমি অন্তর্বাসের ভেতরে লাল হলুদ পিত্ত নক্ষত্রের অবৈধ গাণিতিক দৃশ্য গুলো ভাঙতে ভাঙতে একটি ছায়াছন্নের ভিতরে ডুবতে থাকা শ্রমিকদের গায়ে ফুটে ওঠা এক একটা মুখ ঢুকিয়ে দেখি সব নিহত আততায়ীদের এক একটি যৌনাঙ্গে কর্কট রোগ বিষয়ক নিষিদ্ধ প্রবেশ পত্রের সতর্কীকরণ ঝুলে আছে , একাই মধ্যরাতে বিষাক্ত টমেটো ফলের জন্য চিৎকার করি ,

আমার আঙ্গুল থেকে লিঙ্গের অগ্রভাগ পর্যন্ত সব পাখিদের খন্ডিত অক্টোপাসের রোস্টেড দানাদার অ্যালকোহলিক স্নান ঘরের বাথটবে পৃথিবীর উত্তর মেরুর কাপালিকেরা মোমজনিত সাঁতার কাটছে , আমি নেট সিরিয়াল কিলার , খেজুর বাগানে ঢুকে নিজেরই ফোকাসের বিবর্ধিত ম্যাগনিফাইং আত্মহত্যা দেখিয়ে দিচ্ছি শ্বাস রোধ করে যারা ঝুলে পড়ে পৃথিবীর বুক থেকে তাদের যৌনাঙ্গ চোখের কণা স্তনের অগ্রভাগ থেকে রক্তের অতি দ্রবীভূত ঘনত্বহীন মাংসাশীরা জলের অনেক বোতলে ভেসে থাকা সাপেদের চামড়ার তলায় একটি ব্যায়ামাগারে ময়ূরাসন দৃশ্য দেখাচ্ছে , স্ত্রীলিঙ্গ নাবিকদের পিতার দেহ থেকে তাদের জড় পিতাকে চামচে করে নাড়িয়ে নাড়িয়ে ডাকি ,  পতিতা পিতাকে ডাকি পিন্ডের ভিতর ঢুকে যাই ঘৃতাহুতি দিয়ে যজ্ঞ শেষ করি পঞ্চশস্যের মতো আর কোনো আগুন জ্বলে না আমাদের এখানে , দুগ্ধবতী হরিণীরা অলৌকিক দৃশ্যের চিতা সাজানো কোভালামিনকে আত্মসমর্পণের বিবিধ অন্তরীক্ষে এক একটি মহীশূর অন্তর্ঘাতের টু এক্স ডিগ্রী দেখসো মিথাসন খাচ্ছে , পৃথিবীতে কফের দাম সব থেকে বেশি বলে প্রতিটি মৃৎশিল্পীর দোকানের কোণে প্যাকেটজাত বন্দী হয়ে কফেরা এক্সপায়ার ডেটের জন্য দিন গুনছে আর উঁকি মেরে দেখছে জিওল মাছের আছে লেগে থাকা চুম্বক।

আমি কোনদিন মৃত্যুর শরীরে নরম কিসমিস বুলিয়ে দিয়ে রক্তাক্ত রুদ্রকে ডেকে এনে খাওয়াতে খাওয়াতে সমুদ্রের কলঙ্ক দ্রাঘিমার নিশাচর সেজে যম অন্ধকারে সৌনক রণ নীতিতে সাজিয়ে ফেলছি ম্যাডপাই গাছের বিষধর অ্যান্টিভেনাম টু এম এল সুঁচ , ছুরির মতো তীব্র লিঙ্গ , বারুদের মতো ভূমিজ গলা , ধূপের মতো জাহান্নাম , আর চামড়ায় তৈরি স্বর্গের মতো মণি চক্র , অন্তঃপুরের কারাকোরাম ভেষজ দৃশ্য ,
পৃথিবীতে সব রেডিমেড পোশাকের দোকানে মৃত মানুষ গুলোই আসলে ভাঁজ করে শুয়ে থাকে দিনরাত , যাদের গলার কাছে সরু কফ থাকে বলে নল দিয়ে অক্সিটেটিভ রেডাকশন নিউক্লিয় বিস্ফোরণের থেকেও আরো সালফেট কোন অবৈধ পরজীবীরা জলীয় সংঘাতে পুঁতে দেবে এ জন্মের সব নিশাচর ইউটেরাস রিমুভাল কথা , প্রতিটি ঘরের চৌকাঠে ঝুলে আছে মৃত মানুষের সাতটি কঙ্কাল হাড় , অজৈব সারের কারখানা দুটো বিড়ালের চোখ দুটি বর্ষাতির ঠ্যাং হাফ বোতল এগারিকাস হলুদ জল ,  তাদের ভেতরে পাইন গাছের শ্বেত রক্তকণিকা বেড়ে যায় পাইন গাছে ঝুলে থাকে তরল দৈবক মহাপ্রাচীর মহা ব্যঞ্জন ময় ললিত চন্দ্রভাগা বৈদ্য নারীর বিশ্বামিত্র দাঁত, সেবিকাদের ডান স্তন , তাদের কোন দিন শরীরের ভেতর কালো কুচকুচে গম বাগানের হড়হড়ে ক্ষেত্রফল নেই অসুস্থ উপবৃত্তের মতো ,

আমিও ঘাতক সেজে শুঁয়োপোকার মতো নরম স্তন গাছগুলোকে উপড়ে ফেলি গর্ত করি অর্ধ সলভাসনে , জলজ কমলা লেবু উপড়ে উপড়ে বিধৌত পর্বতের খাঁজে রোপণ করি একটি নির্জন তৈলাক্ত দ্বিতীয় পরজন্মের অনিত্য সংসারে বেড়ে ওঠা কালো কুচকুচে কার্বনিক হাঁসের থেকেও আরো তীব্র তেতো কোন মাংসাশী আপেলের বাগান  , শৈলোৎক্ষেপ ঈশ্বরের রক্তচোষকের নারী আমার গলাটাকে কোনদিনই লাল পাথর গলানো জলে ডুবিয়ে ঈশ্বরের নবম জাহান্নামের পাতলা চামড়া গুলোতে আগুন লাগিয়ে আমাকে কোন মতেই ক্ষত্রিয় হতে দিচ্ছে না , একটা ডলফিন রেস্তোরাঁর নিচে আমি ও শঙ্খলাগা চিনামাটির তৈরি রূপলি মাছেদের সাথে আবহকালীন সঙ্গমের প্লেট গুলো দাঁত দিয়ে কামড়াতেই পৃথিবীর সব মৃত ক্রিয়া পদের হসন্ত স্তনে অদৃশ্য পোকা গুলো কিলবিল করে উঠছে ,  আমি একটি হত্যাকে লাল কৃষকের বাগানে পুঁতে দিচ্ছে আর ধর্মান্ধ ভ্যাজাইনাল ক্যাপসুল খেতে দিচ্ছি অলিখিত ইভিএম পরমাত্মাকে
এ ব্রহ্মাণ্ডে একটা ইলাস্টিক ছেঁড়া স্টেথোস্কোপ আর স্টেপলার হবে ? জনন ছিদ্রের মাথায় পিরামিডের রক্ত ভর্তি বেলুন আর সাদা আমাশা লিখবো !
নিমাই জানা
রুইনান , সবং, পশ্চিম মেদিনীপুর , ৭২১১৪৪
rudrapakhi1984@gmail.com
9733619088

Share This
Categories
কবিতা

খানিক সময় : শীলা পাল।

যদি কিছু নাইই লিখি
আমার মনের অন্দরে একটা ভালো লাগা
অনবরত মনে করিয়ে দেয়
সে তোমার ই আছে ।
এখন আকাশে সুসময়ের যাপন কথা,
তারায় তারায় বলা বলি
সকালের রোদে প্রেম আর প্রার্থনার সহবাস।
বৃষ্টি ধোওয়া আঙিনায় শিউলি ফুলের আল্পনা,
একটু পা সামলে উঠে এসো
তোমার জন্য সাজানো ঘর অপেক্ষায়,
উৎসব শুরু হয়ে যাবে খানিক পরে
সে সময়টুকু একটু ধৈর্য ধরো।

Share This
Categories
কবিতা

আমরা করবো জয় : প্রবীর কুমার চৌধুরী।

রঢাকের উপর পড়ছে কাঠি
কি মজা ভাই অনেক ছুটি
মায়ের আরাধনায়।

শব্দ শুনে ভুলিস নাকো
আনন্দ স্রোতে ভাসিস নাগো
পড়িস না বিড়ম্বনায়।

মা আসছেন,আকাশ হাসে, কাশের বনে দোলা
স্বপ্ন আঁখি সুরমা মেখে ভাসায় সুখের ভেলা
আগমনির সুর ভাসছে ,জাগছে দশভূজা।

মেঘ ভাসছে,মন হাসছে ,নানান খুশির মেলা
দুটিমনের মিলন আশে কাটছে অধীর বেলা
জানি,জানি বাঙালির সর্বশ্রেষ্ঠ এ পূজা।

ভুলিস নে ভাই ,মহাশত্রু ওতপেতে আজ বসে
বিশ্বমাঝে মৃত্যু মড়ক ছড়ায় হেসে-হেসে
নিরুপায়,অসহায় আজ ধরণী আচ্ছন্ন শোকে।

আমরা করবো জয় থাক মৃত্যু ভয়
ভাইরাস পরাভূতে মাস্ক,সেনিটাইজার রাখতে হয়
ভিড় এড়িয়ে,সামাজিক দূরত্বে চলবো সাহসিক বুকে।

বাবা গেলন,মা গেলন ,গেলেন প্রিয়জন
অর্থহীন পরিবারের সামর্থ আজ কৃপণ
রুটি,রুজিহীন ভুখার মিছিল বাড়ছে ক্রমে,ক্রমে।

জানি জ্বলবে আলো ,চলবে মানুষ ,যাবেও কেটে দিন
শুধু মনের মানুষ থাকবে না কাছে হয়েছে অন্তহীন
বাজুক বীনা আলোকমালায়,শুধু থাকবো নাগো ভ্রমে।

ডাকরে মাকে,শিউলি- শাঁখে, চন্ডীরূপে যেনো-
অসুর ছেড়ে করোনা বধে – তোমার ত্রিশূল খানি হেনো
অশ্রুসজল চোখরমনি অপেক্ষাতে হোক সফল ।

ভক্তি থাক,শ্রদ্ধা থাক, থাক সাবধানতা
সচেতনতা রাখবো বজায় ,মানবো না অধীনতা
করোনা ধ্বংসে – “দুর্গা মাইকি জয়” সমস্বরে বল।

হাসবো,খেলবো ঘরেতেই ডাকবো মাকে
আনন্দ স্রোতে না ভেসে ,বলবো ডেকে,ডেকে
ধৈর্য ধরো, বিপদ হর ,আমরা ভয় করবো না।

চোখে জল থাকবে না ,আনন্দের বান ডাকবে
নতুন বস্ত্রে আগমনীর নতুন সূর্য উঠবে
আসছে বছর আবার হবে কোন বাধাই থাকবে না।

সংরক্ষিত
গড়িয়া,কলকাতা।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

ভূমিকা—–

 

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস হল একটি আন্তর্জাতিক দিন যা অনুবাদ পেশাদারদের স্বীকৃতি দেয়।  এটি ৩০ সেপ্টেম্বর, যেটি সেন্ট জেরোমের ভোজের দিন, বাইবেল অনুবাদক যাকে অনুবাদকদের পৃষ্ঠপোষক বলে মনে করা হয়।

 

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস কবে—

 

প্রতি বছর ৩০শে সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস পালিত হয় অনুবাদক, ভাষা পেশাজীবীদের কাজকে উদযাপন করার জন্য যারা বিশ্ব শান্তির উন্নয়ন ও শক্তিশালীকরণে অবদানকারী দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

 

বিশ্ব অনুবাদক সম্প্রদায়ের সংহতি প্রদর্শন এবং অনুবাদের পেশাকে উন্নীত করার জন্য আন্তর্জাতিক অনুবাদক ফেডারেশন (এফআইটি) দ্বারা ১৯৯১ সালে দিবসটি প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।  ফেডারেশন হল অ্যাসোসিয়েশনগুলির একটি সমষ্টি যা অনুবাদক, দোভাষী এবং পরিভাষাবিদদের প্রতিনিধিত্ব করে।  এটি ১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

 

দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ এটি একই দিনে সেন্ট জেরোমের পরব উদযাপিত হয়।  সেন্ট জেরোম অনুবাদ অধ্যয়নের ক্ষেত্রে একটি সম্মানিত ব্যক্তিত্ব হিসাবে বিবেচিত এবং অনুবাদকদের পৃষ্ঠপোষক সন্ত।  তিনি একজন খ্রিস্টান পণ্ডিত এবং পুরোহিত ছিলেন যিনি প্রথম ব্যক্তি যিনি বাইবেলটিকে মূল হিব্রু থেকে ল্যাটিন ভাষায় অনুবাদ করেছিলেন যাতে এটি পাঠকদের কাছে আরও সহজলভ্য হয়।

 

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস সম্প্রতি বিশ্ব ইভেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।  জাতিসংঘ (ইউএন), ২৪ মে, ২০১৭ তারিখে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ৩০ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস হিসাবে ঘোষণা করার জন্য একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।

 

জাতিসংঘের প্রস্তাব—-

 

২৪ মে ২০১৭-এ, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ৭১/২৮৮ রেজোলিউশন পাশ করে ৩০ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস ঘোষণা করে, যা জাতিকে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে পেশাদার অনুবাদের ভূমিকাকে স্বীকৃতি দেয়।  খসড়া রেজোলিউশন A/71/L.68 এগারোটি দেশ স্বাক্ষর করেছে: আজারবাইজান, বাংলাদেশ, বেলারুশ, কোস্টা রিকা, কিউবা, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, কাতার, তুরস্ক, তুর্কমেনিস্তান এবং ভিয়েতনাম।  ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ট্রান্সলেটরস ছাড়াও, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ কনফারেন্স ইন্টারপ্রেটার্স, ক্রিটিক্যাল লিঙ্ক ইন্টারন্যাশনাল, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রফেশনাল ট্রান্সলেটরস অ্যান্ড ইন্টারপ্রেটার্স, রেড টি, ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অফ সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ইন্টারপ্রেটার্স সহ আরও কয়েকটি সংস্থার দ্বারা এই রেজোলিউশনটি গ্রহণের পক্ষে সমর্থন জানানো হয়েছিল।  .
জাতিসংঘ আরবি, চীনা, ইংরেজি, ফরাসি, রাশিয়ান, স্প্যানিশ এবং জার্মান ভাষায় অনুবাদের জন্য একটি বার্ষিক সেন্ট জেরোম অনুবাদ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে।

 

 ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ ট্রান্সলেটর—

 

১৯৫৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে এই উদযাপনগুলিকে International Federation of Translators (FIT) দ্বারা প্রচার করা হয়েছে৷ ১৯৯১ সালে, FIT একটি পেশা হিসেবে অনুবাদকে প্রচার করার প্রয়াসে বিশ্বব্যাপী অনুবাদক সম্প্রদায়ের সাথে সংহতি দেখানোর জন্য একটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবসের ধারণা চালু করে৷  যা বিশ্বায়নের যুগে ক্রমশ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

 

 আমেরিকান অনুবাদক সমিতি—

 

২০১৮ সাল থেকে আমেরিকান ট্রান্সলেটর অ্যাসোসিয়েশন প্রফেশনাল অনুবাদক এবং দোভাষীদের ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার এবং জনসাধারণকে শিক্ষিত করার উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলির একটি সিরিজ প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবস উদযাপন করেছে।  ATA ছয়টি ইনফোগ্রাফিকের একটি সেট প্রকাশ করে ITD 2018 উদযাপন করেছে যা পেশা সম্পর্কে তথ্য চিত্রিত করে।  ২০১৯ সালে, ATA “অনুবাদক বা দোভাষীর জীবনে একটি দিন” চিত্রিত একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে।

 

আন্তর্জাতিক অনুবাদ দিবসের তাৎপর্য—-

 

বিশ্ব বিশ্বায়নের দিকে অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে অনুবাদকদের গুরুত্ব দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে।  ভাষা পেশাদাররা একটি ইতিবাচক পাবলিক বক্তৃতা এবং আন্তঃব্যক্তিক যোগাযোগে সাহায্য করে।

 

অনুবাদকরা সাহিত্যিক কাজ, বৈজ্ঞানিক কাজ, প্রযুক্তিগত কাজ সহ এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় স্থানান্তর করতে সহায়তা করে যা একটি উন্নত বিশ্বের দিকে অগ্রসর হতে সহায়তা করে।  তারা একে অপরের সংস্কৃতি বুঝতে সাহায্য করে যা অন্যান্য সংস্কৃতির প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাকে উৎসাহিত করে।

 

তারা সঠিক অনুবাদ, ব্যাখ্যা এবং পরিভাষায় সাহায্য করে যা বিভিন্ন দেশের মধ্যে যোগাযোগ নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 

অনুবাদক এবং ভাষা পেশাদারদের কাজ কেবলমাত্র আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে যখন আমরা আরও আন্তঃসংযুক্ত বিশ্বের দিকে অগ্রসর হব।

 

২০২৩ সালে, আমরা স্পিচ-টু-স্পিচ এবং স্পিচ-টু-টেক্সট অনুবাদে আরও উন্নয়নের মাধ্যমে অনুবাদ শিল্পে আরও উন্নতির আশা করতে পারি।  AI মেশিন অনুবাদ প্রক্রিয়ার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকবে, এটিকে আরও দক্ষ এবং নির্ভুল করে তুলবে৷ অনুবাদের ভবিষ্যত মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং AI-চালিত মেশিন অনুবাদের মধ্যে সহযোগিতার মধ্যে নিহিত৷  মানব অনুবাদকরা সৃজনশীল চিন্তাভাবনা এবং নির্দিষ্ট শ্রোতাদের জন্য অনুবাদকে অভিযোজিত করার ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করে, যখন AI পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলি স্বয়ংক্রিয় করার জন্য আদর্শ।

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
কবিতা

একান্ত আপন : প্রবীর কুমার চৌধুরী।

ভুলে যাওয়া
যত পাওয়া
বেদনার পাওনা,

মধ্যাহ্নের অবেলায়
বড় বেশি অবহেলায়
ভোলা তবু যায়না।

ঘুরে-ঘুরে ফিরে আসে
নিঃসঙ্গতা ভালোবাসে
সহচর্যহীন এ জীবন,

কোথা পাই কোথা খুঁজি
আজ বড় একা বুঝি
ভবপারে ,অপেক্ষাতে একান্ত আপন।

সংরক্ষিত
গড়িয়া,কলকাতা।

Share This
Categories
কবিতা

কামনা : শীলা পাল।

যদি আমি দ্রৌপদী হতাম
পঞ্চ স্বামী কখনও চাইতাম না।
এতো মন রেখে কতো বুঝে শুনে
প্রতি পদে পদে সমঝোতা করা
নৈব নৈব চ।
শুধু আমার থাকতো প্রিয় সখা
মৃদু হেসে ভালোবেসে ডাকবে এসে
সখী ভালো আছো?
হাতে নিয়ে বাঁশি
বাজাবে আসি
মনে মনে তারে
দেব ভালবাসি
যা আছে দেওয়ার আমার ।
সুখে দুঃখে পাশে
মুহূর্তে দাঁড়াবে এসে
শুধাবেআমায়
সখী কি হয়েছে তোমার ।
আমার বেদনা যতো
নিয়ে নেবে নিজ বুকে
আমি যেন থাকি সুখে।

অলীক ভাবনা জানি
তবু তাহা প্রকাশে আনি
জানালাম নারীর কামনা খানি।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, উনিশ শতকের বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার, জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর উনবিংশ শতকের একজন বিশিষ্ট বাঙালি শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক ও গদ্যকার । তাঁর পসম্পর্কে বলা যেতে পারে, তিনি লেখক, দার্শনিক, পণ্ডিত, অনুবাদক, প্রকাশক ও মানবহিতৈষী । সংস্কৃত ভাষা ও সাহিত্যে অগাধ পাণ্ডিত্যের জন্য প্রথম জীবনেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন । সংস্কৃত ছাড়াও বাংলা লিপি সংস্কার করে তাকে যুক্তিবহ ও অপরবোধ্য করে তোলেন । বাংলা গদ্যের সার্থক রূপকার তিনিই ।
বিদ্যাসাগরের যখন জন্ম (১৮২০), তখন শিক্ষা সংস্কারে ও বাংলা ভাষার আধুনিকরণের একটা ডামাডোল পরিস্থিতি । বিশৃঙ্খলার বাতাবরণ । শিক্ষার লক্ষ্য, পদ্ধতি ও পাঠক্রম নিয়ে চলছিল নানান বিতর্ক । অথচ বাঙালী সমাজ জানে, আধুনিক শিক্ষা ও সমাজ  সংস্কারে বিদ্যাসাগরের গৌরবময় অবদানের কথা ।

তাঁর নির্মিত বাংলা ভাষার ভিত্তির ওপরেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের প্রথম অধ্যায় । বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে বোধগম্য এবং সবরকমের ভাব ও চিন্তা প্রকাশের যোগ্য করে তুলেছিলেন । তাই আজও বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয় ।
আটপৌরে বাঙালি পোশাকে বিদ্যাসাগর ছিলেন সর্বত্রগামী । প্রবল জেদ ও আত্নসম্মানবোধ নিয়ে সরকারি চাকরি করেছেন, দ্বিরুক্তি না করে ইস্তফা দিয়েছেন । পাঠ্যবই লিখে ছেপে বিক্রি করে অর্থ উপার্জন করেছেন, দানের জন্য ধারও করেছেন ।  উনিশ শতকে সমাজ বদলের সব আন্দোলনেই তিনি ছিলেন পুরোভাগে । এমন ব্যক্তিত্ব সবসময়ে  ব্যতিক্রম ।
বিদ্যাসাগরের একটা আপ্ত বাক্য আজও সমাজজীবনে উজ্জীবিত, “কোনো বিষয়ে প্রস্তাব করা সহজ, কিন্তু নির্বাহ করে ওঠা কঠিন” । অথচ তিনি এককভাবে ধুতিচাদর পরে একটার পর একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা বাস্তবায়িত করে গেছেন, যেমন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্যঃ শিক্ষার সংস্কার ও বিধবা বিবাহ প্রচলন । এটা সর্বজনবিদিত, বিদ্যাসাগরের লড়াইটা ছিল একার লড়াই । বিদ্যাসাগর প্রসঙ্গে বিশ্বকবি  রবীন্দ্রনাথের  মন্তব্য পরিষ্কার, তিনি গতানুগতিক ছিলেন না, তিনি ছিলেন  স্বতন্ত্র, সচেতন ও পারমার্থিক ।
এটা অনস্বীকার্য যে,  বাঙালী সমাজে আজও বিদ্যাসাগরের প্রদীপ্ত উপস্থিতি ‘বর্ণপরিচয়’ দিয়ে । প্রাথমিক শিক্ষায় ‘বর্ণপরিচয়’ এর  মাহাত্ম্য সকলের জানা । মুর্শিদাবাদ  জেলার শক্তিপুর হাই স্কুলের বাংলা ক্লাসের  দিদিমণি আমার রচনা লেখার গঠন অবলোকন করে হঠাৎ তাঁর সম্মুখে তিনি আদর করে ডেকে আমাকে বললেন, “তুই বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’ গ্রন্থের নাম শুনেছিস” ? মাথা নেড়ে আমি  বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় গ্রন্থটির নাম শুনেছি জানালাম ।  তারপর চুপি চুপি বাংলা বিষয়ের শ্রদ্ধেয়া দিদিমণি বললেন, রোজ রাতে শোওয়ার আগে বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’  বইখানা পড়বি । রচনা লেখার সময়ে তোর বানানের জড়তা কেটে যাবে ।“  সুতরাং শৈশব থেকে বাংলা ভাষা শিক্ষার প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয় আজও অমলিন । সেই বিদ্যাসাগরের জন্মের দ্বিশতবর্ষ অতিক্রান্ত  । তাই দুশো বছর ধরে শিক্ষা জীবনের বাস্তবতায় ও শিক্ষা বিকাশের প্রেক্ষাপটে বিদ্যাসাগর আজও প্রাসঙ্গিক ।
বিদ্যাসাগর যখন জন্মগ্রহন করেছিলেন সেই  সময়টা ছিল রামমোহনের যুগ, যিনি একজন শিক্ষিত ও অগ্রণী পুরুষ ছিলেন এবং সমাজ সংস্কারের অন্যতম কারিগর ।  ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর  মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন । ঈশ্বরচন্দ্রের পিতামহ রামজয় তর্কভূষণ ছিলেন সুপণ্ডিত ও বলিষ্ঠ দৃঢ়চেতা পুরুষ। তিনিই ঈশ্বরচন্দ্রের নামকরণ করেছিলেন। বিদ্যাসাগরের বাবা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধায় কলকাতায় স্বল্প বেতনের চাকরিতে খুব কষ্টের মধ্যে দিন যাপন করতেন । পরিবার নিয়ে শহরে বাস করা তাঁর সাধ্যের অতীত ছিল। সেই কারণে বালক ঈশ্বরচন্দ্র গ্রামেই মা ভগবতী দেবী’র  সঙ্গে বাস করতেন।
পাঁচ বছর বয়সে ঈশ্বরচন্দ্রকে গ্রামের পাঠশালায় পাঠানো হয়। ১৮২৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তাঁকে কলকাতার একটি পাঠশালায় এবং ১৮২৯ সালের জুন মাসে সংস্কৃত কলেজে ভর্তি করানো হয়। ভর্তির ছ’মাসের মধ্যেই পাঁচ টাকা বৃত্তি পান ।  তাঁর প্রতিভার অসাধারণ ক্ষমতা দেখে শিক্ষকেরা সকলে স্তম্ভিত । তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রতিভাবান ছাত্র এবং ১৮৩৯ সালের মধ্যেই বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন। পরে তিনি দু-বছর ওই কলেজে ব্যাকরণ, সাহিত্য, অলঙ্কার, বেদান্ত, ন্যায়, তর্ক, জ্যোতির্বিজ্ঞান, হিন্দু আইন এবং ইংরেজি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর কর্মজীবন শুরু করেন ফোর্ট উইলিয়াম (১৮৪১) কলেজের প্রধান পন্ডিত হিসাবে । ঐসময়েই  তাঁর ইংরেজি শিক্ষার যথাযথ শিক্ষালাভ । কেননা বিদ্যাসাগরকে সকলে জানতেন সংস্কৃতের পণ্ডিত হিসাবে । ইংরেজি হাতের লেখাও ছিল নজরকাড়া । ১৮৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিনি সংস্কৃত কলেজের সাহিত্যের অধ্যাপক পদ লাভ করেন এবং পরের মাসে অর্থাৎ ১৮৫১ সালের ২২শে জানুয়ারী ঐ  কলেজের অধ্যক্ষ নিযুক্ত হন। অধ্যক্ষ হিসেবে তিনি কলেজের অনেক সংস্কার করেন।  ঐ সময়েই ১৮৫১ সালে বিদ্যালয় দেখলেন, সংস্কৃত কলেজে গোড়া থেকেই  শুধুমাত্র ব্রাহ্মণ ও বৈদ্য সন্তানদের পড়বার অধিকার ছিল । কিন্তু বৈদ্যদের আবার ধর্মশিক্ষায় ছিল আপত্তি । স্বভাবতই প্রশ্ন উঠল কায়স্থ ও অন্যান্য হিন্দু বর্ণদের কথা । তখনকার পণ্ডিত সমাজের তোয়াক্কা না করে, বিদ্যাসাগর তদানীন্তন কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সেক্রেটারিকে জানিয়ে দিলেন ব্রাম্মণ ও বৈদ্য ছাড়া অন্যান্য বর্ণের বিশেষ করে শূদ্রদের সংস্কৃত কলেজে প্রবেশে তাঁর আপত্তি নেই । যদিও সেই সময় সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকরা বিদ্যাসাগরের মতে গররাজী ছিলেন, তথাপি বিদ্যাসাগরের মতটাকেই মান্যতা দিয়েছিলেন তদানীন্তনকালের কাউন্সিল অফ এডুকেশনের সেক্রেটারি । এবং পর পরই ১৮৫৪ সালের শেষে বিদ্যাসাগর হিন্দুদের সব শ্রেনীর জন্য সংস্কৃত কলেজের দরজা খুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন এবং সেই প্রস্তাব যথাসময়ে অনুমোদিত হয়েছিল ।
সংস্কৃত কলেজের সংস্কার ও আধুনিকীকরণ এবং বাংলা ও বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন ছাড়া,  শিক্ষা প্রসারে তাঁর আরও অবদান সর্বজনবিদিত ।  ১৮৫৪ সালে চার্লস উডের শিক্ষা সনদ গৃহীত হওয়ার পর সরকার গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেয়। এ উদ্দেশে ১৮৫৫ সালের মে মাসে বিদ্যাসাগরকে সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ পদের অতিরিক্ত সহকারী স্কুল পরিদর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তিনি নদিয়া, বর্ধমান, হুগলি এবং মেদিনীপুর জেলায় স্কুল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। তিনিই প্রথম বাংলা লিপি সংস্কার করে বাংলা ভাষাকে সহজবোধ্য করে তুলতে চেয়েছিলেন । ১৮৫৫ সালে বাংলা নববর্ষের দিনে  বর্ণপরিচয়ের প্রথমভাগ  প্রকাশ করে তিনি বাঙালীর হাতে তুলে দিয়েছিলেন ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর  এশিয়াটিক সোসাইটি (কলকাতা) ও বেথুন সোসাইটিসহ আরও কিছু সংগঠনের সম্মানিত সভ্য ছিলেন। ১৮৫৮ সালে যাঁরা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ফেলো নির্বাচিত হন,  তিনি ছিলেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম।  ১৮৫৯ সালে তিনি “ক্যালকাটা ট্রেনিং স্কুল” স্থাপনে বিশেষ ভুমিকা পালন করেন। ১৮৬৪ সালে এই প্রতিষ্ঠানের নাম রাখা হয় “হিন্দু মেট্রেপলিটন ইসস্টিটিউট”। ইংরাজ অধ্যাপকের সাহায্য ছাড়া এবং কোনোরকম সরকারি সাহায্য ছাড়া, বিদ্যাসাগর স্কুলটিকে ১৮৭২ সালে প্রথম শ্রেণীর কলেজে পরিণত করেছিলেন । বর্তমানে এর নাম “বিদ্যাসাগর কলেজ”। এটি দেশের প্রথম কলেজ যার প্রতিষ্ঠাতা – পরিচালক – শিক্ষক স্কলেই ভারতীয় ।  এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন লাভ করেন।
ব্রাম্মণ হয়েও বিদ্যাসাগর ত্রিসন্ধ্যা জপ করেননি । কোনো  মন্দিরে যাননি এবং ঈশ্বর  বিষয়ক কোনো লেখা তিনি লেখেননি । বিদ্যাসাগর ছিলেন নাস্তিক । ধর্ম সম্বন্ধে  তিনি শুধু মনে করতেন জগতের কল্যাণসাধন ও বিদ্যাচর্চা । এপ্রসঙ্গে কবি শঙ্খ ঘোষের উক্তিটি প্রনিধাযোগ্য, ধর্মের কোন বহিরঙ্গ মানতেন না । তিনি, আচরণও করতেন না । এখন যেমন অনেকে বলেন, ধর্মটা ব্যক্তিগত ব্যাপার, অনেকটা সেইরকম ।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনের শ্রেষ্ঠ কাজ, বিধবা বিবাহ আইন প্রণয়ন । সেদিনের সমাজে প্রচলিত প্রথার নির্মম পরিণতির জন্য নারীদের ভাগ্য বিপর্যয়ের সম্মুখীন আপামর জনতা অবলোকন করেছিলেন । শোনা যায়, একসময় রাজা  রাজবল্লভ নিজের বালবিধবা কন্যাকে পুনর্বিবাহ দেওয়ার অনুমতি সমাজের পণ্ডিতদের কাছ থেকে পেয়েও সেই বিবাহ কারও কারও বাধায় দিতে পারেননি ।  বিদ্যাসাগরের “বিধবা বিবাহ প্রচলিত হওয়া উচিত কিনা” বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ ও সমাজ চমকে উঠেছিল । শেষ পর্য্যন্ত ১৮৫৫ সালের ১৬ই  জুলাই বিধবা বিবাহ আইন পাশ হয়  । তারপর ১৮৫৬ সালের ২৬শে জুলাই বিধবা বিবাহ আইন স্রকারিভাবে আইন হিসাবে মঞ্জর হয় ।   বিদ্যাসাগরের দরদী হৃদয় কেঁদেছিল সেকালের সমগ্র হিন্দু নারী সমাজের দুর্গতি দুর্দশায় । বিধবা বিবাহ আইন নামে পরিচিত ১৮৫৬ সালের আইনটি কেবলমাত্র বিধবা নারীর দ্বিতীয় বিবাহের স্বীকৃতি দেয়নি, আইনটি যেমন বিবাহকে আইনসিদ্ধ করে তেমনই মৃত স্বামীর এবং দ্বিতীয় বিবাহের এবং পৈত্রিক বিষয় সম্পত্তিতে অধিকার সুনিদ্দিষ্ট করে ।  বিভিন্নভাবে জানা যায়, ১৮৫৬ থেকে ১৮৬৭ পর্যন্ত মোট ৬০টি বিধবা বিবাহ সংঘটিত   হয়  ।  আরও      জানা   যায়,   বিদ্যাসাগর     ও  তাঁর বন্ধুরা মিলে ১৮৫৬ সালের ডিসেম্বর মাসে রক্ষণশীল সমাজের বিক্ষোভ এবং প্রচণ্ড বাধার মুখে ঘটা করে এক বিধবার বিবাহ দেন। পাত্র ছিল সংস্কৃত কলেজে বিদ্যাসাগরের একজন সহকর্মী। তা ছাড়া নিজের একমাত্র পুত্রের সঙ্গে বিধবার বিবাহ দিতে তিনি কুণ্ঠিত হননি। এতে একটা জিনিস পরিস্কার,  বিধবাবিবাহ আইন প্রণয়নে বিদ্যাসাগরের দৃঢ় সংকল্প শতভাগ সফল ।
তিনি হিন্দু বালিকা বিদ্যালয় তৈরি করেন, যাকে পরবর্তীতে বেথুন কলেজ নামকরণ করা হয়। নারীদের শিক্ষার দিকে আনার জন্য তিনি একটি অর্থায়নের ব্যবস্থা করেন, যা নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠা ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল। এখান থেকে মেয়েদের শিক্ষার জন্য যাবতীয় অর্থের ব্যবস্থা করা হতো। ১৮৫৭ সালের নভেম্বর মাস থেকে ১৮৫৮ সালের মে মাস অবধি সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে বিদ্যাসাগর ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।
বিদ্যাসাগরের দয়া এবং মানবিকতার জন্যে তিনি করুণাসাগর নামে পরিচিত । দরিদ্রদের দানে তিনি সর্বদাই মুক্তহস্ত ছিলেন ।  তিনি তাঁর দান এবং দয়ার জন্যে বিখ্যাত হয়েছিলেন । এখানে বিদ্যাসাগর সম্বন্ধে মাইকেল মধুসূদন দত্ত’র উক্তি প্রনিধানযোগ্য,
“বিদ্যার সাগর তুমি বিখ্যাত ভারতে,
করুণার সিন্ধু তুমি, সেই জানে মনে,
দীন যে, দীনের বন্ধু ! উজ্জ্বল জগতে
হেমাদ্রির হেম কান্তি অম্লান কিরণে” ।
তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন একটি ঐতিহ্যিক এবং রক্ষণশীল পরিবারে এবং সমাজ সংস্কারের জন্যে তিনি যুক্তিও দিতেন হিন্দু শাস্ত্র থেকে কিন্তু তিনি ছিলেন ধর্ম ও ঈশ্বর সম্পর্কে সন্দিহান মনের। তাঁর বোধোদয় গ্রন্থ যেমন তিনি শুরু করেছেন পদার্থের সংজ্ঞা দিয়ে । পরে সংজ্ঞা দিয়েছেন ঈশ্বরের,  যাঁকে তিনি বলেছেন সর্বশক্তিমান, সর্বত্র বিরাজমান চৈতন্যস্বরূপ।
তিনি তাঁর একক ও সহযোগীর উদ্যোগে রেখে গেলেন আধুনিক ব্যবহারযোগ্য একটি (উচ্চারণ অনুযায়ী ও মুদ্রণযোগ্য) বাংলা ভাষা, প্রাথমিক ও নীতিশিক্ষার বহু জনপ্রিয় গ্রন্থ, বাংলা মাধ্যম স্কুলব্যবস্থা ও নারীশিক্ষার পাকা বুনিয়াদ । মাতৃ/বাংলা ভাষার শিক্ষার আর একটি প্রাক শর্ত হল ভাল পাঠ্যপুস্তকের সুলভতা । বিদ্যাসাগরের সময় তার যথেষ্ট অভাব ছিল । বিদ্যাসাগরকেও অবতীর্ণ হতে দেখা যায় এক দিকে, বাংলায় ব্যকরণসিদ্ধ মুদ্রণযোগ্য অক্ষর ও বানান সংস্কার করে, নানা পাঠ্যপুস্তক রচনা, ছাপা ও বিপণনের আয়োজন । পাঠ্যপুস্তক রচনার পাশাপাশি ছাপা  বইয়ের সম্পাদনা ও সম্মার্জনার প্রতি তাঁর অখণ্ড মনোযোগ চিরদিন বজায় ছিল । একবার  তিনি হতদরিদ্র সাঁওতালদের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন তিনি, সেই সময় (১৮৭৮) চর্যাপদের আবিস্কর্তা, হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও তাঁর এক সঙ্গী লখনউ যাওয়ার পথে এক রাত বিদ্যাসাগরের আতিথ্যগ্রহণ করেন । রাত্রে বিশ্রামের পর সকালে উঠে শাস্ত্রী মশাই দেখলেন, “বিদ্যাসাগর মহাশয় বারান্দায় পাইচারি করিতেছেন এবং মাঝে মাঝে টেবিলে বসিয়া কথামালা কি বোধোদয়ের প্রূফ দেখিতেছেন । প্রূফে  বিস্তর কাটকুটি  করিতেছেন । যেভাবে প্রূফগুলি পড়িয়া আছে, বোধ হইল, তিনি রাত্রেও প্রূফ দেখিয়াছেন । আমি বলিলাম, কথামালার প্রূফ আপনি দেখেন কেন ? তিনি বলিলেন, ভাষাটা এমন জিনিস, কিছুতেই মন  স্পষ্ট হয় না ; যেন আর একটা শব্দ পাইলে ভাল হইত ; — তাই সর্বদা কাটকুটি করি । ভাবিলাম — বাপ রে, এই বুড়ো বয়সেও ইহার বাংলার ইডিয়ামের ওপর এত নজর ।“ (সূত্রঃ অ-বা-প,পৃঃ৪/ ২৭-৯-১৯) ।
এই অনন্য ও  বিরাট ব্যক্তিত্বের মানুষটি ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ধর্মের কোনও বহিরঙ্গ মানতেন না এমনকি, আচরণও করতেন না ।   অথচ চালচলনে তিনি ছিলেন নিতান্তই সাদাসিধে ।  খুব বিনয়ী  এবং জীবনে  দৃঢ় সংকল্প এবং উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে ছিলেন  তিনি দৃঢ় মনোভাবাপন্ন । তিনি ছিলেন  একাধারে মহান সমাজ সংস্কারক  অন্যদিকে এক জন শিক্ষাবিদ  এবং সমাজ পরিবর্তনের জন্য নিরলস কাজ করে গেছেন অবিরাম । ভারতে শিক্ষার প্রতি তার অবদান এবং নারীর অবস্থার পরিবর্তন জন্য তিনি চিরস্বরণীয়। তাঁর অবর্ণনীয় মাতৃ ভক্তি একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত । তাই ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে আজও চর্চিত ।
হিন্দু ধর্মের কুসংস্কারের বিরোধী, বিধবা বিবাহের প্রচলনকারী, নারী শিক্ষার প্রবর্তক, উনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের পুরোধা ব্যক্তিত্ব, সমাজ সংস্কারক, বর্ণপরিচয় ও বহু গ্রন্থের রচয়িতা, মহান শিক্ষাবিদ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মদিনের প্রাক্কালে তাঁর মহান স্মৃতির প্রতি আমার শ্রদ্ধার্ঘ্য ।

 

কলমে : দিলীপ  রায়।
————————-০——————————

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস, জানুন দিনটির ইতিহাস ও দিনটি পালনের গুরুত্ব সম্পর্কে কিছু কথা।

প্রতি বছর ২৫ সেপ্টেম্বর, আমরা বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস কে স্মরণ করি ফার্মাসিস্টদের বিশ্ব স্বাস্থ্যের উন্নতিতে তাদের অবদানের জন্য সম্মান জানাতে। ফার্মাসিস্টরা দেশে বিদেশে মানসম্মত ওষুধ তৈরির মাধ্যমে স্বাস্থসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। প্রতি বছর, ফার্মাসিস্ট দিবস বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ফার্মাসিস্টদের অবদানকে তুলে ধরে এবং রক্ষা করে এমন উদ্যোগগুলিকে সমর্থন করার লক্ষ্যে পালন করা হয়।  বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে “ফার্মেসি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ।” ফার্মেসি পেশায় কর্মরতদের উৎসাহ প্রদান এবং এই পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ২০১০ সাল থেকে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। সাধারণ মানুষকে এ মহান পেশা সম্পর্কে জানাতে এবং এ পেশার মানকে উচ্চ মর্জাদার আসনে আসীন রাখতে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।

 

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের ইতিহাস–

 

 

প্রতিষ্ঠার পর থেকে, বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস স্বাস্থ্যসেবায় ফার্মাসিস্ট এবং ফার্মাসি পেশাদারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ২০০৯ ইন্টারন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশন (FIP) কংগ্রেসে, একটি বিশ্বব্যাপী ফার্মাসিস্ট দিবসের ধারণা তৈরি করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের উদ্যোগে ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত ইস্তাম্বুল সম্মেলনে ২৫ সেপ্টেম্বরকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯১২ সালের এই দিনে নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক ফার্মাসিউটিক্যাল ফেডারেশনের প্রথম কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হয়, এই কারণে দিবসটিকে বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ফার্মেসি পেশার কর্মরতদের উৎসাহ প্রদান এবং এই পেশা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ২০১০ সাল থেকে সারাবিশ্বে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।

FIP কাউন্সিল সারা বিশ্বের ফার্মাসি নেতাদের নিয়ে গঠিত, 25শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসকে অনুমোদন করেছে৷
এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ফার্মাসিউটিক্যাল পেশাকে বিশ্বব্যাপী ফার্মাসিস্টদের স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য একটি ফোরাম দিয়েছে।  সেই থেকে ২৫শে সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস পালিত হয়ে আসছে।  স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পেশার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এবং বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানের জন্য এই অনন্য দিবসটি প্রতি বছর একটি ফার্মেসি বিষয় তুলে ধরে।

 

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস ২০২৩ থিম—

 

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস প্রতি বছর তার উৎসব এবং ইভেন্টগুলিকে কেন্দ্র করে একটি বিষয় নির্বাচন করে।  ২০২৩ এর জন্য নির্বাচিত বিষয় হল “ফার্মেসি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ।”  এই বিষয় জোর দেয় যে ফার্মাসিস্ট এবং অন্যান্য ফার্মেসি পেশাদারদের জন্য সারা বিশ্বে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সমর্থন করা এবং উন্নত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এটি ফার্মাসি পরিষেবা এবং বিদ্যমান বৃহত্তর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাগুলির মধ্যে সংযোগটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেইসাথে তারা কীভাবে স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহের সাধারণ কার্যকারিতা এবং দক্ষতার উন্নতিতে অবদান রাখে তা তুলে ধরে।  এই বিষয়টি মূলত জোর দেয় যে মানুষ এবং সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বজায় রাখা এবং শক্তিশালী করার জন্য ফার্মেসি কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

 

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবসের তাৎপর্য—

 

 

বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি স্বাস্থ্যসেবা এবং সমাজ উভয়ের জন্য ফার্মাসিস্ট এবং অন্যান্য ফার্মাসি পেশাদারদের অত্যাবশ্যক অবদানের স্বীকৃতি এবং প্রশংসা করার জন্য একটি বিশ্বব্যাপী ফোরাম প্রদান করে।ইস্তাম্বুলে ২০০৯ FIP কাউন্সিল সম্মেলনের সময় বিশ্ব ফার্মাসি দিবস তৈরি করা হয়েছিল।  এর প্রধান লক্ষ্য বিশ্ব স্বাস্থ্যে ফার্মাসিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রচার করা।  ফার্মাসিস্টরা হলেন অজ্ঞাত নায়ক যারা ওষুধের সুবিধা সর্বাধিক করেন।
তাদের দক্ষতা, জ্ঞান, এবং অভিজ্ঞতা ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যাক্সেস প্রদান করে, তাদের ব্যবহার নির্দেশিকা প্রদান করে এবং আমাদের সুস্থতার উন্নতি করে সকলের জন্য ঔষধ উন্নত করে।  ২০২০ সাল থেকে, FIP বিশ্ব ফার্মেসি সপ্তাহের মাধ্যমে ফার্মেসির সমস্ত দিক উদযাপন করেছে।  এই বার্ষিক উদযাপনটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে তাৎপর্যপূর্ণ:

স্বাস্থ্যসেবা হিরোদের স্বীকৃতি, সচেতনতা বৃদ্ধি, জনস্বাস্থ্যের প্রচার, বিশ্বব্যাপী সহযোগিতা, পেশার অগ্রগতি, শিক্ষাগত আউটরিচ, হাইলাইট থিম, অনুপ্রেরণামূলক ভবিষ্যত প্রজন্ম।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

“লাইব্রেরি” নিয়ে দুটি কথা : দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।।

১৮৩৫ সালের ৩১শে আগস্ট তৎকালীন বিদ্ধদ্‌জনদের উপস্থিতিতে কলকাতার টাউন হলে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় । এই সভাতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় যে, সর্বসাধারণের জন্য একটি গ্রন্থাগার বা পাবলিক লাইব্রেরি নির্মাণ করা হবে । সেই সিদ্ধান্তক্রমে গড়ে ওঠে “ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি” । অনেক জায়গায় সেই থেকে ৩১শে আগস্ট দিনটিকে গ্রন্থাগার দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে ।
তারপর ১৮৩৬ সালে “ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি” নামে প্রথম গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় । সেই সময় এটি ছিল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান । প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন এই লাইব্রেরির প্রথম মালিক। ভারতের তদনীন্তন গভর্নর- জেনারেল “লর্ড মেটকাফ” ফোর্ট উইলিয়াম কলেজর ৪৬৭৫টি বই দান করেন, যেটা দিয়ে এই লাইব্রেরী গোড়াপত্তন ।
সেই সময় বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার বই গ্রন্থাগারের জন্য ক্রয় করা হত । কলকাতার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা গ্রন্থাগারকে অর্থসাহায্য করতেন । এমনকি সরকারের কাছ থেকেও অনুদান পাওয়া যেত । সেই সময় এই গ্রন্থাগারে বহু দেশি ও বিদেশি দুষ্প্রাপ্য বই সংগৃহীত হয়েছিল, যা আজও সংরক্ষিত আছে । উল্লেখ থাকে যে, ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি ছিল শহরের প্রথম নাগরিক পাঠাগার ।
তারপর ১৮৯১ সালে কলকাতার একাধিক সচিবালয় গ্রন্থাগারকে একত্রিত করে গঠিত হয় “ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি” । এই গ্রন্থাগারের সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য অংশ ছিল গৃহ মন্ত্রকের গ্রন্থাগার ।
পরবর্তী সময়ে ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি ও ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরির সংযুক্তিকরণ ঘটে । জানা যায়, ১৯০৩ সালের ৩০ জানুয়ারি লর্ড কার্জনের প্রচেষ্টায় ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি ও ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরিকে সংযুক্ত করে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হয় । সেই সময় সংযুক্ত লাইব্রেরিটি ‘ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি’ নামেই পরিচিত হয় । এই সময় গ্রন্থাগারটি উঠে আসে আলিপুরের বেলভেডিয়ার রোডস্থ মেটকাফ হলের বর্তমান ঠিকানায় । এখানে উল্লেখ থাকে যে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লাইব্রেরিটি এসপ্ল্যানেডের জবাকুসুম হাউসে স্থানান্তরিত হয়েছিল ।
এবার আসছি জাতীয় গ্রন্থাগার সম্বন্ধে …………?
১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ইম্পিরিয়াল লাইব্রেরি পুনরায় মেটকাফ হলে উঠে আসে এবং লাইব্রেরির নতুন নামকরণ হয় জাতীয় গ্রন্থাগার বা ন্যাশানাল লাইব্রেরি । ১৯৫৩ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ জাতীয় গ্রন্থাগারকে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেন ।
স্বাধীনতার পর ভারত সরকার “ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি (নাম পরিবর্তন) অ্যাক্ট, ১৯৪৮” চালু করে । তারপর “ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগার আইন, ১৯৭৬”এর ১৮ ধারা মোতাবেক ন্যাশনাল লাইব্রেরির নাম পরিবর্তন করে “ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগার” করা হয় ।
গ্রন্থাগার কার্যত সমস্ত ভারতীয় ভাষায় বই, সাময়িকী, শিরোনাম, ইত্যাদির সংগ্রহশালা । জানা যায়, ভারতের জাতীয় গ্রন্থাগারের সংগ্রহগুলি অনেকগুলি ভাষায় । হিন্দি বিভাগে বই রয়েছে যেগুলি উনবিংশ শতাব্দীর পুরো সময়কার এবং সেই ভাষায় ছাপা হওয়া প্রথম বই ।
আগেই বলেছি, ১৮৩৬ সালে ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি নামে প্রথম গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠিত হয় । সেই সময় লাইব্রেরিটি ছিল বেসরকারি প্রতিষ্ঠান । প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন লাইব্রেরির প্রথম মালিক । ভারতের তদনীন্তন গভর্নর-জেনারেল ‘লর্ড মেটকাফ’ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ লাইব্রেরির ৪,৬৭৫টি বই গ্রন্থাগারে দান করেছিলেন । এই দানের ফলেই গ্রন্থাগারের গোড়াপত্তন । বর্তমানে এই গ্রন্থাগারে কমপক্ষে ২০ লক্ষ বা তারও বেশী বই রয়েছে । “ভারত সরকারের পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রক”এর অধীনে “কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরি” এখন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত ।
এবার আসছি লাইব্রেরির গুরুত্ব প্রসঙ্গে —
‘বই’ মানুষের নিত্যসঙ্গী । জ্ঞানের বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে বই । এখানে একটা কথা পরিষ্কার, লেখক লেখেন, প্রকাশক সেই লেখা ছাপেন, প্রকাশক ও বিক্রেতা উভয়েই বই বিক্রি করেন । আর অন্যদিকে গ্রন্থাগারিক সেই বই সংগ্রহ করে যথাযথ বিন্যাস করেন এবং পাঠক সমাজ ঐসব উপাদান থেকে মনের খোরাক এবং জ্ঞানলাভে সমর্থ হন ।
শিক্ষা বিস্তারের ক্ষেত্রে গ্রন্থাগার যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনি জ্ঞানী ও পণ্ডিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও গ্রন্থাগারের ভূমিকা অনস্বীকার্য । গ্রন্থাগারে থাকে জ্ঞান-বিজ্ঞান সহ বিভিন্ন বিষয়ের বই । আগ্রহী পাঠকের জন্যে গ্রন্থাগার জ্ঞানার্জনের যে সুযোগ করে দেয়, সেই সুযোগ অন্য কোথাও পাওয়া দুর্লভ । গ্রন্থাগার গ্রন্থের বিশাল সংগ্রহশালা, যা মানুষের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম । গ্রন্থাগারের মাধ্যমে মানুষ জ্ঞানসমুদ্রে অবগাহন করে জ্ঞানের মণিমুক্তা সংগ্রহের সুযোগ পায়। গ্রন্থাগারের সংগৃহীত বই সর্বসাধারণের জন্যে অবারিত । চিন্তাশীল মানুষের কাছে এমনকি সাধারণ মানুষের কাছে গ্রন্থাগারের উপযোগিতা অনেক বেশি । গ্রন্থাগার হচ্ছে জ্ঞান আহরণের উপযুক্ত মাধ্যম । আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে গ্রন্থাগারের উপযোগিতা উন্নত দেশগুলোর চেয়ে অনেক বেশি । কারণ সংসারের মৌলিক চাহিদা মেটাতে আমরা হিমশিম খাই । সেখানে বই কিনে পড়া অনেক সময় অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় ! সুতরাং আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে লাইব্রেরির গুরুত্ব অপরিসীম । অন্যদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষক প্রতিদিনের টিফিন পিরিয়ড বা অন্য অবসর সময়টা আড্ডা ও গল্পগুজবের মধ্যে না কাটিয়ে লাইব্রেরি থাকলে সময়টা পড়ালেখায় কাটাতে পারেন । এখানে প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য, শিক্ষা বিকাশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি বা লাইব্রেরির অবস্থান অপরিহার্য ।
গণতন্ত্রের সাফল্যে গ্রন্থাগারের ভূমিকা গণমাধ্যমের চেয়ে কম নয় । আধুনিক বিশ্বে গ্রন্থাগারের প্রয়োজনীয়তা দিনে দিনে বাড়ছে । গ্রন্থাগার সকলের জন্য উন্মুক্ত । ধর্মীয় সাম্প্রদায়িকতা নেই এখানে, নেই হানাহানি কলহ । সুতরাং প্রতিটি সুশীল নাগরিকের নিয়মিত গ্রন্থাগারে উপস্থিত হয়ে লেখাপড়া ও জ্ঞানার্জন করা, তাঁদের নিয়মমাফিক রুটিনে আসুক ।
প্রমথ চৌধুরী যথার্থই বলেছেন, “আমরা যত বেশি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করব, দেশের তত বেশি উপকার হবে । আমার মনে হয়, এদেশে লাইব্রেরির সার্থকতা হাসপাতালের চাইতে কিছু কম নয় এবং স্কুল-কলেজের চাইতে একটু বেশি ।“
পরিশেষে আমি মনে করি, লাইব্রেরি হচ্ছে শিক্ষা বিকাশের ও জ্ঞানার্জনের উপযুক্ত পীঠস্থান । (তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

“কান্না” কী বা কেন ? একটি আলোচনা ! :  দিলীপ রায় (৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)।

দুঃখে কাঁদি, আঘাতে-ব্যথ্যায় কাঁদি, আবার কখনও খুব আনন্দেও কাঁদি ! প্রতিটি মানুষের জীবনে কখনও না কখনও কান্না পায় ।
( ২ )
(১) গাঁয়ের পুণ্ডরীকাঙ্খের বৌমা নীতাম্বরী, হন্তদন্ত হয়ে পটলডাঙ্গা স্টেশনের দিকে ছুটছে । রাস্তার মধ্যে হঠাৎ পুটির মায়ের সাথে দেখা, “কিগো নীতাম্বরী, হন্তদন্ত হয়ে কোথায় ছুটলে ?”
“আর বলবেন না মাসি, আজ আমার ছোট ছেলে পলাশীপাড়া থেকে বাড়ি ফিরছে । তাকে আনতে রেলওয়ে স্টেশনে যাচ্ছি ।“ উত্তরে নীতাম্বরী জানালো ।
তা বাপু, ছেলেটা হঠাৎ পলাশীপাড়ায় কেন ? বুঝতে পারলাম না ।
মাসি ! আপনাকে বলা হয়নি । ছোট ছেলে সেখানকার হাসপাতালের ডাক্তার !
শুনেছি তোমার দুই ছেলেই ডাক্তার ।
“আর মাসি । কি বলবো আপনাকে ! আপনাকে বলতে আমার দ্বিধা নেই । ছেলেদের মানুষ করতে আমার হিমসিম অবস্থা ! নিজের সখ-আহ্লাদের জলাঞ্জলি । ঠিকমতো ঘুমোতে পারতাম না । সব সময় ছেলেদের পেছনে লেগে থাকতে হতো । তাদের পড়াশুনার দিকে নজর দেওয়াই ছিল আমার ধ্যান জ্ঞান । যার জন্য আপনাদের আশীর্বাদে বড় ছেলেটা নিউরো সার্জেন্ট (এম-ডি), ছোটটা মেডিসিনে এম-ডি ।“ কথাগুলি বলার পরে নীতাম্বরীর চোখে জল ! শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখের জল মুছছে ।
(২) সর্বেশ্বর গাঁয়ের প্রান্তিক চাষি । বিঘে কয়েক জমি চাষ করে তাঁর সংসার । একটা ছেলে ও দুটি মেয়ে । বেচারা খেয়ে না-খেয়ে ছেলে মেয়েদের উচ্চ শিক্ষিত করেছে । মেয়ে দুটিই স্কুল শিক্ষিকা । বিয়েও দিয়েছে । ছেলেটা বাইরের রাজ্যে মস্ত বড় কোম্পানীর উচ্চ পদে কর্মরত । সর্বেশ্বর একদিন ফাইল খুঁজতে গিয়ে ছেলের ইনকাম ট্যাক্সের রিটার্ন দেখতে পায় । গত বছর যে পরিমান আয়কর দিয়েছে সেটা থেকে সর্বেশ্বর ছেলের মাসিক আয় সম্বন্ধে একটা ধারণা পায় ! অথচ ছেলে মেয়েদের পড়াতে গিয়ে এবং মেয়েদের বিয়ে দিতে গিয়ে সর্বেশ্বর আর্থিক দিক দিয়ে নিঃস্ব । সবগুলি জমি বিক্রি করতে হয়েছে । তাঁদের বুড়ো-বুড়ির দুবেলার অন্ন জোগানোই এখন ভীষণ সমস্যা । স্ত্রী-পুত্র নিয়ে ছেলের অন্য রাজ্যেতে বসবাস, ফলে বাবা-মায়ের খোঁজ নেওয়ার সময় নেই । সুতরাং তাঁরা কীভাবে বাবা-মাকে পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করবে ? ক্ষুধায় যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে ঠিক তখন সর্বেশ্বর নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে গিন্নির চোখের আড়ালে হাউমাউ করে কাঁদে ! শেষ বয়সে এখন তাঁর ভিখারীর ন্যায় অবস্থা !
(৩) ঐ বাংলায় নীরোদ তালিবের ভরা ঘর-সংসার । গোয়াল ভরা গরু, গোলা ভরা ধান, পরিবারের বাবা-মা সহ ছেলেমেয়ে নিয়ে মোট এগারো জন, জমি জায়গা, খাওয়া দাওয়া, বাড়ি লাগোয়া পুকুর । পুকুরে সারা বৎসর জল থাকে এবং সেখানে অনেক ধরনের মাছ । যাকে বলে অফুরন্ত শান্তির সংসার । হঠাৎ দেশ ভাগ ।
“পালাও, দেশ ছাইরা পালাও ! এই দ্যাশটায় হিন্দুদের ঠাঁই নাই ।“ রাতের অন্ধকারে হাঁটুর উপর ধুতি পরে স্ত্রী-পুত্র-কন্যা ও বুড়ো বাবা-মাকে নিয়ে অনেক ছিন্নমূল মানুষের সাথে নীরোদ তালিব ছুটলো অজানা উদ্দেশে । পদ্মা, ভাগীরথী পার হয়ে বাবলা নদীর তীরে বট গাছটার তলায় আশ্রয় নিলো বিনোদ তালিব । সব হারিয়ে ক্ষুধায় তৃষ্ণায় ভয়ে-ভীতিতে আশঙ্কায় বিনোদের চোখে জল । চতুর্দিকে অন্ধকার । অচেনা দেশে রাত্রির অন্ধকারে তাঁর চোখের জল থামানো দায় ! মনের ভিতর সব হারানোর হাহাকার ! বিনোদ তালিবের সে কি কান্না !
উপরের তিনটি ঘটনায় মানুষের তিন রকম কান্না ! এখানকার কান্নাগুলিকে আবেগপূর্ণ কান্না বলা চলে । তাই কান্না হলো একটা আত্ম-উপলব্ধি বা অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যম ।
( ৩ )
আবার কান্না শারীরিক ব্যথা-যন্ত্রণার প্রতিক্রিয়ায় হতে পারে অর্থাৎ চোখে অশ্রু ঝরতে পারে । অন্যদিকে কান্নার কারণ হতে পারে এমন আবেগের মধ্যে, যেখানে রয়েছে দুঃখ , রাগ , আনন্দ এবং ভয় ।
মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় সহানুভূতিশীল প্রতিক্রিয়া কান্নার কারণ হতে পারে । উদাহরণ দিলে ব্যাপারটা বোঝা যাবে — তমালবাবু শিক্ষকতার চাকরি জীবন থেকে প্রায় দশ বছর হলো অবসর নিয়েছেন । তাঁর দুই ছেলে বিদেশে কর্মরত । বাবা-মাকে দেখার তাদের সময় নেই । পেনশনের টাকায় তাঁদের দুজনের দিনাতিপাত । হঠাৎ গিন্নির কঠিন ব্যামো । বুকে ভীষণ ব্যাথা । এলাকার হাতুড়ে ডাক্তার জানিয়ে দিয়েছেন, “অপারেশন জরুরি । তাঁকে অতি সত্বর কলকাতার বড় হাসপাতালে ভর্তি করা দরকার ।“ তমালবাবুর হাতে একটাও পয়সা নেই । তমালবাবু দুঃখে কষ্টে কপাল চাপড়াচ্ছেন ! এমন সময় দেবদূতের মতো ভোম্বলের আগমন । বিষম বিপদের সময় তাঁর গবেট মার্কা ছাত্র ভোম্বল ছুটে এসে তার প্রিয় স্যারের পাশে দাঁড়ালো । অথচ সাংসারিক জীবনে ভোম্বল কোনোরকমে একটা টী স্টল চালায় । তবুও ভোম্বলের সমস্ত সঞ্চিত টাকা-পয়সা, গিন্নির গহনা, স্যারের পায়ের কাছে রেখে বলল, “স্যার, আর দেরী করবেন না । এক্ষুণি হাসপাতাল চলুন ।“ ভোম্বলের সেই সময়কার চাহনী, কাতর আবেদন, সর্বোপরি তার আন্তরিকতা দেখে তমালবাবু চোখের জল ধরে রাখতে পারলেন না । তাই মনে মনে বললেন, তিনি ছাত্রদের শিক্ষিত করতে পারুক বা না-পারুক, অন্তত একজন ছাত্রকে মানুষ করতে পেরেছেন ।
( ৪ )
এবার জানা যাক, কান্না কেন ঘটে ?
কান্না একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া যেখানে আমাদের চোখের ল্যাক্রিমাল গ্রন্থি অশ্রু উৎপন্ন করে । এই অশ্রুগুলি নালীগুলির মধ্যে দিয়ে গড়িয়ে পড়ে । এগুলি হয় গালের উপর দিয়ে গড়িয়ে পড়ে বা নাসোলেক্রিমাল নালীর মাধ্যমে নাকের মধ্যে জমা হয় ।
সঠিকভাবে, চোখের উপরের প্রান্তে উপস্থিত ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিগুলির নিঃসরণ হল অশ্রু । আমরা যখন কাঁদি তখন কান্নার পরিমাণ বেশি হয় । আমরা যখন স্বাভাবিক শরীরবৃত্তীয় অবস্থায় থাকি তখন কান্নার পরিমাণ কম হয় । কান্নার অনুভূতির জন্ম মস্তিষ্কে, ল্যাক্রিমাল গ্ল্যান্ড থেকে । এই গ্ল্যান্ড থেকেই প্রোটিন, মিউকাস বা তেলতেলে নোনা জল তৈরি হয় । এগুলি চোখ দিয়ে অশ্রুর আকারে বেরিয়ে আসে । এই তরলকেই কান্না বলে।
মস্তিষ্কে সেরিব্রাম নামে একটা অংশ আছে, সেখানে দুঃখ জমা হয় বা দুঃখের অনুভূতি তৈরি হয় । সেই অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ হল কান্না । আরও জানা যায়, দুঃখের বা মন খারাপের কারণে শরীরে একধরনের টক্সিন বা ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ তৈরি হয় । সেগুলি বার করে দেয়ার জন্য কান্নার প্রয়োজন । চোখের জলের সঙ্গে সেই ক্ষতিকর পদার্থ বেরিয়ে আসে ।
সেরিব্রাম অংশ থেকে এন্ডোক্রিন সিস্টেম বা অন্তঃক্ষরা পদ্ধতিতে হরমোন নির্গত হয় । দুঃখের কারণে জমা হওয়া ক্ষতিকর পদার্থগুলি বহন করে চোখের আশপাশের অঞ্চলে নিয়ে যায় এই হরমোনগুলি । সেখান থেকে চোখের জলের সঙ্গে টক্সিনগুলো বেরিয়ে আসে কান্নার আকারে । এটিই আসলে আবেগীয় কান্না । যন্ত্রণার বা খুশির কান্নাও একই পদ্ধতিতে আসে।
( ৫ )
কাঁদার আবার বিভিন্ন ধরন আছে । যেমন দুঃখ, ব্যথা ছাড়াও অনেক সময় আমরা অন্য কারণে কেঁদে ফেলি । আবার চোখে ঝাল বা পেঁয়াজের কষ লাগলে চোখে জল আসে । এটাকে ঠিক কান্না বলা যায় না । কিন্তু কান্নার বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এর যথেষ্ট মিল আছে ।
রিফ্লেক্স নামে আরেক ধরনের কান্না আছে । এই কান্না একটু অন্যরকম ! হঠাৎ ব্যথা পেলে, কিংবা ঝাঁঝালো কোনও বস্তু যেমন পেঁয়াজ বা সর্ষের তেলের ঝাঁঝ কিংবা ধুলাবালি নাক বা চোখ দিয়ে ঢুকলে এই ধরনের কান্নার জন্ম । ঝাঁঝালো বস্তু চোখে ঢুকলে, চোখের কর্নিয়ায় যে স্নায়ুতন্ত্র আছে, সেখানে বার্তা পাঠায় । বদলে মস্তিষ্কও প্রতিরক্ষার জন্য হরমোন পাঠিয়ে দেয় চোখের পাতায় । চোখে সেগুলি অশ্রুর মতো জমা হয় । ধুলাবালি বা ক্ষতিকর পদার্থ বয়ে নিয়ে চোখ থেকে বেরিয়ে আসে সেই অশ্রু ।
বেসাল কান্না কাঁদতে হয় না, জানা যায় এরা চোখের মধ্যেই থাকে। বেসাল কান্না এক ধরণের পিচ্ছিল তরল — যেটা আমাদের চোখকে সব সময় ভিজিয়ে রাখে । যার জন্য আমাদের চোখ কখনোই একেবারে শুকিয়ে যায় না ।
আবেগের কান্না শুরু হয় সেরেব্রাম থেকে । সেরেব্রাম হলো মস্তিষ্কের সবচেয়ে বড় অংশ, এজন্য সেরেব্রামকে বলা হয় ‘গুরুমস্তিষ্ক’। সেরেব্রামেই থাকে আমাদের সব ধারণা, কল্পনা, চিন্তা-ভাবনা, মূল্যায়ন ও সিদ্ধান্ত ।
পরিশেষে আমরা বলতে “কান্না মানুষের একটা সহজাত প্রবৃত্তি ।“ কেননা সহজাত প্রবৃত্তি হচ্ছে কোনো জীবের আচরণের একটি অংশ ! অন্যদিকে উপকারের কথা ভাবলে ‘কান্না’ একটা মানুষকে উদ্দীপ্ত রাখে, চোখ পরিষ্কার রাখে, মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, আবার বিষণ্ণতা কাটায় ।(তথ্যসূত্রঃ সংগৃহীত) ।

Share This