Categories
রিভিউ

আজ ৩০ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ৩০ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।
দিবস—–
(ক) জাতীয় সৃজনশীলতা দিবস

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৮৭৯ – কলিন ব্লাইদ, প্রথিতযশা ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার ছিলেন।  .

১৮৯৫ – মরিস টেট, ইংলিশ ক্রিকেটার।

১৮৯৯ – আরভিং থালবার্গ, মার্কিন চলচ্চিত্র প্রযোজক।
১৯০৮ – নোবেল পুরস্কার বিজয়ী সুইডিশ পদার্থবিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী উলফ গোস্তা আল্‌ফভেন ।

১৯১৭ – মার্কিন রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডি।

১৯২৮ – আনিয়েস ভারদা বেলজিয়ামে জন্মগ্রহণকারী ফরাসি চলচ্চিত্র পরিচালক, আলোকচিত্রী ও চিত্রশিল্পী ।

১৯৩৪ – অ্যালেক্সি লিওনভ, সোভিয়েত ইউনিয়ন তথা রাশিয়ান নভোচারী।

১৯৪০ – জগমোহন ডালমিয়া, বিশিষ্ট ভারতীয় ক্রিকেট প্রশাসক ছিলেন।
১৯৪৯ – বব উইলিস, ইংরেজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা ছিলেন।
১৯৫০ – (ক)  ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায়, ভারতীয় বাঙালি অভিনেতা।

(খ) পরেশ রাওয়াল, ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেতা।
১৯৭৫ – ম্যারিসা ম্যায়ের, আমেরিকান ব্যবসায়িক নির্বাহী।
১৯৮০ – স্টিভেন জেরার্ড, ইংলিশ ফুটবলার।
১৯৯০ – আন্দ্রেই লোকতিয়োনোভ, রাশিয়ান আইস হকি খেলোয়াড়
১৯৯১ – জোনাথন ফক্স, ইংরেজ সাঁতারু
১৯৯২ – ড্যানিয়েল হেরাল্ড, ইংরেজ অভিনেতা
২০০১ – হীরা, মণি, মুক্তা বাংলাদেশের প্রথম ত্রয়ী টেস্টটিউব বেবী

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৬৩১ – ফ্রান্সের প্রথম সংবাদপত্র লা গ্যাজেট প্রকাশিত হয়।
১৮০৭ – মোস্তফা চতুর্থ কর্তৃক তুরস্কের সুলতান সেলিম তৃতীয় ক্ষমতাচ্যুত।
১৮৫৯ – ইংল্যান্ডের বিগ বেন ঘড়ি প্রথমবারের মতো বেজে উঠে।
১৮৯৯ – কলকাতার ঘরে ঘরে বৈদ্যুতিক সরবরাহ শুরু।
১৯১৩ – আলবেনিয়া নতুন রাষ্ট্রের মর্যাদা পায়।
১৯১৭ – প্রথম আলেকজান্ডার গ্রিসের রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন।
১৯১৮ – প্রথম মহাযুদ্ধ চলাকালে ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে মারনে নদীর কাছে জার্মান ও মিত্র বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের সমাপ্তি ঘটে।
১৯১৯ – জালিনওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ নিজের হাতে নাইটহুড ত্যাগের অবিস্মরণীয় চিঠি লেখেন তৎকালীন বড়লাট চেমসফোর্ডকে।
১৯৫৩ – নিউজিল্যান্ডের হিলারি ও নেপালের তেনজিংয়ের এভারেস্ট শৃঙ্গ জয়।
১৯৫৪ – শেরেবাংলা ফজলুল হকের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভা বাতিল। পূর্ববাংলায় গভর্নর শাসন জারি।
১৯৬৭ – নাইজেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ বিয়াফ্রা (১৯৬৭-৭০) স্বাধীনতা ঘোষণা করে, এর ফলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।
১৯৮১-বাংলাদেশে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বিপথগামী কিছু সেনার হাতে রাষ্টপ্রতি জিয়া নিহত,ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান সংঘটিত।
১৯৯০ – বরিস ইয়েলৎসিন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত।
১৯৯০ – কর্ণফুলী সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।
১৯৯১ – ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা।
১৯৯৬ – বেনজামিন নেতানিয়াহু ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত।
১৯৯৭ – বাংলাদেশের তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কর্তৃক শুক্রবার-শনিবার দু’দিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করে।
১৯৯৮ – আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে এক ভূমিকম্পে ৫০০০ লোক নিহত হয়।
১৯৯৯ – নাইজেরিয়ায় সামরিক শাসনের অবসান। ওলসেগুন ওবাসাঞ্জো ১৫ বছরের মধ্যে নাইজেরিয়ার প্রথম বেসামরিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৪৩১ – জোন অফ আর্ক, পরাধীন ফ্রান্সের মুক্তিদাত্রী বীরকন্যা এবং রূপকথাতুল্য এক নেত্রী।
১৫৯৩ – ক্রিস্টোফার মার্লো, ইংরেজ নাট্যকার, কবি ও অনুবাদক।
১৬০৬ – গুরু অর্জন, শিখধর্মের প্রথম শহিদ ও দশ জন শিখ গুরু মধ্যে পঞ্চম।
১৭৪৪ – আলেকজান্ডার পোপ, অষ্টাদশ শতকের জনপ্রিয় ইংরেজ কবি।
১৭৭৮ – ভলতেয়ার, ফরাসি লেখক ও দার্শনিক।
১৭৭৮ – ফ্রান্সের বিখ্যাত দার্শনিক ও লেখক ফ্রান্সোয়া মেরি আরোয়া।
১৯০৩ – সার্বিয়ার রাজা আলেকজান্ডার আর্বোনোভিচ।
১৯১২ – মার্কিন বিমান আবিষ্কারক উইলবার রাইট।
১৯৪১ – প্রজাধীপক, থাই রাজা।
১৯৬০ – বরিস লেয়োনিদভিচ পাস্তের্নাক, রুশ সাহিত্যের অন্যতম বিখ্যাত কবি, ঔপন্যাসিক এবং অনুবাদক।
১৯৬৫ – লুই ইয়েল্ম্‌স্লেভ, ডেনীয় ভাষাবিজ্ঞানী।

১৯৮১ – জিয়াউর রহমান, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি ও সেনাপ্রধান এবং বীর উত্তম উপাধিপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
১৯৮৪ – বাঙালি লেখিকা ও ঔপন্যাসিক শান্তা দেবী (নাগ)।
২০০৬ – রবার্ট স্টার্লিং, আমেরিকান অভিনেতা।
২০১১ – রোজালিন ইয়ালো, আমেরিকান চিকিৎসাক, পদার্থবিদ এবং রেডিওইমিউনোঅ্যাসে। (জ. ১৯২১)
২০১২ – অ্যান্ড্রিউ ফিল্ডিং হ্যাক্সলি, ইংরেজ শারীরতত্ত্ববিদ এবং জীবপদার্থবিজ্ঞানী।
২০১৩ – ঋতুপর্ণ ঘোষ, ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক অভিনেতা লেখক ও গীতিকার ।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং দিনটির ইতিহাস।।।

২৯ মে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক দিবস সংগঠনের শান্তির জন্য পরিবেশনকারী ইউনিফর্মধারী কর্মী এবং বেসামরিক নাগরিকদের অটুট প্রতিশ্রুতি এবং ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়। দিবসটি চিহ্নিত করার গভীর অর্থ রয়েছে – তাদের অমূল্য অবদানের প্রশংসা করা এবং ১৯৪৮ সাল থেকে কর্তব্যরত ৪০০০ জনেরও বেশিকে সম্মান জানানো।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক দিবস থিম ২০২৫-

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস ২০২৫ এর থিম

প্রতি বছর এই দিনে শান্তিরক্ষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী ব্যক্তিদের সম্মান জানাতে এই থিমটি বরাদ্দ করা হয়।

এই বছর, ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের আন্তর্জাতিক দিবসের ইতিহাস–

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, এটি ২৯ মে, ১৯৪৮ সালে প্রথম জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন – জাতিসংঘের যুদ্ধবিগ্রহ তদারকি সংস্থা (UNTSO) – ইসরায়েল এবং আরব রাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি পর্যবেক্ষণ করার জন্য ফিলিস্তিনে UNTSO-এর কার্যক্রম শুরুর সাথে মিল রেখে চিহ্নিত করে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষার বিবর্তন—

৭০ বছরেরও বেশি সময় ধরে, এটি একটি বিশ্বব্যাপী পালিত দিবসে পরিণত হয়েছে যারা শান্তি বজায় রাখার জন্য তাদের জীবন ঝুঁকিপূর্ণ পুরুষ ও মহিলাদের সাহসিকতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারে। বিভিন্ন দেশের বাহিনী মোতায়েন করা এবং ক্রমবর্ধমান সংকটের সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মধ্যে মূল শক্তি নিহিত। তরুণ শান্তিরক্ষীরা উল্লেখযোগ্যভাবে সাফল্য সক্ষম করে।

বিশ্বব্যাপী প্রভাবের উত্তরাধিকার—
প্রায় ৭২ টি সফল অপারেশন বিশ্বব্যাপী অগণিত জীবন বাঁচিয়েছে। অগ্রগামী মধ্যপ্রাচ্য মিশন সংঘাতের সমাধান এবং শান্তির প্রতি জাতিসংঘের প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করেছে – পরবর্তী সমালোচনামূলক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে একটি উত্তরাধিকার।

স্মারক কার্যক্রম—

মহাসচিব পতিত শান্তিরক্ষীদের সম্মানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন যারা বিপদের মধ্যে কাজ করেছেন। জাতিসংঘের কার্যালয়, সদস্য রাষ্ট্র এবং এনজিওগুলি পালন করে। ২০২২ থিম ‘মানুষ। শান্তি। অগ্রগতি। অংশীদারিত্বের শক্তি’ শান্তিরক্ষা বিজয়ের জন্য অত্যাবশ্যক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়।

আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের তাৎপর্য—

বৈশ্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠা করা-
বিশ্বব্যাপী শান্তির প্রচার করে, শান্তিরক্ষীদের প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে জীবন রক্ষা করে এবং সংঘাতের বৃদ্ধি রোধ করে।

শান্তিরক্ষীদের সহায়তা—

মনোবল বৃদ্ধি এবং সমর্থন নিশ্চিত করার একটি দিন হিসাবে, এটি স্বীকৃতির মাধ্যমে দক্ষ কর্মক্ষমতা অনুপ্রাণিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সচেতনতা বৃদ্ধি—-

জনসাধারণকে অপারেশন এবং অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে, এটি নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতার দিকে শান্তিরক্ষীদের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টাকে স্পটলাইট করে।
উপসংহারে, এই আন্তর্জাতিক দিবসটি শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের জন্য বিশ্বব্যাপী কৃতজ্ঞতা এবং শান্তির প্রতি তাদের মহৎ কাজকে সক্ষম করে রাখার জন্য একটি শক্তিশালী আহ্বান হিসাবে দাঁড়িয়েছে।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
রিভিউ

আজ ২৯ মে, ইতিহাসের আজকের এই দিনে যা ঘটেছিল।।।

আজ ২৯ মে। ইতিহাস ঘেটে দেখা যায় বছরের প্রতিটি দিনে ঘটেছে অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনা। আসুন আজকের দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য কিছু বিষয় একনজরে দেখে নিই।  ইতিহাসের আজকের এই দিনে কী কী ঘটেছিল, কে কে জন্ম নিয়েছিলেন ও মৃত্যুবরণ করেছিলেন——-
দিবস—–
(ক) আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস।
(খ) সেনাবাহিনী দিবস (আর্জেন্টিনা)।
আজ যাদের জন্মদিন—-
১৬৩০ – দ্বিতীয় চার্লস ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের রাজা।
১৮৬০ – স্যার মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দী, কাশিমবাজারের মহারাজা ও মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব।  .
১৮৬৫ – রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, ঊনবিংশ শতকের বাঙালি সাহিত্যিক ও ‘প্রবাসী’ ও ‘মডার্ন রিভিউ’ এর সম্পাদক।  .
১৮৬৮ – দ্বিতীয় আবদুল মজিদ, সর্বশেষ উসমানীয় খলিফা।
১৮৯৪ – ইয়োজেফ ফন স্টার্নবের্গ, অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন চলচ্চিত্র পরিচালক।
১৮৯৬ – স্টেলা ক্রামরিশ, অস্ট্রীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ইতিহাসবিদ ও কিউরেটর যিনি মূলত ভারতীয় শিল্পের ইতিহাস নিয়ে প্রসিদ্ধি লাভ করেন।
১৯০৩ – বব হোপ, মার্কিন কৌতুকাভিনেতা, অভিনেতা, গায়ক, নৃত্যশিল্পী, মল্লক্রীড়াবিদ ও লেখক।
১৯০৫ – হীরাবাঈ বরোদাকর, হিন্দুস্তানী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী।
১৯১৪ – তেনজিং নোরগে, নেপালী শেরপা, এডমন্ড হিলারির সাথে যৌথভাবে এভারেস্ট শৃঙ্গ জয় করেন।
১৯১৭ – জন এফ. কেনেডি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫তম রাষ্ট্রপতি।
১৯২১ – বিশিষ্ট বাঙালি শিল্প ব্যক্তিত্ব সাধন দত্ত।
১৯২৫ – অমলেন্দু বিশ্বাস, বাংলাদেশী যাত্রা অভিনেতা ও পরিচালক।
১৯২৯ – দ্বিজেন শর্মা, বাংলাদেশী প্রকৃতিবিদ।
১৯২৯ – পিটার হিগস, ব্রিটিশ তাত্ত্বিক পদার্থবিদ এবং এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যামিরেটাস অধ্যাপক।
১৯৪০ – ফারুক আহমদ খান লেগারি, পাকিস্তানি রাজনীতিবিদ এবং অষ্টম প্রেসিডেন্ট।
১৯৪১ – অরুণাভ সরকার, বাংলাদেশী কবি, কলাম লেখক, সাহিত্য সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা।
১৯৫২ – হুমায়ুন ফরিদী, বাংলাদেশী অভিনেতা।
১৯৮৪ – নিয়া জ্যাক্স, মার্কিন পেশাদার কুস্তিগীর, মডেল এবং বডিবিল্ডার।
১৯৯৩ – মাইকা মনরো, মার্কিন অভিনেত্রী এবং পেশাদার কাইটবোর্ডার।
ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-
১৩২৮ – ফিলিপ-৫ ফ্রান্সের রাজমুকুট গ্রহণ করেন।
১৪৫৩ – কনস্টান্টিনোপল বিজয়: সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের নেতৃত্বে উসমানীয় সেনারা ৫৩ দিন অবরোধের পর বাইজেন্টাইন রাজধানী কনস্টান্টিনোপল জয় করে এবং বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের সমাপ্তি ঘটে।
১৭২৭ – দ্বিতীয় পিটার রাশিয়ার জার হন।
১৮০৭ – মোস্তফা চতুর্থ কর্তৃক তুরস্কের সুলতান সেলিম তৃতীয় ক্ষমতাচ্যুত।
১৮৭৪ – সুইজারল্যান্ডে সংবিধান কার্যকর হয়।
১৯০৩ – সার্বিয়ার রাজা আলেকজান্ডার আর্বেনোভিচ সস্ত্রীক নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতে নিহত।
১৯৩৪ – তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোসফের স্বাক্ষরিত একটি চুক্তি অনুযায়ী, কিউবারের অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বাতিল করা হয়।
১৯৩৫ – হেগ জাদুঘর উদ্বোধন করা হয়।
১৯৩৭ – স্পেনে গৃহযুদ্ধ চলার সময় রিপাবলিকানদের জঙ্গী বিমান জার্মানীর একটি জাহাজে আঘাত হানে।
১৯৪৮ – আরব-ইসরায়েলি যুদ্ধ বিরতির জন্য জাতিসংঘের পরিচালিত প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন।
১৯৫৩ – তেনজিং নরগেএবং এডমন্ড হিলারী যৌথভাবে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। দু জনের মধ্যে তেনজিং নরগে প্রথমে শৃঙ্গে উঠেছিলেন।
১৯৫৪ – পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক এ.কে. ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা বাতিল ঘোষণা করা হয়।
১৯৫৯ – শার্ল দ্য গোল ফ্রান্সে জাতীয় নিরাপত্তামূলক সরকার গঠন করেন।
১৯৬৩ – ঘূর্ণিঝড়ে বাংলাদেশে ২২ হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।
১৯৬৮- ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ফুটবল ক্লাব ইউরোপিয়ান কাপ জয় করে।
১৯৭২ – তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিকসেন সৌভিয়েত ইউনিয়নে তার এক সপ্তাহব্যাপী সফর করেন।
১৯৯০ – বরিস ইয়েলৎসিন রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৯০ – কর্ণফুলি সেতু আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।
১৯৯১ – ক্রোয়েশিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা।
১৯৯৩ – চতুর্থ এশিয়া-প্যাসিফিক রেড ক্রস সম্মেলন পেইচিংএ সমাপ্ত হয়।
১৯৯৬ – কায়রোতে ৭টি আরব দেশের পরিবেশ সংক্রান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৯৬ – বেনজামিন নেতানিয়াহু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত।
এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-
১২৫৯ – ডেনমার্কের রাজা দ্বিতীয় ক্রিস্টোফার।
১৪৫৩ – উলুবাতলি হাসান, অটোমান সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের অধীনস্থ একজন তিমারলি সিপাহি।
১৮২৯ – হামফ্রে ডেভি, ব্রিটিশ আবিষ্কারক এবং প্রখ্যাত রসায়নবিদ।
১৮৯২ – বাহাউল্লাহ, বাহাই ধর্ম-এর প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৪২ – জন ব্যারিমোর, আমেরিকান অভিনেতা।
১৯৭১ – পৃথ্বীরাজ কাপুর, ভারতের থিয়েটার ও চলচ্চিত্র অভিনেতা ও ভারতীয় গণনাট্য সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ।
১৯৭৭ – সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, বাঙালি, একজন ভাষাতাত্ত্বিক পণ্ডিত, সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ।
১৯৭৯ – ম্যারি পিকফোর্ড, কানাডীয়-মার্কিন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী ও প্রযোজক।
১৯৮১ – চীনের মহান বিপ্লবী পথিকৃৎ ড: সান ইয়াত সেনের বিধবা সন ছিং লিন।
১৯৮৭ – চৌধুরী চরণ সিং, ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং ভারতের ৬ষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।
২০০৪ – আঞ্জুমান আরা বেগম, একুশে পদক বিজয়ী বাংলাদেশী সঙ্গীতশিল্পী।
২০১০ – ডেনিস হপার, মার্কিন অভিনেতা, চলচ্চিত্র নির্মাতা, আলোকচিত্রী ও চিত্রশিল্পী।
২০১৭ – মানুয়েল নরিয়েগা, পানামার সাবেক রাজনীতিবিদ ও সৈনিক।
২০২১ – (ক) ‘টারজান’ খ্যাত হলিউড তারকা জো লারা।
(খ ) বিষ্ণুপুর ঘরানার কিংবদন্তি ধ্রুপদী সঙ্গীত শিল্পী ড.দেবব্রত সিংহ ঠাকুর।
।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৮ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।

আজ ২৮ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

দিবস—–

(ক) নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস। (বাংলাদেশ)।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৫২৪ – দ্বিতীয় সেলিম, অটোমান সুলতান।

১৭৭৯ – আইরিশ কবি টমাস মুর।

১৮৮৩ – বিনায়ক দামোদর সাভারকর, বিপ্লবী ভারতীয় রাজনীতিবিদ এবং ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী।

১৮৮৮ – জিম থর্প, আমেরিকান অ্যাথলেট।

১৯০৭ – বিপ্লবী, গণসঙ্গীত রচয়িতা, লেখক ও বাংলাদেশে উদীচীর প্রতিষ্ঠাতা সত্যেন সেন।
১৯০৮ – ইয়ান ফ্লেমিং, একজন বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক, সাংবাদিক ও নৌ-গোয়েন্দা। তিনি ব্রিটিশ কাল্পনিক গোয়েন্দা চরিত্র জেমস বন্ড চরিত্র নিমার্ণে জন্য বিখ্যাত ছিলেন।

১৯১১ – বব ক্রিস্প, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার।
১৯১২ – প্যাট্রিক ভিক্টর হোয়াইট, ১৯৭৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অস্ট্রেলিয়ার ঔপন্যাসিক।
১৯১৫ – জোসেফ গ্রিনবার্গ, প্রভাবশালী ও বিতর্কিত মার্কিন ভাষাবিজ্ঞানী ও আফ্রিকান নৃতত্ত্ববিদ।
১৯২৩ – এন টি রামা রাও, ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা, প্রযোজক, পরিচালক ও অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।
১৯২৫ – বুলেন্ত এজেভিত, তুর্কি রাজনীতিবিদ, কবি, লেখক, পণ্ডিত, সাংবাদিক এবং ১৬তম প্রধানমন্ত্রী।
১৯৩০ – ফ্রাঙ্ক ড্রেক, মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও জ্যোতিঃপদার্থবিজ্ঞানী।
১৯৩১ – ক্যারল বেকার, আমেরিকান অভিনেত্রী।
১৯৪২ – স্টানলি বি প্রুসিনার, মার্কিন নিউরোলজিস্ট এবং প্রাণরসায়নবিদ।
১৯৪৬ – কে. সচ্চিদানন্দন, ভারতীয় কবি এবং সমালোচক।

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭৪২ – লন্ডনে প্রথম ইনডোর সুইমিং পুল চালু।
১৭৫৭ – ব্রিটিশ কর্তৃক মীর জাফরকে বাংলার নবাব ঘোষণা।
১৮০৪ – নেপোলিয়ন বোনাপোর্ট নিজেকে ফ্রান্সের সম্রাট ঘোষণা।
১৮৭১ – প্যারি কমিউনের পতন ঘটে।
১৯১৮ – আজারবাইজান ও আর্মেনিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
১৯১৯ – ভার্সাই চুক্তির মাধ্যমে প্রথম মহাযুদ্ধ সমাপ্ত।
১৯৩৭ – প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট একটি সুইচ টিপে ক্যালিফোর্নিয়া সানফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ উদ্বোধন করেন।
১৯৪০ – দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির কাছে বেলজিয়াম আত্মসমর্পণ করে।
১৯৫২ – গ্রিসের নারীদের ভোটাধিকার অর্জিত হয়।
১৯৬৪ – নয়াদিল্লীতে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী এবং কংগ্রেস নেতা পণ্ডিত জওহারলাল নেহেরুর অন্তেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
১৯৬৪ – ফিলিস্তিন মুক্তি সংস্থা বা পিএলও গঠিত হয়।
১৯৮৭ – ম্যাথু রাস্ট নামে ১৯ বছর বয়সী এক অ্যামেচার বিমান চালক ক্রেমলিনের রেড স্কোয়ারে ছোট একটি সেসনা বিমান অবতরণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো।
১৯৯১ – ইথিওপিয়ার রাজধানী আদ্দিস আবাবাতে বিদ্রোহীদের ট্যাংকবহর প্রবেশ করতে থাকে এবং দেশটিতে ১৭ বছরের মার্ক্সবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
১৯৯৫ – রাশিয়ার নেস্তেগস্কর শহরে প্রবল ভূমিকম্প। দুই হাজার লোকের প্রাণহানি।
১৯৯৬ – ভারতে বাজপেয়ী সরকারের পতন। দেবগৌড়া প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত।
১৯৯৮ – পাকিস্তান ৫টি পারমাণবিক বোমার সফল পরীক্ষা করেছে বলে ঘোষণা করে।
২০১০ জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হয়। যাতে প্রায় ১৪১জনের মৃত্যু হয়।
২০২৩ – নয়াদিল্লিতে বিস্তৃত পরিসরের নতুন ভারতীয় সংসদ ভবনের দ্বারোদ্ঘান হয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯৩৭ – অস্ট্রীয় মনোবিজ্ঞানী আলফ্রেড অ্যাডলার।
১৯৪২ – রমাপ্রসাদ চন্দ,ভারতীয় বাঙালি ইতিহাসবিদ ও পুরাতত্ত্ববিদ।
১৯৭৬ – জয়নুল আবেদিন , বাংলাদেশের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী।
১৯৯৪ – সাহিত্যিক ও রাজনীতিক আসহাব উদ্দীন।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

গ্রামোন্নয়নে কৃষির ভূমিকা -একটি সমীক্ষা : দিলীপ রায়।।।।

আমরা জানি, ভারত সরকার আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যে গ্রামের মানুষের জীবিকার নিরাপত্তা ও আর্থিক ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষপাতী । এই কথা মাথায় রেখে, সরকার গ্রামে সকলের অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশের দিকে নজর দিয়ে কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ক্ষেত্রে রূপান্তর ত্বরান্বিত করার কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে বা নিচ্ছে ।

এটা ঘটনা, কেন্দ্রিয় সরকার ঘোষিত কল্যাণ প্রকল্প ও কর্মসূচিগুলোর লক্ষ্য হচ্ছে গ্রামাঞ্চলকে লাভ, উৎপাদনশীলতা ও সমৃদ্ধির কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা । এই লক্ষ্য পূরণে বাজেট বরাদ্দ সেইভাবে বাড়ানো হচ্ছে । তৈল বীজ ও ডাল উৎপাদন বাড়াতে এবং রান্নার তেলে স্বনির্ভর হতে দেশকে সাহায্য করার জন্য আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী সমবায় সমিতিগুলোকে ডাক দিয়েছেন (০৩-০৭-২০২৩) । এখানে একটা ঘটনা জানিয়ে রাখি, খাদ্যশস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের দেশে ২০২২-২৩ সালে শস্য ও শাক, সবজি, ফুল ও ফলের ফলন রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে । গত বছরের চেয়ে শস্যের উৎপাদন বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি । আর অন্যদিকে শাক, সবজি, ফুল ও ফল ফলেছে ১শতাংশের বেশি । প্রধান খাদ্যশস্য ধান ও গমের ফলনের রেকর্ডও উল্লেখযোগ্য । ধান ও গম উৎপাদন (২০২২-২৩) যথাক্রমে ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টন এবং ১১ কোটি টন । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-১২/২৩) । সুতরাং খাদ্যশস্য উৎপাদনে আমাদের দেশ একটা আত্মসন্তুষ্টির জায়গায় রয়েছে ।
এই কথাগুলি তুলে ধরার একটাই উদ্দেশ্য, গ্রামীণ বিকাশে কৃষিজাত ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির সরকারি দৃষ্টির ইতিবাচক দিকগুলির উপর এবং বাস্তব অবস্থান সম্পর্কে একটা ধারণা । আর একটি পরিসংখ্যানে (নীচে উল্লেখ করা হলো) দেখা যাচ্ছে আমাদের দেশে দারিদ্রতার হার কমছে ।
ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের প্রকাশিত ফ্যাক্টশিট থেকে দেখা যাচ্ছে, ২০১১-১২’এর তুলনায় ২০২২-২৩ সালে ভারতীয় পরিবারগুলির মাথাপিছু মাসিক ব্যয় অনেক বেড়েছে । একই সঙ্গে দারিদ্রের হার নেমে গেছে ২২.৯% থেকে ৫শতাংশের কাছাকাছি । এখন জানা যাক, দরিদ্র কাদের বলা হচ্ছে ? যে পরিবারের দৈনিক মাথাপিছু খরচ ২.১৫ ডলার বা তার কম, বিশ্ব ব্যাঙ্ক তাকে দরিদ্র বলছে । অর্থাৎ কোনো পরিবারের মাসিক মাথাপিছু খরচ ১৪৭৬ টাকা বা তার কম হলে বিশ্ব ব্যাঙ্কের মাপকাঠি অনুযায়ী তাকে দরিদ্র বলা যায় । বিনামূল্যে পাওয়া ভোগ্যবস্তু বাদে তাদের ব্যয় মাসে ১৩৭৩ টাকা, বিনামূল্যের পণ্য ধরলে তা ১৪৪১ টাকা । অর্থাৎ ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভের নতুন তথ্য অনুযায়ী দারিদ্রের হার ৫%-এ নেমে এসেছে । (সূত্রঃআঃবঃপঃ২৪.০৫.২০২৪) । সুতরাং আমরা যদি গ্রামীণ এলাকার মানুষের দিকে চোখ রাখি তাহলে আমরা বুঝতে পারব, সত্যিই কী দারিদ্রের হার কমেছে !
( ২ )
আমাদের দেশ মূলত কৃষিপ্রধান দেশ । তাই অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন, কর্মসংস্থান-ভিত্তিক বিকাশের ক্ষেত্রে কৃষি অগ্রগণ্য । তাই গ্রামোন্নয়নের মূল স্তম্ভ হচ্ছে কৃষি । বলা চলে গ্রামীণ অর্থনীতি প্রায় সম্পূর্ণভাবে কৃষিনির্ভর । কৃষিই গ্রামীণ মানুষের জীবিকার মূল অবলম্বন । অধিকাংশ মানুষ সরাসরি চাষবাস করে জীবিকা নির্বাহ করে । অনেকে আবার কৃষির সঙ্গে যুক্ত আনুসঙ্গিক কাজ কর্মে নিয়োজিত । তাই কৃষি গ্রামীণ অর্থনীতির মেরুদন্ড । বিভিন্ন সমীক্ষার রিপোর্টে জানা গেছে, কৃষি থেকে প্রায় ৬৯ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করে । এটাও ভাববার বিষয়, কম জমিতে বেশি ফলন কীভাবে করা যায় ? তাই কৃষি অঞ্চল যেমন বাড়াতে হবে তেমনি উৎপাদনশীলতার উপর জোর দিতে হবে । যেমন পাঞ্জাবে ধান ও গম ফসলের যখন আবর্তন শুরু হয়, তখন খড় পোড়ানো শুরু হয় । একটাই উদ্দেশ্য জমির উর্বরতা বাড়ানো । যেখানেই এই ধান ও গমের আবর্তন রয়েছে, সেখানেই প্রয়োজন একটি রাইস বয়ো পার্কের । রাইস বয়ো পার্ক মানে ধানের প্রতিটি অংশ যেমন গাছ, খড়, খোসা, তুষ, পাতা, সবকিছুকেই কাজে লাগানো । এখানে একটা কথা বলা প্রয়োজন, খড় পোড়ানোর ব্যাপারটা আবার দক্ষিণ ভারতে নেই । চাষি পরিবারে এখনও খড় ছোট ছোট করে কেটে গরুকে খাওয়ানোর রেওয়াজ বর্তমান । সুতরাং আমরা বলতে পারি এগুলির অর্থনৈতিক মূল্য রয়েছে । অতএব গ্রামীণ উন্নয়নে ও আর্থিক দৃষ্টিভঙ্গীতে এই জাতীয় অর্থকরী ফসলের রক্ষণাবেক্ষণ খুব জরুরি । শুধু তাই নয়, জমিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে যথাযথ ধ্যান দেওয়া আশুকর্তব্য । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-১১/২৩) ।
কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়নের আরও ধাপ হিসাবে আমরা দেখতে পাই উচ্চ ফলনশীল বীজের ব্যবহার, সার ও ঔষধের প্রয়োগ । তা ছাড়া বহুফসলি চাষের ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির উপর জোর দেওয়া । কিন্তু বাস্তবে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ব্যাপকতা সেভাবে বাড়েনি । যার জন্য কৃষি ব্যবস্থা এখনও অনুন্নত এবং সেকেলের । শীর্ণদেহি বলদের কাঁধে লাঙ্গল জোয়াল জুড়িয়ে চলছে কৃষিকাজ । তবে একটা কথা এখানে প্রাসঙ্গিক, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য খাদ্য শস্যের উৎপাদন যেমন ধান, গম , জোয়ার, বাজরা, ভুট্টা অনেকটাই বেড়ে গেছে । মহাজনি প্রথা বিলোপের জন্য কৃষি ঋন দেওয়ার ক্ষেত্রে সমবায় গঠনের উপর জোর দেওয়া হয়েছে । কৃষি ঋনের সহজলভ্যতার জন্য রয়েছে “জাতীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ব্যাঙ্ক” (NABARD) । শস্যবীমা ও শস্যের ন্যুনতম দাম বেঁধে দেওয়ার ফলে গরীব কৃষকেরা অনিশ্চয়তার হাত থেকে যদিও কিছুটা রক্ষা পাচ্ছে । কিছুটা হলেও বর্তমানে চিরাচরিত কৃষি প্রথার বদলে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষের উপর ঝোঁক দেখা যাচ্ছে । অন্যদিকে এটাও ঘটনা, কৃষিজাত দ্রব্যের দাম কিন্তু অন্যান্য দ্রব্যের দামের সঙ্গে সমানতালে বাড়ে না । অথচ যত দিন যাচ্ছে চাষিদের চাষের খরচ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে । চাষে নিযুক্ত কৃষি শ্রমিকের দাম যেমন বাড়ছে, তেমনি চাষের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অর্থাৎ রাসায়নিক সার, ফসলের পোকা-মাকড় মারবার ঔষধপত্রের দামও বাড়ছে । ফলে চাষ থেকে উঠে আসা লভ্যাংশ ক্রমহ্রাসমান । চাষীর চাষজাত ফসলের দামের উপর গ্রামীণ অর্থনীতি নির্ভরশীল । অর্থকরী ফসলের উৎপাদনের অবস্থা তথৈবচ । আমরা জানি, অর্থকরী ফসল বলতে বিশেষ করে বাংলায় পাট চাষ । পাটের বাজারের তীব্র মন্দার কারণে পাট চাষও তলানীতে । সুতরাং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গার স্বার্থে কৃষির উপর যথাযথ গুরুত্ব আরোপ ভীষণ জরুরি ।
( ৩ )
এবার আসছি কৃষিকাজে সারের ব্যবহারে । নিয়মিত জমির মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা চাষযোগ্য জমিতে উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদে বাঞ্ছনীয় । মাটি পরীক্ষার পর সঠিক সার নির্ধারন চাষের পক্ষে উপোযোগী । যার জন্য মাটি পরীক্ষার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে । এই কারণেই ‘রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনা’ চালু হয়েছে । মাটির স্বাস্থ্য কার্ড বিলি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে । আমরা জানি, কৃষিজমিতে জৈব সার ব্যবহার ফসলের ফলনকে বাড়াতে সাহায্য করে । এই প্রসঙ্গে একটা কথা খুব জরুরি, খাদ্যের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে গেলে খাদ্যের যোগান-বৃদ্ধি অবশ্যম্ভাবী । আবার কিছু কিছু ফসল আছে যেগুলো সরাসরি খাদ্যের ব্যবহারে আসে না, যেমন তুলো, ইত্যাদি । তবুও আমাদের দেশের কৃষক সমাজ লাভের কথা মাথায় রেখে প্রযুক্তির সাহায্যে তুলো চাষকে লাভযোগ্য ফসল হিসাবে চাষ করছে । এইভাবে চাষের উন্নয়ন গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশে প্রভাব ফেলবে ।
এবার দেখা যাক কৃষিক্ষেত্রকে চাঙ্গা করার স্বার্থে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা । কেন্দ্রিয় সরকারের তথ্য থেকে দেখা যায় মোট প্রদত্ত ঋনের মধ্যে কৃষিক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাঙ্কগুলির ঋনের পরিমান ২০১০-১১ সালে মাত্র ২১.৭৬ শতাংশ । পশ্চিম বঙ্গে ২০১২-১৩ সালে (এপ্রিল-ডিসেম্বর) তথ্যে প্রকাশ, বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি কৃষিঋন প্রকল্পে নির্দ্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৪৯ শতাংশ ঋন প্রদান করেছে । আঞ্চলিক ব্যাঙ্কগুলি লক্ষ্যমাত্রার ২৮ শতাংশ ও সমব্যয় ব্যাঙ্কগুলি ৫০ শতাংশ ঋনপ্রদানে সাফল্যে লাভ করেছে । এছাড়া সমব্যয় ব্যাঙ্কগুলি রাজ্যের প্রাথমিক কৃষিঋন সমব্যয় সমিতিগুলির (প্যাকস্‌) মাধ্যমে কৃষিঋন ও কৃষিকাজের অন্যান্য উপাদানের জন্যে ঋন প্রদান করে । নাবার্ড উৎপাদনের মাধ্যমে সম্পদ সৃষ্টি করার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক, জমি ভাড়া বা ইজারা নিয়ে চাষ করে এমন কৃষক ও ভাগচাষিদের ঋন পরিষেবা দেবার জন্য প্রকল্প গ্রহন করেছে । এতে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়বে । দেশের আর্থিক উন্নয়নের হার বৃদ্ধির সুবিধা হবে (তথ্যসূত্রঃ যোজনা -৬/১৪) ।
( ৪ )
এবার একঝলক ভারতীয় অর্থনীতির চিত্রটা দেখে নেওয়া যাক । ভারতের অর্থনীতি বৈচিত্র্যময় । কৃষিকাজ, হস্তশিল্প, বস্ত্রশিল্প, উৎপাদন এবং বিভিন্ন সেবা ভারতের অর্থনীতির অংশ । ভারতের খেটে খাওয়া মানুষের দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে কিংবা পরোক্ষভাবে কৃষিজমি থেকে জীবিকা নির্বাহ করে । এখনও ভারতের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ৬৯ শতাংশ কৃষির উপর নির্ভরশীল । তবে সেবাখাত ক্রমশ প্রসারলাভ করছে, ফলে ভারতীয় অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে । ডিজিটাল যুগের আর্বিভাবের পর শিক্ষিত লোকের সহজলভ্যতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত আউটসোর্সিং ও কারিগরি সহায়তাদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসাবে পরিণত হয়েছে বা হচ্ছে । এটা ঘটনা, ভারত সফটওয়্যার ও আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে সারা বিশ্বে অতি দক্ষ শ্রমিক সরবরাহ করে থাকে । এছাড়া ঔষধ শিল্প, জীবপ্রযুক্তি, ন্যানোপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, জাহাজ নির্মাণ, পর্যটন শিল্পগুলিতে জোড়ালো প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ।
এবার আসছি আমাদের রাজ্যের দৃষ্টিভঙ্গিতে কৃষিব্যবস্থা । রাজ্যে কোনো অর্থকরী ফসলের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষককে আর বিমার প্রিমিয়াম দিতে হবে না । রাজ্য সরকার (পঃবঃ) এই সংক্রান্ত খরচ বহন করবে । বিধানসভায় কৃষি মন্ত্রী একথা জানিয়ে আরও বলেছেন, আগামী অর্থবর্ষের শুরুতে আলুসহ সমস্ত অর্থকরী ফসলের চাষীরা এই সুবিধা পাবেন । তিনি আরও বলেছেন, ২০২৩ সালের খারিফ মরশুমে প্রায় ৬০ লক্ষ কৃষক বাংলার শস্য বীমা যোজনা প্রকল্পের আওতায় নাম নথিভুক্ত করেছেন । আরও জানা যায়, ২০১৯ সালে এই প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে এপর্যন্ত ৯৮ লক্ষ কৃষককে এই প্রকল্পের আওতায় ফসলের ক্ষতি বাবদ ২৮৩৮ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-৩/২৪) ।
কোনো একটা সূত্র থেকে জানা গেছে কেন্দ্রের সরকার কৃষকদের সব ধরনের সমস্যা দূর করতে উদ্যোগী হয়েছে । পিএম কিষাণ সম্মাননিধির আওতায় প্রত্যেক কৃষককে নগদ মূল্য দিয়ে সহযোগিতা করার উদ্যোগ নিয়েছে । কৃষিপণ্যের গুদামজাত করার সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের উন্নতিতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে । আরও জানা গেছে বর্তমানে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত অড়হর ডাল বিক্রির ক্ষেত্রে অন লাইনে সরাসরি সরকারকে বিক্রি করার সুযোগ পাচ্ছে । এতে কৃষকরা ভাল দাম পাচ্ছেন । (তথ্যসূত্রঃ যোজনা-২/২৪) ।
এই মুহূর্তে যেটা দরকার, কৃষিজাত ফসলের সঠিক দাম । ফসলের ন্যায্য দাম নিয়েই কৃষকদের মধ্যে যতো অশান্তি । ফসলের ন্যায্য দামের জন্য চাই ‘কৃষি বাজার’ । আমাদের দেশের চাষিরা উপযুক্ত বাজারের অভাবে তাঁদের বহু কষ্টার্জিত ফসলের দাম ঠিকমতো পায় না । ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা যাতে না ঠকে, তার জন্য চাই সুসংহত কৃষি বিপননের পরিকাঠামো । প্রয়োজনে কৃষি-বাণিজ্য নীতির খোলনলচে পাল্টানো । যাতে কৃষকের কৃষি-পণ্যের জন্য সরকার কর্তৃক উপযূক্ত “লাভজনক দাম” বা সংগ্রহ মূল্যের নির্ধারন ও নিশ্চয়তা প্রদান সম্ভব হয় । সবশেষে যেটা জরুরি, সেটা হচ্ছে কৃষি বীমার সম্প্রসারণ । কৃষি কাজ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ । কৃষি ক্ষেত্রে অনেক অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করে আশানুরূপ ফল না পেলে কৃষকের দুর্দশা বাড়ে । এজন্য শস্য বীমা, কৃষি বীমা, ইত্যাদি বীমার আরও জোরদার করা সময়োপযোগী । বীমার আওতায় যাতে সমস্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষি আসে সেদিকে সরকারি সক্রিয় দৃষ্টিভঙ্গি আশুকর্তব্য ।
পরিশেষে কৃষি ব্যবস্থাকে চাঙ্গা করতে পারলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে । কৃষি ব্যবস্থা চাঙ্গা হলে গ্রামোন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে । অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হলে গ্রামীণ মানুষদের মধ্যে স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়বে । তাঁদের মুখে হাসি ফুটবে।

কলমেঃ দিলীপ রায় (+৯১ ৯৪৩৩৪৬২৮৫৪)
(তথ্যসুত্রঃ সংগৃহীত ও উল্লেখিত যোজনা) ।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৭ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।

আজ ২৭ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৩৩২ – ইবনে খালদুন, আরব মুসলিম পণ্ডিত।

আধুনিক সমাজবিজ্ঞান, ইতিহাস ও অর্থনীতির জনকদের মধ্যে তিনি অন্যতম বিবেচিত হন।
১৮৫২ – বিলি বার্নস, পেশাদার ইংরেজ ক্রিকেটার।
১৮৬৩ – আর্থার মোল্ড, ইংরেজ ক্রিকেট খেলোয়াড়।
১৮৯০ – যতীন্দ্রপ্রসাদ ভট্টাচার্য, একজন বাঙালি কবি ।
১৯০৩ – যোগেশচন্দ্র বাগল প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক ।
১৯৯৫ – সাবিলা নূর বাংলাদেশী মডেল ও অভিনেত্রী

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭০৩ – পিটার দি গ্রেট কর্তৃক সেন্ট পিটার্সবুর্গ (লেনিনগ্রাদ) শহরের পত্তন হয় ।
১৭৬৭ – কলকাতায় প্রথম প্রটেস্টান্ট গির্জা নির্মিত।
১৮৩৭ – আলজেরিয়ার স্বাধীনতাকামী নেতা আবদুল ক্বাদেরের সাথে ফ্রান্স সরকারের একটি শান্তিচূক্তি হয়।

১৮৮৩ – তৃতীয় আলেকজান্ডার রাশিয়ার রাজা হন।
১৯১৯ – জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ‘নাইট’ উপাধি ত্যাগ করে বড়লাট লর্ড চেমস ফোর্ডকে চিঠি দেন।
১৯১৯ – এনসি-৪ এয়ারক্রাফট অবতরণ করে লিসবনে, প্রথম উড্ডয়ন শেষ করে।
১৯২৬ – মরোক্কোর রিফ এলাকায় ফরাসী ও স্পেনীয় উপনিবেশবাদীদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের ঐতিহাসিক গণপ্রতিরোধ বা বিদ্রোহ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়।
১৯২৭ – বৈমানিক চার্লস লিন্ডবার্গ একাকী বিমান চালিয়ে বিশ্বে প্রথম আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করেন।
১৯৩০ – নিউইয়র্কে ১০৪৬ ফুট বিল্ডিংটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়, যেটি সে সময় মানুষের তৈরি দীর্ঘতম ভবন।
১৯৩২ – খ্যাতনামা সাহিত্যিক ও মানবতাবাদী রমাঁ রল্যাঁ ও অঁরি বারব্যুস যৌথভাবে আন্তর্জাতিক যুদ্ধবিরোধী সমাবেশ আহবানে করেন।
১৯৫২ – ইউরোপীয় প্রতীরক্ষা গোষ্ঠী গঠিত হয়।
১৯৭২ – যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে সল্ট-১ চুক্তি স্বাক্ষর।
১৯৮৯ – বার্মার সামরিক শাসকগোষ্ঠী দেশের নাম পরিবর্তন করে দ্য ইউনিয়ন অব মায়ানমার রাখে এবং রেঙ্গুনের নাম পালটে রাখে ইয়াঙ্গুন।
২০০৬ – ‘জাভা’ ভূমিকম্প ভোর ৫টা ৫৩ মিনিটের সময় তীব্র আঘাত করে ইওগাকার্তায়। প্রায় ৬ হাজার ৬০০ লোকের প্রাণহানি ঘটে।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

১৯১০ – রবার্ট কখ, নোবেল পুরস্কার বিজয়ী জার্মান জীব বিজ্ঞানী।

১৯৩০- স্পেনীয় কথাসাহিত্যিক গাব্রিয়েল মিরো।

১৯৬৪ – জহরলাল নেহরু, ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী।

১৯৭৫ – নৃপতি চট্টোপাধ্যায়, বাঙালি অভিনেতা।

১৯৮৬ – অজয় মুখোপাধ্যায়, পশ্চিম বাংলার চতুর্থ ও ষষ্ঠ মুখ্যমন্ত্রী।
১৯৯৫ – শ্যামাদাস চট্টোপাধ্যায় – আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি পরমাণুবিজ্ঞানী।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
গল্প নারী কথা প্রবন্ধ

জানুন শতবর্ষ প্রাচীন নন্দিনী পুজোর ইতিহাস।।।।

দেবী নন্দিনী পূজোর কথা শুনেছেন! স্নান সেরে বসুন্ধরার মাটির ঢেলা মাথায় করে বয়ে নিয়ে এসে পুজো দেন ভক্তরা, বর্তমানে মাটির পাহাড় তৈরি হয়েছে সেখানে, অন্যদিকে মাটি নিতে নিতে একসময়ের ছাড়া গঙ্গা পুনরায় জলপূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা। নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের পঞ্চায়েতের অন্তর্গত সগুনা এলাকায় শতবর্ষ প্রাচীন নন্দিনী পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে বৈশাখী পূর্ণিমায় এলাকার মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অনুযায়ী, বিভিন্ন দুরারোগ্য ব্যাধি সন্তানহীনতা এবং ব্যথা সংক্রান্ত নানান রোগ ভালো হয়েছে এখানে পুজো দিয়ে।

সন্তানাদির জন্ম এবং তাদের সুস্বাস্থ্যের জন্য মায়েরা এখানকার মাটি মেখে থাকেন।

এলাকার প্রবীনরা জানালেন, চাষ করতে আসা ট্রলার ট্রাক্টর জমিতে পুঁতে গেলে তা উদ্ধার হয় পুজোদিলে। আর এই সকল কারণে শুধুমাত্র এই গ্রাম নয় আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও পর্যন্ত আজকের দিনে নন্দিনী দেবীর পুজোতে মাটি দিতে উপস্থিত হন ভক্তরা। শুধু হিন্দু ধর্মেই নয় পার্শ্ববর্তী মুসলমান সম্প্রদায়ের অনেকেই মানত করতে মাটি দিয়ে থাকেন।
তবে এলাকার প্রবীণরা আজও উদ্ধার করতে পারেননি প্রতিবছর এই দিনে প্রথম কে মাটি দেয়, যত ভোরেই পৌঁছাক না কেনো, যে প্রথম পৌঁছায় তিনিও গিয়ে দেখেন তার আগে কেউ একজন মাটি দিয়ে রেখেছে।
একসময় পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা এখন পলি পড়েছে তবে সে সময় জল থাকতো, সেখান থেকে স্নান করে এবং চাষের জমি থেকে মাটি মাথায় নিয়ে, পাহাড়সম চুড়ায় নিম গাছের গোড়ায় পুজো দিয়ে থাকেন পূর্ণর্থীরা। তবে কোন মূর্তি নয়, জাগ্রত সুউচ্চ ঢিলা ভূমি এবং গাছের গোড়াই এখানে দেবতা।

মনস্কামনা পূর্ণ হওয়া ভক্তবৃন্দরা খিচুড়ি এবং বিভিন্ন তরকারি ভোগের প্রসাদ হিসেবে আগত হাজার হাজার ভক্ত বৃন্দকে বিতরণ করেন বিভিন্নজন। এই উপলক্ষে প্রত্যেক বাড়িতে আজ রান্না বন্ধ। মহিলারা সকলে এসে হাতে হাত লাগিয়ে রান্নার কাজ করে থাকেন। বর্তমানে এই পুজো ঐতিহ্য এবং পরম্পরায় পরিণত হয়েছে। তবে প্রত্যেকের মুখেই বিষাদের সুর। হাজার হাজার পুর্নার্থীদের স্নান করার জলের অভাব, মহিলাদের শৌচাগার এবং স্নানের পর ভিজে কাপড় জামা পরিবর্তনের ঘর, বিপদজনক উচ্চতায় উঠতে সিঁড়ি, উচ্চ বাতিস্তম্ভ , পানীয় জলের কল এ সবই প্রয়োজন। পঞ্চায়েত সদস্য হোক বা সমিতি কিংবা জেলা পরিষদ কেউ কখনোই খোঁজ নিয়ে , তৎপর হননি। তবে সামনে গতবার বিধায়ক ড : ব্রজকিশোর গোস্বামী এসে কথা দিয়েছিলেন সিঁড়ি করার, এ বছরের নির্বাচন পড়ার কারণে তা এখনো শুরু হয়নি তবে আগামীতে তা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। বাকি কাজগুলির জন্য অন্যান্য জনপ্রতিনিধিদের প্রতীক্ষায় এলাকাবাসী।

উদ্যোক্তারা জানালেন পুজো আজ হলেও পাঁচ দিন যাবত চলে মেলা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
নানান অলৌকিক কথা শোনা গেল এই পুজো সম্পর্কে, ভক্তরা জানালেন উঁচু ওই মাটির ঢিবিতে কখনো বাজি পটকা ফাটেনা নিম গাছগুলিতে মাইক লাগালে তা কিছুক্ষণ পরে বন্ধ হয়ে যায়, চাষের জমিতে ট্রাক্টর কিংবা অন্যান্য গাড়ি ফেসে গেলে পুজো না দেওয়া পর্যন্ত কারোর সাধ্য নেই সেই গাড়ি তোলে. তবে এসব ই ভক্তবৃন্দদের বিশ্বাস।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

কাজী নজরুল ইসলাম ও দুই নারী : কামনা দেব।।।

কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনেও দুই নারী ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখে গেছেন। ঠিক কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনে যেমন দুইজন নারী অত্যন্ত গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন ।তেমনই কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবনে ও কাজী নজরুল ইসলামের জীবনে দুই নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

শুধুমাত্র তফাৎ ছিলো, এই দুই নারীর মধ্যে মৃণালিনী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের স্ত্রী আর কাদম্বরী দেবী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের বৌদি। রবীন্দ্রনাথের বৌদি কাদম্বরী দেবী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের চেয়ে দু’বছরের বড় ছিলেন এবং রবীন্দ্রনাথের কিশোরবেলার খেলার সাথীও ছিলেন। একসাথে বড় হতে হতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্যের সকল শাখায় যেমন প্রতিভা প্রস্ফুটিত হতে থাকে, তেমনি কাদম্বরী দেবীও প্রচুর পড়াশুনা করে কবির রচনার প্রথম পাঠক ও প্রধান সমজদার পাঠক হতে পেরেছিলেন। অনেকক্ষেত্রেই কাদম্বরী দেবী কবির সৃষ্ট রচনাগুলোর পর্যালোচনা করে কিছু পরিমার্জন করে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করতেও সাহায্য করেছেন। অন্যদিকে মৃণালিনী দেবীও অনেক পড়াশুনা করেছিলেন। কিন্তু অত অল্প সময়ের মধ্যে পাঁচ পাঁচটা সন্তান, তাদের লালন পালন ও সন্তানের অকাল মৃত্যু, বিরাট সংসারের রক্ষণাবেক্ষণ, অতগুলো লোকের রান্না বান্না – এসব নিয়ে তাঁকে সদাই ব্যস্ত থাকতে হতো বলে এদিকটা আর এতো এগুতে পারেন নাই।
অপরদিকে কাজী নজরুল ইসলামের জীবনে দুই নারীই তাঁর নিজের স্ত্রী ছিলেন বলে কেউ বলেন আবার কেউ বলেন নয় , তবে একজনের নাম ছিল সৈয়দা খাতুন আর কবি নজরুল নাম রেখেছিলেন নার্গিস। কিন্তু তাঁর সঙ্গে কবির কখনো ঘর করা হয়ে ওঠেনি।
আরেক নারী আ আশালতা সেনগুপ্তা এবং ডাকনাম ছিল দুলী, কবি নাম রেখেছিলেন প্রমীলা। এই নারীর সাথে বিয়েটা হয় নার্গিসের সাথে বিয়ের দিন আসর থেকে চলে আসার প্রায় তিন বছর পরে। তবে লক্ষ্যনীয় ব্যপার হলো উভয় নারীই তখনকার বৃহত্তর ত্রিপুরা অর্থাৎ বর্তমানের কুমিল্লার ছিলেন। দুইজনেই বিয়ের পরে অনেক পড়াশুনা করেছিলেন।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বৌদি কাদম্বরী দেবী যেমন হঠাৎ আত্মহত্যা করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন থেকে বিদায় নেন, তেমনি নার্গিসও কেবলমাত্র বিয়ের রাতটুকু ছাড়া, কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গেও আর কোন সম্পর্কই ছিল না। আবার কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী মৃণালিনী দেবী যেমন অসুস্থ হয়ে রবিঠাকুরের অনেক আগেই মারা গিয়েছিলেন, তেমনি কবি নজরুলের স্ত্রী প্রমীলা দেবীও কবি নজরুলের আগেই অসুস্থ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।
যেহেতু এখানে কাজী নজরুল ইসলাম প্রসঙ্গে লিখতে হচ্ছে , তাই কাজী কবি নজরুল ইসলামের বিষয়টির উপর অনুধাবন করতে হলে মনে হয় যতটা গোড়ার শুরু করতে পারা যায়, ততটাই কবির সম্পর্কে জানতে পারবো।
কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্ম বাংলা ১৩০৬ সালের ১১ জ্যৈষ্ঠ, ইংরেজি ১৮৯৯ খৃষ্টাব্দের ২৫শে মে, মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। মাত্র আট বছর বয়সেই কবি পিতা ফকির আহমদকে হারান। টাকা পয়সার অভাবে কবি লেখাপড়া পর্যন্ত করতে পারছিলেন না। এদিকে কবির ছিল প্রচণ্ড গান বাজনায় ঝোঁক । তাই কবি নজরুল নামমাত্র লেখাপড়া করে স্থানীয় *লেটো* গানের দলে যোগ দেন। এখানে কিছুদিন গান করার পর কবির মনে হল যে, এরকম গান তো তিনি নিজেই লিখতে বানাতে পারেন। তাই তিনি গান লেখা শুরু করে দিলেন। ঐ অত অল্পবয়সের লেখা গানের কথা ও ভঙ্গি তখন অনেকেরই নজর কেড়ে নিয়েছিল এবং বেশ কৌতূহলও সৃষ্টি হয়েছিল তাদের মধ্যে। কিন্তু এতে মুশকিল ছিল , সেখান থেকে তার তেমন কিছুই আয় হচ্ছিল না। ফলে ঐ বয়সেই কবি নজরুল গ্রামের হাজী পাহালওয়ান শাহের মসজিদে খাদেমগিরি শুরু করে দেন। ঐ কাজের মধ্যে পীর সাহেবের মাজারে সাঁঝের বাতি দেওয়ার কাজটাও কবিকে করতে হতো। কিন্তু সেই কাজেও কবি নজরুলের তেমন সুবিধে হচ্ছিল না দেখে তিনি মিলিটারিতে গিয়ে যোগ দেন ১৯১৭ সালে।
কবি নজরুল ইসলাম মিলিটারির যে কাজে যোগদান করেন, সেই ইউনিটটার নাম ছিল, – * ৪৯ নম্বর বাঙ্গালী পল্টন*।
মিলিটারিতে যোগদান করার পর কাজের জন্যই কবিকে করাচি চলে যেতে হয়। স্কুলের তেমন পড়াশুনার সুযোগ না হলেও, পড়াশুনা ও জ্ঞান আহরণের অদম্য ইচ্ছা ছিল কবি নজরুলের মধ্যে। তাই কবি কাজের ফাঁকে খোঁজা খুঁজি করে সেখানে একজন জ্ঞানী পাঞ্জাবী মৌলভী সাহেবের সন্ধান পান। সেই মৌলভীর কাছ থেকেই কবি কাজী নজরুল ইসলাম *দেওয়ান-ই-হাফিজ* ও ফার্সি ভাষার আরো নানা মূল্যবান কাব্যগন্থের সংস্পর্শে আসেন এবং সেই বিষয়গুলোর উপর শিক্ষালাভ করার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করেন। এভাবেই একদিন কাজী নজরুল ইসলাম পৃথিবীর অন্যতম প্রথম সারীর মহৎ সাহিত্যের সংস্পর্শে চলে আসেন। কবির গভীর অনুসন্ধিৎসু মন, এবং গভীর কাব্য দর্শনের অতল গভীরে ডুব দেবার সুযোগ পান। কাজী নজরুল ইসলাম মানব মহাজীবনের সন্ধানে ঢোকার সিঁড়ি ধাপে ধাপে পেয়ে যান।
আরব সাগরের পাড়ে বর্তমানের পাকিস্তানের করাচী শহরে বসে তিনি ‘মুক্তি’, ‘কবিতা-সমাধি’, ‘রিক্তের বেদন’, ‘ব্যথার দান’, ‘হেনা’ নামের ব্যতিক্রমধর্মী, অসাধারণ বিস্ময়কর কবিতা ও গল্প রচনা করতে থাকেন। পাঠক সমাজ তখন বুঝতে পারছিলেন বাংলা সাহিত্যের আকাশে আর একটি প্রবল শক্তিময় আলোর দ্যুতি ছড়ানো সূর্যের আবির্ভাব হতে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে গুজব ওঠে যে, *বাঙ্গালী পল্টন* ভেঙ্গে দেওয়ার কথা । তা শুনেই কবি ভবিষ্যতে কি করবেন সেই চিন্তা করতে করতে দেশের বাড়ি চুরুলিয়ায় এসেছিলেন।
১৯২৯ সালে যখন সত্যিই *বাঙ্গালী পল্টন* ভেঙ্গে দেওয়া হল,তখন কবি বর্ধমান জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট এর অধীনে সাব-রেজিস্ট্রার -এর পদের জন্য দরখাস্ত করেন। সেখানেও কিছু সুবিধা না হওয়ায় তিনি চাকরীর খোঁজে কলকাতাতে চলে যান। কলকাতায় পৌঁছেই তিনি প্রথমে সতীর্থ বন্ধু শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের মেসে উঠেন। এরপরে তিনি কলকাতা মেডিকেল কলেজের সামনে ৩২ নং কলেজ স্ট্রীটে অবস্থিত *বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতি* এর কার্যালয়ে যান। সেখানে *বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য পত্রিকা* -এর সম্পাদক, কমরেড মোজাফফর আহমেদ ও *মোসলেম ভারত* পত্রিকার কর্ণধার আফজালুল হক থাকতেন। এঁদের সঙ্গে কবির আলাপ হবার পর ঐ ঠিকানাতেই কাজী নজরুল ইসলামের থাকার ব্যবস্থা হয়। এর প্রায় পাঁচ ছয় মাস পরে, কবি নজরুল কাউকে কিছু না বলে হঠাৎই একদিন কুমিল্লা চলে যান। ব্যাপারটা আন্দাজ করতে না পেরে সবাই মিলে কাজী নজরুল ইসলামের অন্তরঙ্গ গায়ক বন্ধু, শ্রী নলিনীকান্ত সরকারের শরণাপন্ন হন। নলিনীবাবুর কথাটা ছিল মোটামুটি এইরকম যে, *নজরুলের প্রাত্যহিক গতিবিধি ও কার্য্যসূচীর সন্ধান আগে থেকেই আমার জানা থাকতো। একদিন সারা বিকেলটা নজরুলের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে পরদিন সকাল বেলায় গিয়ে দেখি, নজরুল ঘরে নেই। তাঁর একজন সহকক্ষবাসী বন্ধু মোসলেম-ভারতের কর্ণধার, আফজালুল হক হাসতে হাসতে বললেন, *সে তো কাল রাত্তিরে কুমিল্লা চলে গেছে*।
তিনি বললেন,- *কৈ, কাল তো কিছু বললো না*। সহকক্ষবাসী বন্ধু বললেন,- *বলবে কি করে? কাল সন্ধ্যার পর এক ভদ্রলোক এসে কি সব কথাবার্তা বলে কুমিল্লা যাবার প্রস্তাব করলেন। প্রস্তাব, অনুমোদন, সমর্থন সব মুহূর্তের মধ্যে – সঙ্গে সঙ্গে শিয়ালদহ ষ্টেশনে যাত্রা*। ঐ *এক ভদ্রলোক* -এর নাম ছিল আলী আকবর খান, কুমিল্লার দৌলতপুরের এক বিখ্যাত প্রকাশক। যিনি সম্পর্কে নার্গিসের মামা ছিলেন।
সেই দৌলতপুর যাবার পথেই আলী আকবর খান সাহেব কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে কয়েকদিন কুমিল্লার কান্দিরপাড়ে শ্রী ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তের বাড়িতে থেকে যান। ইন্দ্রকুমার বাবু কুমিল্লা বোর্ড অফ ওয়ার্ডস-এর ইন্সপেক্টর হিসেবে কাজ করতেন। ইন্দ্রকুমারের ছেলে বীরেন্দ্রকুমার, কুমিল্লা জেলা স্কুলে পড়াশুনা করতেন। সে সময় আলি আকবর খানও সেখানে পড়তেন। সে হিসাবে আলী আকবর খান ছিলেন বীরেন্দ্র কুমারের ক্লাসমেট । আর এই ক্লাসমেট থেকেই তাঁরা দুই বন্ধু হয়ে গেছিলেন এবং পরস্পর পরস্পরের বাড়ীতে যাতায়াত করতেন । বীরেন্দ্রকুমারের বাড়ীতে স্ত্রী, বোন, ছেলে ও বাবা মা ছাড়াও আরো থাকতেন বিধবা জেঠি গিরিবালা দেবী ও তাঁর একমাত্র কন্যা আশালতা সেনগুপ্তা ওরফে প্রমীলা দেবী।
প্রমীলার স্বর্গীয় পিতা, শ্রী বসন্তকুমার সেনগুপ্তের আদি নিবাস ছিল মানিকগঞ্জের তেহুতা গ্রামে। তিনি ত্রিপুরা সরকারের নায়েবের পদে চাকুরী করতেন। পিতার মৃত্যুর পর প্রমীলারা কুমিল্লায় কাকা ইন্দ্রকুমার সেনগুপ্তর অর্থাৎ বীরেন্দ্রকুমারদের বাড়ীতে এসেই বসবাস করছিলেন।
সেখানে কিছু দিন থাকার পর আলি আকবর খান সাহেব কাজী নজরুলকে সঙ্গে নিয়ে নিজের বাড়ি দৌলতপুরে চলে যান। আলী আকবর খান সাহেবের দু’জন বিধবা বোন ছিলো। এক বোন আলী আকবর খানের সংসারের সর্বময়ী কর্ত্রী ছিলেন। কাজী নজরুল ইসলামের চেহারা ও আচার আচরণ ব্যবহার দেখে বিধবা বোনের ভাল লাগে। তখন থেকে তিনি কাজী নজরুল ইসলামকে মায়ের মতো স্নেহ আদর যত্ন করতেন। কিন্তু অন্য বোনটি ঐ বাড়ীতে না থাকলেও কাছাকাছিই থাকতেন। সেই বোনের এক ছেলে ও এক মেয়ে ছিলো। মেয়েটি যুবতী ও বেশ সুন্দরীও ছিল। কাজী নজরুল এ বাড়ীতে আসার পর তাদের যাতায়াত বেশ বেড়ে যেতে থাকল। অনুমান , কবি নজরুলের বাঁশী ও মেয়েটির রূপ যৌবন পরস্পর পরস্পরকে আকৃষ্ট করেছিলো। ঐ মেয়েটির নাম সায়ীদা খাতুন ছিল ওরফে নার্গিস বেগম , এই নামটি কাজী নজরুল ইসলামই রেখেছিলেন সৈয়দা খাতুনের। এই ঘনিষ্ঠতা থেকেই কিছুদিনের মধ্যে কবি ও নার্গিসের বিয়ের কথা পাকাপাকি ও বিয়ের দিন ধার্য হয়ে যায়। কুমিল্লার সেই পল্লীগ্রাম থেকেই কাজী নজরুল ইসলাম ও আলী আকবর খান সাহেব মিলে নজরুলের বিয়ের খবর ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ পাঠান। মুস্কিল একটা হলো, একদিকে ব্যবসা সংক্রান্ত কারণে আলী আকবর খান সাহেবের উপর অনেকেই সন্তুষ্ট ছিলেন না। অন্যদিকে কবি নজরুলের তখন কিশোরকাল, বয়স কম, সাথে ভীষণ সেন্টিমেন্টাল এবং স্থিতিশীল কোন আয় তখন তাঁর ছিলোও না। এই অবস্থায় বিয়ে করার বিরাট দায়িত্ব কাজী নজরুল কেমন করে পালন করবে , সেটা নিয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বান্ধব সহ হিতৈষীদের দারুণ উৎকণ্ঠা দেখা দেয়। অথচ কেউ এর বিরোধিতা করার সাহসও পাচ্ছিলো না।
১৯২১ সালের ৫ জুন, তারিখে, কবি কাজী নজরুলের কুমিল্লা থেকে পাঠানো চিঠির জবাবে পবিত্র গঙ্গোপাধ্যায় লেখেন,
*ভাই নুরু, যখন তুই স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে তাকে বরণ করে নিয়েছিস, তখন অবশ্য আমার কোন দুঃখ নেই। তবে একটা কথা, তোর বয়স আমাদের চাইতে ঢের কম, অভিজ্ঞতাও তদনুরূপ feeling-এর দিকটা অসম্ভব রকম বেশী। কাজেই ভয় হয় যে, হয়তো বা দুইটা জীবনই না ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে তুই যদি concious, তাহলে অবশ্য কোন কথা নেই। যৌবনের চাঞ্চল্যে আপাতমধুর মনে হলেও ভবিষ্যতে না পস্তাতে হয়। তাই তুই নিজে যদি সব দিক ভেবে চিনতে বরণ করাই ঠিক করে থাকিস, তাহলে আমি সর্বান্তকরণে তোদের মঙ্গল কামনা করছি ।*
তুই লিখেছিস, *এক পল্লী বালিকার কাছে এত বিব্রত আর অসাবধান হয়ে পড়েছি, যা কোন নারীর কাছে কখনো হইনি*। জেনে খুশী হলাম যে, তাঁর বাইরের ঐশ্বর্যও যথেষ্টই আছে। তুই যে এরূপ আজগুবি একটা কাণ্ড বাধিয়ে বসবি, তা সকলে আমরা জানতুম*।
১৯২১ সালের ১৩ জুন কলকাতার *মোহাম্মদী* পত্রিকার অফিস থেকে সাহিত্যিক ওয়াজেদ আলী সাহেব লেখেন,-
*অভিন্ন হৃদয়েষু ভাই নজরুল, আপনার ৭ তারিখের স্নেহমাখা চিঠিখানি আজ বিকালে পেয়ে কয়েকবার পড়েছি, আর অশান্তির মধ্যেও খুব হেসেছি। পল্লীর যে কুটীরবাসিনী দৌলতপুরের দৌলতখানার শাহজাদী বলাই বোধ হয় ঠিক, তার সাথে আপনার মনের মিল ও জীবনের যোগ হয়ে গেছে তাঁকে আমার শ্রদ্ধা ও প্রীতিপূর্ণ আদাব জানাবেন। আমার বোধ হইতেছে যে, আপনার বন্ধুরা অসন্তুষ্ট হইয়াছেন একটা কারণে। আপনি *নারায়ণে* *দহনমালা* লিখে নারীর কাছে ক্ষমা চাইলেন, আর তার পরেই এত সত্বর প্রেমের ফাঁদে ধরা পড়লেন। যৌবনের জোয়ার বড় সাংঘাতিক। তাকে ঠেলে রাখা বড় দায়। এ আমি স্বীকার করছি*। এরপর আবার কদিন পরেই ১৬ জুন তারিখে আবার লেখেন, –
-*ভাই নজরুল, আপনার আগের চিঠির জবাব আগেই দিয়েছি। আজ এই কতক্ষণ হইল, রবিবারের চিঠিটাও পেলাম। আপনার বিয়ের খবরটা তাড়াতাড়ি এই সপ্তাহের কাগজে বের করে দিয়েছি। কিন্তু ভয় নেই, আপনার শ্রীমতীর কোন নামই কাগজে ছাপা হয় নাই*।
১৯২১ সালের ২৫ শে জুন কলকাতা থেকে মুজফফর আহমেদ সাহেব লেখেন,-
-*ভাই কাজী সাহেব। ওয়াজেদ মিয়ার চিঠিতে জানলাম যে, ৩রা আষাঢ় তারিখেই আপনাদের বিবাহ হচ্ছে। সময় খুব সংকীর্ণ কাজেই আমার আর যাওয়া হচ্ছে না। তবে ভালোয় ভালোয় সব মিটে যাক, এ প্রার্থনা খোদার দরগাহে*।
পরম প্রীতিভাজনেষু কাজী সাহেব, আপনার পত্রাদি যে আর মোটেই পাওয়া যাইতেছে না, তার কারণ কি? খান সাহেবের নিমন্ত্রণপত্র পাইয়াছিলাম। পত্রখানা আপনারই মুসাবিদা করা দেখিলাম। পত্রের ভাষা দু’এক জায়গায় বড় অসংযত হইয়াছে। একটু যেন কেমন দাম্ভিকতা প্রকাশ পাইয়াছে। আপনার হাত দিয়া অমন লেখা বাহির হওয়া কিছুতেই ঠিক হয় নাই। আমার ভয় হইতেছে যে, খান সাহেবের সংশ্রবে থাকিয়া আপনি না শেষে দাম্ভিক হইয়া পড়েন। অন্যে বড় বলিলে গৌরবের কথা হয়, আর নিজেকে নিজে বড় বলিলে অগৌরবের মাত্রাই বাড়িয়া যায়। *মোহাম্মদী* পত্রিকাকে বিবাহের কথা ছাপিতে অনুরোধ করাটা ঠিক হইয়াছে কি? তাঁরা তো নিজ হইতেই এ খবর ছাপিতে পারিতেন। বাস্তবিক আমার প্রাণে বড় লাগিয়াছে বলিয়া এত কথা বলিলাম। এই নিমন্ত্রণপত্র আবার *অপূর্ব নিমন্ত্রণপত্র* শিরোনামে *বাঙালী* পত্রিকাতে মুদ্রিত হইয়াছে দেখিলাম। *বাঙালী*-কে এই নিমন্ত্রণপত্র কে পাঠাইল? আপনার অঙ্ক লক্ষ্মীকে এই অপরিচিতের বিনয়-সম্ভাষণ জানাইবেন*।
মুদ্রিত ঐ নিমন্ত্রণ পত্রটিতে নজরুলের পিতা মরহুম কাজী ফকির আহমদ সাহেবের পরিচয় দেওয়া হয় চুরুলিয়ার *আয়মাদার* বলে। আর কাজী নজরুল ইসলামকে *মুসলিম রবীন্দ্রনাথ* বলা হয়। সম্ভবত: এই দুটি কথা মুজফফর সাহেবকে ব্যথিত করেছিল। মুজফ্ফর সাহেব ২১শে জুন আলী আকবর সাহেবকে লেখেন,-
*খান সাহেব, বিবাহের নিমন্ত্রণপত্র পাইয়াছি, অবশ্য হইয়া যাওয়ার পরে। আগে পাওয়া গেলেও বোধ হয় স্ট্রাইকের জন্য যাওয়া তেমন সুসাধ্য হইত না। যাহা হউক আশা করি ভালোয় ভালোয় শুভ কাজ শেষ হইয়া গিয়াছে*।
তিনি গোয়ালন্দ-চাঁদপুর স্টিমার ও আসাম বেঙ্গল রেলওয়ে কর্মচারীদের স্ট্রাইকের কথাই এখানে বোঝাইতে চাচ্ছিলেন।
যাই হোক, এতকিছু করে যে বিয়ে, সেটা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়। দৌলতপুরে আলি আকবর খান সাহেবের কিছু কিছু ব্যবহার কাজী নজরুলকে মানসিক ভাবে আঘাত করে। হবু বধূর কিছু আচরণও তাঁর কাছে দুর্ব্যবহার বলে মনে হয় কবি নজরুল ইসলামের।আলি আকবর খান অবস্থা সুবিধের নয় দেখে ও নিজের দোষ কাটাবার অভিপ্রায়ে বিয়েটা ভেঙ্গে দেবার ফন্দি আটেন এবং হঠাৎ করেই একটা নতুন প্রস্তাব এনে বলেন, বিয়ের-পরে কাজী নজরুল ইসলামকে দৌলতপুরেই থেকে যেতে হবে । যেটা খান সাহেবও জানেন যে কবি নজরুলের পক্ষে কোনমতেই এই কথা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।
বিয়েতে কাজী নজরুল ইসলামের বিশেষ আমন্ত্রণে বিরজাসুন্দরী দেবীও নৌকাযোগে দৌলতপুরের বিয়ে বাড়ীতে আসেন এবং সঙ্গে সেনগুপ্ত পরিবারের আরো দশ বারো জন সদস্যও এসেছিলেন। কাজী নজরুল ইসলাম যখন তাঁর ঐসব অপমানের কথা বিরজাসুন্দরীকে জানান, তখন তিনি এই বিয়ে না করার জন্য পরামর্শও দেন। কিন্তু এ বিয়ে উপলক্ষে অতো লোকজন উপস্থিত হয়ে গেছিল যে, তাই বিয়েটা ভেঙ্গে না দিয়ে যেভাবেই হোক কাজী নজরুল ইসলাম ঝামেলাটা চুকিয়ে ফেলার মনস্থ করেন এবং বিয়েটা শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন করেন, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়েটা হয়েছিল সত্য বলে কেউ কেউ লিখেগেছেন। তবে এই বিয়ে নিয়ে মতানৈক্য রয়ে গেছে। কিন্তু এই বিয়ে ইসলামী মতে হয়নি। অর্থাৎ তাঁদের দাম্পত্য মিলন সাধিত হয়নি। বিয়ের রাতেই প্রচণ্ড ঝড় ঝঞ্ঝার মধ্যেই কাজী নজরুল ইসলাম দৌলতপুর ত্যাগ করেন। মনে করা হয়েছে যে , কাজী নজরুল ইসলাম সেইদিন সেনগুপ্ত পরিবারের সঙ্গেই কান্দিরপাড়ে সেনগুপ্ত বাড়িতে এসে ওঠেন। সেই কান্দিরপাড় থেকেই কবি নজরুল দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি লেখেন।
প্রথম চিঠিটি লিখেন , আলি আকবর খান সাহেবকে। সেখানে কাজী নজরুল ইসলাম *মামাশ্বশুর* না লিখে *বাবাশ্বশুর* বলে সম্বোধন করেন,-
*বাবা শ্বশুর, আপনাদের এই অসুর জামাই পশুর মতন ব্যবহার করে এসে যা কিছু কসুর করেছে, তা ক্ষমা করুন সকলে, অবশ্য যদি আমার ক্ষমা চাওয়ার অধিকার থাকে। এইটুকু মনে রাখবেন, আমার অন্তর-দেবতা নেহায়েত অসহ্য হয়ে না পড়লে, আমি কখনো কাউকে ব্যথা দিই না। অতএব আমিও আপনাদের মতোই মানুষ। আমার গণ্ডারের চামড়া নয়, কেবল সহ্যগুণটা কিছু বেশী। আমার মান অপমান সম্বন্ধে কাণ্ডজ্ঞান ছিল না বা *কেয়ার* করিনি বলে আমি কখনো এত বড় একটা অপমান সহ্য করিনি। যাতে আমার *ম্যানলিনেসে* বা পৌরুষে গিয়ে বাজে । যাতে আমাকে কেঊ কাপুরুষ, হীন ভাবতে পারে। আমি সাধ করে পথের ভিখারি সেজেছি বলে লোকের পদাঘাত সইবার মতন *ক্ষুদ্র আত্মা* -র অমানুষও হয়ে যাইনি। আপনজনের কাছ হতে পাওয়া অপ্রত্যাশিত এত হীন ঘৃণা, অবহেলা আমার বুক ভেঙ্গে দিয়েছে।
বাবা, আমি মানুষের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছি। দোয়া করবেন আমার এ ভুল যেন দুদিনেই ভেঙে যায়। বাড়ির সকলকে দস্তুরমতো সালাম দোয়া জানাবেন। তাকেও ক্ষমা করতে বলবেন, যদি এ ক্ষমা চাওয়া ধৃষ্টতা না হয়।
আজ ইতি।
চীরসত্য স্নেহসিক্ত – নুরু*।
এরপর দ্বিতীয় চিঠিটা তিনি কলকাতায় মুজফ্ফর আহম্মেদকে লিখেন। সেই চিঠি পেয়ে মুজফ্ফর আহমেদ অনেক কষ্ট করে কুমিল্লা এসেছিলেন কারণ, তখন রেল ধর্মঘট চলছিল। তিনি এসেই কাজী নজরুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়েই কলকাতায় ফেরত যান। এর অল্প কিছুদিন পরেই ৩/১ সি তালতলা লেনে মুজাফ্ফর আহমেদ সাহেবের বাড়ীতে থাকা অবস্থায় নজরুলের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। এরপর নজরুল প্রায় তিন বছর ধরে কয়েকবার কান্দিরপাড় গিয়েছিলেন। এরপর ১৯২৪ সালের ২৪শে এপ্রিল, কলকাতার ৬ নম্বর হাজি লেনে, আশালতা সেনগুপ্তা, ওরফে প্রমীলার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় অনেক ঝক্কি সামলে।
কাজী নজরুল ইসলামের স্ত্রী প্রমীলা দেবীর বয়স তখন ১৮ বছরের বেশ কম ছিল বলে অফিসিয়ালি হিন্দু মুসলমানের বিয়ে, অর্থাৎ সিভিল ম্যারেজ হতে পারেনি। অগত্যা ইসলামী মতেই বিয়েটি সম্পন্ন করতে হয়েছিল। এ জটিলতায় হিন্দু, মুসলনমান উভয় সম্প্রদায়ের লোকেরাও চটে গিয়েছিলেন। আশালতা সেনগুপ্তার ওরফে দোলনার গায়ের রঙ চাঁপাকলির মতো ছিল বলে নজরুল তাঁর দ্বিতীয় কাব্যের নাম দিয়েছিলেন *দোলন চাঁপা*। দ্বিতীয় সন্তান জন্ম দেবার পর থেকে প্রমীলা দেবী পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত হয়ে বহুদিন শয্যাশায়ী ছিলেন। কবি প্রায় তাঁর সর্বস্ব দিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে থাকেন। অল্পদিনের মধ্যে দারুণ অসুস্থ হয়ে কি নজরুলও নিজে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। দীর্ঘ ৩৮ বছর সংসার করার পর, ১৯৬২ সালের ৩০শে জুন, শনিবার মাত্র ৫২ বছর বয়সে প্রমীলা দেবী কলকাতার পাইকপাড়ার বাড়িতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই সময় কলকাতার মির্জাপুর স্ট্রীটে নজরুল পাঠাগার ছিল। সেখানে বাৎসরিক নজরুল জয়ন্তী হতো। ফাংশান শেষে দলবল মিলে পাইক পাড়ায় গিয়ে কাজী সাহেবদের দেখে আসার একটা অলিখিত রেওয়াজ ছিল ঐ এলাকার লোকজনের। ১৯৬১ সালের নজরুল জয়ন্তীর পর , অর্থাৎ প্রমীলা দেবীর মৃত্যুর ঠিক আগের বছর, এলাকার লোকজন পাইকপাড়ার বাসায় নজরুল দম্পতীকে পাশাপাশি খাটে শোওয়া অবস্থায় দেখতে পান।
অসুস্থ স্ত্রী প্রমীলা দেবীর মৃত্যুর পর কাজী নজরুল ইসলামের অনেকদিনের অভিলাষ অনুযায়ী কবিপত্নীর মৃতদেহটি কলকাতা থেকে চুরুলিয়া নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেই হাজী পাহালোয়ানের দরগার পাশে কবরস্থ করা হয়। প্রমীলা দেবী বাল্যকাল থেকেই সাহিত্য ও সঙ্গীতের ভীষণ অনুরাগী ছিলেন। প্রমীলা দেবীর কিছু কবিতা মাসিক *সওগাত* ও দ্বিমাসিক *সাম্যবাসী* তে ছাপা হয়। যতদিন পেরেছেন, ঐ অচল অবস্থাতেও তিনি নিজ হাতে স্বামীকে খাইয়ে দিয়েছেন। কবির ভক্ত ও বন্ধু বান্ধবদের সঙ্গে তিনি একান্ত আপনজনের মতো ব্যবহার করতেন। সাংসারিক অসচ্ছলতার মধ্যেও তিনি কাউকে অভুক্ত অবস্থায় ফেরত দেননি। কখনও বিমর্ষ থাকতে দেখা যায় নাই এবং তাঁর কোন অভিযোগও তিনি কোন দিন করেন নাই।
নার্গিস খানের সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ হলেও কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁকে কখনও ভুলতে পারে নাই। এতো অল্প বয়েসে *শ্যাম রাখি না কূল রাখি* -এর মতো বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পড়ে, স্বামীর সঙ্গে ঔ রাত্রেই বাড়ী ছেড়ে চলে যাবেন, না পিতৃকুলের সম্মান রক্ষা করবেন, তা তিনি বুঝে উঠতে পারেন নাই। কিন্ত নার্গিস কখনো হাল ছাড়েন নাই। নিজেকে তৈরী করে নিতে ঢাকায় গিয়ে *কামরুন্নেছা গার্লস কলেজে* পড়াশুনা করেন নার্গিস।
নার্গিস *তাহমিনা*, *ধুমকেতু* ও *পথিক হাওয়া* নামে তিনটি উপন্যাস ও বেশ কটি টেক্সট বুক লিখেন। *তাহমিনা* *সোহরাব রুস্তম* উপন্যাসের অনুকরণে সেই লেখা হয়েছিল। তাহমিনাকে রেখে রুস্তম যেমন যুদ্ধক্ষেত্রে চলে যান। দেখানো হয়েছে ঠিক তেমনই নজরুল নার্গিসকে রেখে চলে গিয়েছিলেন। নার্গিসের জীবন যেন তাহমিনার অনন্ত দুঃখ দুর্দশা ও বঞ্চনার ইতিহাস। নার্গিসের সব কটা উপন্যাসই কাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ছিলো।
১৯৩৭ সালের নভেম্বর মাসের চার তারিখ নার্গিস দীর্ঘ ১৬ বছর প্রতীক্ষার পর আলি আকবর খান অর্থাৎ মামার বন্ধু, ময়মনসিংহবাসী প্রফেসর হেলালুদ্দিন ও মামাতো ভাই নওয়াজেশ মোহাম্মদ খানকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতার শিয়ালদহ হোটেলে কাজী নজরুল ইসলামের সাথে শেষ সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে মিঃ ওয়াজেদ আলীও উপস্থিত ছিলেন। অতর্কিতে এঁদেরকে দেখে কাজী নজরুল ইসলাম ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে দু’জনের কেউই কোন কথা বলতে পারেন নাই।একটু পরে ধাতস্থ হয়ে কাজী নজরুল ইসলাম নার্গিসকে বলেন, –
-*তুমি ঢাকা ফিরে যাও। আমি খুব সত্বর ঢাকায় আসছি, সেখানেই এর একটা সমাধান করবো*।
তিনি সাংসারিক অসচ্ছলতার নানান কথা সহ দুঃখ দুর্দশাময় ভবিষ্যতের কথাও বলেন। এও উল্লেখ করে বলেন যে,-
* প্রমীলা ও তার মা সংসারে নার্গিসকে কখনোই বরদাস্ত করবেন না। অবশ্য নার্গিসের ভাষায়, *সেই সত্বর আর কখনো আসেনি*।
পরবর্তীকালে নার্গিস, কাজী নজরুল ইসলামের ভক্ত ও ঘনিষ্ঠ কবি আজিজুল হাকিমকে বিয়ে করেছিলেন এবং ১৯৮৫ সালে, প্রায় ৮১ বছর বয়সে আমেরিকার এক ছোট্ট শহরে মারা যান। কবি নজরুলের সাথে আর কখনও নার্গিসের দেখা না হলেও কবি নজরুল ইসলাম, নার্গিসকে এক অবিস্মরণীয় পত্র লেখেন। এর কিছুটা অংশ নীচে তুলে দেওয়া হলো,-
*কল্যাণীয়েষু,
তোমার পত্র পেয়েছি সেদিন নববর্ষার নবঘন সিক্ত প্রভাতে। পনেরো বছর আগে এমনি এক আষাঢ়ের এমনি বারিধারার প্লাবন নেমেছিল, তা তুমিও হয়তো স্মরণ করতে পারো। এই আষাঢ় আমার কল্পনার স্বর্গলোক থেকে টেনে ভাসিয়ে দিয়েছে বেদনার অনন্ত স্রোতে। যাক, তোমার অনুযোগের অভিযোগের উত্তর দিই। তোমার উপর আমি কোন জিঘাংসা পোষণ করি না । এ আমি সকল অন্তর দিয়ে বলছি, আমার অন্তর্যামী জানেন, তোমার জন্য আমার হৃদয়ে কি গভীর ক্ষত, কি অসীম বেদনা। কিন্তু সে বেদনার আগুনে আমিই পুড়েছি । তা দিয়ে তোমাকে দগ্ধ করতে চাইনি। তুমি এই আগুনের পরশমাণিক না দিলে আমি অগ্নিবীণা বাজাতে পারতাম না। আমি ধূমকেতুর বিস্ময় নিয়ে উদিত হতে পারতাম না। তোমার যে কল্যাণরূপ আমি আমার কিশোর বয়সে প্রথমে দেখেছিলাম, যে রূপকে আমার জীবনের সর্বপ্রথম ভালবাসার অঞ্জলী দিয়েছিলাম, সে রূপ আজও স্বর্গের পারিজাত মন্দারের মতো চিরঅম্লান হয়েই আছে আমার বক্ষে। অন্তরের আগুন বাইরের সেই ফুলহারকে স্পর্শ করতে পারেনি। আজ চলেছি জীবনের অস্তমান দিনের শেষ রশ্মি ধরে ভাটার স্রোতে। তোমাকে লেখা এই আমার প্রথম ও শেষ চিঠি হোক। যেখানেই থাকি, বিশ্বাস করো, আমার অক্ষয় আশীর্বাদ কবচ তোমায় ঘিরে থাকবে। তুমি সুখী হও, শান্তি পাও, এই প্রার্থনা। আমায় যত মন্দ বলে বিশ্বাস কর, আমি তত মন্দ নই, এই আমার শেষ কৈফিয়ত।
ইতি-
নিত্যশুভার্থী,
নজরুল ইসলাম।* ******************************
সংগ্রহিত তথ্য নির্ভর

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ ২৬ মে, ইতিহাসের দিকে চোখ বুলিয়ে দেখে নেব ইতিহাসের এই দিনে বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু, দিনসহ ঘটে যাওয়া ঘটনা।।।।।

আজ ২৬ মে। এক নজরে দেখে নিই ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা, বিশিষ্টজনদের জন্ম-মৃত্যু দিনসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু বিষয়।

আজ যাদের জন্মদিন—-

১৭০৩ – স্যামুয়েল, ইংরেজ দিনলিপিকার ।
১৭৯৯ – আলেকজান্ডার পুশকিন, রাশিয়ার তথা রুশ সাহিত্যের অমর কবি ও ঔপন্যাসিক।
১৮৭৭ – খ্যাতনাম্নী মার্কিন নৃত্যশিল্পী ইসাডোরা ডানকান।
১৯০০ – চেক লেখক ভিতেস্লা ইসাডোরা ডানকান

ইতিহাসের পাতায় আজকের দিনের ঘটনাবলী—-

১৭৩৯ – মোগল সম্রাট মহম্মদ শাহ ও ইরানের নাদির শাহের মধ্যে চুক্তি সম্পাদনের ফলে আফগানিস্তান ভারত থেকে পৃথক হয়ে যায়।
১৮০৫ – নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ইতালির রাজা হিসাবে রাজ্যাভিষিক্ত হন।
১৮৬৫ – আমেরিকার গৃহযুদ্ধের অবসান।
১৮৭০ – দিনেসিসিলির এটনা আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাত শুরু।
১৮৮১ – ফ্রান্স তিউনিসিয়াকে করায়ত্ত করে এবং নিজ নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে।
১৮৯৬ – রাশিয়ার শেষ জার দ্বিতীয় নিকোলাস অভিষিক্ত হন।
১৮৯৭ – আইরিশ লেখক ব্রাম স্টকারের বিখ্যাত উপন্যাস ‘ড্রাকুলা’ প্রকাশিত হয়।
১৯১৩ – এমিলি ডানকান ব্রিটেনের প্রথম মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত।
১৯১৮ – জার্জিয়া ও আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণা।
১৯৪৮ – দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় আসে।
১৯৬৯ – অ্যাপোলো-১০ নভোযানটি আট দিনের সফল ভ্রমণ শেষ করে পৃথিবীতে অবতরণ করে।
১৯৭২ – যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন অ্যান্টি ব্যালস্টিক মিসাইল চুক্তিতে স্বাক্ষর করে।
১৯৭২ – বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয় হাইতি।
১৯৮১ – পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে।
১৯৮২ – ভারতের পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় বামফ্রন্ট মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছিল।
১৯৮৬ – বাংলাদেশের বরিশালে লঞ্চডুবিতে ২৩০ জনের মৃত্যু।
১৯৯১ – থাইল্যান্ডে অস্ট্রীয় বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ২২৩ জনের মৃত্যু।
১৯৯৪ – নোবেল পুরস্কার জয়ী সাহিত্যিক আলেক্সান্ডার সোলজিনেৎসিন ২০ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে নিজ মাতৃভূমি রাশিয়াতে প্রত্যাবর্তন।
১৯৯৪ – বাংলাদেশ-ভিয়েতনাম দুটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর।
১৯৯৯ – কাশ্মীরের কারগিল সেক্টরে পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধ শুরু।
২০১৮ – প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধি দেয় কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়।

এই দিনে মৃত্যুবরণ করেন যারা—-

৭৩৫ – বিড, ইংরেজ বেনেডিক্টিয়ান সন্ন্যাসী।

১৯০৮ – (ক)  বাঙালি কবি, সাহিত্যিক, ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক নীলমণি ন্যায়ালঙ্কার।

(খ) মির্জা গোলাম আহমদ।

১৯৭১ – বিমল মুখোপাধ্যায়, মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের কিংবদন্তি ফুটবলার।
১৯৭২ – প্রখ্যাত বাঙালি অভিনেত্রী রাজলক্ষ্মী দেবী।

১৯৭৬ – মার্টিন হাইডেগার, জার্মান দার্শনিক।

১৯৯৯- শচীন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় বাঙালি কবি কথা-সাহিত্যিক ও নাট্যকার ।
২০০৪ – নিকলাই চের্নিখ, রুশ বংশোদ্ভূত সোভিয়েত জ্যোতির্বিজ্ঞানী।
২০২১ – প্রখ্যাত বাঙালি প্রযুক্তিবিদ ও বিজ্ঞানী, অভিনেতা বিকাশ রায়ের পুত্র সুমিত রায়।

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব তোয়ালে দিবস, জানুন দিনটি সম্পর্কে কিছু কথা।।।

তোয়ালে দিবস হল এমন একটি দিন যা The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy লেখক ডগলাস অ্যাডামসকে উৎসর্গ করা হয়। প্রতি বছর ২৫ মে পালিত হয়, এটি ভক্তদের একত্রিত হয়ে শ্রদ্ধা জানানোর একটি সুযোগ।তবে কেন একটি তোয়ালে হিচহাইকারস গাইডের প্রতীকী এবং কেন ভক্তরা এই দিনে অ্যাডামসকে উদযাপন করেন?

ডগলাস অ্যাডামস কে ছিলেন?

ডগলাস অ্যাডামস ১১ মার্চ, ১৯৫২ সালে ইংল্যান্ডের কেমব্রিজে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একজন কমিক লেখক ছিলেন যিনি The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy সিরিজের কমিক সাই-ফাই বই লেখার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, যেটি তার মূল রেডিও নাটকের উপর ভিত্তি করে তৈরি, তবে তিনি BBC এর জন্যও লিখেছেন, এবং মন্টি পাইথন এবং ডক্টর হু এর মতো আইকনিক সিরিজ।
লেখক একজন প্রখর পরিবেশবিদও ছিলেন।
তিনি ক্যালিফোর্নিয়ায় ১১ মে, ২০০১-এ 4৪৯9 বছর বয়সে হার্ট অ্যাটাকে মারা যান।

তোয়ালে দিবস কখন?

ডগলাস অ্যাডামস মারা যাওয়ার ঠিক দুই সপ্তাহ পর ২৫ মে, ২০০১ সাল থেকে তোয়ালে দিবস বার্ষিকভাবে পালিত হচ্ছে।

তোয়ালে দিবস কি?

তোয়ালে দিবস উদযাপন করে দ্য হিচহাইকারস গাইড টু দ্য গ্যালাক্সি লেখক ডগলাস অ্যাডামস।
ভক্তরা অ্যাডামসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে একটি তোয়ালে বহন করা বেছে নিয়েছিলেন কারণ, দ্য হিচহাইকারস গাইড অনুসারে, এটি “একজন আন্তঃনাক্ষত্রিক হিচহাইকার বহন করতে পারে এমন সবচেয়ে ব্যাপকভাবে দরকারী জিনিস”।
শুধুমাত্র একটি তোয়ালে ব্যবহারিক নয় – “আপনি উষ্ণতার জন্য এটিকে আপনার চারপাশে জড়িয়ে রাখতে পারেন যেমন আপনি জগলান বিটার ঠান্ডা চাঁদ জুড়ে আবদ্ধ হন”, উদাহরণস্বরূপ – তবে এটির “অত্যন্ত মনস্তাত্ত্বিক মূল্য”ও রয়েছে।
গাইড বলেছেন যে একজন নন-হিচহাইকার ভাববেন যে “যে কোনও মানুষ যে গ্যালাক্সির দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থকে আটকাতে পারে, এটিকে রুক্ষ করতে পারে, এটিকে বস্তি করতে পারে, ভয়ানক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে, জয়লাভ করতে পারে এবং এখনও জানে যে তার গামছাটি কোথায় আছে, সে স্পষ্টতই একটি মানুষ হিসাবে গণ্য করা হবে”।

ভক্তরা কিভাবে গামছা দিবস উদযাপন করবেন?

The Hitchhiker’s Guide to the Galaxy-এর ভক্তরা আজ একটি তোয়ালে বহন করে উদযাপন করবে। তারা #TowelDay হ্যাশট্যাগ দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের তোয়ালে সহ নিজেদের ছবি শেয়ার করবে।
ভক্তরাও সোশ্যাল মিডিয়াতে তাদের প্রিয় উদ্ধৃতিগুলি ভাগ করতে পারেন, বা উপন্যাসগুলি পুনরায় পড়তে বা সিরিজ বা চলচ্চিত্রটি পুনরায় দেখার জন্য সময় ব্যয় করতে পারেন।

তোয়ালে দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি—

২০১৮ সালে, স্টিফেন ফ্রাই টুইট করেছিলেন ” TowelDay world, galaxy and cosmos” এবং ২০১৯ সালে, তিনি বলেছিলেন: “#TowelDay one and all… আজ আমরা ডগলাস নোয়েল অ্যাডামস ১৯৫২-এর উপহারের জন্য মহাবিশ্বকে স্মরণ করি এবং ধন্যবাদ জানাই- ২০০১, একজন মহান বন্ধু, একজন মহান মানুষ।”
২০১৬ সালে, রয়্যাল ইনস্টিটিউশন আইএসএস-এ থাকা মহাকাশচারী টিম পিককে “আতঙ্কিত হবেন না” বাক্যাংশ সহ একটি তোয়ালে পাঠিয়েছিল, দ্য হিচহাইকারস গাইড টু দ্য গ্যালাক্সির প্রচ্ছদে শব্দগুলি উল্লেখ করে যে চরিত্রটি ফোর্ড প্রিফেক্ট তার সাথে বহন করে এবং এটিও। ডগলাস এবং সিরিজের একটি বইয়ের শিরোনাম।
স্টিফেন ম্যাঙ্গান ২০১৬ সালে বলেছিলেন: “প্রথম দিকে মহাবিশ্ব সৃষ্টি হয়েছিল। এটি অনেক লোককে খুব ক্ষুব্ধ করেছে এবং ব্যাপকভাবে একটি খারাপ পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচিত হয়েছে। #টাওয়েলডে।”

Share This