Categories
প্রবন্ধ

কালজয়ী গীতিকার গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার-এর জন্ম দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি ।

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার বাংলা আধুনিক ও চলচ্চিত্র সঙ্গীতের একজন বিশিষ্ট গীতিকার ও সুরকার।  বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা চলচ্চিত্র ও আধুনিক সঙ্গীতের জগতকে যারা উষ্ণ রেখেছেন তাদের মধ্যে তিনি একজন।  গান রচনায় তাঁর বিশেষত্ব শব্দ চয়ন।  মান্না দের ‘কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই’ গানটি 2004 সালের বিবিসি জরিপে সর্বকালের সেরা 20টি বাংলা গানের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

জন্ম —

 

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ১৯২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বর্তমান পাবনা জেলার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।  বাচ্চু ছিল তার ডাকনাম।  তাঁর পিতা গিরিজাপ্রসন্ন মজুমদার ছিলেন একজন বিখ্যাত উদ্ভিদবিদ।

 

তাঁর জনপ্রিয় কিছু গান—

 

তাঁর কিছু গান আজও মানুষের মুখে মুখে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে। যেমন – অলির কথা শুনে বকুল হাসে, এই মোম জোছনায় অঙ্গ ভিজিয়ে, গানে মোর ইন্দ্রধনু, মাগো, ভাবনা কেন, আমরা তোমার শান্তিপ্রিয় শান্ত ছেলে, ও নদীরে একটি কথা শুধাই শুধু তোমারে, এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়, এ কী বন্ধনে জড়ালে গো বন্ধু, এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে থাকে না তো মন, কেন দূরে থাকো শুধু আড়াল রাখো কে তুমি কে তুমি  আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা, কফি হাউসের সেই আড্ডাটা আজ আর নেই, আমায় ডাকো, এই পথ যদি না শেষ হয়, প্রেম একবার এসেছিল নীরবে, এমন দিন আসতে পারে, আমি যামিনী তুমি শশী হে, কী আশায় বাঁধি খেলাঘর, তোমার সমাধি ফুলে ফুলে ঢাকা, ও মালিক সারাজীবন কাঁদালে, শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে ওঠে রণি… বাংলাদেশ, আমার বাংলাদেশ, নীড় ছোট আকাশ তো বড়, পথের ক্লান্তি ভুলে, তুমি না হয় রহিতে কাছে, আমার গানের স্বরলিপি প্রভৃতি।

 

পুরস্কার ও সম্মাননা—-

 

মুক্তিযুদ্ধে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ, ২০১২ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার তাকে “মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা” প্রদান করে।

 

মৃত্যু—

 

গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট।।

 

 

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

প্রথিতযশা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী, পূরবী মুখোপাধ্যায় – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

পূরবী মুখোপাধ্যায় ওরফে পূরবী মুখোপাধ্যায় একজন ভারতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত গায়ক। পূরবী ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের অন্যতম প্রবক্তা।  কিংবদন্তি দেবব্রত বিশ্বাসের একজন আধিকারিক, পূরবী পরে বিশ্বভারতীতে সঙ্গীত শিখিয়েছিলেন।

 

পূরবী মুখার্জি একজন ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় বাঙালি রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন।  তিনি পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর কৃতিত্বের জন্য তাঁর বেশ কয়েকটি অ্যালবাম ছিল এবং অল ইন্ডিয়া রেডিওর কলকাতা স্টেশনে সবচেয়ে বেশি শোনা গায়কদের একজন ছিলেন।  রবীন্দ্রসঙ্গীত, যা ঠাকুরের গান নামেও পরিচিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ও সুর করা গান।  ঠাকুর প্রায় ২২৩০টি গানের সাথে তাঁর কৃতিত্বের জন্য একজন দুর্দান্ত সুরকার ছিলেন।  ভারত ও বাংলাদেশে জনপ্রিয় বাংলার সঙ্গীতে গানগুলোর স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য রয়েছে।  এটি গান করার সময় এর স্বতন্ত্র পরিবেশন দ্বারা চিহ্নিত করা হয় যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে অলংকরণ যেমন মেন্দ, মুড়কি ইত্যাদি রয়েছে এবং এটি রোমান্টিকতার অভিব্যক্তিতে পূর্ণ।  সঙ্গীতটি বেশিরভাগই হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত এবং বাংলার লোক সঙ্গীতের উপর ভিত্তি করে।

 

 

রবীন্দ্রসঙ্গীত ছাড়াও তিনি অন্যান্য সঙ্গীতজ্ঞদের লেখা গানও গেয়েছেন। তাঁর সঙ্গীত গুরু ছিলেন শান্তিনিকেতনের কিংবদন্তি শিল্পী দেবব্রত বিশ্বাস।  কলকাতায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গুরুর সঙ্গে দ্বৈত সঙ্গীত পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জন করেছেন তিনি।  পরে তিনি বিশ্বভারতীর একজন পরীক্ষক হিসেবেও দক্ষতার সাথে কাজ করেন।  তিনি আকাশবাণী ও দূরদর্শনে নিয়মিত সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন।  অসংখ্য গান গেয়েছেন তিনি।  তার অনেক রেকর্ড (অ্যালবাম) দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করেছে।

 

 

পূরবী মুখোপাধ্যায় -এর অন্যান্য কিছু নিবেদন–

 

আজি মেঘ কেটে,

আমার মন বলে,

আমি তোমারি মাটির,

একলা ব’সে একে,

ঝড়ে যায় উড়ে,

বড়ো বেদনার মতো,

সখী, প্রতিদিন হায়——।

 

 

৪ ডিসেম্বর, ২০১৭-এ ৮৩ বছর বয়সে নিজের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন প্রথিতযশা এই রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।  তাঁর মৃত্যুতে রবীন্দ্রসঙ্গীত জগতে আরও এক যুগাবসান ঘটে। কিংবদন্তী এই সঙ্গীত শিলপীর প্রয়াণ দিবসে জানাই শ্রদ্ধঞ্জলি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

 

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস কি, কেন এই দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বরকে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়।১৯৯২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে।
আজ ৩ ডিসেম্বর। শারীরিকভাবে অসুস্থ মানুষদের জন্য এই দিনটি উৎসর্গ করা হয়। এই দিনটিতে সেই সকল মানুষকে সম্মাননা জানান হয়, যারা শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কাছে হার না মেনে লড়াই করে চলেছেন। মনের জোরে জয় করেছেন একাধিক লড়াই। আজ সেই সকল সাহসী ব্যক্তিদের সম্মান জানানোর পালা। শারীরিকভাবে অসম্পূর্ন মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগীতা প্রদর্শন ও তাদের কর্মকান্ডের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই এই দিবসটির সূচনা।

ইতিহাস—

 

বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধী দিবসের অনুগামিতার পিছনে আছে এক ঘটনাবহুল জীবনস্মৃতি। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বেলজিয়ামে এক সাংঘাতিক খনি দুর্ঘটনায় বহু মানুষ মারা যান। আহত পাঁচ সহস্রাধিক ব্যক্তি চিরজীবনের মতো প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাদের প্রতি সহমর্মিতায় ও পরহিতপরায়ণতায় বেশ কিছু সামাজিক সংস্থা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজে স্বতঃপ্রবৃত্ত ভাবে এগিয়ে আসে। এর ঠিক পরের বছর জুরিখে বিশ্বের বহু সংগঠন সম্মিলিত ভাবে আন্তর্দেশীয় স্তরে এক বিশাল সম্মেলন করেন। সেখান থেকেই প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্যের হদিশ মেলে। সেখানে সর্বসম্মতভাবে প্রতিবন্ধী কল্যাণে বেশকিছু প্রস্তাব ও কর্মসূচি গৃহীত হয়। খনি দুর্ঘটনায় আহত বিপন্ন প্রতিবন্ধীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালন করতে আহ্বান জানানো হয়। সেই থেকেই কালক্রমে সারা পৃথিবীর প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দিন হয়ে উঠেছে।

অনেক সময় সব পেয়েও তুচ্ছ কিছু না পাওয়ার জন্য অনেকেই দুঃখ করতে থাকেন। পরিশ্রমের পর পরীক্ষায় ফল খারাপ হলে, উচ্চ শিক্ষায় সুযোগ না পেলে, চাকরি পেতে সমস্যা হলে কিংবা পরিবারের কোনও অশান্তি আমাদের কাছে সব না পাওয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য জিনিসের জন্য অনেকেই ভেঙে পড়ি। আবার, বহুজন তো না পাওয়ার জন্য আত্মহত্যাপ পথ বেছে নেন। প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় এমন বহু আত্মহত্যার খবর মেনে। কিন্তু, সত্যিই যারা কিছু পায়নি, জন্মেছেন অম্পূর্ণ হয়ে, তাদের কথা ভেবে দেখেছেন। প্রতি শহরে এমন শয় শয় মানুষ আছেন, যারা শারীরিক অসম্পূর্ণতা নিয়ে জন্ম নিয়েছেন। এমন কিছু প্রতিবন্ধকতা তাদের শরীরে আছে, যা কোনও দিনই ঠিক করা সম্ভব নয়। সব জেনেও সেই মানুষগুলো মনের জোরে লড়ে চলেছেন। আসুন তাদের সম্মান জানাই। তাদের লড়াইকে কুর্নিশ করি।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট ও বিভিন্ন ওয়েবপেজ।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

দেবানন্দ : ভারতের চিরসবুজ যুব অভিনেতা – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।।

দেব আনন্দ, বলিউডের চিরসবুজ অভিনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।  তাঁর পুরো নাম ধরম দেবদত্ত পিশোরিমল আনন্দ। জন্মঃ ২৬ সেপ্টেম্বর, ১৯২৩। তিনি ছিলেন একজন তুখোড় নায়ক, চলচ্চিত্র নির্মাতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক।  ১৯৫ এবং ১৯৬০ এর দশকে, দেব আনন্দ হিন্দিভাষী তরুণীদের কাছে খুব জনপ্রিয় ছিলেন।  তাঁকে ভারতের গ্রেগরি পেক বলা হতো।  দেব আনন্দ ১৯৪৬ সালে ‘হাম এক হ্যায়’ সিনেমা দিয়ে বলিউড জগতে প্রবেশ করেন।  ১৯৪৯ সালে, তিনি নবকেতন ফিল্মস নামে একটি ফিল্ম স্টুডিও প্রতিষ্ঠা করেন।  তার বন্ধু গুরু দত্ত পরিচালিত জিদ্দি ছিল তাঁর প্রথম বড় সাফল্য।

 

দেব আনন্দের সময়ে কোনও ভিএফএক্স প্রযুক্তি ছিল না বা দেব আনন্দ কখনও জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘামতেন না এবং তখনকার ক্যামেরার মান আজকের মতো উন্নত ছিল না, তবুও সময়ের পরিবর্তন তার ভাঁজ চিরসবুজ রাখতে পারেনি। দেব আনন্দ।।

‘জানি মেরা নাম’ ছবির সময় দেব সাহেবের বয়স ছিল ৪৭ বছর এবং সেই সময় হেমা মালিনীর বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর।’ফির ভি পাল ভর কে লিয়ে’ গানটি দেখার সময় এক মুহূর্তের জন্যও মনে হয় না যে। নায়ক আর নায়িকার মধ্যে ২৫ বছরের ব্যবধান আছে।

হীরা পান্না ছবির সময় দেব সাহেবের বয়স ছিল ৫০ বছর, সেই ছবির সময় জিনাত আমানের বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর, তবুও দেব সাহেব আমাদের অনুভব করতে দেননি যে নায়ক-নায়িকার মধ্যে ২৮ বছরের ব্যবধান রয়েছে। …এই চিরসবুজ যুবক।এর কারণে দেবানন্দকে ভারতে চিরসবুজ যুব অভিনেতা বলা হয়।

দেব সাহেবের আরেকটি বিশেষ কথা আছে, তিনি যখন হাঁটতেন তখন এত দ্রুত হাঁটতেন যে তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিকে তাঁর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার জন্য দৌড়াতে হতো… প্রতিদিন সকালে হাঁটতেন… খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠতেন, যোগাসন ও প্রাণায়াম করা, সর্বদা ক্ষুধার চেয়ে কম খাওয়া, অ্যালকোহল ও সিগারেট থেকে দূরে থাকা… এইসব অভ্যাসের কারণে তিনি দীর্ঘকাল তরুণ ছিলেন।

তাঁর কিছু স্মরণীয় চলচ্চিত্র—
কালাপানি, লাভ ম্যারেজ, কালা বাজার, হাম দোনো, তেরে ঘর কে সামনে, গাইড, জুয়েল থিফ, প্রেম পূজারী, জনি মেরা নাম, গ্যাম্বলার, হরে রাম হরে কৃষ্ণ, হীরা পান্না, দেশ পরদেশ , আওয়াল নাম্বার, জিদ্দি, বাজি, সানাম, ট্যাক্সি ড্রাইভার, মুনিমজী, সিআইডি, পেয়িং গেস্ট, সোলভা সাল, পণ ইত্যাদি।

 

দেব আনন্দ ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ৩ ডিসেম্বর ২০১১ তারিখে লন্ডনের একটি হোটেলে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। যখন তিনি মারা যান, তখনও তার চুলের স্টাইল ২০ বছর বয়সী ছেলের মতো ছিল… আজ যদি তিনি বেঁচে থাকতেন, এখনও তরুণ থাকার চেষ্টা করতেন।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ক্ষুদিরাম বসু , ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অগ্নি পুরুষ।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে ক্ষুদিরাম বসু  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন। ক্ষুদিরাম বসু ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে।

 

 

ক্ষুদিরাম বসু, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক অমর নাম। দেশের স্বাধীনতার জন্য ফাঁসির মঞ্চে যারা প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে প্রথম বিপ্লবী ছিলেন তিনি। ভারতবর্ষকে স্বাধীন করতে ক্ষুদিরাম বসুর এই আত্মত্যাগ আজও অনুপ্রেরণা যোগায় এবং উৎসাহিত করে দেশপ্রেমের অগ্নিমন্ত্রে শপথ নিতে। এখন জেনে নেব ক্ষুদিরাম বসু সম্পর্কে কিছু কথা।

ক্ষুদিরাম বসু ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অন্তর্গত মেদিনীপুর শহরের কাছাকাছি (বর্তমান পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা) কেশপুর থানার অন্তর্গত মৌবনী (হাবিবপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ত্রৈলোক্যনাথ বসু ছিলেন নাড়াজোলের তহসিলদার। তার মার নাম লক্ষ্মীপ্রিয় দেবী। তিন কন্যার পর তিনি তার মায়ের চতুর্থ সন্তান। তার দুই পুত্র অকালে মৃত্যুবরণ করেন। অপর পুত্রের মৃত্যুর আশঙ্কায় তিনি তখনকার সমাজের নিয়ম অনুযায়ী তার পুত্রকে তার বড়ো দিদির কাছে তিন মুঠো খুদের (চালের খুদ) বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। খুদের বিনিময়ে কেনা হয়েছিল বলে শিশুটির নাম পরবর্তীকালে ক্ষুদিরাম রাখা হয়।ক্ষুদিরামের বয়স যখন মাত্র পাঁচ বছর তখন তিনি তার মাকে হারান।45

এক বছর পর তার পিতার মৃত্যু হয়। তখন তার বড়ো দিদি অপরূপা তাকে দাসপুর থানার এক গ্রামে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। অপরূপার স্বামী অমৃতলাল রায় ক্ষুদিরামকে তমলুকের হ্যামিল্টন হাই স্কুলএ ভর্তি করে দেন।
১৯০২ এবং ১৯০৩ খ্রিস্টাব্দে শ্রী অরবিন্দ এবং সিস্টার-নিবেদিতা মেদিনীপুর ভ্রমণ করেন। তারা স্বাধীনতার জন্যে জনসমক্ষে ধারাবাহিক বক্তব্য রাখেন এবং বিপ্লবী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে গোপন অধিবেশন করেন, তখন কিশোর ছাত্র ক্ষুদিরাম এই সমস্ত বিপ্লবী আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। স্পষ্টভাবেই তিনি অনুশীলন সমিতিতে যোগদান করেন এবং কলকাতায় বারীন্দ্র কুমার ঘোষের কর্মতৎপরতার সংস্পর্শে আসেন। তিনি ১৫ বছর বয়সেই অনুশীলন সমিতির একজন স্বেচ্ছাসেবী হয়ে ওঠেন এবং ভারতে ব্রিটিশ শাসন বিরোধী পুস্তিকা বিতরণের অপরাধে গ্রেপ্তার হন। ১৬ বছর বয়সে ক্ষুদিরাম থানার কাছে বোমা মজুত করতে থাকেন এবং সরকারি আধিকারিকদেরকে আক্রমণের লক্ষ্য স্থির করেন।
১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে ক্ষুদিরাম তার বোন অপরূপার স্বামী অমৃতলাল রায়ের সঙ্গে তমলুক শহর থেকে মেদিনীপুরে চলে আসেন।ক্ষুদিরাম বসু তমলুকের হ্যামিল্টন স্কুল এবং মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলে শিক্ষালাভ করেন।
মেদিনীপুরে তার বিপ্লবী জীবনের অভিষেক। তিনি বিপ্লবীদের একটি নবগঠিত আখড়ায় যোগ দেন। ১৯০২ খ্রিস্টাব্দে জ্ঞানেন্দ্রনাথ বসু এবং রাজনারায়ণ বসুর প্রভাবে মেদিনীপুরে একটি গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠন গড়ে উঠেছিল। সেই সংগঠনের নেতা ছিলেন হেমচন্দ্র দাস কানুনগো এবং সত্যেন্দ্রনাথ বসু ছিলেন হেমচন্দ্র দাসের সহকারী। এটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ব্রিটিশবিরোধীদের দ্বারা পরিচালিত হতো। অল্প কিছু সময়ের মধ্যেই ক্ষুদিরাম তার গুণাবলীর জন্য সবার চোখে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেন। ক্ষুদিরাম সত্যেন্দ্রনাথের সাহায্যে বিপ্লবী দলভুক্ত হয়ে এখানে আশ্রয় পান। ক্ষুদিরাম তারই নির্দেশে ‘সোনার বাংলা’ শীর্ষক বিপ্লবাত্মক ইশতেহার বিলি করে গ্রেপ্তার হন। ১৯০৬ খ্রিস্টাব্দে কাঁসাই নদীর বন্যার সময়ে রণপার সাহায্যে ত্রাণকাজ চালান। ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে বারীন্দ্র কুমার ঘোষ তার সহযোগী হেমচন্দ্র কানুনগোকে প্যারিসে নির্বাসনে থাকা একজন রাশিয়ান নিকোলাস সাফ্রানস্কি-এর কাছ থেকে বোমা তৈরির কায়দা শেখার জন্যে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
কিংসফোর্ডকে গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা
অনুশীলন সমিতি কিংসফোর্ডকে হত্যা করার প্রচেষ্টা জারি রেখেছিল। এপ্রিলে দুই সদস্যের একটা পরিদর্শক দল মুজাফফরপুর সফর করে, যাতে যুক্ত ছিলেন প্রফুল্ল চাকী। তাদের ফিরে আসায় বোমা দিয়েছিলেন হেমচন্দ্র, যেগুলো বানানো হয়ছিল ৬ আউন্স ডিনামাইট, একটা বিস্ফোরক এবং কালো পাউডার ফিউজ। প্রফুল্ল চাকি মুজাফফরপুরে ফিরেছিলেন একটা নতুন ছেলেকে নিয়ে, যার নাম ক্ষুদিরাম বসু।
অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্র ঘোষ এবং তাদের সহযোগীদের কাজকর্মে পুলিশের সন্দেহ হতে থাকে।কলকাতা পুলিশ কিংসফোর্ডের জীবন বাঁচানোর জন্যে সচেতন হয়ে ওঠে। কমিশনার এফ এল হলিডে মুজাফফরপুর পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের উপেক্ষার বদলে সতর্ক হয়েছিলেন। যাইহোক, চারজন লোককে ম্যাজিস্ট্রেটের বাড়ি পাহারা দেওয়ার জন্যে ব্যবস্থা করা হয়।ইতিমধ্যে ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকি নতুন নাম ধারণ করে যথাক্রমে হরেণ সরকার ও দীনেশ চন্দ্র রায় হয়েছেন, এবং কিশোরীমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত এক দাতব্য সরাইখানায় (ধর্মশালা) তারা বাসা নেন। তাদের অজ্ঞাতবাসের দিনগুলোতে ওই বিপ্লবীদ্বয় তাদের লক্ষ্যের কার্যকলাপ এবং দৈনন্দিন রুটিনের ওপর নজরদারি করতেন। দুই বিপ্লবী সফলভাবে তিন সপ্তাহের ওপর তাদের পরিচয় গোপন রাখতে পেরেছিল। মুজাফফরপুরের সুপারিন্টেন্ডেন্ট আর্মস্ট্রঙের কাছ থেকে একটা চিঠি নিয়ে সিআইডি অফিসার কলকাতায় ফিরে এসেছিল, যাতে বলা হয়েছিল যে, বিপ্লবীদ্বয় ওখানে পৌঁছায়নি।[১৫] ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় ক্ষুদিরাম এবং প্রফুল্ল তাদের পরিকল্পনা কার্যকর করার জন্যে জায়গামতো হাজির হয়েছিল। স্কুল ছাত্রের ভান করে মুজাফফরপুর পার্কে তারা সমীক্ষা করেছিলেন যে, এটা ব্রিটিশ ক্লাবের উলটো দিকে, যেখানে কিংসফোর্ড ঘনঘন আসেন। একজন কনস্টেবল তাদের দেখেছিল।
মুজাফফরপুরে কিংসফোর্ডকে গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা
ভাগ্য ভালোর দিনে, প্রিঙ্গল কেনেডি নামে একজন ব্রিটিশ ব্যারিস্টারের মেয়ে এবং স্ত্রীর সঙ্গে কিংসফোর্ড এবং তার স্ত্রী ব্রিজ খেলছিলেন। তারা রাত ৮.৩০ নাগাদ বাড়ি ফিরতে মনস্থ করেন। কিংসফোর্ড এবং তার স্ত্রী একটা গাড়িতে ছিলেন যেটা কেনেডি এবং তার পরিবারের গাড়ির মতোই দেখতে ছিল। কেনেডি মহিলাগণ কিংসফোর্ডের বাড়ির চত্বর থেকেই যাচ্ছিলেন। যখন তাদের গাড়ি ওই চত্বরের পূর্ব ফটকে পৌঁছায়, ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল গাড়িটার দিকে দৌড়ে যান এবং গাড়িতে বোমাগুলো ছোড়েন। একট প্রচণ্ড বিস্ফোরণ ঘটে এবং গাড়িটা সঙ্গে সঙ্গে কিংসফোর্ডের বাড়িতে আনা হয়। গাড়িটা ভেঙে গিয়েছিল এবং কেনেডি মহিলাগণ ভীষণভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। মিস কেনেডি এক ঘণ্টার মধ্যেই মারা যান এবং মিসেস কেনেডি গুরুতর আঘাতের ফলে ২ মে তারিখে প্রয়াত হন।
ক্ষুদিরাম এবং প্রফুল্ল নিজেদের রাস্তায় পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন। মধ্যরাতের মধ্যে সারা শহর ঘটনাটা জেনে গিয়েছিল, এবং খুব সকাল থেকেই সমস্ত রেলস্টেশনে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল যাতে প্রত্যেক যাত্রীর ওপর নজর রাখা যায়। শিমুরিঘাট রেল স্টেশনে প্রফুল্ল যখন জল খাওয়ার জন্যে ট্রেন থেকে নামেন, তখন মিস্টার ব্যানার্জি মুজফফরপুর থানায় একটা টেলিগ্রাম পাঠান। মোকামাঘাট রেল স্টেশনে প্রফুল্লকে পাকড়াও করার চেষ্টা করেন মিস্টার ব্যানার্জি। প্রফুল্ল তার কাছে থাকা রিভলভার দিয়ে নিজের মতো লড়াই করার চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষে যখন দেখেন যে, রিভলভারে একটামাত্র গুলি আছে, তখন তিনি নিজের মুখের মধ্যে গুলি করেন।
হাতে হাতকড়ি লাগানো ক্ষুদিরামকে পয়লা মে মুজফফরপুর থেকে আনা হয়। পুরো শহর থানায় ভিড় করেছিল একদল সশস্ত্র পুলিশকর্মীর ঘিরে থাকা একটা কিশোর ছেলেকে শুধু একপলক দেখার জন্যে।
দুজন মহিলাকে হত্যা করার জন্যে তার বিচার হয় এবং চূড়ান্তভাবে তার ফাঁসির আদেশ হয়।
ফাঁসি হওয়ার সময় ক্ষুদিরামের বয়স ছিল ১৮ বছর, ৭ মাস এবং ১১ দিন, যেটা তাকে ভারতের কনিষ্ঠতম ভারতের বিপ্লবী অভিধায় অভিষিক্ত করেছিল।

তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট

Share This
Categories
প্রবন্ধ

ইন্দ্রলাল রায়, প্রথম ভারতীয় বাঙালি বিমান চালক যিনি ১৭০ ঘণ্টা বিমান চালানোর রেকর্ড করেছিলেন।।

ইন্দ্রলাল রায় – প্রথম ভারতীয় বাঙালি বৈমানিক এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী একমাত্র ভারতীয় বৈমানিক।  তিনি প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মিত্রদের পক্ষে যুদ্ধ করেছিলেন এবং মারা গিয়েছিলেন। তিনি ফ্রান্সের পাশে জার্মানির বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সামরিক অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন এবং যুদ্ধবিমান ওড়ানোর দক্ষতা দেখিয়েছিলেন।

 

 

ইন্দ্রলাল রায় ১৮৯৮ সালের ২ ডিসেম্বর ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন।  তাঁর পিতা পিয়ারিলাল রায় ছিলেন বরিশাল জেলার লাকুটিয়া এলাকার জমিদার ও আইনজীবী এবং মা ললিতা রায় ছিলেন একজন নারী ভোটাধিকার কর্মী।  ভাই পরেশলাল রায় একজন বক্সার ছিলেন।  শিক্ষাজীবনে তিনি বেশ কিছু বৃত্তি লাভ করেন।  বিমানচালক হিসেবে যোগদানের আগে তিনি সর্বশেষ ব্যালিওল স্কলারশিপ পেয়েছিলেন।  এই বৃত্তি নিয়ে তিনি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান।  তিনি ১৯১১ সাল পর্যন্ত কেনিংস্টনের সেন্ট পলস স্কুলে পড়াশোনা করেন। তাঁর প্রায় সমস্ত প্রাথমিক শিক্ষা ইংল্যান্ডে ছিল।
এপ্রিল ১৯১৭ সালে তিনি রয়্যাল ফ্লাইং কর্পসে যোগ দেন।  তিনি এই ফ্লাইং কর্পস থেকে ১৯১৭ সালের ৫ জুলাই সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসাবে কমিশন লাভ করেন।  এক সপ্তাহের মধ্যে, ভেন্ড্রোম প্রশিক্ষণ শুরু করে।  তারপর তিনি টার্নবারিতে গানারি অধ্যয়ন করেন।  অক্টোবরের শেষে বিমান বাহিনীর ৫৬ স্কোয়াড্রনে যোগ দেন।

 

কমিশনের পরপরই প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়।  ১৯১৭ সালের ডিসেম্বরে, ইন্দ্রলাল ফ্রান্সের পক্ষে জার্মানির বিরুদ্ধে সামরিক বিমান অভিযানে অংশ নেন।  এই অপারেশন চলাকালীন জার্মান বিমান দ্বারা নো ম্যানস ল্যান্ডে তার বিমানটি গুলি করে নামিয়ে দেওয়া হয়।  তিন দিন পর ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁকে উদ্ধার করে ফ্রান্সের একটি ব্রিটিশ সামরিক হাসপাতালে পাঠায়।  সামরিক হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে মর্গে পাঠান।  পরে তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে।  সুস্থ হওয়ার পর তিনি আবার বিশ্বযুদ্ধে যোগ দেন এবং নিয়মিত উড়তে শুরু করেন।

 

রেকর্ড–

 

তিনিই প্রথম ভারতীয় বিমান চালক, যিনি ১৭০ ঘণ্টা বিমান চালানোর রেকর্ড করেছিলেন।

 

সম্মাননা—

 

কলকাতার ভবানীপুরে ‘ইন্দ্র রায় রোড’ রাস্তাটির নাম তাঁর নামানুসারে করা হয়।

ইংল্যান্ড সরকার তাকে মরণোত্তর বিশিষ্ট উড্ডীয় ক্রস (Distinguished Flying Cross – ডিএফসি) সম্মানে ভূষিত করে।

 

মৃত্যু–

 

৬ জুলাই ১৯১৮ থেকে তিনি বিমান হামলা শুরু করেন এবং ৯ টি জার্মান বিমান ধ্বংস করে নিজেকে আলাদা করেন।  ১৮ জুলাই ১৯১৮, তারিখে তাঁর বিমান আবার গুলি করে নামানো হয় এবং তিনি মারা যান।

 

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ

মূল্যবান মনুষ্য জীবন ও বৈরাগ্য, ত্যাগ : স্বামী আত্মভোলানন্দ।

ওঁ নমঃ শ্রী ভগবতে প্রণবায়—

***বৈরাগ্য হল সংস্কৃত (সংস্কৃত: वैराग्य) শব্দ, বিশেষ্য পদ, যা হিন্দু  দর্শনে ব্যবহৃত হয় যা মোটামুটিভাবে বৈরাগ্য, বিচ্ছিন্নতা বা ত্যাগ, বিশেষ করে অস্থায়ী বস্তু জগতের বেদনা এবং আনন্দ থেকে ত্যাগ। বৈরাগ্য  হল সংসারে বা বিষয়ভোগে অনাসক্তি, ঔদাসীন্য, বাসনা রহিত। ত্যাগ কি ? ত্যাগ হল সংস্কৃত শব্দ (সংস্কৃত: त्याग) যার অর্থ উদারতায় ত্যাগ করা, পরিত্যাগ করা, ভারতীয় দর্শন অনুযায়ী ত্যাগ হল বর্জন, পরিহার, বিসর্জন,  নিক্ষেপ, বৈরাগ্য ও নিরাসক্তি। এটি মোক্ষ অর্জনের একটি উপায়।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধক্ষেত্রে অর্জুনকে বৈরাগ্যের জ্ঞানও দেন । সেখানে তিনি অর্জুনকে বলেন,  যদি এই মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাও, তাহলে  অভ্যাস ও বৈরাগ্য— এই দুই তলোয়ার দিয়ে মনকে প্রহার করতে হবে। জ্ঞানই মানুষের হৃদয়ে বৈরাগ্যের জন্ম দেয়। সেই সত্যিকারের জ্ঞানই আমি তোমাকে প্রদান করছি অর্জুন।
সমস্ত জগৎ বাস্তবে মিথ্যা, নশ্বর।  মায়ার প্রভাবে তা সত্য মনে হয়। এই পরম  সত্য-জ্ঞান বিশ্বাস হয়ে গেলেই বৈরাগ্য সম্ভব। যে মানুষের মধ্যে ত্যাগের প্রাবল্য যত বেশী, তিনি ততই ব্যক্তিত্ববান। যে মানুষ যত বেশি ত্যাগী, তিনি ততই ব্যক্তিত্ববান। ত্যাগীর সাথে পেরে ওঠা খুব মুশকিল। ত্যাগীকে বশে আনা খুব মুশকিল। ত্যাগীর ত্যাগ ষড়যন্ত্রকারীর সব ষড়যন্ত্রকে মুহূর্তে নস্যাৎ করে দিতে পারে। মানুষের ব্যক্তিত্ব বিকাশের  চাবিকাঠি ত্যাগ।তাই, নিজের মনকে সন্যাসী বানাও, মোহের বন্ধন ত্যাগ কর। নিজের কর্তব্যের ওপর মনোনিবেশ কর। তোমার ধর্ম অনুযায়ী কর্ম কর।
জগৎ গুরু ভগবান স্বামী প্রণবানন্দ জী মহারাজ ও বলছেন *বৈরাগ্যই সর্বপ্রকার বাসনাকে নাশ করিয়া মানুষকে প্রকৃত মুক্তির পথে লইয়া যায়।*
তিনি আরও বলছেন:- ধর্ম কি ?
ধর্ম হল:- ত্যাগ, সংযম, সত্য ও ব্রহ্মচর্য। অর্থাৎ ধর্মের চারটি ধাপের মধ্যে প্রথম ধাপই হচ্ছে ত্যাগ। তিনি ধর্মের প্রথম ধাপই বলছেন ত্যাগ।
ওঁ গুরু কৃপা হি কেবলম্ …..।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

আজ বিশ্ব এইডস দিবস, জানুন দিনটি কেন পালিত হয় এবং গুরুত্ব।

বিশ্ব এইডস দিবসটি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) দ্বারা চিহ্নিত, বিশ্ব জনস্বাস্থ্য সচেতনতার উদ্দেশ্যে ঘোষিত। বিশ্ব এইডস দিবস হল একটি আন্তর্জাতিক দিবস। প্রতি বছর ১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়। এই রোগের থাবা থেকে রক্ষা পেতে যে পদক্ষেপ করা হয়েছিল, তা তুলে ধরার উদ্দেশ্যেই পালিত হয় এই দিনটি। পাশাপাশি যে সমস্ত ব্যক্তিরা এইচআইভি বা হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসের সঙ্গে মোকাবিলা করছেন, তাঁদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াও এই দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ১৯৮৮ সালে প্রথম বিশ্ব এইডস দিবস পালিত হয়। সারা বিশ্বের জনগণের জন্য এইচআইভি একটি বিপজ্জনক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। এই ভাইরাস ব্যক্তি রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে আক্রমণ করে এবং সমস্ত রোগের প্রতি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষমতাকে কমিয়ে আনে। এর ফলে রোগীর জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

 

এইডস  হচ্ছে এইচ.আই.ভি.  তথা “মানব প্রতিরক্ষা অভাবসৃষ্টিকারী ভাইরাস” নামক ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট একটি রোগলক্ষণসমষ্টি, যা মানুষের দেহে রোগ-প্রতিরোধের ক্ষমতা বা প্রতিরক্ষা তথা অনাক্রম্যতা হ্রাস করে। এর ফলে একজন এইডস রোগী খুব সহজেই যে কোনও সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু ঘটাতে পারে।

২০১৭-এর হিসাব অনুযায়ী, এইডসের জন্য বিশ্বজুড়ে ২৮.৯ মিলিয়ন থেকে ৪১.৫ মিলিয়ন মানুষ মারা গেছে, এবং আনুমানিক ৩৬.৭ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি সংক্রামিত হয়ে বেঁচে আছে, এর ফলে এটি নথিভুক্ত ইতিহাস অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ অন্যতম জনস্বাস্থ্য বিষয় হিসাবে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের অনেক অঞ্চলে সাম্প্রতিক উন্নত অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা পৌঁছোনোর ফলে, ২০০৫ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যায় মৃত্যুর পর এইডস মহামারী থেকে মৃত্যুর হার কমেছে (২০১৬ সালে ১ মিলিয়ন, যেখানে ২০০৫ সালে ছিল ১.৯ মিলিয়ন)।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় এইডস সম্পর্কিত বিশ্ব কর্মসূচির দুজন জনতথ্য কর্মকর্তা জেমস ডব্লু বুন এবং টমাস নেটটার দ্বারা ১৯৮৭ সালের আগস্টে প্রথম বিশ্ব এইডস দিবসের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এইডস সম্পর্কিত বিশ্ব কর্মসূচির (বর্তমানে আনএইডস নামে পরিচিত) পরিচালক ডঃ জোনাথন মানের কাছে বুন এবং নেটটার তাঁদের ধারণাটির কথা জানিয়েছিলেন। ডঃ মান এই ধারণাটি পছন্দ করে এটির অনুমোদন করেন এবং ১৯৮৮ সালের ১লা ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবসটি প্রথম পালন করা উচিত এমন পরামর্শের সাথে একমত হন। সান ফ্রান্সিসকোর প্রাক্তন টেলিভিশন সম্প্রচার সাংবাদিক বুন, ১লা ডিসেম্বর তারিখটির সুপারিশ করেছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল মার্কিন নির্বাচনের যথেষ্ট পরে কিন্তু বড়দিনের ছুটির আগে, পশ্চিমী সংবাদমাধ্যমগুলি দ্বারা বিশ্ব এইডস দিবসের প্রচার সর্বাধিক হবে।
এর প্রথম দুই বছরে, বিশ্ব এইডস দিবসের প্রতিপাদ্য শিশু এবং তরুণদের লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল। এই প্রতিপাদ্যটি বেছে নেওয়ার সময়, কিছু ঘটনা উপেক্ষা করার কারণে এর সমালোচনা করে বলা হয়েছিল যে সমস্ত বয়সের লোকেরা এইচআইভিতে আক্রান্ত হতে পারে, প্রতিপাদ্যটি রোগটিকে ঘিরে থাকা কিছু কালিমা মোচন করতে এবং পারিবারিক রোগ হিসাবে সমস্যাটির স্বীকৃতি বাড়াতে সহায়তা করেছিল।
১৯৯৬ সালে এইচআইভি / যৌথ জাতিসংঘের এইডস সম্পর্কিত কর্মসূচি (ইউএনএআইডিএস) চালু হয়েছিল, এবং এটি বিশ্ব এইডস দিবসের পরিকল্পনা ও প্রচারের দায়িত্ব অধিগ্রহণ করে। শুধু একটি দিনে মনোযোগ না দিয়ে, আনএইডস ১৯৯৭ সালে বছরব্যাপী যোগাযোগ, প্রতিরোধ ও শিক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়ার জন্য বিশ্ব এইডস অভিযান তৈরি করেছিল। ২০০৪ সালে, বিশ্ব এইডস প্রচার, একটি স্বাধীন সংগঠনে পরিণত হয়েছিল।
প্রতি বছর, পোপ জন পল দ্বিতীয় এবং দ্বাদশ বেনেডিক্ট বিশ্ব এইডস দিবসে রোগী এবং চিকিৎসকদের জন্য একটি শুভেচ্ছা বার্তা প্রকাশ করেন।

 

জেনে রাখা দরকার।

 

এইচআইভি সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই কিন্তু এইডস হয় না। কিন্তু যে হেতু এক বার সংক্রামক এইচআইভি শরীরে ঢুকলে তাকে পুরোপুরি দূর করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, তাই এইচআইভি. সংক্রমণ হলে এইডস প্রায় অনিবার্য। তবে বিনা চিকিৎসায় এইডস পর্যায়ে পৌছতে যদি লাগে গড়ে দশ বছর তবে চিকিৎসার দ্বারা তাকে আরও কিছু বছর পিছিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু ‘হার্ট’ (এইচএএআরটি) নামে এইডস-এর যে কম্বিনেশন ওষুধ দিয়ে চিকিৎসাপদ্ধতি রয়েছে তা অত্যন্ত খরচ সাপেক্ষ। আসলে শরীর জাত অধিকাংশ তরল ক্ষরণে এইচআইভি নিষ্কৃত হয়। তবে স্নেহপদার্থের আবরণ থাকায় এইচআইভি অত্যন্ত ভঙ্গুর। তাই এইচআইভি শরীরের বাইরে বেশিক্ষণ বাঁচে না। এই কারণে সরাসরি রক্ত বা যৌন নিঃসরণ শরীরে প্রবেশ না করলে এইচআইভি সংক্রমণের সম্ভাবনা খুব কম। শুধুমাত্র স্পর্শ, এক সঙ্গে খাওয়া, এমনকী একই জামাকাপড় পরা, বা মশার কামড়ে কখনও এইচআইভি ছড়ায় না। তাই এইচআইভি সংক্রমণ ছোঁয়াচে নয়।

 

এইচআইভি কী ভাবে ছড়ায়।

 

ক) এইচআইভি-তে আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত গ্রহণ করলে, বা তার ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ বা সূঁচ ব্যবহার করলে।

খ ) এইচআইভি-তে আক্রান্ত গর্ভবতী মায়ের শিশুরও আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গর্ভধারণের শেষ দিকে বা প্রসবের সময় হতে পারে। তবে জিডোভুডিন ওষুধ ব্যবহার করে এই সম্ভাবনা কিছুটা কম করা যায়, এবং তা করলে মায়ের দুধও বাচ্চাকে দেওয়া যেতে পারে (কারণ মার দুধ না পেলে গরিব ঘরে জন্মানো বাচ্চার মৃত্যুর সম্ভাবনা আরও বেশি)

গ) এইচআইভি-তে আক্রান্ত কারও সঙ্গে অসংরক্ষিত (কনডম ব্যবহার না করে) যৌন সম্পর্ক করলে।

 

পালনের উদ্দেশ্য 

 

বিশ্ব এইডস দিবসের মাধ্যমে এ কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, এইচআইভির প্রাদুর্ভাব এখনও বর্তমান এবং আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। আবার এর প্রতি সচেতনতা গড়ে তোলার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয় দিনটি। শুধু তাই নয়, এইচআইভি সংক্রান্ত কুসংস্কারের বিরুদ্ধে লড়াই চালানো ও এ বিষয় জনগণকে শিক্ষিত করে তোলার ওপরও জোর দেয় দিনটি।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত ইন্টারনেট; উইকিপিডিয়া।।

Share This
Categories
নারী কথা প্রবন্ধ

মেধা পাটকর, ভারতের প্রথম সারির খ্যাতনামা সমাজকর্মী।

ভারতবর্ষের একজন প্রথম সারির সমাজকর্মী মেধা পাটকর – নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনে পালন করা উল্লেখনীয় ভূমিকার জন্য বিখ্যাত। মেধা পাটকর  ভারতবর্ষের একজন প্রথম সারির সমাজকর্মী। নর্মদা বাঁচাও আন্দোলনএ পালন করা উল্লেখনীয় ভূমিকার জন্য ইনি বিখ্যাত।

ব্যক্তিগত জীবন—

 

১৯৫৪ সালের ১ ডিসেম্বরে মহারাষ্ট্রএর মুম্বাইয়ে মেধা পাটকরের জন্ম হয়। টাটা সামাজিক বিজ্ঞান সংস্থানের থেকে সমাজ সেবা বিভাগে ইনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন। মেধা পাটকর  হলেন একজন রাজনীতিবিদ এবং কর্মী যিনি ভারতে অবিচারের সম্মুখীন আদিবাসী, দলিত, কৃষক, শ্রমিক এবং মহিলাদের দ্বারা উত্থাপিত কিছু রাজনৈতিক ও সামাজিক সমস্যা নিয়ে কাজ করেন।  তিনি TISS-এর একজন প্রাক্তন ছাত্র, ভারতের সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণার একটি প্রধান প্রতিষ্ঠান।

 

পাটকার তিনটি রাজ্যে নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন (NBA) নামক আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য: মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং গুজরাট।  এনবিএ সর্দার সরোবর বাঁধ প্রকল্পের সাথে সম্পর্কিত বাঁধ প্রকল্পগুলির দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রামে নিযুক্ত রয়েছে, বিশেষ করে যাদের বাড়িগুলি ডুবে যাবে কিন্তু এখনও পুনর্বাসন করা হয়নি।  তিনি ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ পিপলস মুভমেন্টস (NAPM) এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, যা শত শত প্রগতিশীল জনগণের সংগঠনের জোট।  উপরোক্ত ছাড়াও, পাটকার ওয়ার্ল্ড কমিশন অন ড্যামস-এর একজন কমিশনার ছিলেন, যিনি পরিবেশগত, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক দিক এবং বিশ্বব্যাপী বড় বাঁধের উন্নয়নের প্রভাব এবং তাদের বিকল্পগুলির উপর পুঙ্খানুপুঙ্খ গবেষণা করেছিলেন।  তিনি বহু বছর ধরে ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স অফ পিপলস মুভমেন্টস-এর জাতীয় কো-অর্ডিনেটর এবং তারপর আহ্বায়ক ছিলেন এবং এখন এনএপিএম-এর উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন।  এনএপিএম-এর ব্যানারে, তিনি উন্নয়নের নামে বৈষম্য, অ-টেকসইতা, বাস্তুচ্যুতি এবং অবিচারের বিরুদ্ধে ভারত জুড়ে বিভিন্ন গণসংগ্রামে অংশ নিয়েছেন এবং সমর্থন করেছেন।  তার কাজ জাতপাত, সাম্প্রদায়িকতা এবং সব ধরনের বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি অসংখ্য দল এবং প্যানেলের একটি অংশ ছিলেন যারা ভূমি অধিগ্রহণ, অসংগঠিত খাতের কর্মী, হকারদের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন জাতীয় নীতি ও আইন প্রণয়ন ও প্রণয়নে কাজ করে।  , বস্তি-বাসী এবং বন-বাসিনী আদিবাসী।  এনএপিএম আদর্শ সোসাইটি, লাভাসা মেগাসিটি, হিরানন্দানি (পাওয়াই) এবং সেইসাথে অন্যান্য নির্মাতাদের বিরুদ্ধে সহ বেশ কয়েকটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে৷
২০০০ সালে, মেধা পাটকর টাইম দ্বারা ২০ শতকের ১০০ জন নায়কের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।  যাইহোক, প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ স্বামীনাথন মেধা পাটকরের সমালোচনা করেছেন, বলেছেন যে তিনি নর্মদা প্রকল্পে ভুল ছিলেন।  প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেছিলেন যে মেধা পাটকর এবং তার “শহুরে নকশাল” বন্ধুরা নর্মদা প্রকল্পের বিরোধিতা করেছিলেন এবং বিলম্ব করেছিলেন যা গুজরাটকে ব্যাপকভাবে উপকৃত করেছিল।  পরবর্তী বছরগুলিতে প্রকল্পের সম্প্রসারণ বাঁধ থেকে আরও সুবিধা নিয়ে এসেছে, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান রাজ্যের কৃষকদের জন্য এখন সারা বছর ধরে সেচের জল পাওয়া যায়।

 

সম্মান ও পুরস্কার—-

 

রাইট লাইভ‌‌‌‍লিহুড এওয়ার্ড (Right Livelihood Award), ১৯৯১ সাল, সুইডেন।

গোল্ডম্যান পরিবেশ পুরস্কার টেমপ্লেট:Enwiki, ১৯৯২ সাল, সানফ্রান্সিস্কো, ক্যালিফোর্ণিয়া

গ্রীন রিবন এওয়ার্ড টেমপ্লেট:Enwiki

১৯৯৫: BBC, ইংল্যান্ড কর্তৃক সেরা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রচারকের জন্য গ্রিন রিবন পুরস্কার

১৯৯৯: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, জার্মানি থেকে মানবাধিকার রক্ষাকারী পুরস্কার

১৯৯৯: ভিজিল ইন্ডিয়া মুভমেন্ট থেকে M.A. থমাস জাতীয় মানবাধিকার পুরস্কার

১৯৯৯: পার্সন অফ দ্য ইয়ার বিবিসি

১৯৯৯: দীনা নাথ মঙ্গেশকর পুরস্কার

১৯৯৯: শান্তির জন্য কুন্দল লাল পুরস্কার

১৯৯৯: মহাত্মা ফুলে পুরস্কার

২০০১: বসবশ্রী পুরস্কার

২০১৩: মাতোশ্রী ভীমাবাই আম্বেদকর পুরস্কার

২০১৪: মাদার তেরেসা পুরস্কার সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য।

 

।।তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Share This
Categories
প্রবন্ধ রিভিউ

বেলজিয়াম কাঁচের ফানুসে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোকিত হয় মঠবাড়ি ও দীনদয়াল বিগ্রহ বাড়ির মন্ডপসজ্জা।

আড়ম্বর থাকলেও নেই বৈদতিক আলো, গোটা মন্ডপ বেলজিয়াম কাঁচের ফানুসে মোমবাতি জ্বালিয়ে আলোকিত হয় শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী মঠবাড়ি ও দীনদয়াল বিগ্রহ বাড়ির মন্ডপসজ্জা। শহরের মঠবাড়ি হোক কিংবা দীন দয়াল ঠাকুর বাড়ি। প্রায় প্রতিটি বিগ্রহ বাড়িতে ব্যবহৃত বেলজিয়াম কাচের ফানুসগুলোর একেকটির বয়স প্রায় ২০০ থেকে ৩৫০ বছর।

 

 

উচ্চতা হয় প্রায় দুই ফুটের মত। ঢেউ খেলানো বিভিন্ন আকৃতির রঙবাহারি কাচের উপর আঁকা থাকে বিভিন্ন নকশা। বেলজিয়াম কাচের ফানুসের প্রতিটির দাম ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। কেন এত দাম? কারণ অবশ্যই তার সূক্ষ্ম কাজের কেরামতির জন্য। সারাবছর বাড়ির অন্দরমহলে সযত্নে রক্ষিত থাকে সেগুলো। রাস উৎসবের সন্ধ্যায় এই বেলজিয়াম ফানুস দিয়ে সাজানো হয় প্রতিটি বাড়ির মূল প্রাঙ্গন। ভেতরে টিমটিম করে জ্বলতে থাকে মোমবাতির আলো।

 

 

বাজারের সাধারণ মোম নয়, ফানুসের ভেতর বসানো হয় প্যারাসিন দিয়ে তৈরি সলতে পাকানো বিশেষ ধরনের মোম। এখনও বংশ-পরম্পরায় এই মোম তৈরি করেন শান্তিপুরের কয়েক ঘর মোমশিল্পী। ভাঙা রাসের দিন নগর পরিক্রমা দেখতে শহরের রাজপথে যে ভিড় উপচে পড়ে, আলো আঁধারির খেলা দেখতে বিগ্রহ বাড়ির রাস উৎসবে সেই ভিড়ে অন্তত তিনগুণ দর্শনার্থী থাকেন। নামে বেলজিয়াম ফানুস হলেও এগুলি একসময় নিয়ে আসা হয়েছিল ফ্রান্স এবং ভেনিস থেকে। এখনও সেখানে এই ফানুস তৈরি হয়। বিগ্রহবাড়ির সদস্যদের কথায়, এখন আর ইউরোপ থেকে বেলজিয়াম ফানুস নিয়ে আসা হয় না। পরিবর্তে জায়গা নিয়েছে শহর কলকাতায় তৈরি কাঁচের অন্যান্য ফানুস। দামে কম হলেও আভিজাত্যে  ধারেকাছেও যায় না।

 

 

রাসের তিনদিন সন্ধ্যার পর থেকে বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় শহরের মঠবাড়ি ও দীনদয়াল বাড়িকে। রাসের সময় অন্তত শতাধিক বেলজিয়াম কাচের ফানুসে আলোয় আলো হয়ে ওঠে এই বাড়ি। পরিবারের সদস্য সুশান্ত মঠ বলেন, দেখতে অতীব সুন্দর। কিন্তু ফানুসের ভেতর মোমবাতি বসানোর ধরণ একেবারেই সহজ নয়। অসাবধানতা কিংবা ভেতরের জ্বলন্ত মোমবাতি প্রায় এক ইঞ্চি ছোট হয়ে এলেই তাপের কারণে ভেঙে যেতে পারে সেগুলো। এভাবেই ৩০০ বছরের বহু পুরনো ফানুস ভেঙে গিয়েছে এই বাড়িতে। একসময় মঠবাড়িতে রাসের প্রাঙ্গণে নাকি অন্তত দেড়শখানা বেলজিয়াম কাঁচের ফানুস ঝোলানো হত।

 

 

আজ শুধুই যত্নের ওপর টিকে রয়েছে এই প্রথা। জানা গিয়েছে, ফানুসগুলোতে মোমবাতি জ্বালানোর ধরন যেমন আলাদা, তেমনিই মোমবাতি নেভানোর কায়দা। সরু আকৃতির একটি লাঠির মাথায় ন্যাকড়া বেঁধে স্পিরিটে চোবানো হয়। এরপর তাতে আগুন ধরিয়ে ঝুলন্ত ফানুসের ভেতরে থাকা মোমবাতি জ্বালানো হয়। স্থানীয় ভাষায় একে বলে ‘হুঁশ’। ঠিক একইভাবে লাঠির মাথায় ধাতব পাত্র ঝুলিয়ে কাচের ফানুসের উপরে আলতো চেপে ধরলে নিভে যায় মোমবাতি। এই পদ্ধতিকে স্থানীয়রা বলেন ফোঁস। শান্তিপুরের বাসিন্দারা বলছেন, এই শহরে রাসের মাহাত্ম্যের সঙ্গে যেন ওতপ্রোত সম্পৃক্ত হয়ে রয়েছে অভিজাত আলোকধারা।

Share This